খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে মাঠে বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল

0
133

কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি এই মুহূর্তে বিএনপির এক নম্বর এজেন্ডা। এই দাবিতে বিএনপির সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্টের সাথে বিএনপির কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হলেও, খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সোচ্চার হওয়ায় উভয়ের সম্পর্কে সুবাতাস বইছে। এর ফলে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামতে চাওয়া বিএনপির তৃণমূলেও একধরনের সন্তোষজনক অবস্থান লক্ষ করা গেছে।

বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে গত রোববার রাজধানীতে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। এই কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের পাশাপাশি ঐক্যফ্রন্টের নেতারাও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্য ছিল অনেক বেশি জোরালো। বিশেষ করে ঐক্যফ্রন্টের বন্ধন অটুট রাখার পাশাপাশি বেগম জিয়ার মুক্তি দাবি নিয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে তাদের দেয়া বক্তব্য নেতাকর্মীদের উদ্দীপ্ত করেছে।

ওই অনুষ্ঠানে ঐক্যফ্রন্টের গুরুত্বপূর্ণ তিন নেতার মধ্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, স্লেøাগান দিলে খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন না। তাকে মুক্ত করতে হলে সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়তে হবে। এখন এক লাখ কর্মী জেলে আছে, ৫০ লাখ কর্মীর নামে মামলা আছে। দরকার হলে আরো ৫০ লাখ আমরা কারাগারে যেতে রাজি আছি, এমন প্রত্যয় থাকলে খালেদা জিয়া মুক্ত হতে পারবেন। আমি এখনই আপনাদের সাথে রাস্তায় নামতে রাজি আছি, আপনারা রাস্তায় নামবেন কি না বলেন।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, গণতন্ত্র, বেগম খালেদা জিয়া এবং ন্যায়বিচার এক হয়ে গেছে। আজকেই যদি নির্বাচন হয়, আমি তো বলতে পারিÑ বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যদি শেখ হাসিনা একটা গণভোটে আসেন, তাহলে শেখ হাসিনা পাঁচ পার্সেন্ট ভোটও পাবেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া অতি শিগগিরই মুক্তি পাবেন, তাকে জনতার আদালত মুক্তি দেবে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, যে দিন বেগম জিয়া বেরুবেন, সে দিন ঢাকা মহানগরে মানুষের ঢল নামবে।

জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্ট থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি উঠছে না, বিএনপির বিভিন্ন স্তরে এমন আলোচনাকে আমলে নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। যার ফলে ফ্রন্টের গত ২৯ মার্চের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনার বিষয় ঠিক করতে গিয়ে প্রথমে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। ওই বৈঠকে নেতারা এ-ও বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে আগামী দিনে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে হবে। আর সেটি করতে হবে ফ্রন্টের মূল দল বিএনপির দেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে ধারণ করেই। এ কারণে কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিকেও তারা এখন থেকে আরো বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরবেন।

জানা গেছে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাওয়াকে ধারণ করে খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুর পাশাপাশি পুনর্নির্বাচনের দাবিতে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট। রমজানের আগে বিভাগপর্যায়ে মতবিনিময় কিংবা গণশুনানির মতো একাধিক কর্মসূচি নেয়া হতে পারে। এ ছাড়া ৩০ ডিসেম্বরের ভোটের অনিয়ম নিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি যে গণশুনানি করেছে ঐক্যফ্রন্ট, তা শিগগিরই বই আকারে বের করা হবে। ওই শুনানিতে বিচারকের দায়িত্বে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও মূল্যায়ন ছাপা হবে বইয়ে। ভোট ডাকাতির সচিত্র বর্ণনাসংবলিত ওই বই বিভিন্ন দূতাবাসে দেয়া হবে। একই সাথে পাঠানো হবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কাছেও।

আলাপকালে দলের এক সিনিয়র নেতা বলেছেন, বিএনপির ঐক্য অটুট রয়েছে। তবে এক যুগ ক্ষমতার বাইরে থাকার পাশাপাশি শীর্ষনেত্রী কারাগারে থাকায় নেতকর্মীদের মধ্যে অভিযোগ-অনুযোগ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রেখেই খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একদফা দাবি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এই আন্দোলন মূলত রমজানের পরেই শুরু হবে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্ত করাই আমাদের এক নম্বর এজেন্ডা। আইনি লড়াই চলছে। রাজপথেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নামতে হবে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ গোয়েন্দা জালে ধরা পড়লো সিলেটের ইয়াবা সম্রাজ্ঞী লাবনি ও রুমি


