এমপি মোস্তাফিজের গৃহিণী স্ত্রী ৫ বছরেই কোটিপতি!

0
91

২০১৪ সালে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রথমবার সংসদ সদস্য হন মোস্তাফিজুর রহমান। আর স্বামী সাংসদ থাকার পাঁচ বছরেই কোটিপতি বনে গেছেন মোস্তাফিজের স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী। যদিও হলফনামায় লেখা হয়েছে তিনি পেশায় গৃহিণী।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও এমপি মোস্তাফিজের স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী পাঁচতলা একটি ভবনের মালিক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাড়ে ছয় লাখ টাকা, দুই লাখ টাকার স্বর্ণ ও লক্ষাধিক টাকার আসবাবপত্র রয়েছে তার নামে।

যদিও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় এমপি মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরীর ব্যাংক হিসেবে জমা ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, নগদ রয়েছে ৩৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

সে হিসেবে এমপি মোস্তাফিজের স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরীর নগদ অর্থের পরিমাণ কমেছে। বেড়েছে স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ।

অন্যদিকে, সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের বার্ষিক আয় ২০ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা হলেও তার রয়েছে বর্তমানে ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

২০১৪ সালের হলফনামায় তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় তার ব্যাংকে জমার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা । নগদ ছিল ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। বর্তমানে তা ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে জমা আছে ১০ লাখ টাকা। ৩৭ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি টয়োটা প্রাডো জিপ ও ১ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার নিজ নামে দেখিয়েছেন এমপি মোস্তাফিজ। ওপরের হিসেবে তার সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ছয় গুণ।

গত পাঁচ বছরে স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বাড়েনি বলে দাবি সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের। আগের মতই তার নামে চার একর কৃষিজমি ও ঢাকায় তিন কাঠা জমি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান খুলে ও ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‘শূন্য’ থেকে কোটিপতি হলেন রাশেদ খান মেননের স্ত্রী!

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের আয় গত ১০ বছরে যেমন বেড়েছে, তেমনি তার স্ত্রীও ‘শূন্য’ থেকে হয়েছেন কোটিপতি।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে হলফনামায় তিনি এমন তথ্যই উল্লেখ করেছেন। রাশেদ খান মেনন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রার্থী হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, গত ১০ বছরে মেননের বাৎসরিক আয় বেড়েছে নয় লাখ ৬৬ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে ৫১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ৩৭ লাখ ২০ হাজার টাকার। অর্থাৎ ১০ বছরে তার বাৎসরিক আয় প্রায় চারগুণ ও অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে তিনগুণের বেশি।

এদিকে, ১০ বছরে স্থাপর সম্পত্তির দিক থেকে তার স্ত্রী কোটিপতি হয়েছেন। নবম ও দশম নির্বাচনের হলফনামায় তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি না থাকলেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দেখানো হয়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকা।

মন্ত্রী মেননের স্ত্রীর নামে একটি বাড়ি রয়েছে। যার মূল্য দেখানো হয়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ ৮০ হাজার ২৪০ টাকা। আর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছিল- মেননের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি ছিল দুই লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এখন তা দেখানো হয়েছে ৫৯ লাখ ২৬ হাজার ৪৩০ টাকা।

এদিকে, গত ১০ বছরে রাশেদ খান মেননের যানবাহনের সংখ্যা কমেছে। এখন একটি টয়োটা জিপ প্রাডো গাড়ি রয়েছে। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৬১ লাখ ৮৫ হাজার।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি মোট আয় দেখিয়েছিলেন তিন লাখ ২৫ হাজার ৭২৪ টাকা। আর স্থাবর সম্পত্তি না থাকলেও অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছিলেন ২৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার।

অন্যদিকে, তার ওপর নির্ভরশীলদের আয় ছিল এক লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং তাদের অস্থাবর সম্পত্তি ছিল এক লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ১০ বছর পর রাশেদ খান মেননের ওপর নির্ভরশীলদের আয় ও অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য শূন্যের ঘরে নেমে এসেছে।

