এইচএসসি পাসে এমবিবিএস তিনি, বললেন বাংলাদেশে সবই সম্ভব

0
273

মাছুদুল হক নামে এইচএসসি পাস এক ব্যক্তি এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে অস্ত্রোপচারসহ নানা চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মাগুরার ক্লিনিক মালিক সমিতি। রোববার দুপুরে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়।

মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আহমেদ বলেন, মাছুদুল হক নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন মাগুরায় অস্ত্রোপচারসহ নানা অপচিকিৎসা চালিয়ে আসছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি চিকিৎসক নন। নিজেকে এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচয় দেয়ার পাশাপাশি পিজিটি, সিডিডি সার্জন এ ধরনের যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন মাছুদুল হক। আসলে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পাস তিনি। পরে ১৫ বছর রাশিয়ায় থেকে একটি ডিপ্লোমা সনদ জোগাড় করেন। দেশে ফিরে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে অস্ত্রোপচারসহ নানা প্রকার চিকিৎসা শুরু করেন। তার ভুল অস্ত্রোপচারে অসংখ্য রোগী মারা গেছেন।

তারা বলেন, ২০০৫ সালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এক রোগীর খাদ্যনালিতে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে নাড়ি কেটে গেলে ক্ষতস্থানে পলিথিন দিয়ে বেঁধে দেন মাছুদুল হক। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসকরা পুনরায় অস্ত্রোপচার করে ওই পলিথিন উদ্ধার করেন। তখন মাছুদুল হককে পলিথিন ডাক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।

ওই সূত্র ধরে স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে জেলহাজতে পাঠায়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে ২০০৬ সালে ড্যাবের সদস্য পদ নেন ও বিএমডিএস চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধিত হন মাছুদুল হক। যার নম্বর-এ-৪৩২১৪। এই নিবন্ধনের পর তিনি মাগুরা ডায়াবেটিস হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। এখনো সেখানে কর্মরত। পাশাপাশি বিগত সময়ের অপকর্মে উপার্জিত অর্থে মাগুরা সদর হাসপাতালের পূর্বদিকে ১০তলা ভবন নির্মাণ করেন। সেখানে তৈরি করেছেন নিজস্ব ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও চাইনিজ রেস্টুরেন্ট। সেখানে সব রোগীর অস্ত্রোপচার করছেন তিনি।

তারা আরও বলেন, ২০১২ সাল থেকে শুরু করে গত সাত বছরে মাছুদুল হককে ভুয়া চিকিৎসক তুলে ধরে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একাধিক চিঠি দিয়েছি আমরা। কিন্তু কোনো সুফল হয়নি। বরং মাছুদুল হকের অপচিকিৎসা আরও বেড়ে গেছে।

মাগুরা ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৩ জুন একটি টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মাছুদুল হকের ভুয়া পরিচয়ের তথ্য প্রমাণ ওঠে আসে। সেখানে তিনি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী নন এ কথা স্বীকার করেন। ওই টেলিভিশনের প্রতিবেদক মাছুদুল হককে তার ব্যবস্থাপত্রে এমবিবিএস লেখার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে সবই সম্ভব। তার এ বক্তব্য দেশদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মাছুদুল হকের প্রকৃত নাম শহিদুল হক। মাছুদুল হকের এক আত্মীয় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করার পর মারা যান। শহিদুল মৃত ওই আত্মীয়ের সার্টিফিকেট নিয়ে মাছুদুল হক সেজে রাশিয়া গিয়ে ডিপ্লোমা করেন। নব্বই দশকের শুরুতে অনৈতিক পথে ড্যাবের মাধ্যমে ডক্টরস কাউন্সিলের সদন নিয়ে মাছুদুল হক সেজে এমবিবিএস চিকিৎসক বনে যান।

ক্লিনিক মালিক সমিতির অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আলী আকবর বলেন, এ ব্যাপারে মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদ হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া পৃথক তদন্ত টিম গঠন করে মাছুদুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সিভিল সার্জনকে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুদুল হক বলেন, ‘আমি বিএমডিএস থেকে নিবন্ধন নিয়ে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত আছি। আমি সংবাদ সম্মেলন করে সব তথ্য উপস্থাপন করব।’

উৎসঃ ‌‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌সংলাপের আহ্বান বিএনপি’র সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের


