একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা সরকারের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে মজুদ করছে নিম্নমানের চাল

0
157

সরকারের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে নিম্নমানের চাল কেনার অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, বিভিন্ন জেলায় মিলারদের (চালকল মালিক) যোগসাজশে খাদ্য অধিদফতরের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা মানহীন চাল মজুদ করছেন।

সূত্র জানায়, নিম্নমানের চাল মজুদের অভিযোগে চলতি মাসেই ময়মনসিংহ ও বগুড়ার শান্তাহার সিএসডি’র (সেন্ট্রাল স্টোরেজ ডিপো) ৪টি গুদাম সিলগালা করেছে খাদ্য অধিদফতর। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্দেশে এসব ঘটনা তদন্তে একটি কারিগরিসহ মোট ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আরও জানা গেছে, ধীরগতিতে সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা ও নিম্নমানের চাল কেনায় ক্ষুব্ধ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা। নিম্নমানের চালের খবর পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশনাও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের প্রতি।

যেসব গুদামে নিম্নমানের চাল কেনার খবর পাওয়া গেছে সেখানেই ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তারা। কিন্তু যেসব গুদামে নিম্নমানের চাল কেনা হচ্ছে, সেগুলোর সব খবর খাদ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের কাছে পৌঁছায় না। এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, ‘সব সময়ই একটি অশুভ চক্র নিম্নমানের চাল সরকারি গুদামে দিতে চায়। এর সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত থাকে। তবে যখনই খবর পাচ্ছি, তখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এসব অপকর্ম করে কেউ রেহাই পাবে না।

ময়মনসিংহে আমি নিজে গুদাম পরিদর্শন করে খারাপ মানের চাল থাকায় দুটি গুদাম সিলগালা করে দিয়েছি। বগুড়ার সান্তাহরেও দুটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে নিশ্চয় দোষী ব্যক্তিরা শনাক্ত হবে।’

জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথমদিকেই বগুড়ার সান্তাহার সিএসডিতে নিম্নমানের চাল কেনার খবর পান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। মন্ত্রীকে জানানো হয়, শান্তাহার সিএসডিতে কয়েকজন মিলার নিম্নমানের চাল সরবরাহ করছে। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. নাজমানারা খানুমকে।

ডিজি তাৎক্ষণিক খাদ্য অধিদফতরের উপপরিচালক মামুন আল মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সান্তাহারে পাঠান। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন ময়মনসিংহে সংযুক্ত সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফজলে রাব্বী হায়দার এবং খাদ্য অধিদফতরে সংযুক্ত রাঙ্গামাটির সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাসান।

তদন্ত কমিটি ২ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত শান্তাহার সিএসডিতে সরেজমিন তদন্ত করেন। সেখানে গিয়ে তদন্ত কমিটি গুদামে নিম্নমানের চাল হাতেনাতে আটক করে। শুধু গুদামেই নয়, গুদামে ঢোকানোর জন্য যেসব ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল সেগুলোও পরীক্ষা করে নিম্নমানের চাল খুঁজে পান তারা। যে পরিমাণ চাল মজুদ থাকার কথা সেখানেও ঘাটতি পেয়েছে তদন্ত দল।

খাদ্য অধিদফতরে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের ১২টি সিএসডির মধ্যে বগুড়ার সান্তাহার সিএসডি অন্যতম। এই সিএসডিতে মোট ৬৯টি গুদাম রয়েছে। এসব গুদামের ধারণ ক্ষমতা ৬২ হাজার ৫০০ টন। সিএসডির ৬৩ নম্বর গুদামের ১টি খামাল এবং ৭৫ নম্বর গুদামের ২টি খামালে নিম্নমানের চাল পাওয়া গেছে।

৬৩ নম্বর গুদামের চাল প্রাপ্তির এবং ৭৫ নম্বর গুদামের চাল সংগ্রহ ও প্রাপ্তি দুটোরই। বিভিন্ন গুদামে ৮২ বস্তা চাল কাগজে-কলমে থাকলেও গুদামে নেই। গুদামটিতে দুই ধরনের চাল রয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া সংগ্রহ এবং নিজেদের সংগ্রহ। চলতি বোরো মৌসুমে ২ হাজার ২০০ টন চাল এই সিএসডির নিজস্ব উদ্যোগে কেনা হয়েছে।

নষ্ট চালের বেশির ভাই চলতি মৌসুমে কেনা। নিম্নমানের চাল যে দুটি গুদামে পাওয়া গেছে সেগুলো সিলগালা করে দিয়েছে তদন্ত কমিটি। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

এটি পাওয়ার পর খাদ্য অধিদফতর বিস্তারিত তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সমন্বয়ে ৭ সদস্যের একটি কারিগরি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে খাদ্য অধিদফতরের উপপরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) আমিনুল এহসানকে।

