সরকার মুক্ত মতের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযান চালাচ্ছে: এইচআরডব্লিউ

0
161

বাংলাদেশ সরকার নতুন করে মুক্ত মত প্রকাশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গতকাল বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে এ কথা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘সাধারণত ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কথা বললে বা সরকারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

যাদেরকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- মানবাধিকারকর্মী আব্দুল কাইয়ুম, বিশিষ্ট কবি হেনরী স্বপন, আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদ।

এদের তিনজনকেই তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিতর্কিত আইসিটি অ্যাক্ট বা তথ্য প্রযুক্তি আইনটি ২০১৮ সালে পাশ করা হয়।’’

আইনজীবী, কবি কিংবা মানবাধিকারকর্মীদের তাদের স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য গ্রেপ্তার করার তীব্র সমালোচনা করেছেন সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এডামস।

তিনি বাংলাদেশ সরকারকে শিগগিরই এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানান এবং মুক্ত মত প্রকাশে বাধা দেয়ার আইন পরিবর্তন করতে বলেন।

উল্লেখ্য, ১১ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় বরিশালের কবি হেনরী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খ্রিষ্টান ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এরপর ১৫ মে ঠিক একই আইনের মামলায় আইনজীবী ও লেখক ইমতিয়াজ মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিভায় প্রস্তাবিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ অনুমোদিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশে এই আইনের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। ২০১৬ সালে এই আইন প্রস্তাব হিসেবে উপস্থাপনের পর যেসব সমালোচনা হয়েছিল, বিভিন্ন বৈঠকে যেসব নেতিবাচক দিক চিহ্নিত করা হয়েছিল, সরকার কার্যত সেগুলো আমলে নেয়নি।

উৎসঃ ‌‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‌ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ


ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রত্নাই সীমান্ত থেকে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তার নাম মোহাম্মদ হানিফ (৪০)।

শুক্রবার ভোররাতে রত্নাই সীমান্তের ৩৮২ পিলার এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

মোহাম্মদ হানিফ উপজেলার রত্নাই যুগীবস্তী নয়াবাড়ি গ্রামের জয়নত উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় (আমজানখোর) ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আকালু ডোঙ্গা জানান, শুক্রবার ভোরে রত্নাই সীমান্তের ৩৮২ পিলার এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন হানিফ। এ সময় ভারতের ১৭১-সোনামতি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যান।

তবে একটি সূত্র জানায়, হানিফ ফেনসিডিল আনতে গিয়ে ধরা পড়ে।

এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও-৫০ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম সাফিউন নবী বলেন, চোরাকারবারি করতে গিয়ে ওই যুবক বিএসএফের হাতে আটক হন।

উল্লেখ্য, গত ৫ মে উপজেলার বেউরঝাড়ী সীমান্ত থেকে চড়ইগেদী গ্রামে আইন উদ্দিনের ছেলে হাবিলউদ্দিন হাবিলকে বিএসএফ আটক করে নিয়ে যায়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ভেলকি দেখলেন এবং দেখালেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী


রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) তাদের গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক তথ্যসেবা দিতে গতকাল বৃহস্পতিবার কল সেন্টার চালু করেছে। তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে কল সেন্টারের ১৬১১৬ নম্বরে ফোন করে যথাযথ তথ্য পাননি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ডিপিডিসির কল সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত পরশুও (১৪ মে) তিনি সচিবালয়ে বসে পরিচয় না জানিয়ে কল সেন্টারের নম্বরে ফোন করেছিলেন। একজন অপারেটর ফোনটি ধরলে প্রতিমন্ত্রী জানতে চান, ফতুল্লা পোস্ট অফিসের গলিতে বিদ্যুৎ নেই কেন? অপারেটর জানান, ওখানকার সুপারভাইজার মোবারক হোসেন জানিয়েছেন, সেখানে তার ছিঁড়ে গিয়েছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে আসবে। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী খোঁজ নিয়ে জেনেছেন ওই এলাকায় বিদ্যুৎও যায়নি, মোবারক নামেও সেখানে কোনো সুপারভাইজার নেই।

প্রতিমন্ত্রী এরপর তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে দিয়ে আবার কল সেন্টারে ফোন করান। জানতে চাওয়া হয়, চকবাজারে বিদ্যুৎ নেই। জবাবে বলা হয়, গ্রিডটি এইমাত্র ফেল করেছে। কিছু সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে আসবে। অথচ গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই হচ্ছে কল সেন্টারের অবস্থা। বিদ্যুৎ যায়নি, কিন্তু তারা বলে দিচ্ছে বিদ্যুৎ চলে গেছে। কিছু সময়ের মধ্যে চলে আসবে।

গতকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিপিডিসির পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রীকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কল সেন্টারের নম্বরে ফোন দিয়ে অপারেটরকে ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি শাহবাগ থেকে বলছি, আমার এখানে বিদ্যুৎ নেই।’ কল সেন্টারের অপারেটর প্রতিমন্ত্রীকে বলেন, ‘স্যার, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।’ কিছুক্ষণ পর অপারেটর জানান, কলটি তাঁরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানান্তর করছেন। কিছুক্ষণ পর অপারেটর বলেন, ‘আপনার এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।’

ফোন লাইনটি কেটে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বুঝলেন তো, এই হচ্ছে কল সেন্টারের অবস্থা।’

উৎসঃ ‌‌prothomalo

আরও পড়ুনঃ ‌রাজনীতির ভবিষ্যৎ অচলাবস্থা!