সিলেটের ইয়াবা সম্রাজ্ঞী লাবনি ও রুমির ইয়াবার কারবার ধরা পড়লো গোয়েন্দা জালে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সিলেটে ইয়াবা বিক্রি করছিল তারা। এর মধ্যে লাবনি আক্তার নদী ফেরি করে ইয়াবা বিক্রি করতো। আর রুমি আক্তার শহরতলির বালুচরে নিজ বাসাতেই ব্যবসা করতো। তাদের কাস্টমার ছিল যুবকরা। ফোন দিলেই তারা পৌঁছে দিতো ইয়াবা। এমনকি বেশ কয়েকটি অপরাধ আস্তানায়ও তারা ইয়াবা পৌঁছে দিতো। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারা ইয়াবা বিক্রির কথা স্বীকার করেছে।

লাবনী আক্তার নদী। বয়স ২২ কিংবা ২৩ বছর। এরই মধ্যে ইয়াবা ব্যবসায় সিলেটে পটু সে। বসবাস করে শাহপরাণ এলাকার উত্তর বালুচরের ব্লক-এ এর ৪৬ নম্বর বাসায়। তার মূল বাড়ি কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার বাদলা গ্রামে। তার পিতা আব্দুল জব্বার।

লাবনী আক্তার নদী সিলেটের ইয়াবার হাটে পরিচিত নাম। বোরকা পরা ওই তরুণী ফেরি করে ইয়াবা বিক্রি করে। যাতায়াত রয়েছে অপরাধ আস্তানাগুলোতে। সেসব এলাকায় সে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেয়। গতকাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তথ্য আসে লাবনীর অবস্থানের। এ সময় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি সুদীপ দাশের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। স্পট ছিল নগরীর উপ-শহরের স্প্রিন টাওয়ারের পাশের খেলার মাঠের রাস্তায়। পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে লাবনী আক্তার নদীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় নদীর কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারের পর সে নিজেকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে স্বীকার করে। দীর্ঘদিন নগরীতে ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে জানায়।

জিজ্ঞাসাবাদে লাবনী আরেক সহযোগীর নাম বলে। তার সহযোগী হচ্ছে আরেক নারী। নাম রুমি বেগম। সে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের জিয়া উদ্দিনের স্ত্রী। রুমি বেগম দীর্ঘদিন উত্তর বালুচর এলাকার মছব্বির চেয়ারম্যানের বাসায় ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছে। তার সন্ধান পাওয়ার পর পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে রুমি বেগমকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তারা রুমির কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা জব্দ করে। গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, রুমি আক্তারের নির্দেশনায় চলতো লাবনী। রুমি তার সহযোগী লাবনীকে ইয়াবা দিয়ে ফেরি করে বেড়াতো। অর্ডার পেয়ে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার কাছে তারা ইয়াবা পাঠাতো।

এদিকে, ইয়াবা বিক্রেতা লাবনী ও রুমি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের ইয়াবা বিক্রির সহযোগীরা গা ঢাকা দিয়েছে। তবে, পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার দুই জন আরো কয়েকজনের নাম বলেছে। পুলিশ ওই তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করছে। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুছা জানিয়েছেন, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর বালুচরস্থ মছব্বির চেয়াম্যানের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করে সিলেট শহরের বিভিন্ন স্থানে মাদকসেবীদের কাছে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল। আটক মাদক ব্যবসায়ীদের আসামি করে এসআই সারোয়ার হোসেন ভূইয়া শাহপরাণ (রহ.) থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় মসজিদের ইমামকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন


মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদে এক মসজিদের ইমাম’র উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইমামকে প্রকাশ্যে-রাতভর মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারীরা।

৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ টেকপাড়া গ্রামে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত হাফেজ মাওলানা আবদুর রশিদ একই ইউনিয়নের টেকপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ’র ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক ও চিহ্নিত মাদক কারবারী নুরুচ্ছবি এবং জাফর আলম ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন জানিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছে। হামলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে মামলার প্রস্তুতি ও বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা দেন হেফাজত ইসলামী বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইয়াছিন হাবিব।

৯ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেফাজত ইসলামী বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা। সংবাদ সম্মেলনে আহত হাফেজ মাওলানা আবদুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন-মাদক ব্যবসা ও সেবনের কুফল সম্পর্কে মসজিদে আলেমদের সচেতনতামুলক বক্তব্য দিতে অনুরোধ জানান প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশনা মতে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে আলোচনা করেন ইমাম মাওলানা আবদুর রশিদ। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা ইমামের উপর নির্যাতন চালায়। এলাকার মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের সামনে একজন আলেমকে চরম অপমানিত করে। তাতে পুরো এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠে।