সোমবার তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা এখনও তদন্ত শুরু করিনি। কমিটির সবার সঙ্গে কথা আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে শিগগিরই তদন্ত শুরু করব।’

অভিযোগ উঠেছে, সান্তহারের ঘটনা তদন্তে কারিগরি কমিটির গঠনের খবর পেয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে একটি চক্র উঠেপড়ে লেগেছে। সিএসডির ম্যানেজার এমদাদুল ইসলাম শিকদার বিভিন্ন দফতরে তদবির শুরু করেছেন। রোববার বিষয়টি নিয়ে খাদ্য অধিদফতরের ডিজির সঙ্গে দেখা করেছেন।

এ সময় ডিজি দাফতরিক ছুটি না নিয়ে ঢাকায় এসে তদবির করার কারণে ম্যানেজারকে ভর্ৎসনা করেছেন বলে খাদ্য অধিফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শান্তাহার সিএসডির ম্যানেজার এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তাহার একটি বড় সিএসডি।

এখানে ২৫ লাখ বস্তা খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। সব বস্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গুদামে ঢোকানোর মতো লোকবল নেই। গুদামে নিম্নমানের চাল থাকার অভিযোগ উঠেছে। এটা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সব জানা যাবে।’

সরকারি গুদামে নিম্নমানের চাল ঢুকছে, নজরদারির অভাব কিনা- জানতে চাইলে রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি ফুড) মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ‘শান্তাহার দেশের একটি বড় সিএসডি। এখানে রয়েছে ২৫ লাখ বস্তা খাদ্যশস্য। প্রতিটি বস্তা দেখে দেখে গুদামে প্রবেশ করানো অসম্ভব।

তাছাড়া প্রয়োজনীয় লোকবলও থাকতে হবে। শান্তাহারে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তেই তা বের হয়ে আসবে।’ শান্তাহার সিএসডির ম্যানেজার এমদাদকে কোনো ছুটি দেননি বলেও জানান তিনি।

এর আগে ৩ জুলাই খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ময়মনসিংহ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন খাদ্যগুদাম ঝটিকা পরিদর্শনে যান। ওই সময় ময়মনসিংহ সিএসডির দুই ও ৪৮ নম্বর গুদামের চালের মান খারাপ হওয়ায় গুদাম দুটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় খাদ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) পরিমল কুমার সরকারকে। ওইদিন খাদ্যমন্ত্রী গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন। জয়দেবপুরে এবার বোরো মৌসুমে ধানের বরাদ্দ ছিল ৯৬৮ টন। কিন্তু সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৫১ টন।

এরপর তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশালের ধানীখোলা খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায় সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৫৩৬ টন। কিন্তু সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ১৭০ টন। ধান সংগ্রহের পরিমাণ কম হওয়ায় মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ময়মনসিংহ সদরের খাগডহর কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগার পরিদর্শনকালে ২ ও ৪৮নং গোডাউনের চালের মান কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় তিনি ব্যবস্থাপকের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে গোডাউন ২টি সিলগালা করার নির্দেশ দেন।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আগে কি কি করেছেন তা আমি দেখতে চাই না, জানতেও চাই না। এখন থেকে সবাই দায়িত্ব বুঝে কাজ করবেন। কেউ দুর্নীতি বা অনিয়মের আশ্রয় নিলে বিপদে পড়বেন, কেউ রেহাই পাবেন না।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দেশের বিচার ব্যাবস্থা ধ্বংস করে এখন নিজেই ন্যায়বিচার খুঁজছেন সেই সিনহা!


সরকারের নির্দেশে নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে, সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিচারের নামে প্রহসনন করে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সেই বিচারপতি সিনহা নিজেই এখন ন্যায়বিচার চেয়ে আকুতি-মিনতি করছেন।

সম্প্রতি ফার্মার্স ব্যাংকের ৪ কোটি পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এ মামলা দায়েরের পরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বেনার নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সিনহা বলেছেন, প্রধান বিচারপতি থাকতেই ন্যায় বিচার পাইনি। এখন কিভাবে আশা করি! তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশে ন্যায় বিচার আশা করা যায় না!

এখন প্রশ্ন হলো-প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজে কয়টি ন্যায়বিচার করেছিলেন? কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতা ও বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির আদেশগুলো কি সঠিক ছিল? এসকে সিনহা কি তখন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এসব রায় বহাল রেখেছিলেন? মোটেও না। বরং তিনি নিজেই ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কয়টা ফাঁসির রায় দিয়ে দেন।

সরকারের কথিত ট্রাইব্যুনালের সবচেয়ে বড় কেলেংকারি ছিল স্কাইপির কথোপকথন ফাঁস। স্কাইপে সিনহা বাবু সেদিন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিমকে বলেছিলেন, ৩টা রায় দিয়া লন। আপনাকে এখানে (আপিল বিভাগে) নিয়া আসি!

