ভারতে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা (ভিডিও সহ)

0
413

ভারতের ঝাড়খণ্ডে সামস তেবরেজ (২৪) নামে এক মুসলিম যুবককে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে সাত ঘণ্টা ধরে পিটিয়ে হত্যা করেছে উগ্র মৌলবাদী হিন্দুরা।

এ সময় তাকে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ বলতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তার দেহ নিথর হয়ে পড়লে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগ আরোপ করে পুলিশে দেয়া হয়। খবর এনডিটিভির।

ভিডিওঃ  ‘ভারতে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মোবাইল ফোনে ধারণ করা গত বুধবারের ওই নৃশংস ঘটনার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রোববার তা গণমাধ্যমের নজরে আসে।

সামসের পরিবারের অভিযোগ, উগ্রবাদীদের গণপিটুনির পর উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিলে তাকে বাঁচানো যেত। কিন্তু পুলিশ তা না করে তাকে প্রথমে থানায় নিয়ে গেছে মামলা করতে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য, বিজেপি দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় আসার পর তথাকথিত গোরক্ষক ও ধর্মীয় উগ্রবাদীরা আবারও মিথ্যা অভিযোগ এনে বিশেষ করে মুসলিমদের পিটিয়ে হত্যার মতো নৃশংসতা শুরু করেছে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নেইঃ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিবেদন


ভারতে সংখ্যালঘুরা এখনও হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে চলেছেন। দেশটিতে কোনো ধর্মীয় স্বাধীনতা নেই।

গত বছর বহুবার উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন সংখ্যালঘু মুসলিমরা। শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম-২০১৮ শীর্ষক প্রতিবেদনকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। রিপোর্টটি খারিজ করে দিয়ে রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতে নাগরিকদের অবস্থা কেমন, তা নিয়ে বিদেশিদের বলার কোনো এখতিয়ার নেই।

এর আগে শনিবার এ প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ তকমা দেয় শাসক দল বিজেপি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রতিবেদনটি কংগ্রেসে পেশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০১৭ সালেও ভারতে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার অবনমনের ধারা অব্যাহত ছিল। ভারতের মতো একটি বহু ধর্ম ও বহু সংস্কৃতির দেশে ওই ঘটনা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।

ধর্মের সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। অ-হিন্দু ও হিন্দু দলিতদের বিরুদ্ধে হিংসা, হুমকি ও হেনস্তার ঘটনা বাড়িয়েছে হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ও সংগঠনগুলো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের সরকার অনেক সময়ই সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। গো-হত্যার নামে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ করেছে। এর ফলে প্রাণহানি পর্যন্ত হয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা আরও বেশি ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারতের ১০ রাজ্যে। এর মধ্যে রয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, ছত্তীশগড়, গুজরাট, ওড়িষ্যা, কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থান।’

প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওই প্রতিবেদনের মধ্যে কোনো সত্যতা নেই।

পুরোটাই একটা ধারণার ওপর নির্ভর করে তৈরি। তিনি বলেন, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। এই দেশ তার ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য গর্ববোধ করে।

ভারতের মতো একটি সজীব গণতান্ত্রিক দেশে সংখ্যালঘুসহ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলো সংবিধানই সুরক্ষিত রেখেছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার মানুষের সেই স্বাধীনতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সেই অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে কিনা, কোনো বিদেশি বা অন্য দেশের সরকারের তার ওপর নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি না।’

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারও এই রিপোর্টের বিরোধিতা করে তাকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছে। শনিবার বিজেপি এমপি ও মিডিয়াপ্রধান অনিল বালুনি একটি বিবৃতিতে বলেন, ই-রিপোর্টের প্রধান বিষয় হিসেবে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘুদের ওপর পরিকল্পনামাফিক অত্যাচার করা হয়েছে গত এক বছরে।

এটা সম্পূর্ণ ভুল এবং মিথ্যা। গত এক বছরে যেসব সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো সবই ব্যক্তিগত ও স্থানীয় গণ্ডগোল। এর সঙ্গে কোনোভাবেই ধর্ম যুক্ত নয়।’ অনিল আরও বলেন, ‘ভারতের সংবিধানই তো ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে।

আমাদের সরকার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ম্লোগান হল- সবকা সাথ সবকা বিকাশ। দুঃখজনকভাবে এসব বিষয় রিপোর্টে কোনো জায়গা পায়নি।’

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌প্রেসিডেন্ট মুরসীর ইন্তেকালে মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়া যেমন ছিল!


