সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস! (ভিডিও সহ)

0
4317

অবশেষে ধরা খেলেন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের নেতা ও দখল করে নেয়া একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। আব্দুস সালামকে জেলে ভরে একুশে টিভি দখলে নেয়ার পরই পুরনো সাংবাদিকদেরকে বের করে দিয়ে বুলবুল তার পছন্দের লোকদের নিয়োগ দেয় এখানে। কয়েকজন নারীকর্মীকে প্রথম থেকেই যৌন নির্যাতন করে আসছেন বুলবুল। চাকরি এবং মান সম্মানের কারণে বুলবুলের এসব যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেননি কেউ। কিন্তু একটি পর্যায়ে এসে বুলবুলের এসব অপকর্ম আর চাপা পড়ে থাকেনি। একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন টেলিভিশনটির নারীকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুলবুলের ডাকা সাড়া না দিলেই নারীকর্মীদের ওপর শুরু হয় মানসিক নির্যাতন। তার নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

ইতিমধ্যে বুলবুলের এসব অপকর্ম নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন চ্যানেলটির ‘একুশের চোখ’ অনুষ্ঠানের সাবেক সাংবাদিক ইলিয়াছ হোসাইন।

ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, নাম প্রকাশ না করে একজন উপস্থাপিকা বলছেন, আমরা কি এখানে দেহ বিক্রি করতে এসেছি? আমরা যারা এখানে কাজ করি প্রত্যেকে আওয়ামীলীগ সরকারকে সাপোর্ট করি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- আপনি নারী সমাজের জন্য অনেক কিছু করেছেন। এই বুলবুলের হাত থেকে একুশে টিভির নারীকর্মীদেরকে রক্ষা করুন।

মিনালা দিবা নামে আরেকজন নারীকর্মী বলছেন-এখানে নিউজ এডিটর মঞ্জু এবং জাহিদও এসব করে। আর এগুলো শুধু একহাতে হ্যান্ডেল হয় না। বুলবুলসহ সবাই জড়িত।

গত ৫ জানুয়ারি চ্যানেলটির বর্তমান পরিচালক ও আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সুবহান গোলাপ এখানে আসলে সাংবাদিকরা অভিযোগ জানাতে তার সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু তাদেরকে বাধা দেয় বুলবুলের সমর্থকরা। বুলবুলের ধারণা দেখা করতে পারলে তারা বুলবুলের সব অপকর্ম বলে দেবে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। বেকায়দা দেখে বুলবুল এসময় এখান থেকে সটকে পড়ে।

You-tube ভিডিওঃ  ‘সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুলের যৌন হয়রানির ভিডিও ফাঁস’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ অতি শীঘ্রই আবারো জাতীয় নির্বাচন হবে : অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন


অতি শীঘ্রই আবারো জাতীয় নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে বঞ্চিত করে কোন সরকার কোন দল ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। এ সরকারকেও সরে যেতে হবে।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের আয়োজনে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে নাগরিক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

খন্দকার মাহবুব ব‌লেন, আজকের সরকার প্রতারণা করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এবং প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষমতায় এসেছে। ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ করে তি‌নি ব‌লেন, আপনারা একটি মাত্র ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করুন, সেটা হল বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। গণতন্ত্র ও প্রহসনের নির্বাচন সব কিছুই বলা হবে কিন্তু সবার আগে থাকবে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তির আন্দোলন। তার মুক্তির বিনিময়ে যা কিছু দরকার রাজপথ উত্তপ্ত করে, আন্দোলন করে, সবকিছু করে তার মুক্তির ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে বঙ্গবন্ধু বাকশাল করেছিলেন, আইন করে একদল করেছিলেন। এবার শেখ হাসিনা প্রহসনের ভোটে দ্বারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে। এ সরকার বেশী দিন টিক‌বে না শীঘ্রই নির্বাচন দি‌তে হ‌বে। বিএন‌পির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে একমাত্র উপায় রাজপথ উতাপ্ত করা। যতদিন পর্যন্ত রাজপথ উত্তপ্ত না হবে। ততদিন পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় জেল থেকে বের করা যাবে না বলেও জানান তিনি।

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বেগম জিয়ার গ্রেফতার কোন রাজনৈতিক মামলার না। তার গ্রেফতার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ও রাজনীতির উদ্দেশ্য মামলা করা হয়েছে। তাই আইনের প্রক্রিয়া যতই আমরা বলি না কেন, সরকারের স্বদিচ্ছা ছাড়া তাকে মুক্ত করা যাবে না।

