সারা দেশে ওষুধের দাম লাগামহীন! দেখার কেউ নাই

0
604

১২ টাকার ইনজেকশন ৮শ’ ও ৬০ টাকার ওষুধ ১৯শ’ টাকায় বিক্রি * ইচ্ছেমতো দাম বাড়ান খুচরা ব্যবসায়ী ও কোম্পানি প্রতিনিধিরা

নিয়ন্ত্রণহীন দেশের ওষুধের বাজার। ওষুধের প্যাকেটে খুচরা মূল্য উল্লেখ থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই দামে বিক্রি হয় না। ১২ টাকার ইনজেকশন ৮শ’ এবং ৬০ টাকার ওষুধ ১৯শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশব্যাপী বৈধ-অবৈধ প্রায় ২ লাখ খুচরা ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো দামে ওষুধ বিক্রি করছেন। তাদের এ কাজে সহায়তা করেন ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিক্রয় প্রতিনিধিরা।

এই চক্র দেশের সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যসন্ত্রাস চালালেও নির্বিকার সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। এ ছাড়া ওষুধের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিপণন খরচ মেটাতে সময়-অসময় দাম বাড়ায় ওষুধ কোম্পানিগুলো।

মাত্র ১১৭টি ওষুধ ছাড়া বাকিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই প্রশাসনের। ফলে কারণে-অকারণে ওষুধের দাম বৃদ্ধির নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে রোগী ও তাদের স্বজনদের।
ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক সৈকত কুমার কর যুগান্তরকে বলেন, সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ওষুধের দাম বাড়ানো হয়নি। বিভিন্ন কোম্পানির দাম বৃদ্ধির কিছু আবেদন থাকলেও সেগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়নি।

তবে দোকানিরা দাম বাড়িয়ে থাকলে বিষয়টি প্রশাসনের জানা নেই। এমনকি তারা কোনো অভিযোগও পায়নি। তিনি জানান, প্রশাসনের কাজ চালাতে প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় দেশের সব ওষুধের দোকানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয় না।

অস্বাভাবিক দামে ওষুধ বিক্রির একাধিক তথ্য এসেছে যুগান্তরের কাছে। চলতি সপ্তাহে রাজবাড়ীতে ১২ টাকা মূল্যের একটি ইনজেকশন ৮০০ টাকায় বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সেলাই সুতার দাম ১৫-২০ টাকা।

ঢাকার শাহবাগের একটি দোকানে এই সুতার দাম নেয়া হয় ৬০০ টাকা। যশোরে একটি দোকানে বমির ওষুধ কিনতে গেলে দাম রাখা হয় ১৯০০ টাকা। অথচ ওষুধের প্রকৃত দাম মাত্র ৬০ টাকা। এ ধরনের ঘটনা দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে। ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপিতে প্রয়োজনীয় ডসেটিক্সেল, প্যাক্লিটেক্সেল, কার্বোপ্লাটিন, সিসপ্লাটিন, জেমসিটাবিন ইত্যাদি ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ক্যাটামিন ইনজেকশনের দাম ৮০-১১৫ টাকা কিন্তু বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়।

খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওষুধের দাম প্রতি পাতায় (ট্যাবলেট ও ক্যাপসুলের ক্ষেত্রে) লেখা থাকে না। লেখা থাকে ৫ পাতা বা ১০ পাতার একটি বাক্সে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্রেতা প্যাকেটের গায়ের দাম দেখার সুযোগ পান না। অন্যান্য পণ্যের মতো ওষুধের দাম সম্পর্কে রোগীদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে রোগীদের মুখ দেখেই একশ’ থেকে দু’শ গুণ দাম বাড়াতেও দ্বিধা করে না অসাধু বিক্রেতারা।

বেশি দামে ওষুধ বিক্রি সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক ওই দোকান মালিককে জরিমানা করেন। রোগী অস্ত্রোপচার টেবিলে থাকায় মাত্রাতিরিক্ত দামে ইনজেকশন কিনতে বাধ্য হন অভিযোগকারী।

গত মাসে শাহবাগে একটি ওষুধের দোকানে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সেলাই সুতা কিনতে যান দেলোয়ার হোসেন। এ সময় ওই দোকানি ১৫-২০ টাকা দামের সেলাই সুতা তার কাছে ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন। বোন বারডেম হাসপাতালে অস্ত্রোপচার কক্ষে থাকায় তিনি দরদাম না করে সুতা নিয়ে হাসপাতালে ফেরেন। সেখানকার নার্সের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন দোকানি তাকে ঠকিয়েছেন। পরে ওই দোকানে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে দোকানি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

যশোরেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে গত ডিসেম্বরে। যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে একটি ফার্মেসিতে অ্যাপোনসেট নামের একটি বমির ওষুধ কিনতে গেলে দোকানি ওষুধের দাম রাখেন ১৯০০ টাকা। অথচ ওষুধের প্রকৃত দাম মাত্র ৬০ টাকা।

দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত কোনো ওষুধের দাম বাড়ায়নি কোম্পানিগুলো। তবে ডিসেম্বরের আগে বেশকিছু ওষুধের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মার ওমিডন ২ থেকে আড়াই টাকা, স্কয়ার ফার্মার মোটিগার্ট আড়াই টাকা থেকে ৩ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মার নিউসেপ্টিন-আর আড়াই টাকা থেকে ৩ টাকা, এসিআই ফার্মার অ্যাবেক্যাপ ৫/২০ ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা ও ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মার মাইক্রোফ্রি ২৫ টাকা থেকে ২৮ টাকা দামে উন্নীত হয়েছে।

তবে এ ধরনের সাধারণ ওষুধের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির অভিযোগে ভিন্নতা রয়েছে। বিভিন্ন বিষেশায়িত হাসপাতালের সামনে ওই সব রোগের ওষুধের চাহিদা অনুসারে দাম বাড়ানো হয়। এ ক্ষেত্রে ওষুধের প্যাকেটে লেখা দামের কোনো পরিবর্তন হয় না। যখন যে ওষুধের চাহিদা বাড়ে তখন কোম্পানির প্রতিনিধি ও দোকানিরা মিলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে দাম বাড়িয়ে থাকেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকার একটি ওষুধের দোকানে দেখা গেছে, ডক্সিভা ২০০ মিলিগ্রাম ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ওষুধটির নির্ধারিত মূল্য ৬ টাকা হলেও একজন ক্রেতার কাছে ৮ টাকা এবং আরেকজনের কাছে ১০ টাকা বিক্রি করতে দেখা যায়।

ক্রেতাদের কাছে দাম জানতে চাইলে তারা বলেন, ওষুধের সঠিক মূল্য তারা জানেন না বা জানার চেষ্টাও করেন না। কারণ হিসেবে বলেন, ওষুধ কেনা হয় সুস্থতার আশায়, তাই মূল্য ততোধিক গুরুত্ব পায় না। এ ছাড়া ওষুধ শিল্প সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ওষুধের কাঁচামাল বা এপিআইয়ের দাম বাড়ার কারণে বাড়ে ওষুধের দাম। পাশাপাশি বিপণন খরচও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। তারা জানান, বর্তমানে বেশিরভাগ কাঁচামাল আসে ভারত ও চীন থেকে। দাম বাড়লে কোম্পানিগুলো ঔষধ প্রশাসনে দাম বাড়ানোর আবেদন করে। কিন্তু দাম কমলে তারা আর ওষুধের দাম কমানোর কথা চিন্তা করে না।