সংসদের বৈধতা নিয়ে আবারো প্রশ্ন তুলে বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, আমাদের ৬ জনের আসার মধ্য দিয়ে এই সংসদের বৈধতা দেয়া হয় না। আমাদের সংসদে প্রবেশের অন্যতম কারণ সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক স্পেসগুলো অনুপস্থিত। তাই সংসদে এসে কথা বলছি। আমি সংসদ নেতাকে আহ্বান জানাচ্ছি, আশা করছি দেশে সুশাসন ফিরে আনার জন্য সংসদ নেতা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে দেশে একটি আবহাওয়া তৈরি করবেন সুবাতাস বয়ে আনবেন।

রোববার বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০১৮-১৯ অর্থবৎসরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এরআগে বিকেল ৩ টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে দিনের কার্যসূচি শুরু হয়।

বক্তৃতার শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডকে জাতীয় ট্রাজেডি আখ্যায়িত করে বিএনপি’র এই দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, সংসদ নেতা আপনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে বেদনার। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনীতির ইতিহাসে জাতীয় ট্রাজেডি। আর ইন্ডিমনিটি অধ্যাদেশ বিএনপি দেয়নি। দিয়েছে আওয়ামী লীগের একটি অংশ। খন্দকার মোশতাক ক্ষমতায় থাকাকালে ইন্ডিমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে।

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সম্পর্কে হারুনুর রশীদ বলেন, জিয়াউর রহমান দেশে যে প্রক্রিয়াতেই ক্ষমতায় আসুক না কেনো ক্ষমতায় আসার পর উনি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ফিরে এনেছিলেন। এখন সেই গণতন্ত্র অনুপস্থিত।

কৃষক ধানের নায্যমূল্য পাচ্ছে না বলে ধান লাগানো বন্ধ করে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পর্ণ হয়নি। গত অর্থবছরে কত লাখ টন ধান, কত লাখ টন গম ও চাল আমদানি করা হয়েছে? চাইলে পরিসংখ্যান দিয়ে বলতে পারি।

বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে বেশি খরচ করায় নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য বলেন, এবার জাতীয় নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ নির্বাচন করেছেন স্বাভাবিকভাবেই খরচ বাড়তে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচন করতে যেয়ে কোনো নির্বাচনের বৈধতা অর্জন করতে পেরেছেন? এই নির্বাচন কমিশন অযোগ্য ব্যর্থ নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পেরেছেন? কাজেই তারা যে টাকা খরচ করেছে সেটা সম্পূর্ণ অপচয় করা হয়েছে। চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলব এই টাকা অপচয় করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিজীবন সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন ব্রিটিশ এমপি


বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দী দুর্বিষহ জীবন নিয়ে এবং তার দ্রুত মুক্তি দাবি করে ব্রিটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য স্টেফেন টিমসের কাছে চিঠি দিয়েছেন লন্ডন লেবার পার্টির সদস্য ও বিএনপি নেতা মো: গিয়াস উদ্দিন। আর খালেদা জিয়ার কারাজীবন নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন জানতে চেয়েছেন বিট্রিশ হাউজ অব কমন্সের এমপি স্টেফেন টিম।

সম্প্রতি এই দুই শীর্ষ ব্যক্তির কাছে লেখা চিঠিতে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাকে ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে একটি পুরনো ও জরাজীর্ণ কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে। যেখানে ইঁদুর ও তেলাপোকা বিচরণ করে। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে কারাগারে কোনো সুযোগ সুবিধা দেয়া হয় না।

চিঠিতে বলা হয়- বেগম খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমনÑ র‌্যাব, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতারা গত ১১ বছরে ৬৮টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি খালেদা জিয়ার জন্য ন্যায়বিচার, দ্রুত মুক্তি, গুম-খুন বন্ধ এবং মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।

চিঠিতে বিনা অপরাধে খালেদা জিয়াকে জেলে দেয়া ও তাকে মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চাপ দেয়া, দেশে মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মুক্ত সংবাদিকতার সুযোগ, কথা বলার অধিকার, রাজনীতির সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা ও সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থার ওপর তাগিদ, তারেক রহমানের নামে যে মামলা হয়েছে তা তুলে নেয়া, দুর্নীতি বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, ফটোসংবাদিক সহিদুল আলম, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা, মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে জ্বালিয়ে মারাসহ সব অপরাধের সুষ্ঠু বিচারের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন চাওয়া হয়। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ ত্রিশ হাজার এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৬৮টি মামলার প্রতিবাদ জানানো হয়।

