জার্সিতে বাঘের লোগো ঢেকে রেখে প্রশংসায় ভাসলেন মুশফিকুর রহিম

0
712

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে খ্রিষ্টান সন্ত্রাসবাদীর হামলার জেরে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্ট বাতিল করে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছে ক্রিকেট দল।

ওই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তাঁরা আক্রান্ত মসজিদেই নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত এক মহিলার সতর্ক বার্তায় থেমে যান ক্রিকেট দলের সদস্যরা।

হামলার ঘটনায় মানসিকভাবে আঘাত পেয়ছে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা।

দেশে ফিরার পর যার যার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ও ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে ক্রিকেটারদের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

এদিকে জাতীয় দলের প্র্যাকটিস কিটে (অনুশীলনের জার্সি) অফিশিয়াল টি-শার্টে বাঘের লোগো টেপ দিয়ে ঢেকে রাখা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

এরপর থেকে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

এরআগে নিউজিল্যান্ড থেকে ফেরার পথে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন মুশফিক। যেখানে কালো রংয়ের অফিশিয়াল জ্যাকেটে বাঘের লোগোর জায়গাটি টেপ দিয়ে আটকানো দেখা যায়।

ধর্মপ্রাণ এই ক্রিকেটার সবসময় নামাজ আদায় করেন, রোজা রাখেন। এরই মধ্যে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ওমরাহ হজ পালন করেছেন মুশফিক। অনুশীলন চলাকালীন নামাজ পড়তে গেলে জার্সি উল্টিয়ে কিংবা বাঘের ছবি সম্বলিত লোগো ঢেকে রেখে যান।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অল্প কিছু বিরোধী সমালোচনা করলেও বেশিরভাগ সমর্থকই মুশফিকের পক্ষ নিয়েছেন। ফেসবুকে এ নিয়ে তারা বিভিন্ন পোস্টও দিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, লোগো দিয়ে দেশপ্রেমের প্রমাণ হয় না। ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মুশফিক লোগো ঢেকে রাখতেই পারেন। তাই বলে তার দেশের প্রতি প্রেম কিংবা জাতীয় দলের প্রতি তার আত্মোৎসর্গ-অঙ্গীকার বৃথা হয়ে যেতে পারে না।

উৎসঃ ‌ইনসাফ ২৪, প্রিয় ডটকম

আরও পড়ুনঃ উপজেলা নির্বাচনে নিজের জাল ভোটেও ভুল সিল দিল ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজেই একশ ব্যালেটে সিল মেরেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে ধরা পড়ার পর দেখা গেছে, ছিনিয়ে নেওয়া ব্যালটে নিজের প্রতীকের ঘরে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি ব্যবহার করেছেন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত সিলটি।

সোমবার সকালে হাটহাজারী উপজেলার হাটহাজারী কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী উদয় সেন।

এছাড়া অন্য তিনটি কেন্দ্র থেকে জাল ভোট দেওয়া ছয়শ ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় পাঁচজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন।

হাটহাজারী উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে এবার প্রতিদ্বন্দ্বীতায় রয়েছেন আটজন। তাদের মধ্যে উদয় সেনের প্রতীক তালা। হাটহাজারী কলেজ কেন্দ্রের ভোটার তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সকালে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে ভয় দেখিয়ে ১০০ ব্যালটের একটি বই ছিনিয়ে নেন উদয় সেন। পরে একটি কক্ষে বসে সেই ব্যালটে নিজেই সিল মারতে শুরু করেন। ভোটকেন্দ্রে অভিযানে গিয়ে আমি তাকে হাতেনাতে ধরি।”

রুহুল আমীন বলেন, পরে দেখা যায়, উদয় সেন তার নিজের মার্কা তালার ওপর ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত গোল সিল মেরেছেন। আর প্রতীকের ওপর মারার জন্য নির্ধারিত চৌকোনা সিলটি মেরেছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার জন্য নির্ধারিত জায়গায়।
“অর্থাৎ এসব ব্যালট বাক্সে ফেললেও ভোট বাতিল হয়ে যেত। পরে তিনি ভুল স্বীকার করে বলেছেন, মানসিক চাপে পড়ে এ কাজ করেছেন। মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

উপজেলার গড়দুয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, পূর্ব দক্ষিণ মেখল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ফতেপুর মঞ্জুরুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে জাল ভোট দে্রয়া ছয়শ ব্যালট জব্দ করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, এসব কেন্দ্রে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে ভয় দেখিয়ে ব্যালট কেড়ে নিয়ে জাল ভোট দেওয়া হয়। বিষয়টি না জানানোয় পাঁচ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে পরে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন উত্তর জেলা যুবলীগের চেয়ারম্যান এস এম রাশেদুল আলম।

ফলে সোমবার কেবল ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান পদে আটজন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী ছিলেন। উপজেলার ১০৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৮ হাজার ৪৬ জন।

উৎসঃ ‌বিডি নিউজ ২৪

আরও পড়ুনঃ মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বেশিরভাগ ফার্মেসিতেইঃ দাবি ভোক্তা অধিকারের, ঔষধ প্রশাসন বলছে ‘অবাস্তব’

বাংলাদেশের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, ঢাকার ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি করা হয়। তবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে এটি ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’ তথ্য।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বলছে, গত ছয় মাসে সংস্থার নিয়মিত বাজার অভিযানে যেসব ফার্মেসি বা ঔষধ বিক্রির দোকান পরিদর্শন করা হয়েছে তাতে ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতেই তারা মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পেয়েছেন।

অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বিবিসি বাংলাকে বলেন, তিনি নিজেসহ কয়েকজন কর্মকর্তা মনিটরিং টিমগুলোর নেতৃত্ব দিয়েছেন।

“প্রতিদিন আমাদের তিনটি টিম বাজার পরিদর্শনে গিয়েছি। গত ছয় মাসের চিত্র এটি যে যেসব এলাকায় আমরা কাজ করেছি বিশেষ করে ফার্মেসিগুলোকে সেখানে প্রায় প্রতিটিতেই কিছু না কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ আমরা পেয়েছি। আর এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

মিস্টার শাহরিয়ার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা এখন ঔষধ ব্যবসায়ী অর্থাৎ ফার্মেসি মালিকদের সাথে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

“আসলে বিষয়টি বোঝানো গেলে এ সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। অনেক জায়গাতেই মালিকরা সহায়তা করছেন। থানা ও জেলা পর্যায়েও কর্মকর্তাদের ব্যবসায়ী বা মালিকদের সাথে সরাসরি কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”

মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ: কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে ভোক্তা অধিকার?

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের হিসেবে, দেশে ফার্মেসির সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজারের মতো। তবে এসব লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ব্যক্তি উদ্যোগে পরিচালিত হয় কয়েক হাজার ফার্মেসি।

সাধারণত ফার্মেসীকে লাইসেন্স দেয়া বা কোনো অনিয়ম পেলে লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা আছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের।

মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলছেন, অভিযানের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া গেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কারাদণ্ড দেয়া ছাড়া আর সব পদক্ষেপই নিতে পারেন।

“সব ধরণের জরিমানা ছাড়াও প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিলের জন্য আমরা (ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর)কে বলতে পারি আইন অনুযায়ী। সাম্প্রতিক সময়ে একটি ফার্মেসী আমরা তাৎক্ষনিক বন্ধও করে দিয়েছি।”

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ই মার্চ তারা শাহজাহানপুর ও ধানমন্ডিতে দুটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পেয়ে জরিমানা করেছেন ৫০ হাজার টাকা করে।

বনানীতে একটি ফার্মেসিকেও জরিমানা করা হয়েছে গত ১১ই মার্চ। আবার ১২ই মার্চ ক্ষিলক্ষেতের একটি ফার্মেসি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এর বাইরেও শ্যামলী,মুগদাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় নিয়মিত অভিযানে বেশ কিছু ফার্মেসিকে জরিমানা করা হয়েছে।

মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলছেন, “এমনও হয়েছে যে একটি ফার্মেসিতে ঢুকেই ঔষধ রাখার বাক্সে হাত দিয়েই পেয়েছি মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ।”

“কিন্তু তাদের সেটি নিয়ে কোনো বোধোদয়ই নেই। আমরা এখন তাদের বোঝানোরও চেষ্টা করছি যে এটি ভয়াবহ অন্যায় ও অসৎ চর্চা।”

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর যা বলছে

সাধারণত ফার্মেসিকে ব্যবসার লাইসেন্স দেয়া বা কোনো অনিয়ম পেলে লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা আছে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের।

অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, যে ফার্মেসিতে বড় সমস্যা হলো ফার্মাসিস্ট রাখা হয়না।

“তবে পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। ব্যবসায়ীরাও আমাদের সহায়তা করছেন।”

তিনি বলেন, “ভোক্তা অধিকার থেকে যে তথ্য এসেছে সেটি বাস্তবতা বিবর্জিত। কিছু দোকানে এমন অনিয়ম হতে পারে সেটি ২/৩ শতাংশের বেশি হবেনা।”

“নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে। স্টোর ম্যানেজমেন্ট বিশেষ করে কোনো ধরণের ঔষধ কিভাবে রাখতে হবে।”

তিনি জানান: “আবার কোনো ঔষধের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কোম্পানি সেগুলো বদলে নতুন ঔষধ দেবে-এটিও নিশ্চিত করা হয়েছে”।

মি. রহমান বলেন, বাজারে এখন ৪০/৪৫ হাজার ঔষধের আইটেম আছে এবং বাজারে গিয়ে দশটি ঔষধ চাইলে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পাওয়া কঠিনই হবে।

“তবে রেগুলার ফার্মাসিস্ট রাখা, মেডিসিন শপের কার্যক্রম নিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত আলোচনা করছি। কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, “এসব কিছু নিয়ে এখন ফার্মেসিগুলোতে আমরা নিয়মিত অনেক সময় দিচ্ছি। ফলে পরিস্থিতির অনেক উন্নত হয়েছে।”

স্যাম্পল ঔষধ আর আন-রেজিস্টার্ড ঔষধ

অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলছেন, বাজারে নতুন উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে স্যাম্পল হিসেবে দেয়া ঔষধগুলো দোকানে চলে আসা।

“বিভিন্ন কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ঔষধ চিকিৎসকদের দিয়ে থাকেন। এগুলোতে অনেক সময় মেয়াদ উল্লেখই থাকেনা।”

“কিভাবে যেনো এসব ঔষধ ফার্মেসিতে চলে আসছে। যেগুলো বিক্রেতারা গছিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতাকে।”

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমান বলছেন, এটি অনৈতিক যদি কেউ ইচ্ছে করে স্যাম্পল ঔষধ রাখেন ও বিক্রি করেন।

তিনি বলেন, বাজারে ঔষধের ক্ষেত্রে আরেকটি সমস্যা হলো আন-রেজিস্টার্ড ঔষধ।

“সাধারণত চোরাইপথে বা লাগেজে করে অনেক ঔষধ এনে বাজারে বিক্রি করেন কম দামে। এগুলোতে মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্যই থাকেনা।

কারণ এগুলো বৈধ পথে আসেনা। এগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তবে ব্যবসায়ীরা ক্রমশ এসব বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। আর আমরা কাউন্সেলিং করাচ্ছি প্রতিনিয়ত”।

মডেল ফার্মেসি

ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মি. রহমান বলছেন, নির্ভেজাল ঔষধ বিক্রি নিশ্চিত করতে তারা মডেল ফার্মেসি করছেন বিভিন্ন এলাকায়।

ঢাকাসহ সারাদেশে পর্যায়ক্রমে দু’হাজারের বেশি মডেল ফার্মেসি হবে এবং প্রয়োজনে এ সংখ্যা আরো বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলছেন ফার্মাসিস্ট রাখা, ক্রেতাদের ঔষধ ভালো করে বুঝিয়ে দেয়া, যথাযথভাবে ঔষধ সংরক্ষণসহ ক্রেতা স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যই মডেল ফার্মেসি হচ্ছে। যেগুলোতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন দুটি ক্যাটাগরির মডেল ফার্মেসি হচ্ছে যার একটি হচ্ছে ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে আর অন্য ক্যাটাগরির ফার্মেসি হবে থানা ও জেলা পর্যায়ে।

উৎসঃ বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুনঃ সারা দেশে ওষুধের দাম লাগামহীন! দেখার কেউ নাই

১২ টাকার ইনজেকশন ৮শ’ ও ৬০ টাকার ওষুধ ১৯শ’ টাকায় বিক্রি * ইচ্ছেমতো দাম বাড়ান খুচরা ব্যবসায়ী ও কোম্পানি প্রতিনিধিরা

নিয়ন্ত্রণহীন দেশের ওষুধের বাজার। ওষুধের প্যাকেটে খুচরা মূল্য উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই দামে বিক্রি হয় না। ১২ টাকার ইনজেকশন ৮শ’ এবং ৬০ টাকার ওষুধ ১৯শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশব্যাপী বৈধ-অবৈধ প্রায় ২ লাখ খুচরা ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দামে ওষুধ বিক্রি করছেন। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

এই চক্র দেশের সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যসন্ত্রাস চালালেও নির্বিকার সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। এ ছাড়া ওষুধের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিপণন খরচ মেটাতে সময়-অসময় দাম বাড়ায় ওষুধ কোম্পানিগুলো।

মাত্র ১১৭টি ওষুধ ছাড়া বাকিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই প্রশাসনের। ফলে কারণে-অকারণে ওষুধের দাম বৃদ্ধির নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক সৈকত কুমার কর যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি। বিভিন্ন কোম্পানির দাম বৃদ্ধির কিছু আবেদন থাকলেও সেগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়নি।

তবে দোকানিরা দাম বাড়িয়ে থাকলে বিষয়টি প্রশাসনের জানা নেই। এমনকি তারা কোনো অভিযোগও পায়নি। তিনি জানান, প্রশাসনের কাজ চালাতে প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় দেশের সব ওষুধের দোকানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয় না।

অস্বাভাবিক দামে ওষুধ বিক্রির একাধিক তথ্য এসেছে যুগান্তরের কাছে। চলতি সপ্তাহে রাজবাড়ীতে ১২ টাকা মূল্যের একটি ইনজেকশন ৮০০ টাকায় বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সেলাই সুতার দাম ১৫-২০ টাকা।

ঢাকার শাহবাগের একটি দোকানে এই সুতার দাম নেয়া হয় ৬০০ টাকা। যশোরে একটি দোকানে বমির ওষুধ কিনতে গেলে দাম রাখা হয় ১৯০০ টাকা। অথচ ওষুধের প্রকৃত দাম মাত্র ৬০ টাকা। এ ধরনের ঘটনা দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে। ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপিতে প্রয়োজনীয় ডসেটিক্সেল, প্যাক্লিটেক্সেল, কার্বোপ্লাটিন, সিসপ্লাটিন, জেমসিটাবিন ইত্যাদি ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্যাটামিন ইনজেকশনের দাম ৮০-১১৫ টাকা কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়।

খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওষুধের দাম প্রতি পাতায় (ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে) লেখা থাকে না। লেখা থাকে ৫ পাতা বা ১০ পাতার একটি বাক্সে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেতা প্যাকেটের গায়ের দাম দেখার সুযোগ পান না। অন্যান্য পণ্যের মতো ওষুধের দাম সম্পর্কে রোগীদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোগীদের মুখ দেখেই একশ’ থেকে দু’শ গুণ দাম বাড়াতেও দ্বিধা করে না অসাধু বিক্রেতারা।

বেশি দামে ওষুধ বিক্রি সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক ওই দোকান মালিককে জরিমানা করেন। রোগী অস্ত্রোপচার টেবিলে থাকায় মাত্রাতিরিক্ত দামে ইনজেকশন কিনতে বাধ্য হন অভিযোগকারী।

গত মাসে শাহবাগে একটি ওষুধের দোকানে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সেলাই সুতা কিনতে যান দেলোয়ার হোসেন। এ সময় ওই দোকানি ১৫-২০ টাকা দামের সেলাই সুতা তার কাছে ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন। বোন বারডেম হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কক্ষে থাকায় তিনি দরদাম না করে সুতা নিয়ে হাসপাতালে ফেরেন। সেখানকার নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন দোকানি তাকে ঠকিয়েছেন। পরে ওই দোকানে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে দোকানি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

যশোরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে গত ডিসেম্বরে। যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে একটি ফার্মেসিতে অ্যাপোনসেট নামের একটি বমির ওষুধ কিনতে গেলে দোকানি ওষুধের দাম রাখেন ১৯০০ টাকা। অথচ ওষুধের প্রকৃত দাম মাত্র ৬০ টাকা।

দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কোনো ওষুধের দাম বাড়ায়নি কোম্পানিগুলো। তবে ডিসেম্বরের আগে বেশকিছু ওষুধের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মার ওমিডন ২ থেকে আড়াই টাকা, স্কয়ার ফার্মার মোটিগার্ট আড়াই টাকা থেকে ৩ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মার নিউসেপ্টিন-আর আড়াই টাকা থেকে ৩ টাকা, এসিআই ফার্মার অ্যাবেক্যাপ ৫/২০ ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা ও ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মার মাইক্রোফ্রি ২৫ টাকা থেকে ২৮ টাকা দামে উন্নীত হয়েছে।

তবে এ ধরনের সাধারণ ওষুধের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির অভিযোগে ভিন্নতা রয়েছে। বিভিন্ন বিষেশায়িত হাসপাতালের সামনে ওই সব রোগের ওষুধের চাহিদা অনুসারে দাম বাড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে ওষুধের প্যাকেটে লেখা দামের কোনো পরিবর্তন হয় না। যখন যে ওষুধের চাহিদা বাড়ে তখন কোম্পানির প্রতিনিধি ও দোকানিরা মিলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে থাকেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকার একটি ওষুধের দোকানে দেখা গেছে, ডক্সিভা ২০০ মিলিগ্রাম ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ওষুধটির নির্ধারিত মূল্য ৬ টাকা হলেও একজন ক্রেতার কাছে ৮ টাকা এবং আরেকজনের কাছে ১০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়।