এ ছাড়া বিদেশি ওষুধের কারণেও দামের তারতম্য দেখা যায়। যেমন ক্যান্সারের কেমোথেরাপির ওষুধের দাম সম্প্রতি বেড়েছে। সম্প্রতি কিছু বিদেশি কোম্পানি ওষুধের দাম অস্বাভাবিক হারে কমিয়ে একটি অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপিতে প্রয়োজনীয় ডসেটিক্সেল, প্যাক্লিটেক্সেল, কার্বোপ্লাটিন, সিসপ্লাটিন, জেমসিটাবিন ইত্যাদি ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আবার একই কারণে কোনো কোনো ওষুধের দাম ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমাতে হয়েছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত হারসেপ্টিন ওষুধের প্রতি পিসের দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। অস্বাভাবিকভাবে সে ওষুধের দাম কমে বর্তমানে ৯০ হাজার ৪০০ টাকায় নেমেছে। এদিকে দেশে প্রস্তুতকৃত বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের একই ওষুধের আগে দাম ৮০ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার টাকা।

রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ওষুধ বিক্রেতারা জানান, দেশে পপুলার, ইনসেপ্টা, রেনেটা ও গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস ক্যাটামিন ইনজেকশন উৎপাদন করে। সরবরাহ সংকটে বর্তমানে বাজারে ৮০-১১৫ টাকার ইনজেকশনটি ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদনকারী চার প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত ইনজেকশনটি ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি করে। গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদিত জি ক্যাটামিন ৫০ এমজির প্রতিটি ইনজেকশনের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) ৮০ টাকা, পপুলার ফার্মার ক্যাটালার ৫০ এমজির এমআরপি ১১৫, ইনসেপ্টার ক্যাটারিডের এমআরপি ১১৫ ও রেনেটা কেইন ইনজেকশন প্রতি ভায়াল এমআরপি ১০০ টাকা। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো বেশি দামে ইনজেকশনটি বিক্রি করছেন। কোথাও ২০০ টাকা আবার কোথাও ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব মো. শফিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো যথেষ্ট কম দামে ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। এ ক্ষেত্রে দোকানিরা যদি নিজেদের মতো করে দামে বিক্রি করে তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। এটি ঔষধ প্রশাসনের দায়িত্ব। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আরও সচেতন হতে হবে। ওষুধের গায়ের দাম দেখে নির্ধারিত মূল্যে ওষুধ কিনতে হবে।

এদিকে ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায়ও ওষুধের দাম বাড়ে। ১৯৯৪-এর ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়- অত্যাবশ্যকীয় তালিকাবহির্ভূত ওষুধের দাম নিজ নিজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে। ২৪ বছর আগের সেই নির্দেশনা বলে ইচ্ছেমতো দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো। অথচ ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে যে কোনো ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের ছিল।

এদিকে ১১৭টি ওষুধ সরকারের কাছে রেখে বাকি ওষুধগুলোর মূল্য নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো- এমন প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সোমবার হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি জানান, দ্য ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২ মতে, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করবে সরকার। যেখানে মাত্র ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ সরকারের কাছে রাখে। বাকি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। এটা তো আইনের ব্যত্যয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ দলের সাথে গাদ্দারী করে শপথ নেওয়ায় সুলতান মনসুরকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার


দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে একাদশ সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণফোরাম। বৃহস্পতিবার বিকালে গণফোরামের সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সুলতান মনসুরকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানান গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মণ্টু সংবাদ সম্মেলনে জানান, দলীয় শৃংখলা বিরোধী ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আদর্শবিরোধী কাজ করায় সুলতান মনসুরকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হল। সেই সঙ্গে তার দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করা হল।

মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে সুলতান মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে গণফোরামের প্রার্থী হিসেবে ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে।তিনি ভোটে জয়ীও হন।তখন আমরা তাকে স্বাগতও জানিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের তামাশার নির্বাচনে ফল প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট ও গণফোরাম। সেই সিদ্ধান্তের কথা সুলতান মনসুরকে জানানোও হয়।জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি শপথ না নিলেও সুলতান মনসুর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আজ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।তাই গণফোরাম তাকে দল থেকে বহিষ্কার করছে।তার প্রাথমিক সদস্য পদও বাতিল করা হলো।

গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক জানান, সুলতান মনসুরের বহিষ্কারের চিঠি স্পিকার বরাবর পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল বহিষ্কার করায় সংবিধান অনুয়ায়ী সুলতান মনসুর সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না।

মোস্তফা মহসীন মন্টু আরও জানান, গণফোরামের অপর নির্বাচিত প্রতিনিধি মোকাব্বির খান শপথ নেবেন না।

প্রসঙ্গত, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বর্জন করে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। অথচ তার দলের একজন প্রতিনিধি ঐক্যফ্রন্ট ও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিয়েছেন। এ নিয়ে জোট নেতাদের চাপে আছেন ড. কামালও। তাই এ বিষয়ে দেরি না করে গণফোরাম দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে নাম লিখিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে ভোট করে জয়ী হন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম একাদশ নির্বাচনের ফল বর্জন করে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত অপর পাঁচ সদস্য শপথ না নিলেও একাদশ সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুলতান মনসুর।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন তিনি।

উৎসঃ ‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে শপথ নেননি মোকাব্বির


দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে নির্বাচিত হয়েও একাদশ সংসদের সদস্য পদে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকলেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মোকাব্বির খান।আজ বেলা ১১ টায় জাতীয় সংসদের সচিবালয়ে তার শপথ নেয়ার কথা ছিল।এদিন তার দলের অপর নেতা সুলতান মনসুর দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিলেও বিরত থাকেন মোকাব্বির।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে নাম লিখিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে ভোট করে জয়ী হন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। আর দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন প্রবাসী মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে জয়ী হন। ওই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী না থাকায় বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম একাদশ নির্বাচনের ফল বর্জন করে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত অপর পাঁচ সদস্য শপথ না নিলেও একাদশ সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির। পরে অবশ্য শেষ মুহূর্তে ভোল পাল্টান মোকাব্বির। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শপথগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন তিনি।

মোকাব্বির শপথ না নিলেও শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন সুলতান মনসুর। আজ তিনি শপথ নিয়েই নিলেন।

অপরদিকে শপথ না নেয়ার বিষয়ে মোকাব্বির খান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আসছি। দল শপথের বিষয়ে ইতিবাচক থাকায় আমি ৭ মার্চ শপথ নিতে চিঠি দিয়েছিলাম। এখন আমাদের দল গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর নির্দেশে আমি শপথ নেয়া থেকে বিরত থাকছি’। তিনি আরও বলেন, ‘শপথ নেয়ার এখনও অনেক সময় বাকি আছে। পরে আবার বসে আমার শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে’।

জানা গেছে, বুধবার বিকালে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে বৈঠক করেন গণফোরামের শীর্ষ নেতারা। এই বৈঠকে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ শপথ নিলে তার বিরুদ্ধে দলীয় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি স্পিকারকে লিখিতভাবে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়। দলের এই সিদ্ধান্তের পরপরই সুর বদলান মোকাব্বির খান। আপাতত শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘মোকাব্বির খান শপথ নিচ্ছেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ শপথ নিলে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। দলীয় সিদ্ধান্ত এবং আইনগত সিদ্ধান্ত যা নেয়া দরকার, সেগুলো আমরা নেব’।

উৎসঃ ‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নিলেন সুলতান মনসুর


দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন তিনি।

একই সময় গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মোকাব্বির খানের শপথ নেয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি নেন নি।

৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা জয়ী হলেও জোটের সিদ্ধান্ত না থাকায় এতদিন শপথ নেননি। আজ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নিলেন সুলতান মনসুর।

জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শপথ শেষে তার জন্য চা নাস্তার আয়োজন করে সংসদ সচিবালয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে নাম লিখিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসনে ভোট করে জয়ী হন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। আর দীর্ঘদিন ধরে লন্ডন প্রবাসী মোকাব্বির খান গণফোরামের দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে জয়ী হন। ওই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী না থাকায় বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম একাদশ নির্বাচনের ফল বর্জন করে শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত অপর ৫ সদস্য শপথ না নিলেও একাদশ সংসদে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির।পরে অবশ্য শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পাল্টান মোকাব্বির। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

মোকাব্বির শপথ না নিলেও শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন সুলতান মনসুর। আজ তিনি শপথ নিয়েই নিলেন।

এদিকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ শপথ নিলেই তার বিরুদ্ধে দলীয় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল গণফোরাম। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পিকারকেও অবহিত করা হবে।

জানা গেছে, বুধবার বিকালে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে বৈঠক করেন গণফোরামের শীর্ষ নেতারা। এই বৈঠকে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ শপথ নিলে তার বিরুদ্ধে দলীয় এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি স্পিকারকে লিখিতভাবে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়। দলের এই সিদ্ধান্তের পরপরই সুর বদলান মোকাব্বির খান। আপাতত শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এ প্রসঙ্গে মোকাব্বির খান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে আসছি। দল শপথের বিষয়ে ইতিবাচক থাকায় আমি ৭ মার্চ শপথ নিতে চিঠি দিয়েছিলাম। এখন আমাদের দল গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মহসিন মন্টুর নির্দেশে আমি শপথ নেয়া থেকে বিরত থাকছি’। তিনি আরও বলেন, ‘শপথ নেয়ার এখনও অনেক সময় বাকি আছে। পরে আবার বসে আমার শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে’।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘মোকাব্বির খান শপথ নিচ্ছেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কেউ শপথ নিলে আমরা অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। দলীয় সিদ্ধান্ত এবং আইনগত সিদ্ধান্ত যা নেয়া দরকার, সেগুলো আমরা নেব’।

সূত্রঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পুলিশের অনুমতি না চাইতে জাফরুল্লাহর আহ্বান


পুলিশের অনুমতি না চাইতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের বলব, আপনারা আর পুলিশের অনুমতি চাইবেন না। তাদের শুধু জানিয়ে দেবেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অন্যায় হয়েছে, যে মিথ্যা মামলা আপনারা (সরকার) দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করে জামিনে মুক্তি দিয়ে প্রমাণ করুন কে বেশি জনপ্রিয়।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি আয়োজিত খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

যে কোনো ইস্যুতে বিদেশ গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘যে রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে প্রতি সপ্তাহে কয়েকটা হয়, সে রোগের জন্য অকারণে সিঙ্গাপুর গিয়ে কত কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে আশা করি জনগণের কাছে সরকার একদিন হিসাব দেবে।’

সরকারের সমালোচনা করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বলেন, ‘তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশের অভ্যন্তরে চিকিৎসা পাওয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশের প্রয়োজন হয়। সেটা প্রমাণ করে বাংলাদেশের অবস্থানটা কোথায়। আমি মনে করি বর্তমান সরকারের চরিত্রের কাপড় খোলা শুরু হয়েছে।’

ডা. জাফরুল্লাহ আরও বলেন, কয়েক দিন আগে গওহর রিজভীর বস্ত্রহানি তো আপনারা দেখেছেন। সেটাকে সারা দেশে ঝুলিয়ে দেন।

সূত্রঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ বিচারের বাণী সরবে কাঁদে


এই কিশোর পৃথিবীতে এসেছিলো ১৯৯৫ সালের ৫ অক্টোবর। প্রকৌশলী হয়ে পৃথিবী আলোকিত করার স্বপ্ন ছিলো তার। হাঁটছিলো সঠিক পথেই। ‘এ’ লেভেল প্রথম পর্বের পরীক্ষায় সারা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর (২৯৭/৩০০), রসায়নে দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর (২৯৪/৩০০) পেয়েছিলো সে। পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছিলো ২০১৩ সালের ৭ মার্চ। এর একদিন আগে অর্থাৎ, ৬ মার্চ তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। সেই রেজাল্ট সে দেখে যেতে পারেনি।

বলছি ত্বকীর কথা, নারায়ণগঞ্জের ত্বকীর কথা।

বহু ঘটনার পর, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) তদন্ত করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছিলো। অল্প সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার কথা বলেছিলো।

কিন্তু, চার্জশিট দেওয়া হয়নি।

আবার ৬ মার্চ চলে এলো। ত্বকীর বাবা-মা প্রত্যাশা করে আছেন, নিশ্চয় ত্বকীকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার হবে।

কী অবস্থায় আছে এখন ত্বকী হত্যার বিচার কার্যক্রম? কী ভাবছেন ত্বকীর বাবা?

মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, “তদন্ত বা বিচার প্রক্রিয়াটি এখন থেমে গেছে। প্রধানমন্ত্রী দুবার বলেছিলেন যে তিনি এই হত্যার বিচার করবেন। এক মাসে না হলে দুই মাস পরে, তা না হলে ছয় মাস পরে। কিন্তু, এখন ছয় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তা হলো না। আমরা চাই তার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হোক।”

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়- ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকালে পাঠাগারে যাওয়ার পথে নারায়ণগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে ত্বকীকে অপহরণ করা হলে সেই রাতেই তার বাবা রফিউর রাব্বি নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় বিষয়টি উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি করেন এবং র‌্যাব-১১ এর কার্যালয়ে চিঠি দেন।

এর দুদিন পর ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যা নদীর খালের পাড় থেকে পুলিশ ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে। সেই রাতেই ত্বকীর বাবা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় আসামি অজ্ঞাত উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ১৮ মার্চ তিনি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ত্বকী হত্যার জন্য শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি অবগতিপত্র দেন।

২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল শামীম ওসমানের ভাই সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ওসমান পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির কথা জানানোর পর থেকেই ত্বকী হত্যার তদন্ত কার্যক্রম কার্যত থেমে যায় বলে জানান ত্বকীর বাবা। তার মন্তব্য, “এবার নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী সুবিচারের কথা বলছেন। এখন তিনি যদি নির্দেশ দেন তাহলে এর বিচার হবে, নয়তো হবে না।”

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আপনি কোনো আবেদন করেছিলেন কী না? তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে সব সময়ই এই আবেদন জানিয়ে আসছি। বাস্তবতা হলো- প্রধানমন্ত্রী যা চান তাই হয়। যা চান না তা হয় না। সেই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী যদি চান তাহলেই ত্বকী হত্যার বিচার হবে।”

তার মতে, “প্রথম দিকে প্রশাসন সক্রিয় থাকায় ত্বকী হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছিলো। ত্বকী হত্যার ১ বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র‌্যাবের তৎকালীন অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান র‌্যাবের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের কাছে ত্বকী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। কারা-কখন-কোথা থেকে- কিভাবে ত্বকীকে অপহরণ করেছিলো, কারা-কোথায়-কিভাবে ত্বকীকে হত্যা করেছে, কোথা থেকে কোন গাড়িতে কোথায়-কারা লাশ ফেলেছে- তদন্তে সুনির্দিষ্ট করে সব কিছু বেরিয়ে এসেছিলো। দুজন হত্যাকারী ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বিস্তারিত বলেছে। হত্যাকাণ্ডের স্থান ও টর্চার সেল আবিষ্কার করেছে র‌্যাব। চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা প্রকাশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে সংবাদ সম্মেলন করে। কিন্তু, পরের মাসেই যখন প্রধানমন্ত্রী ওসমান পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির দিলেন তখনই সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়।”

