কুমিল্লার লাকসামে এবার র‌্যাবের হাতে আটক ডাক্তার নামধারী সিরিয়াল ধর্ষক মীর হোসেন

0
336

চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করে ধর্ষণ। তুলে রাখা হতো ছবি। সিরিয়াল ধর্ষক চাঁদপুরের রসু খা, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের স্কুলশিক্ষক আরিফ কিংবা চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত বেলাল দফাদারের ধর্ষণের উৎসব থেকেও আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছেন কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরের জংশন এলাকায় র‌্যাবের হাতে আটক ডাক্তার নামধারী সিরিয়াল ধর্ষক আলোচিত মীর হোসেন।

ধর্ষণে তার কৌশল ছিল ভিন্ন। বছরের পর বছর নিজের মালিকানাধীন ডিজিটাল হেলথ কেয়ারের প্যাথলজি ল্যাবে কর্মরত নারীকর্মীদের ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি। কখনও প্রলোভনে, কখনও চাকরি হারানোর হুমকি দিয়ে কিংবা কাউকে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করে ধর্ষণ করে আসছিলেন তিনি। ধর্ষণের সময় গোপন ক্যামেরায় ছবি তুলে মাসের পর মাস ছবি প্রকাশের হুমকি দিয়ে চালিয়ে গেছেন যত অপকর্ম। কিন্তু এবার ধরাশায়ী হয়েছেন ওই নারীলোভী কথিত ডাক্তার।

এক নারীকর্মীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার তাকে আটক করেছে কুমিল্লার র‌্যাব ১১, সিপিসি-২ এর একটি দল। কথিত ওই ডাক্তার মীর হোসেন লাকসাম পৌরসভার বাইনচাটিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। ঠিক কতজন নারীকর্মী এ যাবত ধর্ষণের শিকার হয়েছেন- এ বিষয়ে র‌্যাব নিশ্চিত হতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১১ এর কুমিল্লার সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার প্রণব কুমার। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার লাকসাম থানায় মামলা হতে পারে।

র‌্যাব, স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুয়া ডাক্তার মীর হোসেন তার প্যাথলজিতে সুন্দরী মেয়েদের চাকরি দিয়ে নানা কৌশলে তাদের ধর্ষণ করতেন। গোপনে ক্যামেরায় ছবি তুলে রেখে পরবর্তীতে হুমকি দিয়ে তাদের একাধিকবার ধর্ষণ করতেন। কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেত না।

একটি সূত্র জানায়, মীর হোসেন ডাক্তার না হয়েও নিজেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দাবি করতেন। স্থানীয় কিছু সাংবাদিককে ম্যানেজ করে দীর্ঘ চার বছর ধরে নিজেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

অভিযোগের বরাত দিয়ে র‌্যাব সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে এক সুন্দরী নারীকর্মীকে নিজের প্যাথলজিতে ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন মীর হোসেন। কিন্তু চাকরির শুরুতেই নানা অজুহাতে ওই নারীর শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করতেন তিনি। একপর্যায়ে মীর হোসেন তাকে জোরপূর্বক ইনজেকশন পুশ করে ধর্ষণ করেন। গোপন ক্যামেরায় ছবি তুলে রাখা আছে- এমন হুমকি দিয়ে ওই নারীকে অন্তত ৩০ বার ধর্ষণ করা হয়। প্রতিবার ধর্ষণের সময় শরীরে একটি ইনজেকশন পুশ করা হতো। ঘটনা প্রকাশ করলে ইন্টারনেটে ছবি ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। তার নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে গত সোমবার কুমিল্লায় র‌্যাবের নিকট ওই নারী লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ যাচাই করে এসবের সত্যতা পান র‌্যাবের গোয়েন্দারা। বুধবার র‌্যাবের একটি দল ডিজিটাল হেলথ কেয়ারে অভিযান চালিয়ে ভুয়া ডাক্তার ধর্ষক মীর হোসেনকে আটক করে। অভিযানে চেম্বারের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, কন্ডমসহ বিভিন্ন অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য জব্দ করা হয়। এরপরই র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে ধর্ষণের সব চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য।

র‌্যাব-১১ সিপিসি ২ এর কোম্পানি কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, মেয়েটির লিখিত অভিযোগ পেয়ে আমরা লাকসাম ডিজিটাল হেলথ কেয়ারের মালিক মীর হোসেনের চেম্বারে অভিযান চালিয়ে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, বিপুল পরিমাণ কন্ডমসহ বিভিন্ন অবৈধ নেশাজাতীয় দ্রব্য পাই। তিনি কোনো ডাক্তার নন, চাকরি দেয়ার নামে ওই চেম্বারে অসংখ্য নারীকর্মীকে ধর্ষণ করেছেন মীর হোসেন।

সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, তাকে আটক করে র‌্যাব হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এমন নারীকর্মীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে বর্তমানে সেখানে কর্মরত এক নারীকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তার কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে আটককৃত ওই ভুয়া ডাক্তার নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার লাকসাম থানায় মামলা করা হতে পারে।

উৎসঃ জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here