মধ্যরাতের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোটাররা প্রতারিত হয়েছেনঃ হারুনুর রশীদ (ভিডিও সহ)

0
148

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, নির্বাচনে কৌশলে বিএনপি হেরে গেছে, এটা ঠিক নয়। নির্বাচনের আগের রাতেই ব্যালট ভর্তি, পরের দিন গণনা। এজন্য এ সংসদকে বলা হচ্ছে মধ্য রাতের পার্লামেন্ট। এ সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা প্রতারিত ও অপমানিত হয়েছেন। এ নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত করে দেয়া দরকার। তারা ব্যর্থ, অযোগ্য।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিডিওঃ  ‘সংসদে কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে আ’লীগের এমপিদের বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন বিএনপির হারুনুর রশীদ (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

নির্বাচন পরিচালনার জন্য পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পুলিশ সুপারদের যে চিঠি দেয়া হয়েছে- তা নজিরবিহীন’ দাবি করে হারুন বলেন, চিঠিতে নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এসপিরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছেন বলেও সেখানে বলা হয়। এই যে সুষ্ঠু পরিকল্পনা- এটার মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে। রাতে সিল থাকাতে নির্বাচন কমিশন এখন বলছে, ব্যালট পেপার পাঠাব সকাল বেলা। স্বচ্ছ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা প্রশ্নবিদ্ধ।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি মন্তব্য প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নির্বাচন কমিশন বিলুপ্ত করে দেয়া দরকার। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি ইসি। তারা ব্যর্থ, অযোগ্য। কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বলেন, জননিরাপত্তা এখন কোথায়? এ সরকারের আমলে গত ১০ বছরে নিখোঁজ হয়েছে প্রায় ১২ শ’ মানুষ। গুম ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে কতজন, আমি জানি না। আমি এ সংসদে কথা বলছি, আমি আজ বাড়ি ফিরে যেতে পারব কি না, রাস্তা থেকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে আমার ভাগ্যে ইলিয়াসের ভাগ্য জুটবে কি না- এ কথা বলতে পারব না। তারা (সরকারি দল) আমাদের উপহাস করে বলে, বিএনপি রাস্তায় দাঁড়াতে পারে না। বিএনপির কত নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছে, অপহরণ, ক্রসফয়ারের শিকার হয়েছে, তার তথ্য আমি আপনার (স্পিকার) কাছে পৌঁছে দেব।

বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার মামলা হয়েছে। সরকারি দল তো সবসময় বলে মেজর জিয়া মদের লাইসেন্স দিয়েছেন। উনি তো মুসলমানদের জন্য লাইসেন্স দেননি। অন্য ধর্মের জন্য দিয়েছেন। তো আপনারা ২০ বছর ক্ষমতায়। কেন সেই লাইসেন্স বাতিল করছেন না? তিনি বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। ব্যাংকলুটেরা, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার কথা এ বাজেটে উল্লেখ নেই। এটা একটা অদ্ভুত সরকার। মহাজোটের ভোট করে শরিকদের বিরোধী দলে বসিয়ে দিলেন। আজ সংসদে তাদের চেহারা মলিন। উনাদের অবস্থা নিয়ে উনারা-ই আজ বিব্রত।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌ড. কামাল ‘আওয়ামী লীগের পক্ষে’ কাজ করেছেন: সংসদে নাসিম


আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘বিএনপি বার বার ভুল করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি লোক ভাড়া করল। কাকে করলেন? আওয়ামী লীগে ফেইলর যে, তাকে (ড. কামাল)। আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত অত্যন্ত বিদগ্ধ শিক্ষিত মানুষ। বিএনপি সেই শিক্ষিত মানুষকে ভাড়া করল, কামাল হোসেনের মত একজন ব্যর্থ চক্রান্তকারী মানুষকে ভাড়া করল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সামনে দাঁড় করাল। জিততে পারবেন? জিততে পারবেন না। তিনি কি করলেন? আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করে মাঠ খালি করে দিলেন।’

