মোদির ভারতে আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না মুসলমানদের

0
136

শুক্রবার দেড়টার পর, সারাই আলাওর্দী মসজিদের বাইরের লাউডস্পিকার হঠাৎ বেজে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে হাজারেরও বেশি মুসল্লি মাটিতে সিজদায় পড়ে গেলেন। তাদের ঘিরে উঁচু উঁচু ভবনগুলো আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে।

বলা হচ্ছে ভারতের গুরুগ্রামের কথা। দক্ষিণ দিল্লির ওই উপগ্রহের শহরটিকে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ঘর বলে আখ্যায়িত করা হয়। হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের ভূমিধ্বস বিজয় ঘোষণার পর জামায়াতে হাজির হওয়াদের অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যান।-খবর গার্ডিয়ানের

তাদের প্রশ্ন, নরেন্দ্র মোদির নতুন ভারতে কি তাদের কোনো জায়গা হবে? স্থানীয় মুসলমানদের একটি সংস্থার প্রধান হাজি শেহজাদ খান বলেন, এই জায়গাটা এখন আর আমাদের জন্য নিরাপদ না।

মসজিদের পাশেই একটি খোলা মাঠে তিনি বসে ছিলেন। তার মতো বহু মুসলমানের জন্য মোদির এই বিপুল বিজয় একটি বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা। পৃথিবীর সপ্তম বৃহৎ দেশটিতে ২০ কোটির বেশি মুসলমান বসবাস করেন।

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের প্রচার ছিল দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে তিক্ততায় পূর্ণ। এতে প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অস্বীকৃত অভিবাসীদের কথা উল্লেখ করে তাদের ঘূণপোকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

এমন এক হিন্দু সন্ন্যাসিনীকে নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে, পরবর্তীতে তিনি বিজয়ীও হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে মসজিদে হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। যিনি মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীকে দেশপ্রেমিক বলে আখ্যায়িত করেন।

এসব সত্ত্বেও কিংবা সম্ভবত এসবের কারণে রেকর্ডসংখ্যক ২৭ কোটি ভারতীয় তাদের ভোট ভারতীয় জনতা পার্টি বা দলটির মিত্রদের দিয়েছে।

ভারতে মুসলমান শিশু বৃদ্ধি নিয়ে বই লিখেছেন নাজিয়া ইরুম। তিনি বলেন, আমরা সত্যিকারভাবে বিশ্বাস করি, এটা প্রত্যাঘাত হয়ে ফিরে আসবে।

‘আমাদের বিশ্বাস, ২০১৪ সালে মোদির উন্নয়ন এজেন্ডার কারণে তার পক্ষে প্রচুর ভোট পড়েছে। সেগুলোর কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, লোকজন এখন তা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন। এতে মানুষের চোখ খুলে যাবে। লোকজন নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন।’

হিন্দু-মুসলমানদের বিবাদ এবং দুই ধর্মের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ভারতীয়দের ভবিষ্যৎ জীবনেও টেকসই হয়ে রয়ে যাচ্ছে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়ে গেছে।

গোরক্ষাকারীরা এ পর্যন্ত ৩৬ জনকে হত্যা করেছেন। তাদের পবিত্র প্রাণীর ক্ষতির মিথ্যা অজুহাত দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

অবকাঠামো নির্মাণ খাত ও কারখানায় কাজ করতে হিন্দুদের মতো কয়েক হাজার অভিবাসী মুসলমানও গুরুগ্রামে গত কয়েক বছরে এসেছেন। এখন সেখানে উত্তেজনা চরমে।

খোলা আকাশের নিচে মুসলমানদের নামাজ আদায় নিয়েও সাম্প্রতিক নির্বাচন ব্যাপক তিক্ত প্রচারের মধ্য দিয়ে গেছে। বসতবাড়ি থেকে মসজিদ বহু দূরে কিংবা মসজিদে জায়গা না ধরায় মুসলমানরা বাইরে নামাজ পড়তে বাধ্য হন।

হিন্দু সংগঠনগুলোর প্রতিবাদের মুখে নামাজের জায়গা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। শেহজাদ খান বলেন, তারা আমাদের নামাজ পড়তে দেয় না।

স্থানীয় মসজিদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন হিন্দুত্ববাদী একটি গোষ্ঠীর প্রধান রাজিব মিত্তাল। তার প্রচার পৌরসভা পরিকল্পনা আইনের বাইরে নয় বলে তিনি জোর দিয়েছেন। রাজিব মিত্তাল বলেন, আমরা মানুষের প্রার্থনার বিরোধিতা করি না। কিন্তু এটা কেবল মসজিদ কিংবা যে স্থানটি তাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, সেখানে করা উচিত।

পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে বিজেপি বলছে, নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রীতে এখন পর্যন্ত কোনো দাঙ্গা হয়নি। দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে এমন কোনো অপরাধের প্রবণতা দেখানো হয়নি। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, তাদের এ তথ্য সামঞ্জস্যহীন ও অনির্ভরযোগ্য।

সমালোচকরা বলছেন, মোদির শাসন উগ্রপন্থীদের শক্তিশালী করছে। দেশটিতে একটা অন্ধ ধর্মপ্রেমের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া দায়মুক্তির কারণে সেটা আরও বিকশিত হতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়চের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, দাঙ্গার চেয়েও আরও বড় সংকট হচ্ছে মুসলমানদের নিয়ে নানা সময় বিরূপ মন্তব্য ছোড়া।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে একজন মুসলমান সবজি বিক্রেতাকে মারধর করা হয়েছে। এমন সময় এই ঘটনা ঘটেছে, যখন মুসলমান পরিবারগুলো বলছে, তারা লাঞ্চবক্স বহন করতে ভয় পান। কারণ তারা জানেন না, কখন তাদের বিরুদ্ধে গরুর গোশত বহনের অভিযোগ তোলা হবে।

‘মুসলমানদের কণ্ঠ অবদমিত রাখতে চাপ প্রয়োগের অধিকার আছে বলে ভারতীয়দের মধ্যে ধারনা তৈরি হয়েছে। এটা তারা অনেকটা সহিংসভাবে করেন। সে ক্ষেত্রে মুসলমানদের রক্ষায় রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে কিংবা সুরক্ষা দেবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

মোদির সমর্থক ও বিরোধীরা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে তার বিজয় বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসিতপূর্ণ দেশটিতে একটি মতাদর্শিক পরিবর্তনকে আরও জোরদার করবে।

