শ্রীলঙ্কায় মুসলিমদের বাড়িঘর দোকানপাটে খ্রিষ্টানদের হামলা, কারফিউ জারি

0
188

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উত্তরাঞ্চলের নেগোম্বো শহরে গতকালস সোমবার মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও যানবাহনে হামলা করেছে দেশটির উগ্রপন্থী খ্রিষ্টানরা। ওই হামলার পর শহরটিতে কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

মুসলিমদের ওপর এই হামলার পর দেশটির রোমান ক্যাথলিক চার্চের যাজক উভয় সম্প্রদায়কে শান্ত থাকার ও মদ নিষিদ্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ২১ এপ্রিল ইস্টার সানডের সকালে নেগোম্বো শহরেও আত্মঘাতী হামলা হয়। ওই হামলার পর অনেক মুসলিম তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছেন। এর মাঝেই সোমবার মুসলিমদের দোকানপাট, বাড়িঘর ও যানবাহনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মুসলিমদের কয়েক ডজন বাড়িঘর, দোকান ও যানবাহন আক্রান্ত হওয়ার কারফিউ কার্যকর করার জন্য শহরটিতে নিরাপত্তাবাহিনীর শত শত সদস্য প্রবেশ করেছেন।

গত ২১ এপ্রিল দেশটির যে তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী হামলা হয়েছিল; রাজধানী কলম্বো থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরাঞ্চলের সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জাও সেগুলোর একটি। ইস্টার সানডের ওই হামলায় অন্তত ২৫৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

কলম্বোর আর্চবিশপ কার্ডিনাল ম্যালকম রণজিৎ বলেছেন, ‘একজন মুসলিমকেও যেন আঘাত করা না হয়, আমি সব ক্যাথলিক ও খ্রিষ্টান ভাইবোনদের সেই আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অংশ।’

এক ভিডিও বার্তায় কলম্বোর এই আর্চবিশপ বলেন, ‘এমন অবস্থায় দয়া করে তাদের আঘাত করা থেকে বিরত থাকুন এবং শ্রীলঙ্কার সব সম্প্রদায়ের মধ্যে ভালো সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া তৈরির চেষ্টা করুন।’ ইস্টার সানডের হামলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে নেগোম্বো শহরে। নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায় আইএসের আত্মঘাতী বোমা হামলায় এক শ’ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

দেশটির পুলিশের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেছেন, সোমবারের সংঘর্ষের পর নেগোম্বো থেকে অন্তত দু’জনকে গ্রেফতার এবং আরো কয়েকজন সন্দেহভাজন হামলাকারীকে ভিডিওফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। ইস্টার সানডের পর দেশটির পার্লামেন্টে পাস হওয়া জরুরি আইনে এই হামলাকারীদের বিচার হবে বেলে জানিয়েছেন তিনি।

লঙ্কান এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, খ্রিষ্টান-মুসলিমদের সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। যদিও আমরা এ মুহূর্তে মাত্র দু’জনকে গ্রেফতার করেছি। আরো বেশ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে; শিগগিরই তাদের গ্রেফতার করা হবে।

সোমবার রাতের হামলায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে বলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওফুটেজে দেখা যায়, উত্তেজিত খ্রিষ্টানরা নেগোম্বোর মুসলিমদের দোকানপাটে হামলা, তাদের বাড়িঘরের আসবাবপত্র ও জানালা ভাঙচুর এবং যানবাহন উল্টে দিয়েছেন। তবে এই ভিডিওফুটেজের সত্যতা নিশ্চিত হতে পারেনি এএফপি।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌২০০ আলেমসহ ৬০০ বিদেশিকে শ্রীলংকা ছাড়ার নির্দেশ


শ্রীলংকান সরকার ২০০ আলেমসহ ৬০০ বিদেশিকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াজিরা আবেওয়ার্ধেনা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এসব ধর্মীয় ব্যক্তিরা বৈধভাবে শ্রীলংকায় এসেছিলেন। কিন্তু ভয়াবহ এ হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দেখা গেছে অনেক আগেই তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে। এজন্য তাদের জরিমানা করে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ওয়াজিরা আবেওয়ার্ধেনা বলেন, যাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে ২০০ ইসলাম ধর্মের প্রচারক রয়েছেন।