১৪ দলের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘নাসিম আরও বলেন, নির্বাচনে কামাল হোসেন সমস্ত মাঠ খালি করে দিলেন। আমরা ফাঁকা মাঠে গোল দিলাম। এই হচ্ছে ভাড়াটিয়া নেতার উপহার। ওরা ভাড়া করে ওদের জন্য কাজ করল আমাদের জন্য। এভাবেই বিএনপি শেখ হাসিনার কৌশলে কাছে হেরে গেছে। আমাদের কাছে কৌশলে আপনারা (বিএনপি) বার বার হেরে গেছেন।’

সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর) আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার নিজের নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খুঁজে পাই না। একজন গায়িকা দিয়েছিলেন, সেই গায়িকাকেও খুঁজে পাওয়া গেল না, গানও পাওয়া গেল না। ফাঁকা মাঠে গোল দিয়েছি। খেলা যদি ফাঁকা মাঠে হয়, কি করব? দুই দিকে গোল পোস্ট থাকে। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা থাকেন ফরোয়ার্ডে, আরেক দল মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল, গোল তো দেবই বার বার গোল দেব।’

আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বিএনপির সদস্যরা সংসদকে অবৈধ বলেন আবার কিভাবে বৈধ হয়ে সংসদে বসে আছেন। আসলে বিএনপি হচ্ছে খুনির দল, খুনিদের লালন-পালনকারীদের দল। বিএনপি এখন পাপের ফল ভোগ করছে। বিএনপি আমাদের কাছে বার বার হেরে গেছেন, নির্বাচনে মাঠ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। আন্দোলন করারও ক্ষমতা আপনাদের নেই। একমাত্র আওয়ামী লীগই জানে কীভাবে আন্দোলন করতে হয়।’

উৎসঃ ‌‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌অতিরিক্ত যাত্রী নয়, বরং বাঁশ দিয়ে সেতু মেরামত করায় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে!


সোমবার স্মরণ কালের ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। একটি রেল সেতু থেকে ৫টি বগি ছিটকে খালে পড়ে যায় এবং কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, সেতুটি একটি গ্রাম ও বাজারের নিকটবর্তী হওয়ায় দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের চিৎকার শুনে লোকজন এসে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে পেরেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, আমরা সহজে উদ্ধারকার্য চালাতে পেরেছি বলে বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি। অন্যথায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় কয়েকশ মানুষের প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা ছিল।

এদিকে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা নিয়ে রেলমন্ত্রী, সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তারা নিজেদের দায় এড়িয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। রেলমন্ত্রীর দাবি-অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সচিব বলছেন-অতিরিক্ত যাত্রী ও দ্রুতগতিতে চলার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে সচেতন মহল বলছেন, দায় এড়ানোর জন্য ক্ষমতাসীন সরকারের উপরস্থ কর্মকর্তারা এসব কথা বলছেন। অনেকটা উদুর পিন্ডি বুধুর ঘাড়ে দিয়ে পার পেতে চাচ্ছেন তারা।

২০১৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অতিরিক্ত যাত্রী কিংবা দ্রুতগতিতে চলার কারণে নয় বরং বাঁশ ‍দিয়ে স্লিপার তৈররি কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ি কুলাউড়ার এই রেল সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যায় জর্জরিত। ২০১৭ সালের প্রথমেই সেতুটি চলাচলের জন্য বিপদজনক ছিল। সেতুটির অধিকাংশ কাঠের স্লিপার নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তখন কর্তৃপক্ষ নষ্ট কাঠের স্লিপার ঠিক করতে বাঁশ ব্যবহার করে।