গত ১৭ জুন আদালতে শুনানি চলাকালে বন্দী অবস্থায় ইন্তেকাল করেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ মুহাম্মাদ মুরসী। তিনি ছিলেন মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।

আরব বসন্তের গণআন্দোলনে বাধ্য হয়ে স্বৈরশাসক হুসনী মোবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মুহাম্মাদ মুরসী ক্ষমতায় আসেন।

কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক বছরের মাথায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাপ্রধান আবদুল ফাত্তাহ আল সিসির রক্তক্ষয়ী সেনা অভ্যুত্থানে মুরসীকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতার দখল নেন আল সিসি। বন্দী করা হয় মুরসীকে।

মুরসীকে অবৈধভাবে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘটনায় মিশরজুড়ে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে মাঠে নেমে আসে। আল সিসি’র অধীনস্থ সেনাবাহিনী নির্মম ও বর্বর কায়দায় দমন করে মুরসীর হাজার হাজার সমর্থকদের।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই মুরসী ছিলেন সিসির কারাগারে বন্দী। তার বিরুদ্ধে আনা হয় একেকের পর এক সাজানো অভিযোগ। দেয়া হয় দণ্ড।

সর্বশেষ গত ১৭ জুন ছিল একটি মামলার শুনানি। আদালতের বিশেষ ধরণের এক খাঁচার ভীতরে মুরসীকে রেখে আদালতের কার্যক্রম চলছিল। এসময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে মুরসী বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই আদালত বিরতি দেয়। এই বিরতির মধ্যেই অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মুহাম্মাদ মুরসী। প্রায় ২০ মিনিট আদালতের সেই বিশেষ খাঁচায় অসুস্থ অবস্থায় পরে ছিলেন তিনি। তার আইনজীবীরা উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে মুরসীর সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় মাটিতে পরে থাকলেও তাকে কোনরকম সাহায্য করেনি সিসি’র অনুগত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অসুস্থ হয়ে পরে যাওয়ার পরেও চিকিৎসা না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ায় এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা ‘হত্যাকাণ্ড’ বলেই অবহিত করেছেন।

এদিকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে অবৈধ পন্থায় ক্ষমতাচ্যুত করা এবং মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার ঘটনায় মুসলিম বিশ্বে নিন্দার ঝড় উঠেছে। যার প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

তবে জনগণ এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেও মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বে থাকা রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বেশীরভাগকেই দেখা যায়নি মুরসী হত্যার বিরুদ্ধে কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে।

মুসলিম বিশ্বের নেতাদের মধ্যে মুরসীর ইন্তেকালের পর প্রতিবাদী কণ্ঠে সবচেয়ে জোড়ালো ভূমিকা রেখেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। মুরসীর ইন্তেকালে সর্বপ্রথম তিনিই শোক জানান। এছাড়াও তিনি ইস্তাম্বুলে মুরসীর গায়েবানা জানাজায় অংশ গ্রহণ করেছেন। এবং তুরস্কের প্রতিটি মসজিদে মুরসীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মুরসীর ইন্তেকালের পর থেকে প্রতিটি বক্তব্য, ভাষণে তিনি মুরসীর কথা স্মরণ করেছেন। এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মুরসী হত্যার বিচার চাইবার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। তার স্ত্রী আমিনা এরদোগানও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আলে ছানি শোক প্রকাশ করেছেন। এক শোক বার্তায় মুরসীর মৃত্যুতে তিনি দুঃখ পেয়েছেন বলে জানান।

মুরসী ছিলেন আজন্ম ফিলিস্তিনের পরম বন্ধু। তিনি আজীবন ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ছিলেন। তাদের অধিকারের জন্য লড়াই করে গেছেন। মুরসীর ইন্তেকালে ফিলিস্তিনীরাও নিজদের বন্ধুকে স্মরণ করেছে। ফিলিস্তিন সরকার ৩ দিনের শোক ঘোষণা করে মুরসীর স্মরণে। এছাড়াও হামাস সহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী ইসলামী সংগঠন বিবৃতি দিয়ে শোক প্রকাশ করেছে।

