বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য দেশে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি,সহ নানান কারণে দেশ ছাড়ছেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা

0
222

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার ও প্রকৌশল বিভাগের ১৯৮৬ এর ব্যাচে মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ৩১ জন। তাদের ২৫ জনই এখন বিদেশে। একই বিভাগের ১৯৯৪ এর ব্যাচের ৪৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন রয়েছেন দেশের বাইরে। ১৯৯৮-এর ব্যাচের ৬৫ জনের মধ্যে ৩০ জন বিদেশে। তারা বিশ্বের নানান স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন দেশে নাগরিকত্ব নিয়ে সেই দেশেই থেকে যান তারা। এ তথ্য দিয়েছেন বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের কার্যালয় ও অ্যালামনাই এসোসিয়েশন। শুধু বুয়েট নয়, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ভিড় করছেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য। একবার বিদেশ পাড়ি জমাতে পারলে দেশের প্রতি আগ্রহ হারিরে ফেলেন তরুণ-তরুণীরা। অথচ এসব শিক্ষার্থীর গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে সরকারের খরচ হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকা। জানা যায়, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করতে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে ব্যয় হচ্ছে ৫ লাখ টাকার অধিক, বুয়েটের একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা সমাপনীতে ব্যয় হচ্ছে ১০ লাখ টাকা, আর একজন সরকারি মেডিকেলের শিক্ষার্থীর পেছনে ১৫ লাখ টাকার ওপর। বাংলাদেশের এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে জনগণের করের টাকায়।

দেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার উদ্দেশে পাড়ি জমান বিদেশে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই পড়াশোনা শেষ করে সেখানে চাকরিতে প্রবেশ পরবর্তী সময়ে সেখানকার স্থায়ী নাগরিক হয়ে যান। এতে করে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মেধাবী তরুণ-তরুণী হারাচ্ছে। সঙ্গে মেধাও পাচার হচ্ছে বিদেশে। এমনটা মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের তরুণ মেধাবী শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং দক্ষ জনশক্তির নিজ দেশ ত্যাগ করে বিদেশকে কর্মক্ষেত্র হিসেবে স্থায়ীভাবে বেছে নিচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা কেন ঘটছে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য দেশে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সুযোগ-সুবিধাসহ নানান কারণে দেশ ছাড়ছেন এসব মেধাবী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব ও মেধার স্বীকৃতি না দেয়া মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশে থাকছেন না। তাছাড়া দেশে বেকারত্ব সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সমপ্রতি প্রকাশিত শ্রমজনশক্তি জরিপ অনুযায়ী ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সারা দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। এরমধ্যে ১০ লাখ ৪৩ হাজার শিক্ষিত তরুণ-তরুণী। যারা উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস। অর্থাৎ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ।

এদিকে দেশে সরকারি চাকরিতে যোগদানের জন্য মেধাবীদের প্রথম পছন্দ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)। অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা বেড়েছে কয়েকগুন। তবে বিসিএসও কোটার কাছে পরাজিত হচ্ছে মেধা। গত একবছর আগেও শতকরা ৫৬ ভাগ নিয়োগই ছিলো কোটা। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে কোটা তো আছেই। যার কারণে অনেক মেধাবী তরুণ দেশে ছেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর ‘গ্লোবাল ফ্লো অব টারশিয়ারি লেভেল স্টুডেন্টস’- শীর্ষক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ১৩৯। একবছরের ব্যবধানে এ সংখ্যা বেড়েছে ৮২ শতাংশ। বিদেশ যাওয়া শিক্ষার্থীদের হার বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেছিলেলেন ২০১৭ সালে লাখ ছাড়িয়েছে যাবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ১৭ এবং ১৮-তে এই সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। বিদেশ যাওয়ার মাধ্যমে একদিকে বাংলাদেশি টাকাও বিদেশে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে এসব শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষা শেষে আর দেশে ফিরে আসছে না। এভাবে অর্থ ও মেধা উভয় পাচার হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ন্যাশনাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পলিসি-২০১০ (সংশোধিত)-এ বলা হয়েছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার বেশ কয়েকটি কারণের একটি হচ্ছে মেধা পাচার বা মেধাবী তরুণ্যের বিদেশে চলে যাওয়া। মেধা পাচার ও দক্ষ জনশক্তির ইমিগ্রেশন সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব আরোপ করে তা বন্ধ করার কথাও নীতিমালায় বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশে বিজ্ঞান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র সীমিত। ফলে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখার আগ্রহ কমছে। এদিকে দেশে ৪০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা ৫০ হাজারের মতো। অথচ উচ্চশিক্ষার জন্য স্বপ্ন দেখেন দেশের আট থেকে নয় লাখ শিক্ষার্থী। আসন সংখ্যা কম থাকায় অনেকেরই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ হয় না। আবার দেশে প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে খরচ হচ্ছে প্রচুর অর্থ। বিপরীত দিকে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একই টাকা যেমন পড়াশোনা করতে পারছে পাশাপাশি সুযোগ রয়েছে উপার্জন করার। সবমিলিয়ে এমন সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় না তরুণরা। রাজধানীর আইএলটিএস ও জিআরই শিক্ষা বিভিন্ন প্রষ্ঠিানগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা য়ায়, প্রতিনিয়ত তাদের প্রতিটি ব্যাচে চল্লিশ জনের বেশি করে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। এ রকম একেকটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন দশ থেকে বারোটি ব্যাচ পরিচালনা করা হয়। জানা গেছে, এসব শিক্ষার্থী শুধু বিদেশ যাওয়ার জন্যই এ কোর্সগুলো করছেন। এ রকম একজন শিক্ষার্থী আল-আমিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা শেষ করেছেন। এখন আইএলটিএস করার জন্য ভর্তি হয়েছেন মেন্টোসে। তিনি বলেন, দেশে কোনো কর্মসংস্থান নেই। এখানে ভালো করার কোনো সুযোগ নেই। তাই দেশের বাইরে চলে যাওয়ার ইচ্ছা। সেখানে দারুণ সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

শুধু শিক্ষার্থীই নয়, মেধাবী তরুণ পেশাজীবীরাও ভিড় করছেন বিদেশে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৫ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১৫ জন শিক্ষক অনুমতি ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগের বছরে এ সংখ্যা ছিল ১৪ জন।

