হিজাব পরে অস্ট্রিয়ার অমুসলিম নারী সাংসদের অভিনব প্রতিবাদ (ভিডিও সহ)

0
148

প্রাথমিক স্কুলে মুসলমান মেয়েদের হিজাব বা মাথায় যে কোনো ধরনের কাপড় পরা নিষিদ্ধ করে গত ১৫ মে আইন পাস করেছে অস্ট্রিয়া সরকার।

বিরোধী দলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য এ আইনের বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকারি জোটের উগ্র ডানপন্থী একটি দলের আগ্রহেই নিষেধাজ্ঞা বিলটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মুসলিম মেয়েদের টার্গেট করে পাস হওয়া হিজাববিরোধী এই আইনের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার এক নারী সাংসদ। মার্তা বসম্যান নামের ওই অমুসলিম সংসদ সদস্য মাথায় হিজাব জড়িয়েই সংসদে আসেন এবং তার বক্তৃতায় অবিলম্বে বিলটি বাতিল করার আহ্বান জানান।

ভিডিওঃ  ‘মুসলিম মেয়েদের টার্গেট করে পাস হওয়া হিজাববিরোধী এই আইনের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার এক নারী সাংসদ (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মার্তা বসম্যান নিজের হিজাবের দিকে ইশারা করে উপস্থিত সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন ছোড়েন, হিজাবের কারণে কি কিছুর পরিবর্তন হয়েছে, আমি কি এখন এমপি নেই, অস্ট্রিয়ান থেকে বের হয়ে গিয়েছি?

মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানিয়ে সংসদ অধিবেশনে বক্তৃতা শুরু করে মার্তা বসম্যান বলেন,নিষেধাজ্ঞা বিল পাশের ফলশ্রুতিতে হিজাব পরিহিতা মুসলিম মেয়েরা ঘৃণ্য কটূক্তির শিকার হন এবং নেকাব পরার কারণে রাস্তাঘাটে সংকীর্ণ মন নিয়ে চলতে বাধ্য হন তারা।

তিনি মনে করেন, হিজাব মুসলিম নারীর পরিচয় ও তাদের সংস্কৃতি এবং মুসলিমদের জীবনের অংশ। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে হিজাবকে মুসলিম বিরোধীদের প্রতীক হিসেবে চিত্রায়ণ করা হয়েছে।

অমুসলিম এই নারী সাংসদ আরও বলেন, আমরা মুসলমানদের কাছ থেকে সহনশীলতা, ক্ষমা ও একাত্মতার মূল্যবোধ শিখতে পারি। হিজাব সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে না; কিন্তু কতক দল হিজাবের বিরোধিতা করে মিডিয়ায় প্রোপাগান্ডা চালায়, তাদের উদ্দেশ্য আর কিছু নয়; ভোটারদের মন জয় করে ভোট অর্জন করা।

তিনি বলেন, হিজাব নিষিদ্ধতার আইনটি এমন স্পর্শকাতর বিষয়, যা খুব শিগগির পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রিয়ার জনসংখ্যার মোট ৮ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ২০১৭ সালের আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী, দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের সংখ্যা ৭ লক্ষাধিক, যার পরিমাণ এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

উৎসঃ ‌‌আল আরাবিয়্যাহ

আরও পড়ুনঃ ‌ইরান ‘আতংকে’ বিমান চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা!


ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে একটি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান প্রশাসন।

এ কারনে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যাতে ইরানের সঙ্গে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে নিজস্ব বিমান চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করা যায়। খবর আনাদলুর।

ওই সতর্কবার্তায় উপসাগরীয় এলাকার ওপর দিয়ে চলাচল করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বলা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচল করা যাত্রীবাহী বিমানগুলো সামরিক পদক্ষেপ এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনা কারণে ভুল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

১৯৮৮ সালে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের এয়ারবাস এ-৩০০ দুর্ঘনাটির কথা ওই সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়। ওই দুর্ঘটনায় ৬৬টি শিশুসহ ২৯০ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বেড়ে চলেছে। গত সপ্তাহে ইরাক থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মচারীদের ফিরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালসহ আন্তর্জাতিকভাবে দেশটিকে একঘরে করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে তেহরানের ওপর কোনো আক্রমণচেষ্টা করলে কঠোর জবাবের হুশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌রমজানের দ্বিতীয় জুমায় মসজিদুল আকসায় ২ লাখ মুসল্লির নামাজ আদায়