২০১৪ সালের ৮ মার্চ দৈনিক ‘প্রথম আলো’য় ‘আজমেরী ওসমানসহ হত্যায় জড়িত ১১জন’ শিরোনামে ও ‘শিগগিরই অভিযোগপত্র দিচ্ছে র‌্যাব’ উপশিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে র‌্যাবের তদন্ত ও সংবাদ সম্মেলনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিলো। ঐ সময় অন্যান্য প্রায় সকল গণমাধ্যমে র‌্যাবের তদন্ত ও সংবাদ সম্মেলনের তথ্য নিয়ে বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিলো। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিলো, “… র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান ‘প্রথম আলো’কে বলেন, ত্বকী হত্যাকাণ্ডে আজমেরী ওসমানসহ ১১জনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেকোনো দিন এই হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

তদন্তের সঙ্গে যুক্ত র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। বর্তমান মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। আর আওয়ামী লীগের নেতা শামীম ওসমান ছিলেন দলের সমর্থিত প্রার্থী। নির্বাচনে আইভীর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন শামীম ওসমান। রফিউর রাব্বি নারায়ণগঞ্জের নাগরিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতা।

এছাড়া, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের মালিকেরা ওসমানের পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন। এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করেন সেখানকার যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, রফিউর রাব্বিকে শায়েস্তা করতেই তাঁর কিশোর ছেলেকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়।

কর্নেল জিয়াউল আহসান ‘প্রথম আলো’কে বলেন, আজমেরীর পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও উপস্থিতিতেই ওই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ মেলেনি।

যারা অভিযুক্ত: তদন্তে আজমেরী ওসমান ছাড়া অন্য যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে তারা হলেন: রাজীব, কালাম শিকদার, মামুন, অপু, কাজল, শিপন, জামশেদ, ইউসুফ হোসেন, সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর ও তায়েবউদ্দিন ওরফে জ্যাকি।

২০১৪ সালের ৬ মার্চের দৈনিক সমকাল ও যুগান্তর এবং ৮ মার্চের প্রথম আলো।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আজমেরীসহ প্রথম সাতজন পলাতক রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে আছেন।”

এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে আপনার যোগাযোগ হয়নি? রফিউর রাব্বি বলেন, “এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়- আপনি তো জানেন সবই। সব বোঝেন।”

“এই যখন পরিস্থিতি তখন সেখানে এই হত্যার বিচার কীভাবে হবে?”- প্রশ্ন ত্বকীর বাবার।

তিনি বলেন, “ত্বকী হত্যার বিচার চাওয়ায় শামীম ওসমান এবং তার ভাই (এখন প্রয়াত) নাসিম ওসমান আমাদের প্রতি এতোটাই আক্রমণাত্মক ছিলো যে তারা বলতো- আমাদের বাড়ি-ঘরের ইট খুলে নেওয়া হবে। পিঁপড়ার মতো পিষে মারা হবে। এরকমও বলেছে যে- আমাদের টুকরো টুকরো করে শীতলক্ষ্যায় ফেলে মাছ দিয়ে খাওয়ানো হবে।”

প্রতি মাসে সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ, সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন কর্মসূচি পালন করছে বলেও জানান তিনি। বলেন- “বিভিন্ন সময় আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জে রবীন্দ্রজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে হামলার কথা। বলেন, “সেই অনুষ্ঠানে আমার প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিলো বলেই হামলা চালানো হয়েছিলো।”

ত্বকী হত্যার বিচারহীনতার ছয় বছরকে কেন্দ্র করে ৬ মার্চ পালিত হবে তিনদিনের কর্মসূচি। সকালে নিহত কিশোরের কবরে পুষ্পস্তবক দেওয়া হবে। বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউ এবং শেখ রাসেল পার্কে আয়োজন করা হবে শিশু সমাবেশ ও চিত্রাঙ্গণ প্রতিযোগিতা।

কর্মসূচির ২য় দিন (৭ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজন করা হবে ‘ত্বকী একটি বিচারহীনতার প্রতীক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক। শেষ দিনে (৮ মার্চ) বিকাল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

মামলার বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ত্বকীর বাবা বলেন, “আদালতে দুই-তিনমাস পর পর তারিখ পড়ে। যেহেতু অভিযোগপত্রই দেওয়া হয়নি সেহেতু সেই তারিখ দেওয়ায় কোনো লাভ হচ্ছে না। তদন্তে মামলাটির আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছিলো না বলেই আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ২৮ মে উচ্চআদালত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আদেশ দেন র‌্যাবকে দিয়ে ত্বকী হত্যা মামলাটি তদন্ত করার। র‌্যাব তদন্ত করে সফলও হয়েছিলো। তারপর এতোগুলো বছর কেটে গেলো এর কোনো অগ্রগতি হলো না।”

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, “আমরা চাই এই বিচারটি হোক।… কী কারণে, কেনো ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না তা বোধগম্য নয়। আমরা চাই যে ত্বকী হত্যার সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কোনো তার বিচার করা হোক।”

তিনি মনে করেন, “কোনো অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিতে হয়তো এটি (বিচার প্রক্রিয়া) থেমে আছে। কিন্তু রাষ্ট্রের কাছে আমাদের আবেদন- যতো বড় শক্তিশালী কেউ এই হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকুক না কোনো তার বিচার হোক।”

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ত্বকী হত্যাকারীদের পরিবারের সব দায়দায়িত্ব নিয়েছেন এবং জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন যে এ দায়িত্বটা (ওসমান পরিবারের পাশে থাকার) আমার। তাই যতোদিন উনি না চাইবেন ততোদিন ত্বকী হত্যার বিচার হবে না বলে আমি মনে করি।”

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের বিভাগীয় প্রধান মাহবুবুর রহমান মাসুমের মন্তব্য, “ত্বকী হত্যা মামলার বিচারটি ঝুলে গেলো রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে- আর কিছুই না। প্রধানমন্ত্রী যখন বললেন যে ওসমান পরিবারের পাশে তিনি আছেন তখন থেকেই বিচারটি ঝুলে গেলো। এর আগে তো খসড়া অভিযোগপত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।”

“প্রধানমন্ত্রীর সে কথার পরে বিচারপ্রক্রিয়াটি থেমে গেলো,” উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা প্রতিবছর জেলায় জেলায় যে খুন-খারাবি হয় তার পরিসংখ্যান তুলে ধরি। আমরা সে সবের বিচারের জন্যে কাজ করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে (ত্বকী হত্যার) যতোক্ষণ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্লিয়ারেন্স না আসবে ততোক্ষণ পর্যন্ত এটা হবে বলে আমার মনে হয় না।”

এ বিষয়ে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমি বলতে পারছি না। ডিটেলস দেখে বলতে হবে।”

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়েছে। তিনি ফোন ধরেননি। মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরে তিনি ফোন করেন। ত্বকী হত্যার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি টেলিফোনে এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না। সামনাসামনি আসেন, কথা হবে।”