ভিকটিম হাফেজ আবদুর রশিদ জানান, মাদকের কারণে এলাকার করুণ অবস্থা। ছোট বড় সব বয়সের মানুষ ভয়ানক পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই নামাজ শেষে ও বিভিন্ন আলোচনায় মাদকের কুফল তুলে ধরেন তিনি। তাতে মাদক কারবারীরা নাখোশ। আবার অনেকেই মাদক ব্যবসা ও সেবন থেকে ফিরে এসেছে। ইতিপুর্বে আমাকে মাদকের বিরুদ্ধে বক্তব্য না দিতে বিভিন্ন সময় হুমকিও দেয়। অবশেষে ৭ এপ্রিল রাতে আমাকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে প্রথমে নুরুচ্ছবির বাড়িতে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেধে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক এর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানসহ ভোর ৪ টা পর্যন্ত নির্যাতন চালায়। হামলার সময় ইমামের ৬ সন্তান ও স্ত্রী গেলেও তাদের সামনে আরো মারতে থাকে। এ হামলা দেখে ইমামের বড় মেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে সকালে স্থানীয় মেম্বার আবদুর রাজ্জাক খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈদগাঁওর’র একটি বেসরকারী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভিকটিম হাফেজ মাওলানা আবদুর রশিদ আরো বলেন-হামলার দিন রাত সাড়ে ১০ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত হাত-পা বেধে হামলা চালিয়ে তা ভিডিও ধারন করে চেয়ারম্যান পুত্র ইমরুল কায়েস তার ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এ ঘটনা জানাজানি হলে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরে চেয়ারম্যান আমার থেকে খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় ও এ কথা কাউকে না বলতে হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেয়।

হেফাজত নেতা মাওলানা ইয়াছিন হাবিব বলেন-নির্যাতনকারী ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক ও তার লালিত সন্ত্রাসী নুরুচ্ছবি, জাফর আলমকে আগামি ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর র্সবস্তরের জনগণ ও আলেম-উলামাকে নিয়ে আন্দোলন করা হবে। তিনি আরো বলেন-জাতীয় গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে সরকারের সহযোগি হিসেবে কাজ করছে আলেম সমাজ। এর অংশ হিসেবে সর্বনাশা মাদকের বিরুদ্ধে মুসল্লিদেরকে সচেতন করছিলেন ভিকটিম মাওলানা আবদুর রশিদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগি চেয়ারম্যান উক্ত ন্যাক্কারজনক কাণ্ড- ঘটায়।

তিনি আরো বলেন-মাদক, মদ, জুয়া-বেহায়পনার বিরুদ্ধে মসজিদে বক্তব্য দেয়ার কারনে এভাবে হামলার শিকার হতে হয় তাহলে আর কোথায় যাবো আমরা। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন-অবশ্যই এই বিতর্কিত চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক ও তার লালিত সন্ত্রাসী নুরুচ্ছবি এবং জাফর আলমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় কক্সবাজারে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে। তিনি আরো বলেন-অভিযুক্ত চেয়ারম্যান একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী তাই মসজিদে সামাজিক আন্দোলন স্বরূপ ইমাম সাহেব নামাজ শেষে মাদকের বিরুদ্ধে বয়ান করেন। সেই মাদক বিরোধী বয়ান উক্ত চেয়ারম্যান সহ্য না করতে পেরে এ ন্যাক্করজনক হামলা চালিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন-হেফাজত ইসলামী বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কেফায়েত উল্লাহ, সদস্য মাওলানা আখতার কামাল, হাফেজ মো: শাহজাহান ও আহত ইমাম আব্দুর রশিদের শাশুড় হাজী ফজল করিমসহ অসখ্য হেফাজত নেতা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌কক্সবাজার নিউজ

আরও পড়ুনঃ ভিজিডি চাল আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আটক


দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি চাল আত্মসাতের অভিযোগে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ৩নং আলীহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম রসূল বাবুকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলীহাট ইউনিয়নের মনসাপুর বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।

হাকিমপুর থানার কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুর রাফিউল আলম জানান, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রসুল খাদ্যগুদাম থেকে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের ৬৯৮ জন ভিজিডি কার্ড ভোগীর চাল উত্তোলন করেন।

কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গলবার শুধু জানুয়ারি মাসের চাল বিতরণ করেন। এ বিষয়ে এলাকায় অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রীতা লস্কর গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

অভিযোগ পেয়ে কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পুলিশ রাত ৮টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ফেব্রুয়ারি মাসের চালের কোনো হদিস দিতে পারেননি তিনি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কার্যতালিকায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুলের আপিল


কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল আবেদন বুধবার (১০ এপ্রিল) শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।

ওই দুই আবেদন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় যথাক্রমে ১ ও ২ নম্বরে রাখা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে আসামিদের আবেদনের ওপর শুনানির জন্য রাখা হয়েছে।

এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৮ মার্চ মীর কাসেম আলীর আপিলের রায় ঘোষণার পর ২০১৭ সালের ১২ আগস্ট থেকে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আজহারুল ও কায়সারের আবেদন দুটি শুনানির জন্য ওঠে। তবে কার্যতালিকার অনেক পেছনে থাকায় আবেদন দুটির ওপর শুনানি সম্ভব হয়নি।

এটিএম আজহারুল ইসলাম খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলে তার খালাসের পক্ষে যুক্তি রয়েছে প্রায় ১১৩টি। মূল আপিল আবেদনে ৯০ পৃষ্ঠার সঙ্গে ১১৩টি গ্রাউন্ডসহ মোট দুই হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠার আবেদন জমা দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পাশাপাশি তাকে বেকসুর খালাস দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল করা হয়। সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এই আপিল করেছেন।

এ মামলার শুনানি করবেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। আপিলে খালাসের আরজিতে ৫৬টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত রয়েছে।

২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত কায়সারকে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ইয়াবা বিক্রির সময় ভোলার ছাত্রলীগ সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ শাহীনকে গ্রেফতার


ভোলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ শাহীনকে ইয়াবা বিক্রির সময় গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ৮নং পৌর এলাকার ওসমানিয়া জামে মসজিদের পূর্ব পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহামুদ সাংবাদিকদের জানান, মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা শাখার ওসি মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযানে গিয়ে মোস্তাক শাহীনকে ইয়াবা বিক্রির সময় গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মাদ্রকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডিবির ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, তারা গত কয়েক দিন ধরেই শাহীনের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলেন। কয়েক দিন ধরেই তিনি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত। সকালে শাহীন একটি জানাজায় অংশ নেয়ার পর ফের মাদক বিক্রির জন্য গ্রাহকের কাছে ছুটে যান। এ সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের ভোট বিশ্বাস করে না: নজরুল ইসলাম খান


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশের জনগণ ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকে বিশ্বাস করে না। প্রহসনের ওই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। যার প্রভাব আগামীতে আরও স্পষ্ট হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রমিক দলের উদ্যোগে সংগঠনের প্রয়াত কাযর্করী সভাপতি আবদুল কাশেম চৌধুরী, মহানগরের সাবেক সভাপতি শহীদুল ইসলাম চৌধুরী দুলাল ও রেল শ্রমিক দলের মোহাম্মদ উল্লাহ ভুঁইয়ার স্মরণে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বন্দি খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেও যদি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতো তাহলেও এই সরকারের বিজয়ের কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এটা বুঝতে পেরে তারা ২৯ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ভোটের বাক্স ভরে ফেলেছে। নির্বাচনের দিনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে অনিয়মের ভোট করেছে এই সরকার। ভোটারদেরকে ভোট দেয়া থেকে বিরত রেখে পুরো নির্বাচন পদ্ধতির উপর তাদের অনীহা সৃষ্টি করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেয়ার চক্রান্ত।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র বন্দি। গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। আমরা চাই-সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। এটা তার প্রাপ্য।

স্মরণসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানালেন মির্জা ফখরুলের ভাই


শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন।

সোমবার শহরের স্বর্ণকার পট্টি থেকে মির্জা পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত পৌনে দুই কিলোমিটার রাস্তার পুনঃপাকাকরণ কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

ফয়সল আমীন বলেন, পৌরসভার মেয়র হওয়ার পর নানাভাবে চেষ্টা করে তিন বছরে এলাকার জনগণের জন্য তেমন কিছু করতে পারেননি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনা ঠাকুগাঁওয়ে গেলে তার কাছে উন্নয়নের দাবিগুলো তুলে ধরা হয়েছিল, তারই ফল আসতে শুরু করেছে এখন।

তিনি বলেন, আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি শেখ হাসিনাকে। তিনি পৌরসভার সে দাবিগুলো মেনে নিয়েছেন এবং বক্তব্যের সময় শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার স্বর্ণকার পট্টি থেকে মির্জা পাম্প পর্যন্ত পৌনে দুই কিলোমিটার রাস্তা পুনঃপাকাকরণে বরাদ্দ আসে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকার আশা প্রকাশ করে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, আজকে আমি মেয়র আছি, আগামীতে নতুন মেয়র আসবে। কিন্তু রাস্তাঘাট, এলাকার জনগণ থেকে যাবে। এখানে দল বড় কথা নয়, এখানে উন্নয়নটা-এলাকার লোকের স্বার্থটাই সবচেয়ে বড় জিনিস।