ক্রেতাদের কাছে দাম জানতে চাইলে তারা বলেন, ওষুধের সঠিক মূল্য তারা জানেন না বা জানার চেষ্টাও করেন না। কারণ হিসেবে বলেন, ওষুধ কেনা হয় সুস্থতার আশায়, তাই মূল্য ততোধিক গুরুত্ব পায় না। এ ছাড়া ওষুধ শিল্প সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ওষুধের কাঁচামাল বা এপিআইয়ের দাম বাড়ার কারণে বাড়ে ওষুধের দাম। পাশাপাশি বিপণন খরচও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। তারা জানান, বর্তমানে বেশিরভাগ কাঁচামাল আসে ভারত ও চীন থেকে। দাম বাড়লে কোম্পানিগুলো ঔষধ প্রশাসনে দাম বাড়ানোর আবেদন করে। কিন্তু দাম কমলে তারা আর ওষুধের দাম কমানোর কথা চিন্তা করে না।

এ ছাড়া বিদেশি ওষুধের কারণেও দামের তারতম্য দেখা যায়। যেমন ক্যান্সারের কেমোথেরাপির ওষুধের দাম সম্প্রতি বেড়েছে। সম্প্রতি কিছু বিদেশি কোম্পানি ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে কমিয়ে একটি অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপিতে প্রয়োজনীয় ডসেটিক্সেল, প্যাক্লিটেক্সেল, কার্বোপ্লাটিন, সিসপ্লাটিন, জেমসিটাবিন ইত্যাদি ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আবার একই কারণে কোনো কোনো ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমাতে হয়েছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত হারসেপ্টিন ওষুধের প্রতি পিসের দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অস্বাভাবিকভাবে সে ওষুধের দাম কমে বর্তমানে ৯০ হাজার ৪০০ টাকায় নেমেছে। এদিকে দেশে প্রস্তুতকৃত বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের একই ওষুধের আগে দাম ৮০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ওষুধ বিক্রেতারা জানান, দেশে পপুলার, ইনসেপ্টা, রেনেটা ও গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস ক্যাটামিন ইনজেকশন উৎপাদন করে। সরবরাহ সংকটে বর্তমানে বাজারে ৮০-১১৫ টাকার ইনজেকশনটি ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদনকারী চার প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ইনজেকশনটি ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করে। গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদিত জি ক্যাটামিন ৫০ এমজির প্রতিটি ইনজেকশনের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৮০ টাকা, পপুলার ফার্মার ক্যাটালার ৫০ এমজির এমআরপি ১১৫, ইনসেপ্টার ক্যাটারিডের এমআরপি ১১৫ ও রেনেটা কেইন ইনজেকশন প্রতি ভায়াল এমআরপি ১০০ টাকা। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো বেশি দামে ইনজেকশনটি বিক্রি করছেন। কোথাও ২০০ টাকা আবার কোথাও ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. শফিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো যথেষ্ট কম দামে ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। এ ক্ষেত্রে দোকানিরা যদি নিজেদের মতো করে দামে বিক্রি করে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। এটি ঔষধ প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আরও সচেতন হতে হবে। ওষুধের গায়ের দাম দেখে নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ কিনতে হবে।

এদিকে ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায়ও ওষুধের দাম বাড়ে। ১৯৯৪-এর ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়- অত্যাবশ্যকীয় তালিকাবহির্ভূত ওষুধের দাম নিজ নিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে। ২৪ বছর আগের সেই নির্দেশনা বলে ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো। অথচ ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে যে কোনো ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের ছিল।

এদিকে ১১৭টি ওষুধ সরকারের কাছে রেখে বাকি ওষুধগুলোর মূল্য নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো- এমন প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সোমবার হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি জানান, দ্য ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২ মতে, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার। যেখানে মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ সরকারের কাছে রাখে। বাকি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এটা তো আইনের ব্যত্যয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ৬২৫ কার্যদিবসের ৪৬৫ দিন অনুপস্থিত রোকেয়ার উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ!

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বেশির ভাগ সময় ক্যাম্পাসে না থাকায় ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় গিয়ে কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিতে হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, “উপাচার্য কলিমউল্লাহ ২০১৭ সালের ১ জুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ দেওয়ার পর থেকে ৬২৫ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ১৬০ দিন ক্যাম্পাসে ছিলেন।”

এই হিসেবে তিনি ৪৬৫ দিন ক্যাম্পাসে যাননি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য দিনের পর দিন ক্যাম্পাসে না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “উপাচার্য ক্যাম্পাসে থাকেন না সে বিষয়টি সবার জানা।”

শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, বিশেষ কারণ ছাড়া ক্যাম্পাসে আসেন না উপাচার্য। সাধারণত সভা-সেমিনারের উদ্বোধন ও পরিচয়পত্র বিতরণসহ কিছু জাতীয় কর্মসূচিতে ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। এবং সকালে এসে দুপুরে অথবা দুপুরে এসে রাতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি।
উপাচার্যের দপ্তর জানিয়েছে, উপাচার্য কলিমউল্লাহ একাধিক বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব ধরে রেখেছেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষর নিতে অনেক শিক্ষার্থীকে ঢাকায় যেতে হয়েছে।

উপাচার্য কলিমউল্লাহ যোগ দেওয়ার পর অধিকাংশ সিন্ডিকেট সভা, শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড, কর্মকর্তা নিয়োগ বোর্ড ও কর্মচারী নিয়োগ বোর্ড ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিসে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী জানিয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এই উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যাপক রদবদল করেছেন এবং অনেককেই দুই থেকে চারটি পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে বসিয়েছেন।

উপাচার্য বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জনসংযোগ বিষয়ক কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “মিটিং উপলক্ষে উপাচার্য রোববার ঢাকায় গেছেন। দুই দিন থাকবেন।”

এ বিষয়ে উপাচার্য কলিমউল্লাহর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সদস্য অধ্যাপক গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছি। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। আমরা রেজুলেশন আকারে বিষয়টি পেশ করব।”

উৎসঃ বিডি নিউজ ২৪

আরও পড়ুনঃ ইনু-মেনন কথা বলার স্বাধীনতা চান

নৌকায় চড়ে সংসদে গেলেও মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার যাতনায় ভুগছেন দুই বাম নেতা হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন। মন্ত্রিত্ব করার সময় বাকস্বাধীনতার প্রয়োজন না পড়লেও এখন দুই নেতা বাকস্বাধীনতা চান। তারা এখন নির্বাচনে কারচুপির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ এবং প্রশাসনে দলবাজি বন্ধ করে সুশাসনের দাবি করছেন।

দুই নেতার অভিমত, তারা নৌকায় চড়ে পথের দিশা পেয়েছেন; তবে তাদের ভাষায় বিএনপি-জামায়াতের মতোই পুরনো বামরা (সিপিবি-বাসদ-বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টিসহ ৮ দলের সমন্বয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট) পথ হারিয়ে ফেলেছে। গতকাল একটি জাতীয় দৈনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দুই নেতা এভাবেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতে ভোট সম্পর্কে ইনু বলেছেন, ওই নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত ভোটে আসবে না এমন প্রচারণা ছিল। ভোট হবে না নির্বাচনের মাধ্যমে একটি অস্বাভাবিক সরকার হবে। একটি ভূতের সরকার হবে। মন্ত্রী হওয়ার জন্য চেষ্টা-তদবির করে ব্যর্থ হয়ে এখন রাশেদ খান মেনন বলেছেন, আমার মন্ত্রী হওয়ার খায়েশ নেই। মর্যাদার যে জায়গা সেটা মন্ত্রী নয়; আমরা বাকস্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকার চাই। ৩০ ডিসেম্বর আগের রাতে ভোটের বাক্স ভর্তি করা নির্বাচনে বিজয়ী এমপি মেনন উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে বলেছেন, উপজেলা নির্বাচনে শুধু ভোট কারচুপিই নয়, আমাদের কর্মীদের দাঁড়াতেই দেয়নি। তিনি স্থানীয় এই নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থীদের পেশি শক্তির বর্ণনা তুলে ধরেন।

রাশেদ খান মেনন কার্যত মুম্বাইয়ের হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের কৌশল গ্রহণ করেছেন। বিগত বছরগুলোতে হিন্দি সিনেমার নায়িকারা মিডিয়ার খবরে থাকার চেষ্টায় নিজেরাই নিজেদের স্ক্যান্ডাল ছড়াতেন। মিডিয়ায় নাম থাকলে সিনেমার কাটতি বাড়ে; নায়িকাও বেশি বেশি সিনেমার অফার পান। সুবিধাবাদী রাজনীতির কারণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় রাশেদ খান মেনন হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের সেই পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি মিডিয়ায় থাকার জন্য হঠাৎ করে কাদিয়ানীদের পক্ষ্যে বক্তব্য দিয়ে দেশের আলেম-ওলামাদের ক্ষেপিয়ে তুলেছেন। প্রতিদিন আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা মেননের বিরুদ্ধে মিটিং-মিছিল করছেন; তার বিচারের দাবি করছেন। এতে বেশ মিডিয়া কভারেজ পাচ্ছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি প্রতিদিন মিডিয়ায় থাকছেন।

মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় সরকারকে একহাত নিয়েছেন মেনন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ উন্নয়ন বৈষম্য দূর করা। চীনের চেয়েও দেশে বর্তমানে অতি ধনী বেড়েছে। শীর্ষ ৫ শতাংশ ধনীর সম্পদ ১২১ গুণ বেড়েছে; অন্যদিকে সবচেয়ে গরিবের ৫ ভাগ সম্পদ ক্রমান্বয়ে কমে এক ভাগে নেমে এসেছে। ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও বছরে ৮ লাখ বেকার বৃদ্ধি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতির জন্য বিরাট হুমকি। দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা চ্যালেঞ্জ। ওপর থেকে দুর্নীতি দমন করার পরামর্শ দিয়ে সউদী আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক চুক্তির প্রসঙ্গে বলেছেন, ইয়ামেন সীমান্তে মাইন সরানো বহির্বিশ্বে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করবে। যদিও ১০ বছরে মেনন নিজের সম্পত্তি ৪ গুণ এবং স্ত্রীর সম্পত্তি ২২ গুণ বৃদ্ধি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি।

মন্ত্রিত্ব না পাওয়ায় জাসদের একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনুও সরকারকে তুলোধুনো করেছেন ওই সাক্ষাৎকারে। নির্বাচন ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় সরকার ও ক্ষমতার অপব্যবহার, ত্রুটি-বিচ্যুতি, দুর্নীতি, দলবাজি, ক্ষমতাবাজির বিরুদ্ধে সমাজের অভ্যন্তরে যে প্রতিবাদ আছে তা বুদবুদের মতো প্রকাশ পাচ্ছে, তার প্রমাণ ডাকসু নির্বাচনে নূরুল হক নূরের বিজয়। তবে আমাদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আপনি যদি মনে করেন একজন ইনু বা মেনন বীরের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ভূমিকা রাখবে বা বিরোধী দল জন্ম দেবে, এটা বাস্তবসম্মত নয়। সামনে এজেন্ডা তিনটি- বৈষম্য কমাও, দুর্নীতি ধ্বংস করো এবং দলবাজি বন্ধ করে সুশাসন দাও। বিএনপি-জামায়াতের মতোই পুরনো বাম দলগুলোও এখন পথ হারানোর পথে।

সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সুসম্পর্ক প্রসঙ্গে ইনু বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনোই হেফাজত বা তেঁতুল হুজুরের সঙ্গে সমঝোতা করেনি। করলে জাসদ সভাপতি হিসেবে ১৪ দলীয় জোটে থাকব কি থাকব না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতাম।

’৯০-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথম এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের অভিযোগে মামলা করা ইনু বলেন, আমি এরশাদের প্রশংসা করব। কারণ, সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে সই করে এরশাদ সংবিধানের আনুগত্য মেনেছেন। এ জন্য তার প্রশংসা করছি। তবে আমি এরশাদের বিচার চাই। কে বৈধ আর কে অবৈধ প্রেসিডেন্ট, সে সম্পর্কে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত আছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভুল সংশোধনের দাবি জানিয়ে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমকে রাষ্ট্রের মুখোমুখি করা যাবে না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পত্রিকা চালানো নয়। সম্প্রচার কমিশন ও প্রেস কাউন্সিলের শক্তি বৃদ্ধি পাক; তারাই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বোঝাপাড়া করবে। রাষ্ট্র বা তার অঙ্গ সকাল-বিকেল ফোন করে কোনটা ছাপাবে কোনটা ছাপাবে না, এ রকম দায়িত্ব রাষ্ট্রের নয়। নির্ভয়ে সমালোচনার গ্যারান্টি রাষ্ট্রকে দিতে হবে। সংবাদকর্মীরা রাষ্ট্র বা সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, গণতন্ত্রের বন্ধু। রাজনৈতিক কর্মীর ভুল সহ্য করতে পারলে সংবাদকর্মীদের ভুল সহ্য করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরো ছয় মাস-এক বছর চলার পর ত্রুটিবিচ্যুতি ভেসে উঠবে; আইনে গলদ থাকলে তা সংশোধন করতে হবে। রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুর এই ‘ছবক’ দেশবাসী কিভাবে গ্রহণ করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ বিজয়ের দামামা বাজতে শুরু করেছে: ড.এমাজউদ্দিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ক‌রে আগামী দিনে আমরা যে বিজয় দিবস পালন করতে যাচ্ছি সেই বিজয় দিবসের দামামা একটু একটু করে বাজতে শুরু করেছে।’

সোমবার (১৮ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে খন্দকার দেলোয়ার হোসেন স্মৃতি ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এমাজউদ্দিন ব‌লেন, ‘এ দে‌শের সবচাইতে বড় অর্জন হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা। ২৯ ডিসেম্বর হোক আর ৩০ ডিসেম্বর- একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়ে। সাড়ে চার হাজার বছরের এ দেশের সব অর্জন ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ পেল কোথায়? ভোট দিতে গিয়ে দেখে তার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে? আসলে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ব্যর্থ প্রমাণ করা হয়েছে।’

ডাকসু নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কাউকে নির্বাচিত করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করে এটা অকল্পনীয়। এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়সে কোনদিন হয়নি। ২০১৯ সালে তা হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের জন্য কলঙ্ক।’

বিএমপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণ হতাশায় না পড়লেও হতাশার বাতাস লাগতে শুরু করেছে। হতাশার কালো মেঘ চারদিকে ছেয়ে আছে। এটা দূর করার একটি মাত্র উপায় আছে। তা হল বিএনপিকে জনগণের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। তাদের দুঃখ বেদনার কথা শুনতে হবে। বলতে হবে নিজেদের কথাগুলোও। তাহ‌লেই হতাশা দূর হ‌বে। আর মানুষও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা কর‌বে।’

ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ বাকশাল থাকলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না: শেখ হাসিনা

শেখ মুজিবুর রহমান প্রবর্তিত শাসন ব্যবস্থা (বাকশাল) কার্যকর থাকলে নির্বাচন নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকতো না দাবি করে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাকশাল ছিলো সর্বোত্তম পন্থা।

‘‘আমি বিশ্বাস করি, বঙ্গবন্ধু যে পদ্ধতিটা (বাকশাল) করে গিয়েছিলেন সেটা যদি কার্যকর করতে পারতেন তাহলে এসব (নির্বাচনী অস্বচ্ছতা) প্রশ্ন আর উঠতো না।’’

সোমবার শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ মুজিবুর রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘শুধুমাত্র শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধির ৭ ভাগে উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছিল। তিনি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন, আজ নির্বাচন নিয়ে অনেক কথা উঠে; আর আমাদের বিরোধী দল বাকশাল বাকশাল করে গালি দেয়, তারা যদি একবার চিন্তা করতেন, শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন একটা বিপ্লবের পর যেকোন দেশে একটা বিবর্তন দেখা দেয়। সেই বিবর্তনের ফলে কিছু মানুষ হঠাৎ ধনী শ্রেণীতে পরিণত হয় আবার ভালো উচ্চবিত্ত মানুষ তাদের ধন-সম্পদ ধরে রাখতে পারে না। কাজেই এ ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক ধারা সুনিশ্চিত করা এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা একান্তভাবে দরকার। সব বিবেচনায় শেখ মুজিবুর রহমান সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

‘‘পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ধারা ছিল না, আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা দিল, সে গণতন্ত্রের ফর্মুলা দিল বেসিক ডেমোক্রেসি! মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হলো। আর শেখ মুজিবুর রহমান চাইলেন মানুষ যেন তার ভোটের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে। যে অধিকার তিনি দিয়েছিলেন ৭২ এর সংবিধানে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে শেখ মুজিবুর রহমান এমন একটি পদ্ধতি এনেছিলেন যেখানে কেউ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে পারবে না। সরকারের পক্ষ থেকে যে যে প্রার্থী হবে সকলের নাম একটি পোস্টারে দিয়ে প্রচার করা হবে। যে ব্যক্তি যত বেশি জনগণের কাছে যেতে পারবে, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে সেই শুধু নির্বাচিত হবে।’’

বাকশালের স্বচ্ছতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন: এ পদ্ধতিতে দুটি নির্বাচন হয়। সে নির্বাচনের একটি হয়েছিল কিশোরগঞ্জে, সেখানে সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভাই দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু জনগণ ভোট দিয়েছিল একজন স্কুল মাস্টারকে। আর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় পটুয়াখালীতে।