নবম ও দশম নির্বাচনের সময় দেখানো হয়েছিল, ব্যবসা ও পত্রিকায় কলাম লিখে তিনি আয় করতেন লাখ টাকার ওপরে। বর্তমানে তিনি ব্যবসা থেকে আয় নেই বলে উল্লেখ করেছেন। দশম সংসদ নির্বাচনের সময় রাশেদ খান মেননের হাতে নগদ অর্থ ছিল এক লাখ ৫০ হাজার এবং তার স্ত্রীর কাছে ছিল ৩০ হাজার টাকা। বর্তমানে তাদের হাতে যথাক্রমে সাত লাখ ৫৭ হাজার ১৪ টাকা এবং সাত লাখ ৯৬ হাজার ২২০ টাকা দেখানো হয়েছে।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে রাশেদ খান মেনন ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ ১০ ডিসেম্বর।

উৎসঃ বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ মমতাজের বাড়ির দাম ৭ কোটি টাকা, দুইটি গাড়ির দাম ১ কোটি টাকারও বেশি!

পেশায় কণ্ঠশিল্পী ও ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের দুটি বাড়ির দাম ৭ কোটির টাকার ওপরে। এছাড়া দুটি গাড়ির দাম এক কোটির ওপরে এবং বছরে আয় ২০ লাখ টাকার বেশি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মানিকগঞ্জ-২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে মানিকগঞ্জ জেলার বিএনপির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে সেখানকার রিটার্নিং কর্মকর্তা। তাদের দাবি, ওই সব প্রার্থীদের হলফনামায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই।

মমতাজের হলফনামা থেকে জানা যায়, তার দায় আছে তিন কোটি টাকার ওপরে। মমতাজ বেগমের স্বামীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ২০ লাখ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন নবম শ্রেণি। মমতাজের নামে কোনো ফৌজদারী মামলা নেই।

বাৎসরিক আয়

কৃষি খাতে এক লাখ ২০ হাজার, বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া বাবদ ছয় লাখ ৭৫ হাজার, শেয়ার/সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত দুই লাখ ৮৮ হাজার ৬৫১ টাকা, পেশা থেকে আয় ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, সংসদ সদস্য ভাতা ৬ লাখ ৬০ হাজার, সংসদ সদস্য হিসেবে আনুসঙ্গিক পারিতোষিক ভাতা ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৬২৫ টাকা।

মমতাজের নগদ হাতে আছে ৫ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ৮৬ লাখ ৯৯ হাজার ১৯৭ টাকা, মধু উজালা কোল্ড স্টোরেজ লি. এর তিন লাখ ৫০ হাজার ৭০০ শেয়ার ১০০ টাকা করে আয় হয় তিন কোটি ৫০ লাখ ৭০ হাজার।

দুটি গাড়ি

ল্যান্ড ক্রজার জিপ ৬৫ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি ও ভি-৮, ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৭-৩৮৭৭- দুটি দাম ৪৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। চার লাখ ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের ৩৫ ভরি স্বর্ণ। তিন লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং ইলেট্রনিক সামগ্রী দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা।

কৃষি জমির পরিমাণ ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ৯০০ শতাংশ ভূমি দাম ৪৪ লাখ দুই হাজার ৭৩৪ টাকা। এক হাজার ২০০ শতাংশ অকৃষি জমি অর্জনকালীন সময়ের দাম এক কোটি ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৭০। রাজধানীর মহাখালীতে ৫ তলা বাড়ি আর্জনকালীন সময়ের মূল্য ছয় কোটি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা ও জয়মন্টপ সিংগাইর এ দুইতলা বাড়ি ৫৭ লাখ ৫ হাজার ৪৪০ টাকা।

মমতাজ দায় হিসেবে দেখিয়েছে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ও মধুমতি ব্যাংক লি: থেকে যথাক্রমে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত ঋণ (তিন কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার + সাত লাখ ৬৫ হাজার ৪৬৪) মোট তিন কোটি ৩৪ লাখ ১১ হাজার ৪১৬ টাকা। মমতাজের স্বামীর নামে নগদ দুই লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ ২০ লাখ টাকা, ১৩০০ সিসি ফান কার্গো গাড়ি দাম ৮ লাখ টাকা রয়েছে।

উৎসঃ purboposhchim

আরও পড়ুনঃ আমুর সম্পদে এসেছে আমূল পরিবর্তনঃ বাৎসরিক আয় বেড়েছে সাড়ে ৩ গুন!