ওই আত্মঘাতী হামলায় স্থানীয় উগ্রগোষ্ঠী জড়িত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হামলার পর থেকে সন্দেহভাজন এসব ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শ্রীলংকার ভিসা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইস্টার সানডে হামলার প্রেক্ষাপটে আমরা ভিসা পদ্ধতি পুনঃমূল্যায়ন করছি। এখন থেকে ধর্মীয় ব্যক্তিদের শ্রীলংকায় আসার ক্ষেত্রে ভিসায় কড়াকড়ি থাকবে।

এদিকে শ্রীলংকায় ঘটে যাওয়া স্মরণকালের বর্বরোচিত হামলার সঙ্গে জড়িতরা প্রশিক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশে ভারতের কাশ্মীর, বেঙ্গালুরু ও কেরালা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন লংকান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহেশ সেনানায়েকে।

শনিবার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লংকান সেনাপ্রধান এসব কথা জানান।

মহেশ সেনানায়েকে বলেন, হামলাকারীদের সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য আছে যে হামলাকারীরা ভারতের কাশ্মীর, বেঙ্গালুরু ও কেরালায় গিয়েছিলেন। তাদের সেখানে যাওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানা যায়নি। সম্ভবত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে তারা ভারত সফর করেছিল।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ইসরায়েলি হামলায় আট ফিলিস্তিনি নিহত


ইসরায়েল ও গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামীদের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা আবারও বেড়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে তীব্রতর হয়ে ওঠা এই সংঘাতে গত শুক্রবার থেকে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি এলাকা লক্ষ্য করে ৪৫০টি রকেট ছোড়ে। এগুলোর আঘাতে অন্তত তিন ইসরায়েলি নিহত এবং একজন আহত হয়েছে। ইসরায়েলের পাল্টা হামলায় আট ফিলিস্তিনি নিহত হয় বলে গাজার হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে এক শিশু এবং একজন গর্ভবতী নারীও রয়েছেন। গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস দাবি করেছে, নিহতদের মধ্যে তাদের দুই সদস্য রয়েছে।

এদিকে গাজা থেকে রকেট হামলার প্রতিবাদে সেনাবাহিনীকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল স্থানীয় সময় সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি গাজার সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা অব্যাহত রাখা এবং গাজা সীমান্ত বরাবর ট্যাংক, গোলাবারুদ ও পদাতিকসহ সেনাশক্তি বৃদ্ধি করার নির্দেশ দিয়েছি।’ ইসরায়েলের দাবি, গাজা থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের একটা বড় অংশ তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোম আটকে দেয়।

গত মাসেই ইসরায়েলের সঙ্গে একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তি সই হয়। মিসর ও জাতিসংঘ বহু দিন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্র বিরতির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তবে সেই চুক্তি যে জোরালো বা স্থায়ী কিছু ছিল না তা গত দুই দিনের পরিস্থিতি থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে।

গাজার অবরুদ্ধ এলাকায় গত শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলের দাবি, ফিলিস্তিনিদের হাতে অস্ত্রের চালান বন্ধে ওই এলাকাটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে তারা। শুক্রবারের বিক্ষোভে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর গুলিতে দুই ইসরায়েলি আহত হয়। এর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের দুটি বিমান হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়। শনিবার সকালে গাজা ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের দিকে ডজন ডজন রকেট ছুড়তে শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। এর মধ্যে বেশ কিছু ইসরায়েলি ভূখণ্ডে গিয়ে পড়ে। কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিহত হয় তিনজন।

এরপর গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস এবং ইসলামপন্থী জিহাদি গ্রুপ ইসলামিক জিহাদের অবস্থান লক্ষ্য করে আরো বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এসব হামলায় ১৪ মাস বয়সী এক কন্যাশিশু ও ৩৭ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারীসহ আটজন নিহত হন। ইসরায়েল অবশ্য ওই শিশু ও নারী তাদের হামলায় নিহত হয়নি বলে দাবি করেছে। গাজার কয়েকটি ভবন ধসিয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। এর মধ্যে একটি হামাসের গোয়েন্দা দপ্তর ছিল বলে দাবি করে তারা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর একটি দপ্তর রয়েছে গাজায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, ইসরায়েল মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করছে।

