নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় ৩ বাংলাদেশিসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯

0
119
নিহত ও আহত স্বজনদের খোঁজে উদ্‌গ্রীব লোকজন। ছবি: রয়টার্স

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরে হ্যাগিল পার্ক এলাকায় দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ৪৯ নামাজ আদায়কারী নিহত হয়েছেন বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে তিন বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তাদের পরিচয়ও জানা গেছে।

নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শুরু হওয়ার কিছু পরেই কালো কাপড় ও হেলমেট পরা এক বন্দুকধারী আল নুর মসজিদে ঢুকে হামলা চালায়। তারপর জানা যায়, শহরের আরো একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এ ঘটনার বিস্তারিত কিছু উল্লেখ না করে বলেন, ‘এটি দেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়।’ পরে তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই চরমতম সহিংস ঘটনায় ৪৯ ব্যক্তি জীবন হারিয়েছেন। ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এটা পরিষ্কার যে এই ঘটনাকে এখন সন্ত্রাসী আক্রমণ বলে অভিহিত করা যায়।’

নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাসের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমার ভুইয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ৩ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর আসলেও দু’জন বাংলাদেশির পরিচয় সম্পর্কে তাঁরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের একজন ড. আবদুস সামাদ, যিনি স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন বলে তিনি জানান।

নিহত আরেক বাংলাদেশির নাম মিসেস হোসনে আরা, তিনি গৃহবধূ ছিলেন।

অনারারি কনসাল শফিকুর আরো বলেছেন, এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। আরো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নিহত ড. সামাদের স্ত্রী।

এ দিকে আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেটের শাহ আমানত বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় সরাসরি কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে আমাদের কোনো মিশন নেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশি দূতাবাসের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাছে থাকা তথ্যমতে, একজন বাংলাদেশি নারী সম্ভবত নিহত হয়েছেন। এখনো পুরো তথ্য জানা যায়নি।’

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী ও তিন পুরুষসহ চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও বর্তমানে হামলাস্থল ক্রাইস্টচার্চ শহরে রয়েছে। দুপুরে হ্যাগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে তাঁদের আল নুর মসজিদেই নামাজ আদায় করতে যাওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। তবে তাঁরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।

আগামীকাল শনিবার হ্যাগলি ওভাল মাঠে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এ হামলার ঘটনায় তা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দলের ব্যবস্থাপক খালেদ মাসুদ পাইলটও ক্রিকেটারদের নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দলের সদস্যদের সবাই হোটেলে ফিরে এসেছেন। তাঁদের হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের শহরতলি লিনউডের মসজিদেও সশস্ত্র পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। হ্যাগলি পার্ক এলাকা ও আশপাশের লোকজনকে বাড়ি থেকে বের হতে মানা করা হয়েছে। এই পার্কের সামনের ডিয়েন এভিনিউয়ে আল নুর মসজিদটি অবস্থিত।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানকার স্কুল ও চার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আকাশে হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তাঁরা সেখানে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিছু লোকজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে পুলিশ বা শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মোহন ইব্রাহিম নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ডকে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম বৈদ্যুতিক কোনো বিভ্রাটের কারণে বোধ হয় এ রকম শব্দ হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষণেই দেখলাম, লোকজন দৌড়াতে শুরু করেছে। সেখানে আমার এক বন্ধুও ছিল। তাঁকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাইনি। আমি তাঁর জন্য চিন্তিত।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্দুকধারীকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন তাঁরা।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নিশ্চয়ই তারা সবাই জান্নাতে যাবেনঃ শোকাহত রাগবি তারকার আবেগঘন ভিডিও

নিউজিল্যান্ডের শোকাহত রাগবি তারকা স্টোনি বিল উইলিয়ামস বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চের মসজিদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহতরা জান্নাতে যাবেন।

শুক্রবার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি আবেগঘন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি।

মাথায় ক্যাপ পরা এই ধর্মপ্রাণ মুসলমান একটি গাড়ির ভেতর বসে যখন এই ভিডিও দিচ্ছিলেন তখন তার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। হাত দিয়ে কয়েকবার তাকে চোখ মুছতে দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ, আজ যারা নিহত হয়েছেন, তারা জান্নাতে যাবেন। নিউজিল্যান্ডে এ ঘটনা ঘটায় আমি প্রচণ্ড মর্মাহত হয়েছি।

ভিডিওঃ ‘নিশ্চয়ই তারা সবাই জান্নাতে যাবেন’: শোকাহত রাগবি তারকা স্টোনি বিল উইলিয়ামস

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এদিকে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ৩০ মুসল্লিকে হত্যার ঘটনায় মার্কিন মুসলমানদের মানবাধিকার সংস্থা মুসলিম অ্যাডভোকেটস শোক জানিয়েছে বিবৃতি দিয়েছে।

এই বিভৎস হামলার ঘটনায় শোক জানিয়ে নিউজিল্যান্ডের মুসলমানদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে সেখানে হামলার উপদ্রব বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটছে।

বিবৃতি জানায়, মার্কিন মুসলমান সম্প্রদায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাণঘাতী হামলার শিকার হচ্ছে। কিন্তু আজ নিউজিল্যান্ডে যে মর্মান্তিক হামলা হয়েছে, তাকে একেবারেই বিরল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একটি আধা স্বয়ংক্রীয় শর্টগান ও রাইফেল দিয়ে সাউথ আইল্যান্ডে আল নুর মসজিদে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়েন ২৮ বছর বয়সী এক শ্বেতাঙ্গা শ্রেষ্ঠত্ববাদী সন্ত্রাসী।-খবর মেইল অনলাইনের।

ক্ষুদেব্লগ টুইটারে হামলাকারী নিজের পরিচয় দিয়েছেন ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামে। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রাফটন থেকে এসেছেন।

এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ার সময় মসজিদের ভেতর থেকে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন এই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী।

শুক্রবার জমার নামাজ চলার সময় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত এক নারীসহ চার ব্যক্তিকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

আটকের সময় তাদের একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা অবস্থায় ছিলেন।

হত্যাকাণ্ড ঘটনার আগে টুইটারে ৮৭ পাতার ইশতেহার আপলোড করেছেন হামলাকারী। এরমাধ্যমে সন্ত্রাসী হামলার আভাস আগেই তিনি দিয়েছিলেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ’

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় দুপুর পৌঁনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লেন পেনেহা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী ফরাসি বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, আমি দেখলাম কালো কাপড় পরিহিত একজন ব্যক্তি মসজিদের ভেতর প্রবেশ করল। এর পরই অনবরত গুলির শব্দ। মসজিদের ভেতরের সবাই তখন পালাতে লাগল।