বিরোধী দলের নেতা মেয়র হওয়ায় ‘দুর্ভাগ্য’ হিসেবে বর্ণনা করে ফয়সল আমীন বলেন, পৌরসভার উন্নয়নের জন্য ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে ঢাকায় তার বাসায় দেখা করেছি। উনার কাছ থেকে ডিও লেটার নিয়েছি, কাজের জন্য তদবির করেছি। সংসদ সদস্য রমেশ নিজেই এ বিষয়ে বহুবার সহযোগিতা করেছে। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, আমি বিরোধী দলের মেয়র হিসেবে গত তিন বছরে কোনো উন্নয়ন কাজ করতে পারিনি। আমার দুর্ভাগ্যের সাথে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫৬ হাজার ভোটার ও বসবাসরত সকল মানুষের ভাগ্য জড়িত ছিল।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে শেখ হাসিনা আসার পূর্বে আমরা সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুহা. সাদেক কুরাইশীর কাছে গিয়েছিলাম এবং তাদেরকে বলেছি পৌরসভার কিছু উন্নয়নের কাজ রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ঠাকুরগাঁওয়ে আসবেন তখন অনেক দাবির সঙ্গে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো তুলে ধরবেন। সে দাবিগুলো বড় মাঠের বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট তুলে ধরা হয়েছিল।

শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ হওয়ায় এখন ঠাকুরগাঁও পৌরসভার উন্নয়নের কর্মকাণ্ড দৃশ্যমান হয়েছে মন্তব্য করে ফয়সল আমীন বলেন, এই উন্নয়ন হবে এই প্রত্যাশা আমি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে করব। এখানে জনমত বিষয় নয়, এখানে জনগণ সবচেয়ে অগ্রাধিকার যোগ্য, এখানে জনগণের কষ্টের কথা ভেবে পৌরসভার জন্য কিছু কাজ করুন।

পৌরসভার উন্নয়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন আপনি আপনার সর্বশক্তি প্রয়োগ করুন এ প্রকল্পটি যেন আমরা পাই। এটি পেলে আমরা ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কাজগুলো করতে পারব।

সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেনের প্রশংসা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনের সৎ ইচ্ছা রয়েছে; আমরা যতবার উনার কাছে গিয়েছি উনি বলেছেন, করে দিব। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য কারণে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। যে কাজ আজকে এখানে উদ্বোধন হয়েছে এ কাজ সাংসদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছিল এবং সেই সাথে ছিল আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস। এই প্রয়াসে আজ কিছু টাকা এই প্রকল্পের আওতায় আমরা পেয়েছি; যার মধ্য সবচেয়ে জরুরি কিছু রাস্তাঘাট স্কিম আকারে আমরা হাতে নিয়েছি।

গত তিন বছর ভোগান্তির জন্য এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, আমি আশা করছি, আমাদের সুযোগ্য নেতা আমাদের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের হস্তক্ষেপে শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত যে প্রজেক্টগুলো আছে সেগুলো আগামীতে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার জন্য বাস্তবায়ন হবে।

সড়ক পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন।

পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর মেয়র ফয়সল আমীনের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা মডেল পৌরসভা হবে, সদর উপজেলা মডেল উপজেলা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহা. সাদেক কুরাইশী, ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, জেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুল মজিদ আপেল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তাহমিনা আক্তার মোল্লাকে ভোটে হারিয়ে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র হন ফয়সল আমীন। পরের বছর বিএনপির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে হিন্দি গানের তালে ছাত্রীদের নৃত্য(ভিডিও সহ)!


ঘড়ির কাঁটায় রাত সাড়ে ৭টা। বিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীর জটলা। স্কুলের একটি বন্ধ কক্ষ থেকে ভেসে আসছে হিন্দি ও বাংলা গানের শব্দ। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে একের পর এক নৃত্য পরিবেশন করছে ছাত্রীরা।

সোমবার রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটছে এমন ঘটনা।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে রাত্রিযাপন করা পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে ছাত্রীদের নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের রাতের এমন আয়োজনে ক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ সচেতন এলাকাবাসী।

ভিডিওঃ  ‘ শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে হিন্দি গানের তালে ছাত্রীদের নৃত্য(ভিডিও সহ)!’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রধান শিক্ষকদের ত্রৈমাসিক সভা ও দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সততা সংঘের সভায় অংশ নিতে আসেন পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন।

নৈশভোজসহ রাত্রিযাপনের জন্য তিনি উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের মৌডুবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যান। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় নাচগানের।

প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি ছাত্র-ছাত্রীদের তাৎক্ষণিকভাবে খবর দিয়ে নিয়ে আসেন। একটি কক্ষে প্রবেশ করিয়ে ওই কর্মকর্তাকে খুশি করতে নৃত্য পরিবেশনের আয়োজন করা হয়।

এসময় ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইনসহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন ও প্রস্তাবিত মৌডুবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম টুকু।