বাজেট অধিবেশন ডাকা হয়েছে। এবারের অধিবেশনে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থাকবে। অফিসিয়াল অপজিশন তো থাকবেই। বাজেট আলোচনায় সব দল অংশ নেবে। কিন্তু এতকিছুর পরেও সংসদ তার পুরনো চেনা চেহারা ফিরে পাবে না। সকল দল সংসদে থাকবে, আবার ঠিক থাকাও হবে না। রাজনীতিতে যে অস্বাভাবিকতা বিরাজমান, তার রেশ কাটবে না, চলমান থাকবে। এ সবই যেন বাংলাদেশি রাজনীতির নিয়তি। রাজনীতিবিদরা এসব নিয়ে ভাবেন না। তারা চান যেনতেনভাবে ক্ষমতায় থাকতে। এর ফলে জনগণ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। এর মধ্যেই বড় দুই দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে।

জাতীয় রাজনীতি আটকে গেছে। অনেকের মতে রাজনীতির ভবিষ্যৎই হলো একটা অচলাবস্থা। জোটগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। রাশেদ খান মেনন এবং হাসানুল হক ইনুরা মন্ত্রিসভায় না থাকায় মহাজোটের টেস্ট নষ্ট হয়ে গেছে। আবার ১৪ দল কাগজে কলমে থাকলেও তাও গতিশীল নেই। মোহাম্মদ নাসিম মাঝে মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। হয়তো মনের কষ্টে।

অবশ্য রাজনীতি সম্পর্কে একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি করেছেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা। তার কথায়, ?‘এগুলোকে প্রায় অকার্যকর করার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এটা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো অপরিহার্য। কিন্তু এটা বাস্তবে সম্ভব বলে প্রতীয়মান হয় না। ফলে এই অবস্থা থেকে বেরুতে হলে কখন কীভাবে পরিবর্তন আসবে, সেটা ভেবে আমি উদ্বিগ্ন।’ তিনি ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল সম্পর্কে মূল্যায়ন করেছেন। বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের চরিত্র অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রে দলটি এখন ক্ষমতার অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটা আত্মঘাতী, এখানে পরিবর্তন না এলে আমরা যে যেখান থেকে যত সংস্কারের কথাই বলি, কোনোদিন সংস্কার আনা যাবে না। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, প্রতিটি, বিশেষ করে দুই বড় দলে সংস্কার আনতে হবে।’ এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, এই অচলাবস্থার বৃত্ত কে ভাঙবে। ক্ষমতাসীন দলের সামনে বড় উৎসব উদ্‌যাপনের হাতছানি।

তারা এখন এমন কিছুতেই জড়াবে না, যাতে উৎসব উদ্‌যাপনের সম্ভাবনায় কোনো রকম চিড় ধরে। সুতরাং বড় কোনো সংস্কারে ক্ষমতাসীন দল যাবে না। সুশাসন ও আইনের শাসনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার। কিন্তু তা শুরু করার কোনো রকম সম্ভাবনা নেই। চার লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। জানা যায়, কোনো টাকা ফেরত আনতে কোনো প্রক্রিয়া নেই দুদক, মহাহিসাব নিরীক্ষক কিংবা অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে। টিআইবি মুখপাত্র প্রশ্ন তুলেছেন, কোকোর টাকা ফেরত আনার উদাহরণ তৈরি থাকলে সেটা অন্যদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না কেন? অবশ্য তিনি অকপটে এমনটাও বলেছেন যে, টাকা পাচারে প্রভাবশালী রাজনীতিকদের একাংশের জড়িত থাকার সম্ভাবনা প্রকট। সে কারণে দুদক ভাবে, এখানে ‘হাত দিলে হাত পুড়ে যাবে’।

পর্যবেক্ষকরা একমত বিএনপির পক্ষে এই বৃত্ত ভাঙায় কার্যকর দূরে থাক আদৌ কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ কম। অতীতে দুর্নীতি বিষয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল একটা লিপ সার্ভিস দিতো। সেটা এখন হারিয়ে গেছে। ৫ম সংসদে তৎকালীন পানিসম্পদ মন্ত্রী মাজেদুল হকের ছোটখাটো দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে সংসদীয় কমিটি হয়েছিল। দিনের পর দিন বিতর্ক হয়েছে। কয়েক শ’ পৃষ্ঠার সংসদীয় রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল। আজ সেসব স্বপ্নের মতো। জাতীয় পার্টি বা বিএনপির কথায় কোনো মন্ত্রীর দুর্নীতি বিষয়ে সংসদ দিনের পর দিন বিতর্ক করছে, সেটা আশা করা যায় না।