তি‌নি আরো ব‌লেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তার মুক্তির ব্যবস্থা না করে আমরা নির্বাচনে গেছি গণতন্ত্রকামী মানুষের উপর ভরসা করে, এটা কতটা সঠিক ছিল সেটা হয়তো ইতিহাস একদিন বিচার করবে। খন্দকার মাহবুব বলেন, আইনের সাধারণ প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা কঠিন হবে। কারণ বর্তমান সরকার সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই, আইনের শ্বসন প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় বের করতে পারবো বলে আমি আগেও বিশ্বাস করতাম না, এখনও বিশ্বাস করছি না।

নাগরিক আন্দোলন ফোরামের উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলাম এর সভাপ‌তি‌ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলম সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বিএন‌পির নির্বাহী ক‌মি‌টির সদস্য আবু না‌সের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মোশাররফ হো‌সেন সা‌বেক ছাত্র নেতা শাজাহান মিয়া সম্রাট প্রমুখ।

উৎসঃ ‌amadershomoy

আরও পড়ুনঃ ডাকসু নির্বাচন নিয়ে নুরুল হুদার পথেই হাঁটছেন ঢাবি ভিসি আখতারুজ্জামান!


ঘনিয়ে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১১ মার্চ এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু, সকলের মতামতকে উপেক্ষা করে হলগুলোতে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঢাবি ভিসি ড. আখতারুজ্জামানের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে ইতিমধ্যে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হওয়া নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। ভিসির এমন একতরফা সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্রসংগঠনগুলো বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করছে। এমনকি ভিসি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে ছাত্রসংগঠনগুলো কঠোর আন্দোলনেরও হুমকি দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিগত ১০ বছরের মধ্যে ছাত্রদলসহ অন্যকোনো ছাত্রসংগঠন তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। এমনকি অন্য কোনো ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা হলেও থাকতে পারছে না। তাদের পরিচয় প্রকাশ হলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদেরকে পিটিয়ে হল থেকে বের করে দিচ্ছে। বলা যায়- পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এখন ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এমন অবস্থায় অন্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা হলে গিয়ে ভোট দিতে পারবে না বলে তাদের আশঙ্কা। কিন্তু, ঢাবি ভিসি তাদের এই বিষয়টিকে কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না।

এখন অন্যান্য ছাত্রসংগঠনসহ শিক্ষকরাও মনে করছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতোই ডাকসুর নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কারণ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদাও ঢাবি ভিসির মতো এমন শত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে। মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ভোট দিতে পারবে। কিন্তু ভোটের দিন ঘটনা ঘটেছে সম্পূর্ণ বিপরীত।

ছাত্রসংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ডাকসুর ভোটের দিন ভিসি তার কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করবেন না। কারণ, তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত ভিসি। তার টার্গেট ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগকে জেতানো। তিনি তার পদ ধরে রাখার জন্য যেকোনোভাবে হোক ছাত্রলীগকে বিজয়ী করবেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ যেখানে ঐক্যফ্রন্টের বিজয় দেখছেন আ স ম আবদুর রব


জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি জাতীয় পরিষদের সভার রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে সরকার নিজের প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে। গণ বিবেচনায় এ নির্বাচনে সরকারের চরম পরাজয় ও ঐক্যফ্রন্টের বিজয় সূচীত হয়েছে। এবারের ভোট ডাকাতির মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে কোন ভাবেই অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এবারের নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ব্যাপক জনমত প্রমাণ করেছে ঐক্যফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগ নিয়ে জেএসডি সঠিক কাজ করেছে। বর্তমানে ঐক্যফ্রন্টকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করতে হবে।