এসব শিক্ষক উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিতে যোগ দেয়ার কারণে শিক্ষকদের উচ্চতর ডিগ্রির জন্য শিক্ষা ঋণ বা শিক্ষা বৃত্তি পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও শিক্ষকদের উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণকে সাধুবাদ জানানো হয়। শিক্ষকরা উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে অবস্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান। বিদেশ যাওয়ার সময় শিক্ষকদের ছয় মাসের বেতন বা চাহিদা অনুযায়ী অর্থ দিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদেশে অবস্থানকালেও তারা প্রতিমাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কিস্তিতে টাকা পেয়ে থাকেন। এসব কারণে দেশের সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদেশমুখী হচ্ছেন। কিন্তু গিয়ে আর ফিরে আসছেন না। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকই নন, নানান পেশার মানুষ উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে চলে গেলেও তারা আর দেশে ফিরছেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র বিদেশ গিয়ে ফেরত না আসার কারণে নানান সময় সিন্ডিকেট সভায় অনেক শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়। নিয়মানুযায়ী কোনো শিক্ষক ছয় মাস বা একবছরের জন্য বিদেশে গেলে একাধিক কিস্তিতে সর্বাধিক চারবছরের জন্য ছুটিতে থাকতে পারবেন। উচ্চশিক্ষা শেষে শুধু দেশে ফিরে কাজে যোগদানই নয়, ভোগকৃত ছুটির সমপরিমাণ সময়কাল তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির অনেক শিক্ষকই বিদেশ যাওয়ার পর দেশে ফিরে আসেন না ।

মেধাবীদের বিদেশমুখী হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিষয়টিকে নেগেটিভভাবে দেখছি না। সারা বিশ্ব এখন গ্লোবাল ভিলেজ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- বিভিন্ন দেশে গিয়ে দেশের কথা মনে রাখছে কি না। তবে আমার কাছে আরো একটি বিষয় মনে হয় দেশে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না দিতে পারা, চাকরি না থাকা বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ বা বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজনীয় ল্যাব সুবিধা না দিতে পারার কারণে তারা বিদেশমুখী হচ্ছেন। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কাজ করা উচিত সরকারকে।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, যেখানে মাখন রুটি পাবে মানুষ সেখানেই যাবে। দেশে চাকরি-বাকরি, সামাজিক নিরাপত্তা তেমন কিছু একটা পর্যাপ্ত নেই। যার কারণে বিদেশে দৌড়াচ্ছে তারুণ্য। আগে তো অনেকের মাঝে দেশপ্রেম ছিলো। ফলে দেশে ফিরে আসতো। এখন সেটাও অনেক কমে গেছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে দেশে অবশ্যই ফিরে আসবে এবং আসা উচিত। শিক্ষিত তরুণদের দিকেই চেয়ে আছে দেশ। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার মূল্যবোধে ঘাটতির কারণেই অনেকে ফিরে আসছে না। সবার আগে দেশের কথা ভাবলে এমন হতো না। বর্তমান সরকার তরুণদের জন্য অনেক কাজ করে যাচ্ছে।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ যেকোনও সময় সরকারের পতন: কর্নেল (অব.) অলি আহমদ


নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশবাসীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহবায়ক ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্যই সরকারের পতন হবে। সেটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।’

শনিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে এলডিপি কার্যালয়ে এলডিপিতে যোগদান উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এদিন কুরআনিক পার্টি বিলুপ্ত করে দলের সব নেতাসহ বেশ কয়েকজন পেশাজীবী নেতা এলডিপিতে যোগ দেন।

অলি আহমদ বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন আসছে। আপনারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া দেশে শান্তি আসবে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হননি। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময়ে জনগণ বিভিন্নভাবে নির্যাতিত ও অত্যাচারিত হয়েছে। কারণ দেশ স্বাধীন হয়েছে, জনগণ স্বাধীন হয় নাই। তাই আমাদের সবাইকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে।’

২০ দলীয় জোটের এই সমন্বয়ক বলেন, ‘ আইনের শাসন, সুশাসন, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, দলীয়করণ মুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। আমরা একে অপরকে দোষারোপ করে কখনো দেশকে তার অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে পারব না। সবাইকে সত্য উপলব্ধি করতে হবে, ন্যায়ের পক্ষে থাকতে হবে।’

এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, ভাইস চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান, ড. নিয়ামুল বশির, যুগ্ম মহাসচিব তমিজুদ্দিন টিটু, প্রচার সম্পাদক বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ও তথ্য গবেষণা সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ওএসডি হচ্ছেন!


এক নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হচ্ছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এনেছি। আগামীকাল (রোববার) তাকে ওএসডি করে আদেশ জারি করা হবে। সেখানে (জামালপুর) নতুন একজন যোগ দেবেন।’

সম্প্রতি জামালপুরের ডিসির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনাটি ‘সাজানো’ বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। ওই ঘটনায় জামালপুরসহ সারাদেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘চাকরির বিধি অনুযায়ী অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তার (ডিসি আহমেদ কবীর) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে, শনিবার (২৪ আগস্ট) সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন অনুবিভাগ) আ. গাফ্ফার খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে অবগত আছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিভাগের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটি হবে, এখন বন্ধ যাচ্ছে। অফিস খুললেই এটা হবে। তবে এটা নিয়ে বিভিন্নভাবে তদন্ত হচ্ছে, বিভিন্ন সংস্থা-কর্তৃপক্ষ সেটা করছে। আরও অনেক অথরিটি আছে, তারাও দেখছে।’

‘এটা আমাদের নলেজেও আছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে’ বলেন অতিরিক্ত সচিব।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ মিয়ানমারের ইচ্ছা পুরণে সরকার কাজ করছে : মির্জা ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মিয়ারমারের ইচ্ছা পুরণে সরকার কাজ করছে বলেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তিনি বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে দুই বছর হলো। কিন্তু এখনও একজন রোহিঙ্গাকে সেখানে পাঠাতে পারেনি সরকার। তারা মিয়ানমারের কাছে সম্পূর্ণ নতি স্বীকার করেছে।’

শনিবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

দুই ঘন্টার এই বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রোহিঙ্গার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তারা (মিয়ানমার) যে ফর্মূলা দিয়েছে সেই ফর্মূলার কাছে তারা নতি স্বীকার করছে। সর্বশেষ যে, সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরাণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলো তার সমাধান হয়নি অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া, তাদের সম্পত্তির মালিক হওয়া-এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মিয়ানমারের যে ফর্মূলা, তাদের যে ইচ্ছা সেটাকে পুরণ করবার জন্য সরকার কাজ করছে বলে আমরা মনে করি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরা শুরুতেই বলেছি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য। কিন্তু এই সরকার এতে কোন সাড়া দেয়নি। দুই বছর পরে এসে একজন রোহিঙ্গাকেও তারা ফেরত পাঠাতে পারেনি। মূলত এই সরকার মিয়ানমারের কথা মতো কাজ করছে এবং তাদের ফর্মুলা বাস্তবায়ন করছে। মোটকথা মিয়ানমারের ইচ্ছাগুলো এই সরকার বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি আরো বলেন, ২১ আগস্ট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবং কিছু পত্রিকা তারেক রহমানকে নিয়ে যেসব কথা বলছে এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এখনো বলছি ২১ আগস্টের ঘটনা দেশের জন্য একটি নিকৃষ্ট ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’ ফখরুল বলেন, ‘সম্প্রতি সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন ২১ আগস্টের ঘটনার পর তৎকালীন বিএনপি সরকার কোন উদ্যোগ নেয়নি। ওনার একথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওই সময় এই ঘটনা নিয়ে কাজ করার জন্য দুটি বিদেশি সংস্থা আসলে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন আগ্রহ দেখানো হয়নি।’

আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিনে র‌্যালি করার কথা থাকলেও এটা হবে পরের দিন। আর ২ সেপ্টেম্বরের আলোচনা হবে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর দিন বিকেল ৩টায়। এছাড়া খালেদা জিয়া সুস্থতা এবং তার জামিনের বিষয়েও আলোচনা হয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মুক্তি : সেলিমা রহমান


দেশে বিচার বলতে কোনো কিছু নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা জামিনযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তার জামিন হচ্ছে না। কারণ বিচার বিভাগ আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে বন্দি। তাদের রায় দেয়ার বা জামিন দেয়ার কোন স্বাধীনতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। তিনি আরো বলেন, বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী আদালতের দরজায় দৌড়াচ্ছে, অথচ তাদেরকে মিথ্যা মামলায় জামিন না দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে আজকে আমাদেরকে কি করতে হবে? আমাদের একটি কথাই মনে রাখতে হবে বেগম খালেদা জিয়া বলে গিয়েছিলেন তোমরা ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করো। যে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ জাগরিত হয়।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন বেগম সেলিমা রহমান। মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চলনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন- মহিলা দলের সাবেক সভানেত্রী নূরে আরা সাফা, মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আজকে আমরা পত্রিকার পাতা খুললেই দেখতে পাই- চামড়ার দামে ধস নেমেছে, রড দিয়ে হামলা চলছে, খুন-গুম-হত্যা চলছে, শিশু-নারী হত্যা চলছে। আজকে মানুষ কথা বলার সাহস পাচ্ছে না, কারণ তারা জানে আজকে যদি তারা কথা বলে তবে তাদের উপর সন্ত্রাসী বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়বে। দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। কারণ বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার মধ্যরাতের নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তারা গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জোর করে কারাগারে আটক করে রেখেছে। শুধু তাই নয় তারা জনগণের উপর অত্যাচারের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা জনগণকে কথা বলতে দিচ্ছে না বিশেষ করে নারী ও শিশুর অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। জাতীয়ভাবে আমাদের শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দিবস পালন করলে চলবে না। আমাদের সকল নারী সমাজকে রাজপথে নেমে আসতে হবে।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আজকে বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা অপেক্ষা করছে কখন রাজপথে নামবে কখন এই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে? তারা সাহস পাচ্ছেন না, কারণ তাদের সন্তানকে, তাদের কন্যা সন্তানকে, তাদের কিশোরী সন্তানকে, তাদের শিশু সন্তানকে রাজপথে নামলেই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী কিংবা প্রশাসনের সন্ত্রাসী বাহিনী ধর্ষণ করবে না হয় হত্যা করবে। তিনি বলেন, আজকে একের পর এক ধর্ষণ চলছে। এই তো দুদিন আগে আমরা দেখলাম ট্রেনের বগির মধ্যে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। মাদারীপুরে আমরা দেখেছি নৌকা থেকে নামিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হয়েছে।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আপনারা দেখেছেন যে মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করেছিলো, সেই মিন্নিকে অন্যায়ভাবে আটক করে তার ওপর পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে তাকে দিয়ে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। ক্ষমতায় থেকে যারা এই সন্ত্রাসী বাহিনী তৈরি করেছে তাদেরকে যাতে কোনো দোষ দিতে না হয় সেজন্য তারা নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, আজকে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগের এক এমপি নিজেই বলেছেন, ডেঙ্গু আমাদের উপর গজব হিসেবে নেমেছে, নমরুদের গজব। তাদের যে পাপ, তাদের যে অত্যাচার তারা তা উপলব্ধি করতে পেরেছে। তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে নাই। তারা উন্নয়নের বুলি দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে খুশি রাখার চেষ্টা করছে। তারা শুধু উন্নয়নের বুলি উড়িয়ে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করছে।

বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আমাদের একটিই লক্ষ্য আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। কারণ খালেদা জিয়ার মুক্তি মানে গণতন্ত্রের মুক্তি, খালেদা জিয়ার মুক্তি মানেই স্বাধীনতার মুক্তি। তাই আমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবো ইনশাআল্লাহ।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ নেতাদের সক্রিয় করতে বিএনপিতে নজরদারি


জাতীয় কাউন্সিলের আগ পর্যন্ত সাংগঠনিক কাজে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি মনিটর করছে বিএনপি। বিশেষ করে বিগত নির্বাচনে দলের এমপি প্রার্থী ও মনোনয়নের প্রাথমিক চিঠি পাওয়া নেতাদের সক্রিয়তা-নিষ্ক্রিয়তা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামীতে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বলয়ের সুযোগ না রাখতেই এই পথ বেছে নিয়েছে হাইকমান্ড।

