তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়ে কোটিপতি বনে যাওয়া ম্যাজিক মিজান

0
218

মিজানুর রহমান। তিনি তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। মাদারীপুর শহরে উনার ৪টি বাড়ী রয়েছে। পরিবহন ব্যবসায়ও বড় লগ্নি করেছেন তিনি। নিজের নামে ছাড়াও স্ত্রী ও স্বজনদের নামে বিপুল সম্পদ গড়ে দিয়েছেন। চাকুরীর শুরুতে একেবারে শূন্য থেকে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হওয়া এই তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এর আগে তিনি মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অর্পিত সম্পত্তি শাখাসহ বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন। তৃতীয় শ্রেণির চাকরি করে কোটিপতি বনে যাওয়ার এমন ম্যাজিক দেখিয়ে তিনি এখন মাদারীপুরের সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্র বিন্দু। অদৃশ্য খুঁটির জোরেই তিনি বেপরোয়া। অনেক সময় তোয়াক্কা করেন না সিনিয়র কর্মকর্তাদেরকেও। এ নিয়ে অনেকে ক্ষুব্ধ হলেও ভয়ে মুখ খোলেন না কেউ।

অভিযোগ রয়েছে, মাদারীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চাকুরীর সময়ই মিজানের ভাগ্যোন্নয়ন শুরু হয়। এই সময় তিনি সরকারী সম্পত্তি লিজ দেয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন বিপুল পরিমান টাকা। এছাড়াও সরকারী সম্পত্তি নিজের এবং আত্মীয় স্বজনদের নামেও লিজ নেন। এভাবেই তিনি মাদারীপুর শহরের গড়ে তুলেছেন ৪টি বাড়ী। যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।

এছাড়াও ভাইদের রয়েছে শহরের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। এই সব ব্যবসায় তিনিই অর্থের জোগান দিচ্ছেন এমনটাই দাবী এলাকাবাসীর। গ্রামের বাড়ি শিবচর উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নের শম্ভুক এলাকায়ও রয়েছে সম্পত্তি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারীপুর শহরের পাঠককান্দি এলাকায় তার একটি বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িতেই তিনি থাকেন। এছাড়াও ভাড়াটিয়া রয়েছে প্রায় ৫টি। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় কয়েক কোটি টাকা। শহরের স্টোডিয়ামের পিছনে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন তিনি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এই বাড়ির নির্মাণ কাজ তিনতলা পর্যন্ত হয়ে গেছে। জমিসহ এর বাজার মূল্য কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা। শহরের থানতলী এলাকাতেও রয়েছে তার একটি বাড়ি। এই বাড়িতে একাধিক ঘর রয়েছে। একটি ঘরে তার ছোট ভাই থাকেন। বাকি ঘরগুলো ভাড়া দেয়া রয়েছে।

মাদারীপুর শহরের ইউ আই স্কুল সংলগ্ন এলাকায়ও তার একটি বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িটি গড়ে তুলেছেন সরকারী জমির উপর। তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মরত থাকাকালে আপন ভাইয়ের নামে লিজ নেন। এখানেও রয়েছে ৪-৫টি ভাড়াটিয়া। এই বাড়ির বাজার মূল্যও কোটি টাকার উপরে। এছাড়াও পরিবহন ব্যবসাও রয়েছে তার।

এই সম্পদের আয়ের উৎস সম্পর্কে মিজানুর রহমান বলেন, অনেক আগে কমমূল্যে আমি স্টেডিয়ামের পিছনে জমি কিনেছিলাম। সেই জমি দাম এখন বেড়েছে। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও থানতলী এলাকার বাড়ির জমিও অল্প টাকায় কিনেছিলাম। এখন জমির দাম বেড়ে গেছে। এগুলো আমার বেতনের টাকায় কেনা। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকুরী করি। এছাড়া পাঠককান্দি এলাকার জমিটি সরকারী সম্পত্তি। আমার এক আত্মীয় ভোগ দখল করতো। পরে তারা ছেড়ে দেয়ার আমার নামে লিজ নিয়েছি। ইউ আই স্কুল সংলগ্ন জমিটি আমার ছোট ভাইয়ের নামে লিজ নেয়া। এছাড়াও ২-৩টি ট্রাক রয়েছে এগুলো আমার ভাইদের সাথে শেয়ারে কেনা। আমার কোন অবৈধ উপার্জন নেই।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত সেই আফজালের সঙ্গে দুদকের গোপন সম্পর্ক!