শুক্রবার জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদ এর এ সভায় এসব বক্তব্য আসে। এতে আরো বক্তব্য রাখেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুল মালেক রতন, মিসেস তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, অ্যাড. সানোয়ার হোসেন তালুকদার, জনাব খোশ লেহাজ উদ্দিন খোকা, এ্যাড. আবদুর রহমান, গোলাম জিলানী চৌধুরী, এম এ আউয়াল, ওয়ালি আহমেদ পাটোয়ারী, আবদুল জলিল চৌধুরী, সোহরাব হোসেন, সুলতান আহমেদ বাচ্চু, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, এ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, মোশারফ হোসেন, আহসান উদ্দিন চৌধুরী সুইট, আবদুর রাজ্জাক রাজা, মতিয়ার রহমান মতি, এস এম রানা চৌধুরী, এ্যাড. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, আবদুল্লা আল তারেক, সৈয়দা ফাতেমা হেনা, আমির উদ্দিন, কাজী আবদুস সাত্তার, আবদুল লতিফ খান, শফিউল আলম, অধ্যক্ষ আবদুল মোত্তালিব, নুর রহমান চেয়ারম্যান, আবুল কাশেম পাটোয়ারী, শাহাদাৎ হোসেন খোকন, শাহেদ কামাল টিটু, এ্যাড. নাজিম উদ্দিন শেখ, সৈয়দ বিপ্লব আজাদ, হাবিবুর রহমান মাস্টার, মোজাম্মেল হক প্রমুখ ।

শুক্রবার সকাল ১০ টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিষদ সভার প্রথম পর্বে এ রাজনৈতিক প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সভায় আরো বলা হয়, সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা যখন বলছেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের মত সুষ্ঠু হবে-তা থেকে এ কথাই প্রমানিত হয় যে, উপ নির্বাচন ও উপজেলা সহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই ভোট ডাকাতি হবে। এমতাবস্থায় জেএসডি আগামী উপজেলা নির্বাচন দলীয় ভাবে বর্জন করবে।

সভায় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লোকমান হাকিম সহ অবিলম্বে সকল রাজবন্দিদের মুক্তি এবং সকল ধরণের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানানো হয়। সভায় জেলা-উপজেলা সম্মেলন সমাপ্ত করে যথাসম্ভব স্বল্প সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎসঃ ‌dailynayadiganta

আরও পড়ুনঃ ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়ঃ দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদকীয়


ভোট হয়ে গেছে প্রায় একমাস। কেমন ভোট হয়েছে তা দেশবাসী জানে। কাউকে নতুন করে কিছু বলে দেয়ার প্রয়োজন নেই। যে দেশবাসী ভোট ডাকাতির প্রত্যক্ষ সাক্ষী তাদের সামনে যতই ভাষণ দিয়ে সাফাই গাওয়া হোক যে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ভোট হয়েছে তারা তা কখনো বিশ্বাস করবে না।

এরই মধ্যে যথারীতি নয়া এমপিদের শপথ হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে এবং ৩০ জানুয়ারি নবগঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছে। আগামী ৫ বছর ক্ষমতা পরিচালনার পুনরায় মালিকানা লাভ করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী আছেন। ১০ বছর পূর্ণ করার পর তিনি আরো ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা পেয়েছেন।

৩০ ডিসেম্বর সম্পন্ন নির্বাচনে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যেভাবে ভোট দিয়েছে, সেভাবেই ফল এসেছে। নতুন করে নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। সিইসি বলেন, মূলত পুরো জাতি ৩০ ডিসেম্বর ভোট উৎসবের মাধ্যমে নতুন একটি সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ২৯৯ আসনে ৪০ হাজারের বেশি কেন্দ্রে ভোট চলাকালে সহিংসতা ও অনিয়মের কারণে ১৬টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তিনটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ফল চূড়ান্ত করা যায়নি। বাকি ২৯৮টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২৫৯টি আসনে। এছাড়া জাতীয় পার্টি ২০টি, বিএনপি পাঁচ ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে। এর বাইরে গণফোরাম, বিকল্পধারা ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) দুটি করে আসনে জয় পেয়েছে। একটি করে আসন পেয়েছে তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি)। তিনটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

নির্বাচনের দিন আমি নিজের ভোট নিজে দিয়েছি। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিও দেখেছি। তাতে নৌকায় ভোট দিয়েছেন এমন লোক খুব কম পেয়েছি। প্রতিপক্ষের তথা ধানের শীষের কোনো এজেন্ট দেখিনাই। ইভিএম-এ প্রথম ভোট। আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, যেহেতু ভোট কারচুপির এই ডিজিটাল বড়িটা জাতিকে নির্বাচন কমিশন গেলাতে চায় সেহেতু এই পরীক্ষামূলক ৬টি আসনে হয়তো কোনো অনিয়ম হবে না। কিন্তু পরে জানলাম আগের রাতে যেভাবে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতাসীনরা অর্ধেক ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরেছে ইভিএমএও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