অধিকাংশ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্ব্তিাপূর্ণ রূপকল্পের মধ্যের একটি পছন্দ। কিন্তু কংগ্রেস এমপি শশী থারুরের ভাষায় চলতি বছরের নির্বাচন ছিল, ভারতের চেতনার জন্য একটি লড়াই।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ভারতে মুসলিমকে কান ধরিয়ে ওঠবস করিয়ে বলানো হলো ‘জয় শ্রীরাম’


প্রতিবেশী দেশ ভারতে একের পর এক সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ বেড়েই চলেছে। গরুর মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষের পর এবার মুসলিমকে কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর ঘটনা ঘটেছে।

সম্প্রতি টুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার হওয়ার পর থেকে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক বাঙালি মুসলামানকে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছে। বলতে বলা হচ্ছে, জয় শ্রীরাম। শুধু তাই নয়, তাকে বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম যেন মুখে নেওয়া না হয়। এছাড়া কোনো তৃণমূল নেতার সঙ্গে তাকে যেন আর কোথাও দেখা না যায়।

বাস্তবে ভারতের বেশিরভাগ রাজ্যজুড়ে চলছে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের সুর। কোথাও ফেজ টুপি পরার জন্য মুসলিম ব্যক্তিকে মারধর, আবার কোথাও গরুর মাংস বিক্রয় কিংবা খাওয়ার জন্য দেওয়া হচ্ছে শাস্তি। এমনকি এ ধরনের অত্যাচার থেকে বাদ যাচ্ছে না মুসলিম নারীরাও।

এর আগে বেশিরভাগ ঘটনা ভারতের হিন্দু অধ্যুষিত রাজ্যে ঘটলেও এবার মুসলিম অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গের ঘটে যাওয়ায় রাজ্যজুড়ে নিন্দার জড় উঠেছে।

ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটলো যখন দ্বিতীয় মেয়াদে লোকসভা নির্বাচনে কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের শক্ত অবস্থান দাঁড় করিয়েছে। তার আগেই এ ধরনের ঘটনায় বিজেপির ওপর চাপা ক্ষোভ তৈরি হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এদিকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেই নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ, সব কা বিশ্বাস।’ অর্থাৎ জাত, ধর্ম নির্বিশেষে তিনি সকলের সঙ্গে, সকলের বিকাশের জন্যে এবং সকলের বিশ্বাস অর্জনে কাজ করে যাবেন।

উৎসঃ ‌‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ‌স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া শান্তি চুক্তি নয়


একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া যে কোনো শানি্তচুক্তি প্রত্যাখ্যান করবে তুরস্ক ও জর্ডান।

বুধবার সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বৈঠকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু এমন হুশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় কোনো ধরণের প্রচষ্টোই দেখছে না তুরস্ক। জার্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদষ্টো জারেড কুশনারের সঙ্গে এদিন বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করতে দেশটিতে যান কুশনার। এদিনই তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। খবর এএফপি ও আনাদোলু এজেন্সির।

মেভলুত কাভুসোগলু বলেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধ শক্তি গড়ে তোলা ও ওআইসি’র সমন্বিত প্রচষ্টো অত্যন্ত প্রয়োজন।

এটি এমন একটি দায়িত্ব, যা প্রথমে আমাদের সামরিক বাহিনীর ওপর বর্তায়। জেরুজালেম রক্ষায় ওআইসি’র সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আবারও অঙ্গীকার করতে হবে।

এর সম্মানহানির ব্যাপারে অন্যদের সাবধান হতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া কোনো শান্তিচুক্তি ওআইসি’র সদস্য রাষ্ট্রগুলো মেনে নেবে না বলে আমরা বিশ্বাস করি।

জর্ডান জানায়, ইসরাইল- ফিলিস্তিন শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে বুধবার দেশটি সফর করেন ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। দেশটির বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

জেরুজালেম বা আল কুদসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আবদুল্লাহ। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ছাড়া এ অঞ্চলে কোনোভাবে স্থায়ী ও টেকসই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেন, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগের সীমানা নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। তিনি জেরুজালেমকে নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে জর্ডানের রাজার এ আহ্বান আমেরিকার কাছে নিতান্তই গুরুত্বহীন।

জেরুজালেম শহরে অবস্থিত বায়তুল আকসা মসজিদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন জর্ডানের রাজা।

এদিনের বৈঠকে তিনি কথিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি দুই রাষ্ট্রকেন্দ্রিক সমাধানের ওপর ভিত্তি করে পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে দু’পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়েও আলোচনা করে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে কুশনারের। তাদের বৈঠকের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ


বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, যখন যাকে খুশি আটক, পুলিশ ও সেনা হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন-নিপীড়ন। রাতের আঁধারের আড়ালে খুন-গুম।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ফের ঢালাও অভিযান চালাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। তাদের এসব কর্মকাণ্ড মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের সব লক্ষণ বহন করছে।

বুধবার এক রিপোর্টে এসব কথা বলেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। খবর এএফপি ও সাউথ এশিয়া মনিটরের।

রিপোর্টের তথ্য মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাজার হাজার সেনা ও ভারি অস্ত্রসজ্জিত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এসব সেনাই রাখাইনজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।

এদিকে সেনাবাহিনীতে এখনও কাজ করছে কালো তালিকাভুক্ত অস্ত্র বিশেষজ্ঞ লে. জেনারেল থিন।

প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়ে আসছিল মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ২০১৭ সালের আগস্টে প্রথম বড় ধরনের অভিযান চালায়।

পরিকল্পিত ওই অভিযানে শিশু ও নারীসহ ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়। গণহত্যার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে যায় প্রায় ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

অ্যামনেস্টির রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিদ্রোহী গোষ্ঠী দমনের নামে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফের অভিযান জোরদার করে তাতমাদোর সেনারা।

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, তাদের হাতে রাখাইনে সেনাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীও সম্প্রতি স্বীকার করেছে, গত মাসে কিউকতান গ্রামে ছয় রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছে বাহিনীর সদস্যরা।

কিন্তু অ্যামনেস্টি তাদের তথ্য-উপাত্তে দেখিয়েছে, কয়েক মাসে বেআইনি অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৪ জনকে হত্যা ও আরও অনেককেই হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে।

এর বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ড বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব দেয়নি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

এদিকে মিয়ানমারের ‘বৌদ্ধ বিন লাদেন’ খ্যাত চরমপন্থী ভিক্ষু আশ্বিন উইরাথুকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি হয়েছে।

