বাংলাদেশের সরকারি মেডিক্যালে ভয়ঙ্কর জালিয়াতি

0
138

ভারতের হাজার হাজার নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে চাকরি করে বিপুল বৈদেশিক পরিমান মুদ্রা নিয়ে যাচ্ছে। এখন আবার সার্ক কোটায় সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে বাংলাদেশের সরকারি মেডিক্যালে পড়ছে ভারতের শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিক্যালে ছাত্র-ছাত্রীদের যেখানে ২৫ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে পড়তে হচ্ছে; সেখানে ভারতের শিক্ষার্থীরা নকল সনদে সরকারি মেডিক্যালে ভর্তি হয়ে প্রায় বিনা খরচে লেখাপড়া করছে। শুধু তাই নয়, নামীদামি মেডিক্যালে পড়–য়া ভারতীয় এই শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপও পাচ্ছে। এই জালিয়াতি-প্রচারণায় সহায়তা করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তা। খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভুয়া সনদ ও টেম্পারিং করা নম্বরপত্রে ১৫ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেছে লেখাপড়া করছে।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি প্রফেসর ডা. মো. আব্দুর রশিদ ইনকিলাবকে বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভর্তির পুরো বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতের হাইকমিশনকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে খুব শিগগিরই একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তবে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হোসেন বলেন, এ বিষয়টি তার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট দফতর কেন কাগজের সঠিকতা যাচাই-বাছাই করেননি তাও ক্ষতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

অনুসন্ধান করে জানা যায়, বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে বিদেশী কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর জালিয়াতি হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী মেধার ভিত্তিতে বিদেশী শিক্ষার্থী ভর্তি করার কথা থাকলেও ভুয়া নম্বরপত্র তৈরি করে শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট দেশী-বিদেশী একটি চক্র। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে নম্বরপত্র জালিয়াতি করে দেশের সরকারি ৪টি মেডিক্যালে ১৫ জনসহ মোট ভর্তি হয়েছে ৫৭ জন বিদেশী শিক্ষার্থী। এই প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মী। যারা টাকার বিনিময়ে বিদেশী প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে মেধাহীন শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপের মাধ্যমে মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এতে করে প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীরা মেডিক্যাল শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্য দিকে গুটিকয়েক দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মচারী দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে।

জানা গেছে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নন-সার্ক কোটাও কিছু বিদেশী শিক্ষার্থী এ ধরনের সুযোগ পেয়ে থাকেন। এসব শিক্ষার্থীর ভর্তির ক্ষেত্রে নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত মেধাবীদের এ ক্ষেত্রে সুযোগ দেয়া হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন শাখার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে সার্ক কোটায় মোট ৯৪ জন এবং নন-সার্ক কোটায় ৮২ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভর্তি করা হয়। এসব শিক্ষার্থী বাংলাদেশের সরকারি মেডিক্যালে পরীক্ষার মাধ্যমে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মতো সামান্য খরচে মেডিক্যালে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান। কারণ সরকারি মেডিক্যালে শিক্ষার্থীরা সরকারি ব্যয়ে পড়াশোনা করেন। তবে বেসরকারি মেডিক্যাল ৫০ শতাংশ বিদেশী কোটা থাকলেও সার্ক কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তির কোনো সুযোগ নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে সার্ক কোটায় দেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভারত, নেপাল, ভুটান এবং পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে যে ১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন, তারা সবাই ভারতের নাগরিক। এদের মধ্যে ১১ জনের সনদ ভুয়া। অর্থাৎ তারা ভারতের যে প্রদেশের বাসিন্দা এবং যেখানে লেখাপড়া করেছেন, সেখানকার সনদ না দিয়ে অন্য প্রদেশের সনদ দিয়ে ভর্তি হয়েছেন। বাকি ৪ জন নম্বরপত্র টেম্পারিং করে ভর্তি হন। টেম্পারিং করা নম্বরপত্রে যথেষ্ট অসঙ্গতি থাকলেও ভারত বা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ভর্তির আগে সেগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন মনে করেনি। ফলে একাধিক সরকারি কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে ভারতের শিক্ষার্থীরা।