বিএনপির সূত্র মতে, জাতীয় নির্বাচনে অনাকাক্সিক্ষত ফলাফলের পর অধিকাংশ নেতাকর্মী এক ধরনের হতাশা থেকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির টিকিটে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্র্থী, মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং নির্বাহী কমিটির অধিকাংশ নেতাকেই দলীয় কোনো কর্মসূচিতে পাওয়া যায়নি। মানববন্ধনের মতো সাদামাটা কর্মসূচিতে দেখা যায়নি নেতাদের। সম্প্রতি ডেঙ্গু সচেতনতায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে ঢাকার বিএনপির প্রার্থীদের মাঠে থেকে কর্মসূচি সফল করার কথা বলা হলেও হাতেগোনা ২-৩ জনের বেশি প্রার্থীকে কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। সঙ্গত কারণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পরে আছে অসংখ্য পোস্টার, লিফলেট। এর বাইরে আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতির কার্যক্রমেও পাওয়া যাচ্ছে না অনেককেই।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, একযুগ ধরে নির্যাতন, হামলা-মামলার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা আছে। নির্বাচনের পরে তা আরো বেড়েছে। এ সময়ে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এবং ধানের শীষের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা যদি সক্রিয়ভাবে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতো, তাহলে কর্মীদের মধ্যে হতাশা কমিয়ে তাদের চাঙ্গা করা সম্ভব হতো। কিন্তু তাদের নিষ্ক্রিয়তায় দলে চাপ আরো বেড়েছে। এ জন্য সাবাইকে সক্রিয় করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। কাউন্সিল সামনে রেখে সব নেতাকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিগুলোতে কারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এবং কারা নিষ্ক্রিয় আছে তা মনিটরিং করছেন খোদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে জেলা-উপজেলাসহ কেদ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সক্রিয় অংশ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশসহ প্রতিটি কর্মসূচিতে যারা সক্রিয় থাকবেন না তাদের বিষয়ে নতুন করে ভাবারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে দীর্ঘদিন যেসব এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই সেসব জায়গায় নেতৃত্ব পরিবর্তন করা হবে। দলীয় কর্মকাণ্ডে গতি আনতে যোগ্য, ত্যাগী নেতাদের শীর্ষ নেতৃত্বে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিটি কমিটিতে নিষ্ক্রিয়দের বাদ দেয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে ভাবা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড না থাকায় জেলা-উপজেলাসহ প্রায় সব পর্যায়ে একটি তালিকা করা হচ্ছে। এসব স্থানে কারা নিষ্ক্রিয় তাদেরও তালিকা হচ্ছে। যেসব ইউনিটে দীর্ঘদিন কমিটি পুনর্গঠন হচ্ছে না সেগুলো দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সব কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হবে। যাতে দল নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। শুধু মূল দল নয়, অঙ্গসংগঠনগুলোও পুনর্গঠন করা হবে। আর এখনই যেসব সংগঠন পুনর্গঠন করা যাচ্ছে না সেসব স্থানে বিষয়ভিত্তিক কমিটি গঠন করে শূন্যস্থান পূরণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে মহিলা দল থাকা সত্ত্বেও দলীয় নেতাদের নেতৃত্বেই শুক্রবার নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ার লক্ষ্য নিয়ে ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ নামে জাতীয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

সূত্র মতে, নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে সক্রিয়দের নেতৃত্ব আনতে চলতি বছরেই জাতীয় কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ডিসেম্বরে দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার চিন্তা করা হচ্ছে। সে জন্য দ্রুত সাংগঠনিক জেলা শাখা পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কাউন্সিলে গঠনতন্ত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন কমিটিতে উচ্চ পদগুলোতে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতা কাদের আনা যায় তা নিয়েও চলছে গবেষণা।

বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচি ও নিষ্ক্রিয়দের সক্রিয় করার পরিকল্পনার বিষযে দলের একাধিক নেতা জানান, ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে নেতাকর্মীদের দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করতে চাইছে দলের হাইকমান্ড। এ লক্ষ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিভাগের পর বড় জেলাগুলোতে সমাবেশ করা হবে। একই সঙ্গে বিগত আন্দোলনে মামলা-হামলাসহ নানা কারণে যেসব নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সরাসরি সহযোগিতা করা হবে। তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। নিহতের পাশাপাশি আহত ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতারা সারা দেশ সফর করবেন। এসব কর্মসূচি পালনে কোন নেতারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন তাও মনিটরিং করা হবে।

নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা আছে। নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শত প্রতিকূলতা কাটিয়ে নেতাকর্মীরা আবারো উজ্জীবিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আজ স্থায়ী কমিটির বৈঠক : দেশের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৫টায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, তার মুক্তি ও সুচিকিৎসা, ছাত্রদলের কাউন্সিল, বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠন, ডেঙ্গু ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ দেশের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: শুধু সুন্দরবন নয়, প্রতি বছর দেশের ৫০০০ কোটি টাকা ক্ষতি!


বিশেষজ্ঞ মতামত ও সকল জনমতকে উপেক্ষা করেই ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন মারত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে। শুধু সুন্দরবনই ধ্বংস হবে না, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ওই এলাকার কৃষি জমির ওপরও এটার মারাত্ম প্রভাব পড়বে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার ১৮৩০একর ধানী জমি অধিগ্রহণ করেছে। এর ফলে ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের। ফলে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭৫০০ পরিবার। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্রতি বছর হারাতে হবে কয়েক কোটি টাকার কৃষিজ উৎপাদন। এইতো গেল কৃষকের দুর্ভোগের কথা। এবার দেখুন পরিবেশের কি ক্ষতি হবে?

