বগুড়া-৪ আসনের এমপি মোশাররফ হোসেনের দুই ছেলে ও মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত

0
84

বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের দুই ছেলে ও মেয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের ঢাকায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন ঢাকা টাইমসকে জানান, তার ১২ বছর বয়সী মেয়ে মায়িশা আক্তার এবং তিন বছরের শিশুপুত্র মোসাবির হোসেন সামিদ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। গত তিন দিন আগে তাদের জ¦র হলে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করান। রিপোর্টে তাদের দুজনের ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরো বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৯ জন রোগীকে শনাক্ত করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যমতে, নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ২২৭ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ১৪৯ জন এবং ছয়জন রোগী উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেছেন। বর্তমানে যে ৭৭ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৫০ জন, নারী ১৬ জন এবং শিশু ১১ রয়েছেন।

এছাড়া ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এর মধ্যে ১১ জন রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা বগুড়াতেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এদের মধ্যে ৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন, আর তিনজন রোগী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এরা হলেন- বগুড়া সদরের নাটাইপাড়া এলাকার আরাফাতুন, শিশু নোমান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট ডা. শফিকুল আলমের শিশু ছেলে তাসরিফ শরীফ।

সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ ঢাকা টাইমসকে জানান, বগুড়া থেকে এডিস মশার কামড়ে এ পর্যন্ত ১১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা সেবায় সবাই নিবেদিতভাবে কাজ করছে। কোন রোগী যেন অবহেলার স্বীকার না হয়, সেদিকে নির্দেশনা দেয়া আছে।

উৎসঃ ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ বক্তৃতার নামে ইসির দুর্নীতি ‘বালিশকাণ্ডকে’ও হার মানিয়েছে


প্রশিক্ষণের ভাতার নামে লুটপাটের অভিযোগের সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, সম্প্রতি রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কেনাকাটায় দুর্নীতির যে অভিযোগ ওঠেছে, যা ‘বালিশ দুর্নীতি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে; সেই দুর্নীতিকেও হার মানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের এই দুর্নীতি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (ইসি) কেএম নুরুল হুদাসহ নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করেছে সংস্থাটি। উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তও চেয়েছে টিআইবি।

গত জাতীয় সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের আগে প্রশিক্ষণের নামে নির্বাচন কমিশনে অর্থের লোপাট হয়েছে এমন একটি সংবাদ মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার এবং সচিবরা কর্মশালায় ‘বিশেষ বক্তা’, ‘কোর্স উপদেষ্টা’ও ‘কোর্স পরিচালক’ হিসেবে কয়েক কোটি টাকার অর্থ ‘সম্মানি’ও ‘ভাতা’ হিসেবে গ্রহণ করেন বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।

মঙ্গলবার বিকালে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পুরো কমিশনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে গুরুতর অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের জন্য সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল হিসেবে দায় গ্রহণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনারদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত সব অভিযোগের যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ কর্তৃক এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অনভিপ্রেত। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে পুরো একটি কমিশনের পদস্থ প্রায় সব কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নজিরবিহীন। এছাড়া এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ না করেই সম্পৃক্ততার নামে জনগণের করের অর্থ আদায় একদিকে রীতিমতো আইনের গুরুতর লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সুস্পষ্ট দুর্নীতি, অপরদিকে যোগসাজসের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা অর্জনের বিস্ময়কর নজির, যা এ পর্যায়ের সাংবিধানিক পদাধিকারী ও অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ অনৈতিক ঘটনা রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘বালিশ দুর্নীতিকে’ও ম্লান করে দিয়েছে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন যেখানে জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, এমন সময়ে কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনিত এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পুরো কমিশনের জন্য আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত করল। এ পর্যায়ে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থেই সিইসি এবং কমিশনারদের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে জড়িত প্রত্যেককেই জবাবদিহিতার আওতায় এনে প্রতিষ্ঠানটির সাংবিধানিক মর্যাদা ও সুনাম পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হতে হবে।’

উৎসঃ ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ বক্তৃতার নামে সিইসি, কমিশনার, সচিবদের পকেটে দেড় কোটি টাকা


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও কমিশনারদের মতো সাংবিধানিক পদের পদাধিকারীদের বিরুদ্ধে বক্তৃতা না দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের সঙ্গে আছেন ইসির সচিবসহ পদস্থ কর্মকর্তারা। আর এই অর্থের পরিমাণ একেবারে কম নয়, দেড় কোটি টাকা।

বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও এরপরে উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণ উপলক্ষে শুধু ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে বক্তৃতা দিয়ে তাঁরা এই অর্থ নিয়েছেন। আর এর বাইরে ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের তৎকালীন সচিব (বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব) একাই নিয়েছেন ৪৭ লাখ টাকা। তিনি ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবেও টাকা নিয়েছেন। তবে তা কত জানা যায়নি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন ৬১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। আর উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার নামে যাঁরা টাকা নিয়েছেন তাঁরা হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা; চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও কবিতা খানম; সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ; অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান এবং দুই যুগ্ম সচিব আবুল কাশেম ও কামরুল হাসান। উপজেলা নির্বাচনে ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেব এর সঙ্গে আরও চারজন যুগ্মসচিব যুক্ত হয়েছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে একটি প্রশিক্ষণ থেকে ‘কোর্স পরিচালক’ হিসেবে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক নিয়েছেন ১৯ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ ‘বিশেষ বক্তা’, ‘কোর্স উপদেষ্টা’ ও ‘কোর্স পরিচালক’ হিসেবে তাঁদের পকেটে গেছে দুই কোটি টাকার বেশি।

এভাবে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সিইসি ও চার কমিশনারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাবেক ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেননি। তিনি বলেছেন, এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়নি।

বিগত সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন কমিশন ‘বিশেষ বক্তা’র একটি প্যানেল গঠন করা হয়। এতে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ ১৩ কর্মকর্তা। আর ‘কোর্স উপদেষ্টা’ নামে আরেকটি পদ সৃষ্টি করে তাতে পদায়ন করা হয় সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে।

ইসি সচিবালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় নয়জন ‘বিশেষ বক্তা’ ১৮ দিনে (৭ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৮) জেলা ও উপজেলার ৫২০ জায়গায় বক্তৃতা দিয়েছেন। প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চারজন ‘বিশেষ বক্তা’র উপস্থিত থাকার কথা। ফলে সাধারণ পাটিগণিতের হিসাবে প্রত্যেক ‘বিশেষ বক্তা’কে দিনে কমপক্ষে ১৪টি স্থানে বক্তৃতা দিতে হয়েছে। বাস্তবে যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ থেকে বোঝা যায়, বক্তৃতাস্থলে উপস্থিত না থেকেই তাঁরা টাকা নিয়েছেন। এভাবে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় যাঁরা অর্থ নিয়েছেন, তাঁদের কেউ কেউ সম্মানী ভাতা ফেরত পাঠাতে শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

ইসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের এভাবে অর্থ নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইসির ইতিহাসে এমন ব্যয়বহুল প্রশিক্ষণ হয়নি। আমাদের সময়ে সিইসি, আমি ও অন্য কমিশনাররা দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশিক্ষণে বক্তৃতা দিয়েছি। কিন্তু কোনো ভাতা নিইনি। এমনকি সচিবও বক্তৃতা দিয়ে ভাতা নিতেন না। সে রকম রেওয়াজও ছিল। এবার যা ঘটেছে সেটা অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ছাড়া আর কিছুই নয়। এ জন্য অবশ্যই জড়িতদের দায় নিতে হবে।’

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে প্রশিক্ষণের জন্য অতীতে ‘বিশেষ বক্তা’ বা ‘কোর্স উপদেষ্টা’ বলে কিছু ছিল না। গত নির্বাচনের সময় এসব সৃষ্টি করা হয়েছে কেবল অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার জন্য।

এ বিষয়ে জানতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলে নির্বাচন কমিশন থেকে কিছু তথ্য দেওয়া হয়। তবে ‘বিশেষ বক্তা’রা কে কত টাকা নিয়েছেন তার হিসাব দেয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এ তথ্য জানাননি।

পত্রিকা ঘেঁটে পাওয়া তথ্য

ইসির নথিতে আছে, সিইসিসহ এই কর্মকর্তারা ১৮ দিনে ৫২০টি স্থানে বক্তৃতা করেছেন। কিন্তু প্রথম আলো ছাড়াও জনকণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ ও ডেইলি স্টার ঘেঁটে দেখা যায়, গত বছরের ৭ থেকে ২৪ ডিসেম্বর সময়ের মধ্যে সিইসি দুবার ঢাকার বাইরে যান। ১৮ ডিসেম্বর সিইসি চট্টগ্রাম-রাঙামাটিতে এবং ২২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে যান। সেখানে তিনি শীর্ষ বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। চট্টগ্রাম সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ। এর বাইরে কমিশনার রফিকুল ইসলাম ১৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে এবং ২১ ডিসেম্বর রাজশাহীতে নারীদের ভোটাধিকার বিষয়ক দুটি কর্মশালায় অংশ নেন। কবিতা খানম ২২ ডিসেম্বর যশোরে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ প্রতি তাঁদের প্রত্যেকের সম্মানী ছিল পাঁচ হাজার টাকা।