পেনেহা ওই মসজিদটির পাশের বাড়িতেই বাস করতেন। তিনি বলেন, বন্দুকধারী এ সময় মসজিদের বাইরে বের হয়ে আসেন এবং পালিয়ে যান।

পেনেহা বলেন, ঘটনার কিছুক্ষণ পর আমি মসজিদের ভেতরে আহতদের সাহায্য করার জন্য গিয়েছিলাম।

আমি গিয়ে দেখলাম, চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। মসজিদে ঢোকার প্রধান রাস্তায়, প্রধান দরজায় এবং মসজিদের ভেতরে শুধু লাশ পড়ে আছে।

তিনি বলেন, এটি অবিশ্বাস্য উন্মত্ততা। আমি ভাবতেও পারি না; একজন মানুষ কিভাবে কারও সঙ্গে এ ধরনের কাজ করতে পারে। এটি পুরো অসহনীয়।

তিনি বলেন, আমি প্রায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে বাড়ি যাওয়ার জন্য সাহায্য করেছি। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

তিনি বলেন, আমি এখানে প্রায় পাঁচ বছর বাস করছি। এখানকার মানুষ খুবই ভালো ও বন্ধুত্বপূর্ণ। আমি বুঝতে পারছি না কীভাবে এটি ঘটল।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে জুমার নামাজে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ৩০, অল্পে রক্ষা পেল টাইগাররা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। মসজিদের ভেতরে ঢুকে বন্দুকধারীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন তামিম ইকবাল, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলামসহ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়।

দেশটির স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভাল মাঠের খুব কাছে অবস্থিত আল নূর মসজিদে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

লিটন দাস ও নাইম হাসান ছাড়া বাংলাদেশ দলের সবাই মাঠে অনুশীলনে ছিলেন। অনুশীলন শেষে তারা ওই মসজিদটিতে জুম্মার নামাজ পড়তে যান। তাদের সঙ্গ দিতে সৌম্য সরকার, দলের স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়ন, দলের ডাটা অ্যানালিস্ট শ্রিনিবাসসহ বেশ কয়েকজন তাদের সঙ্গেই ছিলেন।

জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ৩০০ জনের মতো মুসল্লি মসজিদটিতে যান। অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়রাও মসজিদটিতে যাচ্ছিলেন। বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয় একজন তাদের মসজিদে ঢুকতে নিষেধ করেন। বলেন, এখানে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। আতঙ্কিত খেলোয়াড়েরা তখন দৌড়ে হ্যাগলি ওভালে ফেরত যান। যাওয়ার সময় তারা স্থানীয় জনগণকেও মসজিদটির আশপাশে যেতে নিষেধ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী বেশ কয়েকজন জানান, একজন বন্দুকধারী মসজিদটিতে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন। শব্দ শুনে সেখানে থাকা মুসল্লিরা দ্বিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। হামলার পর ওই বন্দুকধারী জানালার কাঁচ ভেঙে হামলাকারী পালিয়ে যায়। হামলাকারীর হাতে অটোমেটিক রাইফেল ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মসজিদটি ছাড়াও এছাড়া আশপাশের বেশ কয়েকটি স্কুলেও গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এসব ঘটনায় কতজন হতাহত হয়েছেন তা বলতে পারেননি কেউ। দেশটির শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা স্টাফ ইঞ্জিন আহতের সংখ্যা অর্ধশত পেরিয়ে যেতে পারে বলে খবর দিয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আবার বেশ কয়েকটি অনলাইনে নিহতের সংখ্যা ছয় বলে জানানো হচ্ছে। মসজিদটির আশপাশের এলাকা কর্ডন করে রেখেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে।

হামলার পর আশপাশের স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের ক্যাথিড্রাল স্কয়ারে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে একটি র‍্যালিতে অংশ নিতে কয়েক হাজার শিশু জড়ো হওয়ার পর ওই জায়গাটি খালি করে ফেলা হয়েছে।

হামলার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের হোটেলে ফিরে নেওয়া হয়েছে। তাদের সবার চোখে মুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ।

তামিম ইকবাল নিজের টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ডাটা অ্যানালিস্ট শ্রিনিবাস তার টুইটার একাউন্টে লিখেছেন, ‘মাত্রই এক বন্দুকধারীর হাত থেকে রক্ষা পেলাম। এখনো শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে না। ভয় কাজ করছে সর্বত্র।’

উল্লেখ্য, ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভাল মাঠে আগামীকাল বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যেকার তৃতীয় টেস্ট হওয়ার কথা। হামলার এই ঘটনার পর শনিবারের এই খেলা হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উৎসঃ ঢাকা টাইমস

আরও পড়ুনঃ ইসরাইলের প্রতিটি আঘাতের পাল্টা জবাব দেয়া হবেঃ রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের প্রতিটি আঘাতের পাল্টা জবাব দেয়া হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। পাশাপাশি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ‘চোর’ ও ‘ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যাকারী’ বলেও আখ্যায়িত করেন তিনি।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বুধবার এক গণসমাবেশে বক্তৃতাকালে ফিলিস্তিনে নির্যাতনের জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। খবর ডেইলি সাবাহ আরবি।
ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো আগ্রাসন বন্ধ করতে ইসরাইলের প্রতি কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে এরদোগান বলেন, ‘নেতানিয়াহু, আপনি নিবৃত্ত হোন। আপনি ওই জালেম, যার হাত ফিলিস্তিনিদের রক্তে রঞ্জিত। সাত বছরের শিশুরাও আপনার হাত থেকে নিরাপদ নয়।’

নেতানিয়াহুর পুরো পরিবার দুর্নীতিগ্রস্ত অভিযোগ করে এরদোগান বলেন, ‘স্ত্রীসহ আপনি দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত। কোন মুখে আপনি দেশ পরিচালনা করছেন।’

আল আকসার ব্যাপারে কোনো ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী এ নেতা বলেন, ‘কুদসের অধিকার কেউ আমাদের ভুলিয়ে দিতে পারবে না। আল্লাহর সাহায্যে মুসলিম উম্মাহ এ দাবি থেকে কখনো সরবে না।
আল আকসায় আর কোনো হামলা সহ্য করা হবে না জানিয়ে এরদোগান বলেন, ‘আমাদের পবিত্র মসজিদের ওপর যে কোনো হামলায় আমরা রুখে দাঁড়াবো। এখন থেকে প্রতিটি আঘাতের পাল্টা জবাব দেয়া হবে।

আল আকসার বিষয়ে সবাই নীরব থাকলেও আমরা নীরব থাকব না।’

ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আল আকসা মসজিদ অবরুদ্ধ থাকার পরই ইসরাইলকে এ বিষয়ে কঠিন হুশিয়ারি দিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ মসজিদটির নিয়ন্ত্রণ নিলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিরা।
এর প্রতিবাদে মসজিদের বিভিন্ন ফটকে দিনভর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বুধবার সকালে আল আকসার ফটক খুলে দেয় ইসরাইল। বুধবার সকালে মসজিদে ঢুকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ প্রতিবাদের মুখে আল আকসা থেকে সরে গেল ইসরাইল


ফিলিস্তিনিদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে আল আকসা থেকে সরে গিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। মঙ্গলবার সকাল থেকে ইসরাইলি পুলিশ মসজিদটির নিয়ন্ত্রণ নিলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিরা। প্রতিবাদে মসজিদের বিভিন্ন ফটকে দিনভর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা।

অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বুধবার সকালে আল আকসার ফটক খুলে দেয় ইসরাইল। বুধবার সকালে মসজিদে ঢুকে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন। মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসাকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে ফিলিস্তিনে।

ফিলিস্তিনের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল ওয়াতান জানিয়েছে, আল আকসা সংলগ্ন ইসরাইলি পুলিশ চৌকিতে মঙ্গলবার সকালে একজন দুর্বৃত্ত একটি বিস্ফোরকদ্রব্য ছুড়ে মারে। এতে এক ইসরাইলি পুলিশ আহত হয়। এর জের ধরে আল আকসার নিয়ন্ত্রণ নেয় ইসরাইলি পুলিশ। মসজিদের মূল ফটকসহ পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখে মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। এমনকি জানাজার জন্য আনা মৃতদের খাটিয়াও প্রবেশ করানো যায়নি আল আকসা প্রাঙ্গণে।

প্রতিবাদে ফিলিস্তিনি মুসলমানরা বিক্ষোভ শুরু করলে তাদের ওপর চড়াও হয় ইসরাইলি পুলিশ। এ সময় মুসল্লিদের বেধড়ক লাটিচার্জ করা হয়। আহত হয় শতাধিক। গ্রেফতার করা হয় কয়েকজনকে। এ নিয়ে মঙ্গলবার দিনভরই উত্তেজনা চলে ফিলিস্তিনে। বিক্ষুদ্ধ মুসল্লিরা মসজিদ চত্বরে ঢুকতে না পেরে ফটকের সামনেই আসর, মাগরিব ও ইশার নামাজ আদায় করেন।

স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনিদের অব্যাহত প্রতিবাদের মুখে বুধবার সকালে আল আকসার ফটক খুলে দেয় ইসরাইল। এ সময় হাজার হাজার মুসল্লি আল আকসায় ফজরের নামাজ আদায়। হামাস নেতা নাসির কওসের বরাতে আল ওয়াতান জানায়, অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বুধবার ফজরের আগেই ফটকের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিয়েছে ইসরাইল।

এ দিকে বুধবার সকালে আল আকসার খতিব ও ফিলিস্তিনের গ্রান্ড মুফতি শাইখ মোহাম্মদ হুসাইন শাইখ বলেছেন, ইসরাইলি পুলিশকে আল আকসায় আর সহ্য করা হবে না। মঙ্গলবার দিনব্যাপী আল আকসা অবরোধের জন্য ইসরাইলকে কঠিন হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আল আকসা বিষয়ে আর কোনও ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ চীনা ভেটোতে হতাশ ভারত


পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের নাম কালো তালিকায় রাখতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে চীন ভেটো দেয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছে প্রতিবেশী ভারত।-খবর এএফপির

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়্ন্ত্রীত কাশ্মীরে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় একটি আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হওযার দায় স্বীকার করেছে জইশ। এর পর থেকে পরমাণুশক্তিধর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

এক বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনা ভেটোতে তারা হতাশ।

ভারত জানায়, আমাদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী নেতাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে সব উপায়ে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হবে।

মাসুদ আজহারের ওপর অস্ত্র, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তার সম্পদ জব্দ করতে নিরাপত্তা পরিষদের ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদা নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৫ সদস্যের ওই কমিটি পরিচালিত হয়।

কিন্তু তিন পরাশক্তির প্রস্তাবে বাধা দিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীন। মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে সমর্থনে দেশটি কোনো কারণ খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছে।

২০১৬ ও ২০১৭ সালেও এই জইশ নেতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাইলে তাতে বাধা দিয়েছিল চীন।

বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সহায়তা সংস্থাগুলোর নীতি ও প্রক্রিয়া অনুসারে আলোচনা চালাতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় চীন যদি অব্যাহতভাবে ভেটো দিয়ে যায়, তবে নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যরা ভিন্ন পদক্ষেপের দিকে এগোবে।

ওই কূটনীতিক বলেন, জইশকে আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। কাজেই মাসুদ আজহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া অপরিহার্য।

জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রথমে ভারতবিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হলেও পরে আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০০১ সালে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান ১৬ দিনের আলোচনায়ও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি

কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ দিনের দীর্ঘ আলোচনা শেষ হয়েছে। ছবি: জি নিউজ

১৬ দিনের আলোচনায়ও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান। কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ দিনের দীর্ঘ আলোচনা শেষ হয়েছে। বড় ধরনের কোনও ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলেও দুপক্ষের আলোচনায় শান্তি প্রক্রিয়ার কাজ এগিয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার দুপক্ষই আলাদাভাবে জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর নিরাপত্তাসংক্রান্ত ইস্যুতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের আফগানবিষয়ক দূত জালমই খলিলজাদ জানান, দোহায় তালেবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনার ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা উভয়পক্ষই একমত হয়েছি যে, আফগান যুদ্ধ বন্ধ হওয়া উচিত।

অন্যদিকে তালেবানের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, উভয়পক্ষই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সামনের বৈঠকগুলোর আলোচ্য বিষয় নির্ধারণ করবে।আফগানিস্তান থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ইস্যুতে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর দেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চেয়েছে।

তবে ১৬ দিন ধরে চলা শান্তি আলোচনায় লিখিত কোনো চুক্তি হইনি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

এক টুইটবার্তায় খলিলজাদ বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠায় চার ইস্যুতে চুক্তির প্রয়োজন: সন্ত্রাস দমনের নিশ্চয়তা, সেনা প্রত্যাহার, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংলাপ এবং বিস্তৃত একটি যুদ্ধবিরতি। জানুয়ারির আলোচনায় আমরা এই চারটি মৌলিক ইস্যুতে একমত হয়েছিলাম। এখন আমরা প্রথম দুটির খসড়ার বিষয়ে একমত হয়েছি।

টানা ১৭ বছরের আফগান যুদ্ধের ইতি টানতে দোহায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আফগানিস্তানে টেকসই শান্তির লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবানের সঙ্গে চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবার আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবান প্রতিনিধিরা। গত মাসে দোহায় শুরু হয় দ্বিতীয় দফার আলোচনা