এসব শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, সার্ক কোটায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন দীক্ষা দেবী; যার ঠিকানা জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর। কিন্তু তিনি দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর যে কাগজ জমা দিয়েছেন সেগুলো অন্ধ্র প্রদেশের। একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত তায়েবা আফতাব; তার ঠিকানা জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর হলেও সনদ দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের। সাকির সোয়াকাট ভাট, ঠিকানা জম্মু কাশ্মীর, সনদ উত্তর প্রদেশের। একই ভাবে আহমেদ মুসতাক রাতহারের ঠিকানা জম্মু কাশ্মীর সনদ অন্ধ্র প্রদেশের। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরতদের মধ্যে সৈয়দ তাবিস মইন, ঠিকানা জম্মু কাশ্মীর আর সনদ অন্ধ্র প্রদেশের। সুয়ায়েব যহোর, ঠিকানা জম্মু কাশ্মীর, সনদ উত্তর প্রদেশের। আদিবা রউফ, ঠিকানা জম্মু কাশ্মীর, সনদ অন্ধ্র প্রদেশ। ইফ্র নাইক ঠিকানা জম্মু কাশ্মীর, সনদ অন্ধ্র প্রদেশে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত জিসান মেহেদী হোসাইন, তিনি ঠিকানা দিয়েছেন আসামের। তার স্থায়ী ঠিকানা জম্মু কাশ্মীর আর সনদ দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের। রংপুর মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত হানান গানি, ঠিকানা জম্মু কাশ্মীর, সনদ অন্ধ্র প্রদেশের। ফাতিমা সিকান্দার ওয়ানি, তিনিও জম্মু কাশ্মীরের অধিবাসী তবে সনদ দিয়েছেন অন্ধ্র প্রদেশের। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত জম্মু কাশ্মীরের শিক্ষার্থী তুবা সাহা, হুদা ওয়ানি, হাশিম শাখাওয়াত লাহারিওয়াল এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত ফাজার ফারুক নম্বরপত্র টেম্পারিং করে ভর্তি হয়েছেন।

ফাজার ফারুকের নম্বরপত্র অনুসন্ধানে দেখা যায়, রসায়ন বিজ্ঞানে তিনি তত্ত্বীয়তে ৭০ নম্বর এবং অন্যান্য মিলিয়ে ২৫ নম্বর পেয়েছেন। অর্থাৎ তার মোট নম্বর হওয়ার কথা ৯৫, কিন্তু সেখানে লেখা রয়েছে ১০০। বাকিদের নম্বরও অস্বাভাবিক। অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে, ২০১৭ সালে কাশ্মীরে দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অধিকারী শিক্ষার্থীর মোট নম্বর ছিল ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪২১। কিন্তু যারা সনদ ও নম্বরপত্র জালিয়াতি করেছেন, তাদের সবার নম্বর এই শিক্ষার্থীর চেয়ে অনেক বেশি।

বাংলাদেশে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মেডিক্যাল ভর্তির কনসালটেন্সি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানান, এ বিষয়টি এবার নজরে এলেও এ ঘটনা নতুন নয়। এ কাজে উভয় দেশের একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত। তিনি বলেন, ভারতে মেডিক্যাল শিক্ষায় ব্যয় অনেক বেশি। তা ছাড়া বাংলাদেশেও মানসম্মত প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের ব্যয় কম নয়। সেক্ষেত্রে ১০ লাখ বা ক্ষেত্রবিশেষ আরো বেশি টাকা লেনদেনের মাধ্যমে যদি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়া যায়, তাহলে নামমাত্র খরচে লেখাপড়া শেষ করা সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে ভারত ও বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠানে এ চক্রের সদস্য রয়েছে। সার্ক কোটার পাশাপাশি ননসার্ক কোটা এবং পাহাড়ি কোটাও এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অত্যন্ত সুকৌশলে এ কাজ করায় এটি নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।