তবে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও মহাহিসাব নিরীক্ষক এম হাফিজ উদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেন, এখানে প্রশিক্ষণের নামে লুটপাট হয়েছে। ‘বিশেষ বক্তা’র নামে পুরো কমিশন ও সচিব যে টাকা নিয়েছেন তার পুরোটাই বেআইনি। কারণ, প্রশিক্ষণের অর্থ হলো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে খাতায় সই করতে হবে। টাকা নেওয়ার সময়ও সই করতে হবে। তাঁরা সেটা করেছিলেন কি না, তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে।

ইসির হিসাব বলছে, সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে বরাদ্দ ছিল ৪৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এই অর্থ থেকে ১ কোটি ৪ লাখ টাকা ভাগ করে নিয়েছেন নয় জন ‘বিশেষ বক্তা’। এই হিসাবে প্রতিজনের ভাগে পড়ে ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ৫২০টি প্রশিক্ষণের প্রতিটিতে ৪ জন করে ‘বিশেষ বক্তা’ দেখানো হয়েছে। ইসির একজন কর্মকর্তা বলেন, সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার ও চার কর্মকর্তা এভাবে দেশজুড়ে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ালে সংসদ নির্বাচনের মতো বিশাল আয়োজনের বাকি কাজ বন্ধ রাখতে হতো।এভাবে প্রশিক্ষণে ‘বিশেষ বক্তা’ হিসেবে ইসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা অর্থ গ্রহণ করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক আহমেদ আতাউল হাকিম প্রথম আলোকে বলেন, প্রশিক্ষণে বক্তৃতার বিনিময়ে টাকা নেওয়ার কথা থাকলে অবশ্যই প্রশিক্ষণস্থলে উপস্থিত হয়ে বক্তৃতা দিয়ে টাকা নিতে হবে। উপস্থিতির প্রমাণ হিসেবে রেজিস্ট্রারে সই করতে হবে এবং ভাতা গ্রহণের সময়ও সই করতে হবে। ‘কোর্স উপদেষ্টা’ পদ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি যতটা না আইনি, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন নৈতিকতার। নৈতিকভাবে এ ধরনের কাজ মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়।

বক্তৃতার নামে টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা যেভাবে

বিশেষ বক্তাদের বক্তৃতা বাবদ অর্থ মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ঢাকায় এনে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়। এই প্রশিক্ষণের ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে দেখানো হয় হেলালুদ্দীন আহমদকে। তিনি প্রতি প্রশিক্ষণ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে ৫২০টি প্রশিক্ষণ থেকে ২৬ লাখ টাকা নিয়েছেন। অথচ এই প্রশিক্ষণে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের যাতায়াত ভাতা হিসেবে মাত্র ৫০০ টাকা এবং পোলিং অফিসারদের ৪০০ টাকা করে দেওয়া হয়।

২০০৭–০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ইসির সচিব হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনে মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ সব সময় থাকে। তবে সেই প্রশিক্ষণ দিতেন জেলা ও উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তারা। ঢাকা থেকে কমিশনার বা সচিবেরা যেতেন না। কোর্স উপদেষ্টা নামেও কোনো পদ ছিল না। অবশ্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কিছু প্রশিক্ষণ ঢাকায় হয়ে থাকে। সেগুলোতে প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁরা গেলেও সম্মানি ভাতা পেতেন।

সংসদ নির্বাচনের পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় জেলা পর্যায়ে। এ খাতে ‘বিশেষ বক্তা’রা ৬৪ জেলা থেকে ৫ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। এখানেও ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে হেলালুদ্দীন একাই নেন ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

উপজেলা নির্বাচনেও একই মডেল

নির্বাচন প্রশিক্ষণ–সংক্রান্ত ৪৩১টি উপজেলার হিসাবে দেখা যায়, সেখানে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের সংখ্যা ছিল মোট ৬ লাখ ২০ হাজার ৯২৩ জন। এই প্রশিক্ষণে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ভাতা দেওয়া হয়েছে পাঁচ শ টাকা করে এবং পোলিং অফিসারদের চার শ টাকা করে। প্রশিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা করে। সারা দেশে ৪৩১টি উপজেলায় ২ দিনে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