২০০১ সালে মার্কিন দখলদারিত্বের আগ পর্যন্ত আফগানিস্তানে ৫ বছরের (১৯৯৬-২০০১) মতো ক্ষমতায় ছিল তালেবান। এরপর ক্ষমতাচ্যুত হলেও তালেবান যোদ্ধারা লড়াই চালিয়ে আসছিল। আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেক এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে তালেবান। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক দখলের পর থেকে তারা এখন দেশটিতে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জাতিসংঘে মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্তিতে ভেটো দিল চীন


পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের নাম জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে দেয়নি চীন।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় একটি আধাসামরিক বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে জইশ। এতে ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের বৈরিতা আকাশযুদ্ধ পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

মাসুদ আজহারের ওপর অস্ত্র, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং তার সম্পদ জব্দ করতে নিরাপত্তা পরিষদের ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদা নিষেধাজ্ঞা কমিটিকে অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ফ্রান্স। ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৫ সদস্যের ওই কমিটি পরিচালিত হয়।

কিন্তু তিন পরাশক্তির প্রস্তাবে বাধা দিয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীন। মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে সমর্থনে দেশটি কোনো কারণ খুঁজে পায়নি বলে জানিয়েছে।

২০১৬ ও ২০১৭ সালেও এই জইশ নেতার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাইলে তাতে বাধা দিয়েছিল চীন।

বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং সহায়তা সংস্থাগুলোর নীতি ও প্রক্রিয়া অনুসারে আলোচনা চালাতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক কর্মকর্তা বলেন, আজহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় চীন যদি অব্যাহতভাবে ভেটো দিয়ে যায়, তবে নিরাপত্তা পরিষদের অন্য সদস্যরা ভিন্ন পদক্ষেপের দিকে এগোবে।

ওই কূটনীতিক বলেন, জইশকে আল কায়েদাসংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। কাজেই মাসুদ আজহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া অপরিহার্য।

জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রথমে ভারতবিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হলেও পরে আল কায়েদার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০০১ সালে এ বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরিদের জন্য অনিরাপদ কাশ্মীর


কাশ্মীরের শ্রীনগরে তার বাড়ির ওপর দিয়ে প্রথম যখন যুদ্ধবিমান উড়ে যাচ্ছিল, তার কিছুক্ষণ পর ৫০ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ জানতে পারেন, খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে ১০ কিলোমিটারের কম দূরত্বের একটি স্কুলে গণিত পড়ান মোহাম্মদ ইউসুফ। মাথার ওপরে যুদ্ধবিমানের গর্জন এর আগে কখনও তিনি শুনেননি বলে জানিয়েছেন।-খবর ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনলাইনের

রাজ্যটির গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে গত সপ্তাহের আগে যুদ্ধবিমানের এমন গোঙানি নিকটাতীতে শোনা যায়নি।

ছবির মতো দেখতে শ্রীনগরের কাছেই সীমান্ত দিয়ে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নিয়মিত গোলাবিনিময়ের ঘটনা ঘটছে। এতে ভারত-পাকিস্তানের নাগরিকরা হতাহত হচ্ছেন অহরহ।

যুদ্ধবিমানের গর্জন যখন ইউসুফের কানে আসে, তখন রাত সোয়া ৩টার বেশি বাজে। তখনও কেউ জানতেন না যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারত-পাকিস্তান পরস্পরের ভূমিতে বিমান হামলা চালাতে যাচ্ছে।

ইউসুফ বলেন, বিমানের শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে আতঙ্কিত হয়ে সবাই ঘরের বাইরে বেরিয়ে আসি।

স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদ ইউসুফের সংসার। তিনি বলেন, কী ঘটছে, তা দেখতে সবাই আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। গভীর রাত, অন্ধকারে কিছুই দেখতে পাইনি। তবে বিমানের বিকট গর্জন এসে কানে লাগছিল।

এই গণিত শিক্ষক বলেন, আমি কখনেই এমন শব্দ শুনিনি। কিন্তু এটি কীসের শব্দ তা জানতাম। আমরা ভেবেছিলাম, সীমান্তে কিছু একটা ঘটছে। যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে।

কেবল মোহাম্মদ ইউসুফই নন, শ্রীনগরের অন্য বাসিন্দারাও নিজেদের সন্তানদের আতঙ্ক থেকে বাঁচাতে মিথ্যা বুঝ দিয়েছেন। যাতে খারাপ কিছু ঘটছে বলে তাদের কাছে মনে না হয়। শিশুরা যাতে স্বাভাবিক থাকতে পারে।

তিনি তার ১০ বছর বয়সী ছোট ছেলে আজহারকে বলেন, সব কিছু ঠিক আছে। এটি বিমানের স্বাভাবিক চলাচল।

এটিই হচ্ছে শ্রীনগরের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন। পরমাণু শক্তিধর ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতার মাঝখানে তাদের অবস্থান। দুই দেশই কাশ্মীরকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করছে।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি সেনা অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোর একটি হচ্ছে কাশ্মীর। পাহাড়েঘেরা এই ছোট্ট উপত্যকাটিতে প্রায় সাত লাখ ভারতীয় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সশস্ত্র পুলিশের বিপুল অবস্থান সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের অন্যতম গন্তব্য হচ্ছে কাশ্মীর। ডাল লেকের চোখ জুড়ানো দৃশ্য ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে সেখানে।

৪০০ বছরের পুরনো মোগল আমলের পরীমহল দেখতে পর্যটকরা ছুটে যান কাশ্মীরে। কিন্তু পরীর নিবাসখ্যাত এই গার্ডেনেও ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর একটি ছোট্ট ক্যাম্প বসানো রয়েছে।

১৪ ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় হামলার পর কাশ্মীরে উত্তেজনা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। ঝিলাম নদে যাত্রী পারাপার করেন আবদুল কারিম কালু। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের সময় সর্বশেষ শ্রীনগরে যুদ্ধবিমানের ঘুরপাক দেখেছেন তিনি।

কালু বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিমান দেখার পর সেই সময়ের কথা আমার মনে পড়ে গেছে। এখানে ব্যবসায়ী সমিতি নিয়মিত ধর্মঘট ডাকে। কাজেই শহরজুড়ে সবসময় উত্তেজনা থাকে।

আর এসব কারণে কালুর উপার্জনেও ধাক্কা লাগে। তিনি বলেন, বাস্তবিকভাবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। সংঘাতের কারণে কাশ্মীরের লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক কাজ করছে।