৫ বছরের ব্যবধানে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর বাৎসরিক আয় ও অস্থাবর সম্পদে আমুল পরিবর্তন এসেছে। ৫ বছর আগেও আমুর বাৎসরিক আয় ছিল ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৭ টাকা। কিন্তু বর্তমানে তার বাৎসরিক আয় বেড়ে দাড়িয়েছে ৮২ লাখ ৭২ হাজার ৯০৩ টাকায়।

একইভাবে শিল্পমন্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার ২১৫ টাকা থেকে বেড়ে ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯৩ টাকায় দাড়িয়েছে।

২০১৩ ও ২০১৮ সালের হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। হলফনামায় বলা হয়েছে, শিল্পমন্ত্রীর শিক্ষাকতা যোগ্যতা এলএলবি পাশ। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২৬ ঝালকাঠি -২ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেন। বর্তমানে কোনো ফৌজদারী মামলায় অভিযুক্ত না থাকলেও অতীতে তার বিরুদ্ধে ১২টি ফৌজদারী মামলা হয়েছিল। পেশা হিসাবে দেখিয়েছেন আইনজীবী ও ব্যবসা।

আমির হোসেন আমুর আয়

২০১৩ সালের নির্বাচনে হলফনামায় আমু বাৎসরিক আয় দেখিয়েছিলেন ২৫ লাখ ৩৫ হাজার ১৮৭ টাকা। কিন্তু ২০১৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় তার বাৎসরিক এ আয় বেড়ে হয়েছে ৮২ লাখ ৭২ হাজার ৯০৩ টাকা।

এ নির্বাচনে আয় হিসাবে শিল্পমন্ত্রী কৃষিখাত থেকে বছরে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায়ও এ খাত থেকে একই আয় দেখিয়েছেন তিনি। এবার বাড়ি, এপার্টমেন্ট, দোকান ভাড়া বাবদ বছরে আয় দেখিয়েছেন ১০ লাখ ৮ হাজার টাকা। এখাত থেকেও একই আয় দেখিয়েছিলেন ২০১৩ সালে। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক আমানত থেকে এবারের হলফনামায় বছরে আয় ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকা দেখিয়েছেন।

২০১৩ সালের নির্বাচনী হলফনামায় এ খাত থেকে আয় দেখিয়েছিলেন ৭ লাখ ৬২ হাজার ১৮৭ টাকা। অন্যান্য বাবদ এবার আয় ১৬ লাখ ৬০ হাজার ৫৭৩ টাকা দেখিয়েছেন। এখাত থেকে ২০০৮ সালে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা বাৎসরিক আয় দেখিয়েছিলেন আমু।

অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ

এবারের নির্বাচনী হলফনামায় ৩ কোটি ৫৩ লাখ ৬৪ হাজার ৩৯৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন আমির হোসেন আমু। এরমধ্যে নগদ টাকা ৫ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা করা অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩ টাকা এবং বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ৫২ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ টাকা, মটরগাড়ী বাবদ ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু বাবদ ১ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রি বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন।

২০১৩ এর নিবাচনী হলফনামায় আমুর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার ২১৫ টাকা। এরমধ্যে নগদ টাকা দেখিয়েছেন ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫২ লাখ ৯ হাজার ২১৫ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ চিল মাত্র ২ লাখ টাকা, মটর গাড়ি বাবদ ৫ লাখ টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু বাবদ ১ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন।

স্থাবর সম্পদের পরিমাণ

৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০১৩ এর নির্বাচনেও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ একই দেখিয়েছিলেন আমু।

উৎসঃ poriborton

আরও পড়ুনঃ ১০ বছরে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ শাজাহান খান! তার সম্পদ আসলে কত?

আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও শ্রমিক নেতা শাজাহান খান অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছেন।কৃষি-অকৃষি জমিসহ তার নিজ নামে রয়েছে ৭টি বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট। পিছিয়ে নেই স্ত্রীও। তার নামেও রয়েছে অগাধ সম্পদ ও অ্যাপর্টমেন্ট। শাজাহান খান দুটি লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এবার শাজাহান খান মাদারীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। হলফনামায় শিক্ষাকতা যোগ্যতা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন বিএ পাস। বর্তমানে কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত নন। তবে অতীতে ৩টি মামলা ছিল।

শাজাহান খান নিজ নামে ৩ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৭২৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। স্ত্রীর নামে রয়েছে নগদ ৪৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