ঘটনার যেখানে সূত্রপাত, দক্ষিণ এশীয় এসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কো-অপারেশন (সার্ক) কোটার বাংলাদেশে এমবিবিএস কোর্সের কাশ্মীর উপত্যকায় অনেক শিক্ষার্থী প্রতারণার মাধ্যমে ভর্তি হয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন সেখানকার একজন শিক্ষার্থী ফাহিম রশিদ। যিনি ২০১৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ৫০০ নম্বরের মধ্যে ৪২১ নম্বর পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন। চিকিৎসক হওয়ার আশায় তিনি বাংলাদেশে আবেদন করেন। কিন্তু ফল প্রকাশের পর তিনি দেখলেন সেখানে তার নাম নেই। কিন্তু জম্মু কাশ্মীরের অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে তিনি মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকলেও যারা ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তাদের নম্বর তার চেয়ে বেশি দেখানো হয়।

ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশে অবস্থানরত একজন কাশ্মিরী শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সার্ক দেশগুলোতে বিশেষ করে বাংলাদেশের যেকোনো সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবো বলে নিশ্চিত ছিলাম। কারণ আমি জানি, মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি যোগ্যতার ভিত্তিতে হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমি আমার ব্যাচের শীর্ষস্থানীয় ছিলাম এবং জীববিজ্ঞানে ৯৯ নম্বর পেয়েছিলাম, যা আমার ব্যাচে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নম্বর। কিন্তু সার্ক মেধার তালিকাটি দেখে অবাক হয়েছিলাম। তিনি বলেন, ওয়েবসাইট থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্র অনুলিপিসহ জোগাড় করি। সেখানে দেখতে পাই এমবিবিএসে ভর্তির জন্য সার্ক মেধা তালিকায় কাশ্মীর উপত্যকার ১৫ জন শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছে, যাদের মধ্যে আমার ব্যাচের আটজন শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় মেধা তালিকায় আমার চেয়ে কম নম্বর পেয়েছিল। অথচ তারা যে নম্বরপত্র প্রদর্শন করেছে সেখানে নম্বর আমার চেয়ে অনেক বেশি।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশে ভ্রমণরত কাশ্মীর কেরিয়ার কাউন্সিল এসোসিয়েশনের (কেসিসিএ) এক সদস্য বলেন, সার্ক কোটায় শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে। এখানে সনদ জালিয়াতি এবং নম্বরপত্র টেম্পারিং করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে আমরা জানিয়েছি। এমনকি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা করা হয়েছে। আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি জালিয়াতির মাধ্যমে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করছি। আমাদের দাবি কোনোভাবেই যেন মেধাবী শিক্ষার্থী বঞ্চিত না হয়।

এ বিষয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে নিযুক্ত মিনিস্টার (প্রেস) ফরিদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ইনকিলাবকে জানান, আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কাশ্মিরী শিক্ষার্থীরা তাকে জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাশ্মিরী শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা গ্রুপিংও আছে। তবে সার্ক কোটায় শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া বেশ জটিল। এ ক্ষেত্রে ভারত সরকারের এমইএ (মিনিস্ট্রি এক্সটার্নাল এফেয়ার্স)-এর সার্টিফাইড ছাড়া কোনো কাগজপত্র গ্রহণ করা হয় না। এমইএ’র ভিত্তিতে করা হয়। সত্য-মিথ্যা যাচাই করা তাদের কাজ, আমাদের কাজ পাঠিয়ে দেয়া। তা ছাড়া ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে গিয়ে শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র যাচাই করা হাইকমিশনের পক্ষে সম্ভব হয় না, এজেন্টের মাধ্যমে এগুলো করা হয়। ফরিদ হাসান জানান, বেসরকারি মেডিক্যালে ভর্তির বিষয়টি আমি দেখেছি। সরকারি মেডিক্যাল অন্য একটি শাখা দেখেছে। একই সঙ্গে পুরো বিষয়টি দুই দেশের কূটনৈতিক শাখার মাধ্যমে অনুমোদন হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব (স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ) জি এম সালেহ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান করতে নির্দেশ প্রদান করছি। অনিয়মের কোনো বিষয় পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ববস্থা গ্রহণ করা হবে।