কয়লাভিত্তিক যেকোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অন্য যে কোনো প্রকল্পের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত ভষ্মিভূত কয়লার ছাই এবং উৎপন্ন গ্যাসের ফলে বায়ু ও পানি দূষণের যুগপৎ প্রভাবের কারণে এই ক্ষতি হয়। এ ধরনের প্রকল্প এলাকার আশেপাশের অঞ্চলে এসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যা বৃক্ষ এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে ভয়ানক মাত্রায়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় যে, ২০১০ সালে দেশটির মোট কার্বন ডাই অক্সাইডের ৮১ ভাগ উদগীরণ করেছে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো, যা থেকে মোট শক্তির মাত্র ৪১ ভাগ পাওয়া গেছে। এই সকল বিবেচনায় পৃথিবী ব্যাপি সকল দেশেই কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

সাম্প্রতিককালে এই ধরনের প্রকল্প এড়িয়ে চলার চেষ্টাটাই বেশি চোখে পড়ে। এ ধরনের কয়লাভিত্তিক প্রকল্প প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় ২.২ বিলিয়ন গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। রামপালের প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে মেটানো হবে পশুর নদী থেকে। পশুর নদীর পানি নোনা ও মিঠা জলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রয়োজন মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই নদীটির সাথে ওই গোটা অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্রের সংযোগ রয়েছে। এটি ওই অঞ্চলের জনবসতির ক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। কিন্তু এই প্রকল্প তৈরি করতে গিয়ে সেই নদীর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে ফেলা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে সুন্দরবন ও রামপাল এলাকায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এছাড়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে যে লাভের কথা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং লাভ হলে সেটা যাবে ভারতের পকেটে। আর লস হলে পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র মোটেও কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং ভারতের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে গিয়ে এক সময় রাষ্ট্রের রাজস্ব খাত থেকে টাকা দিয়ে এর ভর্তুকি মিটাতে হবে।

রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি নামে একটি কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ১৫% পি ডি বি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণ নেয়া হবে। যে নীট লাভ হবে সেটা ভাগ করা হবে ৫০% হারে। আর প্রকল্পে যদি লস হয় তাহলে এর পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। ভারতের শুধু লাভের অংশ নেবে, কোনো লস তারা নেবে না।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে পি ডি বি। বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হবে একটা ফর্মুলা অনুসারে। কী সে ফর্মুলা? যদি কয়লার দাম প্রতি টন ১০৫ ডলার হয় তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ এর দাম হবে ৫ টাকা ৯০ পয়সা এবং প্রতি টন ১৪৫ ডলার হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অথচ দেশীয় ওরিয়ন গ্রুপের সাথে মাওয়া, খুলনার লবন চড়া এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে যে তিনটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যে চুক্তি হয়েছে পি ডি বির সাথে সেখানে সরকার মাওয়া থেকে ৪ টাকায় প্রতি ইউনিট এবং আনোয়ারা ও লবন চড়া থেকে ৩টাকা ৮০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

কিন্তু, সরকার ১৪৫ ডলার করে রামপালের জন্য কয়লা আমদানির প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এরফলে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দিয়ে পি ডি বি এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে।

আরও মজার বিষয় হলো-১৪৫ ডলার করে যে কয়লা কিনা হবে সেটাও আনবে ভারত থেকে। বিশ্ববাজারে যে কয়লার দাম কোয়ালিটি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০- ৮০ ডলারের কাছাকাছি। আর ৭০% বিদেশী ব্যাংক থেকে যে ঋণ আনা হবে, ওই ঋনের সমস্ত সুদ বহন করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ঋণের টাকাও নাকি নেয়া হবে তাদের কাছ থেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যদি ২০ ঘণ্টা করে ৩০ বছর চালু থাকে এবং ইউনিট প্রতি ৪.৮৫ টাকা আর্থিক ক্ষতি ধরা হয় কেবল তাহলেই অঙ্কটা দাঁড়াবে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা! এ হিসাবে প্রতি বছল বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশের স্বার্থে নয়, শুধু ভারতকে খুশি করতেই শেখ হাসিনা দেশের এমন সর্বনাশী পরিকল্পনা করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ যারা হিন্দুদের শত্রু তারা বাংলাদেশ ও জাতির শত্রুঃ ওবায়দুল কাদের


দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রুরা জাতিরও শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রু যারা তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। তারাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানী পলাশীর মোড়ে র‌্যালি মিছিল উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবৃক্ষকে উৎটনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মাইনরিটি বান্ধব সরকার। এ সরকার যতদিন আছে আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় আচার ও উৎবগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এইদিক দিয়ে আপনারা নিরাপদ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যত দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভায়ের কোনো কারণ নেই।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সর্বকালের সেরা সময় পার করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উন্নিত। আমাদের প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন নেই।

এ সময় আগামী অক্টোবরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করবেন বলেন জানান তিনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাব। এ সফরের পর আমাদের কনস্ট্রাকটিভ পার্টনারশিপ আরও নতুন উচ্চতায় উন্নতি হবে এবং আমাদের দেশের বিরাজমান অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পুকুর ও দীঘি পুনঃখননেও বিদেশে প্রশিক্ষণঃ উন্নয়নের নামে ১২৮ কোটি টাকা লোপাট!


বাংলাদেশের অনেক পুকুর, জলাশয় ও দীঘি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে প্রায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে এগুলোর পানি ধারণক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। সরকার এসব পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যাবেন ১৬ জন কর্মকর্তা। এ জন্য মাথাপিছু ব্যয় হবে ৮ লাখ টাকা।

প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, পুকুর পুনঃখননে প্রতি লাখ ঘন মিটারে ব্যয় হবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং দীঘী পুনঃখননে ব্যয় হবে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদশে খাল খননের ওপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করার নজির রয়েছে, সে দেশ থেকে পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশে যাওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। বিদেশী ঋণের এবং জনগণের দেয়া রাজস্বের অর্থ উন্নয়নের নামে অপচয় করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের জন্যই এসব ব্যয়ের খাত তৈরি করা হয়েছে।

সরকারি জরিপের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে পুকুর ও খাল নিয়ে জরিপ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর এলজিইডির পক্ষ থেকে সরেজমিন খাল ও পুকুর যাচাই-বাছাই করে জেলাভিত্তিক তালিকা করা হয়। সারা দেশে মোট ১৪ হাজার ৯১০টি খাস পুকুর, দীঘি, ৩ হাজার ৪৯৩টি প্রাতিষ্ঠানিক এবং ৬ হাজার ৫৩৬টি খাস খাল রয়েছে। এসব পুকুর, খালকে পুনঃখননের মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ করে বহুমুখী কাজে পানি ব্যবহার করা। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বরেন্দ্র অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কম। সেচকাজে মূলত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাই ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের ৪৩টি উপজেলায় পুকুর ও দীঘি পুনঃখননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ৭১৫টি পুকুর ও ১০টি দীঘি পুনঃখনন, ৮৫টি সৌরচালিত লো লিফট পাম্প স্থাপন, ৮০টি ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, ৮৫টি প্রিপেইড মিটার ক্রয়, ৯ হাজার মিটার ফিতা পাইপ ক্রয় এবং দেড় লাখ বৃক্ষ রোপণ অন্তর্ভুক্ত আছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, পুকুর বা দীঘি পুনঃখননের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ করে তিন হাজার হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। এতে করে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ১৮ হাজার ৩৪৮ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন ও মৎস্যচাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বহুমুখী কাজে পুকুরের পানি ব্যবহারের সুযোগ হবে।