স্বাস্থ্যখাতের কুমির হিসেবে পরিচিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানম। নিম্ন পদে চাকরি করেও ২৪ বছরে তারা অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা যদি ২৪ বছরে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারেন তাহলে দ্বিতীয় বা প্রথম শ্রেণির একজন কর্মকর্তার সম্পদ কী পরিমাণ থাকতে পারে? এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে।

গত ২২ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক, হস্তান্তর বা লেনদেন বন্ধ এবং ব্যাংক হিসাবগুলোর লেনদেন অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন আদালত। আদালতের আদেশের পরপরই বিজি প্রেস থেকে গেজেট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আদালতের আদেশ পৌঁছে গেছে। আদালত সুনির্দিষ্টভাবে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান ও বাংলা দৈনিক অগ্রসরে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার জন্য আদেশে বলেছিলেন। সে মোতাবেক বিজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে।

এরপর গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মহাব্যবস্থাপক বরাবর দুদক থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আফজাল, তাঁর স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের সব ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে আদালতে নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের কপি মাত্র ৩টি ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠিয়েছে দুদক। অন্য কয়েকটি ব্যাংকে থাকা আবজাল দম্পতির হিসাবগুলো এখনও সচল রয়েছে।

জানা গেছে, আদালতের আদেশের পর গত দুই সপ্তাহেই আফজাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রুবিনা খানমের ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে। রুবিনা খানমের মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, যার মাধ্যমে সরকারি ঠিকাদারি কাজের বিল আদায় হতো সেটিও সচল আছে এবং লেনদেন চলছে। আবজালের নিজের নামে ও তাঁর যেসব নিকটাত্মীয়কে দুদক জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনেছে তাঁদের হিসাবও সচল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওইসব হিসাব সচল থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

ওইসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, জব্দের কোনো আদেশ না পাওয়ায় এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না তাঁরা।

আদালতের আদেশের পরও আবজাল দম্পতির ব্যাংক লেনদেন সচল থাকার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশের পরই এনিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, লেনদেন জব্দের জন্য দুদক মাত্র ৩টি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে কেন? আফজাল দম্পতিকে তাদের অবৈধ সম্পত্তি সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দিতেই অন্য ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেয়নি দুদক?

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুদকের কাছে শুধু ৩টি ব্যাংকের তথ্য থাকবে কেন? তাহলে নিশ্চয় অদৃশ্য কোনো ইশারায় আফজাল দম্পতির অবৈধ সম্পত্তির সব অনুসন্ধান করেনি দুদক। কোন ব্যাংকের মাধ্যমে আফজাল দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে লেনদেন করে আসছে এসব নিশ্চয় দুদকের জানা আছে। আফজাল দম্পতির সঙ্গে যে দুদক কর্মকর্তাদের গোপন আঁতাত রয়েছে এটা এখন পরিষ্কার।

কেউ কেউ বলছেন, দুদক কমিশনাররা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এটা করেছে। আফজাল দম্পতিকে অবৈধ টাকা সরিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদসহ অন্যান্য কমিশনারদেরও হাত রয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কে?