এ পদ্ধতি চালু নিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেছিলেন জানিয়ে আলোচনা সভায় তিনি বলেন, আমি তাকে (বঙ্গবন্ধু) জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি এ পদ্ধতি করলেন কেন? তিনি আমাকে বলেছিলেন, আমাদের দেশে একটি বিপ্লব হয়েছে। এখানে গেরিলা যুদ্ধ হয়েছে; একটা বিপ্লবের পর কিছু মানুষের হাতে অর্থ চলে আসে। আমি চেয়েছি নির্বাচন যেন অর্থ এবং লাঠি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়। জনগণের কাছে যেন ভোটের অধিকারটা থাকে, প্রতিনিধি নির্বাচন করার অধিকারটা থাকে। তা নিশ্চিত করবার জন্যই আমি এই পদ্ধতিটা শুরু করেছি।

বাকশাল বাংলাদেশের জন্য উপযোগি ছিলো দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন: এটা বাংলাদেশের জন্য যে কতটা উপযোগী ছিল একসময় বাংলাদেশের মানুষ তা ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বঙ্গবন্ধু যে পদ্ধতিটা করে গিয়েছিলেন সেটা যদি কার্যকর করতে পারতেন তাহলে এসব প্রশ্ন (নির্বাচনে অস্বচ্ছ্বতা) আর আসতো না। সব থেকে জনদরদি যে ব্যক্তিটি জনসেবা যে করে সেই নির্বাচিত হয়ে আসতে পারতো।

উৎসঃ channelionline

আরও পড়ুনঃ লড়াই একটা হবে, দিন তারিখ দিয়ে নয় : শামসুজ্জামান দুদু

সরকারবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, লড়াই একটা হবে, দিন তারিখ দিয়ে নয়। লড়াই হ‌বে ফ্যাসিবাদ ,স্বৈরতান্ত্রিক সরকার, লুটেরা-যারা ব্যাংককে ফাঁকা করেছে, যারা এই দেশের গণতন্ত্রকে বিপণ্ন করেছে তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, এই লড়াই বেগম জিয়া, শহীদ জিয়া, সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াই।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন শামসুজ্জামান দুদু।

দুদু বলেন, ‘অপশাসন‌কে রোধ কর‌তে বেগম জিয়াকে আ‌গে মুক্ত কর‌তে হ‌বে। বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করে আনার অর্থই হচ্ছে অপশাসনকে রোধ করা। তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার অর্থই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধকে সম্মানিত করা। এই গোলামির জিঞ্জির ভেঙে ফেলার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছে তাদের প্র‌তি সম্মান করা।’

তিনি বলেন, ‘এজন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই, এই ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটাই। পতন ঘটানোর জন্য প্রথম কাজ বেগম জিয়াকে মুক্ত করা। আর দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে অপশাসনকে উচ্ছেদ করা। তাহ‌লে দে‌শে গণতন্ত্র ভো‌টের অ‌ধিকার প্র‌তি‌ষ্ঠিত হ‌বে।’

দুদু ব‌লেন, দেশের সর্বক্ষেত্রে হিটলারের ছায়া আমরা লক্ষ্য করছি। দেশে ভোট বলে কিছু নেই। নির্বাচন পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন যারা জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা কী অবস্থায় ছিলেন তা তখনকার পত্রপত্রিকা দেখলে বোঝা যায়। এখন উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে, কিছুদিন আগে উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হয়েছে। সে নির্বাচনে কী হয়েছে আপনারা দেখেছেন। আপনারা দেখেছেন ডাকসু নির্বাচন। এই ডাকসু ভাষা আন্দোলনের প্রতীক, ৬৯ এবং ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষক, ছাত্র এবং সরকার ইসির বুদ্ধিতে যে নির্বাচন করেছে এটি কোনোভাবেই জাতি মেনে নিতে পারে না। এটাও কোনো নির্বাচন হয়নি।’

দুদু বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতার জন্য বাংলাদেশে একদিন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। এখন তার লেশমাত্র বাংলাদেশ নেই। সেই গৌরবময় ইতিহাস ফিরিয়ে আনার জন্য এখানে যারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দাঁড়িয়ে আছেন, সেই মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে আমরা আছি ছাত্রসমাজ, এ দেশের যুবসমাজ, মেহনতী, শ্রমিক, কৃষক-সকলেই তাদের সঙ্গে আছে।’

আয়োজক সংগঠনের সি‌নিয়র সহ-সভাপ‌তি হা‌জি আবুল হো‌সেনর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত সৈয়দ ইব্রাহিম, বিএনপি’র যুগ্ন মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি ও কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মাহবুব তালুকদার

স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি সংস্কার করে ইসির হাতে আরও ক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেছেন, একতরফা নির্বাচনের কারণে ভোটাররাও কেউ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহী নয়। এহেন নির্বাচনবিমুখতা গণতন্ত্রবিমুখতায় পর্যবসিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।

সোমবার দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা ভোট চলার মধ্যে বিকালে নির্বাচন ভবনের নিজ কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন মাহবুব তালুকদার।

সংবাদ সম্মেলনে বরাবরের মতো লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিগত কয়েক দিন ধরে কয়েকজন সাংবাদিক জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সম্পর্কে আমার কাছে প্রশ্ন রাখছেন। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আমার নতুন করে বলার কিছু নেই। একাদশ জাতীয় নির্বাচন কেমন হয়েছে, প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছে এ প্রশ্নের উত্তর আছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে যাদের স্বার্থ জড়িত, তারা কখনো এর সঠিক উত্তর দিতে পারবেন না, বা দেবেন না। জাতীয় নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতার বদল নয়, এতে গণতন্ত্র কতটা সমুন্নত হলো তা-ও বিবেচনাযোগ্য।

মাহবুব তালুকদার বলেন, নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য ও গণতন্ত্রকে অবারিত করার স্বার্থে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন। তবে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার ইসির কাজ নয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন কী পদ্ধতিতে কতখানি উন্মুক্ত হবে সেটা বর্তমানে সরকার ঠিক করে দেয়। ভবিষ্যতে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য, আইনানুগ ও উন্মুক্ত নির্বাচন হলে এবং সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত হলে, সব দল তাতে অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা যায়।

এ জন্য ইসির হাতে ক্ষমতা চেয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্বাচন কখন হবে, কীভাবে হবে-এ সিদ্ধান্ত ইসির কাছে ন্যস্ত হলে ভোটারদের উপস্থিতির জন্য আর হা-হুতাশ করতে হবে না। বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন।

‘নির্বাচনকে যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে হবে’ সংসদে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মাহবুব তালুকদার বলেন, মর্যাদাহীন নির্বাচন করে কেউ খুশি হতে পারে না।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ১৭এপ্রিল

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ১৭ এপ্রিল দিন ধার‌্য করেছেন আদালত। ‘অসুস্থতার’ কারণে খালেদা জিয়া আজ সোমবার আদালতে হাজির না হওয়ায় চার্জ শুনানি হয়নি।

পরে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালত আগামী ১৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সোমবার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ঢাকার ৩ নম্বর অস্থায়ী বিশেষ জজ আবু সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালতে হাজির করার কথা ছিল। তাকে হাজির না করে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী সার্জন ড. মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি কাস্টোডি পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। এতে লেখা হয়েছে- শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আজ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজি করা হয়নি।

এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেন, আজ অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তিনি জেলখানায় আছেন। জেল কর্তৃপক্ষ তাকে হাজির করেনি। তার অনুপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন শুনানি হতে পারে।

অন্যদিকে খালেদার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। এ কারণে তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। তার অনুপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি হতে পারে না। এ ছাড়া আমরা মামলার প্রয়োজনীয় কাগজ এখনও পাইনি। তাই আমাদের একটি লম্বা সময় দেয়া হোক।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালত আগামী ১৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ১টা ৫ মিনিটে তাকে আবারও কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি করেন। শুনানি শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দুদক আইনের ৫(২) ধারায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯-এর আলোকে চার্জ গঠনের দাবি জানান তিনি।

এর আগে ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হুইলচেয়ারে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন খালেদা জিয়া আদালতে বসা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিচারকের উদ্দেশে বলেছিলেন- আমাকে সাজা দিতে চাইলে দিয়ে দেন, আমি আর এই আদালতে আসব না।

এরও আগে গত ১০ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেছিলেন একই আদালত।

সবশেষ গত ১৩ মার্চ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন। এদিন রাজধানীর বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এএইচএম রুহুল ইমরানের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওই দিন আসামি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির না করায় কাস্টোডি পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। সিনিয়র জেল সুপার স্বাক্ষরিত কাস্টোডিতে লেখা হয়, ‘সংশ্লিষ্ট বন্দি বিজ্ঞ আদালতে যেতে অনিচ্ছুক।’ পরে আদালত মামলার শুনানির জন্য আগামী ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

জরুরি অবস্থা জারির সময় করা এ মামলার অভিযোগপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা বাতিল চেয়ে রিট করেছিলেন খালেদা জিয়া। রিটের কারণে প্রায় আট বছর নিম্নআদালতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রিট খারিজ করে উচ্চআদালত ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ৫ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করে জামিন পান খালেদা জিয়া।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার ১৩ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