ব্যয় বিভাজনে দেখা যায়, এ প্রকল্পে ১৮ জন কর্মকর্তা ও ৮ জন কর্মচারী কাজ করবেন। তাদের বেতন ধরা হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি টাকার বেশি। তাদের ভাতা যাবে সোয়া ৭ কোটি টাকা। এখানে দুই ব্যাচে ১৬ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠানো হবে। যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ফলে জনপ্রতি ব্যয় হবে ৮ লাখ টাকা। এখানে ৭২৫টি পুকুর ও দিঘির জরিপে ব্যয় হবে সাড়ে ৭৩ লাখ টাকা। ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের জন্য ইউপিভিসি পাইপ কেনা হবে এক হাজার মিটারের ৮৫টি, যাতে খরচ ধরা হয়েছে ৬ কোটি টাকা। ফলে প্রতিটি পাইপের মূল্য পড়ছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। আর এই পাইপ প্রতিটি বসাতে ব্যয় হবে ৪ লাখ টাকা। ৮০টি পাইপ বসাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, বর্তমানে চলমান এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের সারা দেশে পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের ২৪ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণ খাতে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। সেখানে তাদের জনপ্রতি ব্যয় ৬ লাখ টাকা। বিদেশে প্রশিক্ষণ, বিদেশ ট্যুর, স্টাডি ট্যুর খাত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পেই থাকতে হবে। আর সেগুলোতে সদস্য তালিকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা কমিশন, তার কার্যক্রম বিভাগ, ইআরডি, আইএমইডির প্রতিনিধি রাখার জন্য মূল্যায়ন কমিটির পক্ষ থেকে সব সময়ই সুপারিশ করা হয়।

এ দিকে, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক মো: আলমগীর কবীরের মতে, বাংলাদেশের মতো একটি নদীমাতৃক দেশে পুকুর বা দিঘি খননের মতো কাজের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণ নেয়া হবে একটা হাস্যকর ঘটনা। একটা স্কুলের ছাত্রও বলতে পারবে কিভাবে পুকুর বা দিঘি খনন করতে হবে। এখানে বিদেশে প্রশিক্ষণের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এটা প্রকল্পের অর্থ তছরুপ এবং লুটপাটের একটা খাত। সরকারি কর্মকর্তা বা আমলাদের মনোরঞ্জনের জন্যই এ ধরনের ব্যয়ের খাত রাখা হয় উন্নয়ন প্রকল্পে। এসবের কোনো যুক্তি নেই।

পুকুর ও দিঘি খননে বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মতে, উন্নয়নের নামে অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এ কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েই চলছে। তিনি বলেন, সরকার যদি এ দিকে নজর না দেয় তাহলে জাতি হিসেবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এসবসহ অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এই সবের মাধ্যমে লুটপাট ও দুর্নীতি হচ্ছে।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ একুশে আগস্টের জন্য বিএনপিকে দায়ী করা হলে পিলখানার দায় আ’লীগের: রিজভী


একুশে আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তিনি বলেছেন, যেকোনো সরকারের আমলে কখনও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনা ঘটে যায়। এর জন্য সে সরকার দায়ী হতে পারে না।

তিনি বলেন, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্য যদি বিএনপি দায়ী হয়, তা হলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য কেন আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী হবে না?

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি সরকারকে জড়িত করে বলেছেন- ‘সেই সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি-জামায়াত জোটের মদদ ছাড়া দিনে-দুপুরে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। ২১ আগস্টের ঘটনায় খালেদা জিয়ার সহযোগিতা থাকলেও তাকে আসামি করা হয়নি। তিনি তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন-তার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ছিল।’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- ‘একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। এ জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়া হবে।’ কেবল প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন, আমরা বিস্মিত হয়েছি যখন দেখেছি দুই-একটি পত্রিকা এবং সরকারি নেতাদের মালিকানাধীন টেলিভিশনে ইনিয়ে-বিনিয়ে বেসামাল ভাষায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য- প্রকৃত ঘটনা এভাবে মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে না।

রিজভী বলেন, জাতীয়তাবাদী নেতাদের বিরুদ্ধে এহেন অলীক অপপ্রচার অতীতেও হয়েছে। নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সাম্রাজ্যবাদীরা ‘অন্ধকুপ হত্যা’র কাহিনি রচনা করেছিল। সমসাময়িক ইতিহাসে এ ঘটনার কোনো উল্লেখ দেখা যায়নি। পরে গবেষণামূলক গ্রন্থেও এই কাহিনির অসত্যতা ও অবাস্তবতা বেরিয়ে এসেছে। এটি তৎকালীন সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠীর মিথ্যা প্রচার বলে প্রমাণিত হয়েছে। দেশে দেশে দখলদার সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী ও তাদের স্থানীয় অনুচররা সবকালে প্রহসন, মিথ্যাচার ও অন্তর্ঘাতকেই হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দেখছি-আওয়ামী লীগ একুশে আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। মূলত ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল গভীর নীলনকশার অংশ, যে নীলনকশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কিনা তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ মামলার সামগ্রিক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসত। কিন্তু তা না করে সুপরিকল্পিত নীলনকশা অনুয়ায়ী এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক কায়দায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করে আসছে আওয়ামী লীগ। তার বড় প্রমাণ হলো- কথিত সম্পূরক চার্জশিটের নামে এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেয়া, যা ছিল সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও দীর্ঘদিনের মাস্টারপ্ল্যানের ফসল।

রিজভী বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। মিসেস আইভি রহমানসহ অনেক নারী-পুরুষের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমরা তখনও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি-এখনও জানাই।