শামীম ওসমানের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলার জন্যে সময় ঠিক করতে সকালে ডেইলি স্টারের নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা ফোন করলে তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের বাইরে আছি, ফিরে জানাব। তখন কথা হবে।” এরপর, বিকালে শামীম ওসমানের সঙ্গে আবারো ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগ করা হলেও, উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে, এমপির মতামত জানা সম্ভব হয়নি। তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হলে, তা প্রকাশ করা হবে।

উৎসঃ ‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে আযান বন্ধ করলো আ.লীগ নেতা সুভাষ চন্দ্র শীল (ভিডিও সহ)

নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে মসজিদের আযান বন্ধ করে দিলো স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও পৌর মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল। গত ৩ মার্চ রবিবার বরিশালের বানারীপাড়ার মহিষাপোতা প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গত ৩ মার্চ রবিবার বরিশালের বানারীপাড়ার মহিষাপোতা প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন জামে মসজিদের পাশেই স্কুল মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিলো, এশার নামাজের আজানের সময় হলে ইমাম সাহেব আযান দিতে গেলে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আযান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, নৃত্যানুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতা পৌর মেয়র সুভাস চন্দ্র শীল! তার নির্দেশেই আযান বন্ধ করা হয়।

ভিডিওঃ ‘নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে আযান বন্ধ করলো আ.লীগ নেতা সুভাষ চন্দ্র শীল

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এ ঘটনায় এলাকার সাধারন মানুষের ভিতর ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, গান-নাচের অনুষ্ঠানের জন্য আযান বন্ধ করে দেওয়া এটা একটি অন্যায়। এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই।

এদিকে এই ঘটনা একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সাবেক একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন ভিডিওটি শেয়ার করে “নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে মসজিদের আযান বন্ধ করা হলো” এই শিরোনাম দিয়ে লিখেছেন,

ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩রা মার্চ বরিশালের বানারীপাড়ার মহিষাপোতা প্রাইমারী স্কুল সংলগ্ন জামে মসজিদে! মসজিদের পাশেই স্কুল মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিলো, এশার নামাজের আজানের সময় (৭:৩০) হলে ইমাম সাহেব আযান দিতে গেলে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আযান বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়!

পেশী শক্তির ভয়ে আযান বন্ধ রাখা হলেও এলাকার সাধারন মানুষের পাশাপাশি আওয়ামিলীগের একাংশের মধ্যেও চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে, এবং যেটার সম্পূর্ণ দায় গড়িয়েছে সরকারের উপর! কারন ঐ নৃত্যানুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতা পৌর মেয়র সুভাস চন্দ্র শীল! তার নির্দেশেই আযান বন্ধ করা হয়!

তবে, আমি একজন সচেতন মানুষ হিসেবে এর পুরো দোষ আওয়ামিলীগকে দিতে চাই না৷

ভিডিওঃ ‘নৃত্যানুষ্ঠানের কারণে আযান বন্ধ করলো আ.লীগ নেতা সুভাষ চন্দ্র শীল


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যতদূর শুনি আপনি সব সময় অজু অবস্থায় থাকেন, সকালে কোরআন তেলওয়াত করেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাহাজ্জুদ নামাজও বাদ দেন না৷ এক কথায় আপনি একজন ধর্মভীরু মানুষ৷

এসব বাদ দিলেও আপনারাতো ভোট আর ক্ষমতার জন্যেই রাজনীতি করেন তাই না?

৯০ ভাগ মানুষের ভোটের জন্যে হলেও আশা করি আপনি অতিসত্বর এ ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিবেন৷ ভিডিওটি আমাদের কাছে যিনি পাঠিয়েছেন তাদেরকে সুভাষ চন্দ্র বেশি বাড়াবাড়ি না করবার হুমকি দিয়েছেন৷ যে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তারা দিতে সাহস পায়নি৷

তাই আপনার কাছে প্রশ্ন আপনি কি আপনার দুএকজন নেতা কে বাঁচাবেন নাকি ৯০ ভাগ মুসলমানের জিম্মাদার হিসেবে আ্ল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার ভয় করবেন?

উৎসঃ ‌একুশে টিভির একুশে চোখের উপস্থাপক সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে

আরও পড়ুনঃ চিকিৎসায় বিদেশ নির্ভরতা কেন? শেখ হাসিনার কাছে আ’লীগ নেত্রীর প্রশ্ন

দেশের চিকিৎসা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী নাজনীন আলম তার ফেসবুকের টাইমলাইনে শেখ হাসিনার উদ্দেশে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নাজনীন মঙ্গলবার রাত ৮টা ২১ মিনিটের দিকে ওই স্ট্যাটাসটি দেন। তিনি শেখ হাসিনার কাছে প্রশ্নও রাখেন ওই স্ট্যাটাসে।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

মাননীয় শেখ হাসিনা,

একটি বিশ্বমানের হাসপাতাল চাই।

১৮ কোটি মানুষ আপনার দিকে তাকিয়ে আছে।
যেখানে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবার সুযোগসহ দেশি-বিদেশি বিশ্বমানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকবে, দেশের গরিব মানুষ কম খরচে জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে পারবে। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড বা ভারতে আর যেন যেতে না হয়। বিদেশ থেকেও যেন রোগীরা আসেন এ দেশে চিকিৎসা নিতে। এমনটা কি কোনো দিন সম্ভব হবে না। আমাদের দেশ অনেক এগিয়েছে। বিদেশ নির্ভরতাও কমেছে। ওষুধ উৎপাদনে কিন্তু আমরা যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছি। আপনার হাত ধরে পদ্মা সেতুসহ অনেক সফলতাই তো এসেছে।

তাহলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিদেশ নির্ভরতার লজ্জা কেন দূর হবে না?

উল্লেখ্য, স্ট্যাটাসের শুরুতেই স্ট্যাটাসটি অতি জনগুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এটি শেয়ার/প্রচার করে জনমত সৃষ্টিতে অবদান রাখতে অনুরোধ করেন এই আওয়ামী লীগ নেত্রী।

উৎসঃ ‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ ইঁদুর ধরতে পারে না, বিড়াল থাকার দরকার নেই : দুদককে হাইকোর্ট


সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত ৩৩টি মামলার শুনানিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট।

এ সময় আদালত বলেন, ইঁদুর ধরতে পারে না, বিড়াল থাকার দরকার নেই। এরপর মামলার সকল নথিপত্র আদালতে জমা দেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দুদকের মামলায় নিরীহ জাহালমের কারাভোগসংক্রান্ত মামলার শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে আদালত আগামী ১০ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর ভুক্তভোগী জাহালমের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।

মামলার শুনানিতে দুদক আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ‘কেউ চায় না, দুদক সম্পর্কে মানুষের ধারণা খারাপের দিকে যাক। তবে দুদককেও পরিচ্ছন্ন (ক্লিন) হতে হবে।’

এসময় দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘চ্যানেল ২৪ –এ জাহালমের বিষয়ে রিপোর্ট আসার পর জাহালম যে নির্দোষ সে বিষয়ে দুদক তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়। সে তদন্তে জাহালম যে নির্দোষ তা উঠে আসে। তদন্তে দেখা গেছে যে, সে অভিযুক্ত না। তাই আমরা তো বিষয়টি নিয়ে সঠিক পথেই আছি।’

তখন আদালত বলেন, ‘চ্যানেল ২৪ –এ রিপোর্ট হওয়ার আগে তিনি (তদন্ত কর্মকর্তা) কী করেছেন? দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনাদের অনেক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না, সেই বিড়াল থাকার দরকার নেই।’ জবাবে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে।’

আদালত বলেন, ‘আগে অনেকেই দুর্নীতিকে ঘৃণা করতো। কিন্তু এখন এর অবক্ষয় হচ্ছে।’

এরপর দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাক্ষ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে জাহালমকে নিয়ে আমরা তদন্ত করেছি।’ আদালত তখন বলেন, ‘আপনারা সেসব তথ্য কী যাচাইবাছাই করবেন না? আপনারা রিপোর্টে বলছেন, জাহালম ১৮ ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছে। কিন্তু এখন মুখে ২টি ব্যাংককে মামলায় পক্ষভুক্ত করতে চাচ্ছেন?’