২০১৪ সালের জুলাই ও আগস্টের যুদ্ধের পর এই প্রথম এ পর্যায়ের রকেট হামলার ঘটনা ঘটছে। তবে গাজাবাসী অবশ্য কখনোই তাদের বিক্ষোভ বন্ধ করেনি। গত বছর মার্চ থেকে সীমান্তমুখী তাদের যে বিশেষ আন্দোলনটি শুরু হয় তা এখনো অব্যাহত আছে। প্রতি শুক্রবার তারা সীমান্তবর্তী এলাকায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে। ওই বিক্ষোভে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে অন্তত ২৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌এএফপি, বিবিসি।

আরও পড়ুনঃ ‌নাইজেরিয়ায় গভর্নরের স্ত্রী খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন


নাইজেরিয়ার ওগান রাজ্যের গভর্নর ইবিখুনলের স্ত্রী ফার্স্ট লেডি ওলুফানসো আমুসোন খ্রিস্টান ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন।

সিনেটর আমুসোন ২০১১ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হন। পরে একই বছরের মে মাসে রাজ্যের চতুর্থ নির্বাচিত গভর্নর হিসেবে শপথ নেন। নাইজেরিয়ার ‘অ্যাকশন কংগ্রেসের’ হয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ওলুফানসো বলেন, ‘প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আমি আমার মাকে এ সিদ্ধান্ত জানাই। তাকে বলি, ‘আমি একজন মুসলিমকে বিয়ে করতে চাই’। এটা শুনে প্রথমেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন,

কেন তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন: এ সম্পর্কে সম্প্রতি নাইজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যানগার্ড’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারে গভর্নর-পত্নী স্পষ্ট করেছেন কেন একজন একনিষ্ঠ খ্রিস্টান থেকেও তিনি একজন মুসলিমকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

‘আমি বিষয়টি আমার বাবাকে বলেছি কিনা’ এবং আমি তাকে বললাম ‘না’ এবং এতে আমি তার মাঝে ‘দুষ্ট হাসি’ দেখতে পাই।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু আজকে আমার মা এবং আমার স্বামী আমাকে তাদের ভাল বন্ধুর চেয়েও বেশি পছন্দ করেন।’

ওলুফানসো আরো বলেন, ‘যখন আমি আমার বাবাকে এ বিষয়ে বলেছিলাম, তখন তিনি বললেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে, আমাদের শুধু এই সম্পর্কে প্রার্থনা করতে হবে। কিন্তু যেকোনো ভাবেই হোক, পরে তারা আমাকে খুব আঘাত করে। আমার স্বামী আল্লাহকে বিশ্বাস করেন। আমি বলব, আমার স্বামী আমার চেয়েও বেশি ধার্মিক।’

‘তিনি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর একজন মুমিন বান্দা। আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের বলেই তিনি মনে করেন ‘সবকিছুই সম্ভব’ এবং যখন আপনি কাউকে অধিক প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে দেখবেন তখন আপনাকে তার বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে এটা দেখতে হবে; আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করে নয়।

আল্লাহকে বলতে হবে, ‘আমি তোমার উপর ঈমান এনেছি’ এবং তাকে (আল্লাহ) স্পষ্ট বুঝার জন্য আপনাকে বার বার চেষ্টা করতে হবে।’ তিনি বলছিলেন।

তিনি বলেন, ‘স্বামীর বিশ্বাস থেকেই আমার বিশ্বাস শুরু হয়েছে। তার ইসলামের বিশ্বাসের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে এবং তার বিশ্বাসের প্রতি আমার বিশ্বাস স্থাপন সহজ করে দিয়েছে যে জিনিসিটি সেটি হচ্ছে আল্লাহর প্রতি একাগ্রতা।

তার এই দৃঢ় একাগ্রতার কল্যাণে মহান আল্লাহ তাকে কখনো ব্যর্থ করেনি এবং আমি জানি যে, আমার স্বামী আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুতে বিশ্বাস করে না।’ যা হোক, তার স্বামীর পক্ষ থেকে তাকে ইসলামে ধর্মান্তরের ব্যাপারে ইচ্ছাকৃত কোনো প্রয়াস ছিল না বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুসলিম রীতিতে প্রার্থনা করি কারণ আমাদের মধ্যে বন্ধনটা অত্যন্ত দৃঢ়। আমি আমার সন্তানদের যখন বলব, ‘প্রার্থনা করার সময় হয়েছে’। ওই সময় আমি যদি ভিন্ন উপায়ে প্রার্থনা করি তখন বাচ্চারা বলবে, ‘মা আপনি আমাদের সঙ্গে প্রার্থনা করেন না কেন? তাহলে বাবার প্রভু কি ভাল প্রভু নন?’