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ছয়গুণ

এ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ধর্ষণ ৪৮টি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৯টি। গত বছরের একই সময়ে দেশে ১৯টি ধর্ষণ ও তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণের ঘটনা তিনগুণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাদের ভাষ্য, ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং থাকতে হবে। কেননা, বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না হওয়ায় পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগ থাকে।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৭টি। ২০১৮ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২টি। ২০১৯ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৯ জন, এ সংখ্যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ছিল তিনটি।

তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপাত্ত নিয়ে এ গবেষণা করে বাংলা ট্রিবিউন। গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শুরুতেই বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর ছাত্রী ও গৃহবধূরা ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বেশি। কর্মজীবী নারীদের মধ্যে পোশাক শ্রমিকরা বেশি ধর্ষণের শিকার হন। এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীরাও।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় ১৬টি জেলা থেকে, ২০১৯ সালের একই সময়ে ৩৫টি জেলা এ ধরনের সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার তুলনামূলক চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৩১ জন শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ২১ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় তিন জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাতটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়, এর মধ্যে দু’টি শিশুকে হত্যা করা হয়।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যে ধর্ষণের খবরগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার কয়টির বিচার হয়েছে। ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ করে যখন ধর্ষক পার পেয়ে যায়, তখন তা অপরাধকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্ষণ কমবে— এমনটা আশা করা ঠিক না।’

রোকেয়া কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত, ধর্ষণের ঘটনার বিচার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভিকটিম যেন নির্ভয়ে বিচার চাইতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংখ্যাগতভাবে ধর্ষণ বাড়ছে দুটো কারণে। এক. আগে ধর্ষণের সংবাদ পত্রিকায় কম আসতো। আরেকটি হলো সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এমন অপরাধের (ধর্ষণ) ক্ষেত্রে বিচার না হওয়া, অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।’

ধর্ষণ ঘটনার খুব কমই বিচার হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচার হলেও অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীর অভাব, বাদীর অনীহা, পুলিশের গাফিলতিতে দুর্বল চার্জশিট দেওয়া ইত্যাদি কারণে ধর্ষণ প্রমাণ কঠিন হয়। সমাজের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে মানুষ সোচ্চার হলেও ভিকটিমকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীকে অবহেলার চোখে দেখা হয়।’

বেশ কিছু করপোরেট অফিস থেকে নারী নির্যাতনের খবর আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীরা আসলে রাস্তা-বাড়ি-কর্মক্ষেত্র কোথাও নিরাপদ না। এটি ব্যাপকতা পেয়েছে। একজন নারী, সে যদি অফিসেও যৌন হয়রানির শিকার হন, সেখানেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নারীকে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত হতে বাধা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণরোধে আইন হতে হবে এবং ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধ দ্বিগুণ-তিনগুণ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিচার হবে কী করে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সাক্ষীর নিরাপত্তার কোনও জায়গা আমরা রাখিনি। অথচ, ভিকটিমের সাক্ষী লাগবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হতে হবে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সবসময় সেই সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় না। তাহলে কীভাবে প্রতিকার মিলবে?’

আয়েশা খানম বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফলতি হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না, ফলে পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগগুলো থাকে। নারী ভিকটিম হলে তাকে ইতিবাচক সহায়তা দেওয়ার বদলে কোন কোন কারণে তার ধর্ষণ জায়েজ, সমাজ এখনও সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এসব বদলাতে অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিচার হতে হবে।’

উৎসঃ ‌banglatribune

আরও পড়ুনঃ মানিকগঞ্জে ডাকবাংলোয় আটকে রেখে এক নারীকে ইয়াবা খাইয়ে ধর্ষণ করল দুই পুলিশ


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ডাকবাংলোয় আটকে রেখে এক নারীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। দুই পুলিশ সদস্য হচ্ছেন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে ওই নারী জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে সাটুরিয়ায় এলে সাটুরিয়া থানার এসআই সেকেন্দার হোসেন থানার পাশে ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে জোর করে ইয়াবা বড়ি খাইয়ে নেশাগ্রস্ত করেন। পরে এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুল ইসলাম তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এরপর বিষয়টি কাউকে জানালে বা মামলা-মোকদ্দমা করলে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার হুমকি দেন। পরের দিন শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত আটকে রাখার পর তাঁকে ছেড়ে দেয়।