দুদক আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের কাছে মামলার সব ফাইল আছে। একটু সময় দিন, সব আপনাদের দেবো।’

তখন আদালত দুদক আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘ব্রাক ব্যাংকের একজনকে সাক্ষী বানালেন, কিন্তু আসামি করলেন না কেন? আপনারা জাহালমের মামলাটি তদন্ত করেছেন কিনা?’ দুদক আইনজীবী বলেন, ‘করেছি। তদন্ত শেষ পর্যায়ে আছে।’

আদালত জানতে চান, ‘জাহালমকে যে নির্দোষ তা কবে জানতে পারলেন?’ জবাবে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘চ্যানেল ২৪ থেকে জানার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তদন্ত করার পর তার নির্দোষের বিষয়ে জানতে পারি।’

আদালত বলেন, ‘তদন্ত করে যখন দেখলেন সে নির্দোষ, তখন তাকে প্রসিকিউশন ছেড়ে দিলো না কেন? তদন্তের পর আপনাদের উচিত ছিল তার জামিন দেওয়া। এরপরও মামলার শুনানিকালে আদালতে ও আপনাদের কাছে সে বারবার বলেছে– আমি জাহালম, আবু সালেক না। তারপরও তার জামিনের ব্যবস্থা করলেন না। তাহলে তার বিরুদ্ধে কিসের ভিত্তিতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করলেন? এর দায় আপনাদের নিতে হবে।’

এসময় দুদক আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের সময় দিন। আমরা সব কাগজ-প্রমাণ আদালতে দাখিল করবো। আপনারা এখন এ মামলায় দুইটি ব্যাংককে পক্ষভুক্ত করে নিন।’ তখন আদালত বলেন, ‘আপনারা পিক অ্যান্ড চুজ করছেন।’

জবাবে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘কোর্ট চাইলে আমরা সবাইকে (১৮টি ব্যাংক) পক্ষভুক্ত করে নিবো।’ আদালত বলেন, ‘যাকে আসামি বানানোর কথা ছিল, তাদের আপনারা সাক্ষী বানিয়েছেন। অন্য সব ব্যাংকগুলোকে পক্ষভুক্ত করতে হবে। যেখানে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ছে, সেখানে সিন্ডিকেট করে সব নিয়ে যাচ্ছে; এটা দেখা দরকার।’

এরপর আদালত এ মামলার সব নথি তলব করে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ এপ্রিল দিন ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি ২৬ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে থাকার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চার জনকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। দুদকের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, মামলার বাদী, স্বরাষ্ট্র সচিবের একজন প্রতিনিধি ও আইন সচিবের একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থেকে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এ বিষয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন উপস্থানের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

একটি জাতীয় দৈনিকে ‘৩৩ মামলায় ভুল আসামি জেলে’ ‘‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না…” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।

ওই প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপনের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশে দেন হাইকোর্ট।

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির দায়ে ৩৩টি মামলা হয়েছে। কিন্তু আবু সালেকের বদলে জেল খাটছেন, আদালতে হাজিরা দিয়ে চলেছেন জাহালম। তিনি পেশায় পাটকল শ্রমিক।

জাহালমের কারাবাসের তিন বছর পূর্ণ হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। দুদক বলছে, জাহালম নিরপরাধ প্রমাণিত হয়েছেন। তদন্ত করে একই মত দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও। ফলে একটি মামলায় তার জামিন হয়েছে। আরও ৩২টি মামলায় জামিন পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।’

সূত্রঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ নৌকার পক্ষে থাকতে বললেন এমপি, তার ‘প্রতিদানে’ টাকা চাইলেন শিক্ষকরা


রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাইকে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আর শিক্ষকরা তার ‘প্রতিদানে’ চেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকা। তারা এমপিকে বলেছেন, পাঁচ লাখ টাকা দিলে তারা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেবেন।

বুধবার দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও মিলন উৎসবে এমপি ও শিক্ষকদের এই কথোপকথন হয়। এই শিক্ষকরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের এ ধরনের প্রতিশ্রুতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় বলে মনে করছেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমিনুর রহমান। বক্তব্য দেন, গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল মজিদ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিবলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এমপিপত্নী নিগার সুলতানা চৌধুরী ও গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদও উপস্থিত ছিলেন।

এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘তৃতীয়বারের মতো আমাকে নির্বাচিত করার কাজে সক্রিয়ভাবে আপনাদের অংশগ্রহণ করা এবং মানসিক শক্তি দেয়ার জন্য আমি আমার পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আপনাদের কাছে প্রত্যাশা করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এবং নৌকা প্রতীকের জন্য আপনাদের এই আন্তরিকতা সব সময় পদ্মা নদী দিয়ে যে রকম কোটি কোটি গ্যালন পানি যেমন সব সময় প্রবাহিত হয়, সেই ভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আপনাদের ভালোবাসা প্রবাহিত হতে থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতীক নৌকা এখানে সব সময় বিজয়ী হবে। কারণ, প্রধানমন্ত্রীকে যত শক্তিশালী আপনারা করতে পারবেন, প্রতিটি স্টেজে বেনিফিশিয়ালি আমরা সকলে হব।’

এমপি বলেন, ‘আমি একটি স্বপ্ন নিয়ে আপনাদের এই অ্যাসোসিয়েনটিকে গড়ে দিয়েছিলাম বা গড়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আজকে যখন শুনছি তিনশ কতজন মাত্র সদস্য তখন একটু একটু করে আমার মনের মধ্যে খারাপ লাগছে। আগামী বছরের পিকনিকের আগে সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে আসার উদ্যোগ আপনারা নেবেন। যে সমস্ত কলেজের শিক্ষকরা বাকি আছেন, তাদের এই সংগঠনে আনুন।’

ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘পিকনিকে এসে আপনাদের ভালো লাগে না? আমাদের তো ভালোই লাগে।’ তিনি বলেন, ‘আপনাদের কিন্তু একটা জিনিস জানা দরকার। এই পিকনিক হয়, আপনারা যে টাকা সমিতিতে জমা দেন, সেই টাকায় হয় না। আউটসাইড থেকে হয়। সুতরাং যারা জমা দেন টাকা তাদের কোনো ক্ষতি হয় না। এই আমাদের মতো, মজিদ মেয়রদের মতো, রশিদ সাহেব আমাদের সাধারণ সম্পাদক- এ রকম লোকদের ঘাড় মটকিয়ে খেয়ে নেন আপনারা শিক্ষকরা।’

এ সময় সংগঠনের তহবিলে টাকা দেয়ার জন্য এমপির কাছে দাবি জানান শিক্ষকরা। এমপি প্রশ্ন করেন, ‘এক লাখ টাকা?’ একজন শিক্ষক বলেন, ‘গতবার তিন লাখ টাকা দিতে চেয়ে এমপি সাহেব ভুলে গেছেন।’ প্রতিউত্তরে এমপি বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে সেটা পারিনি। বকেয়া তিন লাখ এবার পরিশোধ করে দেব।’ তখন শিক্ষকরা তাদের তহবিলে এমপির কাছে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন।