আদালত সূত্র জানায়, দুদকের দেয়া চার্জশিটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা বাতিল চেয়ে রিট আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া। রিট আবেদনের কারণে প্রায় আট বছর নিম্নআদালতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

রিট খারিজ করে উচ্চআদালত ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। উচ্চআদালতের নির্দেশে ওই বছরের ৫ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন খালেদা জিয়া।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড কোম্পানিকে (গ্যাটকো) পাইয়ে দেয়া হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ২০০৮ সালের ১৩ মে তদন্ত শেষে দুদকের উপপরিচালক জহিরুল হুদা খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ছয় আসামি মারা গেছেন।

এ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, এমকে আনোয়ার, এম শামসুল ইসলাম এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন। মামলাটিতে বর্তমান অভিযুক্তের সংখ্যা ২০ জন।

অন্য অভিযুক্তের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল আকবর হোসেনের (প্রয়াত) স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং একেএম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌসচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক সদস্য একে রশিদ উদ্দিন আহমেদ এবং গ্লোবাল অ্যাগ্রো ট্রেড প্রাইভেট লিমিটেডের (গ্যাটকো) পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব।

প্রসঙ্গত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ১৭ বছর দণ্ডিত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বাঘাইছড়িতে নির্বাচনী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত ৬

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে একটি নির্বাচনী গাড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে এ সহিংসতা ঘটে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে ভোট গণনা শেষে উপজেলার সাজেক বাঘাইহাট থেকে বাঘাইছড়ি ফেরার পথে ৯ কিলোমিটার নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

বাঘাইছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ৬ জনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত যাদের নাম নিশ্চিত হওয়া যায় তারা হলেন- আনসার-ভিডিপি সদস্য মো, আল আমিন, বিলকিস, জাহানারা, মন্টু চাকমা, মিহির কান্তি দত্ত, মো. আমির হোসেন (শিক্ষক কিশোলয় প্রাথমিক বিদ্যালয়)। বাঘাইছড়ি থানার ওসি এমএ মঞ্জুর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গুলিবিদ্ধ ১০ জনের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদস্য ৪ জন, শিশু ১ জন, নারী ২ জন, আনসার ৩ জন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাঘাইছড়ির সাজেকের কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে সেখানে দায়িত্ব পালনকারী প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে গাড়িযোগে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ফিরছিলেন। পথে বাঘাইছড়ির ৯ কিলোমিটার নামক এলাকায় গাড়িটির ওপর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা।

নিহতদের মধ্যে আনসার ও ভিডিপিসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে জানা গেছে। হতাহতদের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাৎক্ষণিক তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল হান্নান আরব মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। অন্য আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এদিকে নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটদান নিয়ে সকাল থেকে দিনভর দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে টানটান উত্তেজনা ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে।

এর মধ্যে দুপুরের দিকে জনসংহতি সমিতির (মূল) সমর্থিত প্রার্থী বড় ঋষি চাকমা তার সমর্থিত দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ এবং সংস্কারপন্থী জেএসএস নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও জালভোট প্রয়োগ করছিল। তাই তিনি ভোট বর্জন করেছেন।

পরে পাল্টা অভিযোগ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বড় ঋষি চাকমার বক্তব্যের জবাব দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংস্কারপন্থী জেএসএস’এর প্রার্থী সুদর্শন চাকমা বলেছেন, বড় ঋষির অভিযোগ অসত্য।

প্রশাসনকে বিতর্কিত করতে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে উভয় দলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে জানায় স্থানীয় সূত্রগুলো।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বোরকা পরা একজন ছাত্রীর আইনগত অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: ভিপি নুর (ভিডিওসহ)

‘কোনো নারী শিক্ষার্থী বোরকা পরবেন, না স্বল্প বসনে থাকবেন এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাছাড়া, এই রাষ্ট্র তার নাগরিককে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী পোষাক পরার অধিকার দিয়েছে।’ এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর।

চেঞ্জ টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বোরকা পরা নিয়ে যারা মন্তব্য করে তাদের সুস্থ মস্তিষ্ক কিংবা মানবিকতা আছে কিনা এমন প্রশ্ন ‍তুলে ভিপি নুর বলেন, বোরকা পরলেই বলা হয় সে ছাত্রী সংস্থার, এ ধরনের মন্তব্য যারা করে তাদের মনুষ্যত্ব ও মানবিকতা আছে কি না এ নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।

ভিডিওঃ বোরকা পরা একজন ছাত্রীর আইনগত অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: ভিপি নুর (ভিডিওসহ)


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে। একজন ছাত্রী বোরকা পরবে এটা তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা কারও ব্যক্তিগত পোশাক নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। যারা নারীদের পোশাক নিয়ে কথা বলে তারা সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকরী কি না এটা নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন মতের, সংস্কৃতির ও রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকজন থাকতে পারে। কারন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উর্বর গণতন্ত্র চর্চার পূর্ণভূমি।

উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ এনে ফের নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রীকে গত ১৪ই মার্চ মধ্যরাতে হেনস্তা করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী। এ সময় বোরকা পরা ছাত্রীদেরকে ছাত্রী সংস্থার কর্মী দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের হুমকি দেয়।

ভিডিওঃ বোরকা পরা একজন ছাত্রীর আইনগত অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: ভিপি নুর (ভিডিওসহ)


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ sangbad247

আরও পড়ুনঃ মধ্যরাতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের হেনস্থা, হিজাব নিয়ে কটুক্তি, বহিষ্কারের হুমকি রাব্বানীর (ভিডিও)

অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগ এনে ফের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা রোকেয়া হলের পাঁচ ছাত্রীকে মধ্যরাতে হেনস্তা করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী। একইসাথে তাদের মধ্যে যারা পর্দাশীন তাদের অনেককে ছাত্রী সংস্থার কর্মী দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের হুমকি দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে এমন অভিযোগ করেছেন রোকেয়া হলের গেটে অনশনরত ছাত্রীরা।

অনশনকারী ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী শ্রবণা শফিক দীপ্তি বলেন, রোকেয়া হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ ও কারচুপির ভোট বাতিলের দাবিতে আমরা সুশৃঙ্খলভাবে অনশন করছিলাম। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এখানে এসে আমাদের, সমর্থনকারীদের হেনস্তা করেন। ছবি দেখিয়ে একজনকে চরিত্রহীন প্রমাণের চেষ্টা করেন। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আমরা মদ-গাঁজা খেয়ে আন্দোলন করছি। যারা পর্দা করেন, সেসব ছাত্রীদের শিবিরেরকর্মী বলে- মিথ্যা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের হুমকি দেন তিনি।

ভিডিওঃ ‘ক্যাম্পাসে যারা হিজাব, বোরকা পড়ে তারা শিবির, ছাত্রীসংস্থা’: ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ডাকসু ও হল সংসদে পুনর্নির্বাচন, হল প্রভোস্ট জিনাত হুদাকে কারচুপির মূল হোতা দাবি করে তার পদত্যাগ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার দাবিতে গতকাল রাত নয়টায় আমরণ অনশনে বসেন রোকেয়া হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে চারজন ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন পদের প্রার্থী ছিলেন। হলের প্রধান ফটকের সামনে তারা অনশন শুরু করেন। অনশন শুরু করার পর তাদের সমর্থনে হলের ফটকের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নেন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী। এসময় তারা হল প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন।

আওয়ামী পরিবারের সন্তান দীপ্তির ভাষ্য, দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে ছাত্রলীগ শতাধিক নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রোকেয়া হলের সামনে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী। এসেই তিনি ছাত্রীদের হলের ফটকের বাইরে অনশন করা ও তাদের সমর্থকদের অবস্থান নিয়ে মুঠোফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে কথা বলেন।

ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস মুঠোফোনে প্রক্টরকে জানান, হলের কিছু মেয়ে মধ্যরাতে গেট খুলে বাইরে অবস্থান করে অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছেন। তিনি বলেন, এরা খুব বাড়াবাড়ি করছে, স্যার। এদের সবগুলোর ফাইল দেখে চিহ্নিত করে, গার্ডিয়ান ডেকে এনে স্থায়ীভাবে একাডেমিক বহিষ্কার করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে খোদা হাফেজ করে দেন।

প্রায় পাঁচ মিনিটের কথোপকথনে ডাকসুর নবনির্বাচিত জিএস কয়েকবার প্রক্টরের কাছে একই দাবি জানান। এসময় প্রভোস্টের ‘পদত্যাগ’ দাবি করে ‘রোকেয়া হলের আঙিনা, তোমার-আমার ঠিকানা’ বলে স্লোগান দেন অনশনকারীদের সমর্থকেরা।

এরই মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইশরাত কাশফিয়া ইরা, বর্তমান সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম–বিষয়ক সম্পাদক লিপি আক্তার, হল সংসদের সদস্য সুরাইয়া আক্তারসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী।

