আমাদের আছে পরমাণু বোমা, ভারতকে গুঁড়িয়ে দেব: মিয়াঁদাদ

0
199

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেড়ে নেয়া হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা। এর প্রতিবাদে সোচ্চার পাকিস্তানের সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটাররা। সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব আখতার, শহীদ আফ্রিদির পর এবার ভারতকে হুমকি দিলেন সাবেক পাক তারকা খেলোয়াড় জাভেদ মিয়াঁদাদ। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পরমাণু বোমা রয়েছে। এ দিয়ে আমরা যে কাউকে উড়িয়ে দিতে পারি।

সময় যত গড়াচ্ছে, ততই ভারতে চাপা পড়ে যাচ্ছে কাশ্মীর ইস্যু। তবে এ নিয়ে পাকিস্তানে এখনও মানুষ রাগে ও ক্ষোভে ফুঁসছে। সবশেষ সেই তালিকায় পাওয়া গেল মিয়াঁদাদকে। রীতিমতো সিংহের মতো হুংকার ছুড়লেন তিনি।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, নিজের দেশের মানুষকে পরামর্শ দিচ্ছেন মিয়াঁদাদ। তিনি বলছেন-পাকিস্তানের প্রত্যেক মানুষের কাছে বন্দুক রাখা উচিত। নিজেকে রক্ষা করার জন্য এটার সর্বোচ্চ ব্যবহারও করা দরকার। প্রতিটি পাকিস্তানির হামলা করার মানসিকতা ও প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে মিয়াঁদাদ বার্তা দেন, মোদি সাহেব তো জানেন, আগেও আমি বলেছি- ভারতীয়রা ভীতু। এখন পর্যন্ত সাহসী কী করেছে তারা? আমরা পরমাণু শক্তি এমনিই রাখিনি, চালানোর জন্য রেখেছি। আমরা সুযোগ চাই এবং ওদের ধ্বংস করে দেব।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‘কাশ্মীরে মুসলমানদের উচ্ছেদ করে হিন্দু বসতি স্থাপন করবেন মোদি’


অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এখন কোনো লাভ নেই। শান্তি ও সংলাপের যে প্রস্তাব তিনি নয়াদিল্লিকে দিয়েছিলেন, তা ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া কাশ্মীরে মুসলমানদের উচ্ছেদ করে সেখানে নরেন্দ্র মোদি হিন্দু বসতি স্থাপন করতে যাচ্ছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক সালমান মাসুদ ও মারিয়া আবি হাবিবকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন দাবি করেছেন। বুধবার ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে।-খবর ডন অনলাইনের

ইমরান খান বলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে কোনো ফল আসবে না। আমি বোঝাচ্ছি- সব ধরনের আলোচনা আমরা শেষ করেছি। দুর্ভাগ্যবশত যখন আমরা পেছনের দিকে ফিরে তাকাই, সংলাপ ও শান্তির জন্য এ যাবত যত প্রস্তাব দিয়েছি, সবই তারা প্রশমিতকরণ হিসেবে নিয়েছে।

কাজেই ভারতের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসার দিকে তিনি আর এগোবেন না বলে জানান।

ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে দেয়া এই সাক্ষাৎকারের সময় ইমরান খান বলেন, এ ইস্যুতে আমাদের আর করার কিছু নেই।

ভারতীয় সরকার অধিকৃত কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

সাবেক এ কিংবদন্তি ক্রিকেট তারকা বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- সেখানকার ৮০ লাখ লোকের জীবন আজ ঝুঁকিতে পড়ে গেছে। সেখানে জাতিগত নিধন ও গণহত্যা সংঘটিত হতে যাচ্ছে বলে আমরা উদ্বিগ্ন।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একজন ফ্যাসিস্ট ও হিন্দু শ্রেষ্ঠত্বাবাদী আখ্যায়িত করে ইমরান খান বলেন, কাশ্মীরের অধিকাংশ মুসলমানকে উচ্ছেদ করে সেখানে হিন্দুদের বসতি স্থাপন করতে চাচ্ছেন তিনি।

ভারত কাশ্মীরকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর অধিকাংশ টুইটবার্তায় ইমরান খান বলেন, হিমালয় অঞ্চলটিতে ভারতীয় সরকারের নীতি হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) মতাদর্শকেন্দ্রিক। এই সংগঠনটি হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদে বিশ্বাসী।

কাজেই নয়াদিল্লি সরকারের বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে পরমাণু অস্ত্র নিয়ে বিশ্বকে উদ্বিগ্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসে দেয়া সাক্ষাৎকারে এই সাবেক ক্রিকেট তারকা বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিতে কাশ্মীরে একটি প্রতারণামূলক ভুয়া অভিযান চালাতে পারে ভারত। তবে যে কোনো অভিযানের জবাব দিতে পাকিস্তান বাধ্য হবে।

‘তখন পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়াবে। এতে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান মার্কিন আইনপ্রণেতাদের


এবার মার্কিন কংগ্রেসেও কাশ্মীরে ভারতীয় দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর দাবি উঠেছে।

মঙ্গলবার ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানিয়ে হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান অ্যাডাম স্মিথ বলেন, অধিকৃত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ভারতীয় সিদ্ধান্ত তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। সেখানে চলমান যোগাযোগ অচলাবস্থা, ক্রমবর্ধমান সামরিকায়ন ও কারফিউ নিয়ে যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্মিথ।-খবর ডন অনলাইনের

ওয়াশিংটন থেকে নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট বলেন, অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে আসা তার আসনের কিছু বাসিন্দা গত ৫ আগস্টের পর বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটি ভ্রমণে গিয়েছিলেন। তারা দেখেছেন, অবরুদ্ধ অঞ্চলটির বাসিন্দাদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে তারা কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন না।

ভারতকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, উপত্যকাটির মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুর ওপর বর্তমান এবং ভবিষ্যতে এ সিদ্ধান্তের অসম ক্ষতিকর প্রভাবের স্বীকৃতি অপরিহার্য।

সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য বব মেনেনডেজ, হাউস পররাষ্ট্র কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেস সদস্য এলিওট এল এনজেলও জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।

এ দুই আইনপ্রণেতা বলেন, জমায়েত হওয়ার স্বাধীনতা, তথ্য পাওয়া, আইনের অধীন অধিকার পাওয়াসহ সব নাগরিকের সমঅধিকার সুরক্ষা ও এগিয়ে নেয়ার একটি সুযোগ ভারতের রয়েছে।

তারা বলেন, গণতন্ত্রের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিপ্রস্তর হচ্ছে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা। কাজেই জম্মু ও কাশ্মীরে ভারত সরকার এই নীতি অনুসরণ করবে বলে আমরা আশা রাখছি।

নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য ইভেট্টি ক্লার্কি বলেন, কাশ্মীরে বর্তমানে যা হচ্ছে তা নিয়ে তিনি খুবই উদ্বিগ্ন। কাশ্মীরের জনগণের ওপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যা করছেন, সেই অধিকার তার নেই। কাজেই ন্যায়বিচার, স্বাধিকারের জন্য ও ধর্মীয় বিষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো আমাদের দায়িত্ব।

কংগ্রেস সদস্য স্মিথ বলেন, গত ৫ আগস্টের পর আমার আসন থেকে যারা কাশ্মীর ভ্রমণে গিয়েছিলেন, তারা আমাকে বলেছেন যে সেখানে নিজেদের প্রাণহানি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন তারা।

‘কাজেই এই আতঙ্ক দূর করতে ভারতীয় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সেখানে যা ঘটছে, তা নিয়ে বিশ্বের কাছে স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ দিতে হবে ভারতকে’, জানালেন তিনি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরের ‘গাজায়’ কঠিন প্রতিরোধের মুখোমুখি ভারতীয় বাহিনী


পাথর আর আবর্জনার স্তূপের পাশে বসে আছেন একদল তরুণ। কাশ্মীরের গাজা নামে অবরুদ্ধ একটি পাড়ার প্রবেশের একমাত্র পথটি তারা পাহারা দিচ্ছেন। এ সময় মসজিদের মাইকে আজাদির স্লোগান ভেসে আসছিল।

মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলটির সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নেয়ার ভারতীয় সিদ্ধান্তের পর কাশ্মীরিদের প্রতিরোধ স্পর্ধার একটি উদাহরণ এটি।

কাশ্মীরের মূল শহর শ্রীনগরের উপকণ্ঠেই সৌরাপাড়া। নিরাপত্তা বাহিনী যাতে সেখানে ঢুকে পড়তে না পারে- সে জন্যই প্রবেশ পথটিতে সুরক্ষা দিচ্ছেন সেখানকার তরুণরা।-খবর এএফপির

আগস্টের শুরু থেকে পাড়াটির অধিবাসীরা টিনের পাত, গাছের গুড়ি, তেল ট্যাংক, কংক্রিটের পিলার, জরাজীর্ণ ব্যারিকেড নির্মাণ করে ও মাটি খুঁড়ে ভারতীয় দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।

দমন-পীড়ন থেকে মুক্তি ও আজাদির দাবিতে সেখানে নিয়মিত বিক্ষোভ হয়। আর তাতে সেনা হামলা থেকে বাঁচতে এই ব্যারিকেড বানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রাতে পাড়াটিতে স্বেচ্ছাসেবী প্রহরী হিসেবে কাজ করেন মুফিদ নামে এক স্থানীয়। তিনি বলেন, তারা(ভারতীয় বাহিনী) কেবল আমাদের লাশের ওপর দিয়ে সৌরাপাড়ায় ঢুকতে পারবে। আমরা এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও ভারতকে ছেড়ে দেব না।

তিনি বলেন, গাজা যেমন দখলদার ইসরাইলকে প্রতিরোধ করছে, তেমন করে আমরাও মাতৃভূমিকে সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করব।

ভারতীয় শাসনের বিরুদ্ধে গত তিন দশক ধরে কাশ্মীরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে। এতে হাজার হাজার লোকের প্রাণহানি হয়েছে। যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

উপত্যকাটির স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেয়ার ঘোষণাকে সামনে রেখে আগে থেকে অবস্থান করা পাঁচ লাখ সেনার সঙ্গে নতুন করে আরও কয়েক হাজার জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।

অস্থিতিশীলতার আশঙ্কায় সেখানকার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। আর সেই প্রতিরোধের নেতৃত্ব দিচ্ছে নিম্ন-মধ্যবিত্তদের সৌরাপাড়াটি।

গত ৯ আগস্ট সেখানে অন্তত ১৫ হাজার লোক বিক্ষোভে অংশ নেন। এ পর্যন্ত কাশ্মীরে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ ছিল যেটি।

নিরাপত্তা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে তাজা গুলি, টিয়ার গ্যাস ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করে। এতে দুই ডজনের বেশি লোক আহত হন।

ভারত যা, ফিরে যা

লেকের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এ পাড়াটিতে দুই হাজার বসতি রয়েছে। এটির তিন পাশেই নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে রেখেছে।

এখানে প্রতিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বিখ্যাত জেনাব সাঈব মসজিদ। পাড়াটির হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়ে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানান।

প্রতিরাতে স্থানীয়রা সরু গলি দিয়ে মিছিল নিয়ে বের হন। মশাল হাতে সেই বিক্ষোভ নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। আর সেই মশালের আলোতে দুই পাশের দেয়ালের গ্রাফিতি ভেসে ওঠে। যাতে লেখা রয়েছে, ‘কাশ্মীরের আজাদি চাই’, ‘ভারত যা, ফিরে যা’।