এ সময় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘প্রিন্সিপাল রাজু বলছেন যে, আমরা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যানকে (প্রার্থীকে) জিতিয়ে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে নেব, আপনি শুধু ঘোষণা দিয়ে দেন। কী, আপনারা পারবেন? কই জোর দেখছি না তো।’ তখন শিক্ষকরা একটু করতালি দেন। এমপি আবার বলেন, ‘জোর দেখছি না কিন্তু এখনও।’ শিক্ষকরা তখন আরও জোরে করতালি দেন।’ এমপি আবার বলেন, ‘কই? কই কই কই?’ শিক্ষকরা আরও আরও জোরে করতালি দিতে থাকেন। এমপি বলেন, ‘যাই হোক, এটা আমার প্রস্তাব না কিন্তু। আমি প্রস্তাব দিইনি। এটা প্রিন্সিপালদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে। সুতরাং আমি কিছু বলতে পারব না।’

আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠেয় গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। আর মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বদিউজ্জামান। রাজশাহী নগরীর সীমান্ত নোঙরে শিক্ষকদের এই মিলনমেলাস্থলে জাহাঙ্গীর আলমের পোস্টার লাগানো একটি প্রাইভেটকার দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদিউজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষকরা নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অপিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই পরিকল্পিতভাবে সমিতির নামে শিক্ষকদের নিয়ে পিকনিক-সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১০ তারিখের নির্বাচনকে প্রভাবিত ও কারচুপি করার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্বাচনি এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি শিক্ষকদের এলাকার বাইরে ডেকে তাদের সাথে আঁতাত করতে চাইছেন। তাদের উৎকোচ দিয়ে উপজেলা নির্বাচনকে কলুষিত করতে চাইছেন।’

এ বিষয়ে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সমিতির অধীনে তাদের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষক আছেন কি না তা তারা দেখবেন। কেউ থাকলে তাকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।

সূত্রঃ ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ‘একজন মন্ত্রী উন্নত চিকিৎসা পান অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুচিকিৎসা পান না’


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জোর দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘বেগম জিয়া যতোই অসুস্থ থাকেন না কেনো, তিনি নিজের মুখে কখনো বলেন নাই তিনি অসুস্থ। এখন তিনি বলছেন তিনি অসুস্থ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে হুইল চেয়ারে করে খালেদা জিয়াকে আদালতে আনা হয়। সে হুইল চেয়ারে ভালো করে পা রাখতে পারেন না। আজকে সরকারের একজন মন্ত্রীকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় অথচ তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নূন্যতম চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না।’

বুধবার (৬ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি আয়োজিত মানবন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনটির আয়োজন করা হয়।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এমন উদাহরণ আছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যখন জেলে ছিলেন, তখন চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি বিদেশে গেছেন। তাই আমাদের প্রধান দাবি বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তিনি যেনো বিদেশে অথবা বাংলাদেশে তাঁর পছন্দ মতো চিকিৎসা নিতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের প্রধান দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তি। আমরা চাই, মুক্ত খালেদা জিয়া যেখানে খুশি সেখানে চিকিৎসা নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী বলেছেন, পিজি ( বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা পাচ্ছেন না। এখন আবার সেই হাসপাতালের আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সূত্রঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই খালেদা জিয়া চিকিৎসাবঞ্চিত : ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করতে দিচ্ছে না সরকার। তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে প্রত্যেক সাধারণ নাগরিকেরই অধিকার রয়েছে সুচিকিৎসা পাওয়ার, সেখানে তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না। এটা অন্যায় ও অমানবিক। চিকিৎসার অভাবে বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে এর দায়ভার সরকারের উপরেই বর্তাবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।

বেগম জিয়ার চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি করেন।

আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মানববন্ধনে কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে তাদের প্রিয় নেত্রীর মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে শ্লোগান দিতে থাকেন। হাতে প্লেকার্ড ও ব্যানার নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন তারা। এক পর্যায়ে মানববন্ধন রূপ নেয় সমাবেশের।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, খায়রুল কবির খোকন, আমানুল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ তার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত। অথচ সরকার কথায় কথায় সংবিধানের কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি নীল নকশার নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকার অন্যায় ও অবৈধ সরকার। তারা অন্যায়ভাবে অন্যের অধিকার হরণ করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, আগামী দিনে জনগণের ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে এই সরকারকে চির বিদায় করতে হবে।

সূত্রঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ বাংলাদেশঃ গ্রিনপিস ও এয়ারভিজুয়ালের রিপোর্ট


বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ বাংলাদেশ। দূষিত রাজধানীর তালিকায় ঢাকা আছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তালিকায় শীর্ষে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। আর শহর হিসেবে ঢাকার অবস্থান ১৭তম।

বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারতের গুরুগ্রাম। আইকিউএয়ার এয়ারভিজুয়াল ও গ্রিনপিসের এক গবেষণা প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের দূষণ মাত্রার এ চিত্র ফুটে উঠেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপ্রিস মঙ্গলবার যৌথভাবে এ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে তালিকাভুক্ত ৭৩ দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

২২ পৃষ্ঠার রিপোর্টের শুরুতে বলা হয়, বিশ্বে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর ৭০ লাখ মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে। অকালে প্রাণহানির কারণ হিসেবে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বায়ুদূষণ। আর এর কারণে বিশ্বে বার্ষিক প্রায় সাড়ে ২২ হাজার ডলার (প্রায় ১৯ লাখ কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রতিবেদনের সহায়তা নিয়ে এ রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বের ৭৩টি দেশ ও তিন হাজারের অধিক শহর তালিকাভুক্ত হয়েছে।

এ তালিকা প্রস্তুত করতে পিএমটুপয়েন্টফাইভ নামে পরিচিত বাতাসের এক ধরনের সূক্ষ্ম কণার উপস্থিতি হিসাব করা হয়েছে। এ কণাগুলো মানুষের ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে মারাত্মক দূষণ ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পিএমটুপয়েন্টফাইভ’র দূষণের কারণে ফুসফুসের ক্যান্সার, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ হতে পারে, যার মধ্যে অ্যাজমা অন্যতম।

পিএমটুপয়েন্টফাইভ’র মাত্রা সর্বোচ্চ ১০০ ধরে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ হিসেবে শীর্ষে থাকা বাংলাদেশের বাতাসে পিএমটুপয়েন্টফাইভ’র গড় মাত্রা ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তান ও ভারতের পিএমটুপয়েন্টফাইভ’র মাত্রা যথাক্রমে ৭৪ দশমিক ৩ ও ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে আফগানিস্তান ও বাহরাইন। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশগুলোর বেশির ভাগই এশিয়া মহাদেশের। কম দূষিত হিসেবে তালিকায় তলানিতে রয়েছে আইসল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের নাম।

রাজধানী শহরের হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দিল্লি। ভারতের রাজধানীর পিএমটুপয়েন্টফাইভ’র মাত্রার সর্বোচ্চ মান ছাড়িয়ে ১১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকার পিএমটুপয়েন্টফাইভ’র মাত্রা ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে আফগানিস্তানের কাবুল, বাহরাইনের মানামা ও মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর।