ধর্ষণের শিকার ওই নারীর প্রতিবেশী আরেক নারী জানান, এসআই সেকেন্দার হোসেন তাঁর পূর্ব পরিচিত। একসঙ্গে জমি কেনার বিষয়ে তিন বছর আগে তিনি সেকেন্দারকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা নিতে তিনি তাঁর প্রতিবেশীকে নিয়ে সাটুরিয়ায় যান। সেকেন্দার হোসেন তাঁদের টাকার বিষয়ে কথা বলার জন্য থানার পাশেই সরকারি ডাকবাংলোতে নিয়ে যান। সেখানে পাওনা এক লাখ টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা দিয়ে তাঁকে পাশের একটি কক্ষে আটকে রাখে। আর তাঁর প্রতিবেশীকে অন্য কক্ষে নিয়ে যান সেকেন্দার।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে টেলিফোনের মাধ্যমে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে সদর সার্কেলের এএসপি হাফিজুর রহমানকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তে কিছুটা সত্যতা পাওয়ায় শনিবার রাতেই এসআই সেকেন্দার হোসেন ও এএসআই মাজাহারুল ইসলামকে মানিকগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার ভিকটিম সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উৎসঃ ‌এনটিভি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বেড়েছে ছয়গুণ

এ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট ৬৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ধর্ষণ ৪৮টি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ১৯টি। গত বছরের একই সময়ে দেশে ১৯টি ধর্ষণ ও তিনটি সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ২০১৮ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণের ঘটনা তিনগুণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় উঠে আসা এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে নারী নেত্রী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাদের ভাষ্য, ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি হচ্ছে কিনা, তা মনিটরিং থাকতে হবে। কেননা, বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না হওয়ায় পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগ থাকে।

বাংলা ট্রিবিউনের গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে দেশে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৭টি। ২০১৮ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২২টি। ২০১৯ সালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৯ জন, এ সংখ্যা ২০১৮ সালের একই সময়ে ছিল তিনটি।

তিনটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উপাত্ত নিয়ে এ গবেষণা করে বাংলা ট্রিবিউন। গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় এ বছরের শুরুতেই বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ বছর ছাত্রী ও গৃহবধূরা ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বেশি। কর্মজীবী নারীদের মধ্যে পোশাক শ্রমিকরা বেশি ধর্ষণের শিকার হন। এই সহিংসতার শিকার হয়েছেন শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীরাও।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ধর্ষণের খবর পাওয়া যায় ১৬টি জেলা থেকে, ২০১৯ সালের একই সময়ে ৩৫টি জেলা এ ধরনের সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার তুলনামূলক চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৩১ জন শিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয় ২১ জন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় তিন জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাতটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়, এর মধ্যে দু’টি শিশুকে হত্যা করা হয়।

নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর মনে করেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে যে ধর্ষণের খবরগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার কয়টির বিচার হয়েছে। ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ করে যখন ধর্ষক পার পেয়ে যায়, তখন তা অপরাধকে উৎসাহিত করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ধর্ষণ কমবে— এমনটা আশা করা ঠিক না।’

রোকেয়া কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রথমত, ধর্ষণের ঘটনার বিচার হতে হবে। দ্বিতীয়ত, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ভিকটিম যেন নির্ভয়ে বিচার চাইতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সংখ্যাগতভাবে ধর্ষণ বাড়ছে দুটো কারণে। এক. আগে ধর্ষণের সংবাদ পত্রিকায় কম আসতো। আরেকটি হলো সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিচারহীনতা ও ভয়ের সংস্কৃতির কারণে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। এমন অপরাধের (ধর্ষণ) ক্ষেত্রে বিচার না হওয়া, অপরাধী পার পেয়ে যাওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।’