শাজাহান খানের কাছে নগদ টাকা রয়েছে ২৫ লাখ ৪২ হাজার ৪১৩ টাকা। স্ত্রীর কাছে এর পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫৬৪ টাকা।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শাজাহান খানের জমা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৩১১ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২০ লাখ ৯১ হাজার ৪৩৬ টাকা।

এ ছাড়া তার নামে রয়েছে ২টি জিপ ও একটি মাইক্রোবাস। এগুলোর মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অস্থাবর সম্পদ হিসেবে শাজাহান খান নিজের ২০ তোলা সোনা দেখিয়েছেন। এগুলোর মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৮০ হাজার টাকা। টিভি, ফ্রিজ, ওভেন, ফ্যান, আয়রন, ওয়াশিং মেশিন বাবদ দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা।

আসবাব হিসেবে দেখিয়েছেন, খাট, সোফা, কাঠের আলমিরা, স্টিলের আলমিরা, ড্রেসিং ও ডাইনিং টেবিল, যার মূল্য ১ লাখ টাকা।

এ ছাড়া নৌমন্ত্রীর রয়েছে ১টি বন্দুক ও একটি পিস্তল। এগুলোর মূল্য দেখিয়েছেন ৩ লাখ ২ হাজার টাকা।

হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ হিসেবে শাজাহান খানের একক নামে রয়েছে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৬২ হাজার ৯৩৩ টাকার জায়গা-জমি। স্ত্রীর নামে রয়েছে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৯ টাকা। যৌথ মালিকানা সম্পদের মধ্যে শাজাহান খানের রয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ ২১ হাজার ৫৩২ টাকা টাকার জমি।

কৃষি স্থাবর সম্পদ হিসেবে শাজাহান খান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তার নিজ নামে ১ একর ৫৫ শতাংশ কৃষি জমি। এগুলোর মূল্য ৩৩ লাখ টাকা। এছাড়া ১২৫ গৈদী মৌজায়৪ শতাংশ, মূল্য ৬ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা, ৩৬ নং হাউসদী, পাতিলাদী ও ৩৫ নং মাদারদী ৬৩ শতাংশ ২২ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।

অকৃষি জমি ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য হিসাবে তিনি দেখিয়েছেন নিজ নামে শরীয়তপুরে ৬৪ শতাংশ, মূল্য ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৩৩ টাকার সম্পদ। এছাড়া ২৮ দিয়াপাড়ায় ২.০৪ শতাংশ, মূল্য ৮৬ হাজার টাকা। ৬৯ নং রাজৈর ০.৬৫ শতাংশের মূল্য ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। গঙ্গাবরদীতে ৫ শতাংশের মূল্য ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা, দিয়াপাড়াতে ৩ শতাংশ জমির মূল্য ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৬০ নং সাতপাড়া, ডুমুরিয়াতে ৬০ শতাংশের ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের জমি রয়েছে তার।

অকৃষি জমির মধ্যে স্ত্রীর নামে রয়েছে ১১০ নং হরিকুমারিয়া ২৪ শতাংশ জমি। অর্জনকালীন সময়ে যার মূল্য ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। মালিগ্রাম মৌজায় ১৭ শতাংশ জমি। এর মূল্য ৬৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

স্ত্রীর নামে রাউজক পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট, মূল্য ২৩ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা। এখানেই শেষ নয় শাজাহান খানের স্ত্রীর নামে চুনকুটিয়ায় রয়েছে ১১৩৪ অযুতাংশে অর্ধেক জমি। এর মূল্য দেখানো হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। ১২৫ গৈদী মৌজায় রয়েছে ৪৫.৫০ শতাংশের প্রায় ৬০ ভাগ জমি। এর মূল্য ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চুনকুটিয়া ১৪৮৬ অযুতাংশের অর্ধেক জায়গাও স্ত্রীর নামে, মূল্য ধরা হয়েছে ৬৬ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বাড্ডা মৌজায় ৫.৭৫ শতাংশের ১.৪৩৭৫ শতাংশ জমি হেবা প্রাপ্তি হিসাবে দেখানো হয়েছে। বাড্ডা মৌজায় ০২০৮.৫০ অযুতাংশ জমির অর্ধেকের মালিক মূল্য দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর গজারিয়া মৌজায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ও ৮৪ হাজার ৬৯ টাকা মূল্যের জমি রয়েছে তার স্ত্রীর নামে।

নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের যৌথ মালিকানায় রয়েছে শকুনী মৌজার ১২.০৫ শতাংশ জমি ও স্থাপনার ৪৫ শতাংশ মালিকানা বাবদ ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। ১১০ হরিকুমারিয়ায় ৫.৫ শতাংশ জমির ২০ ভাগের ৯ অংশের মালিকানা বাবদ ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। ১০৬ মহিষেরচরে ১৫ শতাংশ জায়গার অর্ধেক মালিকানা বাবদ রয়েছে ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার সম্পদ। একই দাগে ৪ ও ৮ শতাংশের অর্ধেক মালিকানা বাবদ যথাক্রমে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ও ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। বাড্ডাতে ১১৫৪ অযুতাংশের ৩ ভাগের ১ ভাগের মালিকানা বাবদ রয়েছে ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫৩২ টাকার সম্পদ।

শাজাহান দম্পতির যত বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট

শাজাহান খানের দালান-কোঠার মধ্যে রয়েছে নির্মাণাধীন ভবন, যার মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ৬৯ নং রাজৈর ৯ শতাংশে নির্মাণাধীন বাড়ি, মূল্য ধরা হয়েছে ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এখানেই শেষ নয় শাজাহান খানের নামে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে আরও ৫টি। এর মধ্যে ১১১ শকুনী মৌজায় ২.৪৫ শতাংশে যৌথ অ্যাপর্টমেন্টের মূল্য ৮৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা। লালমাটিয়া হাউজিংয়ে ১৫.২৪ বর্গমিটারের ফ্ল্যাট, মূল্য উল্লেখ করেননি। ৬৯ নং রাজৈরে রয়েছে ৫.৭৩ শতাংশের বাড়ি, দাম ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ৬৯ নং রাজৈরে রয়েছে ৩ শতাংশের আরও একটি বাড়ি, মূল্য দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

স্ত্রীর নামে রয়েছে মেরাদিয়া মৌজায় ৮২.৫০ অযুতাংশের জমিতে ১৫৭৬ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, যার মূল্য বাবদ দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৭০ হাজার ৭৫০ টাকা। স্ত্রীর সার্বিক প্রিন্টিং প্রেসের ৪০ শতাংশ মালিকানা বাবদ ৮ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। এতসম্পদের মালিকানার পেছনে শাজাহান খানের কোনো দায়-দেনা থাকবে না, সেটিই স্বাভাবিক। তিনি এই অংশে কিছু দেখানওনি।

শাজাহান খানের আয়ের উৎস

শাজাহান খানের বছরে আয় ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৯ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া বাবদ আয় ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪২৯ টাকা। ব্যবসা থেকে বছরে আয় ৩ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ টাকা। ব্যাংক আমানতের লভ্যাংশ থেকে আয় ২ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকা। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে পারিতোষিক ও ভাতাদি বাবদ বছরে পান ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ টাকা।

উৎসঃ jugantor

আরও পড়ুনঃ দশ বছরে ৬ গুণ সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের

সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সম্পদ ১০ বছরে ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বেড়েছে ব্যাংক ব্যালেন্স, শেয়ার, নগদ টাকার পরিমাণ।

তবে এই ১০ বছরে তিনি ভুলেছেন স্ত্রীর স্বর্ণের মূল্য, যা তার জানা নেই। ২০০৮ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নুরুল ইসলাম নাহিদের দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

২০০৮ সালে নাহিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪০ লাখ ৮৯ হাজার ৭৪৮ টাকার। এবার এ সম্পদের পরিমাণ ৬ দশমিক ২০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৮৫ টাকা।

২০০৮ সালের হলফনামায় স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার স্বর্ণের কথা উল্লেখ করলেও এবারের হলফনামায় বলেছেন স্ত্রীর স্বর্ণের মূল্য তার জানা নেই। ২০০৮ সালে নাহিদের হাতে নগদ ছিল ৪৭ হাজার টাকা।

এবার আছে ৩৫ লাখ ৬৪ হাজার ৭০৫ টাকা। ২০০৮ সালে নাহিদের ব্যাংকে ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৪৯৯ টাকা। এবার আছে ৩৯ লাখ ৭২ হাজার ৯৮৩ টাকা। ২০০৮ সালে সঞ্চয়পত্র ছিল নিজ নামে ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৪১২ টাকা ও নির্ভরশীলদের নামে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২৫৮ টাকার।