তিনি বলেন, তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সেটির প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্দোলনের ফসল মইনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন সরকারের সময়ও এ মামলার চার্জশিটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ছিল না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাদের একান্ত অনুগত, বিশ্বস্ত ও দলীয় লোক আবদুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয় শুধু বিএনপি নেতাদের বিপদাপন্ন করার জন্য। তার আগেই কাহার আকন্দ পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরে গিয়ে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, এমনকি ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও প্রতিহিংসা পূরণের জন্য তাকে পুলিশ বিভাগে ফের নিয়োগ দিয়ে এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা করা হয় ২০০৯ সালে। দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করে শেখ হাসিনার মনোবাসনা পূরণ করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দেশ্য একটিই- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এ মামলায় ফরমায়েশি রায়ে তাকে সাজা দেয়া। তারেক রহমানসহ বিএনপি সরকারকে জড়িত করার ক্ষমতাসীনদের সুস্পষ্ট নীলনকশা নিয়ে পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই, যা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, ১/১১-এর পর ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। তার হাত-পায়ের নখ পর্যন্ত উৎপাটন করে ফেলা হয়। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানসিক নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেন কাহার আকন্দ, যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুবার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির নজিরও নেই।

পরবর্তী সময়ে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেন এবং তার ওপর বর্বোরচিত নির্যাতনের বিবরণ দেয়। মুফতি হান্নানের ওপর নির্যাতন চালিয়ে তারেক রহমানকে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানোর জন্য পুরস্কারস্বরূপ কাহার আকন্দের বারবার পদোন্নতিসহ চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

একুশে আগস্ট জড়িত থাকলে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশ ছেড়ে পালাতেন এমন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন- খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জড়িত তা হলে এত বড় ঘটনার পর তাদের তো দেশ থেকে সরে যাওয়ার কথা। অপরাধ করলে তারেক রহমান দেশ থেকে সরে যেতেন। কিন্তু তিনি তো দেশ থেকে কোথাও যাননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার যে সংগ্রাম এ সংগ্রাম হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। আজ দেশনেত্রীর পর্বতসম জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণতায় ৫৬১ দিন কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কতিপয় নেতা নির্জলা মিথ্যাচার প্রপাগান্ডায় জনগণকে বিভ্রান্ত করার নিস্ফল চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে সত্য চেপে রাখা যায় না।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে শেখ হাসিনা জোর করে জিততে চান না, ভোট ডাকাতি করে!


আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা জোর করে নির্বাচনে জিততে চান না। জনগণকে খুশি করেই নির্বাচনে জিতেন। রাজধানীতে এক সমাবেশে দলের নেতাকর্মীদেরকে সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়ে এসব কথা বলেন।

কিন্তু, বিগত দিনের সিটি নির্বাচনের দিকে তাকালে দেখা যায়-শেখ হাসিনা শুধু জোর করেননি, নজিরবিহীন ভোটডাকাতির মাধ্যমে সিটি নির্বাচনসহ সব নির্বাচনে দলের প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করেছেন।

২০১৬ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন হানিফের ছেলে সাঈদ খোকন এবং উত্তর সিটিতে প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। আর বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দক্ষিণে মির্জা আব্বাস ও উত্তরে তাবিথ আওয়াল।

সেই নির্বাচনের ভোটের দৃশ্যটা কেমন ছিল? এদেশের জনগণ নিশ্চয় সেদিনের ভয়াবহ ভোট ডাকাতির কথা ভুলে যাননি। সেদিন দলীয় প্রার্থীদেরকে জেতানোর জন্য শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা শুধু ভোট কেন্দ্রই দখল করেনি, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীদের এজেন্টদেরকেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়া সাধারণ ভোটাররাতো সেদিন ভোট কেন্দ্রের কাছেই যেতে পারেনি।

ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, ব্যালট ছিনতাই, সাংবাদিকসহ বিএনপি-জামায়াতের এজেন্টদেরকে মারধর করাসহ এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল যে, বেলা ১১ টার পরই বিএনপির দুই প্রার্থী ভোট বর্জন করতে বাধ্য হন। এরপরও ওবায়দুল কাদের বললেন-তার নেত্রী শেখ হাসিনা নাকি নির্বাচনে জোর করে জিততে চান না। এর চেয়ে নির্লজ্জতা আর কী হতে পারে?

এরপর অনুষ্ঠিত হলো বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, গাজীপুর, রংপুর ও সিলেট সিটি নির্বাচন। এসব নির্বাচনে শেখ হাসিনার গুন্ডা-পান্ডারা প্রায় সব কেন্দ্রই দখল করে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে শুধু বিএনপি নয়, মেয়র পদের প্রায় সব প্রার্থীই ভোট বর্জন করতে বাধ্য হয়েছিল।

এসব ভোট ডাকাতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি বিদেশিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। আর ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের কথাতো না বললেই চলে।

তাই ওবাইদুল কাদেরের এমন উক্তিতে সচেতন মহল বলছেন, ওবায়দুল কাদের নির্লজ্জের মতো অবলিলায় বলে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা নাকি জনগণকে খুশি করে নির্বাচনে জিতে। ওই যে কথায় বলে-চুরের মায়ের বড় গলা। ভোট চুরি করে এখন তারা বড় গলায় কথা বলছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‘ভারত জানে আ.লীগ যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশি’


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ভারত জানে আওয়ামীলীগ যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশি। দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে আজ সন্ধ্যায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি লিখেছেন, গত দশটা বছর ভারতের চাহিদা মতো সবকিছু দিয়েছে ক্ষমতাসীন সরকার। এতবছর ধরে তিস্তার বিষয়ে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ভারত। তাতেই সরকার খুশি।

তিনি আরও লিখেছেন, দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের। নেপাল, শ্রীলংকা মালদ্বীপ থেকে কিছু শিখে না কেন তারা?

সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

গত দশটা বছর ভারতের চাহিদা মতো সবকিছু দিয়েছে সরকার, সবকিছু করেছেও। তারপরও এতবছর ধরে তিস্তার বিষয়ে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে ভারত। এবারও শুধু প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে ভারত। তাতেই সরকার খুশি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী উৎফুল্ল!