সিনহা বাবু আজ ন্যায়বিচার খুঁজছেন। সেদিন ৩টা ফাঁসির রায় দেয়ার নির্দেশ দেয়া কি ন্যায়বিচার ছিল?

দেখা গেছে, আবদুল কাদের মোল্লার মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী হিসাবে সরকার হাজির করেছিল কথিত মোমেনা বেগমকে। এই মোমেনা বেগম ৩ জায়গায় একই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ৩ রকমে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। পরবর্তীতে মানুষের কাছে শুনেছেন। এরপর তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। এখানে তিনি বলেছেন, তাঁর বয়ষ ১২-১৩ ছিল। ঘটনার সময় ছোটবোনকে নিয়ে খাটের নিচে ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে ছিলেন। তবে আবদুল কাদের মোল্লাকে দেখেছেন এমন কথা বলেননি। বলেছেন মানুষের কাছে শুনেছেন তিনি। তৃতীয়বার তাঁকে দিয়ে বলানো হয়েছে ট্রাইব্যুনলের ক্যামেরা ট্রায়ালে। প্রশ্ন হচ্ছে, খাটের নিচে ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা ১২-১৩ বছরের একজন কিশোরী ৪০ বছর আগে দেখা চেহারা কিভাবে চিহ্নিত করলেন? ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তি কিভাবে দেখলেন! এর মধ্যে তার কোন বক্তব্যটি সত্য? মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরকে দেয়া বক্তব্য? তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া বক্তব্য ? নাকি ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য দেয়ার সময় দেয়া বক্তব্য? এক ব্যক্তির একই ঘটনায় ৩টি বক্তব্য থেকে একটাকে সত্য হিসাবে ধরে নেয়ার বিচারের মাপকাঠি কি ছিল? এই মোমেনার বিতর্কিত বক্তব্যের স্বাক্ষ্য থেকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসির নামে হত্যার রায় দিয়েছিলেন সিনহা বাবু! এটা কি ন্যায় বিচার হয়েছিল?

এসকে সিনহা মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়ের আগে বলেছিলেন, ফাঁসি দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থিত করতে পারেনি। তারপরও আপনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল রেখে ছিলেন। এটা কি ন্যায়বিচার ছিল?

ঠিক একইভাবে জামায়াতের অন্যান্য শীর্ষনেতাদের ক্ষেত্রে সিনহা বাবু সরকারের নির্দেশে ফরমায়েশি রায় দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সিনহা বলেছেন, বাংলাদেশে এখন ন্যায়চিবচার আশা করা যায় না।

সিনহার এমন মন্তব্যে সাধারন মানুষ বলছেন, এদেশে একদিন ন্যায়বিচার ছিল। আপনি যেদিন থেকে প্রধান বিচারপতির চেয়ারে বসেছিলেন, সেদিন থেকেই বাংলাদেশের ন্যায়বিচারের পরিসমাপ্তি ঘটে। সেদিন থেকেই এদেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হতে শুরু হয়। আর বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আপনি নিজেই। আর আজ বলছেন, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-লুটপাটের কথা স্বীকার করলেন শেখ হাসিনা!


বিগত ১০ বছর ধরে কথিত বায়ুবীয় উন্নয়নের নামে সারাদেশে শত শত প্রকল্প উদ্বোধন করে যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা লুটপাট করতেছে এনিয়ে প্রায় দিনই গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। শুধু বড় বড় প্রকল্পই নয়, টিআর-কাবিখা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেয়া গরীবের ত্রাণের টাকাও লুটে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এক সময় আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী ঠিক মতো তিন বেলা খেতো পেত না ১০ বছরের ব্যবধানে তারা এখন শত কোটি টাকার মালিক। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে।

যুবলীগের একনেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, নুর নবী চৌধুরী শাওন, আ.লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাসিম, মোফাজ্জল চৌধুরী মায়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ, মো. নাসিমসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা এখন সবাই শত থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক।

তারপর সুইচ ব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে, প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। অনুসন্ধান বলছে, এসব টাকা পাচারের সাথে যারা জড়িত তারা অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও ব্যবসায়ী। এমনকি, দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত দুর্নীতি, লুটপাট ও টাকা পাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারপরেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় দুর্নীতি-লুটপাটের দায় বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে থাকেন।

তবে, দেশের কথিত উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি-লুটপাট এখন এমন একপর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যার কারনে শেখ হাসিনা নিজেও এখন বিরক্ত। এমনকি, এতদিন দুর্নীতির কথা অস্বীকার করলেও শেখ হাসিনা এখন নিজেও স্বীকার করেছেন যে দুর্নীতি হচ্ছে।