কিন্তু মাঠ পর্যায়ে অনুপস্থিত থেকেও ‘বিশেষ বক্তা’রা এসব প্রশিক্ষণ থেকে উপজেলা প্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা নিয়েছেন। ‘কোর্স উপদেষ্টা’ হিসেবে ইসি সচিব নিয়েছেন প্রতি উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ২১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। আর কোর্স পরিচালক হিসেবে ইটিআইয়ের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক নিয়েছেন প্রতি উপজেলা থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা করে মোট ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা।ইভিএমে ভোটগ্রহণের জন্য শুরুতে নির্ধারণ করা হয় ৪৬টি উপজেলা। এসব উপজেলার প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ইভিএম–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে ব্যয় হয় ৭ কোটি ৭২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এই খাতে ‘বিশেষ বক্তা’রা প্রতি উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট চার লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কোর্স উপদেষ্টা নেন পাঁচ হাজার টাকা করে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোর্স পরিচালক নেন সাড়ে চার হাজার টাকা করে ২ লাখ ৭ হাজার টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল মাত্র ১০ উপজেলায়। বাকি উপজেলাগুলোতে দেওয়া প্রশিক্ষণ কোনো কাজে আসেনি।

১০টি উপজেলায় ভোট গ্রহণে ইভিএমের পরীক্ষামূলক ব্যবহার–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণে একই কায়দায় ভাতা নেন সিইসি, চার কমিশনার ও সচিব।

১০টি উপজেলার ভোটারদের ইভিএমে ভোট দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা। এখান থেকে কোর্স উপদেষ্টা নেন উপজেলা প্রতি সাড়ে সাত হাজার টাকা করে মোট ৭৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে কোর্স উপদেষ্টা ছিলেন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। জানা যায়, এর কয়েকটি প্রশিক্ষণে এই কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। এর প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ইসি সচিবও সমান হারে ৭৫ হাজার টাকা নেন।

পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের জন্য মাস্টার ট্রেইনারদের প্রশিক্ষণে ব্যয় হয় ২ কোটি ৬৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। এ খাতে বিশেষ বক্তারা ৬৪ জেলা থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা ভাতা নেন। কোর্স উপদেষ্টা নেন পাঁচ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর কোর্স পরিচালক নেন ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

উপজেলা নেই, তাই ব্যাচ

সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের কিছু প্রশিক্ষণ ঢাকার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রশিক্ষণে উপজেলা প্রতি ভাতা নির্ধারণের সুযোগ না থাকায় ব্যাচ করে ভাতা ধরা হয়। সংসদ নির্বাচনে ইসি সচিবালয় ও এর মাঠ কর্মকর্তাদের ইভিএম–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ব্যয় হয়েছে ৪৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২৪টি ব্যাচে এই প্রশিক্ষণ হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাচে দুজন বিশেষ বক্তার ভাতা ছিল ১০ হাজার টাকা করে। এই হিসাবে ২৪টি ব্যাচ থেকে তাঁরা নিয়েছেন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বক্তৃতা না দিয়েই কোর্স উপদেষ্টা প্রতি ব্যাচ থেকে তিন হাজার টাকা করে মোট ৭২ হাজার টাকা নিয়েছেন।

একই নির্বাচনে তিনটি ব্যাচে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে ব্যয় হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ১০০ টাকা। এই খাত থেকে ৬ জন বিশেষ বক্তা প্রতি ব্যাচ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৯০ হাজার টাকা সম্মানী নেন। কোর্স উপদেষ্টা নেন ৭ হাজার ৫০০ করে।এর বাইরে সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রশিক্ষণ, ইলেকক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অনলাইনে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ও অফিস সহাকারীদের প্রশিক্ষণ এবং ইসির কর্মকর্তা প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ থেকে বিশেষ বক্তা, কোর্স উপদেষ্টা ও কোর্স পরিচালক সম্মানি ভাতা নেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ বক্তাদের নেওয়া মোট টাকার অঙ্ক ১০ লাখ টাকার ওপরে। কোর্স উপদেষ্টার অঙ্কও ১০ লাখ টাকার ওপরে।

কর্মকর্তারা যা বললেন, যা বলেননি

এ বিষয়ে গত ২২ জুলাই প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সিইসি কে এম নূরুল হুদার কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। নূরুল হুদা বর্তমানে সরকারি খরচে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে আছেন।

কমিশনার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি। যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। কবিতা খানমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

ইসির তৎকালীন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ অবশ্য বলেছেন, ‘নির্বাচনে ১১ লাখের বেশি কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাজেটও বড় ছিল। সেই বাজেট কমিশন অনুমোদন করেছে। এতে কোনো অনিয়ম হয়েছে বলে আমি মনে করি না।প্রশিক্ষণের নামে অর্থ গ্রহণের বিষয়ে ইটিআইয়ের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনের প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য ইটিআই খসড়া বাজেট প্রস্তাব করেছে। সেই প্রস্তাব চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য কমিশন সভায় তুলেছে ইসি সচিবালয়। কমিশন সেটা অনুমোদন করেছে।