এদেরকে বাড়তি কিছু আর দেয়ার দরকার কি তাহলে ভারতের? ভারত জানে এরা আসলে যে কোন ভাবে ক্ষমতায় থাকতে পারলেই খুশী। বাংলাদেশ বা দেশের মানুষ কি পেলো তা নিয়ে কিছু আসে যায় না বর্তমান সরকারের।

ভারত এ সুযোগটা নিচ্ছে অনেক বছর ধরে। তবে আমি এটা বুঝি না, পরাশক্তি হতে চাওয়া একটা দেশ কেন ভাবে না বাংলাদেশের সাধারন মানুষের মনোভাবের কথা? নেপাল, শ্রীলংকা মালদ্বীপ থেকে কিছু শিখে না কেন তারা?

নাকি তারা নিশ্চিত যে কোনদিন এদেশের মানুষ পাবেনা নিজেদের ভোটের নিজেদের সরকার? কোনদিন পাবে না ভারতের প্রতি তাদের ক্ষোভ দেখানোর স্বাধীনতা?

উৎসঃ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে

আরও পড়ুনঃ গরিবের চামড়ায়ও কামড় দিলেন সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান!


কুরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। মুসলমানরা তাদের কুরবানির পশুর চামড়া গরিব, মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এটা আল্লাহ ও তার নবীর নির্দেশ। প্রতিবছর কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরিব, মিসকিন ও এতিমদের আয়ের একটি উৎস। আর দেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস হলো কুরবানির পশুর এই চামড়ার টাকা।

এ বছর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় দেশের বহু মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া নিয়ে এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার শুধু কম দামই নয়, অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গর্ত করে মাটির নিচে চামড়া চাপা দিয়েছে। কেউ কেউ চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে তোলপাড়। গণমাধ্যমগুলোতেও চামড়া পানিতে ফেলে দেয়ার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চামড়ার এই তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে সবাই বলছে এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু এই সিন্ডিকেটে কারা জড়িত? গরিবের চামড়ায় কারা কামড় দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব আসছে না। আর বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্ত, কে এই ব্যক্তি তার নাম বলেনি বিএনপি।

তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে গরিবের চামড়ার পেছনে সেই সেন্ডিকেটের পরিচয়। অনুসন্ধান বলছে, এই সেন্ডিকেটের মুল হোতা শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। যিনি এর আগে দেশের শেয়ারবাজারসহ আরও বিভিন্ন খাতে কালো থাবা দিয়েছেন। যার কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। সেই দরবেশই আবারও উঠেপড়ে লেগেছে দেশের গরিব, মিসকিন ও এতিমদের চামড়া ছিনতাইয়ের কাজে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ট্যানারী ব্যবসায়ী বলেছেন, দরবেশই হলেন নাটেরগুরু। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা মুখে তার নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। এদিকে গরমের কারণে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে সালমান এফ রহমানের এমন মন্তব্যে হাস্যকর বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ​‘শেখ হাসিনা মিথ্যা বলেছেন, বিরোধী মতাবলম্বীদের ওপর বেশি নির্যাতন হচ্ছে’

বিরোধী মত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পুলিশের হেফাজতে ‍নির্যাতন-মৃত্যু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার নিয়ে বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা তো আমার কাছে পরিস্কার যে, এখানে প্রধানমন্ত্রী সত্য কথা বলেননি। আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোতে মানবাধিকারের যে গ্রুপগুলো রয়েছে তাদের যে রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। এমনকি অ্যামিনেস্টি ইন্টান্যাশনাল, হিউম্যান রাইট ওয়াচ’র রিপোর্টে আমরা দেখেছি- প্রতিবছরে এখানে জুডিশিয়াল কাস্টিডিওতে মৃত্যু হয়েছে ৪শ’ থেকে ৭শ’। গতবছর বিশেষ করে ৪শ’ উপরে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে জডিশিয়াল কাস্টিডিও হত্যা হয়েছে।’

‘আর পুলিশ হেফাজতে যে টর্চার-এটা তো কমন ব্যাপার। পত্র-পত্রিকায় ছবিতে এসেছে- ফ্যান সিলিংয়ের সাথে ঝু্লিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের অনেক নেত-কর্মী আছেন যাদের পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে। এটা ছবিতে চলে এসেছে। এগুলোতে আপনারা সবাই জানেন, পত্র-পত্রিকায় এসেছে। সুতরাং উনি (প্রধানমন্ত্রী) অবলীলায় অস্বীকার করলেন- এটা( হেফাজতে মৃত্যু) হয় না। আমরা মনে হয় এটা সঠিক নয় তো বটেই, এটা সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছুই না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রকৃত যে চিত্র নির্যাতন বাংলাদেশে নির্যাতন সরকারিভাবেই চলছে এবং সরকার বিরোধী মত ও যারা ভিন্নমত পোষন করে তাদের উপরে অত্যাচার-নির্যাতন আরও বেশি করে চালাচ্ছে। আপনারা দেখেছেন যে, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শিল্পী শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করে অত্যাচার করা হয়েছে এবং কাস্টিডিওতে নেয়ার পরে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার সাথে নির্মম আচরণ করা হয়েছে।’

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার মতো বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারছে না- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার যখন মনে করে চাপ সৃষ্টি করা ছাড়া তারা কোনো ন্যায়ের কাজ করবে না। তখন তো ওইটা ডিফিকাল্ট হয়ে যায়। ইট ইজ এ রেসপনসিবিলিটিজ দ্যা গর্ভমেন্ট, তাকে ডেঙ্গুর কাজ করতে হবে, বন্যা পরবর্তী কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি করতে হবে। আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

সর্বক্ষেত্রে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, তাহলে আপনার সরকারই উস্কানি দিচ্ছে ভিন্নপথে যাওয়ার। যেটা আমরা মনে করি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য কখনোই ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

সরকারি দল বলছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার মতো আন্দোলন বিএনপি পারছে না- এরকম প্রশ্নের মহাসচিব বলেন, ‘বিষয়গুলো আপেক্ষিক না। ফ্যাসিস্ট সরকার যখন থাকে তখন সেই মুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন কী জ্বালাও-পোঁড়াও করে সব পুঁড়িয়ে দিতে হবে নাকি? এই ধরনের চিন্তা-ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে আছে যা এটা তারা চাচ্ছে।’

আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়মের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করছি। জনগণ যদি মনে করে যে, তারা অন্যভাবে দেখবেন- সেটা জনগণের ব্যাপার বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here