মাসজিদুল আকসায় লাখো মুসল্লির জুমা আদায়

ইসরাইলি পুলিশের ব্যাপক তল্লাশির মধ্যেও রমজানের দ্বিতীয় জুমায় ফিলিস্তিনের আল আকসা মসজিদে দুই লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেছেন।

আল আকসার ওয়াকফ কাউন্সিলের পরিচালক আজ্জাম আল খতিব আনাদলুকে জানান, রমজানের দ্বিতীয় জুমায় আল আকসার ভেতর ও বাইর মিলে দুই লাখেরও বেশি মুসল্লি জুমার নামাজে অংশ নিয়েছেন।

তিনি জানান, ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা সব সময় রমজান মাসে আল আকসা মসজিদে শুক্রবার নামাজ আদায় করতে আসেন।

দখলদার ইসরাইলি বাহিনী কেবল মাত্র চল্লিশ বছরের বেশি ও ১২ বছরের কম বয়সী পুরুষদের মসজিদে প্রবেশে অনুমতি দিয়েছিল।

আনাদলুর স্থানীয় সংবাদদাতা জেরুজালেমের ওল্ড সিটির প্রবেশদ্বার এবং আল-আকসা মসজিদের প্রবেশপথগুলোয় ইসরাইলি পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন।

মুসল্লিদের প্রবেশের সময় তল্লাশি করছে ইসরাইলি বাহিনী

ইসরাইলি বাধা উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আল আকসায় জুমা আদায় করতে আসায় বিষয়টির প্রশংসা করেন মসজিদের খতিব শেখ ইসমাঈল নুহদাহ।

জুমার খুতবায় তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসলমানদের আল আকসায় ছুটে আসার বিষয়টি প্রশংসনীয়।

শেখ নুহদা বলেন, এভাবে লাখো মুসল্লির আগমন তাদের মসজিদটিকে আটকে রাখার ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ফ্রান্সে সন্তানকে স্কুলে নেয়ার সময় মায়েদের হিজাব নিষিদ্ধ


ফ্রান্সে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় মায়েদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ করতে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। রক্ষণশীল রিপাবলিকান পার্টির উত্থাপিত এই বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ১৮৬ এবং বিপক্ষে পড়ে ১০০ ভোট।

এ সময় ভোটদানে বিরত ছিলেন ১৫৯ সিনেটর। তবে বিলটি পাস হওয়ার জন্য পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অনুমোদন পেতে হবে।

রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতা জ্যাকলিন ইস্টারচে-ব্রিনিও এই বিলের সমর্থনে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এই বিল পাসের মাধ্যমে স্কুলে ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবায়নে আইনি ফাঁক পূরণ হবে।

তবে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী জ্যান-মাইকেল ব্লাঙ্কার বলেন, এই বিলটি রাজ্য পরিষদের সিদ্ধান্তের বিপরীতে এবং এটি অভিভাবকদের ক্ষেত্রে তাদের বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে আসার জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করবে।

যদিও ব্লাঙ্কার বলেছেন, এই বিলে যারা সমর্থন দিয়েছেন, তাদের তিনি সম্মান করেন।

ব্লাঙ্কার বলেন, তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন যাতে মায়েরা তাদের সন্তানদের স্কুলে আনা-নেয়ার সময় ধর্মীয় কোনো চিহ্ন বহন না করে।

এদিকে ফ্রান্সের মসজিদ ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মোওসাউয়ি এই বিলকে ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচরণ বলে মন্তব্য করেছেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌অস্ট্রিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হিজাব পরিধান করার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল পাশ করেছে অস্ট্রিয়া।

বুধবার অস্ট্রিয়ান প্রতিনিধি পরিষদে এই বিলের অনুমোদন করে। খবর স্কাই নিউজের

প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে হিজাব নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে সরকারি জোটের ডানপন্থী একটি দলের দাবির প্রেক্ষিতে এই বিলের অনুমোদন দেয়া হল।

জানা গেছে, জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ থেকে নারী শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার জন্য সরকার এই বিলের অনুমোদন দিয়েছে। হিজাব ছাড়াও প্রভাব বিস্তারকারী নির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় ও আদর্শিক পোশাক এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে।