ওই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বাঁশ ব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদন করা হলেও টনক নড়েনি কতৃপক্ষের। ওইসব প্রতিবেদনে বলা হয়, তিস্তা থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৫৭ কিলোমিটার রেললাইনের বেশির ভাগ স্লিপার নষ্ট এবং রেললাইন অনেক পুরনো ও ব্যবহার অনুপযোগী। এই রেললাইনের সংযোগস্থলের অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় নাট-বল্টু না থাকায় বাঁশ ব্যবহার হয়েছে। বাঁশের ব্যবহারের ফলে ট্রেন যোগাযোগের ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে। একটি ইংরেজি দৈনিকে এই ব্রীজ নিয়ে ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছিল, সেতুটি ৫০ শতাংশ কাঠের স্লিপার নষ্ট হয়েছে।

স্থানীয়রাও বলছেন, আমরা বার বার কর্তৃপক্ষকে বলেছি সেতুটি নষ্ট হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেনি। যার কারণে আজ এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটার দায় সম্পূর্ণ রেল কর্তৃপক্ষের।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার জামায়াত নেতার জানাযায় ছাত্রলীগের হামলা!


বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন শেখ মুজিবের অদর্শের কথা বললেও তাদের নানা অপকর্মের করনে ইতিমধেই একটি সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠন নামে পরিচিতি হয়ে উঠেছে। এখনও তারা বিভিন্ন সময় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, ধর্ষণ, খুন-হত্যাসহ বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমে তাদের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যাচ্ছে।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্যারাড ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাযায় আগত মুসল্লিদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিারাও আহত হয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ধরে নিলাম মুমিনুল হক চৌধুরী রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ ছিলেন। তাই বলে কি মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাজেও হামলা করতে হবে? এটাও তাদের পিতা শেখ মুজিবের স্বপ্নের অংশ কিনা আমাদের জানা নেই। একজন মৃত ব্যক্তির সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণও এক প্রকার মানবতাবিরোধী অপরাধ।

দেখা গেছে, বিগত ১০ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃত জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বহু জানাযায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে সাধারণ মানুষকে রক্তাক্ত করেছে। দুই বছর আগে রাজধানীর বাড্ডাতেও জামায়াত নেতা হারুন অর রশিদের জানাযার নামাজে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা করে অনেককে আহত করেছিল। মূলত এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জঙ্গিবাদী ছাত্রলীগ তাদের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

এখানে সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো চট্টগ্রাম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম গণমাধ্যমকে বলেছেন, প্যারেড মাঠে জামায়াত নেতার জানাযার অনুমতি দেয়ার আগে আমাদেরকে কিছুই জানানো হয়নি।

এখন প্রশ্ন হলো-ছাত্রলীগ এদেশের কে? দেশটা কি তাদের পৈত্রিক সম্পদ? জানাযার নামাজের জন্য তাদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে কেন? অনুমতি দেয়ার জন্য ছাত্রলীগের সঙ্গে প্রশাসনের কথা বলতে হবে কেন?

উৎসঃ ‌‌‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ ‌আল জাজিরার চোখে বাংলাদেশের গুম রাজনীতি!(ভিডিও সহ)


রহস্যজনক কারণে বাংলাদেশে প্রায় কয়েক শত মানুষ নিখোঁজ। এখনও প্রিয়জন তাদের খবর পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে আছেন। কিন্তু তারা কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না প্রিয়জনের। ফলে তাদেরকে বেদনা সঙ্গে নিয়েই বেঁচে থাকতে হচ্ছে। তাদেরই একজন ফারজানা আক্তার। তিনি বলেন, আমার ছেলের বয়স এখন প্রায় ৬ বছর। কিন্তু সে এখনও তার পিতার মুখ দেখতে পায় নি।

বাংলাদেশে কেন এত মানুষ গুম হয়?