আয়োজনে অংশ নেওয়া কয়েকজন ছাত্রী ও অভিভাবক জানান, সোমবার রাতে বিদ্যালয়ের আশপাশের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষকেরা জরুরি খবর দেয়। খবর পেয়ে অন্তত ৩০ জন ছাত্রী ও ২০ জন ছাত্র বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে নৃত্যের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় চিত্রশিল্পী শাহ আলম বলেন, “অফিসারকে খুশি করতে এভাবে রাতে ছাত্রীদের দিয়ে নাচগান করানো ঠিক হয়নি। এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার আসছেন। তাই কয়েকটা ছেলেমেয়ে গানটান গাইছে। তাও বাইরেও না, একটা রুমের মধ্যে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, “নতুন একটা মাদ্রাসা পরিদর্শনে শেষে রাতে মৌডুবি স্কুলে অবস্থান করেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের স্কুলের ছেলে-মেয়েরা নাচ ও গান শোনাবে বলেছে।”

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। প্রতিবেদকের কাছে এ ঘটনার ভিডিও সংরক্ষিত আছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, “ওখানকার স্থানীয় বাচ্চারা নিজেরা একটু করছে। কোনো সমস্যা আছে? রাতের বেলায় স্কুলে কক্ষের মধ্যে হলে সমস্যা কী? বেআইনি কিছু হয়েছে কিনা?”

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “আয়োজন আমি করিনি। এটা প্রতিষ্ঠান করছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন। আমি ছেলে-পেলেদের দু-একটা উপদেশ বাণী দিয়েছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক ওই আয়োজন বন্ধের জন্য বলেছি, সে অনুযায়ী আয়োজনটি বন্ধ করা হয়। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবো।”

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ তারেক রহমানকে ফেরত দিতে যুক্তরাজ্যকে চিঠি


সরকারের কথিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ তিন মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিষয়টি তাদের এখতিয়ারে নেই। এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়।

আর বিএনপির অভিযোগ, তারেক রহমানকে ফেরত চেয়ে আবেদন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর সাজা কার্যকরের কথা বলে আসছেন। এরই মধ্যে তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাজ্যের কাছে আবেদন করা হলো।

এই বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা তাঁকে (তারেক রহমান) ফেরত চেয়েছি। আমরা ব্রিটিশ সরকারকে জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে রায় হয়েছে। তাঁর অপরাধের ব্যাপ্তি, অপরাধের প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি যে কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন সেই তথ্য, আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আমরা যুক্তরাজ্য সরকারকে জানিয়েছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

সরকারের ওই আবেদনের প্রাথমিক জবাবও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা। ওই আবেদনের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে। দুই দেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

তবে শাহরিয়ার আলম বলেছেন, চুক্তি না থাকার বিষয়টি এই ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। এটা বলে দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি না থাকলেও বিভিন্ন দেশের বন্দীকে আমরা ফেরত দিয়েছি। চুক্তি নেই এমন বেশ কিছু কাজে যুক্তরাজ্যকে আমরা সহযোগিতাও করি। তবে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে এই রকম চুক্তি যদি বাধা হয়, আমরা চুক্তি করব।’

এই বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের (সরকার) যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তা বিএনপির ওপর, বিএনপির নেতৃত্বের ওপর, বিশেষ করে জিয়া পরিবারের ওপর চরিতার্থ করতেই এই পদক্ষেপ। তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। এখন যদি তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য আবেদন করা হয়, তাহলে সেটি অমানবিক বিষয়।

তারেক রহমানকে ফেরত আনার প্রক্রিয়ার বিষয়ে লন্ডনে অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ ইকবাল বলেছেন, এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। এটি আইনগত বিষয়। তিনি বলেন, কাউকে ফেরত নিতে হলে যুক্তরাজ্যের ২০০৩ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে হবে তথ্যপ্রমাণসহ। ওই দপ্তর আবেদনটি আদালতে পাঠাবে। আদালত আবেদনের তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। এটা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যেতে পারে।

এই বিষয়ে জানতে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানের আইনজীবী এ কে এম কামারুজ্জামান বলেন, তারেক রহমানকে ফেরত চাওয়া রাজনৈতিক ব্যাপার। রাজনৈতিকভাবে সরকার ফেরত চাইতে পারে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে ব্রিটিশ আদালতে শুনানি হলে সেখানে সবোর্চ্চভাবে মোকাবিলা করা হবে। তবে সেটা অনেক দূরের কথা। আদৌ এটা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ বাকশাল কায়েম করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী সরকার : মির্জা ফখরুল


বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সোমবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ দেশকে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ আজ অধিকারহারা, তাদের মৌলিক মানবাধিকারগুলো ধুলায় লুটিয়ে দেয়া হয়েছে। দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। চোখের সামনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে কেউ যাতে সাহসী না হয় সেজন্য ক্ষমতাসীন সরকার হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের তৎপরতা সীমাহীন মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার মানুষের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে উপেক্ষা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে বিরোধী দল ও মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিরামহীন গতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরির মাধ্যমে মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভুয়া, বানোয়াট ও সাজানো মামলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ বর্তমান গণধিকৃত সরকারের ধারাবাহিক দমন নীতির অংশ। এটি গণবিরোধী সরকারের চলমান দমন পীড়ন, মধ্যরাতের নির্বাচনের পরও শেষ হয়নি, বরং আরো তীব্র গতিতে চলছে।