তবে সরকারি জোটের ডানপন্থী ওই দলটি পরিষ্কার জানিয়েছে, বিলের লক্ষ্য হলো শুধুই ইসলামি হিজাব বা পর্দাপালন।

বিরোধী রাজনৈতিক দলের একজন মুখপাত্র মত দিয়েছেন যে, অস্ট্রিয়ায় হিজাব নিষিদ্ধতা ইসলামের বিপক্ষে রাজনৈতিক বিরোধিতার শামিল।

হিজাব নিষিদ্ধ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ,মুসলিম স্কলারদের বড় পাগড়ি এবং ইহুদিদের টুপি পরিধানে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় কারফিউ: খ্রিস্টানদের উসকে মুসলিম মারছে বৌদ্ধরা


ফের ভয়, নিরাপত্তাহীনতা আর অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে শ্রীলংকাকে। দেশজুড়ে এবার মুসলিমবিরোধী ত্রাস ছড়াচ্ছে সংখ্যাগুরু বৌদ্ধরা। উসকানিতে পড়ে যোগ দিয়েছে খ্রিস্টানরাও। ইস্টার সানডেতে হামলার পর থেকেই মুসলিমদের টার্গেটে পরিণত করেছে। এতদিন এখানে-ওখানে বিচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে এলেও রোববার রাতেই প্রথম সংঘবদ্ধ হামলা চালায় মুসলিমদের ওপর।

ঝাঁপিয়ে পড়ে ইট-পাটকেল, লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র, পেট্রল বোমা আর আগুন হাতিয়ার নিয়ে। এরপর একটানা চলছে তাণ্ডব। মুসলিমদের ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে দোকানপাট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না। উন্মত্ত বৌদ্ধ আর খিস্টানদের হাতে সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে একজনের নিহত হওয়ার খবর দেয়া হলেও প্রকৃত হতাহতের খবর এখনও জানা যায়নি।

এপ্রিল মাসের শেষের দিকে শ্রীলংকায় ইস্টার সানডের উৎসব উপলক্ষে কয়েকটি চার্চ ও বিলাসবহুল হোটেলে চালানো হয় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। হামলায় বহু হতাহতের ঘটনায় ভয়, শঙ্কা আর শোকে যেন কুকড়ে যায় পুরো দ্বীপ দেশটি। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস। জড়িয়ে যায় স্থানীয় একটি উগ্রপন্থী মুসলিম সংগঠনের নামও। নতুন করে মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় খ্রিস্টানদের উসকে দিতে এটাকেই হাতিয়ার করছে বৌদ্ধরা। নতুন করে সহিংসতার শিকার হয়েছে মূলত রাজধানী কলম্বোর নিকটেই শ্রীলংকার উত্তর-পশ্চিম প্রদেশের তিনটি জেলার অধিকাংশ শহর ও উপশহর।

এই তিনটি জেলায় অধিকাংশ দোকানপাট ও অন্যান্য ব্যবসার মালিক প্রধানত মুসলিমরাই। চলমান সহিংসতার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দা বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, উত্তেজিত বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের আসার খবরে ভয়ে ঘরবাড়ির মধ্যে সিটিয়ে ছিলেন তারা। অনেকেই আবার পালিয়ে মাঠে কিংবা জঙ্গলে আশ্রয় নেন। এরপর রাতের বেলায় ঘরবাড়িতে ইটপাটকেল আর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। মোটরসাইকেল ও গাড়িতে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। দোকান ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করে মালামাল লুট করে।

এখানেই শেষ নয়। হামলা চালায় বেশ কিছু মসজিদে। ভিতরে ঢুকে কোরআন ও ইসলামি বইপত্রে আগুন দেয়। এমনকি অজু করার জন্য রাখা পানিতে প্রস্রাব করে কেউ কেউ। সোমবার কারফিউ জারি করে পুলিশ। তা সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি সহিংসতা। এদিন সন্ধ্যায় কলম্বোর কাছেই একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের সদিচ্ছা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ করেছেন অনেকেই। বাসিন্দারা বলছেন, অনেক এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সামনেই ঘরবাড়ি ও মসজিদে ভাংচুর চালানো হয়েছে।