ইরানের পক্ষ থেকে মুরসী মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মুসাভি বলেন, মিশরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর মৃত্যু দুঃখজনক ও কষ্টদায়ক।

তবে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মাদ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো, ব্রুনাইয়ের সুলতান বালকিয়া, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ, ওমানের সুলতান আল কাবুস, আবুদাবীর আমীর খলীফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, দুবাইয়ের আমীর মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল খলীফা, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি, কুয়েতের আমীর সাবাহ আল আহমাদ, জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহসহ সিংহভাগ মুসলিম দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের পক্ষ থেকেই এই ঘটনায় নিয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা যায়নি।

মুসলিম বিশ্বের বিশিষ্ট ইসলামী স্কলারদের মধ্যে ডক্টর ইউসুফ আল কারজাভী, পাকিস্তানের মুফতী তক্বী উসমানী, বাংলাদেশের আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী, ভারতের বিশিষ্ট আলেম মাওলানা সালমান নদভীসহ অনেক আলেমও শোক জানিয়েছেন মুহাম্মদ মুরসীর মৃত্যুতে।

পাকিস্তানের সাবেক বিচারপতি বিশ্ববিখ্যাত ইসলামী স্কলার মুফতী তক্বী উসমানী তার শোক বার্তায় বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মাদ মুরসীকে কয়েক বছর জেল জুলুমের পর মানুষের আদালতে তোলা হল, আর আল্লাহ তাকে নিয়ে গেলেন নিজের আদালতে, যেখানে শুধু ইনসাফ আর ইনসাফ, যুলুমের গন্ধও নেই। আল্লাহ তাকে পূর্ণ মাগফিরাত করুন এবং তাকে রহমতের চাদরে ঢেকে নিন। আমীন!’

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী তার বিবৃতিতে বলেন, ‘মুহাম্মদ মুরসী মিশরে আল্লাহর হুকুমত প্ৰতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলুম ও তাগুতের বিরুদ্ধে আমরণ সংগ্ৰাম করেছেন, তিনি হক প্ৰতিষ্ঠায় বাতিলের অনেক জুলুম নিৰ্যাতন সহ্য করেছেন, কারা প্ৰকৌষ্ঠে মানবেতর জীবন যাপন করেছেন এবং মাজলুম অবস্থায় কারাগারেই তাকে বিনা চিকিৎসায় তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। শুধু মিসরবাসী নয় পুরো মুসলিম উম্মাহ মুহাম্মদ মুরসীকে তাঁর কৰ্মগুণে চিরকাল স্মরণ রাখবে, মিশরবাসী তাদের প্ৰিয় ও ত্যাগী নেতা মুরসীর জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, হাজার-হাজার মানুষ শাহাদাৎ বরণ করেছে, ইতিহাসের পাতায় এসব স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ভক্তবৃন্দের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবেন প্ৰেসিডেন্ট মুরসী।’

এছাড়াও আফগান তালেবানের পক্ষ থেকেও শোক বার্তা দেয়া হয়েছে। শোক বার্তায় আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘মুহাম্মদ মুরসীর মৃত্যুতে এমন ক্ষতি হল, যা কখনোই পূরণীয় নয়। আমরা প্রার্থনা করি মুরসীকে আল্লাহ তাঁর রহমতের প্রশস্ত চাঁদরে ঢেকে নিন। কালিমাতুল্লাহকে উচ্চকিত করার সংগ্রামে তার সমস্ত প্রচেষ্টা ও ত্যাগকে কবুল করে নিন এবং নেকির পাল্লায় ওজনীয় বানিয়ে দিন। ডক্টর মুরসীর দূঢ় অবিচল ভূমিকা সত্যপন্থীদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। মানবতা ও ইসলামের ইতিহাস এই ঘটনা নিয়ে চিরকালের জন্য গর্ব করবে।’

বাংলাদেশে ইসলামী ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি সহ প্রায় সবকটি দল মুরসীর মৃত্যুতে শোক ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