এ দিকে ব্রিটিশ সেক্রেটারি স্টেট ফর ফরেন অ্যান্ড গভর্মেন্ট অ্যাফেয়ার্সের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন ব্রিটিশ হাউজ অব কমন্সের সদস্য স্টেফেন্স টিম। চিঠিতে নেতা বলেছেন, বাংলাদেশের কারাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিদশা সম্পর্কে বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন যে বর্ণনা দিয়েছেন তা যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে সে ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের মূল্যায়ন কী?

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌চলতি সপ্তাহেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন : ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ


চলতি সপ্তাহেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, হাইকোর্টে এখন বেগম জিয়ার দুটি মামলা আছে। একটি হলো জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, আরেকটি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা। এই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্ট ডিভিশনে এ দুটি মামলায় জামিন চাওয়া হবে। আমরা আশা করি, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বেগম জিয়ার জামিন হবে। যদি জামিন না হয় তাহলে অবশ্যই আমরা আপিল বিভাগে যাব।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন। ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আজ প্রায় এক বছর চার মাস যাবত বেগম জিয়া কারাগারে আছেন।আইনি প্রক্রিয়ায় তার জামিনের জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব। কিন্তু তার সত্যিকারের মুক্তি আসবে আন্দোলনের মাধ্যমে। রাজপথেই বেগম জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে। এ জন্য আমাদের সংগঠিত হতে হবে এবং কর্মসূচি দিতে হবে। আমাদেরকে এমন কর্মসূচি দিতে হবে, যাতে সরকার বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

মওদুদ আহমদ বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সারা বাংলাদেশের মানুষ উৎকণ্ঠিত। তারা সকলেই চায়, বেগম জিয়া যাতে আর কারাগারে না থাকেন। এটা দেশের ১৬ কোটি মানুষের ইচ্ছা। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। সম্ভব হচ্ছে না কারণ, সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আমরা শত চেষ্টা করেও জামিনের সুরাহা করতে পারছি না।

প্রস্তাবিত বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের সুবিধাভোগীদের জন্য এ বাজেট। এ বাজেট জনসাধারণের জন্য না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে পাঁচ কোটি ৮৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে গেছে। এটা বর্তমান সরকারের বাজেটের চেয়েও বেশি টাকা। যে হারে টাকা পাচার হচ্ছে! এ পাচার কারা করছে? এ সরকারের মদদ নিয়ে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করে টাকা করেছে, সেটা দেশে বিনিয়োগ না করে বিদেশে পাচার করেছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য সুদিন আসছে। এই সুদিন এখন সময়ের ব্যাপার। এই সুদিন সেই দিন আসবে, যেদিন গণতন্ত্র আসবে, বেগম জিয়া মুক্ত হবেন, আইনের শাসন এবং বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ফিরে আসবে। সেই দিনের অপেক্ষায় আপনাদের থাকতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌বাজেটের আকার নিয়ে যারা গর্ব করে তারা অজ্ঞ : আমীর খসরু


বাজেটের ‘আকার’ নিয়ে যারা গর্ব করে তাদের অজ্ঞ বললেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, তারা বাজেটের কিছু বোঝে না। তারা অজ্ঞ।

আজ রোববার (১৬ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে লেবার পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে লেবার পার্টি।

আমীর খসরু বলেন, ‘বাজেটের আকার কোনো বিষয় নয়। আকার নিয়ে যারা গর্ব করে তারা বাজেটের কিছু বোঝে বলে আমার মনে হয় না। আকার নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই৷’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম দিকে তাকালে তারা নিজেরাই বুঝবে বাজেট তখন কত ছোট ছিল। ধীরে ধীরে তা বেড়েছে। বাজেট প্রতি বছর বাড়ে। স্বৈরাচারী সরকারের সময়ও বাজেটের আকার বাড়ে। আকার নিয়ে যারা কথা বলে তারা অজ্ঞ। বাজেটের আকার নিয়ে নয়, মান নিয়ে কথা বলতে হবে।’