শনিবার গণভবনে বিভিন্ন মন্ত্রণায়গুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই বলেছেন-দুর্নীতি যেন উন্নয়নগুলোকে খেয়ে না ফেলে। দুর্নীতির কারণে যে উন্নয়ন কাজগুলো ব্যাহত না হয়। দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হলেও সেটা হবে দুঃখজনক।

তাই সচেতন মহল বলছে, শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, কথিত উন্নয়নের নামে চালু করা প্রকল্পগুলোতে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি লুটপাট হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এসব দুর্নীতি লুটপাট কারা করছে? প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব তো আর বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতে নয়। সবগুলোর প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা। সুতরাং দুর্নীতি-লুটপাট তারাই করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পঃ উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়লো চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধ


পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশ ঘেঁষে নির্মিতব্য চট্টগ্রাম শহর রক্ষা বাঁধ তথা আউটার রিং রোড এখনো উদ্বোধনই হয়নি। অথচ সড়কটির বেশ কয়েকটি অংশ ধসে গেছে। শনিবার (১৩ জুলাই) এই ঘটনা ঘটে।

সড়কটির নির্মাণ দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বলছে, টানা বৃষ্টিতে সাগরের পানি বেড়ে যাওয়ায় সড়কটির কিছু অংশ দেবে গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশ ঘেঁষে নির্মিতব্য শহর রক্ষা বাঁধ তথা আউটার রিং রোডে ব্লক সরে মাটি তলিয়ে যাওয়ায় সিসি ঢালাইয়ে তৈরি ওয়াকওয়েটি ধসে পড়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে আরও বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্প পরিচালক ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, সাগরে পানি বেড়ে যাওয়ায় ঢেউয়ের কারণে ব্লক সরে বিশাল অংশ দেবে গেছে।

দেখা যায়, বাঁধের ব্লক সরে মাটি তলিয়ে যাওয়া সিসি ঢালাইয়ে তৈরি ওয়াকওয়েটি ধসে পড়েছে। এ অবস্থায় ওই অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হঠাৎ ওয়াকওয়েটির বিশাল অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, এখনো ওয়াকওয়ে তৈরির কাজ শেষ হয়নি। এরমধ্যে সেটি ধেবে পড়েছে।

চাপ বেশি পড়ে বলে এটি রড দিয়ে কংক্রিট (আরসিসি) ঢালাই করার দরকার ছিল। কিন্তু ওয়াকয়েটি সিসি ঢালাই দিয়ে করা হয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার বলেন, সাগরের পাশে কাজ করার সময় বিবেচনায় রাখতে হয় মাটি সরে যাবে। সেটি বিবেচনায় না রেখে এ ধরনের কাজ করা মানে অর্থ অপচয়।

সাধারণত এ ধরনের কাজগুলো পাইলিংয়ের ওপর হয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভরবহন করার প্রয়োজন হলে সেখানে প্রি-কাস্ট কংক্রিট পাইল ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে মাটি না সরার জন্য আলাদা কাস্টিং করতে হয়। ধসে পড়া ওয়াকওয়েটিতে হয়তো এ ধরনের কাজ করা হয়নি।

প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ওয়াকওয়ের পাশে রিটেইনিং ওয়াল ছিল। সবকিছু বিবেচনা রেখে কাজ হয়েছে।

কাজটা সম্পূর্ণ না হওয়াতে অনেক জায়গায় ব্লক বসানো হয়নি। ফলে সেটি ধসে পড়েছে। যেসব অংশে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, সেখানে ধসে পড়ার আশঙ্কা নেই।

তিনি আরও বলেন, ঢেউয়ের কারণে মাটি সরে যাওয়ায় ওয়াকওয়ে ধসে পড়েছে। সেগুলো সরানো হচ্ছে। পাশাপাশি ধসে পড়া স্থানগুলো পুন:নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ধসের কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

উল্লেখ্য, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ২০০৫ সাল থেকে পতেঙ্গা হতে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। যাচাই শেষে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে জাইকা।

২০১৬ সালের জুলাইয়ে চার লেনের এ সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আড়াই হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

উপকূলীয় বাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণ নামে এ প্রকল্পের আওতায় ১৭ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হবে। এর মধ্যে ১৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার মূল ও ২ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে।

শুরুতে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮৬৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দুই বার সংশোধনের পর বর্তমানে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৭২০ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ও জাইকার সহায়তা ৭০৬ কোটি টাকা।

২০১৯ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।ইতোমধ্যে প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

উৎসঃ পূর্বপশ্চিমবিডি

আরও পড়ুনঃ ওয়াসার ৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পঃ নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার, প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার শঙ্কা!