এটা কী করে সম্ভব হলো? এ যুগে কোনো খবরই গোপন থাকে না। তাই যেটা জানা গেল তা হলো, পূর্বরাতে একটি করে বিশেষ কোড ব্যবহার করে ইভিএম কেন্দ্রগুলোতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট নৌকা প্রতীকে দিয়ে রাখা হয়েছে। আর দিনের বেলায় জাতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সুন্দর ভোটের মহড়া দেখানো হয়েছে।
আগের রাতেই ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভরে রাখার ব্যাপারটা যে সারাদেশে সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে তা আর গোপন নেই। তারপরেও ভরসা পায়নি। তাই ভোটের দিনও সারাদেশে কেন্দ্র দখল করে সিল মেরে কার্যত রাষ্ট্রক্ষমতা ডাকাতি করে দখল করে নেয়া হয়েছে।

আর ভোটের আগে যেভাবে পাইকারি হারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছে তাও দেশবাসী জানে। ভোটের মাঠে যাতে প্রতিপক্ষের কেউ থাকতে না পারে তার পূর্বপরিকল্পনা নিয়েই কাজ করেছে মাঠপ্রশাসন। তাতে অংশীদার হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে আড়াই শতাংশেরও কমসংখ্যক ভোটারের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়া একটি পরিহাসের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জাতীয় সংসদের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি আসন দখল করে একটি নতুন সরকার গঠন করেছিল। ঐ সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টি আসনে কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাসকদল ও তার জোটের প্রার্থীরা এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে জনগণের প্রতিরোধের মুখে এবং তাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরীক দলগুলো এতে অংশগ্রহণ করেছিল।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক কোনো সংস্থাই বলতে গেলে এতে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি, একমাত্র ফেমা এবং আওয়ামী লীগের বশংবদ দু’একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া। ঐ নির্বাচনে সরকার ও তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে ভয়ভীতি এবং প্রলোভন দেখিয়েও ভোটারদের কাছে টানতে পারেনি। অনির্বাচিত এই সংসদ নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তার তৃতীয় মাত্রার অভিযাত্রা শুরু করেছিলেন। বিনা বাধায় তিনি এই সংসদ ও তার থেকে সৃষ্ট সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেন।

এর আগে ২০০৮, ২০০১, ১৯৯৬(৭ম) এবং ১৯৯১ সালের নির্বাচন হয়েছিল নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে। সেসব নির্বাচনেও কিছু অভিযোগ উঠেছিল। তবে তা ছিল মাইনর। দেশে বিদেশে এই নির্বাচনগুলো প্রশংসা অর্জন করেছিল। যেসব দেশে গণতন্ত্র এবং ভোটব্যবস্থা উন্নত নয় তারা আমাদের নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে মডেল হিসেবে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ সংসদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সে ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় সংবিধান সংশোধন করে। তার পরই হলো ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের প্রহসনমূলক নির্বাচন। অর্থাৎ দলীয় সরকারের অধীনে যে এদেশে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ হয়না তা আবারো প্রমাণ হলো।

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে কার্যত আওয়ামীলীগ ছাড়া কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী দলই ছিল না। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সময়ে জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করেছিল। ১৯৮২ সালে নির্বাচিত সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা ডাকাতি করে নিয়েছিল এরশাদ।

তারপর ১৯৮৬ সালে ভোট ডাকাতি আর ১৯৮৮ সালের একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তীব্র গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। তারপর থেকে দেশে সর্বসম্মতভাবেই এসেছিল তত্তাবধায়ক সরকার। এটা ছিল গণতন্ত্রের নবযাত্রা। কিন্তু তা বাতিল করার কারণে কার্যত আমাদের জনগণের আর ভোটাধিকার নেই। ভোট দিয়ে জনগণ এখন আর তাদের পছন্দের দলকে ক্ষমতায় আনতে পারছে না।

পর্যবেক্ষক মহল বলছে, ডাকাতির ভোটে আওয়ামীলীগ ও তার শরিকরা যতই আত্মতৃপ্তি পাক তাতে দলটির লাভ হয়নি। এই দলটি স্বাধীনতাযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে, এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু জনগণের উপর দলটি কেন আস্থা হারিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল? সুষ্ঠু ভোট হলে এক টার্ম যদি দল ক্ষমতায় আসতে না পারতো তাহলে তার এমন কী ক্ষতি হতো? এতে দলের সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়েছে বলেই মনে করছে বোদ্ধা মহল। তাছাড়াও স্বাভাভাবিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে অস্বাভাবিক ব্যবস্থাও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে সেই আশঙ্কাও মাথায় রাখতে হবে।

ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল যে হবে না সেটা আর এখন কারো বুঝতে অসুবিধা নেই। মূলত ভোট ব্যবস্থার প্রতিই মানুষের আর কোনো আস্থা নেই। অনেকের আশঙ্কা যে, এই টার্ম অর্থাৎ আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারলে ক্ষমতাসীনরা হয়তো বিএনপি তথা প্রধান বিরোধী দলকেই শেষ করে দেবে। ৫ বছর পরে হয়তো কোনো প্রতিদ্ব›দ্বী দলই থাকবে না। আবার ফাঁকামাঠে গোল হবে। অর্থাৎ দীর্ঘ মেয়াদী একদলীয় শাসন কায়েম হতে বোধহয় আর বাকি নেই।

প্রশ্ন হলো, তারপর কী? কোনো স্বৈরশাসন বা কর্তৃত্ববাদী শাসনই স্থায়ী হয়নি। এটা প্রকৃতিরই নিয়ম। ক্ষমতার পালাবদল অবশ্যম্ভাবী। এই সরল সত্য সরকারও মনে রাখলে ক্ষমতাসীনরাই উপকৃত হবেন। তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করবেন না, এটাই কাম্য।

লেখক: সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নিরঙ্কুশ জয়ঃ ব্যারিস্টার খোকনের অভিনন্দন


সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যের নিরঙ্কুশ বিজয়ে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিনন্দন জানান। ব্যারিস্টার খোকনের পক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু এ বিবৃতিটি প্রেরণ করেন।

বিবৃতিতে তিনি নির্বাচিত নেতারা যেন আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করতে পারে সে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এছাড়া বিবৃতিতে ব্যারিস্টার খোকন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বিএনপিপন্থী প্যানেলের বিজয়ীদেরও অভিনন্দন জানান।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যে প্যানেল থেকে সম্পাদকসহ ৮টি পদে এবং আওয়ামী লীগ থেকে সভাপতিসহ ৩টি পদে নির্বাচিত হন।

উৎসঃ ‌jugantor

আরও পড়ুনঃ ভোটে অনিয়ম : জাতিসঙ্ঘে শ্বেতপত্র দেবে বিএনপি


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট ডাকাতি’, ‘ব্যালট ছিনতাই’সহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্যসংবলিত শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে বিএনপি। এ নিয়ে কাজ করছে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একটি টিম। লিখিত তথ্য সংগ্রহের পর তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ধানের শীষের দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থী তাদের নির্বাচনী আসনে বিভিন্ন অনিয়ম সংবলিত প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সব প্রার্থীর প্রতিবেদন জমা হলে তার ওপর ভিত্তি করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এ ছাড়া যেসব প্রার্থী ভিডিওচিত্র জমা দিচ্ছেন সেগুলো একত্রিত করে একটি সমন্বিত তথ্যচিত্র তৈরি করা হবে। এরপর প্রতিবেদনের কপি নির্বাচন কমিশন, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দূতাবাস, কূটনৈতিক মিশন ও জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে দেয়া হবে। সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিবেদন গণমাধ্যমে তুলে ধরা ছাড়াও দেশী-বিদেশী সংস্থাগুলোকে জানানো হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে বক্তব্য দেবেন দলটির নেতারা। বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নোয়াখালী-৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুুপি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করব আমরা। এ বিষয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, নির্বাচন যেটা হয়ে গেল, সেই নির্বাচনের বিবরণী আমরা দিতে চাই এবং দেবো আমরা। এর ওপরে আমরা তথ্যভিত্তিক একটি শ্বেতপত্র বের করব। তাতে মানুষ দেখবে- জনগণ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছে, ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পেরেছে। প্রশাসন-পুলিশ নির্বাচন করেছে, সেখানে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৩ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেয়া হয় ধানের শীষের প্রার্থীদের। চিঠিতে প্রত্যেক প্রার্থীকে আটটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরাবর জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রার্থীদের নিজের ও পরিবারের অবরুদ্ধ হয়ে পড়া কিংবা হামলায় আহত, সহায় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য ও ছবি, নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় সংঘটিত অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের তাণ্ডব এবং সন্ত্রাসের সচিত্র প্রতিবেদন ইত্যাদি চাওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়া দিগন্তকে বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রার্থী তাদের নির্বাচনী আসনে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির তথ্যসংবলিত লিখিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমরা প্রত্যাশা করছি খুব স্বল্প সময়ের ভেতরেই সব প্রার্থী রিপোর্ট জমা দেবেন। এসব রিপোর্ট কী করা হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এসব রিপোর্ট বিশ্লেষণ-পর্যালোচনা করে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করবো। যা রেকর্ড হিসেবে থাকবে।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি গায়েবি মামলা ও হামলা-নির্যাতনের শিকার দলের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে দলের কারাবন্দী নেতাকর্মীদের আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে গত মাসের মাঝামাঝি নাগাদ দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুগ্ম-মহাসচিবদের প্রধান করে গঠিত ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় কমিটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। অনেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা সফর করে এসেছেন, আবার অনেকে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এর আগে টিম লিডাররা প্রাথমিকভাবে বিভাগের সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং অধীনস্থ জেলার নেতাদের নিয়ে জেলার ক্ষয়ক্ষতি ও মামলার বিষয়ে কথা বলছেন। তারপর তারা জেলা সফরে যাচ্ছেন। সফরে গিয়ে টিম লিডাররা সংশ্লিষ্ট বিভাগের ধানের শীষের প্রার্থীদের সাথে কথা বলছেন। নেতাকর্মীর জামিনে মুক্তি লাভে প্রধান অন্তরায়গুলো কী তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের কতটুকু আইনি সহায়তা দেয়া হচ্ছে, সেটিও চিহ্নিত করছেন।

এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের সাহায্যার্থে প্রার্থীরা কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন কি-না কিংবা নিতে না পারলে সমস্যা কোথায়-চিহ্নিত করছেন। সফরে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের দলের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো আর্থিক সহায়তাও দেয়া হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যে তৃণমূল সফর শেষ করে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি নিজ নিজ প্রতিবেদন দলের হাইকমান্ডের কাছে জমা দেবেন টিম লিডাররা। তারপর দলের নীতিনির্ধারকেরা সেসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই ব্যাপারে আশু করণীয় নির্ধারণ করবেন।

জানতে চাইলে রংপুর বিভাগে সাংগঠনিক প্রধান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গত মঙ্গলবার রংপুরে গিয়ে প্রার্থীদের সাথে কথা বলে খোঁজখবর নিয়েছি। কতজন জেলখানায় আছে, কতজন মামলার আসামি তাদের ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়ে এসেছি। হতাহতদের পরিবারকে দলের পক্ষ থেকে সহায়তা দেয়ার কথাও বলেছি। আমি নিজেও আহত পরিবারের লোকজনকে সহযোগিতা দিয়েছি।

গত মঙ্গলবার দুপুরে নেত্রকোনায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে হামলা-মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের খবর নিতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে নেত্রকোনা জেলা বিএনপি। এতে ময়মনসিংহ সাংগঠনিক বিভাগের প্রধান ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। নেত্রকোনা-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা: আনোয়ারুল হকের বাসভবনে এই সভা হয়। এতে নেত্রকোনা জেলার অন্যান্য আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ছাড়াও বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল বারী ড্যানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উৎসঃ ‌dailynayadiganta

আরও পড়ুনঃ বিএনপির আইনজীবী ফোরামের নতুন কমিটি, আহ্বায়ক জমিরউদ্দিন


কারাবন্দি দলের চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তি ত্বরান্মিত করতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে প্রধান করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে সিনিয়র আইনজীবীদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে বৈঠক শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।

গুলশান সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে উপস্থিত বেশির ভাগ আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠনের দাবি তোলেন। আগামী মার্চে সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।পরে দলের সিনিয়র নেতারা স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারকে প্রধান করে এক সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে।পরে তিনি(জমির উদ্দীন সরকার) আহ্বায়ক কমিটিতে আরও সদস্য যুক্ত করে আগামী এপ্রিলের মধ্যে আইনজীবী ফোরামের নতুন কমিটি গঠন করবেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ব্রেকিংনিউজকে জানান, আগামী এপ্রিল পর্যন্ত জমিরউদ্দিন সরকার সময় নিয়েছেন, এরপর তিনি নতুন কমিটি করবেন। এপ্রিলের যেকোনও সময় বসে আলোচনার মাধ্যমে তিনি কমিটি করবেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার,লে.জে অব:মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here