উৎসঃ ‌‌‌ইনসাফ

আরও পড়ুনঃ ‌ড.মুরসিকে নিয়ে নতুন তথ্য ফাঁস করলেন পরমাণু বিজ্ঞানী ড. আবদুল কাদির খান


মিসরের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের অভ্যুত্থানের নেপথ্যের কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানি বিখ্যাত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. আবদুল কাদির খান। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ছাড়াও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দারা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে এসব তথ্য জানা গেছে।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি রাশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ মিসরীয় পরমাণু চুল্লি ফের চালু করতে রাশিয়ার সঙ্গে একমত হয়েছিলেন তিনি, যেটা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

‌‘একই উদ্দেশ্যে তিনি আরও একটি পরমাণু চুল্লি প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়েছিলেন। যেটা বছর তিনেক পর গ্রহণ করার কথা ছিল মিসরের।’

পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানের জনক বলে খ্যাত আবদুল কাদির খান বলেন, মিসর নিয়ে কথা না-বলাই আমার জন্য ভালো ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মুরসির ভাগ্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে আসল সত্যটি মিসরীয়দের জানা উচিত বলে মনে করি।

‘মিসরীয়রা কি জানেন, তাদের সাবেক প্রেসিডেন্টের এই সফর পশ্চিমাদের জন্য বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল?’

তিনি বলেন, মিসরের বৈদ্যুতিক সংকটের একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি আফ্রিকা মহাদেশ আলোকিত করতে যথেষ্ট বিদ্যুৎ রফতানি করতে পারতো দেশটি।

‘মিসরীয়দের জানা উচিত, প্রেসিডেন্ট মুরসির শাসনকালে জার্মানির কাছ থেকে দুটি ডুবোজাহাজ পেয়েছিল মিসর। কিন্তু এ ধরনের ডুবোজাহাজ প্রতিবেশী দেশে হস্তান্তরে জার্মানিকে নিবৃত্ত করতে চেয়েছিল ইসরাইল। কারণ মিসরের কাছে সঠিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে এই ডুবোজাহাজ দিয়ে রণতরীতে আঘাত হানা সম্ভব।’

গত মার্চে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন, তিনি জার্মানি ও মিসরের মধ্যের এই ক্রয়চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন তিনি সেটা করেছেন, তা গোপন রাখলেন। তার দাবি, এটা রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা।

আবদুল কাদির খানের ব্যাখ্যা, মিসরের একটি সামরিক উপগ্রহের মালিক হওয়ার গুরুত্ব দেশটির বহু নাগরিক অনুধাবন করতে পারছেন না। এমন উপগ্রহ দিয়ে ইসরাইলে ব্যাপক নজরদারি চালানো সম্ভব।

‌‘ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছিলেন মুরসি। কাজেই যদি ২০১৩ সালের অভ্যুত্থান না ঘটতো তাহলে ইতিমধ্যে এমন একটি উপগ্রহের মালিক হয়ে যেতেন মিসরীয়রা,’ বললেন এই পাক পরমাণু বিজ্ঞানী।

তিনি বলেন, এ কথা অনেকেই জানেন না যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মুরসি বলেছেন-মিসরের ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। এজন্য একটি চুক্তি সইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজি হয়েছিল রাশিয়া। এ বিষয়ে আলোচনা করতে আল-তারাজ নামের এক মেজর জেনারেলকে পাঠিয়েছিলেন মুরসি। কিন্তু দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর মার্কিন চাপে তা ভেস্তে যায়।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ড.মুরসির মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি ইলহান ওমরের


মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর।

তাকে তড়িঘড়ি করে দাফন ও আটকাবস্থা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এই প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য।

এদিকে ব্রিটেনের বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিনসহ বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থাও এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে।-খবর মিডল ইস্ট মনিটরের

এদিকে মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুর খবর বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করেছে। কিন্তু সাবেক এই ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্টের মৃত্যুকে নিজ দেশ মিসরের দৈনিকগুলোতে তেমন কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি।