সংবাদ মাধ্যমের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া যেন পাল্লা দিয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাকি থাকে সিভিল সোসাইটি। তবে সবাই একবাক্যে বলবেন, এই সোসাইটির সদস্য সংগ্রহ অভিযান বহুদিন ধরেই স্থগিত। অনেকে রসিকতা করে বলেন, সিভিল সোসাইটি অলৌকিক হয়ে যাচ্ছে। ডাকসু নির্বাচনে ভিপিসহ কিছু পদে বিরোধী দলীয়দের নাটকীয় বিজয়ের পরে রাজনীতিতে একটা নতুন হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। কিন্তু তা থমকে গেছে। দেশের বাকি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে, তা কারো জানা নেই। এখানেও সেই অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

এরকম একটি অবস্থায় অচলাবস্থা ভঙ্গ করার একটা আশু সম্ভাবনা মনে করা হয়, কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। তিনি দেশে থাকেন বা বিদেশে যান, অনেকের মতে, রাজনীতিতে একটা দমবন্ধ করা পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার।

তবে তিনি প্যারোলে নাকি জামিনে বেরুবেন- এখানেই অচলাবস্থা চলছে। ইতিমধ্যে তিনি পরিত্যক্ত কারাগারে দীর্ঘ সময় পার করে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। আইনবেত্তাদের অনেকেই এমন পরিবেশে তাকে এভাবে রাখা কতোটা জেল কোডসম্মত সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে দ্বিধান্বিত। কারণ তুলনা করার মতো কোনো উদাহরণ জাতির ইতিহাসে নেই।

সর্বশেষ জানা গেছে, তাকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সেখানেই ৩৪ মামলায় তার বিচারে এজলাস বসবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এতদিনে কেরানীগঞ্জে নারী কয়েদিদের রাখার জায়গার কাজ শেষ হয়েছে। তাই খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করতে অসুবিধা নেই। আর নিরাপত্তার স্বার্থে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচারকাজ নিষ্পত্তি করতে কেরানীগঞ্জ কারাগারে বিশেষ আদালত গঠন করা হচ্ছে।

বিএনপি’র অনেকেই অবশ্য মনে করেন, দেশের সার্বিক যা পরিস্থিতি, যেখানে রাজনীতি অনুপস্থিত, গণতন্ত্রের ঘাটতি গভীরতর, সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কীভাবে কারাগার থেকে বের হবেন, সেই বিষয়ে প্রক্রিয়াগত প্রশ্ন তোলা বৃথা।

বেগম খালেদা জিয়ার দরকার আশু চিকিৎসা। মুক্ত পরিবেশে তার নিজের চিকিৎসক দিয়ে মনমতো চিকিৎসক বাছাই করে স্বাস্থ্যসেবা নেয়া। এখন সেটা তিনি করবেন জামিনে না প্যারোলে, সেটা এখন একটা কূটতর্ক। অবশ্য দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বেগম জিয়া প্যারোল না নিতে দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। তাকে অবশ্য স্মরণ করানো হয়েছে, এক এগারোতে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা প্রথমে প্যারোল নিতে চাননি। কিন্তু পরে রাজি হন।

ওয়াকিবহাল সূত্রগুলো বলেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সবশেষে বৈঠকে বিএনপি আশাবাদী হয়েছিল। সেটা মিলিয়ে যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফরকালে বিএনপির অতি উৎসাহীদের অপ্রয়োজনীয় মনে করেন সিনিয়র নেতাদের একাংশ।

গত মার্চের গোড়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন যে, প্যারোলের দরখাস্ত পেলে তারা বিবেচনা করবেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে গত বছরের ২৭শে মার্চ, ২৩শে এপ্রিল ও ৯ই সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বিএনপি নেতারা।

তার মুক্তির প্রশ্ন অমিমাংসিত রেখেই বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি লড়াইয়ে নামছে। সংরক্ষিত নারী আসনেও নাম পাঠাবে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও রাজনীতির নিকটবর্তী অচলায়তন ভাঙার প্রশ্নটি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেটি বাস্তবে ঘটলেও বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামো না বদলালে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া বিএনপি কি চায় এটা পরিষ্কার নয়। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনের আগে এবং পরে বেশকিছু অফার এসেছিল। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করেও দেখেননি। এক বাক্যে নো, নো বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এমনকি বেগম জিয়া কারাগারে যাবার আগেও প্রস্তাব পেয়েছিলেন। ২০১৪ সালের ভুল কামাল হোসেনের মাধ্যমে শোধরানোর চেষ্টা কতটা সফল হয়েছে তা সময়ই বলবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিলে আওয়ামী লীগই শক্তিশালী হবে। বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকারের প্রতি সন্তুষ্ট হবে। তিনি আরো বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরলেও তিনি ?‘আগের’ রাজনীতি করবেন না। সুতরাং প্রলম্বিত অচলাবস্থাই আপাতত নিয়তি।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌ঘুষ না দেয়ায় পৌনে ৩ লাখ টাকার ডিম রাস্তায় ফেলে দিল পুলিশ