ধর্ষণ ঘটনার খুব কমই বিচার হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বিচার হলেও অভিযুক্ত খালাস পেয়ে যাচ্ছে। সাক্ষীর অভাব, বাদীর অনীহা, পুলিশের গাফিলতিতে দুর্বল চার্জশিট দেওয়া ইত্যাদি কারণে ধর্ষণ প্রমাণ কঠিন হয়। সমাজের মধ্যে এ ধরনের অপরাধের ব্যাপারে মানুষ সোচ্চার হলেও ভিকটিমকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। নারীকে অবহেলার চোখে দেখা হয়।’

বেশ কিছু করপোরেট অফিস থেকে নারী নির্যাতনের খবর আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারীরা আসলে রাস্তা-বাড়ি-কর্মক্ষেত্র কোথাও নিরাপদ না। এটি ব্যাপকতা পেয়েছে। একজন নারী, সে যদি অফিসেও যৌন হয়রানির শিকার হন, সেখানেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।’

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘পিতৃতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নারীকে সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত হতে বাধা দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধর্ষণরোধে আইন হতে হবে এবং ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। বিচার না হওয়ার কারণে অপরাধ দ্বিগুণ-তিনগুণ হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিচার হবে কী করে, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। সাক্ষীর নিরাপত্তার কোনও জায়গা আমরা রাখিনি। অথচ, ভিকটিমের সাক্ষী লাগবে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মেডিক্যাল পরীক্ষা হতে হবে, কিন্তু আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সবসময় সেই সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায় না। তাহলে কীভাবে প্রতিকার মিলবে?’

আয়েশা খানম বলেন, ‘ধর্ষণ মামলা তদন্তে বা ভিকটিমের অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফলতি হচ্ছে কিনা, সেই বিষয়ে মনিটরিং থাকতে হবে। বিচার ব্যবস্থা সার্বিকভাবে জেন্ডার সংবেদনশীল না, ফলে পাওয়ার ম্যানুপুলেশনের সুযোগগুলো থাকে। নারী ভিকটিম হলে তাকে ইতিবাচক সহায়তা দেওয়ার বদলে কোন কোন কারণে তার ধর্ষণ জায়েজ, সমাজ এখনও সেদিকেই বেশি মনোযোগ দেয়। এসব বদলাতে অপরাধকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে তার বিচার হতে হবে।’

উৎসঃ ‌banglatribune

আরও পড়ুনঃ মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের নারী কেলেঙ্কারিঃ মাসুদা ভাট্টি-মুন্নী সাহারা চুপ কেন?


নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতা মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে সাংবাদিকদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। রোববার সকালেও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নারী সাংবাদিকরা মানববন্ধন করেছে। একুশে টিভিতে কর্মরত নির্যাতনের শিকার নারীকর্মীরাও মানববন্ধনে বুলবুলের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় বুলবুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে গোটা সাংবাদিক সমাজ। সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনগুলোও বুলবুলের এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সাংবাদিক ছাড়া বিভিন্ন মহল থেকেও বুলবুল এবং তার সহযোগিদের শাস্তির দাবি উঠেছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বুলবুলের নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও এনিয়ে চলছে সমালোচনা।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, টেলিভিশনের পর্দায় বসে যারা দিন রাত ২৪ ঘণ্টায় নারীদের অধিকার নিয়ে চেঁচামেচি করেন সেই কথিত সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহাকে একুশে টিভির নারীকর্মীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় কোনো কথা বলতে শুনা যাচ্ছে না। বুলবুল গংদের শাস্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রায় নিয়মিতই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছেন নারী সাংবাদিকরা। কিন্তু মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহাকে একদিনও দেখা যায়নি। এমনকি কোনো টকশোতেও এনিয়ে কোনো কথা বলছেন না কথিত এই দুই নারী সাংবাদিক।

অথচ, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলার প্রতিবাদে দলবল নিয়ে মাঠে নেমেছিল মুন্নী সাহারা। তাদের ভাষায়-মইনুল হোসেন নাকি মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলে তাদের ইজ্জত একেবারে শেষ করে দিয়েছিলেন। এখন তাদের জাত ভাই মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল ও তার সহযোগিরা নারীকর্মীদেরকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করলেও সম্মান নষ্ট হয় না।

মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহার নীরবতা নিয়ে শুধু সাংবাদিক সমাজ নয়, রাজনৈতিক মহলেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। সবার প্রশ্ন একটাই-এত বড় ঘটনার পরও মাসুদা ভাট্টি ও মুন্নী সাহা এখন চুপ কেন? বুলবুলের বিরুদ্ধে তারা মুখ খুলছেন না কেন? বুলবুলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কি? অভিযোগ রয়েছে, বুলবুল এটিএন বাংলায় থাকাকালীন মুন্নী সাহার সঙ্গে দহরম মহরম সম্পর্ক ছিল।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামী লীগের উন্নয়ন বনাম নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ

ধর্ষকলীগের প্রতীকী ছবি

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট যখন ক্ষমতায় আসে, তার আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ছিল। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের তেমন উল্লেখযোগ্য কোন নেতাকর্মীর উপর নির্যাতন চালিয়েছিল মর্মে কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে, সেসময় দেশের কয়েকটি স্থানে সংখ্যালঘু তথা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর হামলা হয়েছিল। পরবর্তীতে অবশ্য জানা গিয়েছিল যে, এইসব ঘটনার অধিকাংশই ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং অনেকক্ষেত্রে ব্যক্তিগত রেষারেষির বিষয়কেও সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছিল।

ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, একথা স্বীকার করতেই হবে, সেসময়ে সেই সামান্য কয়েকটি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাকে আওয়ামী লীগ বেশ ফুলে ফাপিয়ে প্রচার করতে সক্ষম হয়েছিল। দেশতো বটেই এমনকি বিদেশী অনেক সংস্থাও বিশ্বাস করেছিল যে, চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে হিন্দুদের উপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। বিএনপির সাথে ইসলামিক দল জামায়াতের জোট হওয়ায় এবং জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা সরকারের মন্ত্রী হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল মোটামুটি বিশ্বাস করেছিল যে ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল থেকেই হিন্দু নির্যাতনের মত ঘটনাগুলোকে মদদ দেয়া হয়েছে। শাহরিয়ার কবিরের মত আওয়ামী দালালেরা সেই সময় নানা ধরনের শর্ট ফিল্ম ও ডকুমেন্টারী নির্মাণ করে এসব ঘটনাকে বিশ্বের দরবারে নেতিবাচকভাবে হাইলাইটও করেছিল।

দুর্ভাগ্য বিএনপির, দুর্ভাগ্য জামায়াতের আর দুর্ভাগ্য দেশবাসীরও। আওয়ামী লীগ বিতর্কিত নির্বাচন করে টানা তৃতীয়বারের মত ক্ষমতায় এসে যখন বর্বরতা আর পৈশাচিকতার জঘন্য নজির স্থাপন করে যাচ্ছে তখনও সেই সব সত্য ঘটনাগুলোকে সর্বমহলে বিরোধী দল তুলে ধরতে পারছেনা।

আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীরা চোখে রঙ্গিন চশমা পড়ে ঘুরছেন। তারা দেশকে উন্নত দেশ বলে ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। একজন মন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ নাকি এখন লস এ্যাঞ্জেলেস হয়ে গেছে। অন্যদিকে আরেকমন্ত্রী এক ডিগ্রী এগিয়ে বলেছেন, কয়েক বছর পর নাকি আমেরিকা থেকেই লোকজন শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতে আসবে। আল্লাহ এই সব দালাল ও দলকানা লোকদেরকে হেদায়েত নসীব করুন। এর চেয়ে বেশী কিছু আর বলারও নাই।

কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে বাংলাদেশের অবস্থা এখন ভয়াবহ। অন্যসব সংকটের কথা বাদ দিয়ে গেলেও এবারের বিতর্কিত নির্বাচনে নোংরাভাবে বিজয় হাইজ্যাক করার পর সরকার ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষকলীগসহ আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেভাবে নারী নির্যাতন ও ধর্ষনের উৎসব শুরু করেছে, তাতে আওয়ামী লীগের কি হবে জানিনা, তবে আমাদেরই মাথা লজ্জ্বায় হেট হয়ে যায়। নির্বাচনের পর থেকে আজ অবধি সারা দেশে নারী-শিশু ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে আজ নারী ও শিশুর ইজ্জত-আবরুর কোন নিরাপত্তা নেই।

নির্বাচনের পরের দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে একটি গ্রামে একজন গৃহবধুকে তার স্বামীর সামনেই গন ধর্ষন করা হয়। তার অপরাধ ছিল তিনি বিরোধী দল তথা ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রদান করেছেন। এর ঠিক এক মাস পর গত ১লা ফেব্রুয়ারী রাতে সেই একই এলাকায় অর্থাৎ সুবর্ণচরের পূর্বচরবাটা ইউনিয়নে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। দেশে নারী-শিশু-কিশোরী অবাধে ধর্ষিতা হচ্ছে। প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তরা নারী-শিশু-কিশোরীকে ধর্ষণ করছে।

তদন্তে দেখা যায় সরকারী দলের লম্পট দুর্বৃত্তরা প্রশাসনের ছত্র ছায়ায় অবাধে ধর্ষণ ও হত্যার মত নৃশংস ঘটনা একের পর এক ঘটিয়ে যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। ফলে ধর্ষকরা আরো উৎসাহিত হচ্ছে। তারা ধর্ষিতাদের অভিভাবকদের মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং নাজেহাল করছে। ফলে নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণ ও নির্যাতন মহামারী আকার ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা গিয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ সরকারী দলের ধর্ষণকারীদের সাহায্য-সহযোগিতা করছে এবং ধর্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আমলে না নিয়ে ধামা-চাপা দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে যে, গত ২০১৮ সালে যৌন সহিংসতায় সারা দেশে ৪২ জন নারী ও শিশু নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ২৮৪ জন। গত জানুয়ারী মাসের ৩৩ দিনে ৪১টি ধর্ষণ ও ধর্ষণ অপচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তাদের ২৯ জনই শিশু ও কিশোরী। বাস্তবে দেশে নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণের যে সব ঘটনা ঘটছে তার সামান্য অংশই মিডিয়ায় প্রকাশিত হচ্ছে। বেশীর ভাগ ঘটনাই অজানা থেকে যাচ্ছে।

নারী-শিশু-কিশোরী ধর্ষণকারী দুর্বৃত্তদের বিচার না হওয়ার কারণেই নারী, শিশু-কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই যাচ্ছে। এ সব বন্ধ করতে হলে ধর্ষণকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। আওয়ামী যেসব ক্যাডাররা এসব অপকর্মের সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেককে প্রকাশ্যে শাস্তি দিতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের যে কর্মকর্তারা এসব অপরাধের ব্যপারে নির্বিকার ভুমিকা পালন করছে, মদদ দিচ্ছে তাদেরকেও চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ইসলামপন্থী দল ও ব্যক্তিবর্গদের হেয় করা বন্ধ করতে হবে। ইসলামী দলগুলোকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনাগুলোর প্রসার ঘটাতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মীয় ও নৈতিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে এগুলো অধ্যায়ন বাধ্যতামুলক করতে হবে। কেননা এটাই দিবালোকের মত সত্য, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা ও মোটিভেশন ছাড়া এই ধরনের জঘন্য অপকর্মকে কোনভাবেই রোধ করা যাবেনা। আর যদি ধর্ষণ আর নারী নির্যাতন এভাবেই চলতে থাকে, তাহলে আওয়ামী লীগের তথাকথিত উন্নয়নের চাঁপাবাজি করে জনগনকে নিয়ন্ত্রনে রাখাও সম্ভব হবেনা।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here