কালু সবসময় নিজের দুই নাতনির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। তিনি বলেন, যারা সকালে রুটি-রুজির সন্ধানে ঘর থেকে বের হন, সন্ধ্যায় তারা জীবিত ফিরতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কাশ্মীরের রাস্তায় একসময় বহু হকার দেখা যেত। তারা হস্তশিল্প ও কাশ্মীরি কাপড়চোপড় বিক্রি করতেন। পর্যটকরা তা সংগ্রহ করছেন। কিন্তু পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সড়ক থেকে তারা উধাও হয়ে গেছেন।

কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এক দোকানির সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বিচলিত বোধ করেন।

কীভাবে পাক-ভারত সংঘাত তার ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে, সে কথা জানালেন ২৫ বছর বয়সী যুবক আবিদ খাপড়া।

কথা বলার সময় তার ভেতর খুবই আবেগ দেখা গেছে। বেদনার সঙ্গে তিনি বলেন, দিনে দিনে আমরা হতাশ হয়ে পড়ছি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের শিশুরা শিক্ষাবঞ্চিত হচ্ছে। এভাবেই খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের।

মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে দাঙ্গা পুলিশ। ১৪ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় অভিযান চলছে। কাজেই পুলিশের বাধায় নিজের দোকানে যেতে পারেন না আবিদ খাপড়া। এতে তার আয়-উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।

ক্ষুব্ধ হয়ে সে কথাই বলছিলেন এ কাশ্মীরি যুবক। তিনি বলেন, যখনই আমি বাইরে বের হই, দেখি দাঙ্গা পুলিশ সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমি হয়রানির শিকার হই। দোকানে যেতে পারি না।

আবিদ বলেন, ভারতের কোথাও গেলে সেনাবাহিনী আপনাকে সহায়তা করবে। কিন্তু এখানে একজন সেনার কাছে অপরিচিত জায়গার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করতেও সাহস পাবেন না। সেনাসদস্যরা যদি খারাপ কিছুও করে, তবে সে জন্য তাদের জবাবদিহি করতে হয় না।

একটি ক্যাফেতে খেতে গিয়ে পছন্দের খাবার পাননি ২২ বছর বয়সী চিকিৎসা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী আবরু জান। তিনি বলেন, পুলওয়ামায় হামলার পর ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর আচরণে পরিবর্তন চলে এসেছে। সেনাসদস্যরা আমাদের তাদের শত্রু মনে করছে।

আবরু জান বলেন, একজন কাশ্মীরি হিসেবে স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যদের বেদনা আমি বুঝতে পারি। আমরা সবাই কাউকে না কাউকে হারিয়েছি। আমাদের গ্রামে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে। বন্দুকের গুলিতে তরুণদের আহত হতে দেখেছি।

বাইরে বের হলেই সশস্ত্র পুলিশের মুখোমুখি হতে হয় বলেও জানান এ মেডিকেলছাত্রী। বললেন, এখানে অনেক বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। এখানে বহু সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতির এতই অবনতি ঘটেছে যে, কাশ্মীরিদের জন্য কাশ্মীর কোনো নিরাপদ বাসস্থান নয়।

‘পুলওয়ামার আগে মনে হয়েছিল, পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটছে। স্বাভাবিক না হলেও চলাফেরা করা যেত। কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তান ও ভারত সংঘাতের দিকে চলে গেছে। আর সেই সংঘাতের মাঝে রয়েছে কাশ্মীর।’

ঘাসে ঢাকা নদীর তীরে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করছিলেন ২১ বছর বয়সী কম্পিউটার প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবরার। তার একটি ভালো চাকরি আছে। কাজেই তিনি কিছুটা আশাবাদী মানুষ।

তার পরও তিনি বলেন, আতঙ্কে শহরে সপ্তাহখানেক রাতে ঘুমাতে পারিনি। শ্রীনগরের রাস্তায় এই প্রথমবারের মতো আমি উত্তেজনা টের পেলাম।

‘গত সপ্তাহে যখন মাথার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান ঘুরপাক খাচ্ছিল, তখন এটিকে হলিউডের যুদ্ধ চলচ্চিত্রের দৃশ্য বলে মনে হয়েছিল। আমরা খুবই হতাশ। বাড়িতে নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছি না।’

পাকিস্তান শান্তির নিদর্শন হিসেবে পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের কাছে ফেরত দেয়ার পর উত্তেজনা কিছুটা কমতির দিকে গেছে। কিন্তু এতে এমন কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি, যাতে কাশ্মীরের লোকজন আশাবাদী হতে পারেন।

এই কম্পিউটার প্রকৌশলী বলেন, এখানে কারও ভবিষ্যৎ নেই। কোনো শিশু, নারী-পুরুষ কিংবা বৃদ্ধ। কেউ নিরাপদ নয়; এমনকি এখানকার কোনো বাড়িতেও কারও নিরাপত্তা নেই।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ চীনের দমনপীড়নে দিশেহারা মুসলিমরা, রেহাই পাচ্ছেন না কাজাখরাওঃ ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন


প্রায় সময় রাতের মধ্য ভাগে চীনা নাগরিক যাহারকেনবেক ওটান তার স্ত্রী শেইনার কেলেশেভার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। কাজাখস্তানের বাসিন্দা শেইনার কেলেশেভা জানান, তার স্বামী স্মৃতিভ্রম হয়েছে এবং মাঝে মধ্যে তিনি কাজাখস্তানের সবচেয়ে বড় শহর আলমাটির রাজপথে দৌড়ে বেরিয়ে যান।

যখন যাহারকেনবেক ওটানের পরিবার তাকে খুঁজে পায়, তখন তিনি তাদের কাউকে চিনতে পারেন নি এবং নিজ গৃহে ফেরত আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

যাহারকেনবেক ওটান নামের ৩১ বছর বয়সী এই রন্ধনশিল্পী কাজাখস্তানের পার্শ্ববর্তী দেশ চীনের জিয়ানজিয়াং প্রদেশে তথাকথিত রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে অন্তত দু’বছর আটক ছিলেন।

আর যখন ২০১৮ সালে যাহারকেনবেক ওটান মুক্তি পেয়ে তার স্ত্রীর সাথে সীমান্ত পার হচ্ছিলেন তখনই তার স্ত্রী বুঝতে পারেন যে, তার স্বামী আর পূর্বের মানুষটি নেই।

আর চীন নামক দেশটিতে যাহারকেনবেক ওটানের মত অনেকেই এরকম নির্যাতনের শিকার। বেইজিং দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম অত্যাচার চালানোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকেই এরকমটি ঘটে চলেছে।

কিন্তু সম্প্রতি পরিস্থিতি আরো বেশী বদলে গিয়েছে। এর পূর্বে চীন এবং কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষজন দুদেশে যাতায়াত করতেন এবং এর ফলে তাদের অনেকেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন।