মূল সড়কে কোনো নিরাপত্তা বাহিনী দেখতে পেলে স্থানীয়রা পাড়ার ভেতর সেই খবর ছড়িয়ে দেন।

ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পুলিশ বাহিনী অন্তত তিন বার সেখানে ঢুকতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু কিশোর ও তরুণরা কেবল পাথর ছুড়েই তাদের ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। কারও কারও হাতে তখন কুঠার ও হারপুনও দেখা গেছে।

বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দিতে পুলিশ মরিচের গুড়া ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা লবণাক্ত পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে আবার বিক্ষোভে নেমে পড়েন। ছররা গুলি থেকে সুরক্ষা পেতে তারা হেলমেটও ব্যবহার করছেন।

পাড়ার বাইরে প্রতিরোধে কাজ করার সময় তিন তরুণ গ্রেফতার হয়েছেন। নাহিদা নামের এক স্থানীয় নারী বলেন, ভারত সরকার আমাদের স্থিতির পরীক্ষা নিচ্ছে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হবে।

‘শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের পরাজিত করব। যদি বছরের পর বছরও এ পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবু তারা আমাদের হারাতে পারবে না। আমরা কখনই আত্মসমর্পণ করব না।’

সৌরায় প্রতিরোধ সত্ত্বে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, অচলাবস্থা চালু হওয়ার পর কাশ্মীর শান্ত রয়েছে।

বিরোধপূর্ণ কাশ্মীরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে এ সৌরাপাড়া। কাশ্মীরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ এখানেই জন্ম নিয়েছেন। স্বায়ত্তশাসনের অধিকার দেয়ার শর্তে তিনি ভারতের সঙ্গে যুক্ত হতে রাজি হয়েছিলেন।

তার ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টি ভারতীয় শাসনের অধীনে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই চালিয়ে আসছে।

তিন দশকের বেশি এই দলটি কাশ্মীর শাসন করেছে। শেখ আবদুল্লাহর ছেলে ফারুক আবদুল্লাহ ও নাতনি ওমর আবদুল্লাহও রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

কিন্তু স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিলের সময় ফারুক ও ওমর আবদুল্লাহকে আটক করেছে নয়াদিল্লি।

ভূস্বর্গখ্যাত উপত্যকাটির বাসিন্দারা সম্প্রতি অতিভারতবিরোধী হয়ে উঠছেন। ২০১৬ সালে এক জনপ্রিয় বিদ্রোহী নেতা নিহত হওয়ার পর সেখানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তখন সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কয়েক ডজন সংঘর্ষ হয়েছিল সৌরায়।

পাড়াটির বাসিন্দা রফিক মানসুর শাহ বলেন, ভারতীয় শাসন মেনে নিতে আবদুল্লাহর সিদ্ধান্তের পর স্থানীয়রা হতাশা ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর ভারতের অন্যান্য স্থানের বাসিন্দারাও কাশ্মীরের জমি ও সেখানকার সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন।

কিন্তু রফিক মানসুরের মতো সৌরার বাসিন্দারা মনে করেন, আমাদের ভূখণ্ড দখল করতে নয়াদিল্লির দূরভিসন্ধিপূর্ণ পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, আবদুল্লাহর পরিবার ক্ষমতার জন্য লোভাতুর হওয়ায় আমরা ভারতীয় দাসে পরিণত হয়েছি। আমরা এখন ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের চেষ্টা করছি। কাশ্মীরকে উজ্জ্বীবিত করতে আমরা নেতৃত্ব দেয়ার চেষ্টা করছি।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‘সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা’


নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তিনি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এমন মন্তব্য করেন। তার মতে, গণতন্ত্র ছাড়া কোনোভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এছাড়াও, একজন ভারতীয় হিসেবে তিনি গর্বিত নন বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্বখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

অমর্ত্য সেনের কাছে প্রশ্ন ছিলো, আপনি এমন এক সময়ে ভারতে এলেন যখন দেশটি কঠিন সময় পার করছে। কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আপনি সারাজীবন সাম্যের কথা বলেছেন, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সাম্যের কথা। কিন্তু, সাম্য বলতে আমরা সবক্ষেত্রেই সাম্যকে বুঝে থাকি। আপনি কি মনে করেন- কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা সেই অঞ্চলে শান্তি এবং সেখানকার মানুষদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারবে?

উত্তরে অমর্ত্য বলেন, “না, আমি তা মনে করি না। আমি মনে করি, কাশ্মীর একটি বিশেষ সমস্যা প্রবণ অঞ্চল। কাশ্মীরের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আমি মনে করি না যে, কাশ্মীরের জননেতাদের কথা না শুনেই আপনি সেখানে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। সেখানে হাজার হাজার জননেতাকে আটকে রাখা হয়েছে। এমনকী, বড় বড় নেতারাও কারাগারে।”

তিনি আরো বলেন, “কাশ্মীরে যেভাবে যোগাযোগের সব মাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের সাফল্য আসতে পারে না। গণতান্ত্রিক সরকার সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে এগোয়। এখন সরকার যখন বলে তারা শুধু পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করবে তখন আমি মনে করি না যে সরকার সত্যিই গণতন্ত্রের জন্যে কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে চায়। আমি মনে করি না যে, গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার কোনো সমাধান হতে পারে। এ নিয়ে তো অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করা হচ্ছে।”

সরকার বলছে তারা কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে অভিযান চালাচ্ছে। আপনি কী মনে করেন?

অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি হচ্ছে পুরনো উপনিবেশিক মানসিকতার অজুহাতমূলক বক্তব্য। ব্রিটিশরা যখন এখানে শাসন করেছে… আমি আমার শৈশবের কথা বলছি, আমি মাঝে মাঝেই আমার এক আত্মীয়ের বাড়িতে যেতাম। তিনি কারাবন্দি হয়েছিলেন। তখন ব্রিটিশরা বলতো তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্যে তাকে কারাগারে রেখেছে। এসব ধরপাকড়ের মাধ্যমে সেই উপনিবেশিক যুগে ফিরে যাওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে আমার অনেক আত্মীয়স্বজনকে জেলে পোড়া হয়েছিলো।”

“এটি বলা সহজ যে আমরা এই মানুষগুলোকে কারাবন্দি করেছি, কারণ তারা সমস্যা তৈরি করছে। এই যে সেদিন মানুষের অধিকার আন্দোলন নিয়ে কাজ করা কানাইয়া কুমারকে জেলে পাঠানো হলো। যুক্তি কী ছিলো? যুক্তি ছিলো যে সে রাষ্ট্রদ্রোহী। সরকারের সঙ্গে মতের বিরোধিতা হলেই তা হয়ে যায় রাষ্ট্রদ্রোহিতা।”

সরকার বলছে সাধারণ কাশ্মীরিরা ৩৭০ ধারা থেকে কোনো উপকার পাচ্ছিলো না।… আর দিল্লিতে একটি গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল ভোটের মাধ্যমে সেই ধারাটি বিলোপ করেছে। এ বিষয়টি নিয়ে আপনি কী বলবেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অমর্ত্য সেনের বক্তব্য, “ব্রিটিশরা যখন ভারত শাসন করছিলো তখন আমি মনে করি, বিষয়টি ব্রিটেনে অনেক জনপ্রিয় ছিলো। একই বিষয় ভারতের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তারা কাশ্মীরে কতোটুকু জনপ্রিয়? বলা হচ্ছে কাশ্মীর ভারতের অংশ। কিন্তু, এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণ কী ভাবছেন? এ বিষয়ে কাশ্মীরের জনগণের মত নিতে হবে তো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও সংখ্যাগরিষ্ঠরা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে যাচ্ছে। এই সে বিপুল জনসমর্থন আসলে তা কী, আমাদের ভাবতে হবে। এই জনসমর্থন এবং মানুষের অধিকারের মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে।”

সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা তুলে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি যে শুধুমাত্র সব মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে তা নয়, এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি।”

৮৫ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গোটা বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য এতো কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিলো। কাশ্মীরের ক্ষেত্রে যা করা হচ্ছে, তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।”

উৎসঃ দ্য ডেইলি স্টার

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীর নিয়ে ভারতকে খামেনির হুশিয়ারি


কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেখানকার মুসলমানদের ওপর বলপ্রয়োগ না করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। খবর ইরনার।

বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, তবে ভারত সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা হলো কাশ্মীরি জনগণের বিষয়ে তারা ন্যায়ভিত্তিক নীতি গ্রহণ করবে।

কাশ্মীরি মুসলমানদের ওপর ভারত সরকার কোনো ধরণের বলপ্রয়োগ করবে না বলেও আমরা প্রত্যাশা করি।

কাশ্মীরে সংঘাত জিইয়ে রাখতে দেশভাগের সময় ব্রিটিশরা পরিকল্পিতভাবেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল বলেও মন্তব্য করেন আয়াতুল্লাহ খামেনি।

এর আগে জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলের বিরোধ নিয়ে পাকিস্তান ও ভারতকে আলোচনায় বসতে আহ্বান জানিয়েছিল ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি বলেছিলেন, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও সাম্প্রতিক ঘটনার জন্য ভারতীয় ও পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দেয়া ব্যাখ্যা মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে ইরান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ইরান প্রত্যাশা করে ভারত ও পাকিস্তান ওই অঞ্চলে একে অন্যের বন্ধু ও অংশীদার। শান্তিপূর্ণ উপস্থাপন ও আলোচনার মাধ্যমে ওই অঞ্চলের মানুষের স্বার্থে ব্যবস্থা নেবে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কারফিউ ভেঙে জুমার পর ‘সকল যুবক এবং বৃদ্ধ, পুরুষ ও মহিলা রাস্তায় নেমে আসুন


অধিৃকত কাশ্মীরে মুক্তিকামী নেতারা আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পরে কারফিউ ভেঙে পদযাত্রায় যোগ দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাহার করার পরে এই প্রথম এমন আহ্বান করা হল। কঠোর অবরোধের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করতে না পারলেও সমগ্র উপত্যকা ভেতরে ভেতরে ফুঁসছে। শত শত রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মুক্তিকামী যারা ভারত থেকে কাশ্মীরের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন, তাদের কারাগারে আটক করা হয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য এই অঞ্চলের রাজধানী শ্রীনগরে রাতারাতি লাগানো পোস্টারের মাধ্যমে জনগণের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

পোস্টারে লেখা হয়, ‘সকল যুবক এবং বৃদ্ধ, পুরুষ ও মহিলা সবাইকে শুক্রবারের নামাজের পর পদযাত্রা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। পোস্টারটি ছেপেছে যৌথ বিরোধী নেতৃত্ব, যারা প্রধান মুক্তিকামী গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে। পদযাত্রাটি শ্রীনগরে জাতিসংঘের সেনা পর্যবেক্ষণ কার্যালয়ে যেয়ে শেষ হবে। ১৯৪৯ সালে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধের পরে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