তিনি বলেন, সকল অপকর্ম ও দুঃশাসনের জন্য বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করার সময় অত্যন্ত সন্নিকটে। জনগণ আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসত্য মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবিতে ‘এক হয়ে’ মাঠে নামছে ২০ দল-ঐক্যফ্রন্ট


জোটনেত্রী বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবিতে ২০ দলীয় জোট নিজ নিজ দলের অবস্থানে থেকে আন্দোলনে যাবে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান।

একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পাশাপাশি আন্দোলন করবে। এখানে কোনও বিভেদ নেই।

সোমবার (৮ এপ্রিল) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। রাত পৌনে ৯টায় দিকে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় ৯টা ৫০ মিনিটে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সুচিকিৎসার স্বার্থে অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপাসরসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানিয়েছে ২০ দল। জোটনেত্রীর মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ দলের হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। ২০ দলের ব্যানারেও কর্মসূচি পালন করবে।’

তিনি বলেন, ‘২০ দল গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলে মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল পাশাপাশি আন্দোলন করবে।’

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য সরকারকে বাংলাদেশ সরকারের চিঠি প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। তা যুক্তরাজ্য সরকারের আজানা নয়। অতীতেও এ ধরনের চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে গুলশানে ২০ দলের বৈঠকে অংশ নেন- ২০ দলের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইররাহিম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, খেলাফত মসলিসের আহম্মদ আবদুল কাদের পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মুনি, বাংলাদেশ মুলীম লীগ শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ ও জাতীয় দলের এহসানুল হুদা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে হাবিব উন নবী খান সোহেলকে


বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে কারাগারে ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীয় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবন্দী আছেন হাবিব উন নবী খান সোহেল। জজকোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও তাকে বিভিন্ন থানার গায়েবি, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে আটকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, এটি বর্তমান অমানবিক, নির্দয় ও নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী সরকারের আরেকটি আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তার ডায়াবেটিস ২৫ এর ওপরে। প্রচণ্ড অসুস্থ অবস্থায় তিনি কাতরাচ্ছেন।

এর ওপর তাকে ফাঁসির সেলে রাখা শুধু অমানবিকই নয়, তার মানবাধিকার হরণ করার শামিল। এসময় তিনি অবিলম্বে হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে হাবিব উন নবী খান সোহেলকে। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় একাধিক কারাগারে বন্দী জীবন কাটছে এই বিএনপি নেতার।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‘প্যারোল’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিলেন শামসুজ্জামান দুদু


বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে যদি প্যারোলে মুক্তির কাগজপত্র দেয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আপনার সরকার যদি পদত্যাগপত্র দেয়, আমরা ভেবে দেখব আপনাদের শাস্তি জেলে হবে না জেলের বাহিরে হবে।’

সোমবার (৮ এ‌প্রিল) জাতীয় প্রেসক্লা‌বে ‘গণতন্ত্র: আজ‌কের বাংলা‌দেশ’ শীর্ষক আ‌লোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন। জাতীয়তাব‌াদী চালক দ‌লের উ‌দ্যো‌গে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এক সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিল কিন্তু এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে এটা দাবি করা যাবে না। দেশে এখন গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা ছাত্র রাজনীতি করেন তারা জানেন গণতন্ত্রের কিছু শর্ত থাকে। তার মধ্যে একটি শর্ত হলো জনগণের ভোটের অধিকার সে অধিকারটা কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনকে গোপাল ভাঁড় এর সাথে তুলনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আছে কিন্তু সেই কমিশনে বসে আছে গোপাল ভাড়।’

সরকারের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘প্রশাসনের এতো খারাপ ন্যাক্কারজনক ঘটনা গত ৪৭ বছরে আমরা লক্ষ্য করিনি। প্রশাসন ডিসি-এসপি-ইউএনও মিলে রাতে ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে নির্বাচনে সেন্টারে যেতে নিষেধ করে এবং রাত্রেই ভোট শেষ করে দেয় আর নির্বাচন কমিশন বলে ইভিএম থাকলে রাতে নির্বাচন হতো না, দিনে হতো। এটা মানুষ নাকি জানোয়ার ঠিক বুঝতে পারি না।’

দুদু বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ স্বৈরতন্ত্র একসাথে চালাতে চাচ্ছে। অনেক আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন- ১ কেজি বেগুনে ১ কেজি লবণ দিব নাকি ২ কেজি দেব সেটা আমার ব্যাপার। আমি শেখ হাসিনাকে বলি- ঘরে রান্না করা রাষ্ট্র পরিচালনা করা এক জিনিস না, এটা বুঝতে হবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আপনি ইডেন কলেজে পড়েছেন, দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছেন। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে-কলেজে পড়াশোনা করে তার ন্যূনতম জ্ঞান থাকা উচিত, গণতন্ত্র কি আর স্বৈরতন্ত্র কি?’