দেশটির এক সময়ের গণতন্ত্রী নেত্রী ও বর্তমানে সরকারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চিকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের জেরে মুসলিমবিদ্বেষী এ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে মিয়ানমার পুলিশ। উইরাথুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মিয়ানমার পুলিশের মুখপাত্র মিও থু সোয়ে বলেছেন, ‘মিয়ানমারের প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের পশ্চিমের একটি জেলার আদালত মঙ্গলবার আশ্বিন উইরাথুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।’

তবে সু চির ব্যাপারে ঠিক কি মন্তব্য করা হয়েছে জানাননি এই কর্মকর্তা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মিয়ানমারের মুসলিম বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ইসলাম বিদ্বেষ ও সহিংসতা উসকে দিয়েছেন উইরাথু। চরমপন্থী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সামনের সারির নেতা তিনি।

সু চির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন বেসামরিক সরকারের সমালোচক এই বৌদ্ধ ভিক্ষু। তবে দেশটির শক্তিশালী সামরিক সরকারের সমর্থক ছিলেন তিনি।

২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে গণহত্যা চালানো হয় তারও প্রেক্ষাপট তৈরিতে বড় ভূমিকা ছিল উইরাথুর।

সম্প্রতি এক সমাবেশে উগ্রপন্থী এই বৌদ্ধ ভিক্ষু দেশটির সরকারের দুর্নীতি এবং সংবিধান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা হ্রাস পাবে।

উইরাথুর মিত্র থু সেইত্তা বলেন, ‘তাকে হয়রানির উদ্দেশে রাষ্ট্রদ্রোহের এই অভিযোগ আনা হয়েছে।’ পুলিশের ওই মুখপাত্র বলেছেন, উইরাথুর ঘাঁটি মান্দালয় শহরের পুলিশের তার গ্রেফতারি পরোয়ানার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যেকোনো তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

২০০৩ সালে তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০১০ সালে অন্যান্য রাজবন্দির সঙ্গে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। সরকার নিয়ম শিথিল করার পর তিনি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

তিনি ইউটিউব এবং ফেসবুকে নানা ধরনের বক্তব্য ছড়াতে থাকেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার ৩৭ হাজারের বেশি ফলোয়ার ছিল।

সামরিক শাসনের বাইরে এসে মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক যাত্রা ২০১১ সালে শুরু হয়। ওই সময় থেকে দেশটির রাজনীতিতে উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উত্থান ঘটতে থাকে দেশটির উগ্র বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদী আলোচিত এই ভিক্ষুর।

২০০১ সালে তিনি মুসলিমবিরোধী এবং জাতীয়তাবাদী একটি গ্রুপ গঠন করেন, যার নাম ছিল ৯৬৯ গ্রুপ। এ সংগঠনটিকে উগ্রপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও উগ্রপন্থার বিষয়টি উইরাথুর সমর্থকরা বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নারী পুলিশের হিজাবকে অফিসিয়াল মর্যাদা দিল স্কটল্যান্ড


বিভিন্ন দেশে যখন হিজাবের ওপর একে একে নিষেধাজ্ঞা নেমে আসছে, ঠিক এমন সময় ইউরোপের দেশ স্কটল্যান্ড হিজাবকে নারী পুলিশের আনুষ্ঠানিক ইউনিফর্ম হিসেবে ঘোষণা করেছে। খবর সিয়সাত ডেইলির।

দেশটির পুলিশ বাহিনীতে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য হিজাবকে অফিসিয়াল ইউনিফর্মের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে মুসলিম নারীরা কর্তব্যরত অবস্থায় হিজাব ব্যবহার করতে পারবেন ইউনিফর্ম হিসেবে।

এতে করে মুসলিম নারীদের মধ্যে পুলিশে যোগদানের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

দেশটির পুলিশ বলছে, এতে করে নারীরা উৎসাহিত হবে। স্কটিশ পুলিশ মুসলিম অ্যাসোশিয়েশন (এসপিএমএ) এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এটিকে তারা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন।

এমন পদক্ষেপে দেশটির ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করতে উৎসাহী হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আল আকসা অভিমুখে মার্চ করার ডাক খতিব ইকরিমার


পবিত্র মসজিদ আল আকসায় ইসরাইলি বাহিনীর দমন নিপীড়নের প্রতিবাদে আল আকসা অভিমুখে মার্চ করার জন্য ফিলিস্তিনবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদটির অন্যতম খতিব শায়েখ ইকরিমা সাবরী।

ফিলিস্তিনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল কুদস এ খবর জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনবাসীকে আল আকসায় এসে আগামীকালের জুমার নামাজ পড়ার আহবান জানিয়ে শায়খ ইকরিমা সাবরী বলেন, আপনারা আল আকসায় এসে নামাজ পড়ুন,যদি ইসরাইলি সৈন্যরা বাধা দেয় তাহলে সেখানেই নামাজে দাঁড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, আল আকসায় এসে নামাজ আদায় করা ফিলিস্তিনি জনগণের ধর্মীয় দায়িত্ব।

শায়খ ইকরিমা সাবরী বলেন,যদি কেউ মসজিদে আসার সময় দখলদার সৈন্যবাহিনী কর্তৃক বাধার সম্মুখীন হয়, সে যেন সেখানেই নামাজে দাঁড়িয়ে যায়। তিনি বলেন,বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার স্থানে নামাজ পড়লেও আল আকসায় নামাজ পড়ার সাওয়াব পাওয়া যাবে। আর এজন্য পবিত্র এই মসজিদে নামাজ আদায় করার উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনিদের মার্চ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আগামীকাল রমজানের শেষ জুমা এবং লাইলাতুল কদরকে কেন্দ্র করে অন্ততপক্ষে ১০ লাখ মুসল্লি সমাগমের আশা করছে আল আকসা কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে তারা ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াত অব্যাহত রেখেছে। উদ্দেশ্য ইহুদীদের কবজা থেকে আল আকসাকে মুক্ত করা এবং আল আকসাকে ভাগ হওয়া থেকে রক্ষা করা।

এর আগে আল আকসায় মুসল্লিদের ওপর দখলদার ইহুদিবাদী পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ মালিকি।

রমজানে ইহুদিদের নিপীড়ন আরও বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের মারধর, জোর করে মসজিদ থেকে বের করে দেয়া এবং মসজিদে ঢুকতে না দেয়ার মতো ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে।