বাজেটে একটি গোষ্ঠী লাভবান হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী সব কিছু করছে। সব দখলে নিয়েছে। যে লোকগুলো আজকে রাষ্ট্রের সার্বিক ক্ষমতা দখল করে আছে তারা তো নিজেদের স্বার্থে বাজেট দেবে। এখানে জনগণের কিছু নেই। জনগণের নির্বাচিত সংসদও নেই, সরকারও নেই।’

এখন ৬৭ হাজার টাকা মাথাপিছু ঋণ রয়েছে। সামনের বছর তা ৭৫ হাজারে দাঁড়াবে। যে ঋণের বোঝা তারা জনগণের মাথায় চাপিয়ে দিচ্ছে, তা থেকে জনগণ কীভাবে মুক্ত হবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

সুপরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে দাবি করে আমীর খসরু বলেন, ৪৫ বছর আগে মাত্র চারটি গণমাধ্যম রেখে বাকি গণমাধ্যম বন্ধ করেছিল তারা। ৪৫ বছর পর সেই ভূত আবার চেপেছে তাদের মাথায়। এখন ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। নিজেদের পৃষ্ঠপোষকতায় কিছু গণমাধ্যম সৃষ্টি করে কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীরা আজ সাংবাদিক নাই ৷ তারা নিজেরাই বলে। তারা হুকুম তামিল করার কাজ করছে। সেজন্য অনেক বিবেকবান সাংবাদিক সাংবাদিকতা ছেড়ে দিচ্ছেন। কারণ তারা নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারছেন না। দেশে সংবাদ যেন গুরুত্ব না পায় তার জন্য কিছু গণমাধ্যমে ছাঁটাই করা হচ্ছে।’

আমীর খসরু আরও বলেন, ‘সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পরিষ্কারভাবে লেখা আছে। স্বাধীনভাবে গণমাধ্যম কাজ করবে। কোনো রকম বাধা থাকবে না। কিন্তু যেভাবে ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে, তেমনিভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও রোধ করা হয়েছে৷’

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মাহমুদের গ্রেফতারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘পুলিশ হাসান মামুনকে খুঁজে পায় কিন্তু ওসি মোয়াজ্জেমকে খুঁজে পায় না।‘

আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে ফেরার গ্যারান্টি নেই: মির্জা ফখরুল


জাতীয়তাবাদী যুবদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন শেষে বাড়ি ফিরলে বান্দরবান জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ওসমান গণি ও জেলা যুবদল নেতা মোঃ আকবরকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শিমুল দাস এর বাড়িতে পুলিশী তল্লাশীর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মধ্যরাতের ভোটের সরকারের দু:শাসনে এখন মানুষের জানমালের ন্যুনতম নিরাপত্তাটুকও নেই। ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরার সামান্যতম গ্যারান্টি নেই। চারিদিকে গুম, খুন, অপহরণ ও গ্রেফতার আতঙ্কে দেশবাসী সর্বদা আতঙ্কিত। বিএনপিসহ দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার অর্থাৎ সভা, সমাবেশ ও মিছিল করার সংবিধান স্বীকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আওয়ামী দু:শাসনের ভয়াবহতায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ এখন মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। বিরোধী দলগুলোকে নিশ্চিহ্ন করতে ধারাবাহিকভাবে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের এবং গ্রেফতার করে কারান্তরীণ করা হচ্ছে।

আজ বান্দরবান জেলায় যুবদলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী যুবদলের দু’জন নেতাকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে পুলিশী তল্লাশীর ঘটনা আওয়ামী জুলুমবাজ সরকারের নিষ্ঠুর শাসনেরই নিরবচ্ছিন্ন অংশ।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে বান্দরবান জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ওসমান গণি ও জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতা মোঃ আকবর এর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান। পাশাপাশি বান্দরবান জেলা যুবদল এর সাধারণ সম্পাদক শিমুল দাসের বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশীর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উৎসঃ ‌‌‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‌মানিকের মতো বিকারগ্রস্তদের মাঠে নামিয়েছে সরকার: রিজভী


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান সম্পর্কে বিচারপতি মানিকের বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে যুবদল।