নাটোরের বড়াইগ্রামে চাহিদামত টাকা না দেয়ায় রশি কেটে পিকআপে থাকা পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম রাস্তায় ফেলে দিয়েছে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ। এতে প্রায় সব ডিম ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের আগ্রান সুতিরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এতে ডিমের মালিক সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের মেসার্স প্রীতিমণি এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী বিপ্লব কুমার সাহার পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে একটি পিকআপ ভ্যানে ৩৫ হাজার একশ’ ডিম নিয়ে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ থেকে নাটোর যাচ্ছিল। পথে আগ্রান সূতিরপাড় এলাকায় পিকআপের চাকা পাংচার হয়ে গেলে সেটি পাশের ফিডার রোডে নেমে যায়।

খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পিকআপ উদ্ধারের জন্য রেকার ভাড়াসহ ২০ হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু চালক এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ সদস্যরা পিকআপে ডিমের খাঁচি বাঁধার রশি চাকু দিয়ে কেটে দেয়। এতে ডিমের খাঁচি রাস্তায় পড়ে অধিকাংশই ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় নারীরা রাস্তায় পড়ে থাকা ভাঙাচোরা ডিম কুড়িয়ে নিচ্ছেন। রাস্তাজুড়ে ভাঙা ডিমের হলুদ কুসুম ছড়িয়ে রয়েছে।

ট্রাকের চালক-হেলপার ভাঙা ডিম ফেলে প্লাস্টিকের খাঁচিগুলো সংগ্রহ করছেন। রাস্তায় যত্রতত্র কেটে ফেলা রশিগুলো পড়ে রয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুকুরের পাহারাদার শহীদুল ইসলাম ও আতাহার আলী জানান, চালক-হেলপার বারবার অনুরোধ করা স্বত্ত্বেও পুলিশ পিকআপের রশিগুলো কেটে দিয়েছে। রশি না কাটলে ডিমগুলো নষ্ট হতো না। পুলিশ ডিমসহ পিকআপটি রেকারে করে থানায় নিয়ে গেলে কী এমন ক্ষতি হতো?
পিক-আপের চালক সিরাজগঞ্জ সদরের মজনু মিয়া জানান, আমার গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে ফিডার রাস্তা নেমে গেলেও কোনো ডিম পড়েনি। কিন্তু পুলিশের দাবিমতো ঘুষ না দেয়ায় তারা রাগে ডিম বাঁধার রশি কেটে দেয়ায় সব ডিম রাস্তায় পড়ে গেছে।

ডিমের মালিক বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, আমি চালকের মোবাইল দিয়ে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি এবং রশি না কাটার জন্য অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শুনেনি। এতে আমার পৌনে তিন লাখ টাকার ডিম নষ্ট হয়ে গেল।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি আলিম হোসেন শিকদার রশি কেটে ডিম ফেলে দেয়ার বিষয়টি সঠিক নয় দাবি করে জানান, পিকআপটি কাত হয়ে ডিম পড়ে গেছে।

এ সময় রশিগুলোর কাটা টুকরো রাস্তায় পড়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাহলে সেগুলো রেকারের লোকেরা কাটতে পারে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌উন্নয়নের কাজে ঘুমানোর জন্য তোশকের দাম ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা!


আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ।

দেশ রূপান্তরের একটি প্রতিবেদনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের নথিপত্র ঘেঁটে অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয়ের এ হিসাব তুলে ধরা হয়।

ওই প্রতিবেদনে দেখানো হয়, এক কেজির মতো ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতেও খরচ হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা।

প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি।

কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। প্রতিটি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা করে। এ হিসাবে ৩৩০টি চাদর কিনতে খরচ হয়েছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮০ টাকা। ৩৩০টি বালিশের ক্ষেত্রেও দেখানো হয়েছে কাছাকাছি ব্যয়। কাপড় পরিষ্কারের জন্য ১১০টি ওয়াশিং মেশিনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা করে। ১১০টি টেলিভিশনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকায় এবং সেগুলো রাখার জন্য টেলিভিশন কেবিনেট কেনা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে।

সরকারি টাকায় এমন আকাশছোঁয়া দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে তৈরি হয়েছে গ্রিনসিটি আবাসন পল্লী। সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য এগারোটি ২০তলা এবং আটটি ১৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