বর্তমানে হাজার হাজার কাজাখ চীনা কর্তৃপক্ষ দ্বারা আটকের শিকার হয়েছেন এবং এদের মধ্যে অনেকেই ওটানের মত করে কাজাখস্তানের অনেক নারীকে বিয়ে করে দেশটিতে বৈধ বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করছিলেন।

২০১৬ সালে ওটান তার দেশ চীনে গিয়েছিলেন কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে যাতে করে তিনি কাজাখস্তানের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু চীনা কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে এবং তাকে ২০১৭ সালে রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে প্রেরণ করে।

এসব দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক সবাই ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং সেখানে তাদেরকে জোর পূর্বক ইসলাম ধর্মের রীতিনীতি চর্চা থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। চীন এর পূর্বে নিজ দেশের মুসলিমদের এখানে আটক করে রাখত আর বর্তমানে এখানে অনেক কাজাখ নাগরিককেও আটক রাখা হয়েছে এবং তা কাজাখস্তানের স্বাধীনতার প্রতি মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ঠিক কতজন মুসলিম জিয়ানজিয়াং এর আটক কেন্দ্রে আটক রয়েছেন তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয় কিন্তু কিছু বেসরকারি হিসেবে মতে সেখানে আট লাখ থেকে ২মিলিয়ন মুসলিম আটক রয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জিনজিয়াং বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিয়ান থুম বলেন, চীনের আটক কেন্দ্রে উইঘুর মুসলিমদের সাথে কাজাখ মুসলিমদের আটকাবস্থা দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। কারণ ইতোপূর্বে চীন কাজাখ মুসলিমদের তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচনা করতো না এবং দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির নিকট কাজাখ মুসলিমদের গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

চীনের জিয়ানজিয়াং প্রদেশে অন্তত ১.৫ মিলিয়ন কাজাখ বাস করে যারা সেখানকার উইঘুর জনগোষ্ঠীর পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠী। থুম বলেন, কাজাখদের উপর বর্তমানের দমন পীড়ন উইঘুরদের উপর দমন পীড়নের মতই এবং তা ‘ইসলাম-ভীতি দ্বারা’ প্রভাবিত।

জিনজিয়াং এ আটক ছিলেন এমন ৬০ জন বন্দীর সাক্ষাৎকার নিয়ে সেখানকার ভয়ানক পরিস্থিতির কিছুটা আঁচ করা যায়।

একই সময়ে উগ্র জাতীয়তাবাদের ধারণা চীনাদেরকে আরো বেশি আগ্রাসী করে তুলেছে। এর ফলে দেশটির সংখ্যালঘুদের সংস্কৃতির উপর দমন পীড়ন চালানো হচ্ছে বিশেষত ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের উপর।

এসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক মুসলিমদের জোর পূর্বক ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হয়, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গীত শেখানো হয় এবং তাদেরকে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য করা হয়।

চীনে ধর্ম বিশেষত ইসলাম ধর্মকে তাদের জাতীয় পরিচয়ের সাথে বৈরী বলে মনে করা হয় এবং দেশটির কর্মকর্তাগণ অনেক খোলাখুলিই ইসলাম ধর্মকে চীনের স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে এক করার ঘোষণা দেন। একই সাথে তারা ইসলাম ধর্মকে সমাজতন্ত্রের সাথে এক করার পক্ষে মত দেন।

গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ নামের চীনা নাগরিক যিনি তার স্বামীর সাথে কাজাখস্তানে বসবাস করেন তিনি রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে ১৫ মাস আটক ছিলেন। তিনি বলেন- ‘তারা বলেছিলো যে, আমি একজন বিশ্বাসঘাতক কারণ আমি কাজাখস্তানে বসবাস করি।’

গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ এখনো দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক থাকার স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন- ‘সেখানে আটক অনেকেরই আমার মত সন্তান রয়েছে। কিন্তু আমরা আটক থাকা অবস্থায় আমাদের সন্তানদের দেখতে পারতাম না এবং তাদের কে খেয়াল রাখবে এমন চিন্তা করে অস্থির থাকতাম।’

তিনি আরো বলেন- ‘জিনজিয়াং একটি এতিমদের শহরে পরিণত হয়েছে।’

চীনে বসবাসরত কাজাখ গণ এর পূর্বে চীন এবং কাজাখস্তানের মধ্যে আসা যাওয়া করত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এবং ১৯৯১ সালে কাজাখস্তানের স্বাধীনতার পর অন্তত ১৮ মিলিয়ন চীনা নাগরিক দেশটির স্বাধীনতা লাভ করে।

কিন্তু চীনে তাদের আত্মীয়দের কাছে যাওয়ার জন্য সীমান্তে আসা যাওয়ার কারণে তাদের এখন বৈষম্যের চোখে দেখা হয়। Human Rights Watch এর মতে, জিনজিয়াং এর মুসলিম অধিবাসীদের সাথে বিদেশীদের সাথে যোগাযোগ রাখাকে এখন শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।

গেনে বুনিন নামের রাশিয়ান-আমেরিকান লেখক এবং অনুবাদক যিনি ‘Xinjiang Victims Database’ নামের একটি সংগঠন পরিচালনা করেন তিনি বলেন, জিনজিয়াং কর্তৃপক্ষ ২৬টি বিদেশী রাষ্ট্রের একটি তালিকা করেছে আর এর মধ্যে কাজখাস্তান অন্যতম।

হাজার হাজার কাজাখ বংশোদ্ভূত চীনা নাগরিক এমনকি কাজাখস্তানের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি প্রাপ্ত অনেক চীনা নাগরিক তথাকথিত এসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্রে আটক রয়েছে এবং তাদের ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। অন্যদিকে গুলজারিয়া অউয়েলখানকেইজ এবং যাহারকেনবেক ওটানের মত কিছু সংখ্যক বন্দীর মুক্তি পাওয়া কিছুটা ব্যতিক্রমী ব্যাপার।

ওরাল জাহানবিল নামের একজন বলেন, তার পিতা তুরান মুখামেতকেন একজন চীনা নাগরিক যিনি কাজাখস্তানে বসবাস করেন এবং তিনি ২০১৭ সালে জিনজিয়াং এ তার পেনশনের অর্থ উত্তোলন করতে গেলে চীনা কর্তৃপক্ষের দ্বারা আটক হন।

জাহানবিল এখনো তার পিতার আটক হওয়ার কারণ জানেন না তবে আটক থাকার এক বছর পর মুখামেতকেন মুক্তি পান কিন্তু তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয় এবং তিনি এখনো চীন থেকে কাজাখস্তানে ফেরত আসতে পারেন নি।