শনিবার বেলা ১২টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইট এ্যাঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মিছিল শেষে রিজভী আহমেদ বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাবন্দী রেখে শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার আগুন নেভাচ্ছেন। বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিয়ে বর্তমান অবৈধ নিষ্ঠুর সরকার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর বর্তমান স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর চলমান হয়রানী ও নিষ্ঠুরতার অবসান ঘটাতে জনগণ এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে। গুম-খুন-ক্রসফায়ার-অপহরন-ভয় ও শঙ্কার বর্তমান এই দুঃসময় অতিক্রম করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। ‘গণতন্ত্রের মা’ দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য রাজপথেই আমাদেরকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

রিজভী আহমেদ আরও বলেন-দেশ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে। আর এজন্যই মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম সম্পর্কে বিচারপতি মানিকের মতো বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর দোসর’রা ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন, বানোয়াট মন্তব্য করছেন। এরা ক্ষমতাসীনদের উচ্ছিষ্ট। অবান্তর, অসত্য ও বিকৃত বক্তব্য প্রদানের জন্য মানিকের মতো বিকারগ্রস্ত লোকদের মাঠে নামিয়েছে সরকার। এদেরকে একদিন উচিৎ শিক্ষা দিবেই এদেশের জনগণ। সত্যকে কোনদিনই মুছে ফেলা যাবে না, বরং আওয়ামী শাসকগোষ্ঠীর বিকৃত ইতিহাসকেই জনগণ আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, মহানগর উত্তর যুবদল সভাপতি এস এম জাহাঙ্গির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীনসহ মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

উৎসঃ ‌‌‌শীর্ষকাগজ

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপির এমপিদের সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের


জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দলীয় সংসদ সদস্যদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নির্দেশ দেন। দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ও গঠন করেছে বিএনপি।

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও কমিটিতে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি সংসদে থাকবে। সংসদীয় রীতিনীতি মেনে বক্তব্য রাখবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদও জানাবে। কিন্তু এমন কিছু করবে না যাতে সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়।

নির্দেশনা মতে, জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন মঙ্গলবারই সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। এদিন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে অনেক দিন পর সংসদে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরা সরব থাকব।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতির মহাতাণ্ডব চলছে। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। জনগণের পক্ষে এসব বিষয় সংসদে তুলে ধরব। তবে কতটা পারব জানি না। এ ক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটি দেখতে হবে।

হারুন বলেন, ‘চলতি অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা বাজেট অধিবেশন। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। বাজেট যাতে জনস্বার্থে হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদ অধিবেশন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যেন আমরা সবাই ঠিক থাকি, সবকিছুর ঠিকঠাক জবাব দিতে পারি, নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দিই—এসব ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে দল থেকে। পাশাপাশি সংসদে যোগদানের সুযোগের কীভাবে সদ্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে দলের সদস্যদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।সেই মোতাবেক বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বক্তব্য রাখেন। তিনি ফ্লোর নিয়ে বলে ওঠেন, একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। বিএনপির এ এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে- এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

তারেক রহমানের প্রতি সরকার অন্যায় করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।’

জানা গেছে, সোমবারের ওই বৈঠকে বাজেট অধিবেশনের বিষয় অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে সরকারের অনিয়মের বিষয়টিও তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সংসদ সদস্যদের সাহায্য করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির স্ব স্ব বিষয়ক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়কভিত্তিক সম্পাদকদের সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে পৃথক পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যেমন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। সেই প্রতিবেদন সংসদ সদস্যরা সংসদে তুলে ধরবেন। এ রকম সব সম্পাদককে ছায়ামন্ত্রীর মতো প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেয়া আছে।

সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন—উকিল আব্দুস সাত্তার, মো. হারুনুর রশীদ, মো. জাহিদুর রহমান, মো. আমিনুল ইমলাম, মোশারফ হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হিজাব নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছেঃ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী


সম্প্রতি গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢেকে এটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এটার তো কোনো মানে হয় না’- নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী।

শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, একজন নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে দুই হাত, দুই পা খোলা রাখার অবকাশ নেই। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীরে পর্দা করা শরয়ি হিজাবের মূল উদ্দেশ্য।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তবে হিজাব সম্পর্কে শেখ হাসিনার ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মুসলমান ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কোনোভাবেই শরিয়তের বিধান নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করতে পারে না।

শরিয়তের অন্যতম বিধান পর্দা সম্পর্কে দেয়া এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে তাওবা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত মহাসচিব।