উৎসঃ ‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ অতি শিগগিরই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবোই: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর


অতি শিগগিরই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলে দাবি করে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি- একুশের চেতনার উত্তরাধিকারী হয়ে এদেশের সংগ্রামী মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও মৃতপ্রায় গণতন্ত্র পুণরুজ্জীবিত করতে অতি শিগগিরই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবোই ইনশাল্লাহ।’

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমে প্রেরিত মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমি ’৫২-র ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের রুহের মাগফিতার কামনা করি। অধিকার আদায় এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে ভাষা শহীদগণ আমাদের প্রেরণার উৎস। মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করে তাঁরা আত্মত্যাগের যে গৌরবদীপ্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তা আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনের পথ বেয়ে আমরা অবতীর্ণ হয়েছি স্বাধীনতা যুদ্ধে। প্রতিষ্ঠিত করেছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাজাত্যবোধ ও অধিকারবোধের চেতনা পরিপূর্ণতাদান করেছিল মহান ২১শে ফেব্রুয়ারি। সেই চেতনা নস্যাৎ করে একদলীয় শাসনের জগদ্দল পাথর আজ জনগণের কাঁধের ওপর চাপানো হয়েছে। ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতের নির্বাচনে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে প্রতারিত করা হয়েছে-যা খোলাখুলি কারচুপির এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। গণতন্ত্রকে সমাহিত করে এই দুঃশাসন দীর্ঘায়িত করতে অবৈধ শক্তির জোরে সাজানো মিথ্যা মামলায় জনগণের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়েছে।’

বাণীতে তিনি আরও বলেন, ‘শহীদের মহিমান্বিত অবদানের কারণে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে অধিকতর সমৃদ্ধশালী করে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। যাতে সমৃদ্ধ সংস্কৃতিসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব সভায় মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারি। ’

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে আ’লীগের এমপির অশালীন বক্তব্য ভাইরাল (ভিডিও)


সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে চট্টগ্রামের বাঁশখালি আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের একটি বক্তব্য।

যেখানে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্পর্কে অশালীন বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে তিনি এ বক্তব্য দেন।

ভিডিওঃ  ‘ ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে দলীয় এমপির অশালীন বক্তব্য ভাইরাল ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ভিডিওতে যা বলেছে,,,,

চনু ! যোগাযোগ মন্ত্রীর চ্যাট হইছে ! সবকিছু আমি নিচ থেকে প্রসেস করে নিয়ে গেছি ।একনেকে গিয়ে আমার বন্ধু খোরশেদের দিয়ে পাস করিয়েছি । প্রধানমন্ত্রীকে বলে পাস করাইছি ।

প্রধানমন্ত্রী বলছে, তুমি নিচ থেকে পাস করে নিয়ে আসো আমি একনেকে আসলে পাস করে দিবো ।

লিটন (আব্দুল্লাহ কবির লিটন মানে আক্তারুজ্জামান বাবুর ভাগিনা) কি চনু ! ইতার মারে চুদি ! নমিনেশন না পাইলে পাবোনা ! এই কাদের ( ওবাইদুল কাদের) চুদানিরপোয়ারে আগে নেত্রীর সামনে পিডাবো আমি ! আলা খানকিরপোয়া !

লিটনের ছেলেকে গুলি মারছি এই জন্য বলছে, তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করতেছো ! তোমারে সামনে নমিনেশন দিবোনা ! আমি বলছি (ওবাইদুল কাদেরকে) , আপনার থেকে নমিনেশন নিতে গেলে…

রুমের ভিতর ঢুকে নেত্রীকে কি কি যেনো বলেছে আমি দেখি নাই ! তারপর তোফায়েল ভাই যখন বের হয়ে আমাকে দেখলো তখন সে আমাকে ডাক দিলো ! আমাকে জিজ্ঞাস করলো, তোমাদের বাঁশখালীতে কি হইছে? আমি বললাম, এই এই হইছে । তোফায়েল ভাই আমাকে বললো, তোমার বিরুদ্ধে সে (ওবাইদুল কাদের) এই এইসব বলছে ।