প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে পরীক্ষা ছাড়াই নিম্নমানের পাইপ ব্যবহার করা হচ্ছে।

পাইপলাইন স্থাপনের পর ইতিমধ্যে কয়েকটি পয়েন্টে পাইপ ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ধলেশ্বরী নদীর কুচিয়া মোড়া তলদেশের পাইপ ভেসে উঠায় সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা বাড়ছে। ৪২ মাসের প্রকল্পটি ৬৬ মাসেও আলোর মুখ দেখেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর প্রায় ৪০ লাখ মানুষের পানির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। ২০১৪ সালের প্রথমদিকে প্রকল্পের কাজ শুরু করে তা ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ করার কথা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যবহৃত পাইপ পরীক্ষা করে ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেটা না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্পটি ৪২ মাসে শেষ করার কথা থাকলেও ৬৬ মাসেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

পদ্মানদী (যশলদিয়া) থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত পাইপলাইন বসানো হলেও ঢাকায় পানি সরবরাহ লাইন প্রস্তুত করা হয়নি। আবার যেনতেনভাবে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রস্তুত করা হলেও সরবরাহ লাইন প্রস্তুত না হওয়ায় নগরবাসী কবে পদ্মার পানি পাবেন সেটা ওয়াসার সংশ্লিষ্টরাও পরিষ্কার করে বলতে পারছে না।

এছাড়া ওয়াসা সংশ্লিষ্টদের অভিমত, জনগণের টাকায় নির্মিত এ মেগা প্রকল্প যেনতেনভাবে বাস্তবায়ন করায় যতদিন টেকসই হওয়ার কথা তার অর্ধেক সময়ও প্রকল্পটি টিকবে না। শুরু থেকে এ প্রকল্পের নিম্নমানের পাইপের প্রশ্ন থাকলেও তার কোনো সুরাহা না করেই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ওয়াসা। আর মেয়াদকালের সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী ও পানি বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক যুগান্তরকে বলেন, পদ্মার পানি শোধনাগার প্রকল্প একটি অবাস্তব প্রকল্প। ঢাকা ওয়াসার অপরিণামদর্শী এ প্রকল্প লেজেগোবরে অবস্থায় পড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, পদ্মা থেকে পানি এনে ধলেশ্বরী এবং বুড়িগঙ্গা পার করে রাজধানীবাসীকে খাওয়ানো খুবই অবাস্তব প্রকল্প। এরপর ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে সেটার কী অবস্থা দাঁড়াবে, সেটা সহজে অনুমান করা যায়।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্টের পরিচালক প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে পদ্মা পানি শোধনাগার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেকে কিছু গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে, বাস্তবে যার কোনো ভিত্তি নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকল্পের স্পেসিপিকেশন অনুযায়ী প্রকল্পের পাইপ না কিনে নিম্নমানের পাইপ কেনা হয়েছে। দুই হাজার কোটি টাকার পাইপ ক্রয়ে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। চুক্তি অনুযায়ী ২২ দশমিক ৫ মিলিমিটার পুরুত্বের পাইপ সরবরাহ করার শর্ত ছিল এবং ক্ষেত্র বিশেষে ১৯ দশমিক ২ মিলিমিটার পর্যন্ত বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে চীনা ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে ১৯ মিলিমিটার পুরুত্বের পাইপ আমদানি করেছে ওয়াসা। এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ এক নগরবাসী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করেছেন। ১২ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দুদক অনুরোধ করেছে। কিন্তু, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত শুরু করে সময় বাড়িয়ে নিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়াসার পদ্মা (যশলদিয়া) ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ব্যয় ৩ হাজার ৫০৮ কোটি ৭৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দেবে চায়না এক্সিম ব্যাংক। বাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকা ওয়াসা। ঋণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংককে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ দিতে হচ্ছে। প্রকল্পের সুবিধা না পেলেও শুরু থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এ অর্থ রাজধানীরবাসীর কাছ থেকে পানির দাম বাড়িয়ে উঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে আবার এ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

৫ জুলাই সরেজমিন, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর পাড়সংলগ্ন যশলদিয়ায় ঢাকা ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্ট ঘুরে এবং এলাকাবাসী, ঠিকাদার ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পের নানা অনিয়মের চিত্র জানা গেছে।

এক ঠিকাদার জানান, প্রকল্পের শুরুতে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হলেও কিছুদিন পর থেকে খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার শুরু করা হয়। এরপর থেকে মানহীন সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াসার প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা একযোগে অনিয়ম করছেন।

১ নম্বর ধলেশ্বরী সেতু এলাকার মুদি দোকানদার মোহাম্মদ মানিক, দেলোয়ার হোসেন ও আবদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ধলেশ্বরী নদীর কুচিয়া মোড়া অংশের ওয়াসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্রজেক্টের পাইপ জাহাজের সঙ্গে বেঁধে ভেসে উঠে। পরে ওয়াসা সেখানে নতুন পাইপ স্থাপন করেছে। তারা জানান, এসব পাইপ নদীর তলদেশ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা না করায় এমন ঘটনা ঘটে।