হিজাব (পর্দা) ইসলামের অন্যতম একটি ফরজ বিধান উল্লেখ জুনায়েদ বাবুনগরী বিবৃতিতে আরও বলেন, একজন নারীর ইজ্জত আবরু রক্ষায় শরয়ি পর্দার বিকল্প নেই। একজন নারী শরয়ি পর্দা মতো চললে সমাজে ইভটিজিং, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ইত্যাদির ন্যায় অপরাধ ও অনৈকিতা থাকবে না। সমাজ হবে শান্ত ও সুশৃঙ্খল।

পর্দাহীনতার কারণেই আজ নারী নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধাও আজ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু নির্যাতন নয়; নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যাও করা হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো- বেপর্দা, নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরিফের সাতটি আয়াত এবং প্রায় ৭০টির মতো হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত। এসব আয়াত ও হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বপ্রকারের বেপর্দা হারাম হওয়াও সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

‘সুতরাং শরয়ি পর্দা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত শেখ হাসিনার মুখে এমন আপত্তিকর মন্তব্য দুঃখজনক। প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে পর্দা সম্পর্কে দেয়া এমন বক্তব্যে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, শরয়ি পর্দা নারীর ভূষণ, ইজ্জত আবরু রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু নারী সমাজ আজ পশ্চিমাদের তালে তাল মিলিয়ে চলাফেরা করে নিজের ইজ্জত আবরু বিনষ্ট করছেন। মানবরূপী নরপশু লম্পটদের ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

পর্দা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য নয়; বরং শালীন পোশাক পরিধান, শরয়ি পর্দা ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে ইভটিজিং, ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনমুক্ত সমাজ গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান হেফাজত মহাসচিব।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকেই) দুর্নীতিবাজদের বসবাস!


অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার লক্ষ্য নিয়েই গঠন করা হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হলো রাষ্ট্রের সকল সেক্টরের দুর্নীতিবাজদেরকে খোঁজে বের করা। মোট কথা, দুর্নীতিবাজদের ধরা, লুটে নেয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেয়া।

কিন্তু, এক পর্যায়ে এসে দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরই এখন বসবাস করছে বড় বড় দুর্নীতিবাজ। এখানে বসেই তারা নিজেরা অবাধে চাঁদাবাজি ও ঘুষ-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির তদন্তের নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খেয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরের বড় বড় দুর্নীতিবাজদেরকে তারা ছেড়ে দিচ্ছে। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো-দুর্নীতিবাজদের কাছে তারা অফিসের গোপন নথিও পাচার করছে।

অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ায় দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন দুদকের পরিচালক এনামুল খন্দকার বাছির। এই ঘুষ নেয়ার বিষয়ে তাদের হওয়া কথোপকথনও ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, প্রাথমিকভাবে তারা এই ঘুষ নেয়ার সত্যতা পেয়েছেন। দেশের সর্বত্র এখন এটা নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

দুদক পরিচালক বাছিরের ঘুষ কেলেংকারির ঘটনায় যখন সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে তখনই ফাঁস হলো দুদকের আরেক কেলেংকারি। বাংলাদেশে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত হলো শিক্ষা অধিদপ্তর। এখানের দুর্নীতিবাজদেরকে রেহায় দেয়ার জন্য এক দুদক কর্মকর্তার ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঘুষ চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছে। দৈনিক কালেরকণ্ট পত্রিকা মঙ্গলবার ঘুষ চাওয়ার অডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে এটার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, গত জানুয়ারি মাসে আসামির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এ কে এম ফজলুল হককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত-২-এ কর্মরত ছিলেন।

ফজলুল হক বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধানে দীর্ঘ ১৩ মাস সময় নেন। তিনি অনুসন্ধানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথির কাগজপত্র বেআইনিভাবে এক কর্মচারীর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাতে দিয়েছিলেন। গত ১৪ জানুয়ারি দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এস এম শামীম ইকবাল নামে দুদকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুদক। তিনি দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০১৫ সালের জুন মাসে কমিশনের পক্ষ থেকে একটি মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হলেও শামীম ইকবাল তা আদালতে উপস্থাপন না করে নিজের কাছে রেখে দেন।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ নিজেই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। অন্যথায়, দুদকের পরিচালকরা এভাবে অবাধে ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত হতে পারে না।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here