এরইমধ্যে আটটি ২০ তলা ও একটি ১৬ তলা ভবনের নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি ২০ তলা ভবনে ১১০টি ও ১৬ তলা ভবনে ৮৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া নয়টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দরে একেকটি ইলেক্ট্রিক কেটলি কেনার পর তা ভবনে ওঠানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকায়। এছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনার নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ২০ তলা ওই ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য ৮৬ হাজার ৯৭০ টাকা দরে ১১০টি টেলিভিশন কেনা হয়েছে ৯৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকায়। টেলিভিশনগুলো ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা দরে মোট ১১০টি ফ্রিজ কিনতে খরচ হয়েছে এক কোটি ৩৬ লাখ সাড়ে সাত হাজার টাকা। সেগুলোর প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা।

একইভাবে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা দরে মোট এক কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা ১১০টি ওয়াশিং মেশিন ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকা দরে কেনা মাইক্রোওয়েভ ওভেন ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে। প্রতিটি কেটলি ৫ হাজার ৩১৩ টাকা দরে কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা করে। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রব কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি মেট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট এক কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে।

৫ হাজার ৯৫৭ টাকা দরে এক হাজার ৩২০টি বালিশ কেনার পর তার প্রত্যেকটি ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৩৩০টি বিছানার চাদরের প্রত্যেকটি ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা দরে কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। এক লাখ ৯৪ হাজার ৬৬৯ টাকা ব্যয়ে কেনা একটি কনফারেন্স টেবিল ভবনে ওঠাতে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯১০ টাকা। এর একেকটি চেয়ার ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। ৪৫ হাজার ৭৯১ টাকা দরে কেনা মিনি কেবিনেটের প্রত্যেকটি ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৭ হাজার ৭৫২ টাকা। ৩৩০টি বেডসাইট টেবিলের প্রত্যেকটি কিনতে খরচ করা হয়েছে ১১ হাজার ৭৫৬ টাকা। আর প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৫০১ টাকা।

এছাড়া, ৩৫ হাজার ৭৫৭ টাকা করে ৩৩০টি ড্রেসিং টেবিল কিনে প্রতিটি ভবনে ওঠাতে আট হাজার ৯১১ টাকা করে ব্যয় করা হয়েছে। আয়রন টেবিল ২০ হাজার ৪৫৮ টাকা দরে কিনে প্রতিটি ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ টাকা। ৮ হাজার ৩১৩ টাকা দরে মিনি সেন্টার টেবিল কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ১৪ টাকা করে। এছাড়া ৪০ হাজার ৮৯৩ টাকা দরে ডিভাইন কিনে প্রতিটি ফ্ল্যাটে তুলতে পাঁচ হাজার ৩৯৬ টাকা করে ব্যয় দেখানো হয়েছে। সব মিলে ২০ তলা ওই ভবনটির আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

তবে দেশরূপান্তরের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই এসব কেনাকাটা করা হয়েছে।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিধিবিধান মেনেই কাজ করে থাকি। এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাই খোঁজখবর না নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘এ ধরনের একটি বিষয় আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর দরদাম ও অন্যান্য বিষয়াদি দেখার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তারা কী করেছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’

উৎসঃ ‌‌দেশরূপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পয়সায় আইন-আদালত কেনা যায়, তবে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: নাসিমকে আলাল


আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, ‘পয়সা হলে যদি আইন-আদালত সবকিছু কিনে ফেলা যায় তবে আপনারা সরকারে আছেন কেন? ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিন।’

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা আকরাম খাঁ হলে জাতীয়তাবাদী কৃষকদল-এর উদ্যোগে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপল‌ক্ষে কৃষক দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নাসিমকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে গতকাল বুধবার প্রেসক্লাবে দেয়া এক বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, ‘এদেশে পয়সা দিয়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী কেনা যায়। এমন কি আইনজীবী, আদালত পর্যন্ত কিনে ফেলা যায়। যেহেতু টাকার বিনিময়ে অনেক কিছুই কিনে ফেলা যায় তাই বলতে চাই, ধর্ষণের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনাল করে দ্রুত বিচার করুন। তাহলে দেখবেন এইসব অপরাধ কমে গেছে। কারণ এইসব অপরাধীরা বিএনপি-জামাতের চেয়েও ভয়ঙ্কর।’

আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান নেতার এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘উনার (নাসিম) বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়- বর্তমানে দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা কতটা নাজুক। ঢাকাইয়া ভাষায় বলতে হয়- গণতন্ত্র পড়েছে মাইনকা চিপায়। এই মাইনকা চিপা হতে আমরা কেউ বেরোতে পারছি না।’