এমতাবস্থায় জুমাতুল বিদায় মুসল্লিদের আল আকসা অভিমুখে মার্চ করার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ ইকরামা সাবরী।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মোদির জয়ের পর যে কৌশলে এগোতে চান ভারতের মুসলমানরা


ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ভূমিধস জয়ে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক আরও বেড়েছে। বিজেপির এমন জয়ে দেশটির অধিকাংশ মুসলমান ভবিষ্যতের ব্যাপারে শঙ্কিত বলেও বিভিন্ন নিরীক্ষায় জানা গেছে। বিশেষত নির্বাচনের পরপরই কয়েকটি মুসলিম নির্যাতনের ঘটনায় শঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।

এভাবে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিজয় নিয়ে দেশটির মুসলিম সমাজ কী ভাবছে? এ নিয়ে জার্মান বার্তা সংস্থা ডয়চে ভেলে বিভিন্নজনের মতামত জানার চেষ্টা করেছে।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে ২৭ মুসলমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন৷ ৪৩৭ আসনে প্রার্থী দেয়া বিজেপিও সাতজন মুসলমান প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছিল৷

ভারতের বিখ্যাত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আদিল আলভি বলেন, ইতিমধ্যে মুসলমানদের প্রতি বৈরী আচরণের প্রমাণ দেখা গেছে৷ সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে এক মুসলমান ব্যক্তিকে টুপি খুলে ফেলতে এবং হিন্দুদের মতো ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে দেখান তিনি।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী রওনক শাহী বিজেপি আবারও ক্ষমতায় আসায় উদ্বিগ্ন৷ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, গতবারের চেয়ে এবার মুসলমানরা বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়বে৷ কী হবে তা বোঝা যাচ্ছে না৷ তবে আমি নিশ্চিত পরিস্থিতি আরও খারাপই হবে৷’

পরিস্থিতি অনুকূলে রাখতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে মুসলমানদের শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তরুণ এই শিক্ষার্থী।

নির্বাচন-পরবর্তী সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে মুসলমানদের উদ্দেশে চিঠি লিখেছে ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’। মুসলমানদের পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে এ আশঙ্কা করছেন বোর্ডকর্তারা।

হায়দরাবাদ থেকে নির্বাচিত অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে জানতে চেয়েছেন, গোরক্ষকদের তাণ্ডব রুখতে কী পদক্ষেপ করছেন? ওয়াইসি বলেন, সংবিধানে মানুষের জীবনের অধিকার স্বীকৃত, পশুর নয়।

হায়দরাবাদকেন্দ্রিক নিজের দলকে সর্বভারতীয় দলে পরিণত করতে চান। ওয়াইসি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো এখন আর বিজেপিকে হারাতে পারছে না। ফলে আমাদের কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে৷ মুসলমানরা আর কতদিন তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে ভোট দেবে?

তবে মুসলমানদের নিজস্ব শক্তি গড়ে ওঠার ব্যাপারটি এখনও তেমন পরিষ্কার নয়। হায়দরাবাদের মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আফরোজ আলম বলেন, মুসলমানদের ২৫টি দল এখনও আছে৷ কিন্তু তারা তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি। কারণ মুসলমানরা মুসলমানদের ভোট দিতে আগ্রহী নয়৷’

আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ মনে করেন, মুসলমানদের দল থেকে সংসদে প্রতিনিধি গেলেও তাদের কথা শোনা হবে না৷ রাজনৈতিকভাবে মুসলমানরা কিছু করতে পারবে না৷ এটা সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত যে, তারা মুসলমানদের সঙ্গে নেবে কিনা।

তবে নির্বাচনে জয়ের পর থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে মুসলমানদের আশ্বস্ত করা চেষ্টা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ করা হবে না জানিয়ে মোদি বলেন, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং তার সঙ্গে ‘সবকা বিশ্বাস’ হবে আমাদের মন্ত্র।

শনিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে যাওয়ার আগে সংবিধানে মাথা ছুঁইয়ে মোদি বলেন, ‘সংবিধানকে সাক্ষী রেখে আমরা প্রতিজ্ঞা করছি- সব বর্গের মানুষকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে। ধর্ম-জাতির ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ হবে না।

এ ছাড়া সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কথাবার্তা এড়িয়ে চলতেও দলীয় সাংসদদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি৷

এদিকে ভারতে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় সংগঠন জমিয়াতে উলামায়ে-হিন্দ (জেইউএইচ) বিপুল জয়ের জন্য মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সব নাগরিককে একদৃষ্টিতে দেখার জন্য নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী ধর্মীয় উগ্রতার বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদিকে বলেন, আমরা আশা করছি আপনি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। যাতে মুসলমানরা ভারতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় উগ্রতার কারণে মুসলমানরা ভীতসন্ত্রস্ত না হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মুসলিম নির্যাতনে কথা বলায় গৌতম গম্ভীরকে সাবধান করলেন অনুপম


ভারতের দিল্লির গুরুগ্রামে নামাজ থেকে ফেরার পথে মুসলিম যুবককে মারধরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিজেপির লোকসভা সদস্য ও সাবেক ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর।

তবে তার এ প্রতিবাদকে ভালোভাবে নেয়নি হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া শিবির। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন বলিউড অভিনেতা অনুপম খের।

মঙ্গলবার এক টুইটবার্তায় অনুপম খের লেখেন- প্রিয় গৌতম গম্ভীর; আপনার জয়ের জন্য আপনাকে অভিনন্দন। একজন ভারতীয় হিসেবে এটি আমার জন্য খুব খুশির।

আপনি যদিও পরামর্শের জন্য আমাকে জিজ্ঞেস করেননি তার পরও নিজের থেকে আপনাকে একটি বিষয়ে বলতে চাই- মিডিয়ার জনপ্রিয়তা পেতে কোনো ফাঁদে পা দেবেন না। আপনার যা কাজ সেই সম্বন্ধে কথা বলবেন। এর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

প্রসঙ্গত গত শনিবার রাতে গুরুগ্রামে নামাজ থেকে ফেরার পথে ভারতে এক মুসলিম ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

মারধরের শিকার মোহাম্মদ বরকত নামের ওই ব্যক্তি জানান, নামাজ শেষে মাথায় টুপি পরে ফিরছিলেন, পথিমধ্যে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি তার পথরোধ করে। এর মধ্যে একজন অকথ্য ভাষায় ডাক দিয়ে বলে এই এলাকায় টুপি পড়া নিষেধ।