আল জাজিরায় এক ভিডিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরপূর্বক গুমের জন্য বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন এজেন্সিকে দায়ী করেন। কিন্তু সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। তবু নিখোঁজ প্রিয়জন কোথায় আছেন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার উত্তর পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়েছে আসছে ‘মায়ের ডাক’। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মা, বাবা, ভাইবোন ও শিশুদের প্রতিনিধিত্ব করে মায়ের ডাক। তারা প্রিয়জনের সন্ধান চাইলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাদের আর্তনাদ ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়। মাসের পর মাস যায়। বছরের পর বছর।

আল জাজিরার ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখুন:

ভিডিওঃ  ‘আল জাজিরার চোখে বাংলাদেশের গুম রাজনীতি!(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

গত কয়েক বছরে যেসব মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন তার বেশির ভাগই বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদস্য। আরও আছেন ওইসব অধিকার বিষয়ক কর্মী, যারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন। এপ্রিলে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, ২০০৯ সালের শুরু থেকে ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৫০৭টি জোরপূর্বক গুম প্রামাণ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে নাগরিক সমাজ বিষয়ক গ্রুপগুলো। এসব মানুষের মধ্যে ২৮৬ জন জীবিত ফিরেছেন ঘরে। ৬২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে মৃত অবস্থায়। বাকি ১৫৯ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ। বেশির ভাগ গুমের জন্য সন্দেহ করা হয় পুলিশ, ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ ও র‌্যাবকে।

জোরপূর্বক গুম বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন গ্রুপ আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সরকারের প্রথম সারির মন্ত্রীরা পর্যন্ত সেই আহ্বান উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা গুমের রিপোর্টকে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণা বলে অভিহিত করছেন। এক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা যা করতে পারছেন তা হলো তারা একত্রিত হচ্ছেন এবং সরকারের কাছে উত্তর চাইছেন। এর প্রেক্ষিতে ওই সব পরিবারের ওপর কি প্রভাব পড়ছে এবং দৃশ্যত বিরোধী দলকে টার্গেট করায় বাংলাদেশের গণতন্ত্রে কি অর্থ এ বিষয়ে আল জাজিরা তাদের দ্য স্ট্রিম অনুষ্ঠানে বক্তব্য নেয় মায়ের ডাক-এর পরিচালক সানজিদা ইসলাম, সাংবাদিক তাসনিম খলিল, ইন্টারন্যাশনা ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটসের সেক্রেটারি জেনারেল ডেবি স্টোবহার্ডের। এতে তারা বাংলাদেশে গুম বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনার ইঙ্গিতে ফাইল সরাতে ছুটির দিনে অফিসে সামীম আফজাল!


দুর্নীতির বরপুত্র হিসেবে খ্যাত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালকে বিচারের আওতায় না এনে নিরাপদে এবং সম্মানের সহিত ইফা থেকে বিদায় নেয়ার ব্যবস্থা করছে সরকার। সেই আলোকেই ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শুক্রবার তাকে আগারগাঁওস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকার সুযোগ দিয়েছে সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামীম আফজালের জন্য এখন বড় সমস্যা হচ্ছে সেই ৫০টি ফাইল। গত শনিবার ছুটির দিনে যেগুলো সরানোর জন্য তিনি অফিসে গিয়েছিলেন। কর্মকর্তাদের বাধায় তিনি সেদিন ফাইলগুলো সরাতে পারেননি।

জানা গেছে, ধর্মমন্ত্রী এবং ইফা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে পদত্যাগের কথা বলা হলেও তিনি পদত্যাগ করছেন না। এর মূল কারণ হলো ৫০টি ফাইল। বিগত ১০ বছরে তিনি যেসব অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন সবগুলোর ডকুমেন্টই এই ৫০টি ফাইলে রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সামীম আফজাল শেখ হাসিনাকে বলেছেন, পদত্যাগ করতে হলে আমাকে অফিসে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এখানে আমার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র আছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। এরপরই তিন দিনের ছুটি শেষে শুক্রবার তাকে অফিসে ঢুকার সুযোগ দিয়েছে সরকার।