আলাল বলেন, ‘বর্তমান সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা যখন যা খুশি বলছেন। উল্টাপাল্টা কথা বলে মানুষকে বিনোদন দিচ্ছেন। সরকারের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন হাতিরঝিলের উপর দিয়ে যাই মনে হয় প্যারিস দিয়ে যাচ্ছি। আরেক মন্ত্রীর কাছে কুড়িল ফ্লাইওভার দিয়ে যাওয়ার সময় নাকি লসঅ্যাঞ্জেলসের কথা মনে হয়। রানা প্লাজা ধসে পড়লে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা বলেন এটা নাকি বিএনপি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। আমরা নই শুধু, গোটা দেশ জাতি এখন এই অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদুর সভাপতিত্বে এবং কৃষক দলের সদস্য এসকে সাদীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নু, কৃষকদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মাদ জসিম, নাজিম উদ্দীন মাস্টার, জামাল উদ্দীন খান মিলন, সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌জামায়াত নয়, বেঈমানির জন্য জাফরুল্লাহর ক্ষমা চাওয়া উচিত


গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা, কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও বিএনপির পরামর্শক হিসেবে পরিচিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে নিয়ে এর আগে অ্যানালাইসিস বিডিতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জাফরুল্লাহ চৌধুরী যে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর বাংলাদেশি এজেন্ট এটাও তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করার জন্য জাফরুল্লাহ চৌধুরী দুই বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে, জাফরুল্লাহ চৌধুরী একাধিকবার খালেদা জিয়াকে বলেছেন-জোট থেকে জামায়াতকে বের করে দেয়ার জন্য। কিন্তু খালেদা জিয়াকে তিনি কোনোভাবেই ম্যানেজ করতে পারেন নি।

এরপর কথিত দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তিনি তার মুক্তির জন্য রাস্তা-ঘাটে মায়া কান্না করছেন। তলে তলে ড. কামালকে নিয়ে কথিত ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গণআন্দোলনের কথা বলে জাফরুল্লাহ বিএনপিকে এই কথিত ঐক্যফ্রন্টে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে কোনো দাবি আদায় না করেই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। শুধু নির্বাচনে নয়, এক পর্যায়ে তারা ভোট ডাকাতির অবৈধ সংসদেও যেতে বিএনপিকে বাধ্য করে। এই জাফরুল্লাহকে দিয়েই ভারত ও আওয়ামী লীগ তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।

তবে, ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত থেকে জাফরুল্লাহরা এখনো বিরত থাকেনি। আওয়ামী লীগের মতো জাফরুল্লাহও কথিত যুদ্ধাপরাধের ইস্যুতে জামায়াতকে কোনঠাসা করার চেষ্টায় লিপ্ত আছেন। বুধবার এলডিবির একটি অনুষ্ঠানে জাফরুল্লাহ বলেছেন- জামায়াত যদি সত্যিকার অর্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় তাহলে জাতির কাছে তাদেরকে ক্ষমা চাইতে হবে।

এখন প্রশ্ন হলো- খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে জামায়াতের ক্ষমা চাওয়ার সম্পর্ক কি? খালেদা জিয়া কারাবন্দি হয়েছেন মাত্র এক বছর হলো। আর জামায়াতের সঙ্গে জোট করে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন প্রায় ২০ বছর ধরে।

দেখা গেছে, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই ২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার জন্য সরকার শুধু জামায়াতের ওপরই জুলুম-নির্যাতন করেনি।শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ নেতারা জামায়াত ছাড়ার জন্য খালেদা জিয়াকেও সভা-সমাবেশে অশালীন ভাষায় গালি দিচ্ছে। নিজেরা ব্যর্থ হয়ে এক পর্যায়ে সরকার আন্তর্জাতিক মহলকে দিয়েও জামায়াত ছাড়ার জন্য খালেদা জিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

কিন্তু খালেদা জিয়া কারো চাপের মুখেই তিনি জামায়াতকে জোট্ থেকে বাদ দেয়ার চিন্তা করেনি নি। দেখা গেছে, জোট ভাঙ্গার জন্য সরকার যত বেশি চাপ দিয়েছে, জামায়াতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্পর্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএনপির অন্যান্য নেতারা বিষয়টি না বুঝলেও খালেদা জিয়া ঠিকই বুঝতেন যে, কথিত যুদ্ধাপরাদের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে জোট থেকে বের করতে চাচ্ছে। কারণ, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামীলীগ-জামায়াত জোট হয়ে আন্দোলন করেছে তখন জামায়াত যুদ্ধাপরাধী ছিল না। এখন বিএনপির সঙ্গে জোট করার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধী হয়ে গেছে। এজন্য দেশি-বিদেশি চাপ থাকার পরও খালেদা জিয়া জামায়াতকে ছাড়েননি।