যশলদিয়া মাদবর বাড়ীর মোড় এবং আশপাশের এলাকায় প্রকল্পের পাইপ স্থাপনের সময় কয়েকটি পাইপ ফেটে যায়। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মমিনুর রহমান ও আয়ুব আলী যুগান্তরকে বলেন, কয়েক মাস আগে এ এলাকায় পাইপ স্থাপনের সময় কয়েকটি পাইপ ফেটে যায়। যে মানের পাইপ দেয়ার কথা ছিল সে মানের পাইপ দেয়া হয়নি। এ কারণে পাইপগুলো ফেটে যায়। যশলদিয়ার মাদবর পাড়ার মজিবর রহমান জানান, এ এলাকায় নির্মিত ওয়াসার দোতলা ভবনটিতে ব্যবহারের আগেই ফাটল ধরেছে। ফাটলগুলো ওয়াসার ঠিকাদাররা নতুন করে সংস্কার করছেন। তিনি বলেন, নতুন ভবনের এ অবস্থা হলেও মাটির নিচ দিয়ে স্থাপিত পাইপে কত অনিয়ম করেছে তা সহজেই বোঝা যায়।

বর্তমানে রাজধানীতে দৈনিক ২৩০-২৩২ কোটি লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর দৈনিক পানির উৎপাদন ক্ষমতা ২৪০-২৪২ কোটি লিটার। এরমধ্যে ভূ-গর্ভস্থ উৎস থেকে ৭৮ ভাগ এবং ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে ২২ ভাগ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে এ চিত্র পাল্টে দেয়ার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সুদূর পদ্মা থেকে পানি শোধন করার প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মক্কা-মদিনায় হাজিদের বাড়িভাড়া নিয়ে হজ অফিসের দুর্নীতির ফোনালাপ ফাঁস! (অডিও সহ)


পবিত্র মক্কা ও মদিনায় কমিশন ছাড়া কোনো দিনও বাড়িভাড়া নেয় না হজ অফিস। এমন অভিযোগ করেছেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ। এ বছরও কমিশন নিয়ে সিন্ডিকেট করে বাড়িভাড়া করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ।

জাগো নিউজের এ প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি অডিও আলাপনে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আলাপনে শোনা যায়, রাষ্ট্রদূত মোবাইল/টেলিফোনে মূসার (সৌদি আরবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন) কাছে এবার সৌদি আরবে হাজিদের বাড়িভাড়া কে করেছে, এবার ব্যবসাটা কে পেল- তা জানতে চাইছেন।

বিশেষ করে মদিনায় ‘আল আনসারির’ হোটেলের ব্যবসাটা কে পেল- তা তিনি জানতে চান মূসার কাছে। এ সময় মূসা বলেন, এবার হজ অফিস বাড়ির মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে। এ কথা শুনে গোলাম মসিহ বলেন, বাড়ি তো মালিকের কাছ থেকেই ভাড়া নেয়, জানতে চাচ্ছি মাঝখানের লোকগুলো কে, কারা।

ভিডিওঃ  ‘মক্কা-মদিনায় হাজিদের বাড়িভাড়া নিয়ে হজ অফিসের দুর্নীতির ফোনালাপ অডিও ফাঁস! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে মূসা বলেন, এবার মাঝখানে কেউ ছিল না।

এ কথা শুনে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ বলেন, ‘শোন মূসা, এ কথা আমাকে বলো না, হজ অফিসাররা এত ফেরেশতা নয়, তোমরা এবার সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নিছ, আমি তো খবর পাইয়া যামু। কোন জমানায় ডাইরেক্ট ব্যবসা হইছে! তুমি আমারে কি শিখাইতাছ?’

আলাপনে গোলাম মসিহ আরও বলেন, ‘গতবার পর্যন্ত খালি কমপ্লেইন করছ, আমাকে বাড়িভাড়া নেয় না। এবার তোমরা কেউ বাড়ির ব্যবসা কর নাই? সবাই ফেরেশতা হইয়া গেলা। কোন জমানায় ডাইরেক্ট হইছে? আওয়ামী লীগের নাম ভাঙাইয়া সবাই ধান্ধাবাজি করে।’ এ কথা বলে তিনি লাইন কেটে দেন।

এরপর মূসা কলব্যাক করে আবার তাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, বাড়িভাড়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এ সময় গোলাম মসিহ বলেন, ‘তুমি বুঝবা না কেন? ২৮ বছর মদিনায় আছ। কোনো দিন কমিশন ছাড়া বাড়িভাড়া নেয় হজ অফিস, আমারে বলো? কোনো দিন কমিশন ছাড়া নিছে। আজকা তোমরা সবাই ফেরেশতা হইয়া গেছ।’