উৎসঃ ‌‌ইনসাফ

আরও পড়ুনঃ ‌এবার ভারতে বোরকা নিষিদ্ধের আবদার শিব সেনার


ইস্টার সানডে হামলার ঘটনার জেরে শ্রীলংকায় বোরকা নিষিদ্ধ হওয়ার পর বুধবার ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মিত্র শিব সেনাও একই পদক্ষেপ অনুসরণের দাবি জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

হামলায় সন্দেহভাজনদের তল্লাশিতে নিরাপত্তা বাহিনী যাতে লোকজনকে সহজে শনাক্ত করতে পারে সেই অজুহাত তুলে সোমবার শ্রীলংকায় বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশটিতে ওই হামলায় ২৫৩ জনের বেশি নিহত ও পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছেন। যাদের ৪২ বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।

দলীয় মুখপাত্র সামানা পত্রিকার সম্পাদকীয়তে মুম্বাইভিত্তিক শিব সেনা লিখেছে, আমরা শ্রীলংকার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছেও একই পদক্ষেপ অনুসরণের দাবি জানাচ্ছি- ভারতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করুন।

কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনটির মতে, ইসলামের সঙ্গে বোরকার কোনো সম্পর্ক নেই। কেবল আরবদের ঐতিহ্য অনুসরণ করে ভারতীয় মুসলমান নারীরা বোরকা পরেন। সূর্যের তাপ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে আরব নারীরা বাইরে বের হওয়ার সময় বোরকা পরার ঐতিহ্য মেনে চলছেন।

এ ব্যাপারে জানতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে কোনো জবাব পায়নি রয়টার্স।

বোরকা নিষিদ্ধকে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন মুসলিম নেতারা। শিব সেনার এই দাবি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে। ভারতের ১৩ কোটি জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ মুসলমান।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় বোরকা নিষিদ্ধের বিষয়টি মেনে নিতে বলল সৌদি


শ্রীলংকায় মুসলিম নারীদের বোরকাপরায় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে সম্মান জানাতে দেশটিতে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

কলম্বোর সৌদি দূতাবাস এক সতর্কবার্তায় দেশটিতে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের শ্রীলংকায় জরুরি অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে।

ওই সতর্কবার্তায় বলা হয়, বন্ধুপ্রতীম দেশ শ্রীলংকায় সম্প্রতি যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে আমরা আমাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। সিরিজ বোমা হামলার কারণে ২৯ এপ্রিল শ্রীলংকান সরকার বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখে এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছে।

এ প্রেক্ষিতে শ্রীলংকায় অবস্থানরত সৌদি নাগরিক ও ভ্রমণকারীদের স্থানীয় আইন মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, নিরাপত্তার জন্য লংকান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা রোববার বিশেষ ক্ষমতা বলে বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখা এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছেন। নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মুসলিম নারীরা এখন থেকে আর বোরকা, নিকাব বা মুখ ঢেকে রাখার পোশাক পরে বাইরে বেরোতে পারবেন না।

তবে মাথায় ওড়না বা হিজাব পরতে পারবেন। সোমবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে জরুরি আইনের মধ্যেই নারীদের বোরকাপরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় মুসলমানরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশীয় পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন,অপরাধীদের খুঁজে বের করাই সরকারের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। তাদেরই বিচার করা উচিত। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মুসলিম নারীদের শাস্তির মুখে ফেলে দেয়া উচিত হবে না। যদি কেউ তাদের ধর্মচর্চা কিংবা বোরকা পরতে চান, তবে এ ঘটনায় তাদের নিজেদের ঘরের ভেতর আটকে রাখতে হবে।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাগ্রসর আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জোশুয়া টি হোয়াইট বলেন, বোরকা নিষিদ্ধের এই বার্তা এটাই বলছে- লংকান মুসলমানরা নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এতে মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংশয় তলানিতে চলে যাবে।