ইসির বর্তমান সচিব মো. আলমগীর বলেন, ‘কাজগুলো আগের সচিবের সময়ের। তাই এসব বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানা নেই।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নির্বাচন করা নির্বাচনের কমিশনের কাজ। কোথাও গিয়ে বক্তৃতা দিলেও সেটা কাজের অংশ। এ থেকে ভাতা নিতে হবে কেন? পুরো ব্যাপারটাই অন্যায়, অনৈতিক।

উৎসঃ প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ মন্ত্রী-মেয়রদের কোনো লজ্জা-শরম নেই, বেহায়া : মির্জা ফখরুল


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিডিয়া গুরুত্ব দেয়ায় মানুষ ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারছে। না হলে এই সরকার গুজব বলে উড়িয়ে দিত। আসলে মন্ত্রী ও মেয়রদের কোনো লজ্জা-শরম নেই। এক কথায় বলা যায় বেহায়া। এরা যেহেতু জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাই এদের উদ্দেশ্য থাকে জনগণের টাকা লুট করার। সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, আজকের পত্রিকায়ও আছে, গতকাল রোববার এক হাজার ৭৬০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শুধু ঢাকায়। আর এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ হাজারের ওপরে। অথচ মন্ত্রী যিনি দায়িত্বে আছেন, এমনকি মেয়র সাহেবরা কী বলেছেন, সেটা রিপিট করতে চাই না। আসলে এদের কোনো লজ্জা নেই। এরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাই তাদের জবাবদিহিতা নেই। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় টিকে থাকা এবং জনগণের অর্থকে লুণ্ঠন করা। সংসদ তো এখন কিছুই নেই। ওখানে তথাকথিত তাদের পছন্দমতো একটা বিরোধী দল দাঁড় করিয়ে রেখেছে। এই সরকার একেবারেই গণবিরোধী। জনগণের স্বার্থবিরোধী সরকার।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের সুরক্ষার জন্য ব্যাপক দুর্নীতি করেছে। আমরা এমন একটা রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। কিন্তু সরকার নিজেদের সুরক্ষার জন্য ব্যাপক দুর্নীতি করছে। সেই দুর্নীতির টাকা দিয়ে দেশের বাইরে বাড়িঘর করছে। সেখানে থাকার ব্যবস্থা করছে। এটাই হলো বাস্তবতা। এই সরকার মানুষের স্বার্থবিরোধী সরকার। তারা মানুষের ন্যূনতম অধিকারকে লুণ্ঠন করে ক্ষমতায় থাকতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, কয়েকদিন আগে জেনেভায় মানবাধিকারের ওপরে নির্যাতনবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ একটি কনভেনশন হয়েছে। বর্তমান সরকার ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ক্ষমতায়, কিন্তু সেখানে কোনো জবাবদিহি করেনি। কনভেনশনে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিটি বাংলাদেশকে ডেকে এ দেশে যে নির্যা*ন হয়, সে সম্পর্কে সরকারের বক্তব্য কী জানতে চেয়েছিল। সেখানে আমাদের আইনমন্ত্রী অবলীলায় মিথ্যা কথা বলেছেন। আইনমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো গুম-খু*র ঘটনা তার জানা নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে পত্রিকায় দেখছি একজন সিনিয়র সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান গুম হয়ে গেছেন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের এমপি ছিলেন ইলিয়াস আলী। চৌধুরী আলম কমিশনার ছিলেন। তাদের এখন পর্যন্ত খুঁজে পাইনি। আমাদের ছাত্রদল, ‍যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, বিএনপির প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছেন। তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা এমন দেশে বাস করছি, যেখানে আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই।

সময় উপযোগী কর্মসূচি নেয়ায় এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি দেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিএনপিসহ সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানান।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলী প্রমুখ।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মশার জন্য মানুষ মরার ওষুধ আনছে সরকার!


সরকার স্বীকার না করলেও সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ করেছে। এডিস মশার কামড়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষ মারা গেছে। যদিও সরকার এ মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করছে না। এই এডিস মশা নিয়ে যখন সারাদেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে তখনও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও ছলচাতুরি করে যাচ্ছে সরকার। নকল ওষুধ দিয়ে এতদিন এডিস মশা মারার অভিনয়ও করেছে সরকার।

এদিকে, সর্বোচ্চ আদালত ভাল ওষুধ আনার নির্দেশ দেয়ার পরও এনিয়ে সরকার দুই নাম্বারী করে যাচ্ছে। আদালত ও জনগণের সমালোচনার মুখে বিদেশ থেকে ওষুদের নমুনা আনলেও সেটা দিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী মশা মরছে না।