তিনি আবার বলেন, ‘আমার কাছে রিপোর্ট আছে, সিন্ডিকেট কইরা বাড়িভাড়া নেয়া হইছে। না হলে আল আনসারির বাড়ি এমনিতেই ভাড়া অইয়া গেছে। তুমি কি মনে করো খবর পামু না? হজ অফিসারের গলা টিইপ্যা বাইর কইরা ফালামু।’ এভাবে চলতে থাকে তাদের কথোপকথন।

হজের বাড়িভাড়া নিয়ে কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি-না, এ ফোনালাপের সূত্র ধরে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘হজের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একটা কমিটি হয়। তারা বাড়িভাড়ার বিষয়গুলো ঠিক করে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমি জিজ্ঞেস করতে পারি, কে বাড়িভাড়া নিল বা কে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে? আমি সেটাই জানতে চেয়েছি। তবে যার কাছে জানতে চেয়েছি তিনি নিজেও কিছু জানেন না।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সদস্য বা বাড়িভাড়ার সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তারা বিষয়টি বলতে পারবেন- যোগ করেন তিনি।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ সাগরে বাংলাদেশী জেলেদের ইলিশ ধরা বন্ধ, দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারতীয় জেলেরা (ভিডিও সহ)

বঙ্গোপসাগরে দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয় জেলেরা ট্রলিং ট্রলার নিয়ে সাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কুয়াকাটা উপকুল পর্যন্ত দাপিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। গত ৭ জুলাই বঙ্গোপসাগরে কোষ্টগার্ডের অভিযানে ৩২ ফিসিং বোট সহ ৫ শতাধিক ভারতীয় জেলে আটক হয়েছে।

শরণখোলা ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, আমাদের ছোট ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকা ট্রলারের জেলেরা সুন্দরবনের দুবলারচর এলাকায় মাছ ধরার সময় গত কয়েকদিনে সাগরের বয়া এলাকায় অসংখ্য ভারতীয় ফিসিং ট্রলারের জেলেদের মাছ ধরতে দেখেছেন। আবহাওয়া খারাপ হলে ভারতীয় জেলেরা হিরণপয়েন্টের অদুরে ছোট খালে আশ্রয় নিয়ে থাকে বলে আবুল হোসেন জানান।

ভিডিওঃ  ‘বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের সীমানায় ভারতের ইলিশ উৎসব!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

বাংলাদেশ ফিসিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোস্তফা চৌধুরী জানান, সাগরে বাংলাদেশ জলসীমায় অবৈধভাবে মাছ শিকার করা ভারতীয় জেলেদের নিত্যদিনের ঘটনা। ৬৫ দিনের অবরোধে আমাদের দেশীয় জেলেরা মাছ ধরতে না পারলেও ভারতীয়রা ঠিকই ধরে নিয়ে যাচ্ছে । যার জলজ্যান্ত প্রমাণ গত ৭ জুলাই পায়রা সমুদ্র বন্দরের অদুরে সাগরে মাছ ধরার সময় কোষ্টগার্ড ৩২ ফিসিং বোট সহ ৫ শতাধিক ভারতীয় জেলে আটকের ঘটনা। ঝড়ের কবলে পড়ে তারা এসেছে ভারতীয় জেলেদের এ দাবী তিনি নাকচ করে বলেন, তাই যদি হয় তা হলে তাদের নিদেন পক্ষে হিরণপয়েন্ট দুবলারচর আলোরকোল পর্যন্ত আসার কথা।

ফিসিংবোট এফবি খাইরুল ইসলামের মিস্ত্রি শরণখোলা উপজেলার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের মোঃ রফিক জানান, বরাবরের মত ভারতীয় ট্রলিং ট্রলার বঙ্গোপসাগরের বয়া এলাকা থেকে পূর্বে কুয়াকাটা উপকুল, সোনারচর, ঢালচর পর্যন্ত সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা অবাধে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তিনি গত ২২ জুন সাগরের সোনারচর এলাকায় শতাধিক ভারতীয় ফিসিং বোটকে মাছ ধরতে দেখেছেন। ওই সময় তিনি তার বোটের মবিল ফুরিয়ে যাওয়ায় ভারতীয় একটি বোট থেকে কয়েক লিটার মবিল চেয়ে নেন বলে রফিক মিস্ত্রি জানান।

ভিডিওঃ  ‘বাংলাদেশী জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের সীমানায় ভারতের ইলিশ উৎসব!’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয় ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করায় শরণখোলাসহ উপকুলীয় এলাকার জেলে পল্লীগুলিতে হতাশার পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