ফাউন্ডেশনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজের সময়ও তিনি অফিসে ছিলেন। অফিসে গিয়ে তিনি অনেক ফাইলপত্র বের করে কাগজপত্র দেখেছেন। যেহেতু সরকার তাকে এসব দেখার অনুমতি দিয়েছে তাই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেননি। তিনি আসার সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজ নিয়ে এসেছেন বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

আর ধর্মপ্রতিমন্ত্রী এবিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, সরকার একটি সুন্দর সমাধান চায়। এজন্য তিন দিনের ছুটি শেষে ডিজি সাব শুক্রবার অফিসে গিয়েছেন।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ইফার গভর্নরদের জরুরি মিটিং আছে। সেখানে সামীম আফজালের বিষয়ে বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তুরিন আফরোজ (ভিডিও)


রাত-বিরাত ঘরে অপরিচিত লোকদের প্রবেশসহ নানা অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে কাজে বাধা দেয়ায় নিজ বাড়ি থেকে মাকে বের করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সুপ্রিম কোর্টে আইন, বিচার, মানবাধিকার ও সংবিধান বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তুরিন আফরোজের মা সামসুন নাহার তসলিম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তুরিনের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির।

এসময় সামসুন নাহার তসলিম নিগৃহীত হয়ে নিজ বাড়িতে ফিরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সামসুন নাহার তসলিম বলেন, ‘আজ দুই বছর তিন মাস উনিশ দিন আমি আমার বাসার বাইরে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার আঠারো দিন পরে তুরিন আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয়। আমার দোষ তার (তুরিন আফরোজ) কিছু অনৈতিক আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন, আমাদের ভাড়াটিয়াদের থেকে সবসময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকেই বাড়িভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার, ওষুধ খরচ চলত। এরপর ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সে (তুরিন আফরোজ) বাসা ভাড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়।’

ভিডিওঃ  ‘অনৈতিক কাজে বাঁধা দেয়ায় মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তুরিন আফরোজ (ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তিনি বলেন, ‘অপরিচিত লোকদের রাত-বিরাত ঘরে প্রবেশ নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে, তার সঙ্গে প্রায় লাগতো (ঝগড়া)। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে ভয় দেখাত এবং বলত, ওরা সবাই তার বন্ধু। কোনো কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করার ভয় দেখাত। আমি তো ধারা বুঝি না। আরও বলত, পৃথিবীর যেখানেই থাকো সেখান থেকেই ধরে নিয়ে আসব। আর তার গানম্যান দিয়ে ভয় দেখাত। গ্রামের বাড়ি নীলফামারি যেতে পারি না, সে সেখানে দায়িত্ব নিয়ে জমিজমা ও বাড়ি নিজের নামে কুক্ষিগত করেছে।’

সামসুন নাহার তসলিম আরও বলেন, ‘এসব জানাতে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে ব্যর্থ হই। ভেবেছিলাম, তিনি একজন মা। আমরা জানি, উনি অন্যায়-অবিচারকে প্রশ্রয় দেবেন না। আমি চাই, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ। আমি আজ মিডিয়ার মাধ্যমে উনার সহযোগিতা কামনা করছি। আমার শরীর ভীষণ খারাপ। ৬৫ শতাংশ কিডনি অকেজো… (কাঁদতে থাকেন)। সঙ্গে আবার ডায়াবেটিকস আছে। ওষুধ কেনার পয়সা বাড়িভাড়া থেকে পেতাম, সেটাও সে কেড়ে নিয়েছে। দেশে থাকার জায়গা নেই এখানে.. সেখানে থেকে বেড়াই। আমি আমার দেশ ছেড়ে এ বয়সে কেন বিদেশে পড়ে থাকব? এ দেশ আমার জন্মস্থান ও আমার ৪৮ বছরের সংসার। আমি তো এখানেই থাকতে চাই। আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই। এ জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে তুরিন আফরোজের ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির বলেন, ‘ক্ষমতার দাপটে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ আমাকে এবং আমার বিধবা মাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানি করে আসছে। তার কারণ একটি। আর তা হলো, দেশে আমাদের সম্পদ তার কুক্ষিগত করা। চক্ষু লজ্জায় এতদিন বিষয়টি আড়াল করে রেখেছি। আমি ও আমার অভাগিনি মা ক্ষমতাসীন কাউকে অবমাননা করতে চাইনি।’

