কাশ্মিরে পাশবিকতা চালাচ্ছে সরকার : মমতা

0
198

কাশ্মিরে বিরোধীমতকে দমন করতে পাশবিকতা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জি। বুধবার কলকাতায় এক সমাবেশে মমতা বলেন, কাশ্মিরে কী হচ্ছে? সরকার বিরোধীমতকে দমন করতে পাশবিকতার পন্থা অবলম্বন করেছে।

গত ৫ আগস্ট কাশ্মিরের স্বায়ত্বশাসন বাতিল করে ভারত সরকার। এরপর থেকে অঞ্চলটিকে অবরুদ্ধে করে রাখা হয়েছে। কারফিউ জারি করে জনজীবন স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কাশ্মিরের বিরোধীদলীয় সব শীর্ষ নেতাকে। এছাড়া প্রচুর সংখ্যক সমাজকর্মী, তরুণদেরও গ্রেফতারা করা হয়েছে বিক্ষোভ এড়াতে।

একই সাথে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে অভিযুক্ত করে মমত বলেন, সরকার সব রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে ‘জি হুজুর’ টাইপের লোক বসিয়েছে। তিনি বলেন, সব প্রতিষ্ঠানে অবসর প্রাপ্ত লোকদের প্রধান করা হয়েছে, যাদের কোন জবাবদিহীতা নেই। তারা শুধু সরকারের আদেশ পালন করছে।

মমতা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার হয় বিরোধীদের হুমকি দিচ্ছে নয় তো তাদের টাকার বিনিময়ে কিনে নিচ্ছে। আমরা পশ্চিমবঙ্গবাসী শুরু থেকেই এর বিরুদ্ধে স্বোচ্চার।

উৎসঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর ইস্যুতে ফ্রান্স ও জর্ডানকে পাশে চায় পাকিস্তান


অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনায় কূটনৈতিক সহায়তা পেতে এবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোন ও জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

কাশ্মীরিদের অধিকার রক্ষায় পাকিস্তান যে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে, তারই অংশ হিসেবে বুধবার টেলিফোনে এ দুই নেতার সঙ্গে ইমরান খান কথা বলেছেন।

পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ডন ও জিয়ো নিউজের খবরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোনকে কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ফোনালাপে ইমরান খান বলেন, হিমালয় অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসন বাতিলের মাধ্যমে মূলত ওই অঞ্চলের পরিচিতি মুছে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে ভারত। যেটি জাতিসংঘের গৃহীত সিদ্ধান্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ উপত্যকাটিতে গণহত্যার আশংকার কথা জানিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তে নতুন কোনো ইস্যু সৃষ্টির তৈরির মাধ্যমে ভারত সরকার কাশ্মীর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ফেরানোর চেষ্টা করছে।

সাবেক এই ক্রিকেট কিংবদন্তি বলেন, বিশ্ব শক্তিকে কাশ্মীরি জনগণের পক্ষে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ ইতিমধ্যে সেখানে গণহত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছে মোদি সরকার।

জবাবে ম্যাঁক্রোন জানান, কাশ্মীর নিয়ে সৃষ্ট সংকট ফ্রান্স গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এদিকে আলাদা ফোনালাপে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহর সঙ্গেও কথা বলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ভারত সরকার কর্তৃক কাশ্মীরি জনগণের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেয়ার বিষয়ে জর্ডানের বাদশাহকে অবহিত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কাশ্মীরি জনগণের অধিকার রক্ষায় ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইতিমধ্যে জাতিসংঘের স্থায়ী পাঁচ সদস্য, সৌদি আরবসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভারত সরকারের মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীর


মুক্তির জন্য ভারত সরকারের দেয়া শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই সব শর্ত মানতে রাজি হননি মেহবুবা এবং ওমর, এ কারণে তাদের বন্দিদশার মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়েছে।

কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের আগের দিন গত ৪ আগস্ট ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করে ভারতীয় বাহিনী। পরদিন তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে শ্রীনগরের বাসা থেকে স্থানীয় সরকারী গেস্ট হাউসে রাখা হয়।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক মুক্তির প্রস্তাব নিয়ে মেহবুবা এবং ওমরের সঙ্গে নিজে দেখা করেছিলেন। বন্দিদশা থেকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে এর জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কয়েকটি শর্তারোপ করা হয়।

মুক্তির প্রস্তাবে সাবেক এ দুই মুখ্যমন্ত্রীকে বলা হয়, বন্দিদশা থেকে ছাড়া পেলে সমর্থকদের নিয়ে কোনোরকম সমাবেশ করা যাবে না। ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রতিবাদে কোনো প্রকার মিটিং-মিছিল ডাকা যাবে না। তবে এই শর্ত মানতে রাজি হননি মেহবুবা এবং ওমর। এরপরই তাদের আরও বেশ কিছুদিন বন্দি রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