এবার আছে নিজ নামে ২০ লাখ ও স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। ২০০৮ সালে কোনো গাড়ির কথা উল্লেখ না থাকলেও এবার ৫৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩২১ টাকার গাড়ি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৮ সালের সমপরিমাণ ৭৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার এবারও আছে নাহিদের।

২০০৮ সালে ইলেকট্রনিক সামগ্রী ছিল ১ লাখ টাকার। এবার রয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী। তবে বৃদ্ধি পায়নি আসবাবপত্রের পরিমাণ। ২০০৮ সালে যা ছিল তাই আছে। উভয় হলফনামায় উল্লেখ করেছেন নাহিদের নামে ৪৫ হাজার ও স্ত্রীর নামে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।

২০০৮ সালে ঢাকায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩ কাঠা জমি রয়েছে উল্লেখ করেছিলেন। এবার উল্লেখ করেছেন ৫ কাঠা বা ০.০৮২৫ একর, যার মূল্য ২১ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ টাকা। ২০০৮ সালের হলফনামায় নাহিদ উল্লেখ করেছিলেন বিভিন্নজনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান হিসেবে পেয়েছিলেন।

এর মধ্যে ছিল স্ত্রী কেইউ জোহরা জেসমিনের কাছ থেকে ১ লাখ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাই ডা. নজরুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী চাচা হাজী মাহমুদ আলীর কাছ থেকে ১ লাখ, ড. আহমদ আল কবীরের কাছ থেকে ২ লাখ ও কামাল আহমদের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা পেয়েছিলেন।

উৎসঃ jugantor

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেল যেসব যুদ্ধাপরাধী

কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধকে ইস্যু করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করলেও বাস্তবে আওয়ামী লীগ কতটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে? রাজনীতির ময়দানে ঘুরে ফিরে প্রায়ই এই প্রশ্ন আসে আমাদের সামনে।

যুগ যুগ ধরে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে আসলেও আওয়ামী লীগ বরাবরই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছে বিএনপি জামায়াতের দিকে। কিন্তু এর বাস্তবতা কতটুকু?

বাস্তবতা হল এই যে, আওয়ামী লীগ মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই এই অস্ত্র ব্যবহার করে। যার কোন ভিত্তি নেই। জামায়াতে ইসলামীতে কোন মুক্তিযোদ্ধা আছে কিনা অথবা ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিতর্কিত রায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াত নেতাদের সন্তানরা নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবে কিনা- এই অযৌক্তিক বিতর্ক সৃষ্টির পেছনে যারা, চলুন দেখে নেয়া যাক সেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তদের মধ্যেই কতজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও তাদের সন্তান রয়েছে!

১। (ফরিদপুর– ৩) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন:

ফরিদপুর– ৩ আসনের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন। তিনি শান্তি বাহিনী গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যার জন্য হানাদার বাহিনীকে প্ররোচিত করেন। “দৃশ্যপট একাত্তর: একুশ শতকের রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ” বইয়ের ৪৫ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তার পিতা নুরুল ইসলাম নুরু মিয়া ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার ছিলেন।

২। (চাঁদপুর ১) মহিউদ্দীন খান আলমগীর:

চাঁদপুর-১ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান সরকারের অধীনে চাকরি করে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানকে সহযোগিতা করেছেন। তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় আরেফিন রচিত “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান বইয়ের ৩৫০ পৃষ্ঠার মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানের কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তাকে চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে আখ্যা দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তার বিচার দাবি করেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

৩। (ময়মনসিংহ ৬) অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন:

ময়মনসিংহ ৬ আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন বলে ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহবায়ক ডা. এম এ হাসানের দেয়া যুদ্ধাপরাধের তালিকায় (ক্রমিক নং-৭৩) উল্লেখ করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে ঐ মাসেরই ২২ এপ্রিল দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ দিকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্বে ২০১২ সালের ৬ এপ্রিল ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিট্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

৪। (রংপুর ৫) এইচ এন আশিকুর রহমান:

রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক এইচ এন আশিকুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের অধীনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে টাঙ্গাইলে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি পাকিস্তান সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেন। এস এস এম শামছুল আরেফিন রচিত ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ব্যক্তির অবস্থান’ বইয়ের ৩৫০ পৃষ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে কর্মরত বাঙালি অফিসারদের তালিকায় তার নাম প্রকাশিত হয়েছে। ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজাকার আশিকুর রহমান আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বলে তার বিচার করবেন না তা হয় না। মন্ত্রীসভায় রাজাকার রেখে রাজাকারের বিচার করা যায় না।

৫। (গোপালগঞ্জ ১) লে.কর্ণেল (অব) ফারুক খান:

পর্যটন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক খান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পক্ষে দিনাজপুরে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানী সেনাবাহীনীর পক্ষে প্রথম অপারেশন চালান এবং কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও নিরীহ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। সুত্র: “দিনাজপুরের মক্তিযুদ্ধ” বই।

৬। সৈয়দ জাফরউল্লাহ:

আওয়ামী লীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরউল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। মাসিক “সহজকথা” আয়োজিত যুদ্ধাপরাধের বিচার: বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ জাফরঊল্লাহ মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। জাফর উল্লাহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানীদের পূর্ণ সমর্থন দেন। “মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান” বইয়ে বিস্তারিত উল্লেখ আছে।

৭। (ঢাকা-২) অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম:

ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজাকার পরিবারের সদস্য। তার বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম নেজামে ইসলামি পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের শায়েস্তা করার জন্য তার নেতৃত্বেই ঢাকায় প্রথম শান্তি কমিটি গঠন হয়। একই সঙ্গে তিনি রাজাকার, আল বদর ও আল শাসম বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসই স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি মু্ক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার রাজাকার ভাইয়ের মালিকাধীন প্রিন্টিং প্রেসে তিনি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন।

৮। (বরগুনা-২) শওকত হাচানুর রহমান:

বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী শওকত হাচানুর রহমান। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের সময় যুদ্ধাপরাধীর সন্তানদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। অথচ তিনিও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বাবা খলিলুর রহমান বরগুনায় পিস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

৯। (সিলেট ০৩) মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস:

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিন সুরমার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা ছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক স্মারক গ্রন্থ। সিলেট থেকে প্রকাশিত ‘রণাঙ্গন-৭১’ নামক সেই গ্রন্থে সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবাকে রাজাকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা ইউনিট কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েলের সম্পাদনায় প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থটিতে আওয়ামী লগের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের বাবা শেখ মুজিব সরকারের আমলের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন পিরু মিয়াকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

১০। (জামালপুর-৩): মির্জা আজম:

জামালপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য, যুবলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সরকার দলীয় হুইপ মির্জা গোলাম আযমের বাবা ১৯৭১ সালে মির্জা কাশেম জামালপুরের মাদারগঞ্জে শান্তি কমিটির জাদরেল নেতা ছিলেন। তিনি রাজাকার, আল-বদরদের গঠন করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেন। তার বিরুদ্ধে নারী ধর্ষণ ও লুটপাটের একাধিক অভিযোগ আছে। যা “জামালপুরের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৮১ সালের সংস্করণ)” বইয়ে উল্লেখ আছে।

এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আ. লীগের এমপি মন্ত্রী ছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য- জাতীয় সংসদের উপনেতা ও সাবেক পরিবেশ ও বন মন্ত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে্র যুদ্ধাপরাধ ও স্বাধীনতা বিরোধীতার শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে যারা মুখে ফেনা তোলে সেই আ. লীগেরই বাস্তব অবস্থা হলো এই। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে এত দহরম মহরম সম্পর্ক থাকার পরেও আওয়ামী লীগ তার বিরোধী পক্ষকে রাজাকার বা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি তকমা লাগাতে একটুও দেরি করে না।

মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই আওয়ামী লীগ বার বার মুক্তিযুদ্ধকে টেনে আনে। আর এদিকে জনগণকে ব্যস্ত রেখে বাস্তবায়ন করে ভিনদেশী আধিপত্যবাদীদের এজেন্ডা। কিন্তু এখন আওয়ামী লীগের সে মুখোশ উন্মোচিত। এখন শুধু জনগণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পালা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here