শাহনেওয়াজ শিশির আরও বলেন, ‘একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমার বাসা থেকে আমাদের বের করে দেওয়ার পরও রাজউক কর্তৃক কর ও ভূমি কর আমি নিয়মিত দিয়ে যাচ্ছি। অথচ আমার অনুপস্থিতিতে নিজ স্বার্থে কাজে লাগিয়ে তুরিন আফরোজ ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে সংবিধান বহির্ভুত কাজে বাধ্য করে আমাকে আর আমার মাকে ক্ষতি করছে। ব্যারিস্টার তুরিন শুধু ঢাকাতেই নয়, নীলফামারি আমাদের চাচাতো ভাই ও বোনদের জমিজমা জিম্মি করে রেখেছে।’ এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরে পাওয়ার দাবি জানান তিনি।

নিজ বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগে ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে গত ১৩ জুন রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার ছোট ভাই শাহনেওয়াজ শিশির। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, শিশিরের নিজস্ব ভবনে বসবাস করেন তুরিন আফরোজ। তিনি কানাডা প্রবাসী। কয়েকবছর আগে তাদের মাকে তুরিন সে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে মাকে নিয়ে কানাডা চলে যান শিশির। ১৩ জুন রাতে তিনি কানাডা থেকে ফিরে নিজের বাসায় গেলে সেখানে বোন তুরিন আফরোজ তাকে ঢুকতে দেননি।

এর আগে উত্তরায় ভাইয়ের নামে মায়ের দেওয়া ওই বহুতল বাড়িটি গত বছর জোর করে দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে। ওই বছর নিজের মেয়ের বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তুরিন ও শিশিরের মা শামসুন নাহার। দখল হওয়া বাড়ি উদ্ধারের জন্য ঢাকার নিম্ন আদালতে মামলা করেন তুরিনের ছোট ভাই শাহনওয়াজ আহমেদ শিশির।

উৎসঃ ‌‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বালিশকাণ্ডের পর এবার রেলকাণ্ড! সরকারি সম্পদের হরিলুট চলছে রেল সেক্টরেও


পাবনার রূপপুরে অবস্থিত পারমাণবিক বিদ্যুকেন্দ্রের গ্রীন সিটির বালিশ কেলেংকারির পর এবার সামনে এসেছে রেলের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামত কেলেংকারির তথ্য। রূপপুরের বালিশ কেলেংকারিতে সারাদেশে ক্ষোভের রেশ এখনো কাটেনি। দেশের সর্বোচ্চ আদালতও এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই বালিশ কাণ্ডে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকারও। যদিও ইজ্জত রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরের সেই প্রকৌশলীর রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করেছেন।

সরকারি সম্পদের হরিলুট চলছে রেল সেক্টরেও। বিশেষ করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে সবাই নিজের মতো করেই ভোগ করছেন সরকারি সম্পত্তি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বাসা, বাংলো, সড়ক, অফিস ভবন মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট হচ্ছে।

ইদানিং চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য সরকারি বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন উঠার পরই আস্তে আস্তে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় জিএমের দপ্তরের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী। বিপুল অঙ্কের এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার জেরে রেল অঙ্গনে শুরু হয় তোলপাড়। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ যায় মন্ত্রণালয় ও রেল ভবনে। এ ঘটনার সঙ্গে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল সরাসরি জড়িত।

অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ২৬ মে গঠিত দুই সদস্যের কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ শেখ নাইমুল হককে। কমিটির অপর সদস্য বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কিসিঞ্জার চাকমা।