শুক্রবার মশা নিধনে নতুন ওষুধের মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালিয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি)। নগর ভবনের মূল ফটকের সামনে তিনটি খাঁচার প্রতিটিতে ৫০টি করে মশা রেখে পরীক্ষা চালানো হয়। আধা ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে খাঁচাগুলোয় যথাক্রমে ২২, ২৬ ও ১৮ শতাংশ মশা মারা গেছে। ‘বায়ার করপোরেশন’ কোম্পানির এই মশার ওষুধের ৩০ মিনিট পরীক্ষা শেষে সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ মশা মারা গেছে।

কিন্তু ভারতের কলকাতা থেকে আসা গবেষক দলের সদস্য শুভ দে সাংবাদিকদের বলেন, বায়ার করপোরেশনের ওষুধ মশকনিধনে কার্যকর। ভারতীয় এই গবেষকের দাবি নিয়ে নগরভবনের কর্মকর্তাদের মধ্যেই সন্দেহ সংশয় দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বলেছেন, বায়ার করপোরেশনের ওষুধ কার্যকর হবে বলে মনে হচ্ছে না। ভারতীয় এই গবেষক দলের নিশ্চয় ওই কোম্পানির সঙ্গে কোনো লিংক আছে। যার কারণে তারা কোম্পানির পক্ষে সাফাই গাইছে।

অপরদিকে, আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এডিস মশা মারতে সরকার এখন এমন ওষুধের কথা চিন্তা করছে যা মানুষ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সরূপ।

জানা গেছে, সরকার বিদেশ থেকে যে চারটি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলোর দুটি জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ না হওয়ায় ‘প্রত্যাহার’ করে নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। আর একটি ওষুধ পরিবেশসম্মত না হওয়ায় এক যুগ আগে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। এছাড়া একটি ওষুধ নিয়ে বিতর্কের কথা জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

জানা গেছে, ডেঙ্গু নিয়ে চলমান সংকট নিরসনের জন্য গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কীটনাশক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, সভায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী ৪-৫টি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কোন কোন ওষুধ কেনা হবে সেটা চূড়ান্ত হয়নি। তবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি নির্দেশে দুই সিটি কর্তৃপক্ষ চারটি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। যার মধ্যে দুইটি ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় থাইল্যান্ড সরকার এগুলো প্রত্যাহার করে। আর বিপিএল লিমিটেড কোম্পানির ‘ম্যালাথিউন ৫৭% ইসি’ কীটনাশকটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বাতিল হওয়া কীটনাশকের তালিকায় রয়েছে। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলায় ২০০৭ সালের দিকে এর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে সংস্থাটি। এর সিরিয়াল নং এপি-৬৮। এর আগে ২০০৩ সালের দিকে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন মশা নিধনে এই ওষুধটি ব্যবহার করতো। বর্তমানে বাতিল হওয়া এই ওষুধটিও কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ওষুধগুলোর রেজিস্ট্রেশন নেই।

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, প্রিমিফোস-মিথাইল ৫০% ইসি নিয়ে একটু কথাবার্তা রয়েছে। তারা কি এটাও তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছে? আর ‘ম্যালাথিউন ৫৭% ই সি’ যদি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নিষিদ্ধ করে থাকে তাহলে সেদিন যে মিটিং হয়েছিল সেখানে তাদের পরিচালকসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। তারা কেন বিষয়টি অবহিত করলেন না? যদি নিষিদ্ধ করা হয়, কী কারণে করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিলেন না? তাদের তো মিটিংয়ে ডাকা হয়েছে, তারা সরকারকে গাইড করবে। সেখানে গিয়ে কেন মুখ বন্ধ করে ছিলেন?’

তিনি বলেন, ‘আমিও ওই কমিটির সদস্য। সেই মিটিংয়ে তো নির্দিষ্ট কোনও ওষুধের নাম উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ৪ থেকে ৫টি ওষুধ রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যাতে একটিতে সমস্যা হলে অন্যটি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সিটি করপোরেশন এই তালিকা কোথায় পেলো?’

আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক (বালাইনাশক প্রশাসন ও মান নিয়ন্ত্রণ) কৃষিবিদ এজেডএম ছাব্বির ইবনে জাহান বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি সরকারের হাই পজিশন থেকে হয়েছে। তাই কোনও মন্তব্য করতে পারবো না।’

এই কর্মকর্তার বক্তব্য থেকেও বুঝা যায় যে, মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে কিংবা কীটত¦ত্ত্ববিদদের মতামতের আলোকে ওষুধ কেনা হচ্ছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কিছু লোক তাদের পছন্দের কোম্পানির কাছ থেকে মূলত ওষুধ কেনার চেষ্টা করছে। এখানে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থই বেশি দেখছে তারা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে এক স্বৈরাচারের বিদায়, গদিতে বসা আরেক স্বৈরাচারের


শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন তা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির শাসন ছাড়া আর কিছুনা। এমন স্বৈরতান্ত্রিক চিন্তা এরশাদের মাথাতেও আসেনি।বাংলাদেশে একনায়কের বিদায় হয়েছে। আর সে বিদায়ের পর ক্ষমতার গদি আঁকড়ে আছে আরেক একনায়ক।

এশিয়ান টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর হালচাল নিয়ে এমনি সোজাসাপ্টা অভিমত ব্যক্ত করেছেন জন কনারস। “এস বাংলাদেশ বুরাইজ ওয়ান ডিকটেটর, এনাদর হোল্ডস ফার্ম,” শিরোনামের এই সম্পাদকীয়টি প্রকাশিত হয় ৩১ জুলাই। জাস্ট নিউজ পাঠকদের জন্য তার ভাবানুবাদ প্রকাশ করা হলো:

১৯৮০ পরবর্তী দশকে যে জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশ শাসন করেছেন গত ১৪ জুলাই তিনি ইন্তিকাল করেছেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিরক্তিকর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। সদ্য যৌবনে পা রাখা দেশটির সবচাইতে বিতর্কিত শাসনামল ছিলো সেটা। বাংলাদেশিরা তার বিদায়ে পেছন ফিরে তাকালে দেখতে পাবে কীভাবে একজন স্বৈরশাসন চালিয়েছিলো আর পরবর্তীতে কীভাবে সে রাজনীতির ছায়ায় পালিত হলো। এরশাদের এই রাজনৈতিক প্রভাবকে আজো খেলো হিসাবেই দেখা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতির হিসেব-নিকেশে একমাত্র স্বৈরশাসকে হিসেবে যাকে দেখা হয় তিনি হলেন এরশাদ।

অতীতের যারা সাক্ষী তারা ১৯৮২ সালে সাবেক এই ক্ষমতাধর শাসকের (এরশাদ) মার্শাল ল জারিকে উঠতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের নকশা মনে করেন। তরুণ বাংলাদেশিরা তাকে শুধুমাত্র একজন সুবিধাবাদী হিসেবেই চিনে। অধিকন্তু এরশাদ ছিলেন স্বৈরশাসক, স্বৈরতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এরশাদকে আমরা যেভাবেই স্মরণ করিনা কেন বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির হিসেবে তাকে কিছুতেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। অন্ততপক্ষে তিনি ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনাকে যেভাবে সমর্থন যুগিয়েছেন সেটার জন্য হলেও তাকে মনে রাখতে হয়। ১৯৭৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত একের পর এক যতো সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে তাতে এরশাদের কল-কাঠি নাড়ায় শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ উপকৃত হয়েছে। সেই ফলের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে দলটি ভালো একটা বিজয় পেয়েছে!

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পর বাইরের দিক থেকে সবার প্রত্যাশা ছিলো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উপায় এবং পন্থাগুলো বিকশিত হবে। দেশ স্থিতিশীল হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, হাসিনা যেভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছেন তা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির বাস্তবায়ন। এরকম স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি এরশাদের মাথাতেও আসেনি।

প্রধান সব বিরোধীদলগুলো ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছিলো। ২০১৮ সালেও স্পষ্টত অস্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে যেটাকে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে “প্রহসন”।

ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য হাসিনাকে কোনো অভ্যুত্থান করতে হয়না। কিন্তু বিরোধীদলকে শেষ করে দেবার যে নির্ভার পন্থা তিনি বেছে নিয়েছেন তাতে করে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকাশের আশা অংকুরে মরে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ভোটে অংশ নিয়েছিলো বিএনপি। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে দলটির হাজারো নেতা-কর্মী আর নির্বাচনী প্রার্থীকে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়। ভোটের দিনেও ৪০ এর বেশী প্রার্থী নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো।

হাসিনা সরকারের অধীনে রাজনৈতিক বিরোধী কর্মী এবং সমালোচকদের সহিংসভাবে দমন করা হয়। আইনের ইচ্ছামতো বদল করে সমাজকর্মী, সাংবাদিক এবং শিল্পীদের আটকে এবং জেলে পুরা হয়। বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বাহানা করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে ব্যবহার করে শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে হাজারো মানুষকে। রাজপথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।

যারা অনলাইনে সরকার, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর স্বজনদের যারা সমালোচনা করে তাদের আটক করতেই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বানানো হয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টে ফেসবুকে এবং আল-জাজিরায় মানবাধিকার লংঘন নিয়ে কথা বলার অপরাধে সাংবাদিক এবং সমাজকর্মী শহীদুল আলমকে ১০৭ দিন জেলে থাকতে হয়েছে।