কাশ্মীর নিয়ে মোদির সাথে কথা বলবেন ট্রাম্প

ডন জানায়, কাশ্মীরের ‘উত্তেজনাপূর্ণ ও জটিল’ পরিস্থিতি সামলাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি পরমাণবিক শক্তিসমৃদ্ধ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে এই কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহের শেষে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে এই ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। সে সময় ফ্রান্সের বিয়ারিটজে জি ৭ শীর্ষ সম্মেলনে তাদের পার্শ্ব-বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘কাশ্মীর একটা খুব জটিল জায়গা। যেখানে হিন্দু আছে, মুসলিমও আছে। কিন্তু তারা এক সঙ্গে খুব একটা ভাল আছে এমনটা বলতে পারি না। তবে মধ্যস্থতা করার জন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’ ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দু’দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে একটা বৈরিতার সম্পর্ক রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কেন সম্পর্ক সহজ হচ্ছে না, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধুর সম্পর্ক গড়ে না ওঠার অন্যতম প্রধান কারণ ধর্ম।’ আমেরিকা এই সম্পর্ককে সহজ করতে চাইছে। তার জন্য মধ্যস্থতার প্রয়োজন। আর সেটাই তিনি চান বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এর আগে ট্রাম্প গত ২২ জুলাই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে হোয়াইট হাউসের সংবাদ সম্মেলনে কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রথম প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ইমরান খান তৎক্ষণাৎ এই প্রস্তাবটি স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, ট্রাম্প যদি সহায়তা করেন তবে একশ’ কোটি মানুষ আমেরিকার জন্য প্রার্থনা করবে। তবে ভারত এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, কাশ্মীর বা অন্য কোনো বিষয়ে পাকিস্তানের সাথে আলোচনার জন্য তারা কোনও বাহ্যিক সহায়তা চায় না।

গত সোমবার পোস্ট করা একটি টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কাশ্মীরে উত্তেজনা হ্রাস করতে তার ‘ভাল বন্ধু’ ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চিরবৈরী দেশ দু’টি যারা একে অপরের সাথে কথা বলতে রাজি নয়, তাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ভ‚মিকা শুরু করে দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট মধ্যস্থতা করছেন না, তবে উভয় পক্ষ রাজি থাকলে তিনি সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে ভারত পাকিস্তানের সাথে তার বিরোধ নিষ্পত্তি করতে কোন বাহ্যিক সহায়তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে বলেছে, ‘কাশ্মীর সমস্যা দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এখানে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা মেনে নেয়া হবে না।’

পররাষ্ট্র দফতর স্বীকার না করলেও গত শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন দিয়ে অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করার পর থেকেই তিনি মধ্যস্থতার জন্য পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেন। এরপর গত সোমবার মোদি ট্রাম্পকে ফোন দিয়ে ৩০ মিনিট কথা বলেন। ট্রাম্পের কাছে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, অঞ্চলটি তারাই অস্থিতিশীল করছে। এক ‘ভালো বন্ধু’ ভারতের কথা শোনার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার আরেক ‘ভালো বন্ধু’ পাকিস্তানকে ফোন দিয়ে বলেন, উত্তেজনা কমানোর জন্য তাদেরকে সংযত হতে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুসারে, ট্রাম্প উভয় পক্ষকে ‘সংঘাত এড়িয়ে শান্ত থাকতে এবং সংযম প্রদর্শন করতে আহবান জানান।

গত ৫ আগস্টের পর থেকে ইমরান খানের সাথে ট্রাম্প সর্বমোট তিনবার কাশ্মীর নিয়ে ফোনালাপ করেছেন। যখন ভারত তাদের সংবিধানিক ধারা বাতিল করে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়। তারপর থেকেই সেখানে কারফিউ আরোপ করা হয়েছে, যা ঈদুল আজহার ছুটিতেও অব্যাহত ছিল এবং এখনো তোলা হয়নি।

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প কি বিশ্বের চৌধুরী’

এনডিটিভি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি সমগ্র বিশ্বের চৌধুরী (শক্তিশালী ব্যক্তি) হয়েছেন যে, তাকে সবকিছুতেই হস্তক্ষেপ করতে হবে। কাশ্মীর ইস্যুতে মঙ্গলবার ভারতের নিউজ এজেন্সি এএনআইকে দেয়া বক্তব্যে হায়দরাবাদের এমপি আসাউদ্দিন ওয়াইসি এ মন্তব্য করেন।

ওয়াইসি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে ফোনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির কথা বলায় আমি আশ্চর্য এবং চরমভাবে মর্মাহত হয়েছি। কেন ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তিনি কি সমগ্র বিশ্বের পুলিশের দায়িত্ব নিয়েছেন। নাকি তিনি কোনো চৌধুরী হয়েছেন।

প্রসঙ্গত ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা অবসানে মধ্যস্থতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিপ্রায়ের কথা জানান তিনি।

কাশ্মীরে প্রথম বন্দুকযুদ্ধ : ১ পুলিশ ও এক কাশ্মিরী নিহত

ইয়াহু নিউজ জানায়, কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরি ও অপরজন পুলিশ সদস্য। কাশ্মীরে স্বায়ত্তশাসন বিলোপের পর এটাই প্রথম বন্দুকযুদ্ধ। পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা করা প্রস্তাবের মধ্যেই এই হামলা চালানো হলো। ওই ঘটনায় এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৪ জন।

উৎসঃ ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার কারণেই কাশ্মির মোদির টার্গেট: সীতারাম


জম্মু-কাশ্মির ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হওয়ার কারণেই তার বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মিরকে ভারতের ফিলিস্তিনে পরিণত করতে চেষ্টা করছে মোদি সরকার। এ.কে গোপালান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজে এক আলোচনায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে স্থানীয় কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে। তাদের মুক্তি দাবি করে আসছে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি।