জানা গেছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের যে ঠিকাদার যত বেশি ঘুষ দিতে পারেন, সেই ঠিকাদার তত বেশি কাজ পান। এর পর কাজে নয়-ছয় করে টাকা হাতিয়ে নেন ঠিকাদাররা। মেরামত কাজে বরাদ্দের এক তৃতীয়াংশের চেয়েও কম অর্থ ব্যয় করে বিল নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া নজির রয়েছে কাজ না করেও বিল তুলে নেওয়ার।

অভিযোগ রয়েছে, সিআরবি এলাকায় রেলের ভিআইপি রেস্ট হাউস মেরামতের জন্য কয়েকটি ধাপে টেন্ডার ছাড়াই প্রায় ৮০ লাখ টাকার কাজ বরাদ্দ দেন প্রধান প্রকৌশলী আবদুল জলিল। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ করিয়ে নিয়েছেন মৌখিক নির্দেশে। একই ঠিকাদারকে সব কাজ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ২০ শতাংশ হারে অগ্রিম ঘুষও নিয়েছেন তিনি।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে চতুর্থ শ্রেণির এই কর্মচারীর বাসা মেরামতের জন্য ২৮ লাখ বরাদ্দ দেয়ার ঘটনায় এখন পুরো রেল মন্ত্রণালয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

আর ২৮ লাখ টাকার বাসা মেরামত কেলেংকারি নিউজ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এখন এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনা। অনেকেই বলছেন-বালিশ কেলেংকারির পর এখন বাসা মেরামত কেলেংকারি শুরু হয়েছে।

অনেকেই বলছেন, দেশে বাস্তবে উন্নয়ন না হলেও দুর্নীতি-লুটপাটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। যথেষ্ট হয়েছে। আমাদের আর উন্নয়ন দরকার নেই। সম্প্রতি বাজেট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ইতিহাসের দুই স্বৈরাচারঃ ইসলামপন্থী, দেশপ্রেমী নেতাদের নির্মূলই যাদের মূল টার্গেট!


মিশরের ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা ড. হাফেজ মুহাম্মদ মুরসি দেশটির ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী শাসক আব্দুল ফাত্তাহ আল সিসির কারাগারে আটক থেকে সোমবার ইন্তেকাল করেছেন। মুরসি একটি আদালতে বক্তৃতা দেয়ার সময় অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন মর্মে সিসি সরকার এটা প্রচার করলেও মূলত দীর্ঘদিন আগ থেকেই বিনাচিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর মুখে ঢেলে দেয়া হয়েছিল।

আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম এর আগে একাধিক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল যে, মুরসিকে সঠিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। মুরসির পরিবারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল যে তাকে কারাগারে হত্যার জন্য সিসির সরকার বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করছে। মুরসির মৃত্যুর পর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাও বলছেন যে, আমেরিকা ও ইউরোপীয়দের ইশারায় সিসি বিনা চিকিৎসায় মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিয়েছে। মুরসির এমন মৃত্যুতে বিশ্বব্যাপী নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ স্বৈরাচারী সিসিকে ধিক্কার জানাচ্ছে।

মুহাম্মদ মুরসি ইখওয়ানুল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা ছিলেন। এই ব্রাদারহুডের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়-মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করেই এই দলটির নেতাকর্মীরা যুগ যুগ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। অতীতেও মিশরের সাবেক স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জালিম জামাল নাসেরের সময় ইখওয়ানুল মুসলিমিনের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত নেতাদেরকে বিভিন্নভাবে হত্যা করেছে।