চুদানিরপোয়া (ওবাইদুল কাদের) পয়সা , মাগী , ইয়াবা সবই খায় । নেত্রীকে আমি ডাইরেক্ট বলছি সংসদে। বলছি, নেত্রী ওবাইদুল কাদেরের আমি কলার ধরবো । নেত্রী বলছে, কেনো ? কি হইছে ? আমি বলছি , ও ( ওবাইদুল কাদের) বঙ্গবন্ধু পরিবারকে ছোট করছে । আমরা বঙ্গন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি । আপনি বঙ্গবন্ধুর মেয়ে । সেই জন্যে আপনার সাথে আছি । খেয়ে না খেয়ে । আপনি সেই মর্যাদাটা দিছেন । শেষ বয়সে আমাদেরকে নমিনেশন দিয়েছেন । নইলে আমাদের মতন লোক জীবনে নমিনেশন পাইতাম না ।

ইতে ( ওবাইদুল কাদের) বাবু মিয়ার জনসভায় বলতেছে , বাবু মিয়া না হলে শেখ রেহানা লন্ডনে বসবাস করতে পারতোনা । বাবু মিয়া না হলে নেত্রী রাজনীতি করতে পারতোনা । জাবেদ তুমি এগিয়ে যাও ।

নেত্রী বলছে, তো ! আমার বোন রেহানাতো বাবু মিয়া থেকে পয়সা নে নাই ! আমি বললাম, এইটা আমি আপনাকে জানিয়ে রাখলাম । আবার বললে আমি কিন্তু কলার ধরে ফেলবো ( ওবাইদুল কাদেরের) । নেত্রী বললো, হেই মাথা ঠান্ডা রাখো ।

এইসব কথা আমি সংসদে নেত্রীকে ডাইরেক্ট বলছি । আমি বলছি এইগুলো বলা মানে কী ! বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে ছোট করা । বাবু মিয়া বঙ্গবন্ধুর নাম বেইচা একশো টাকা কামাই পাঁচ টাকা এইখানে ( পার্টির জন্য) খরচ করছে । দক্ষিন চট্টগ্রামে কোন অবদান থাকলে কায়সার মিয়ার আছে । আমি এইসব কথা ডাইরেক্ট বলছি !

বাঁশখালী-১৬ আসনের সংসদ সদস্য এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ।

উৎসঃ ‌পূর্বপশ্চিম

আরও পড়ুনঃ শাজাহান খানের নেতৃত্বে শৃঙ্খলা কমিটি হাস্যকর: রিজভী


সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি গঠনকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তা রীতিমতো হাস্যকর। এই শ্রমিক নেতার কারণেই যত প্রাণহানি ও বিশৃঙ্খলা ঘটেছে। ঘটনাটা দাঁড়াচ্ছে- চোরের কাছে চুরির বিচার দেয়া। রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, যখনই সড়কের বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে আন্দোলন হয়েছে তখনই এই শাজাহান খানরাই বাধার সৃষ্টি করেছে। মূলত সড়কে দুর্ঘটনা ও মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য এই নেতাই অনেকাংশে দায়ী।

কাজেই তাকে আহ্বায়ক করে যে কমিটি করা হয়েছে, তা জাতির সঙ্গে তামাশা মাত্র। মিডনাইট সরকারের এটি জনগণের সঙ্গে আরেকটি শ্রেষ্ঠ প্রহসন। এতে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কত যে পুনরাবৃত্তি হবে, তা বলাই বাহুল্য। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া ঢাকা মহানগরীতে ১২ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধের ঘোষণাকে ‘নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসনের প্রতিফলন’ মন্তব্য করে এর নিন্দা জানান রিজভী।