শহরের বাইরে বা দূরবর্তী কিছু এলাকায় মূলত বাইরে থেকে আসা বৌদ্ধ দাঙ্গাবাজরা হামলা চালিয়েছে। বাস ও স্থানীয় পরিবহনে করে এসে গ্রামগুলো ঘিরে ফেলে তারা। মুসলিমদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান চিনতে তাদেরকে সাহায্য করেছে স্থানীয় বৌদ্ধরা। সহিংসতা কবলিত অন্যতম জেলা পাণ্ডুওয়াসনুয়ারার একটি গ্রামের বাসিন্দা আবদুল নওশাদ। তিনি জানান, সোমবার কারফিউর মধ্যেই রাত ৯টার কিছু পরে গ্রামে ঢুকে পড়ে ১১ক্স১২ জনের একটি দল। তাদেরকে দেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নেয় তার পরিবার।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শ্রীলংকায় মসজিদ ও মুসলমানদের ওপর ব্যাপক হামলাঃ নিহত ১, কারফিউ জারি

বাঁয়ে, হামলার শিকার কিনিয়ামার একটি মসজিদ ও ডানে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদে আসা লোকজনের মোটরসাইকেল – ছবি : বিবিসি

মুসলমানবিরোধী সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রীলংকায় দেশব্যাপী রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।

কিছু জায়গায় মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সহিংসতায় একজন মারা গিয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে।

শ্রীলংকার বিভিন্ন শহরে দাঙ্গাকারীদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

কয়েকদিন আগে ইস্টার সানডে’তে শ্রীলংকার কয়েকটি গির্জা ও অভিজাত হোটেলে একযোগে উগ্রবাদীদের হামলার ঘটনায় ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। হামলার পর থেকেই দেশটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

দেশের সকলকে শান্ত থাকার জন্যে আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহ।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে গত মাসের ভয়াবহ এই হামলার তদন্ত কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় সময় রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে সাত ঘন্টা ধরে বলবৎ ছিল এই রাত্রিকালীন কারফিউ।

শ্রীলংকার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত শহর কিনিয়ামায় একটি মসজিদের দরজা-জানালা ভাংচুর করেছে আক্রমণকারীরা।

মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনের কয়েকটি কপিও মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মসজিদের ভবনের তল্লাশির দাবি জানিয়ে জনতা সেখানেও পুলিশী অভিযানের দাবি উঠালে তারই এক পর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার আগে মসজিদের নিকটস্থ একটি জলাশয়ে অস্ত্র আছে কিনা সেই বিষয়ে অনুসন্ধান করতে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুকে এক ব্যক্তির দেয়া বিতর্কিত একটি পোস্টের পর খ্রিস্টান-প্রধান শহর চিলৌ-তে মুসলিমদের কিছু দোকান ও মসজিদে আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া ৩৮ বছর বয়সী সেই মুসলিম ব্যবসায়ীকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হয়।

দেশটির উত্তর-পশ্চিমের পুত্তালাম জেলায় এক ব্যবসায়ীর দোকানে ক্রুদ্ধ জনগণ আক্রমণ করার পর ছুরিকাঘাতে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

হেট্টিপোলা শহরেও তিনটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে, দাঙ্গা-হাঙ্গামা আরো ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ আরো কিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

শ্রীলংকার ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার সিংহভাগই বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। সেখান প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

গত মাসে শ্রীলংকায় যে হামলা হয়েছে তার দায় স্বীকার করে ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস।

উৎসঃ ‌‌বিবিসি

আরও পড়ুনঃ ‌৩ বছর ধরে রোজা রাখতে পারছেন না উইঘুরের মুসলমানরা


পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই মুসলমানরা রোজা রাখছেন। নরওয়ে, আইসল্যান্ড হয়ে ফিজি সব দেশেই মুসলিমরা রমজানের ইবাদতে অংশ নিতে পারলেও চীনে মুসলিমদের এ সুযোগ কেড়ে নেয়া হয়েছে।

দেশটির কমিউনিস্ট সরকার রমজানে উইঘুরের মুসলিমদের রোজা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। খবর ডনের।