সবচাইতে অন্যায় আচরণের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে বিএনপি এবং তার নেতাকর্মীদের। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবদনের প্রেক্ষিতে দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে দ্বিগুণ করে সেটা ১০ বছর বানানো হয়েছে। গত বছরের শুরু দিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়। এটাকে ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করার কৌশল বলেছেন সমালোচকরা। আর শেষমেষ সে বুদ্ধিই কাজে লাগানো হলো।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, “২০১৮ সালের বাংলাদেশ নির্বাচনে যেটা খোলাখুলিভাবে দৃশ্যমান হলো তা হলো সরকার শক্ত হাতের ভয় দেখিয়ে তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করছে।”

“সরকারের উচিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্ত মতপ্রকাশ, আইনের স্বাধীনতা এবং গতিশীল সুশীল সমাজকে স্বীকৃতি দেয়া।”

হাসিনার সমর্থকরা তার নেতৃত্বকে বৈধতা দিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বুলি কপচায়।

হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসনে অস্থিরতা ক্রমশ বড়ছে। আর সেটা এখনকার জন্য যেমন, তেমনি দীর্ঘ মেয়াদের জন্যও একটা ঝুঁকি। তার সরকার যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলছে সেটা একটা ঝুঁকি হিসেবে থেকেই যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নেমে আসে তখন থ্রিজি এবং ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় সরকার।

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায় বাংলাদেশের অংশীদার যারা রয়েছে তাদের উচিত সরকারের এসব নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলা।

শেখ হাসিনা ধারাবাহিকভাবে কঠোর হস্তে নির্যাতন করে তার সমালোচকদের মুখ বন্ধ রাখতে চাইছে। এতোকিছু করেও তিনি জাতিসংঘ থেকে “চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ” পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন। পরিবেশ নিয়ে সংবিধান ধারা সংশোধন করার কারণে জাতিসংঘ যখন তাকে স্পষ্টত পুরস্কৃত করছে ঠিক সেই সময়টাতেই গণতন্ত্র সুরক্ষার প্রতি তার যে অবজ্ঞা সে বিষয়টি কিন্তু দৃষ্টিসীমার বাইরে ফসকে যাচ্ছে।

যখন মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং হংকংয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা নিয়ে কথা হয় তখন কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অবনতির বিষয়টি নিয়ে কথা হয়না। ভালো পরিবেশে রাজনীতি থেকে মানুষ কী প্রত্যাশা করতে পারে -এরশাদের মৃত্যু সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশের পরই সব দুধ খাটি!


সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এখানে যে সব কিছুই সম্ভব সেটা আবারও প্রমাণ করলেন সরকারের অনুগত বিচারপতিরা। দেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই সমস্যা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন এসব দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক মাত্রায় ভারী ধাতু, সালফা ড্রাগ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব আছে। তার এই পরীক্ষাকে যাছাই করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন আদালত। তারা যাছাই করে দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে। আদালতে তারা গত সোমবার এনিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এরপর আদালত ১৪টি কোম্পানিকে দুধ উৎপাদন করতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া উৎপাদিত দুধ বিক্রি বন্ধ করতেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার পরই তেলেবেগুনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনা। লন্ডনে বসে তিনি বললেন-কোথা থেকে এক প্রফেসর এসে এসব পরীক্ষা করেছে? ফারুক আহমেদের এই পরীক্ষার সঙ্গে দুধ আমাদানী কারকদের কারসাজি আছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করলেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পুষ্টি ইউনিটের করা পরীক্ষার বরাত দিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বললেন-এসব পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত তরল দুধ খেলে কোনো ক্ষতি নেই। সম্প্রতি দুধের মধ্যে ভারী ক্ষতিকর ধাতুর অস্তিত্বের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়। তাই তরল দুধ খাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের এই রিপোর্ট হাইকোর্ট বিবেচনায় নেবেন বলেও তিনি তখন আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের আশা প্রকাশের এক ঘণ্টা পরই চেম্বার আদালত আদেশ দিলেন যে, ১৪টি কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর কিছু নেই। এই দুধ উৎপাদন ও বিক্রি চলবে।

আদালতের এই আদেশের পর মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করছেন। আগের দিন যেখানে হাইকোর্ট বলেছে দুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই দুধ উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সেখানে একদিন পরই এসব দুধ কি করে খাটি হয়ে গেল?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার ক্ষোভকে প্রশমন করতেই চেম্বার আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। চেম্বার বিচারপতিরা দুধ কোনো পরীক্ষা করেননি। শুধু সরকারকে খুশী রাখতেই তারা এই আদেশ দিয়েছেন। পদ ধরে রাখার জন্য এই মুহূর্তে জাতির বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে সরকারের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন তাদের মূল কাজ। সেটাই তারা করেছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here