এই দলটির প্রতিষ্ঠাতা হাসানুল বান্নাকে হত্যা করেছে তখন স্বৈরাচারী শাসকরা, হত্যা করেছে সাইয়েদ কুতুব ও আব্দুল কাদের আওদাহ’র মতো বড় মাপের নেতা ও শিক্ষাবিদদেরকে। স্বৈরাচারী জামাল নাসেরসহ সবগুলো প্রেসিডেন্টের মূল টার্গেট ছিল ইখওয়ানুল মুসলিমিন। দলটির নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসনে মোবারকও। তার পতনের পরই প্রথম নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ড. মুহাম্মদ মুরসি। প্রেসিডেন্ট হয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের এক অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। তার আভির্ভাবে মুসলিম বিশ্বে এক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়। কিন্তু তার এই উত্থান মেনে নিতে পারেনি ইসরাইল, আমেরিকা ও তাদের দোসর সৌদ আরব। সেনা প্রধান আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসিকে দিয়ে তারা ক্ষমতা দখল করায়। এজন্য সিসিকে কোটি কোটি বিলিয়ন টাকা দেয় মুসলিম বিশ্বের আরেক গাদ্দার হিসেবে পরিচিত সৌদি বাদশাহ সালমান।

দেখা গেছে, মুরসির হাতে নিয়োগ পাওয়া সেনাপ্রধান সিসি ক্ষমতা দখল করেই ব্রাদারহুডের শীর্ষনেতাদেরকে গ্রেফতার করে। অমানবিক নির্যাতন চালায় দলটির সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ওপর। বন্ধ করে দেয়া ব্রাদারহুড নেতাকর্মীদের দ্বারা পরিচালিত সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো। আটক নেতাকর্মীদের ওপর কারাগারে চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। গত বছর কারাগারেই মারা গেছেন দলটির প্রধান মোহাম্মদ বদে-ই। এখনো কারাগারে অনেক ব্রাদারহুড নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

আর সর্বশেষ স্বৈরাচারী সিসির জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি।

এই স্বৈরাচারী শাসন শুধু মিশরে নয়, বাংলাদেশে এখন স্বৈরাচাররা শাসনের নামে মানুষকে শোষণ করছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন তথা কুরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে এমন দলগুলোকে তারা নির্মূল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এর আরেকটি উদাহরণ হলো বাংলাদেশ।

পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মিশরের ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্ষমতা দখলকারী শেখ হাসিনার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে।

স্বৈরাচারী সিসির কায়দায়-ই শেখ হাসিনা এদেশের ইসলামপন্থী নেতাদেরকে মিথ্যা অভিযোগে আটক করে তাদেরকে একের পর এক হত্যা করে যাচ্ছে। কাউকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে আবার কেউ কেউ সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

২০০৯ সালের প্রথমে ক্ষমতায় এসে ভারতের ইশারায় শেখ হাসিনা এদেশের সবচেয়ে বৃহত্তর ও জনপ্রিয় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদেরকে কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক করে। কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়াই বিচারের নামে প্রহসন করে জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মোজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীকে অন্যায়ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

এছাড়া, জামায়াতের সাবেক আমির ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযম ও নায়েবে আমির ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ স্বৈরাচারী হাসিনার কারাগারেই মৃত্যুবরণ করেন।

এরপর সিসির মতো একই কায়দায় শেখ হাসিনা বিগত ১০ বছর যাবত জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে।

আরেকটি ক্ষেত্রেও স্বৈরাচারী সিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার মিল রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, সূর্য উঠার আগেই অতিগোপনে মুরসি লাশ দাফন করতে বাধ্য করেছে স্বৈরাচারী সিসি। আইনজীবী আর তার পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে জানাযাতেও অংশ নিতে দেয়নি সিসির প্রশাসন। বাংলাদেশেও জামায়াত নেতাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। অন্যায়ভাবে জামায়াত নেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে তাদের লাশ দাফনেরও সুযোগ দেয়নি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার। এমনকি আব্দুল কাদের মোল্লার জানাযায় তার পরিবারের সদস্যদেরকেও অংশ নিতে দেয়া হয়নি।

তবে, অতীতের দিকে তাকালে দেখা যায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনি। ইসলামপন্থীরা সীমাহীন জুলুম নির্যাতনের মধ্যেও টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জালিম স্বৈরাচাররাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here