বরকত বলেন, আমি নামাজ থেকে ফেরার কথা বললে ওই ব্যক্তি আমায় মারধর করে এবং আমায় ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে জোর করে। তাতে আমি রাজি না হলে আমায় শূকরের মাংস খাওয়ানোর হুমকি দেয়।

এরপর বরকত সেখান থেকে পালাতে চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তি তার জামা ছিড়ে নেয়। এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে ওই ব্যক্তিরা চলে যায়।

এর প্রতিবাদ জানিয়ে এক টুইটবার্তায় গৌতম গম্ভীর লেখেন, গুরুগ্রামে মুসলিম যুবকের টুপি অপসারণ, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দেয়ার নির্দেশ বিরক্তিকর। এ ঘটনায় গুরুগ্রাম কর্তৃপক্ষের উচিত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া। আমরা একটি ধর্মনিরপেক্ষ জাতি।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌’শ্রী রাম’ না-বলায় ভারতে নামাজ ফেরত যুবককে মারধর


বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের লোকসভা নির্বাচনে দুর্দান্ত ফলাফলের পর গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।

এতদিন যেভাবে সংখ্যালঘুদের ‘ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে’ ব্যবহার করা হতো, তা বন্ধ করতে হবে। এ কথা বলার একদিন পরই বিজেপি শাসিত হরিয়ানার গুরুগ্রামে ঘটল একটি অপ্রীতিকর ঘটনা।

মোহাম্মদ বরকত (২৫) নামে এক যুবক দাবি করল, মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরে আসার সময় রাস্তায় চার-পাঁচ লোক তাকে ঘিরে ধরে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেয় এবং বারবার ‘জয় শ্রী রাম’ বলার জন্য জোর করে। রাজি না হওয়ার তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে তার অভিযোগ।

মুসলিম ওই যুবক বলেন, আমি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরছিলাম। রাস্তায় একজন লোক পথ আটকে আমার মাথার টুপি খুলে ফেলতে বলে। রাজি না হওয়ায় জোর করে মাথা থেকে টুপি ফেলে দিয়ে আমাকে মারতে থাকে, সঙ্গে চলে গালি। সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও কেউ এগিয়ে আসেনি দাবি করে বরকত আরো বলেন, আরো কয়েকজন এসে আমাকে ‘জয় শ্রী রাম’ উচ্চারণ করতে বলে। আমি বললাম, কেন বলব এ কথা? এটা বলার পরই তারা আমাকে মারধর শুরু করে এবং আমার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেয়। এরপর একপর্যায়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন বরকত।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজও শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

বরকত বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা, এখন গুরুগ্রামে থাকেন। গুরুগ্রামের ঘটনার দুই দিন আগে মধ্যপ্রদেশেও একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। মধ্যপ্রদেশের সিওনিতে গোমাংস নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দাবি করে এক মুসলমান দম্পতিসহ চারজনকে বেধড়ক পেটানো হয় ।

উৎসঃ ‌‌এনডিটিভি

আরও পড়ুনঃ ‌‘ভারতে মুসলমানদের খুন হওয়া আটকান, নির্ভয়ে তাদের শান্তিতে বাস করতে দিন’


ভারতে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর মুসলমানরা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিতে বসবাস করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে আহ্বান জানানো হয়। মুসলমানদের শান্তির সাথে নির্ভয়ে বাস করতে দেয়ার পাশাপাশি তাদের খুন হওয়া আটকাতে এই আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের দুইজন শীর্ষ মুসলিম নেতা। মুসলমানরা যাতে ভারতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় উগ্রতার কারণে তারা যাতে ভীতসন্ত্রস্ত না হয় সে জন্য ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুসলিম নেতা মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী।

ভারতের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভ‚মিধস জয় লাভ করায় ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন জমিয়তে উলামা হিন্দের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে সব নাগরিকদের এক দৃষ্টিতে দেখার জন্য নরেন্দ্র মোদির প্রতি তিনি আহ্বান জানান। গত রোববার ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর ওই চিঠি প্রকাশিত হয়। জাতি ও ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ করা হবে না, নির্বাচনে জয়ের পর এমন বক্তব্য দিয়েছেন মোদি। তার এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে চিঠিতে মাওলানা মাদানী বলেন, আপনার সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে আমরা জানতে পেরেছি সংখ্যালঘুদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করার পরিবর্তে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং কর্মসংস্থানের ব্যাপারে আপনি বিশেষ মনোযোগী হবেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আপনার এ কথাগুলো বাস্তবায়িত হবে।

ধর্মীয় উগ্রতার বিষয়ে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদিকে মাওলানা মাদানী বলেন, আমরা আশা করছি আপনি ভারতের সংখ্যালঘু মুসলমানদের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন। যাতে মুসলমানরা ভারতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ধর্মীয় উগ্রতার কারণে মুসলমানরা ভীতসন্ত্রস্ত না হয়।

উল্লেখ্য, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতীয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ পুরোনো প্লাটফর্ম। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে এ সংগঠনটির জন্ম। উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দলটির ব্যাপক অবদান রয়েছে। মাওলানা মাহমুদ মাদানী ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামের প্রাণপুরুষ সাইয়্যেদ হুসাইন আহমদ মাদানীর দৌহিত্র ও সাইয়্যেদ আসআদ মাদানীর ছেলে। তার বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা ও সৃজনশীল কর্মপন্থায় ভারতীয় মুসলমানরা এক অভিন্ন প্লাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। মাওলানা মাদানীর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ভারতের সর্বমহলে স্বীকৃত। আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, মত পথ ভুলে এক কাতারে সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা ও উদ্যোগ তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়।

এদিকে ভারতে মুসলমানদের খুন হওয়া আটকাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতি জোর আহবান জানিয়েছেন এআইএমআইএম নেতা ও এবার লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড়ের মধ্যে হায়দরাবাদ কেন্দ্রে ফের জয়ী হওয়া পার্লামেন্ট সদস্য আসাদুদ্দিন ওয়াইসি।

বিজেপি জামানা নিয়ে মুসলিমদের মিথ্যে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, তার সরকার সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার পক্ষপাতী। কিন্তু সোমবার তথাকথিত ‘গোরক্ষকদের’ তান্ডব নিয়ে মোদির কঠোর সমালোচনা করেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তার প্রশ্ন, মোদি এই ধরনের গোষ্ঠীর তান্ডব রুখতে কী পদক্ষেপ করছেন?