তিনি বলেন, ‘এদেশের রাজনীতি ৪০ বছর ধরে আমরা দেখছি তো। শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ছোট নেতা ছিলেন না, যতো বিতর্কই থাক তিনি খুব বড় মাপের নেতা ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মতো নেতা বাংলাদেশে শতাব্দীতে আর একটা জন্মাবে কিনা সন্দেহ আছে।’

আ‌য়োজক সংগঠ‌নের সভাপ‌তি মো. জ‌সিম উ‌দ্দিন কবী‌রের সভাপ‌তি‌ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বি এম শাজাহা‌নের সঞ্চালনায় আ‌লোচনা সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,‌ যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন, কৃষক দ‌লের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আ‌নোয়ার,‌ কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপন, আয়োজক সংগঠ‌নের সাংগঠ‌নিক সম্পাদক জু‌য়েল খন্দকার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের ঘুম হারাম : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও জামিনে বাধা প্রদানের পেছনে সরকারের গভীর নীল নকশা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তারা (সরকার) দেশনেত্রীকে হয় রাজনীতি থেকে না হয় দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সরকার দলীয় লোকদের মিডিয়া, মন্ত্রী ও নেতাদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। দেশনেত্রীর চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাহেবের বক্তব্য বিপরিতধর্মী। এতেই বোঝা যায় তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে নিষ্ঠুর তামাশা করছেন।

সোমবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই- নিঃশর্তভাবে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে সাজানো মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে এক বছরের বেশি সময় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। জামিন পাওয়া তার নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। যে মিথ্যা মামলায় তাকে জোর করে সাজা দেয়া হয়েছে, সেই মামলায় অন্যান্য সবাই জামিনে রয়েছেন। অথচ আদালতের ওপর প্রভাব খাটিয়ে শুধু দেশনেত্রীকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। নতুন নতুন গ্রেফতারি পরোয়ানা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মামলা কিছু নয়, আসল উদ্দেশ্য দেশনেত্রীকে তিলেতিলে শেষ করা অথবা সারাজীবনের জন্য রাজনীতির ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়া। সেই উদ্দেশ্য সফল না হওয়া পর্যন্ত তাকে বন্দি করে রাখা। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী থেকে শুরু করে তাদের প্রিয়ভাজন ব্যক্তিরা একই ধরনের মামলায় জামিনে আছেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তার চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেই। তার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় কোনো অগ্রগতি নেই। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও স্বীকার করছেন দেশনেত্রীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আমরা জেনেছি, তিনি একেবারেই হাঁটাচলা করতে পারছেন না। ডায়াবেটিস, হাঁটু ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ।

রিজভী বলেন, সরকার তার বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করার জন্য সময়ক্ষেপণ করছে কি-না এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন গভীরতর হচ্ছে। তবে দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থার ক্ষতিকর কিছু হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে এটর্নি জেনারেল যে বক্তব্য দিয়েছেন, যদি তাই হয় তবে তিনি বারবার মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়ার জামিন পেতে বাধা দিচ্ছেন কেন? দেশনেত্রী বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তি পেতে সরকারের নির্দেশই সবচাইতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

সরকারের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, এক মাঘে শীত যায় না। পরিস্থিতি সব সময় একই রকম থাকে না। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভাবুন, পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগে না। মানুষের আওয়াজ শুনুন। ফুঁসছে মানুষ। পায়ে পা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে তারা। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র বন্ধ করে দ্রুত দেশনেত্রী জনগণের আস্থার প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আর বাধা দিবেন না। গণমানুষের নেত্রীকে তাদের মাঝে ফিরতে দিন।

রিজভী আরও বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারান্তরীণ আছেন। তাকে বর্তমানে কারাগারের ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে। জজকোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও তাকে বিভিন্ন থানার গায়েবি, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। এটি বর্তমান অমানবিক, নির্দয় ও নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপকর্মগুলোর মধ্যে আরেকটি ঘৃণ্য আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তার ডায়াবেটিস ২৫ এর উপরে। তাকে ফাঁসির সেলে রাখা শুধু অমানবিকই নয়, তার মানবাধিকারকেও হরনের সামিল। আমি অবিলম্বে হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

উৎসঃ ‌jagonews24

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here