এয়ারভিস্যুয়াল ও গ্রিনপিসের এ গবেষণায় ২০১৮ সালে দূষণের মাত্রায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শীর্ষ ৩০টি শহরের মধ্যে ২২টি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারতের, পাঁচটি চীনের, দুটি পাকিস্তানের ও একটি বাংলাদেশের। একটু ছোট পরিসরে বললেও সবচেয়ে দূষিত ১০ শহরের মধ্যে শীর্ষস্থানসহ ভারতের ৭টি, পাকিস্তানের ২টি ও চীনে ১টি শহর রয়েছে। শীর্ষ দশে না থাকলেও ঢাকা রয়েছে ১৭তম অবস্থানে। শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের গুরুগ্রাম।

ভারতের এ শহরটি নয়াদিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। পূর্ববর্তী বছর থেকে শহরটির দূষণের মাত্রা কমলেও এটি শীর্ষস্থান এড়াতে পারেনি। দূষণের তালিকায় গুরুগ্রামের পরই আছে দিল্লিসংলগ্ন ভারতের আরেকটি শহর গাজিয়াবাদ।

এরপর তৃতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ শহর। চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে যথাক্রমে আছে ভারতের ফরিদাবাদ, ভিবাডি, নয়ডা ও পাটনা। অষ্টম স্থানে আছে চীনের হোটান শহর, এরপর ভারতের লক্ষ্ণৌ ও দশম স্থানে পাকিস্তানের লাহোর শহর।

সূত্রঃ ইত্তেফাক,ইউএস নিউজ

আরও পড়ুনঃ মানুষ এখনো বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকেই চিন্তা করেঃ রুমিন ফারহানা


বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বিরোধী দল খোঁজার জন্য সরকারকে যেভাবে মরিয়া হয়ে যেতে দেখেছি, তাতে এটি খুব স্পষ্ট সত্যিকার অর্থে বৃহৎ বিরোধী দল বলতে বিএনপিকেই বুঝে। স্বৈরশাসিত সরকার যখন একটি দেশে চলতে থাকে তখন গণতন্ত্র সব দলের জন্য সংকোচিত হয়ে পড়ে। তার মানে গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে যে অভাব রয়েছে শুধু আন্তর্জাতিক খবরের কাগজ থেকে দেখছি না, এটি জাতীয়ভাবেও স্বীকৃত। সোমবার রাতে সময় টেলিভিশনে ‘আজকের বাংলাদেশ’ টকশোতে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১০-১২ বছরে ধরে বিএনপি চেয়ারপার্সন থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত ওপর যে নির্যাতন নিপীড়ন হয়েছে, তার পরেও দলটি ভাঙেনি এবং সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৬টি আসন পাবার পর দেশের মানুষ বিরোধী দল হিসেবে একমাত্র বিএনপিকেই চিন্তা করে। বিদেশি বন্ধুরাও বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকেই চিন্তা করে।

বেগম খালেদা জিয়ার দিক নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে রুমিন ফারহানা বলেন, ২০১৫ সালে চেয়ারপার্সন যখন বিএনপিকে রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন তখন সেখানে কিভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন যেভাবে ঢুকে পড়েছিলো এবং সে আন্দোলনকে বানচাল করার চেষ্টা করে ভিন্ন খাতে নেবার চেষ্টা করা হয়েছে, এই চেষ্টায় সরকার সফলও হয়েছে। যার কারণে বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট করেছেন, এবার যে আন্দোলন হবে সেটাকে যেন কোনোভাবে আওয়ামী লীগ বা সরকারি দল অন্য খাতে প্রভাবিত করতে না পারে। তাই বিএনপির চেয়ারপার্সন চমৎকারভাবে বলেছিলে, বিরোধী দল হবার জন্য সংসদে যাবার প্রয়োজন নেই।

উৎসঃ ‌amadershomoy

আরও পড়ুনঃ শীর্ষ ৮০ ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ


মিয়ানমার-শ্রীলংকার নাম থাকলেও বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর ৮০টি দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ইউএস নিউজ এন্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট র‌্যাংকিং-২০১৯ এর সবশেষ নাম এস্তোনিয়া পর্যন্ত গিয়েও দেখা মিললো না লাল-সবুজের পতাকার। অর্থনীতি, কূটনৈতিক প্রভাব ও সামরিক শক্তির বিচারে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

তালিকায় ক্ষমতাধর ১০টি দেশের মধ্যে প্রথমে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তারপর যথাক্রমে রাশিয়া, চীন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের অবস্থান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েল রয়েছে ৮ম অবস্থানে। আর সৌদি আরব নবম।

তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিবেশি মিয়ানমার ৫৩ তম পরাশক্তি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা ৬০। এছাড়া ভারত ১৭ তম এবং পাকিস্তান ২২ তম অবস্থানে।

২০১৯ সালের সেরা দেশ নির্বাচনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ইউএস নিউজ এবং ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের যৌথ উদ্যোগে এই জরিপমূলক গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

শীর্ষ ৮০ ক্ষমতাধর দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ

গবেষণাটিতে প্রতিটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রভাব ও সক্ষমতার দিকটি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সারাবিশ্বের প্রায় ২০ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে এ জরিপটি পরিচালিত হয়।

তালিকায় সবচেয়ে শক্তিশালী ১০টি দেশের তালিকায় আরও আছে, ষষ্ঠ স্থান অধিকারী ফ্রান্স। সপ্তম স্থানের জাপান। দশম দক্ষিণ কোরিয়া। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে এগারতম স্থানে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক,ইউএস নিউজ

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়াকে এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যেখানে হাঁটার স্থানও নেইঃ জয়নুল আবেদীন


বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে এমন স্থানে রাখা হয়েছে, সেখানে হাঁটার স্থান নেই, তাকে যে একটু ধরে হাঁটাবে তারও কোন উপায় নেই। মঙ্গলবার ডিবিসি টেলিভিশনের রাজকাহন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

জয়নুল আবেদীন বলেন, একজন মার্ডার কেসের আসামিকেও এমন স্থানে রাখা হয় না, আমরা দেখলাম বেগম জিয়াকে যে সেলে রাখা হয়েছে। সরকার বলছে বেগম জিয়া সুস্থ যে স্থানে আছেন। তাকে জেলে নেয়ার আগে তিনি হেঁটে হেঁটে গেলেন, কিন্তু তাকে যখন হাসপাতালে নেয়া হলো আমরা দেখলাম তিনি হুইল চেয়ারে বসা। তা হলে বেগম জিয়া সুস্থ হলে তিনি হাঁটতে পারছেন না কেনো? এটা সরকারকে জবাব দিতে হবে। সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে মিথ্যাচার করছে।

তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করছে। এখানে রাজনীতির কোন জায়গা নেই। দেশের ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বাদ দিলাম, একজন সিনিয়র নাগরিক বয়স্ক ভদ্রমহিলা হিসেবে, সবশেষে একজন মানুষ হিসেবেতো তার সু-চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে।

তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত পছন্দ ইউনাইটেড ও এ্যাপোলো হসপিটাল । সরকার তা মানছে না, তাদের কথা হলো মানুষ মরে যাক সরকার তার ইচ্ছার বাইরে যাবেন না। আমরা আজও জানলাম না যে তথাকথিত মেডিকেল বোর্ড সরকার গঠন করেছে, যাদের কথায় তড়িঘরি করে, বেগম জিয়াকে পিজি হসপিটালে নেয়া হলো, সে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ আজও আমরা জানলাম না। বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে এর কঠিন জবাব দিতে হবে বলেন বিএনপি এই নেতা।

উৎসঃ ‌amadershomoy

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here