বিজেপি দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ঠিক পরেই ফের ‘গোরক্ষকদের’ তান্ডবের অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রদেশে। সিওনীতে গরুর গোশত নিয়ে যাওয়ার ‘অপরাধে’ এক দম্পতিসহ তিনজনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ জন ‘গোরক্ষকে’র বিরুদ্ধে। তার পরে আক্রান্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রদেশে গরুর গোশত রাখা বা বিক্রি করা বেআইনি।

ওয়াইসি বলেন, ‘সংবিধানে মানুষের জীবনের অধিকার স্বীকৃত, পশুর নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন সংখ্যালঘুরা ভয়ে ভয়ে আছেন তাহলে তার জানা উচিত উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে যারা মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মেরেছিল তারা একটি নির্বাচনী জনসভার প্রথম সারিতে বসেছিল।’ ২০১৫ সালে দাদরিতে বাড়িতে গরুর গোশত রাখার ‘অপরাধে’ মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় ১৪ জন গ্রেফতার হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন জামিন পেয়েছে।

ওয়াইসির প্রশ্ন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে রুখতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? এই গোষ্ঠীগুলি মুসলিমদের পিটিয়ে খুন করছে। সেই ঘটনার ভিডিও পর্যন্ত তুলে রাখছে। আমাদের চ‚ড়ান্ত অপমান করা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের ঘটনাই এর সাম্প্রতিক নজির।’ তার বক্তব্য, ‘সংসদে মুসলিমদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে কি বিজেপি উদ্যোগী হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর নিজের দলের সংসদ সদস্যের সংখ্যা এখন ৩০০ জনের বেশি। কিন্তু তাদের মধ্যে ক’জন মুসলিম?’

উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড়ের মধ্যে হায়দরাবাদ কেন্দ্রে ফের জয়ী হয়েছেন ওয়াইসি।

উৎসঃ ‌‌ আনন্দবাজার পত্রিকা

আরও পড়ুনঃ ‌গোমাংস খাওয়ার অধিকার নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় অদিবাসী অধ্যাপক গ্রেফতার

আদিবাসীদের গো-মাংস খাওয়ার অধিকার নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে গ্রেফতার হয়েছেন জিতরাই হাঁসদা নামে এক আদিবাসী অধ্যাপক। একই দায়ে কলেজ থেকেও সাসপেন্ড হয়েছেন ওই অধ্যাপক। বিজেপি শাসিত ঝাড়খণ্ডের সাকচিতে এই ঘটনা ঘটে।

জিতরাইয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ফেসবুকে পোস্টটি করেছিলেন ওই অধ্যাপক। তার পরেই তাঁর নামে অভিযোগ দায়ের হয়। এরমধ্যে তিনি থানায় হাজিরা দিলেও গ্রেফতার করা হয়নি তখন। প্রায় দু’বছর পরে গতকাল তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে আছেন।

তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ভোটপর্ব শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জিতরাইয়ের গ্রেফতার রাজনৈতিক স্বার্থেই।
ভোটের আগে আদিবাসীদের চটাতে চায়নি বিজেপি সরকার। ঝাড়খণ্ডে এ বার ১৪টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১২টি-ই পেয়েছে বিজেপি। অনেকেই মনে করছেন, আদিবাসীদের ক্ষুব্ধ করে তুললে এতটা ভাল ফল করতে পারত না বিজেপি।

আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা নিয়ে কাজ করা জিতরাই তার ফেসবুকে লিখেছিলেন, ভারতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গোমাংস খাওয়ার রেওয়াজ বহু দিনের। এটা তাঁদের গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার। ভারতে গোমাংস ভক্ষণ বিরোধী আইনের বিরোধী তাঁরা।

ফেসবুকে হিন্দু রীতি অনুসরণ করার অনিচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।

জিতরাইয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, ফেসবুক পোস্টটি করার কিছুদিনের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এরমধ্যে গোপনে জিতরাইকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে এবিভিপি। সংবাদমাধ্যম সূত্রে তা জানার পরে কোলহান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি লেখে একটি আদিবাসী অধিকার রক্ষা সংস্থা। কোলহান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ একটি কলেজের অধ্যাপক জিতরাই। চিঠিতে সংস্থার এক মুখপাত্র লেখেন, ‘আদিবাসীরাও ভারতের নাগরিক। অন্যদের মতো আমাদেরও সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য অনুসরণ করার অধিকার রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার যদি গো-হত্যায় নিষেধাজ্ঞা আনে, তবে তা আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করবে।’

যদিও এই চিঠিতে কাজ হয়নি। কিছু দিনের মাথায় সাসপেন্ড করা হয় হাঁসদাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটা পুরনো ঘটনা। ওই অধ্যাপক বেশ কয়েক মাস নিখোঁজ ছিলেন। খবর পেয়ে গত কাল তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যমুনা, টিডিএন বাংলা

আরও পড়ুনঃ ‌ভারতের লোকসভায় মুসলিম সাংসদ ২৭, বিজেপির শূন্য!

ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে মোট ২৭ জন মুসলিম সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশ থেকেই জিতেছেন ১২ জন।

গতবারের তুলনায় সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে ৪ জন। তবে, বিজেপি ৩০৩টি আসন পেলেও ২৭ মুসলিম সাংসদের মধ্যে একজনও বিজেপির টিকিটে জিতে আসেননি। বিজেপি ছয়জন সংখ্যালঘুকে প্রার্থী করলেও তা থেকে কোনো মুসলিম জেতেনি।

এই ২৭ জনের মধ্যে রয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লা, এআইএমআইএমের আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি, সমাজবাদী পার্টির আজম খান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লোকসভা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন ৫ মুসলিম প্রার্থী। কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছেন ৪ জন। সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও ইউনিয়ম মুসলিম লিগ থেকে আছেন ৩ জন করে সাংসদ। এআইএমআইএম এর আছে দুই নির্বাচিত প্রতিনিধি। রামবিলাস পাসোয়ানের এলজেপি, শরদ পাওয়ারের এনসিপি, সিপিআইএম ও বদ্রুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ থেকে জিতে সংসদে এসেছেন একজন করে প্রার্থী।

ভোটের ফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গতবারের তুলনায় এবার সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে চারজন। গত বছর নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৩ জন। এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পাঁচজন, কংগ্রেস থেকে চারজন, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও ইউনিয়ম মুসলিম লিগ থেকে তিনজন করে মোট ১৩ জন, এআইএমআইএম থেকে দুইজন, রামবিলাস পাসোয়ানের এলজেপি, শারদ পাওয়ারের এনসিপি, সিপিআইএম ও বদরুদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফ থেকে একজন করে মোট ২৭ জন মুসলিম প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।