বাতিলকৃত ৩৭০ অনুচ্ছেদের ৩৫ (এ) ধারা অনুযায়ী, কাশ্মির যে ‘বিশেষ মর্যাদা’র অধিকারী ছিল, তার কারণে কাশ্মিরের বাইরের কোনও ভারতীয় নাগরিকের সেখানকার ভূমি ক্রয়ের অধিকার ছিল না। একইরকম ‘বিশেষ অধিকার’ রয়েছে সে দেশের আরও কয়েকটি রাজ্যেও। পার্টির নেতা সীতারাম সেই প্রসঙ্গে বলেন, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের অজুহাত হিসেবে তথ্যবিকৃতির পাশাপাশি ভুল প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অপর ১০টি ধারায় ভারতের অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যও বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। উত্তর পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ রাজ্য- অন্ধ্র প্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও গুজরাটের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কেবল জম্মু-কাশ্মিরেই নয়, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরখান্ড ও সিকিমেও অন্য কোনও রাজ্যের মানুষ ভূমির মালিকানা নিতে পারে না।‘

রাজ্যসভার সাবেক এই আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেন, ‘এটা কেবল জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার প্রশ্ন না। ভারতের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্য হওয়ায় একে টার্গেট করা হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা। এই কারণেই সংবিধানে থাকা ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও মৈত্রীতন্ত্রের মূলনীতিতে আঘাত হানছে তারা।‘

সীতারাম অভিযোগ করেন, কাশ্মিরে আরও হিন্দু বসতি স্থাপনের মাধ্যমে জনমিতির পরিবর্তন করাই সরকারের পরিকল্পনা। তারা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যকে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে পরিণত করতে চায়। আজ তারা ঠিক ইসলায়েলের আদর্শ অনুসরণ করছে। ‘আমরা জম্মু-কাশ্মিরকে ভারতের ফিলিস্তিনে পরিণত করতে অনুমতি দিতে পারি না, কেবল এই কারণেই এই দিন (২২ আগস্ট) আন্দোলন শুরু হবে। আমরা এমন ধরনের কাজের অনুমতি দিতে পারি না যে, ফিলিস্তিনের জনগণের সঙ্গে ইসরায়েল যেমন ব্যবহার করছে; আমাদের দেশে… জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’ বলেন তিনি।

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ ‘হত্যার পর কাশ্মীরিদের অচিহ্নিত কবরে দাফন করছে ভারত’


ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে মোদি সরকার ‘গণহত্যা’ শুরু করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সরদার মাসউদ খান।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি। মাসউদ খান বলেন, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর অত্যাচারে ৬ হাজারেরও বেশি কাশ্মীরি জনগণ আহত হয়েছেন।

কাশ্মীরে মোদি সরকার ‘সম্পূর্ণ গণহত্যা’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করে আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমি এ কথা বলছি যে, জম্মু-কাশ্মীরে গণহত্যা শুরু হয়েছে। নারীদের লাঞ্ছিত করা হচ্ছে, নির্বিচারে কাশ্মীরি জনগণকে হত্যা করছে ভারতীয় বাহিনী।

হত্যার পর নিহতদের অচিহ্নিত কবরে দাফন করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মাসউদ খান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাশ্মীরের সঠিক চিত্র আসছে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, কাশ্মীরিদের দুর্দশার বিষয়ে সাধারণত উপত্যকায় কী ঘটছে, তার একতরফা বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে, কারণ ভারত সেসব রিপোর্টারকেই অনুমোদন দিচ্ছে, যারা তাদের দেয়া তথ্যমতে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাশ্মীরে অচলাবস্থা আরোপের পর সেখান থেকে কোনো খবর প্রকাশ হতে দিচ্ছে না ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বিরোধপূর্ণ অঞ্চলটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন ছাড়াও টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেটসহ সব ধরনের সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

যদিও বর্তমানে কিছু ল্যান্ডফোনের সংযোগ পুনর্বহাল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অচলাবস্থা চলার সময় সেখানে কেউ নিহত হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই। কেবল আট ব্যক্তি আহত হয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন হাসপাতালের সূত্র বলছে, শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। যাদের অনেকের শরীরে আগ্নেয়াস্ত্রের ক্ষত দেখা গেছে।

হাসপাতালে গেলে আটক হওয়ার ভয়ে বহু লোক বাসায়ও চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও দুই ব্যক্তির স্বজনের সঙ্গে কথা বলেছে এএফপি, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ কাশ্মির নিয়ে বাড়ছে চীন-ভারত টানাপোড়েন


কাশ্মির ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলেও চীন তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে এমনটিই মনে করছেন ভারতীয় কূটনীতিকরা। তাদের মতে, কাশ্মির নিয়ে চীনের সাথে নতুন করে ক্ষত তৈরি হলো মোদি সরকারের। আগামী অক্টোবর মাসে ভারতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দ্বিতীয় ঘরোয়া আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই জম্মু ও কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে চীন নতুন করে কূটনৈতিক বিরোধিতা দুই দেশের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হলো বলে মনে করা হচ্ছে।

দীর্ঘ ৪৯ বছর পর জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচনায় উঠে এসেছে জম্মু ও কাশ্মির ইস্যু। যে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিল পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনও। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, এটি ঠিকই যে, জাতিসঙ্ঘের সিলমোহর মারা কোনো ভারতবিরোধী বিবৃতি দেয়নি নিরাপত্তা পরিষদ। কিন্তু সূত্র বলছে, বিষয়টি এখানেই মিটে যাচ্ছে না।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার বলছে, রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি করানোর পেছনে পাকিস্তানের প্রতি চীনের সখ্যই একমাত্র কারণ নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থ এবং উদ্বেগও। খবরে বলা হয়েছে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে আলোচনায় কাশ্মির নিয়ে মোদি সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ঘোর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, এর ফলে চীনের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আগে ও পরে এবং বৈঠকের ভেতরেও সংস্থাটিতে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। আগামী মাসে নিউ ইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদে যখন কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার নিয়ে ইসলামাবাদ উত্তাল হবে, তাতে প্রবল ইন্ধন থাকবে বেইজিংয়েরও।