তিনি বলেন, ঢাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ আছে। বলা হচ্ছে, প্রায় অর্ধেক মহানগরীতে গ্যাস সরবরাহ আজকে (গতকাল) বন্ধ থাকবে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসনেরই প্রতিফলন বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোটের সরকার থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই মহানগরীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করত অন্য কোনো ?উন্নয়নের কাজে। কিন্তু এ সরকারের তো কোনো ভোটের দরকারই নেই। তাদের তো মধ্যরাতে ভোট হলেই চলে। এ ধরনের সরকার কোনোদিনই জনদুর্ভোগকে গুরুত্ব দেবে না।

তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ব্যাংক লুটের কারণে দেশের ব্যাংকগুলোর যখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা তখন আবারও নতুন তিনটি ব্যাংকের অনুমোদন ব্যাংক লুটের পথকে আরও প্রসারিত করল।

বর্তমানে অনুমোদনকৃত তিনটি ব্যাংকসহ দেশের অধিকাংশ ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা স্বজনরা। যখন পূর্বের ঢালাওভাবে অনুমোদিত ব্যাংকগুলো ধসে পড়ছে তখন আবারও তিনটি ব্যাংকের অনুমোদনে এটি সুস্পষ্ট যে, জনগণ ও দেশের সর্বশেষ সঞ্চয়টুকু শোষণ করতেই মিডনাইট সরকারের খয়ের খাঁদের নতুন তিনটি ব্যাংক দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

দুই দিনের কর্মসূচি : ২১ ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে আছে- আজ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বেলা ২টায় আলোচনা সভা এবং আগামীকাল সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল ৬টায় কালো ব্যাজ ধারণ করে নেতাকর্মীরা রাজধানীর বলাকা সিনেমা হলের কাছে জমায়েত হয়ে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন।

কর্মসূচি ঘোষণা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারা দেশের জেলা-উপজেলা-থানাসহ বিভিন্ন ইউনিট স্থানীয়ভাবে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

উৎসঃ ‌jugantor

আরও পড়ুনঃ একাদশ সংসদ নির্বাচন নন্দিত নয়, নিন্দিত হয়ে থাকবে ইতিহাসে


সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার উপজেলা নির্বাচনের জন্য গঠিত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় বলেছেন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুতায় রেকর্ডে নন্দিত হয়ে থাকবে । তা নন্দিত না নিন্দিত হয়ে থাকবে ইতিহাসে।

যে নির্বাচনে কেন্দ্রের পর কেন্দ্র বিরোধী জোট শূন্য ভোট পায়। ভোটের আগের রাতে সিল মেরে বাক্স ভরে ফেলা হয়। সেই নির্বাচন তো রেকর্ডে থাকবে-ই। কারণ গত ৪৬ বছরের ইতিহাসে এই রকম প্রশ্নবিদ্ধ জাতীয় নির্বাচন আমার চোখে দেখিনি। ইতিহাসে রেকর্ডে থাকবে প্রধান নির্বাচন কশিনারের অপকর্মের কথা। সোমবার ডিবিসি টেলিভিশনের সংবাদ সম্প্রসারণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহফুজ উল্লাহ বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে, সব নির্বাচন সেই নির্বাচনের মতো করতে বলছেন। এটা তার মতো লোকের পক্ষেই সম্ভব । একমাত্র সরকারি দলের লোকজন ছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনের করা একাদশ সংসদ নির্বাচন কেউ বলেনি সুষ্ঠু হয়েছে, দেশে এবং বিদেশে। কিছু পর্যবেক্ষক প্রথমে এই নির্বাচনকে সুষ্ঠ বললেও পরে তারা বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়।

তিনি বলেন,প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে নির্বাচন করেছেন,এটার জন্য কেউ তাকে কিছু বলবে না, আর বললেও তার কিছুই হবে না। তিনি অন্য সব কমিশনারের মতো এক সময় অবসরে যাবেন। কখনো কোন সভায় বক্তব্য দেবেন নির্বাচন কিভাবে করতে হবে তার জন্য মানুষকে হেদায়েত করবেন। একটা ব্যাপার তার মনে রাখা উচিত,ইতিহাসে দায় বড়ই কঠিন,এদায় কাউকে ক্ষমা করে না, তাকেও করবে না।

উৎসঃ ‌amadershomoy

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here