ডাকসুর জিএস রাব্বানীর কাছে তারা অভিযোগ করেন, অবস্থানকারীদের কারণে হলের শিক্ষার্থীরা ঘুমাতে পারছেন না, পড়তে পারছেন না। এরপর রাব্বানী হলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা অনশনকারীদের কয়েকজন সমর্থককে দেখিয়ে ছাত্রলীগ নেত্রীদের প্রশ্ন করেন, রাত দুইটার দিকে বোরকা, নেকাব পরা এরা কারা? ছাত্রশিবির করে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অবস্থান নিষিদ্ধ।’

এসময় ঘটনাস্থলে হলের হাউস টিউটর দিলারা জাহিদ, লোপামুদ্রা, সাদিয়া নূর খান এসে ডাকসুর জিএস রাব্বানীকে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

জিএস চলে যেতে উদ্যত হলে তাকে ফিরিয়ে আনেন হল ছাত্রলীগ নেত্রীরা। ফিরে এসে আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করতে হল ছাত্রলীগ নেত্রীদের নির্দেশ দেন রাব্বানী।

ভিডিওঃ ‘মধ্যরাতে আন্দোলনরত ও পর্দাশীন ছাত্রীদেরকে গোলাম রাব্বানীর হেনস্থা’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এবিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে রাব্বানী বলেন, সবারই আন্দোলন, অনশন করার রাইট আছে। কিন্তু রাত দুইটার দিকে হলের গেট খোলা রেখে অন্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার রাইট কারও নাই। রাব্বানী বলেন, বোরকা পরে মুখ ঢাকা মেয়েরা এখানে কেন? এরা শিবিরের ছাত্রী সংস্থার। তারপরেও তারা ক্যাম্পাসে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা।

রাত সোয়া দুইটার দিকে নেতা-কর্মীদের নিয়ে হলের সামনে থেকে চলে যান রাব্বানী। কয়েক মিনিট পর মোটরসাইকেল করে এসে স্লোগান দিয়ে শোডাউন দেন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উৎসঃ দেশ জনতা

আরও পড়ুনঃ ভিপি নুরের কাছে আসিফ নজরুলের তিন প্রশ্ন

ডাকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের কাছে তিনটি প্রশ্ন রেখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও কলামিস্ট আসিফ নজরুল।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে আজ সন্ধ্যায় তিনি এ প্রশ্ন করেন।

তিনি নুরের কাছে প্রশ্ন করে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে আপনার মাতৃসমও মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি উনার কাছে আপনার ও আপনার সঙ্গীদের উপর চালানো বহু নির্মম নির্যাতনের বিচার চাইতে ভুলে গেলেন? আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী রাশেদকে মাত্র তিনদিন আগে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল, কেন ভুলে গেলেন প্রধানমন্ত্রীকে এটি বলতে?

তিনি নুর শিরোনাম দিয়ে লিখেছেন, নুরুল হক নুর অতীতে সকল অত্যাচারের মুখে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপনার দৃঢ় ভূমিকা দেখে আপনার মধ্যে তরুণ বয়সী বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখেছিলাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মেরুদণ্ড কোন শাসকের সামনে বিন্দুমাত্র নুয়ে পড়তো না।

নুরকে সুলতান মনসুর আখ্যা দিয়ে তিনি লিখেছেন, আপনার মেরুদণ্ড নুয়ে পড়লে আপনাকে তাই আর তরুণ বঙ্গবন্ধুর ছায়া মনে হবে না। বরং মনে হবে আপনি নির্ভীক তারুণ্যে বুড়িয়ে যাওয়া একজন সুলতান মনসুর।

সংবাদের পাঠকদের জন্য স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

নুর?

নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রী ডাকলে আপনি অবশ্যই যেতে পারেন, উনাকে আপনার মাতৃসমও মনে হতে পারে। কিন্তু আপনাকে বলতে হবে কেন আপনি উনার কাছে আপনার ও আপনার সঙ্গীদের উপর চালানো বহু নির্মম নির্যাতনের বিচার চাইতে ভুলে গেলেন?

আপনার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী রাশেদকে মাত্র তিনদিন আগে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল, কেন ভুলে গেলেন প্রধানমন্ত্রীকে এটি বলতে?

কেন ব্যার্থ হলেন ডাকসু নির্বাচনে কারচুপির বিষয়টি ঠিকমতো ব্যাখ্যা করতে?

আপনাকে খুব দ্রুত এসব বিষয়ে অবস্থান পরিস্কার করতে হবে। অতীতে সকল অত্যাচারের মুখে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপনার দৃঢ় ভূমিকা দেখে আপনার মধ্যে তরুণ বয়সী বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখেছিলাম। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মেরুদন্ড কোন শাসকের সামনে বিন্দুমাত্র নুয়ে পড়তো না।

আপনার মেরুদন্ড নুয়ে পড়লে আপনাকে তাই আর তরুণ বঙ্গবন্ধুর ছায়া মনে হবে না। বরং মনে হবে আপনি নির্ভীক তারুণ্যে বুড়িয়ে যাওয়া একজন সুলতান মনসুর।

উৎসঃ sangbad247

আরও পড়ুনঃ মেয়র আতিকুলের মানুষের সঙ্গে এ কেমন তামাশা?


রবিবার শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ময়লা ফেলে তারপর ময়লা পরিষ্কারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এমন কাণ্ড নিয়ে সরগরম ফেসবুকসহ সর্বত্র। মেয়র আতিকুল ইসলামের এহেন কাণ্ডে সর্বত্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

এ নিয়ে সাপ্তাহিক সম্পাদক ও বিশিষ্ট টকশো ব্যক্তিত্ব গোলাম মোর্তজাও মেয়র আতিকুলের সমালোচনা করেছেন। তিনি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিনের দুই মেয়রের সমালোচনা করে বলেছেন তাদের এরকম তামাশা আর কতদিন? এগুলো কি সহ্য করে যেতেই হবে?

ভিডিওঃ মেয়র আতিকুলের কাণ্ডঃ ময়লা ছড়িয়ে ময়লা পরিষ্কার এ কেমন তামাশা? (ভিডিওসহ)


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া তার পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘একজন গলা সমান ময়লার মধ্যে বসবাস করে,ঝাড়ু হাতে গিনেজ রেকর্ডে নাম উঠানোর ফটোসেশন করে!আরেকজন পরিস্কার রাস্তায় ময়লা ফেলে,দলবল নিয়ে তা পরিস্কারের উৎসব করে!! বিনা ভোটের কেরামতি কী এমনই! মানুষের সঙ্গে এ কেমন তামাশা? সহ্য করে যেতেই হবে?’

তার এই পোষ্টে কমেন্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক। তিনি লিখেছেন-

‘ক’দিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরাও রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের সামনে চার টুকরো টিস্যু ফেলে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি উদ্বোধন করেছিলেন। এসব কর্মসূচির অন্তর্গত শিরোনাম, “আমায় দেখো”।’

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজও সেই পোষে্‌ট মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন-

‘এই তামাশাটা অবশ্য আমার খুব পছন্দ হয়েছে। এতে করে এমন কী আমার মতো নির্বোধেরাও বুঝতে পারছে যে এখন আর তামাশা করা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের কোনো রাখঢাক নাই। ওনারা আগে বিভিন্নভাবে বোঝাতে চেয়েছেন, কিন্ত যেহেতু সেইগুলো আমাদের মাথার ওপরে দিয়ে গেছে সেই হেতু এইবার একেবারে হাতে ধরে বুঝিয়ে দিচ্ছেন – এই দ্যাখো তামাশা করছি।’

উৎসঃ নতুন দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ মেয়র আতিকুলের কাণ্ডঃ ময়লা ছড়িয়ে ময়লা পরিষ্কার এ কেমন তামাশা? (ভিডিওসহ)


ভ্যানে করে ময়লা কাগজ এনে টুকরো টুকরো রাস্তায় ফেলছেন ডিএনসিসি’র একজন কর্মী

পরিষ্কার রাস্তায় ময়লা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সেই ময়লা অপসারণ করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সদ্য নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম।

রবিবার (১৭ মার্চ) দুপুরে শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে ‘বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও দেয়ালচিত্র’ কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাত রাস্তা সংলগ্ন মেয়র আনিসুল হক সড়কে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি’র মেয়র আতিকুল ইসলাম।

পরিষ্কার রাস্তায় কাগজের টুকরো ফেলছেন ডিএনসিসি’র এক কর্মীসরেজমিন দেখা গেছে, রবিবার সকাল থেকে ওই এলাকাসহ আশপাশে প্রতিটি সড়ক ও অলিগলি পরিষ্কার করা হয়। সড়কে দুর্গন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডারও ছিটানো হয়। ডিএনসিসি কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরাও এ কাজে অংশ নেন।

ভিডিওঃ মেয়র আতিকুলের কাণ্ডঃ ময়লা ছড়িয়ে ময়লা পরিষ্কার এ কেমন তামাশা? (ভিডিওসহ)