উৎসঃ ‌‌জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা টাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইহুদিদের সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ইহুদিদের সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহু বলেন, ফিলিস্তিনিরা আমাদের সহায়তা করেছেন। এই সহায়তা অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। মিসরের প্রেসিডেন্ট আল সিসি মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। সংকটের মুহূর্তে প্রতিবেশীদের সহায়তায় আমি অবশ্যই কৃতজ্ঞ। আমরাও তাদের বিপদে সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যাই।

শুক্রবার নেতানিয়াহু বলেছেন, ভয়াবহ দাবানলে কয়েকটি ছোট শহর থেকে লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হয়েছে। দাবদাহের কারণে দেশটির তাপমাত্রা আরও খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে মিসর ও চার ইউরোপীয় দেশ বিমান পাঠিয়েছে।

গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া, ইতালি ও সাইপ্রাস থেকে অগ্নিনির্বাপণ বিমান আসছে।

ইসরাইলের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগ জানিয়েছে, জেরুজালেম ও তেলআবিবের মধ্যে মূল করিডোরের আগুন নেভানো হয়েছে। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে নতুন করে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে।

দেশটির কর্মকর্তারা বলেন, দেশটির ছোট ছোট শহর থেকে ৩৫ হাজার অধিবাসীকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। দাবানলে কয়েক ডজন বসতবাড়ি ভস্মীভূত হয়ে গেছে।

বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো উপায়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বাতাস সত্যিই অতিরিক্ত গরম।

উৎসঃ ‌‌ইনসাফ

আরও পড়ুনঃ ‌মদ,নারী এহেন অপকর্ম নেই যা সৌদি রাজপরিবারে এখন হয় নাঃ যুবরাজের স্ত্রী !


সম্প্রতি দুর্নীতির দায়ে আটক হয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ আল ওয়ালিদ বিন তালাল। এবার তার বিরুদ্ধে উঠল নারী বিক্রি, মদ ও ব্যাভিচারে লিপ্ত থাকার অভিযোগ।

আর এই অভিযোগগুলো তুলেছেন তার সাবেক স্ত্রী আমিরা বিনতে আইডেন বিন নায়েফ।

অবশ্য তিনি যুবরাজের কর্মকাণ্ডের কারণে বেশ আগেই তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন।

সম্প্রতি রাজ পরিবারের অন্ধকার দিকের বর্ণনা তুলে ধরে আমিরা বলেন, সৌদি পরিবারকে বাইরে থেকে যতোটা ভদ্র ও ধর্মভীরু বলে মনে হয়, বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো!

তিনি জানান, তার সাবেক স্বামীসহ রাজপরিবারের অনেকেই অর্থ পাচারসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এক কথায় বলতে গেলে এহেন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করেন না।

তিনি আরও জানান, জেদ্দা শহরকে এরা দাস বাজারে পরিণত করেছেন। সেখানে অল্প বয়সী নারী বিক্রি থেকে শুরু করে মদ, সেক্স পার্টির মতো সব রকম ব্যভিচারই হয়ে থাকে। পুলিশ এসবের ব্যাপারে অবহিত থাকলেও শুধুমাত্র চাকরি হারানোর ভয়ে কোনো উদ্যোগ নেয় না। কেননা, শহরের সব অপরাধের পেছনে সৌদি রাজ পরিবারের সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আর সে কারণেই সৌদি পরিবারের পুরুষেরা ব্যভিচারের চূড়ান্ত করে আসছে।

আমিরা সম্প্রতি হেলোউইন পার্টির উদাহরণ তুলে ধরেন। বলেন, সেই পার্টিতে সর্বসাকুল্যে দেড়শ’ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। যাদের ভেতরে কূটনৈতিক কর্মকর্তারাও ছিলেন। সেখানে সেদিন যা হয়েছে তা বাইরের দেশের কোনো নাইট ক্লাবের থেকে আলাদা ছিল না।

সৌদি আরবে মদ নিষিদ্ধ হলেও সেই পার্টিতে তরল পদার্থটির বন্যা বয়ে গিয়েছিল। সেই ডিজে পার্টিতে ওয়াইন, জুটিদের নাচ, নানান ধরনের পোশাক পরা সবই হয়েছিল।

আমিরা জানান, সৌদি আরবে মদ নিষিদ্ধ হওয়ায় কালো বাজারে এটির প্রচুর দাম। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সেখানে এক বোতল স্মিরনফ ভদকা কিনতে গেলে প্রায় দেড় হাজার রিয়াল গুনতে হয়। টাকার হিসেবে যা প্রায় ৩৩ হাজার। কখনও কখনও সেসব পার্টিতে আয়োজকেরা আসল মদের বোতলে স্থানীয় মদ ঢুকিয়ে সার্ভ করে থাকে। স্থানীয় সেই সব ওয়াইনকে তারা সিদ্দিকী নামে চেনে।

আমিরা বলেন, সৌদি আরবে দাসপ্রথা এখনও রয়েছে। তবে সেটি গোপনে এবং অন্যভাবে হয়ে থাকে। রাজপরিবারের কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি সেখানে দাস বিক্রি করে থাকেন। আর এসব দাস বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আনা হয় শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, রোমানিয়া এবং বুলগেরিয়া থেকে।

যেসব শিশুকে এখানে বিক্রি করা হয় তারা কখনই মালিকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও যেতে পারে না। এমনকি এশিয়ার দাসীরা প্রায় ক্ষেত্রেই নিজেদের বন্দি বলেই মনে করেন। সেখানে অল্প বয়সী মেয়েদের আলাদা করে রাখা হয় এবং তাদের উপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয়।

উৎসঃ ‌‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‌বাইবেলই আমাকে ইসলামের পথ দেখিয়েছে: খ্রিষ্টান থেকে মুসলিম হওয়া মার্কিন নাগরিক


ইসলামের সৌন্দর্য আমাদের জন্য আল্লাহর এক মহান অনুগ্রহ। অথচ আমরা যথার্থভাবে ইসলাম পালনের মাধ্যমে তা তুলে ধরছি না। যারা ইসলাম সম্পর্কে মিথ্যা ও ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের কাছে এর সৌন্দর্য আর শান্তির অমিয় ফল্গুধারা পৌঁছে দিচ্ছি না। অথচ পৃথিবীতে আজো হাজার হাজার মানুষ এই আলো থেকে বঞ্চিত।