চীনের অন্যান্য প্রদেশে আইনটি কার্যকর হলেও জিনজিয়াংপ্রদেশে এর প্রবণতা বেশি। উপবাস বা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের প্রতি বিশেষ আগ্রহকে চরমপন্থার প্রতীক হিসেবে দেখে চীন সরকার।

রমজান উপলক্ষে জিনজিয়াংয়ের খাদ্য অধিদফতরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, অন্যান্য সময়ের মতো রমজানেও খাবার জায়গাগুলো খোলা থাকবে। এ ছাড়া রমজানে রোজা, তারাবির জন্য রাত্রি জাগরণ ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয় পরিহার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সি উইঘুর নামে একটি ওয়েসবাইটের তথ্যমতে, পৃথিবীতে চীনই একমাত্র দেশ, যেখানে মুসলমানদের রোজা রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষেধ করা হয়েছে। বিগত তিন বছর ধরে জিনজিয়াংয়ের উইঘুরের মুসলমানদের রোজা রাখার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

অন্য সূত্রে জানা যায়, রমজান মাসে সরকারি দফতর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্কুলগুলোতে মুসলিমদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়।

গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিটি জানিয়েছিল, চীন সরকার দেশটির ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখেছে।

চীনের জাতিগত উইঘুর মুসলমানদের বেশিরভাগ সে দেশের জিনজিয়াংপ্রদেশে বসবাস করেন। প্রদেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী উইঘুর সম্প্রদায়ের।

জিনজিয়াংয়ের মুসলিম সংখ্যালঘুদের ব্যাপকহারে আটক করা হচ্ছে বলে গত কয়েক মাস ধরে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জাতিসংঘের ওই কমিটির কাছে নানা তথ্যচিত্র তুলে ধরে দাবি করেছে, চীনা মুসলমানদের বন্দিশিবিরে আটকে রেখে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

উইঘুর মুসলমানদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেস বলেছে- বন্দিদের কোনো অভিযোগ গঠন ছাড়াই আটকে রাখা হচ্ছে এবং সেখানে তাদের চীনা কমিউনিস্ট পার্টির স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। বন্দিদের ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না এবং ব্যাপকভাবে নির্যাতন করা হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌৩ বছরে ৩১ মসজিদ ধ্বংস করেছে চীন সরকার


চীনের জিনজিয়াংপ্রদেশে গত তিন বছরে ৩১ মসজিদ ও দুটি ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজের সাহায্যে ওই অঞ্চলের ৯১টি ধর্মীয় স্থান পরীক্ষা করে দেখা যায়, গত তিন বছরে ৩১টি মসজিদ ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাজারের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। খবর টাইম ম্যাগাজিনের।

২০১৬ সাল থেকে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ইসলামী ধর্মীয় স্থাপনাকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘুর অধ্যুষিত ওই অঞ্চলের ৯১টি ধর্মীয় স্থাপনার মধ্যে ৩৩টি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে, আর অন্যগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- গেট হাউস, গম্বুজ ও মিনার।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, ধর্মীয় স্থাপনার স্বাভাবিক স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য না থাকলেও মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া ৯টি ভবনও ধ্বংস করা হয়েছে।

চীনের জিনজিয়াংপ্রদেশে তুর্কি উইঘুরসহ অনেক সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বসবাস করে। উইঘুরদের সঙ্গে অন্য মুসলিম গোষ্ঠীগুলোও অত্যাচারের শিকার হচ্ছে বলেও টাইমসের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০১৬ সাল খেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চীনের ওই মসজিদগুলো ধ্বংস করা হয় চীনে। চীনে প্রায় ২ কোটি মুসলমানের বসবাস। দেশটিতে প্রায় ৩৫ হাজার মসজিদ রয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পৃথিবীর সব নারীকে হিজাব পরা উচিৎ : অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট


পৃথিবীর সব নারীকেই বছরে অন্তত একদিন হিজাব পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভেন ডার ব্যালেন। দ্যা রাইটার।

তিনি বলেন, ‘মুসলিম নারীদের সহমর্মীতা জানাতে সব নারীকেই বছরে একদিন হিজাব পড়া উচিৎ।’

অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, একজন নারী কিভাবে নিজেকে সজ্জিত করবে তা কেবল ওই নারীরই ব্যপার। আর এ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করা মোটেও উচিৎ নয়।