সূত্র মতে, চীন সতর্ক হয়ে গিয়েছিল সম্প্রতি ভারতের সংসদীয় অধিবেশনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তৃতার সময়েই। যেখানে অমিত শাহ বলেছিলেন, জম্মু ও কাশ্মির বলতে গিলগিট, বেলুচিস্তান, পাক শাসিত কাশ্মির এবং আকসাই চীনকেও বোঝায়।

আকসাই চীনে পিপলস লিবারেশন আর্মির উপস্থিতি নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ছিলেন সে দিন। অথচ এত দিন পর্যন্ত আকসাই চীনকে ভারত ‘বিতর্কিত ভূখণ্ড বলেছে। চীন মনে করছে, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে বিভাজিত করার পর আকসাই চীন নিয়েও সক্রিয় হবে ভারত। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর চীনের হাতে পাকিস্তানের তুলে দেয়া ৫,১৮৩ বর্গকিলোমিটার জমি নিয়েও টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।

কূটনীতিকরা মনে করছেন, চীন তার সামরিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্য দেশকেও (বিশেষত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী এবং অন্য অস্থায়ী সদস্য দেশ) সাথে নেয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। গত শুক্রবারের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে রুশ প্রতিনিধির বক্তব্য এরই মধ্যে কপালে ভাঁজ ফেলেছে ভারতীয় কর্মকর্তাদের। কাশ্মির সমস্যার সমাধান ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় বিষয়, এ কথা বলার পরও রুশ প্রতিনিধি যোগ করেছেন, এ বিষয়ে জাতিসঙ্ঘের সনদ এবং প্রস্তাবগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অথচ ভারতের অবস্থান হলোÑ কাশ্মির সমস্যার সমাধানে কোনো তৃতীয় পক্ষের নাক গলানো মানা হবে না। আর তাই রাশিয়ার ওই মন্তব্যের পেছনে বেইজিংয়ের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে ভারত।

সীমান্তে ফের পাল্টাপাল্টি গুলি, দুই ভারতীয় সেনাসহ নিহত ৪

অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করে কাশ্মির সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে ফের গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার ভারতীয় বাহিনীর চালানো হামলায় দুই পাকিস্তানি বেসামরিক নিহত হয়েছেন। পরে পাল্টা হামলায় দুই ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। পাকিস্তান আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ অধিদফতরের বরাতে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, গত রোববার ভারতীয় বাহিনী বিনা উসকানিতে নিয়ন্ত্রণরেখায় মর্টার ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ করে। এতে হাসান দীন (৬১) ও লাল মোহাম্মদ (৭৫) নামে দু’জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হামলায় ভারতের কয়েকটি চেকপোস্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শনিবার নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশের সৈন্যরা সংঘর্ষে জড়িয়েছিল।

কিছু স্কুল খুলেছে, উপস্থিতি খুবই কম

ভারতশাসিত কাশ্মিরে গতকাল সোমবার প্রায় দুই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ৯৫টি স্কুল খুলেছে। তবে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি খুবই কম। মোবাইলে আপাতত সীমিত আকারে ইনকামিং পরিষেবা চালু করেছে প্রশাসন। একটি সূত্র জানিয়েছে, আপাতত মোবাইলে শুধু ইনকামিং পরিষেবা দেয়া হতে পারে, যাতে উপত্যকার মানুষ রাজ্যের বাইরের ডোমেস্টিক কল বা আইএসডি কল পেতে পারে। জম্মুর ডিভিশনার কমিশনার সঞ্জীব বর্মা জানিয়েছেন, সব দিক খতিয়ে দেখার পরই ফোর-জি ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা হবে। এ দিকে দু’টি বিমানে উপত্যকায় ফিরেছেন ৩৪৪ জন হজযাত্রী।

জম্মুতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের রথ্যালি

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের জম্মুতে বাইক রথ্যালি করেছে দেশটির হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। দলটির যুব সংগঠন বজরং দলও এ বিক্ষোভে অংশ নেয়। এ দিকে এ বিক্ষোভের জেরে উপত্যকায় নতুন করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ। গত রোববার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

চার হাজার কাশ্মিরি কারাগারে বন্দী

কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার পর সেখানকার হাজারো বাসিন্দাদের জেলে আটকে রাখা হয়েছে। দ্য নিউ আরবের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে এসেছে। খবরে বলা হয়েছে, বিতর্কিত জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) আওতায় কমপক্ষে চার হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ম্যাজিস্ট্রেট বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, আটক কাশ্মিরিদের কাশ্মিরের বাইরের জেলে পাঠানো হয়েছে। কারণ কাশ্মিরে জেলে নতুন করে বন্দীদের রাখার মতো জায়গা নেই। তবে ভারত সরকার বলেছে, কাশ্মিরের শুধু ১০০ জনের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে।

উৎসঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুনঃ কাশ্মিরে দুর্বৃত্তের আচরণ করছে মোদি সরকার: অরুন্ধতী রায়


জম্মু-কাশ্মিরকে সুবিশাল বন্দিশিবিরে রূপান্তর করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বনামধন্য ভারতীয় বুদ্ধিজীবী অরুন্ধতী রায়। কাশ্মিরিদের সঙ্গে মোদি সরকার দুর্বৃত্তের আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ লেখা নিবন্ধে বুকারজয়ী এই উপন্যাসিক দাবি করেছেন, কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করে কুরুচিপূর্ণ পন্থায় তা উদযাপন করছে ভারত।

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় একটি বিলও। আর গত ৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয় তা। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার বিপুলসংখ্যক স্বাধীনতাপন্থী ও ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাকে।