এমন এক মার্কিন নাগরিক ইউশা ইভান্স। বড় হয়েছেন সাউথ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলে। তিনি এককট্টর মেথডিস্ট (খ্রিষ্টানদের একটি গোষ্ঠী) পরিবারে দাদা-দাদির সাথে থাকতেন।

কৈশোরের শুরুতেই তার বাড়ির কাছেই এক চার্চের কার্যক্রমের সাথে খুব বেশি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। তিনি শহরে ছোট্ট এক বাইবেল কলেজে ভর্তি হন; উদ্দেশ্য বিশ্বখ্যাত বাইবেল কলেজ ‘বব জোনস ইউনির্ভাসিটিতে ভর্তি হওয়া।

তিনি নিয়মিত চার্চে যেতেন এবং সব বক্তব্য খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতেন। তার খুব ইচ্ছে ছিল বাইবেলের টেক্সুয়াল ক্রিটিকস (মূল পান্ডুলিপি নির্ধারণ) হওয়ার।

শেখা শুরু করলেন গ্রিক আর হিব্রু। উদ্যমের এই দিনগুলোতে তারই চার্চের একজন মিনিস্টারের সাথে পড়া শুরু করেন বাইবেল; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।

এভাবে, ছয় থেকে সাতবার পড়লেন পুরো বাইবেল। এই পড়াই তার খিস্টধর্মের বিশ্বাসের ভীত নাড়িয়ে দিলো। বাইবেলের বিভিন্ন জায়গায় অসংগতি আর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেখতে পেলেন।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর পেলেন ‘এর কিছু মানবিক ত্রুটি আছে। কিন্তু যে এটা বিশ্বাস করে, সে আস্থা রাখে। বিশ্বাস হচ্ছে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।’

তখন তিনি বুঝলেন বাইবেল সরাসরি স্রষ্টার বাণী নয়। এরপর তিনি খিস্টধর্ম ছেড়ে অন্যত্র স্রষ্টার সন্ধান শুরু করেন। সময়কাল ছিল ১৯৯৬ সালের গ্রীস্মকাল।

এরপর তিনি একে একে ইহুদিবাদ, বুদ্ধধর্ম, উইকা, বুশিডো, হিন্দুইজম,নাস্তিক্যবাদ, কনফুসিয়ানিসম থেকে ইসলাম সবকিছুই পড়েন। ইসলাম সম্পর্কে তিনি যে বইটি পড়েন সেটি ছিল সম্পুর্ণ ভুলে ভরা।

যেখানে লেখা ছিল মুসলিমরা আরব, তারা চন্দ্র ঈশ্বরের উপাসনা করে, নারীদের নির্যাতন করে। তাদের সবচেয়ে বড় কাজ অমুসলিম হত্যা করা। এরপর ধর্ম নিয়ে তার উৎসাহ নষ্ট হয়ে গেল। তিনি ধীরে ধীরে পাশ্চাত্যের গতানুগতিক জীবনে জড়িয়ে পড়েন।

হিপ-হপ জীবনধারার পাশাপাশি অপরাধকর্মেও জড়িয়ে পড়েন। এরপর দুটি ঘটনা তাকে আবার ভাবিয়ে তুলল। এক. একবার মাতাল অবস্থায় তিনি আর তার বন্ধু গাড়িতে ফিরছিলেন আর মারাত্মক এক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বেঁচে গেলেন।

আর পুলিশ অফিসার অবাক হয়ে বললেন “সৃষ্টিকর্তার নিশ্চয়ই তোমাকে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে। দুই. একবার এটিএম বুথে টাকা তুলতে গেলে এক সন্ত্রাসী তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে ট্রিগার চাপলেন অথচ গুলি বের হলো না।

এই যাত্রায়ও প্রাণে বেচে গেলেন। এরপর হঠাৎ একদিন শহরের এক আফ্রো-আমেরিকান মুসলিমের সাথে তার ধর্ম নিয়ে কথা উঠল। তখন সে বলল, ইসলাম নিয়ে তার পড়া বইয়ের কথা। এতে সেই মুসলিম ক্ষিপ্ত হলো আর বলল, ‘আমি মুসলিম কিন্তু আমি তা সঠিকভাবে পালন করি না কিন্তু তুমি শুক্রবার খুতবায় এসো।’

তার কথা মতো ইউশা মসজিদে গেলেও আমন্ত্রিত ব্যক্তির দেখা না পেয়ে অবাক হলেন। কিন্তু মসজিদের এক মিসরীয় মুসলিম তাকে ভিতরে ডেকে নিয়ে যান। ভিতরে ঢুকে তিনি কিছুটা ভয় পেয়ে যান এবং মাথায় অনেক চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে।

ইমাম যখন মিম্বারে উঠে আরবিতে খুতবা দিতে শুরু করলেন, ইউশা ভাবল নিশ্চয়ই তাকে মারার কথাই বলছে। ইউশা মনে মনে পালানোর পথ খুঁজছিলেন।

পরক্ষণেই ইমাম যখন এই খুতবার ইংরেজি অনুবাদ পড়ে শোনালেন ইউশা হতভম্ব হয়ে যান। ভাবতে লাগলেন কতো বেশি উপেক্ষা আর তাচ্ছিল্যের সাথেই না এদের উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। খুতবার বিষয় ছিল- আল্লাহর ক্ষমা আর তাওবাহ নিয়ে।

তিনি আরো অবাক হন যখন সকলেই নামাজে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করছিলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, এরা সত্যিই স্রষ্টার ইবাদত করছে। এভাবে ইবাদত করেছেন ইব্রাহিম, দাউদ আর ঈসা আলাইহিস সালাম।

জুমআ শেষে ইউশা কুরআনের একখানা কপি ইমামের কাছে চেয়ে নিলেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে কুরআন পড়া শেষ করলেন। অবশেষে ১৯৯৮ সালের এক শীতকালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ইউশা এখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে দাওয়াহ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আর মিশরে বিভিন্ন শিক্ষকের অধীনে পড়াশোনা করেছেন। নিজে দুটি টিভি স্টেশনের ফাউন্ডার ও কো-ফাউন্ডার।

ওয়ান উম্মাহ তার একটি। তিনি শায়খ ওয়ালিদ আল-মেনেসীর অধীনে পড়াশুনা করছেন। কয়েকটি ডিসিপ্লিনে ব্ল্যাক বেল্টপ্রাপ্ত আর মিনেপোলিসে তিনি নিজেই মার্শাল আর্টস শেখান।

উৎসঃ ‌‌বার্তাবাহক

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here