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
মেয়রের নেতৃত্বে সড়ক পরিচ্ছন্ন অভিযানবেলা ১১টার দিকে আনিসুল হক সড়কে গিয়ে দেখা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সড়কটিতে ডিএনসিসি’র বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের একটি ভ্যানগাড়িতে করে ছেঁড়া পোস্টার ও কাগজপত্র সংগ্রহ করে ফের তা সড়কেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। ডিএনসিসি’র দু’জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ময়লা কাগজ টুকরো-টুকরো করে সড়কে ফেলে যাচ্ছেন। হ্যান্ডমাইক হাতে মেয়র আনিসুল হকের ‘লাভ ঢাকা’ কর্মসূচির একজন কর্মীকে এ সময় তাদের (পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের) দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি’র মেয়রনাম প্রকাশ না করে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানান, মেয়র আতিকুল ইসলাম পরিচ্ছন্ন কাজ উদ্বোধন করতে আসবেন। কিন্তু এর আগেই পুরো রাস্তা পরিষ্কার করা হয়। উদ্বোধনের আগে দেখা গেলো সড়কে কোনও ময়লা নেই। তাই কিছু ময়লা সংগ্রহ করে মেয়র আনিসুল হক সড়কে ফেলে রাখার জন্য স্যারেরা বলেছেন। তারা বলেন, ‘আমরা শুধু সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করছি।’

বক্তব্য রাখছেন মেয়র আতিকুল ইসলামএরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে মেয়র আতিকুল ইসলাম তার সহকর্মীদের নিয়ে সড়কটিতে পরিচ্ছন্ন কাজ উদ্বোধন করতে আসেন। ঝাড়ু হাতে একদল স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে সড়কটিতে পরিষ্কার অভিযানে নামেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। এ নিয়ে বিরূপ মন্তব্যও করেছেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কেউ কেউ।

ভিডিওঃ মেয়র আতিকুলের কাণ্ডঃ ময়লা ছড়িয়ে ময়লা পরিষ্কার এ কেমন তামাশা? (ভিডিওসহ)

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
এ সময় শাজাহান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘এভাবে অভিযানে না নেমে মেয়র যদি তার কর্মীদের দিয়ে প্রতিদিন সব এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখেন, তাহলে এভাবে কর্মসূচি পালনের প্রয়োজন হবে না। জনগণ কর্মসূচি দেখতে চায় না, তারা চায় কাজ। ভালো কাজ করলে প্রচার এমনিতেই হবে।’

ডিএনসিসি’র একদল নারী পরিচ্ছন্নতা কর্মীপরিচ্ছন্ন সড়কে ময়লা ফেলতে দেখে সাবিনা নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘মেয়র পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন করবেন, তাই পরিষ্কার রাস্তায় আবারও ময়লা ফেলা হচ্ছে। এটা তো লোক দেখানো অভিযান। তারাই যদি এমন করেন—তাহলে নাগরিকরা কী শিখবে?’

সড়কে ময়লা ফেলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র আতিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি আসলে কীভাবে হলো আমার নলেজে নেই। এটা অবশ্যই ঠিক হয়নি। কিন্তু পরিচ্ছন্ন রাস্তায় তারা ফের কেন ময়লা ফেললো, সেটার খোঁজ নেবো।’

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে গুম: ফিরে আসা ব্যক্তিদের থেকে কিছু জানা যায়না কেন?


প্রায় ১৫ মাস নিখোঁজ থাকার পর গতকাল নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। তবে তিনি কোথায় কি অবস্থায় ছিলেন এবং ফিরলেন কিভাবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে মারুফ জামান একা একাই তার ধানমন্ডির বাসায় ফিরে আসেন। বাড়ির ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে ওপরে নিয়ে যান। এ সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে।

মিস্টার জামানের মেয়ে গতকাল তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বাবার ফিরে আসার খবরটি নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে আর কিছু জানতে না চাওয়ার অনুরোধ করেন। এমনকি পুলিশের সঙ্গেও এখন কথা বলছেন না তারা।

পুলিশ কি বলছে?

ধানমন্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের মেয়ে আমাদেরকে জানিয়েছেন যে তার বাবা ফিরে এসেছেন। তাদের ভবনের ম্যানেজার তাকে দেখতে পেয়ে বাসার ভেতরে নিয়ে আসেন।”

মিস্টার মারুফের মেয়ে তার বাবার সঙ্গে কাউকেই এখন পর্যন্ত দেখা করতে দেননি। তাই তিনি কিভাবে ফিরেছেন, কোথা থেকে এসেছেন, কে দিয়ে গেছেন- কোন কিছুই জানা সম্ভব হয়নি।

ওসি আব্দুল লতিফ বলেন,”মারুফ জামানের খোঁজ নিতে আমার দুইজন লোক ওনার বাসায় গেলে তার মেয়ে বলেছেন যে উনি অসুস্থ। কোন কথা বলবেন না। একটু সুস্থ হওয়ার পর কথা বলবেন।”

মিস্টার জামান কিছু জানালে যদি কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে তাহলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান ওসি আব্দুল লতিফ।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের অনেক পরিবারের অভিযোগ তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সহযোগিতা পাননা।

আশার আলো দেখছেন নিখোঁজদের পরিবার:

২০১৭ সালের চৌঠা ডিসেম্বর মারুফ জামান নিজ বাড়ি থেকে বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হন।

তারও চার বছর আগে জাতীয় নির্বাচনের সময় আরো কয়েকজনের সঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিলেন সাজেদুল ইসলাম নামে বিএনপির এক সংগঠক।

গত ছয় বছর ধরে প্রিয়জনের খোঁজ না পেলেও মিস্টার জামানের ফিরে আসা নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে সাজেদুলের পরিবারে।

তবে হাইকোর্টের রুল জারি সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ভাইয়ের সন্ধানে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ জানান নিখোঁজের বোন সানজিদা ইসলাম।

“এটা আমাদের জন্য আশা যে ১৫ মাস পরে যদি মারুফ জামান ফিরে আসেন, তাহলে নিখোঁজ অন্যরাও ফিরতে পারেন।”

“আমরাও ভাইয়ের সন্ধানের দাবিতে অনেক সংবাদ সম্মেলন করেছি। মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে তারা দেখবেন। কিন্তু তারা কোন তদন্ত করেনি।”

কেন তারা নীরব?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৩১০জন গুমের শিকার হয়েছেন৷ তাদের মধ্যে ৩৩ জন ফেরত এসেছেন৷

তবে যারা ফিরে এসেছেন তাদের সঙ্গে কি ঘটেছিলো সে ব্যাপারে প্রায় কেউই মুখ খোলেননি।

রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনি কাঠামোর ওপর আস্থাহীনতা এই নীরবতার বড় কারণ বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী এবং গুম পরিস্থিতির গবেষক নূর খান।

“রাষ্ট্র বা আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর পক্ষ থেকে এমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যায়না, যার কারণে তারা ছাড়া পাচ্ছেন এবং যারা তাদের আটক করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।”

এছাড়া এতো দীর্ঘ সময় কাউকে আটক রাখা কোন দুষ্কৃতিকারী দলের পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটা কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব যারা অনেক শক্তিশালী এবং নির্দেশিত পন্থায় কাজ করে।”

এ পর্যন্ত যারা ফিরে এসেছেন তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন নূর খান।

তিনি জানান প্রত্যেকের বক্তব্যে এটাই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে তাদেরকে এমন জায়গায় রাখা হতো যেখানে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ নেই এবং আটককারীরা প্রশিক্ষিত গ্রুপের সদস্য।

তবে তারা এই কথাগুলো প্রকাশ্যে আনতে চান না, আরেকটি বিপর্যয় ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায়।গুম ঠেকাতে কি প্রয়োজন?

তবে এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ফিরে আসা প্রত্যেকের অভিজ্ঞতাগুলো সামনে আনা জরুরি বলে মনে করেন মানবাধিকার-কর্মী সুলতানা কামাল।

যেসব আশঙ্কা ও হুমকির কারণে এই মানুষগুলো মুখ খুলতে ভয় পান সেই ভয় দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর আরও জোরালো ভূমিকা নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সুলতানা কামাল বলেন, “এর আগে যারা হারিয়ে গিয়েছিলেন, পরে ফিরে এসেছেন, তাদের কাছে আমরা প্রশ্ন রেখেছিলাম, তার মধ্যে একটি উত্তর এমন ছিল যে, ছেলেমেয়ের ওপর যখন হুমকি আসে তখন মুখ খোলা কঠিন। তার মানে নিশ্চয়ই তাদেরকে এমনই কোন শর্ত দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। যার জন্য তারা মুখ খুলতে ভয় পান।”

“কিন্তু এটা আমি মনে করি তাদেরও একটা দায়িত্ব জানানো যে কি হয়েছিল না হয়েছিল। তাহলে আমরাও হয়তো এটা সুরাহা করার একটা পথ পেতাম। তাছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারাই বা এটার সুরাহা করেননা কেন?”

নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনের অভিযোগ, তারা প্রিয়জনের খোঁজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলেও এখনও কোনটির তদন্ত শুরু করা হয়নি।

এমন অবস্থায় প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।

উৎসঃ বিবিসি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here