আসকার আজাতবেক যিনি জিনজিয়াং প্রদেশের সাবেক একজন কর্মকর্তা ছিলেন এবং বর্তমানে তিনি কাজাখস্তানের নাগরিক। তাকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কাজাখস্তানের চীনা সীমান্তবর্তী একটি মুক্ত বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে আটক করা হয়।

সেসময় আজাতবেক তার একজন বন্ধুর সাথে ছিলেন এবং চীন সীমান্ত থেকে দুটো গাড়ি এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। যদিও আজাতবেকের বন্ধু মুক্তি পেয়েছেন কিন্তু তিনি এখনো বন্দি অবস্থায় রয়েছেন আর তার পরিবার এখনো তার কোনো খোজ খবর জানে না।

তবে এতকিছু স্বত্বেও কাজাখস্তানের সরকার তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। চীন কাজাখস্তানের অন্যতম বিনিয়োগকারী এবং একই সাথে ‘ওয়ান বেল্ট এন্ড রোডের’ অন্যতম কৌশলগত মিত্র।

যদিও কূটনীতিকরা চীনের জিনজিয়াং এ আটক কাজাখ নাগরিকদের পরিবার সমূহকে তাদের আটক স্বজনদের সাথে দেখা করিয়ে দেয়ার জন্য উৎসাহ দেন কিন্তু কাজাখ কর্তৃপক্ষ চীনে আটক তাদের নাগরিকদের মুক্তির ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে একেবারে বল শূন্য বলে মনে হচ্ছে।

কাজাখস্তানের সরকার এ বিষয়টি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা চীনা কর্তৃপক্ষ জিনজিয়াং এর মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের মুসলিম পরিচয় মুছে দেয়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সে পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে না।

কিন্তু যেসব রাজনৈতিক দীক্ষা দান কেন্দ্র কাজাখস্তানের পাশের দরজায় স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে কাজাখ নাগরিক, উইঘুর মুসলিমদের আটক করে রাখা হয়েছে তাতে করে সত্যিটা হচ্ছে যে, জিনজিয়াং হয়ত ভবিষ্যতে আরো বড় কোনো সমস্যার তৈরী করবে যাকে এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে।

উৎসঃ ‌ওয়াশিংটনপোস্ট ডট কম।

আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের: ধর্মান্তিত নারী স্টেসি নাভারেত


স্টেসি নাভারেত নামের ২৩ বছর বয়সী নারী যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তখন তার পরিবারের লোকজন এবং তার বন্ধুরা ভেবেছিল যে, তিনি তার মুসলিম স্বামীর মন পাওয়ার জন্য এমনটি করেছেন।

মেক্সিকো এবং পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত নাভারেত বলেন, ‘আমার বন্ধু এবং আমার পরিবারের লোকজন ভেবেছিল আমি মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছি, কিন্তু আসলে এরকম কোনো কিছুই ঘটে নি। প্রথমে আমার পিতামাতা এ বিষয়টি বুঝতে পারে নি, কিন্তু আমি শুধুমাত্র মজা তথা আনন্দ করার জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি এমনটি জানতে পেরে তারা এখন এ বিষয়টি গ্রহণ করে নিয়েছেন।’

স্টেসি নাভারেত নামের এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৩ মিলিয়ন মুসলিমের মত দেশটিতে বেড়ে উঠেছেন এবং সেখানকার সেন্ট লুইস নামক শহরে বসবাস করেন। তিনি একই সাথে দেশটির ৬ শতাংশ লাতিনো মুসলিমের একজন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে Pew গবেষণা কেন্দ্রের করা এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশ হচ্ছেন ধর্মান্তরিত মুসলিম। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো জানিয়েছে যে, গত শতাব্দীতে একমাত্র ইসলাম ধর্মই ছিল সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হওয়া একটি ধর্ম।

স্টেসি নাভারেত বলেন, ‘ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের। আমি সাধারণত হিজাব পরিধান করি না যাতে করে লোকজন আমার পরিচয় সম্পর্কে জানতে না পারে। কিন্তু যখন আমি আমার স্বামী এবং সন্তানের সাথে থাকি তখন আমি এই ভয়ে থাকি যে, লোকজন হয়ত আমাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবে।’

স্টেসি নাভারেত জানান, তিনি ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার স্বামীর সাথে বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। তিনি আরো বলেন, তার স্বামী চাইছিল ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পূর্বেই যাতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারেন।

তিনি বলেন, তার ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয়। ইসলামে পুরুষ এবং নারীদেরকে শালীন পোশাক পরিধান করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন অনুযায়ী, নারীদেরকে তাদের চুল এবং বক্ষদেশ ঢেকে রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে নারীদের প্রতি আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্টেসি নাভারেত নামের ২৩ বছর বয়সী নারী যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তখন তার পরিবারের লোকজন এবং তার বন্ধুরা ভেবেছিল যে, তিনি তার মুসলিম স্বামীর মন পাওয়ার জন্য এমনটি করেছেন।

মেক্সিকো এবং পুয়ের্তো রিকান বংশোদ্ভূত নাভারেত বলেন, ‘আমার বন্ধু এবং আমার পরিবারের লোকজন ভেবেছিল আমি মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছি, কিন্তু আসলে এরকম কোনো কিছুই ঘটে নি। প্রথমে আমার পিতামাতা এ বিষয়টি বুঝতে পারে নি, কিন্তু আমি শুধুমাত্র মজা তথা আনন্দ করার জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি এমনটি জানতে পেরে তারা এখন এ বিষয়টি গ্রহণ করে নিয়েছেন।’

স্টেসি নাভারেত নামের এই নারী যুক্তরাষ্ট্রের ৩.৩ মিলিয়ন মুসলিমের মত দেশটিতে বেড়ে উঠেছেন এবং সেখানকার সেন্ট লুইস নামক শহরে বসবাস করেন। তিনি একই সাথে দেশটির ৬ শতাংশ লাতিনো মুসলিমের একজন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে Pew গবেষণা কেন্দ্রের করা এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের মোট মুসলিমের ২০ শতাংশ হচ্ছেন ধর্মান্তরিত মুসলিম। ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরো জানিয়েছে যে, গত শতাব্দীতে একমাত্র ইসলাম ধর্মই ছিল সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হওয়া একটি ধর্ম।

স্টেসি নাভারেত বলেন, ‘ট্রাম্পের আমেরিকায় বসবাস করা খুবই ভয়ের। আমি সাধারণত হিজাব পরিধান করি না যাতে করে লোকজন আমার পরিচয় সম্পর্কে জানতে না পারে। কিন্তু যখন আমি আমার স্বামী এবং সন্তানের সাথে থাকি তখন আমি এই ভয়ে থাকি যে, লোকজন হয়ত আমাদের নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করবে।’