তিনি মুসলিম নারীদের হিজাব পড়াকে একান্তই নিজস্ব বলে মনে করেন। তিনি বলেন, এখানে নাক গলাবার অধিকার কারোরই নেই।

গত ডিসেম্বরের নির্বাচনে অস্ট্রিয়ান নাগরিকেরা বামপন্থী আলেক্সান্ডার ভেন ডার বেলেন’কে তাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে। দেশটিতে ডানপন্থী ফ্রিডমপার্টির উত্থান মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবে গত জানুয়ারীতে মুসলিম নারীদের সারা মুখ ঢেকে রাখে এমন হিজাব ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। তবে, অস্ট্রিয়া সহ পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদের প্রতি যে ভীতি তৈরী হয়েছে তা আসলে অবান্তর মনে করেন আলেক্সান্ডার। মূলত একাত্মতা জানানোর মধ্য দিয়েই এই ভীতি দূর করা সম্ভব।

এদিকে, রাজধানী ভিয়েনায় ইউরোপিয় ইউনিয়নের হাউসে বক্তব্য দেওয়ার সময় আলেক্সান্ডার বলেন, ‘এটা নারীদের অধিকার। নিজেকে কেমন করে তারা সাজাবে এটা একান্তই তাদের ব্যপার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন দিন হয়তো আসবে যে, আমরা সব নারীকেই হিজাব পড়তে বলবো।’

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌রোজা পালনে বাধা দিচ্ছে চীন সরকার


সারাবিশ্বের মুসলিমরা পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম পালন করছে। আর এরই মধ্যে চীনের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনের কারণে তাদের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অধিকারকর্মীদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জিনজিয়াং প্রদেশে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এখানে মুসলিম পরিবারগুলোর ঘরবাড়িতে নিয়মিত অবস্থান করে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দিচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ।

গত সপ্তাহে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিবেদনে জানায়, রমজানে রোযা রাখা, দাড়ি রাখা, মুসলিমদের মাথায় টুপি পড়া, নিয়মিত নামাজ পড়া এবং এলকোহল পরিহারসহ অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়গুলোকে ‘চরমপন্থার চিহ্ন’ বলে মনে করে চীনা কর্তৃপক্ষ।

চীনা কর্তৃপক্ষ সংগঠিত ধর্মকে দলীয় আনুগত্যের জন্য হুমকি বলে মনে করে। এ কারণে সকল ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপর কঠোর শাসন আরোপ করেছে তারা। জিনজিয়াং অঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর সবচেয়ে বেশি নিপীড়ন চলছে।

চীনে কয়েক দশক ধরে স্কুল ও সরকারী অফিসগুলোতে রমজানের রোযা রাখার বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা রয়েছে। এদিকে, চীনে মুসলিমদের রোজা ও ধর্মীয় আচার পালনে বিধিনিষেধ ও দমনপীড়নের প্রতিবাদে দেশটির পণ্য বর্জনের আহবান জানিয়েছে কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌ইমান,ইজ্জত সবকিছু খুইয়ে ছাড়া পাচ্ছেন উইঘুর মুসলিম নারীরা


বছর তিনেক আগে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান এক উইঘুর নারী। পরে জানা গেছে, ইসলামী উগ্রপন্থার মোকাবেলায় চীনা ধরপাকড় অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে। অনেক ধকল ও খেসারতের পর এবার তিনি ছাড়া পেয়েছেন।

তার পাকিস্তান স্বামী বলেন, মুক্তি পেয়েছে, তবে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে আমাদের।

পশ্চিমাঞ্চলীয় চীনা প্রদেশ জিনজিয়াংয়ের ৪০ উইঘুর নারী, যারা প্রতিবেশী পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের বিয়ে করেছেন, দেশটিতে অন্তরীণ ক্যাম্পে তাদেরও আটক করে রাখা হয়েছিল। পরবর্তী সময় ছাড়া পেয়েছেন।-খবর এএফপির

যদিও এই অন্তরীণ ক্যাম্পকে চীন সরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। ইসলামে নিষিদ্ধ এমন কার্যক্রম করতে ক্যাম্পের ভেতর তাদের বাধ্য করা হয়েছে বলে খবরে জানা গেছে।