গত সোমবার আদালতে বিচারের শুনানির ফাঁকে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ৬৭ বছর বয়সী মুরসি। কিন্তু তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে ফেরাউনের দেশ মিসরের সংবাদমাধ্যমগুলোতে তেমন তাৎপর্য বহন করেনি।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মুরসির মৃত্যুর চেয়ে দেশটি যে চলতি বছরের আফ্রিকান কাপ অব নেশনের আয়োজন করছে, সেটিই যেনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাজেই পত্রিকাগুলোর প্রথমপাতাগুলোতে এই খেলার খবরই বড় করে প্রকাশ করা হয়েছে।

বরং ভেতরের পাতায় ছোট করে ছাপানো হয়েছে এই মৃত্যুর খবরকে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলোতেও মুরসির কথা তেমন একটা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি যে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, তা উল্লেখের বদলে তার পূর্ণাঙ্গ নাম উচ্চারণ করা হয়েছে।

খুবই ছোট করে, আরবি শব্দে মাত্র ৪২টি শব্দে মুরসির মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে মিসরীয় পত্রিকা, রেডিও ও টেলিভিশন।

সেই বলা হয়েছে, ‌‘গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় বিচার চলাকালে মোহাম্মদ মুরসি মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আদালতে কথা বলতে চাইলে অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু আদালতের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর তিনি মূর্ছা যান এবং পরে মারা গেছেন। তার মরদেহ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিসর বিষয়ক গবেষক হুসেইন বৌমি বলেন, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নিয়ন্ত্রণে সেখানকার গণমাধ্যম। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বার্তা কিংবা ইমেল পাঠায় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে। কোনো একটি বিশেষ বিষয়ে কিংবা ইস্যুতে কীভাবে খবর প্রচার করতে হবে, সে সংক্রান্ত স্ক্রিপ্ট পাঠানো হয়।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ড. মুরসির মৃত্যু নিয়ে আমার ভবিষ্যদ্বাণী কেউ শোনেনি!


কায়রোর ভয়াবহ কুখ্যাত কারাগারটির সাবেক ওয়ারর্ডেন বলেছেন, ওই কারাগারটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে কেউ এটিতে একবার ঢুকলে মৃত্যু ছাড়া বের হতে না পারেন।

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির বেলায়ও তেমনটি ঘটেছে। তার বিরুদ্ধে চলা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের দীর্ঘ বিচারের সর্বশেষ অধিবেশনে শব্দপ্রতিরোধী গ্লাসের বক্সের ভেতর তিনি আকস্মিক পড়ে যান।

দেশটিতে প্রথম কোনো গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট হন মুরসি। পরে বছর খানেক দায়িত্ব পালনের পর তাকে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে।

যারা তাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করেছিল, সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের কারাগারেই তিনি মারা গেলেন।

গত বছর মার্চে ব্রিটেনের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্যানেলের সভাপতিত্ব করেছিলাম আমি। ড. মুরসির আটকাবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছিল সেখানে।

মুরসির শারীরিক অবস্থা নিয়ে তার পরিবার ও অন্যান্যদের কাছ থেকে যেসব নথি আমরা পেয়েছিলাম, তার ওপর ভিত্তি করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে তিনি অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে তার ডায়াবেটিস ও লিভার রোগের নিয়ন্ত্রণ অপর্যাপ্ত।

একজন বন্দি হিসেবে তার শরীরের এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা দেয়ার দায়িত্ব ছিল মিসরীয় কর্তৃপক্ষের। তাকে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত ছিল তাদের।

কিন্তু ছয় বছর আগে আটকের পর থেকে তাকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল। বাইরের দুনিয়া থেকে তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল।

চিকিৎসক কিংবা আইনজীবীদের তার কাছে যেতে দেয়া হয়নি। এতগুলো বছরে মাত্র তিনবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

এই মর্মান্তিক অবস্থার মধ্যে তার শরীরের ওজন কমে যায়। এতে শারীরিকভাবে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন এবং তার ডায়াবেটিস প্রাণঘাতী রূপ নেয়।

তবে মুরসির স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা যে পর্যালোচনা দিয়েছিলাম, মিসরীয় প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। কিন্তু ড. মুরসির আটকাবস্থা নিয়ে কোনো স্বাধীন পর্যালোচনা তারা দেয়নি।