এ নিয়ে যদিও দিল্লির তরফে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে মেহবুবা এবং ওমরের কাছে এই ধরনের প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সত্যপাল মালিক।

ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কাউকে ছাড়া হবে, না আটক করে রাখা হবে, রাজ্যপাল সেই সিদ্ধান্ত নেয় না। আমি কোনও প্রস্তাব দিইনি।’

গত ৫ আগস্ট গ্রেফতারের পর মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে প্রথমে শ্রীনগরের হরি নিবাস প্যালেসে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে দু’জনের মধ্যে বচসা বাধলে, পৃথক গেস্ট হাউসে সরিয়ে নেয়া হয় তাদের।

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক এ দুই মুখ্যমন্ত্রীকে সবধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। তাদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, দলীয় নেতাকর্মী কাউকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। তাই পাহারায় থাকা পুলিশদের কাছ থেকেই উপত্যকা সম্পর্কে তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। ওমর আবদুল্লার পিতা ফারুক আবদুল্লাকেও গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

দিল্লির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জম্মু-কাশ্মীরের ভারতপন্থী হিসেবে পরিচিত এ নেতাদের কবে মুক্তি দেয়া হবে, পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয় প্রশাসনই তা ঠিক করবে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের আকাশে ভারতের বিমানচলাচল বন্ধ করছে ইসলামাবাদ


কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল নিয়ে পাক-ভারত উত্তেজনা চলছে। এরই মধ্যে পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশ দুটি একে অপরকে হামলার হুমকি দিয়েছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের আকাশে ভারতের কোনো বিমান চলাচল করবে না বলে হুমকি দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সড়ক পথও বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে। খবর ইন্ডিয়া ট্যুডের।

পাকিস্তানের বিজ্ঞানমন্ত্রী ফাহাদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতীয় বাণিজ্য বন্ধ করতে রুটগুলো বন্ধের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।

এক টুইট বার্তায় ফাহাদ চৌধুরী বলেন, ভারতীয় বিমানচলাচল সর্ম্পূণ রুপে বন্ধ করতে বিবেচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে ভারত-আফগানিস্তান বাণিজ্য চলাচলে পাকিস্তানের স্থলপথও বন্ধ করে দেয়া হবে। এ সিদ্ধান্তগুলোর আইনি আনুষ্ঠানিকতা বিবেচনাধীন।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, মোদি শুরু করেছে আমরা শেষ করব!

কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় এর আগেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনমন করেছিল পাকিস্তান।

এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বালাকোটে বিমানহামলাকে কেন্দ্র করে আকাশসীমা বন্ধ করে পাকিস্তান। পাঁচ মাস দেশটির আকাশসীমা ভারতের জন্য বন্ধ করে রাখার পর জুলাই মাসের ১৬ তারিখে তা খুলে দেয়া হয়েছে।

ভারত চলতি মাসের ৫ আগস্ট দেশটির সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে। ফলে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হয়। ওই অঞ্চলটিকে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করেছে। এরপর থেকে কার্যত জম্মু-কাশ্মীর ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে উপত্যকাটিতে ৫০ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মকর্তা মোতায়েন করে ভারত। হিমালয় ঘেরা অঞ্চলটিতে কারফিউ জারি করে। আটক করা হয় মুসলিম নেতাদের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে নিয়মিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক হাজার স্বাধীনতাকামীকে।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মীর অঞ্চলে ইন্টারনেট, টেলিফোন ও মোবাইল পরিসেবা বন্ধ করে দেয়। ওই অঞ্চলটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন করে দেয়া হয়। এরপর থেকেই পাকিস্তান ভারতের মধ্যে উত্তেজনা চলমান রয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সীমান্তে কমান্ডো মোতায়েন পাকিস্তানের, উদ্বিগ্ন ভারত


কাশ্মীর নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর স্পেশাল কমান্ডো মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি)-এর কমান্ডো মোতায়েনের খবর পেয়েছে ভারতীয় সেনারা।এরপরই সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সেনাবাহিনী জানায়, সীমান্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (এসএসজি)-এর ১০০ সেনা কমান্ডো মোতায়েনের পর ভারতীয় বাহিনীও বিশেষ অবস্থানে রয়েছে। পাকিস্তানের হঠাৎ কমান্ড মোতায়েনে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়িয়েছে সেনাবাহিনী।

নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কমান্ডোদের উপস্থিতি নজরে আসতেই তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে ভারতীয় সেনারা।