উৎসঃ ‌‌আল-আরাবিয়্যাহ

আরও পড়ুনঃ ‌ইমান,ইজ্জত সবকিছু খুইয়ে ছাড়া পাচ্ছেন উইঘুর মুসলিম নারীরা


বছর তিনেক আগে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান এক উইঘুর নারী। পরে জানা গেছে, ইসলামী উগ্রপন্থার মোকাবেলায় চীনা ধরপাকড় অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে। অনেক ধকল ও খেসারতের পর এবার তিনি ছাড়া পেয়েছেন।

তার পাকিস্তান স্বামী বলেন, মুক্তি পেয়েছে, তবে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে আমাদের।

পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনা প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের ৪০ উইঘুর নারী, যারা প্রতিবেশী পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের বিয়ে করেছেন, দেশটিতে অন্তরীণ ক্যাম্পে তাদেরও আটক করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময় ছাড়া পেয়েছেন।-খবর এএফপির

যদিও এই অন্তরীণ ক্যাম্পকে চীন সরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। ইসলামে নিষিদ্ধ এমন কার্যক্রম করতে ক্যাম্পের ভেতর তাদের বাধ্য করা হয়েছে বলে খবরে জানা গেছে।

সম্প্রতি জিনজিয়াংয়ে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী বলেন, ক্যাম্পে তাদের শূকরের মাংস ও অ্যালকোহল খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাজেই তার স্ত্রী এখন সেই নিষিদ্ধ বস্তু খাচ্ছেন।

তিনি বলেন, তার স্ত্রী তাকে জানিয়েছেন- সে যদি কর্তৃপক্ষকে খুশি করতে পারে যে তার ভেতরে কোনো উগ্রপন্থী চেতনা নেই, তবে তিনি বাড়িতে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।

‘ক্যাম্পে তাকে কোরআন ও নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে; তার বদলে ঘরে বিভিন্ন চীনা বই রাখতে হচ্ছে,’ বললেন এই পাকিস্তানি ব্যবসায়ী।

কিছু কিছু ব্যবসায়ী কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস তাদের স্ত্রীকে জিনজিয়াংয়ে রেখে নিজ দেশে ব্যবসায়িক কাজে যান। কেবল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায়ও তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে আটক হওয়া কয়েকজন বলেন, বোরকাপরা ও দাড়ি রাখার মতো ইসলামী ঐতিহ্য মেনে চলার কারণে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নৃতাত্ত্বিক উইঘুরসহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিরাপত্তা ধরপাকড়ে তাদের আটক করা হলেও আন্তর্জাতিক নিন্দা ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার স্বার্থে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

গত দুই মাস ধরে ধীরগতিতে তারা একে একে ছাড়া পাচ্ছেন।

জিনজিয়াং সীমান্তের পাকিস্তানি ভূখণ্ড গিলজিত-বালতিস্তান সরকারের মুখপাত্র ফাইজ উল্লাহ ফারাক বলেন, আটক পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের উইঘুর স্ত্রীদের অনেকেই ছাড়া পেয়েছেন।

তবে কয়েক নারীর স্বামী অভিযোগ করেছেন, তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও তিন মাসের জন্য জিনজিয়াং থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। এ সময় তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এক রত্নপাথর ব্যবসায়ী বলেন, চীনা সমাজের সঙ্গে তারা কতটা খাপ খেতে পেরেছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কর্তৃপক্ষের মনে হয়, সমাজের সঙ্গে তারা এখনও মিলে যেতে পারেননি, তবে ফের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে।

এই শর্তেই তারা ছাড়া পেয়েছেন বলে তিনি জানান। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার প্রাথমিক আনন্দ খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিনি বলেন, ক্যাম্প থেকে ফিরে আসার পর তাদের প্রাণপ্রিয় স্ত্রী ও মায়েদের দেখতে একেবারে অদ্ভুত লাগছে।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী জানিয়েছেন- ক্যাম্পের ভেতর খোলামেলা পোশাক পরে তাকে নাচতে বাধ্য করা হয়েছে। শূকরের মাংস ও মদ খাওয়ানো হয়েছে।