অপরদিকে শরণখোলা, পাথরঘাটাসহ অন্যান্য এলাকার অনেক ফিসিংবোট বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মাছ শিকার করে শরণখোলা ও পাথরঘাটা মৎস্যঘাটে ফিরে এসে রাতের মধ্যেই মাছ ট্রাক বোঝাই করে খুলনা ও বরিশালের মোকামে চালান করছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করে চলেছেন। বিশেষ করে শরণখোলার মজিবর তালুকদার, বেলায়েত খান, ও আবুল হোসেনের ফিসিং বোট নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চোরাইভাবে সাগরে মাছ ধরছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে গত ৬ জুলাই রাঙ্গাবালীর কাছে সাগরে ৫/৬ টি ফিসিং বোট ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার খবর তার জানা নেই খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের পছন্দমতো রায় না লেখায় আমাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল’: এস কে সিনহা


জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতেই ক্ষমতাসীন সরকার দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

ঢাকায় সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হওয়ার একদিন পর ওই মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ভিত্তিক মুক্ত গণমাধ্যম বেনারকে তিনি এই কথা বলেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম- রুল অব ল, হিউমেন রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’র সূত্র ধরে তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া অবিচারের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেন, “আমাকে ১৫ দিন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।”

আত্মজীবনীতে সরকারের পছন্দমতো রায় লিখতে রাজি না হওয়ায় শেখ হাসিনা ও তাঁর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা এবং চাপ দিয়ে দেশত্যাগ ও পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন এস কে সিনহা।

বর্তমান সরকারের অধীনে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি । “এটি অনৈতিক, অন্যায়। তারা আমাকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করতে চায়,” বেনারকে বলেন বিচারপতি সিনহা।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে সরকারের সাথে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এস কে সিনহার। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর প্রথমে ছুটি নিয়ে বিদেশ যান তিনি। পরে সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত বিচারপতি সিনহা গত কয়েক দিন ধরে নিজের ছোট মেয়েকে দেখতে স্ত্রীসহ কানাডায় রয়েছেন। সেখান থেকে টেলিফোনে বেনারের সাথে কথা বলেন তিনি।

দুর্নীতি মামলা হওয়ার সংবাদটি তাঁর স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে তাঁকে বলেছেন জানিয়ে বিচারপতি সিনহা বলেন, “আমি হাসব না কাঁদব, সেটাই ভাবছি!”

ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে এই মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার সংস্থাটির জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

বাংলাদেশে সাবেক কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনা এটাই প্রথম।

“আপনার কি মনে হয় আপনি এই মামলায় ন্যায়বিচার পাবেন?” বেনারের এমন প্রশ্নে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি বলেন, “যখন আমি কর্মরত প্রধান বিচারপতি ছিলাম, তখনই ন্যায়বিচার পাইনি। তাহলে এখন কীভাবে আশা করব?”

তাঁকে চাপ ও হুমকি দেওয়ার জন্য সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও (ডিজিএফআই) আত্মজীবনীতে অভিযুক্ত করেন তিনি।

“শেষ পর্যন্ত, আমার পরিবারের ওপর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইর চাপ ও হুমকির মুখে আমি দেশের বাইরে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেই,” আত্মজীবনীর ভূমিকায় জানিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।

তবে তাঁর অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেছে সরকার।

আত্মজীবনী প্রকাশের প্রায় এক বছরের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে বুধবার দুর্নীতির দায়ে মামলা দায়ের করল দুদক। যদিও মামলাটি এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে বলে বেনারকে জানান দুদকের আইনজীবী খুরশেদ আলম খান।

“এটা একটা মানি লন্ডারিং মামলা। এটা তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করেই হয়েছে। এটা খুব ইনিশিয়াল স্টেজে আছে। এখন তদন্ত হবে, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এটা সময়ের ব্যাপার,” বেনারকে বলেন খুরশেদ আলম।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বেনারকে বলেন, “আমরা আশা করব সাবেক প্রধান বিচারপতি ন্যায় বিচার পাবেন। ন্যায় বিচারে মাধ্যমেই তিনি দোষী কিংবা নির্দোষ সাব্যস্ত হবেন।”

দুর্নীতি মামলা

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান শুরু হয়। ফারমার্স ব্যাংকে জালিয়াতির ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষয়টি নজরে আসে। পরে দায়িত্ব পেয়ে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দল। এর পরে দুদকের অনুমতিতে এই মামলাটি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

“দেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক বিচারপতি দুর্নীতি মামলার মুখোমুখি হলেন, এটা ভালো লক্ষণ নয় এবং বিচারব্যবস্থার জন্য এটা হুমকি,” বেনারকে বলেন সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন।

জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, এসকে সিনহা নিজেই বলেছেন যে, তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়েননি। তাই এই মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

“দুদকের মানি লন্ডারিং মামলাগুলো সাধারণত তথ্য এবং রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে হয়। তাই এই মামলার মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, এটা বলার সুযোগ নেই,” বেনারকে বলেন দুদক আইনজীবী খুরশেদ আলম।

উৎসঃ justnewsbd

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here