মুরসির আটকাবস্থা এমন ছিল যে নির্যাতনের অপরাধে প্রেসিডেন্ট সিসির দায়ী হওয়া উচিত। এটা এমন এক অপরাধ, যেটা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার আওতায় পড়ে।

ইতিমধ্যে তিনি কয়েক হাজার লোককে হত্যার ঘটনায় দায়ী। ২০১৩ সালে যখন তিনি কায়রোর চত্বর খালি করে ক্ষমতায় আসেন, তখন থেকেই বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি হিসাব বলছে, মিসরের কারাগারে অন্তত ছয় হাজার বন্দি পচে মরছেন।

এটা আমাদের পর্যালোচনার সময় যেমন পরিষ্কার হয়েছিল, তেমনি বিষয়টি এখনো পরিষ্কার যে ড. মুরসির প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে, মিসরীয় বন্দিদের প্রতি নির্যাতনের প্রতিফলনই তাতে স্পষ্ট হয়েছে।

২০১৬ সালে মিসরীয় মানবাধিকারবিষয়ক জাতীয় কমিটি জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত স্কোরপিয়ান-তোরা কারাগারে পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা কিংবা তাতে হস্তক্ষেপ, এ ছাড়া মর্যাদাহানি কিংবা অবমাননা ঘটছে। অন্যান্য কারাগারগুলোতেও নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মুরসিকে যে অবস্থায় রাখা হয়েছিল, পরিস্থিতিতে তার থেকে কোনো উন্নতি ঘটেছিল কিনা একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে তা পর্যালোচনা করে দেখা উচিত মিসরীয় সরকারের। কিন্তু এমন কোনো তদন্তের আভাস পাওয়া যাচ্ছে না এখনো।

৬৭ বছর বয়সী মুরসি আদালতে পড়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পরিবার সদস্যদের উপস্থিতিতে তাকে দাফন করা হয়েছে।

মুরসির ছেলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ মুরসি বলেন, ‌‘বাবার নিজ শহরে যাতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে একটি জানাজার ব্যবস্থা করা হয়, আমরা সেই অনুরোধ রেখেছিলাম কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু তা রাখা হয়নি।’

এ ঘটনায় অবশ্যই একটি তদন্ত হওয়া উচিত। একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটিই হতে পারে তার একমাত্র পদক্ষেপ।

কারাগারে ছয় বছর ধরে অনবরত নির্যাতনের পর মিসরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত একজন গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্টের জনসমক্ষে মৃত্যু হয়েছে। কাজেই দায়ীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

লেখক: ক্রিসপিন ব্লান্ট, ব্রিটেনের কনজারভেটিভ পার্টির এমপি এবং আন্তঃদলীয় সৌদি উমেন অ্যাকটিভিস্ট ডিটেইনি প্যানেলের প্রধান

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর,দ্যা ইন্ডিপেন্ডেন্ট

আরও পড়ুনঃ ‌মুরসির মৃত্যু নিয়ে জাতিসংঘের কাছে যেসব দাবি এরদোগানের


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বলেছেন, মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির হত্যা জাতিসংঘকে দেখতে হবে এবং হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বৃহস্পতিবার ইস্তানম্বুলে এক সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে মুরসির মৃত্যুর ঘটনাটির আলোকপাত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।

এরদোগান বলেন, আমি বিশ্বাস করি মুরসির সন্দেহজনক হত্যা জাতিসংঘ এজেন্ডা হিসেবে উত্থাপন করবে এবং তার হত্যাকারীদের শাস্তির আওতায় আনবে।

মুরসি মিশরীয় মুসলিম ব্রাদার হুডের নেতা ও মিসরের ইতিহাসে ২০১২ সালের নির্বাচনে প্রথম স্বাধীন প্রেসিডেন্ট।

২০১২ সালের ১২ জুন হোসনি মোবারক গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হলে গণতান্ত্রিক নির্বাচনে মুরসি জয়লাভ করে এক বছর দেশ পরিচালনা করেন।

এক পর্যায়ে ২০১৩ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদুল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।

মুরসির মৃত্যুর পর মানবাধিকার সংস্থা ও স্বাধীন পর্যবেক্ষক বলছে, মুরসির বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here