১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ‘নীরবতাই সবথেকে জোরালো আওয়াজ’ (The Silence Is the Loudest Sound) শিরোনামের নিবন্ধে অরুন্ধতী রায় লিখেছেন, ভারত যখন ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭৩ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে, তখন ছিন্নমূল শিশুরা দিল্লির রাস্তায় থমকে থাকা যানবাহনের পাশে গিয়ে গিয়ে বড় মাপের জাতীয় পতাকা ও স্যুভেনির বিক্রি করছে। সেগুলোতে লেখা ‘মেরা ভারত মহান হে’ (আমার ভারত মহান)। সত্যিকার অর্থে ‘আমার ভারত মহান’-এ কথাটা এ মুহূর্তে অনুভব করতে পারা কঠিন। কারণ আমাদের সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন দুর্বৃত্তে পরিণত হয়েছে।’

ভারতের সংবিধানে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের যে নিশ্চয়তা ছিল, মোদি সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর এর অন্তর্গত ৩৫-এ অনুচ্ছেদে বর্ণিত কাশ্মিরিদের বিশেষ সুবিধাও বাতিল হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘৩৫-এ’ অনুযায়ী কাশ্মিরের বাসিন্দা নন এমন ভারতীয়দের সেখানে সম্পদের মালিক হওয়া ও চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল। সরকারের সিদ্ধান্তে সেই বাধা দূর হয়েছে। এখন চাইলেই যে কোনও ভারতীয় নাগরিক সেখান ভূমিসহ অন্যান্য সম্পদ কিনতে সক্ষম হবে।

নিবন্ধে অরুন্ধতী লিখেছেন, “ব্রিটিশ প্রথা অনুযায়ী টেবিল চাপড়ে আইনটি পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতের পার্লামেন্ট। রাজ্যটির আইনি স্বীকৃতি বাতিল করার অর্থ হলো অনুচ্ছেদ ৩৫ (এ)ও বিলুপ্ত করা; এর আওতায় এতোদিন কাশ্মিরি বাসিন্দাদের অধিকারের স্বীকৃতি ছিল এবং নিজেদের এলাকার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই ছিল। সুতরাং ‘ব্যবসায়ের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে’ এ কথাটির মানে স্পষ্ট করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে ইসরায়েলি ধাঁচের বসতি স্থাপন ও তিব্বতের ধাঁচে জনসংখ্যা স্থানান্তরের মতো বিষয়গুলোও।”

স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে কাশ্মিরকে দুটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ৮ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রেডিও,টেলিভিশনে এক যোগে সম্প্রচারিত ভাষণে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দেন তিনি। বলেন, সংবিধানের ৩৭০ ধারা কাশ্মিরি জনগণকে স্বজনপ্রীতি,সন্ত্রাসবাদ ও বিভক্তি ছাড়া কিছুই দেয়নি। সংবিধানের ওই ধারা বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মির ও ভারতীয় জনগণের নতুন যুগের শুরু হবে বলে দাবি করেন মোদি। কাশ্মিরের পণ্য বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

গত ৮ আগস্টের (এবারের অচলাবস্থার চতুর্থ দিন) কথা স্মরণ করে অরুন্ধতী লিখেছেন, ‘এদিন নরেন্দ্র মোদি মূলত উদযাপনমুখর ভারত ও অবরুদ্ধ কাশ্মির নিয়ে টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছিলেন। বক্তব্যে তিনি বুঝিয়েছিলেন কিভাবে কাশ্মিরে আবারও বলিউড চলচ্চিত্রের শ্যুটিং করা যাবে।’

ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিভিন্ন নারী-বিদ্বেষী বক্তব্য এবং ‘কাশ্মির থেকে ভারতীয়রা এখন মেয়ে এনে বিয়ে করতে পারবে’-হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টারের এমন বিতর্কিত মন্তব্যসহ নানা কুরুচিপূর্ণ উপায়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের ঘোষণা উদযাপন করেছে ভারত। অরুন্ধতী মনে করেন, এসবের মধ্যেও সবচেয়ে জোরালো আওয়াজটি হলো কাশ্মিরে টহলকৃত ও ব্যারিকেডে ঘেরা রাস্তা এবং সেখানকার অবরুদ্ধ, নির্যাতিত, কাঁটাতারে ঘেরা, ড্রোনের নজরদারিতে থাকা এবং পুরোপুরি যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির মধ্যে বসবাসকারী প্রায় ৭০ লাখ কাশ্মিরির নিথর নীরবতা।

উৎসঃ বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করবে পাকিস্তান


কাশ্মীর নিয়ে চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পর এবার আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ডন ও এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি একটি টিভি চ্যানেলকে বলেন, আমরা কাশ্মীরের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সব আইনি দিক খতিয়ে দেখে এবং সব কিছু বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ক্যাবিনেট মিটিংয়ের বিস্তারিত জানিয়ে ইমরান খানের তথ্য উপদেষ্টা ফেরদৌস আশিক আওয়ান বলেন, কাশ্মীরের বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে যাওয়ার সুপারিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত হয়েছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণহত্যা, এই দুই বিষয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপের বিষয়ে ভারতীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে শুক্রবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছে চীন।

৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

লাদাখ ও কাশ্মীরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল আনা হয়। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও তাদের ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার অভাবে লোকসভা ও রাজ্যসভা দুই কক্ষে বিলটি পাস হয়।

এ নিয়ে প্রথম থেকেই তীব্র আপত্তি জানিয়ে আসছে পাকিস্তান। এটা ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত, এই অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয় তারা। বিষয়টি জাতিসংঘে তোলার আবেদন করে পাকিস্তান।

কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি চিঠি দেন নিরাপত্তা পরিষদে।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যালয়ে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় বৈঠকটি হয়। ১৯৬৫ সালের পর কাশ্মীর নিয়ে দ্বিতীয়বার রুদ্ধদ্বার বৈঠক এটি। কাশ্মীর নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠকের বিষয়টিকে তাদের কূটনৈতিক জয় হিসেবে দাবি করেছে পাকিস্তান।

উৎসঃ আমাদের সময়

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here