‘ভারতের মুসলিমদের জঙ্গি, মাদরাসাগুলিকে জঙ্গি কারখানার তকমা দিতে চায় বিজেপি’

0
61

ভারতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি৷ তিনি মন্তব্য করে বলেন, মাদরাসায় শিক্ষার বদলে চলছে জঙ্গি প্রশিক্ষণ। এমন মন্তব্যে বিজেপি ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই তীব্র বিরোধিতা করেছে৷

এ মন্তব্যের বিরুধিতা করে তারা বলছে, মুসলিম সম্প্রদায়কে জঙ্গি তকমা দিতেই এমন মন্তব্য করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷

গত মঙ্গলবার সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি কিষান রেড্ডি বলেন, সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক হিসেবে বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদের কয়েকটি মাদরাসাকে জঙ্গিরা ব্যবহার করছে৷ তার দাবি, কিছু মাদরাসাকে প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন৷

বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবি এ মাদরাসাগুলি থেকে সদস্য সংগ্রহ করছে বলেও বাংলাদেশের প্রতি আঙ্গুল তুলেছে। আর সতর্ক করে রাজ্য সরকারকে প্রতিবেদন দিয়েছে এ মন্ত্রী৷

২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ হলে, পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে৷ তখন এই মাদরাসা নিয়ে শোরগোল পড়েছিল৷ এ গ্রেপ্তারের পরদিনই সংসদে মাদরাসা নিয়ে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রেড্ডি৷

বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী নেতারা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে খাটো করতে এমন মন্তব্য করা হয়েছে৷ এর মধ্য দিয়ে বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতি আবারো সামনে এসেছে বলে মন্তব্য তাদের৷

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের আব্দুল মান্নান বলেন, ‘সংবিধানের শপথ নিয়ে যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা একটি সম্প্রদায়কে দেশদ্রোহী, সন্ত্রাসবাদী আখ্যা দিচ্ছেন৷ তিনি নিজেও মাদরাসার ছাত্র ছিলেন জানিয়ে প্রশ্ন ছোঁড়েন, যারা মাদরাসায় পড়ে, তারা সবাই জঙ্গি?

বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর জানালেন, মামাদরাসায় মুসলিম ছাড়া অন্য সম্প্রদায়ের ছেলেরা পড়ে৷ আবার অনেক মুসলিম ছাত্র সাধারণ স্কুলেও পড়ে৷ তাহলে কাদের জঙ্গি বলব?

জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গে মূলত তিন ধরনের মাদরাসা আছে৷ কিছু সরকার স্বীকৃত ও অনুদান প্রাপ্ত৷ কিছু মাদরাসায় সরকারের স্বীকৃতি থাকলেও অনুদান নেই৷ প্রায় সাত হাজার মাদরাসা আছে, যেগুলোর কোনো স্বীকৃতি কিংবা সরকারি সাহায্য কিছুই নেই৷

উৎসঃ ডয়েচে বেলে

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here