এদিকে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার ইন্ডিয়া ট্যুডের খবরে বলা হয়েছে, লাদাখের নিকটবর্তী সীমান্তের কাছে চীন-পাকিস্তান আকাশে যুদ্ধের জন্য অবস্থান নিয়েছে এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ) এটি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের জে-১০ এবং পাকিস্তানি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান আকাশে মহড়া শাহীনের অংশ নিয়েছে যেটি লেহ শহর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উত্তরে হোতান শহর নামক স্থানে।

গিলগিটের বালিতিস্তান অঞ্চল থেকে পাকিস্তান যে জেএফ-১৭ বিমানগুলো স্কার্দু বিমানবন্দর অনুশীলনের জন্য নিয়ে গেছে সেগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে বিমানবাহিনী।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন পরে এই বিমানবন্দরটি চীনা বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে ব্যবহার করছে যা ভারতের সঙ্গে উত্তর অঞ্চলে বেশ কয়েকটি ঘাঁটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন লাদাখের চুমার ও ডেমচকের আশপাশে ভারতীয় ভূখণ্ডে আক্রমণ ও সীমালঙ্ঘন করে আসছে, তারা তিব্বত অঞ্চলটিকে তাদের বলে দাবি করে আসছে।

ভারত চলতি মাসের ৫ আগস্ট দেশটির সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে। ফলে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হয়। ওই অঞ্চলটিকে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করেছে। এরপর থেকে কার্যত জম্মু-কাশ্মীর ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে উপত্যকাটিতে ৫০ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মকর্তা মোতায়েন করে ভারত। হিমালয় ঘেরা অঞ্চলটিতে কারফিউ জারি করে। আটক করা হয় মুসলিম নেতাদের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে নিয়মিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক হাজার স্বাধীনতাকামীকে।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মীর অঞ্চলে ইন্টারনেট, টেলিফোন ও মোবাইল পরিসেবা বন্ধ করে দেয়। ওই অঞ্চলটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন করে দেয়া হয়।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পারমাণবিক যুদ্ধে কারও জয় হবে না: ইমরান খান


কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে পারমাণবিক হামলার হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সোমবার জাতির উদ্দেশে দেয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ হুমকি দেন।

তিনি বলেন, যদি দ্বন্দ্ব যুদ্ধের দিকে আগায় তবে মনে রাখতে হবে উভয় দেশের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। পারমাণবিক যুদ্ধে কারও জয় হবে না। এর বৈশ্বিক প্রভাব রয়েছে। বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশগুলোর বিশাল দায়িত্ব রয়েছে, তারা আমাদের সমর্থন করুক না করুক, পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত যাবে। খবর ইন্ডিয়া ডট কমের।

পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাশ্মীর ইস্যু এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন ইমরান খান।

তিনি বলেন, আমাদের সফল, কাশ্মীর ইস্যু এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। আমরা বিশ্ব নেতা ও দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। জাতিসংঘ ১৯৬৫ সালের পর এই প্রথম কাশ্মীর নিয়ে সভা আহ্বান করেছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মিডিয়া এটিকে তুলে ধরেছে।

ইমরান খান আরও বলেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ভারতের যে কোনো হত্যা রোধে প্রস্তুত রয়েছে। ভারত আমাদের দেউলিয়া করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানকে দোষারোপ করা ভারতের সব সময়ের প্রবণতা। সময় এসেছে কয়েক দশক ধরে চলা কাশ্মীর সমস্যা সম্পূর্ণ সমাধানের।

ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছেন দাবি করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় আসার পরই আমি ঘোষণা করেছি, ভারত যদি সম্পর্কোন্নয়নে এক কদম এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা দু’কদম এগিয়ে যাব। কাশ্মীরের বিষয়েও আমরা আলোচনার কথা বলেছি। কিন্তু ভারত শুরু থেকেই আমাদের ওপর সন্ত্রাসবাদেরও অপবাদ আরোপ করছে।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ইমরান খান বলেন, ৫ আগস্ট কাশ্মীরকে গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে মোদি সরকার বিশ্বকে এ বার্তা দিয়েছে যে, ভারত শুধু হিন্দুদের। বিজেপি ও আরএসএস এ মতাদর্শ নিয়ে কাজ করছে। নরেন্দ্র মোদিও আরএসএসের সদস্য ছিলেন। মুসলিম বিদ্বেষ নিয়েই তারা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।

ইমরান খান বলেন, কাশ্মীর নিয়ে অহংকারবশত মোদি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা যে একটি ঐতিহাসিক ভুল, সময়ই তা প্রমাণ করবে। তার এমন ভুলে কাশ্মীরি জনগণের স্বাধীনতার সুযোগ এসেছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর নিয়ে চীন-পাকিস্তানের সামরিক পর্যায়ে বৈঠক, চিন্তায় ভারত?


কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। এতে চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান জেনারেল সু কিলিয়াং ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া অংশগ্রহণ করেছেন। এরপরই ভারত নিয়ন্ত্রিত লাদাখ নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি।

সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে। এ দিন চীনা সামরিক পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান পাক সেনা দফতর পরিদর্শন করেন। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান ও পাক সেনাপ্রধান একান্ত বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

জেনারেল কামার কাশ্মীর ইস্যুতে বেইজিংয়ের বোঝাপড়া এবং সমর্থনের প্রশংসা করেছেন। এ সময় চীনা সামরিক ভাইস-প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তান হচ্ছে সময়ের পরিক্রমায় উত্তীর্ণ ও পরীক্ষিত বন্ধু।

আইএসপিআর জানায়, বৈঠকের সময় দু’দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় চীন পাকিস্তানকে সামরিক দিক দিয়ে আরও বেশি সক্ষম করে তোলার জন্য সহযোগিতা করবে।

এর আগে, চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান সু কিলিয়াং পাক সেনা সদর দফতরে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর সংকট নিয়ে যখন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে তখন থেকেই চীন ইসলামাবাদের প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে। এ ছাড়া, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে সেখানেও সমর্থন অব্যাহত রেখেছে বেইজিং।

এদিকে এদিন সোমবার ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া ট্যুডের খবরে দেশটির সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, লাদাখের নিকটবর্তী সীমান্তের কাছে চীন-পাকিস্তান আকাশে যুদ্ধের জন্য অবস্থান নিয়েছে এবং ভারতীয় বিমানবাহিনী (আইএএফ) এটি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে।

চীনের জে-১০ এবং পাকিস্তানি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান আকাশে মহড়া শাহীনে অংশ নিয়েছে যেটি লেহ শহর থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উত্তরে হোতান শহর নামক স্থানে।

গিলগিটের বালিতিস্তান অঞ্চল থেকে পাকিস্তান যে জেএফ-১৭ বিমানগুলো স্কার্দু বিমানবন্দর অনুশীলনের জন্য নিয়ে গেছে সেগুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখছে বিমানবাহিনী।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ এরদোগানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান


ভারত অধিকৃত বিরোধীয় জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে চলামান উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। এরপর সোমবার পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এরদোগানকে ধন্যবাদ জানানো হয়। কয়েক দশক ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উপত্যকাটি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। খবর ইয়েনি শাফাকের।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি তার তুরস্কের সমকক্ষ মেভলুত কাভুসগলুর সঙ্গে টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ভারত অধিকৃত নিরস্ত্র জম্মু-কাশ্মীরি মুসলমানদের পক্ষে আওয়াজ তোলার জন্য। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোরেশি টেলিফোনে কাভালগলুর সঙ্গে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে বিরোধীয় হিমালয় ঘেরা উপত্যকাটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে।

ভারত চলতি মাসের ৫ আগস্ট দেশটির সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল করে। ফলে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল হয়। ওই অঞ্চলটিকে দুটি রাজ্যে বিভক্ত করেছে। এরপর থেকে কার্যত জম্মু-কাশ্মীর ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সব মিলিয়ে উপত্যকাটিতে ৫০ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মকর্তা মোতায়েন করে ভারত। হিমালয় ঘেরা অঞ্চলটিতে কারফিউ জারি করে। আটক করা হয় মুসলিম নেতাদের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে নিয়মিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কয়েক হাজার স্বাধীনতাকামীকে।

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মীর অঞ্চলে ইন্টারনেট, টেলিফোন ও মোবাইল পরিসেবা বন্ধ করে দেয়। ওই অঞ্চলটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন করে দেয়া হয়।

এমন সব ঘটনার পর তুর্কি সরকার কাশ্মীর ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

তুরস্ক মুসলিম উম্মাহকে সমর্থন করায় আঙ্কারার প্রসংশা করেছেন। তিনি বলেন, যে কোনো আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পাকিস্তান এবং তুরস্ক উভয় একে অপরকে সমর্থন করবে।

তিনি আঙ্কারাকে উপত্যকায় মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ ও চলমান কারফিউ শেষ করতে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

কাশ্মীরের বিষয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের পর তুরস্ক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিশদ বিবৃতি দিয়েছে; যাতে জাতিসংঘের রেজুলেশনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘকালীন বিরোধ নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাশ্মীর নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন বৈঠকে সম্মত হয়েছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here