স্টেসি নাভারেত জানান, তিনি ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার স্বামীর সাথে বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন। তিনি আরো বলেন, তার স্বামী চাইছিল ট্রাম্প ক্ষমতা নেয়ার পূর্বেই যাতে তারা আবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে পারেন।

তিনি বলেন, তার ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধান করা খুবই চ্যালেঞ্জের বিষয়। ইসলামে পুরুষ এবং নারীদেরকে শালীন পোশাক পরিধান করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআন অনুযায়ী, নারীদেরকে তাদের চুল এবং বক্ষদেশ ঢেকে রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে নারীদের প্রতি আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মোদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে বললেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি

Mehbooba Mufti

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় এক আত্মঘাতী হামলায় দেশটির একটি আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার পর পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।

মেহবুবা মুফতি বলেন, ঘরোয়াভাবে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ প্রক্রিয়ার জোরালো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি আমি। যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু না করা হয়, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে বলে তিনি হুশিয়ারি করেন।-খবর রয়টার্সের।

ইতিমধ্যে ১৮ বিচ্ছিন্নতাবাদীকে হত্যার দাবি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। অস্ত্র সমর্পণ না করলে সব বিদ্রোহীকে নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার।

কাশ্মীরের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চলমান ধরপাকড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে।

নরেন্দ্র মোদির উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থনে ২০১৪ সালের শুরু থেকে সেই বছরের জুন পর্যন্ত কাশ্মীরের মুখমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মুফতি। পরে বিজেপি তার ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেয়।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পাকিস্তানের সঙ্গে বসতে বারবার অস্বীকার জানিয়েছে ভারত। গত মাসে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বালাকোট শহরের বাইরে বোমা ফেলে এসেছিল ভারতীয় বিমানবাহিনী।

পর দিন দুই দেশের মধ্যে আকাশযুদ্ধে এক ভারতীয় পাইলটকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান। যদিও আটক পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে শান্তির নিদর্শন হিসেবে ভারতের কাছে ফেরত পাঠিয়েছিল পাকিস্তান।

মুফতি বলেন, কোনো আলোচনা নেই, কথা নেই- এই যুদ্ধংদেহী অবস্থার একটি খারাপ প্রভাব রয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক রয়েছে, জম্মুতে অবশ্যই তার প্রভাব পড়ছে। আর এই বৈরিতার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছি আমরা।

গত কয়েক সপ্তাহে কাশ্মীরের বহু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে আটক করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি বিজেপির প্রধান বলেছেন, সরকার তাদের পরিষ্কারভাবে বলছে- যদি তারা ভারতে থাকতে চান, তাদের ভারতের ভাষায় কথা বলতে হবে, পাকিস্তানের ভাষায় নয়।

মেহবুবা মুফতির বাবাও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, ভারতের কঠোর মনোভাবের কারণে ওপরে ওপরে কিছুটা শান্তি আসবে। গণতন্ত্রের ভেতরে ভিন্নমতের জায়গাটুকু যদি আপনি নষ্ট করে দেন, লোকজন মনে করবে, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। এতে আরও ভিন্নমত ও উত্তেজনা দেখা দেবে।

গত বছরের অন্তত ২৪৮ বিদ্রোহীকে হত্যা করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গত এক দশকের যেটি সর্বোচ্চসংখ্যক।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মসজিদুল আকসার খুতবাঃ জেরুজালেমকে মুসলিমশূন্য করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে ইহুদীরা


পবিত্র মসজিদ আল-আকসা ও ফিলিস্তিনিদের রক্ষার্থে খুব শিগগির বিশ্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ব্শ্বি মুসলিমকে আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদের খতিব শায়েখ ইসমাইল নুওয়াহাজাহ।

শুক্রবার জুমায় আগত ৪০ হাজার মুসল্লির উদ্দেশে দেয়া খুতবায় তিনি এই আহ্বান জানান। খবর আনাদলু আরবির।

জুমার খুতবায় শায়খ ইসমাইল বলেন, মুসলমানরাই আল-আকসার প্রকৃত মালিক। ইহুদিবাদীরা আল-আকসা ও জেরুজালেমে মুসলমানদের ওপর যে ঘৃণ্য হামলা অব্যাহত রেখেছে, এটা গোটা বিশ্বের মুসলিমদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের শামিল।

শান্তি ও শান্ত পরিস্থিতি ফিরে পেতে দ্রুত আল-আকসা রক্ষা আন্দোলন জোরদারের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দখলদাররা সব মাধ্যম এবং পদ্ধতি অবলম্বন করে জেরুজালেমকে মুসলিমশূন্য করার ষড়যন্ত্রে মেতেছে, মুসলমানদের জীবনকে সংকীর্ণ করে তুলেছে।

জেরুজালেম ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ফারাস আদ-দুবস জানিয়েছেন, ইসরাইলি বাহিনীর বাধা ও ব্যাপক নিরাপত্তা তল্লাশি সত্ত্বেও এ সপ্তাহে ৪০ হাজার মুসল্লি জুমা আদায় করতে আল-আকসায় উপস্থিত হয়েছিলেন।

মুসল্লিদের ভিড়ে মসজিদ এলাকার বাইরেও শত শত মানুষ নামাজ আদায় করেছেন। শুক্রবার ভোর থেকে ইসরাইলি পুলিশ আকসা প্রাঙ্গণে তল্লাশি বাড়িয়ে দেয়।

গত মাসে ১৬ বছর পর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে পবিত্র আল আকসা মসজিদের বাব আল-রহমায় নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তারা আল আকসার এ অংশে প্রবেশ করেন।

এর জেরে জেরুজালেমের ওয়াকফ কাউন্সিলের পরিচালক শেখ আবদুল আজিম সালহাবকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইল পুলিশ। এমন উত্তেজনার মধ্যে এ সপ্তাহের জুমায় বিশ্বের প্রতিটি মসজিদের খতিবদের পবিত্র মসজিদ আল-আকসা ও ফিলিস্তিন সম্পর্কে খুতবা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলার্সদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন আল-ইত্তিহাদুল আলামিয়্যু লি-উলামায়িল মুসলিমিন (ওয়ার্ল্ড ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলার্স)।

এদিকে গত ৪ মার্চ জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জন্য ব্যবহৃত মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে তা ইসরাইলি মিশনের সঙ্গে একীভূত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া আল আকসা মসজিদের বাবে রহমত ফটক নিয়েও সংঘর্ষ চলছে দু’সপ্তাহ পর্যন্ত।

১ মার্চ দখলদার ইসরাইল জেরুজালেম নগরীতে মুসলমানদের ওপর ধারাবাহিক যে নিপীড়নমূলক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে মিসরের আল-আজহার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকেও ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এর কঠোর নিন্দা জানানো হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here