সম্প্রতি জিনজিয়াংয়ে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি ব্যবসায়ী বলেন, ক্যাম্পে তাদের শূকরের মাংস ও অ্যালকোহল খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কাজেই তার স্ত্রী এখন সেই নিষিদ্ধ বস্তু খাচ্ছেন।

তিনি বলেন, তার স্ত্রী তাকে জানিয়েছেন- সে যদি কর্তৃপক্ষকে খুশি করতে পারে যে তার ভেতরে কোনো উগ্রপন্থী চেতনা নেই, তবে তিনি বাড়িতে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।

‘ক্যাম্পে তাকে কোরআন ও নামাজ পড়তে নিষেধ করা হয়েছে; তার বদলে ঘরে বিভিন্ন চীনা বই রাখতে হচ্ছে,’ বললেন এই পাকিস্তানি ব্যবসায়ী।

কিছু কিছু ব্যবসায়ী কয়েক সপ্তাহ কিংবা মাস তাদের স্ত্রীকে জিনজিয়াংয়ে রেখে নিজ দেশে ব্যবসায়িক কাজে যান। কেবল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায়ও তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে আটক হওয়া কয়েকজন বলেন, বোরকাপরা ও দাড়ি রাখার মতো ইসলামী ঐতিহ্য মেনে চলার কারণে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নৃতাত্ত্বিক উইঘুরসহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিরাপত্তা ধরপাকড়ে তাদের আটক করা হলেও আন্তর্জাতিক নিন্দা ও পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার স্বার্থে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

গত দুই মাস ধরে ধীরগতিতে তারা একে একে ছাড়া পাচ্ছেন।

জিনজিয়াং সীমান্তের পাকিস্তানি ভূখণ্ড গিলজিত-বালতিস্তান সরকারের মুখপাত্র ফাইজ উল্লাহ ফারাক বলেন, আটক পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের উইঘুর স্ত্রীদের অনেকেই ছাড়া পেয়েছেন।

তবে কয়েক নারীর স্বামী অভিযোগ করেছেন, তাদের ছেড়ে দেয়া হলেও তিন মাসের জন্য জিনজিয়াং থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। এ সময় তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এক রত্নপাথর ব্যবসায়ী বলেন, চীনা সমাজের সঙ্গে তারা কতটা খাপ খেতে পেরেছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। যদি কর্তৃপক্ষের মনে হয়, সমাজের সঙ্গে তারা এখনও মিলে যেতে পারেননি, তবে ফের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে।

এই শর্তেই তারা ছাড়া পেয়েছেন বলে তিনি জানান। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার প্রাথমিক আনন্দ খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিনি বলেন, ক্যাম্প থেকে ফিরে আসার পর তাদের প্রাণপ্রিয় স্ত্রী ও মায়েদের দেখতে একেবারে অদ্ভুত লাগছে।

তিনি বলেন, আমার স্ত্রী জানিয়েছেন- ক্যাম্পের ভেতর খোলামেলা পোশাক পরে তাকে নাচতে বাধ্য করা হয়েছে। শূকরের মাংস ও মদ খাওয়ানো হয়েছে।

এর পর তার হাতে একটি নির্দেশনাপত্র ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। ছবি আকারে ছাপানো ওই নির্দেশনাপত্রে মসজিদে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে চীনা পতাকায় সবুজ চিহ্ন দেয়া হয়েছে।

‘সে একসময় নিয়মিত নামাজ পড়ত, কিন্তু এখন সেই অভ্যাস নেই। মাঝে মাঝে রেস্তোরাঁয় গিয়ে সে মদ খাচ্ছে।’

তিনি বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষ নারীদের কাছ থেকে এমন আচরণই প্রত্যাশা করছে।

অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেইমস লেইবোল্ড বলেন, জিনজিয়াংয়ে চীনা সরকার নজরদারি জোরদার করেছে। নিজেদের সক্ষমতায় তাদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

ক্যাম্প থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কোনো নারী মানসিক বৈকল্যে ভুগছেন। কেউ তাদের আচরণ নিয়ে সরকারকে রিপোর্ট করতে পারে আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।

ওই ব্যবসায়ী বলেন, সবচেয়ে খারাপ দিকটি হচ্ছে, তার নীরবতা। সে সবাইকে সন্দেহ করছে। তারা বাবা-মা, পরিবার এবং আমাকেও।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here