আর বিগত ২০ বছরে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে খালেদা জিয়া এমন কিছু পায়নি যা বিশ্বাসঘাতকতার পর্যায়ে পড়ে। এমনকি কোনো কোনো সময় দলের নেতাকর্মীদের চেয়ে খালেদা জিয়া জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর বেশি আস্থা রাখতেন। এসবের যথেষ্ট প্রমাণও আছে। ২০১৩ সালে একটি হরতাল সফল করতে ছাত্রদলকে বাদ দিয়ে শিবিরের সভাপতি-সেক্রেটারি সঙ্গে রাতে খালেদা জিয়া গোপনে একটি বৈঠক করেছিল এমন তথ্যও আছে। বিগত দিনগুলোতে খালেদা জিয়া একদিনও জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে বলেননি।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করেন, জাতির কাছে ক্ষমা যদি চাইতে হয় তাহলে বেইমানির জন্য জাফরুল্লাহকে চাইতে হবে। কারণ, জাফরুল্লাহ গোটা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে। কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে জাফরুল্লাহ সরকারের এজেন্ট হয়ে কাজ করেছে। কথা ছিল-খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি না মানলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু, দাবি মানা ছাড়াই জাফরুল্লাহরা কৌশলে বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়েছে। এরপর অবৈধ সংসদকে বৈধতা দিতে তারা বিএনপিকে সংসদেও নিয়েছে।

জাফরুল্লাহ এখানেই থেমে থাকেনি। এখন তিনি বিএনপি থেকে খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকেও বাদ দেয়ার চেষ্টা করছেন। এনিয়ে তিনি বিভিন্ন টকশোতে একাধিকবার প্রকাশ্যে বক্তব্যও দিয়েছেন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য যে জাফরুল্লাহ সরকারের এজেন্ট হয়ে কাজ করছেন এটা এখন প্রমাণিত। সুতরাং, জামায়াত নয়, বেইমানির জন্য জাফরুল্লাহকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে: জুনাইদ বাবুনগরী


দাড়ি রাখা, টাখনুর ওপর কাপড় পরা ‘জঙ্গি লক্ষণ’ বলে প্রচারিত ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনের বিজ্ঞাপনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী।

গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ দেশের কোটি কোটি মানুষ টাখনুর ওপরে পোশাক পরেন এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ আল্লাহর রাসুলকে ভালোবেসে তার সুন্নাতের অনুসরণ করে মুখে দাড়ি রাখেন।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অসৎ উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.)-এর সুন্নত ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান দাড়ি রাখা ও টাখনুর ওপর কাপড় পরিধান করাকে জঙ্গিপনার লক্ষণ বলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী আরও বলেন, কথিত জঙ্গি ইন্ডিকেটর বিষয়ে তাদের হিংসাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি, আক্রমণাত্মক বয়ান ও বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের ধরন দেখে সহজেই বোঝা যায় রাসুলের সুন্নত দাড়ি ও ইসলামের বিধান টাখনুর ওপর কাপড় পরিধানকে তারা জেনে-বুঝেই আক্রমণ করেছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে যত সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যত রকমের কথিত জঙ্গি গ্রেফতার বা নিহত হয়েছে, তারা সবাই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া। সুন্নতে রাসুলের পরিপূর্ণ অনুসারী কোনো আলেম বা ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। পীযূষরা বাংলাদেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে নাস্তিকবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামক সংগঠনের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিজ্ঞাপন প্রচার করে ইসলাম ও মুসলমানের হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।

আল্লামা বাবুনগরী অবিলম্বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার কারণে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রংপুরে সড়কে ধান ছিটিয়ে কৃষকের প্রতিবাদ


ধানের ন্যায্যমূল্য দাবিতে এবার রংপুরে মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ করেছেন কৃষকরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রংপুর নগরের মাহীগঞ্জ সাতমাথা এলাকায় রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।এসময় তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সরকারি উদ্যোগে হাটে হাটে ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে নেয়ার দাবি জানান। কৃষক সংগ্রাম পরিষদ নামে একটি সংগঠন এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ সময় কৃষকরা মহাসড়কে ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশে আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার সভাপতিত্ব করেন।

কৃষকরা দু:খ করে বলেন, এক বিঘা ধান উৎপাদনে খরচ পড়ছে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর ধানের দাম করে যাওয়া বিঘাপ্রতি উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬-৭ হাজার টাকা। এতে করে প্রতি বিঘায় ধান উৎপাদনে লোকসান প্রায় তিন হাজার টাকা। এতে করে কৃষকদের দুর্ষিসহ অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, এক মণ ধানের দামে ধান কাটার একজন শ্রমিককে কাজে নিতে হয়। শ্রমিকের চড়া মজুরির কারণে জমি থেকে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক। ধার-দেনা করে কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে।

এর আগে ব্যুরো ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন দিয়ে প্রতিবাদ জানান কৃষকরা। টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এই প্রতিবাদ জানান চাষীরা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌গণতন্ত্র এখন মাইনকার চিপায়: মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল


দেশের গণতন্ত্র মাইনকার চিপায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেছেন, আমাদের দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে ঢাকার ভাষায় বলতে হয়, গণতন্ত্র এখন মাইনকার চিপায় পড়ছে। আমরা এই মাইনকা চিপা থেকে বের হতে পারছি না।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ। ব্যাংকিংব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি আশঙ্কা করছি, এবার ঈদে ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহক বড় ধরনের কোনো চেক জমা দিলে টাকা পাবেন না। তাদের দু-তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হবে। আর সেই দু-তিন দিনে হয়তো ঈদও পার হয়ে যাবে। শুনতে খারাপ লাগলেও আমাদের ব্যাংকিংব্যবস্থা এখন এই স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আপনি আওয়ামী লীগের একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। আপনি বলছেন, টাকা হলে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেনা যায়। আইন-আদালত সব কেনা যায়। তা হলে আমার প্রশ্ন- আপনারা সরকারে আছেন কেন? ব্যর্থতার দায় নিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।

মন্ত্রী ও সাবেক মন্ত্রীদের সমালোচনা করে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই সরকারের মন্ত্রীরা সবসময় উল্টোপাল্টা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিনোদন দেন। রানা প্লাজা ধসেপড়ার পর এই সরকারের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (মহীউদ্দীন খান আলমগীর) বলেছিলেন- বিএনপির নেতাকর্মীরা রানা প্লাজার পিলার ধরে ধাক্কা দেয়ায় রানা প্লাজা ধসে পড়েছে। এখন নাসিম সাহেব বলছেন- টাকায় সব কেনা যায়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন তারা

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না।

এর পরেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বেশ কয়েকজন বিবাহিত নেতাকর্মী যে কারণে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, বিবাহিত হয়েও অনেককে পদ দিয়েছেন শোভন-রাব্বানী।

এজন্য পদ পাওয়া ওইসব নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

প্রমাণ হিসাবে পদবঞ্চিত যাদের নাম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতি পদ পাওয়া সোহানী তিথি, সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপসম্পাদক পদ পাওয়া আফরিন সুলতানা লাবণী, উপসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ পাওয়া রুশী চৌধুরী, সহসম্পাদক পদ পাওয়া আনজুমান আরা আনু ও সামিহা সরকার সুইটি।

এরা সবাই বিবাহিত বলে জানান তারা।

এছাড়াও সহসভাপতি ইশাত কাসফিয়া ইরাও বিবাহিত বলে অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।

গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারাকে লঙ্ঘন করে এসব নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা ফেসবুকে লেখেছেন, নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।

সোমবার বিকালে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন ৬১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক সব সম্পাদক এবং সহ সম্পাদক ও উপসম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগ ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।

তবে কমিটির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় দু দফায় দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডাকসুর তিন নেতাসহ অন্তত ৮জন আহত হয়েছেন।

হামলায় আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সদস্য ও ডাকসুর বর্তমান সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, কবি সুফিয়া কামাল হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর আরেক সদস্য ফরিদা পারভীন, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তারসহ কয়েকজন।

উৎসঃ ‌‌যুগাতর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করল ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা


ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৩ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাঁড়ছেন ছাত্রলীগের অনেকে। এ তালিকায় বাদ যাচ্ছেন না নারী নেত্রীরাও। বর্তমান সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

এক নেত্রী লিখেছেন, সাজুগুজু করে প্রোগ্রামে যেতে পারেননি বলে শোভন তাকে পদ দেননি। আরেকজন লিখেছেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।’

কমিটি ঘোষণার কিছুক্ষণ পর জেরিন দিয়া নামে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এক সদস্য ফেসবুকে লেখেন, ‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী ভাই আপনাদের মধুভর্তি মেয়ে লাগে। বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কী রে চেহারা সুন্দর আছে; তো সেজেগুজে আসতে পারো না!
আমি সেজেগুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটিতে রাখলেন না??
আপনারা যেসব মেয়েকে কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন?? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!!!
আর গোলাম রাব্বানী ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো এনএসআই রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই?????? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন?????
অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।
এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না; মানবো না…
আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা লেখেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।
অভিনন্দন গোলাম রাব্বানী ভাই ও শোভন ভাই, হিসাব আছে, অনেক হিসাব, চলেন মিলাই।’


উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌‘সেজে গুজে আসিনি বলে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখলেন না?’: সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

সেজে গুজে আসেনি বলে কমিটিতে রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া। নতুন কমিটিতে পদ না পেয়ে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই নেত্রী।

তিনি লিখেছেন, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

সংবাদ প্রকাশের কিছুক্ষন আগে তার এই পোস্টটি সরানো হয়েছে

নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে আজ সন্ধ্যায় তার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেয় জেরিন দিয়া। সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

আমি সেজে গুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটি তে রাখলেন না?

আপনারা যেসব মেয়েদের কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!

আর গোলাম রাব্বানি ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো NSI রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই ??? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন???

অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে ।

এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না ; মানবো ন…

আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here