এর পর তার হাতে একটি নির্দেশনাপত্র ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। ছবি আকারে ছাপানো ওই নির্দেশনাপত্রে মসজিদে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে চীনা পতাকায় সবুজ চিহ্ন দেয়া হয়েছে।

‘সে একসময় নিয়মিত নামাজ পড়ত, কিন্তু এখন সেই অভ্যাস নেই। মাঝে মাঝে রেস্তোরাঁয় গিয়ে সে মদ খাচ্ছে।’

তিনি বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষ নারীদের কাছ থেকে এমন আচরণই প্রত্যাশা করছে।

অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেইমস লেইবোল্ড বলেন, জিনজিয়াংয়ে চীনা সরকার নজরদারি জোরদার করেছে। নিজেদের সক্ষমতায় তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

ক্যাম্প থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কোনো নারী মানসিক বৈকল্যে ভুগছেন। কেউ তাদের আচরণ নিয়ে সরকারকে রিপোর্ট করতে পারে আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, সবচেয়ে খারাপ দিকটি হচ্ছে, তার নীরবতা। সে সবাইকে সন্দেহ করছে। তারা বাবা-মা, পরিবার এবং আমাকেও।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও ১ বছর বাড়াল ইইউ


মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি রাখাইন, কোচিন ও শান রাজ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর যৌন এবং হত্যাযজ্ঞ অব্যাহত থাকায় দেশটিতে অস্ত্র বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

সেই সঙ্গে দেশটির ১৪ সিনিয়র সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদও এক বছর বাড়ানো হয়েছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিল সোমবার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। খবর আলজাজিরার।

সোমবার ব্রাসেলস থেকে পাঠানো ২৮ সদস্য দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের নিয়ে গঠিত ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল মিয়ানমারের ১৪ সিনিয়র সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সোমবার ইউরোপীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে ওই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়াল।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্ত্র বিক্রির পাশাপাশি মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দেয়া থেকে বিরত থাকবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ছাড়া ইইউর কোনো দেশে এসব কর্মকর্তার কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বৌদ্ধদের হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে রাখাইন থেকে নতুন করে আরও সাড়ে সাত লাখ সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় বোরকা নিষিদ্ধ করল সরকার


ইস্টার সানডেতে গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বোরকা, নিকাবসহ নারীদের মুখ ঢেকে রাখা এমন সব পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছে শ্রীলংকা।

নিরাপত্তার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা রোববার বিশেষ ক্ষমতা বলে ওই নির্দেশিকা জারি করেন৷ খবর সিএনএনের।

আজ সোমবার থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন এ নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মুসলিম নারীরা এখন থেকে আর বোরকা, নিকাব বা মুখ ঢেকে রাখার পোশাক পরে বাইরে বেরোতে পারবেন না। তবে মাথায় ওড়না বা হিজাব পরতে পারবেন।

সিরিজ বোমা হামলার পর বোরকা নিষিদ্ধ করতে কয়েক দিন ধরেই শ্রীলংকার পার্লামেন্টে আলোচনা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য অশু মারাসিংহে বোরকা, হিজাব ও মুখ ঢেকে রাখা হয় এমন যেকোনো ধর্মীয় রীতি মেনে তৈরি পোশাক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে তিনি বলেন, বোরকা শ্রীলংকার মুসলিম নারীদের সনাতন পোশাক নয়।তাই এটি নিষিদ্ধ করতে হবে।

এদিকে ইস্টার সানডের ওই হামলার পর থেকে দেশটির বহু মুসলমানকে বিভিন্ন স্থানে আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। এ কারণে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বোরকাপরা বন্ধ করে দিয়েছেন৷

প্রসঙ্গত, ২১ এপ্রিল গির্জা ও রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ ওই সিরিজ বোমা হামলায় অন্তত ২৫৩ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌উইকিলিক্সের গোপন নথিঃ আইএস(IS) মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ(CIA)’র তৈরি!


মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস পরাজিত হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের বর্বরোচিত হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি শ্রীলংকায় তিনটি গির্জা ও তিনটি বিলাবহুল হোটেলে প্রাণঘাতী হামলায় ২৫৩ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।

উইলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, আইএস গঠনের পথ তৈরি করার জন্য মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ দায়ী। ২০১৬ সালে পাঁচ লাখেরও বেশি মার্কিন গোপনীয় কূটনৈতিক নথি প্রকাশের সময় তিনি এ তথ্য দিয়েছেন। তখন ব্রিটেনের দ্য ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকায় এ খবরটি ছেপেছে।

২০১০ সালের নভেম্বরে প্রথমবারের মতো স্পর্শকাতর মার্কিন গোপন নথি প্রকাশ করে উইকিলিকস। পরবর্তীতে ছয় বছর পরে আরেক দফা নথি ফাঁস করে প্রতিষ্ঠানটি, যাতে ১৯৭৯ সাল থেকে মার্কিন গোপনীয় কূটনৈতিক নথি ছিল।

তখন নথি প্রকাশের পাশাপাশি এক বিবৃতিতে অ্যাসাঞ্জ ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে ১৯৭৯ সাল থেকে শুরু হওয়া একটা ঘটনা প্রবাহের ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে আইএস তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, যদি আধুনিক সময়ের কোনো একটি বছরকে ‘শূন্য বছর’ বলে আখ্যায়িত করতে হয়, তবে সেটি হচ্ছে ১৯৭৯ সাল।

অ্যাসাঞ্জ বলেন, শোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবেলায় সৌদি আরবকে সঙ্গে নিয়ে সিআইএ আফগান মুজাহিদিন যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহে শত শত কোটি ডলার ঢেলেছিল। যার পরবর্তী ফল ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদা গঠন হওয়া।

‌‘যার রেশ ধরে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা, আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন এবং আইএস গঠন।’

১৯৭৯ সালটি কীভাবে চলমান বৈশ্বিক ঘটনাবলীর জন্ম দিয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লব, সৌদি ইসলামিক বিদ্রোহ, মিসর-ইসরাইল ক্যাম্প ডেভিড চুক্তিতে কেবল বর্তমান আঞ্চলিক ক্ষমতাশক্তিই তৈরি করেনি, বরং তেল, উগ্র ইসলাম এবং বিশ্বের নেতৃত্বকেও বদলে দিয়েছে।

‌‌‘মক্কায় বিদ্রোহ সৌদি আরবকে স্থায়ীভাবে ওহাবি আন্দোলনের দিকে নিয়ে গেছে। যেটা ইসলামি মৌলবাদের আন্তঃদেশীয় প্রচারে দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং আফগানিস্তানে মার্কিন-সৌদি অস্থিতিশীলতা তো রয়েছেই।’

তিনি বলেন, ঠিক এই জায়গায় এসে ওসামা বিন লাদেন তার দেশ সৌদি আরব ছেড়ে পাকিস্তানে পাড়ি জমান আফগান মুজাহিদিনকে সহায়তা করতে।

‘ইউএসএসআরের আফগান আগ্রাসনের সময়ে অপারেশন সাইক্লোনের নামে মুজাহিদিন যোদ্ধাদের কোটি কোটি ডলার ঢেলেছে সৌদি আরব ও সিআইএ। এতে আল-কায়েদার উত্থানের ইন্ধন যোগান হয়েছে আবার সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়েছে।’

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলার হুঁশিয়ারি দিল আইএস


বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে হামলা চালাতে পারে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। আইএস সমর্থিত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলায় ‘শীঘ্রই আসছি’ লেখা একটি পোস্টার প্রকাশ পেয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া আইএসের বাংলায় লেখা ওই পোস্টারের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদন বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য হামলার কথা জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে আইএসের ‘শীঘ্রই আসছি, ইনশাল্লাহ…’ লেখা ওই পোস্টারটি প্রকাশিত হয়েছে।

বাংলায় লেখা সেই পোস্টারে মুরসালাত নামে আইএসের একটি শাখা সংগঠনের লোগো আছে। শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থা এই পোস্টারটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে টাইমস অব ইন্ডিয়া আইএসের বাংলায় লেখা সেই পোস্টারটি তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেনি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামাত উল মুজাহিদিনের (জেএমবি) সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। জেএমবিকে তাদের দলে সদস্য নিয়োগের জন্য কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গে মাঝে মাঝেই তৎপর হতে দেখা যায়।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার বাবুঘাট এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম নামে এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। গ্রেফতার আরিফুল ২০১৮ সালের বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত।

গত রোববার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে চলাকালে গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

উৎসঃ ‌ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here