মুসলিম ভোটারদের হুমকি দিলেন মানেকা গান্ধি

0
152

ভোটের প্রচারে গিয়ে মুসলিম ভোটারদের হুমকি দিয়েছেন বিজেপির উত্তরপ্রদেশের প্রার্থী মোদি সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিবার বিচ্ছিন্ন ‘গান্ধিবধূ’ মানেকা গান্ধি। মন্ত্রীর মিনিটতিনেকের ভাষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার নির্বাচনী এলাকা সুলতানপুরের জনসভায় মুসলিম ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভোট না দিলে চাকরি দেব না। কোনো কাজ নিয়ে গেলে করব না।’

ভোটারদের উদ্দেশ করে মানেকা গান্ধি বলেন, তাকে ভোট না দিলে তিনি হয়তো তাদের অনুরোধ রাখতে পারবেন না। তার কথায়, আমি ইতিমধ্যেই নির্বাচনে জিতে গিয়েছি এখন আপনারা কী করবেন সেটা আপনাদের ব্যাপার।

তিনি বলেন, ‘আমি জিততে চলেছি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের ভালোবাসা আর আশীর্বাদেই আমি জিতছি। কিন্তু যদি আমায় মুসলিমদের সমর্থন ছাড়া জিততে হয় তাহলে আমার খারাপ লাগবে। তখন মুসলমান ধর্মের কোনো মানুষ আমার কাছে এলে চাকরি দেব না।

মানেকা বলেন, কারণ আমার মনে হবে কাজ করে কী হবে? আমরা তো সবাই মহত্মা গান্ধীর সন্তান নই। আপনারা ভোট না দিলেও আমার জেতা আটকাবে না। আপনাদের ভোট না পেলেও আমরা জিতব। আমি এখন থেকেই নির্বাচনে জিতে গিয়েছি। আমাকে আপনাদের প্রয়োজন হবে। আর তাই এটাই আপনাদের সুযোগ।

তিনি বলেন, ভোটের পর যদি দেখা যায় এই বুথ থেকে আমি ৫০-১০০টা ভোট পেয়েছি তাহলে আলাদা কথা। তখন আমার কাছে কাজের জন্য আসবেন। আমি আমার দায়িত্ব এড়িয়ে যাই না। বিভাজনও করি না। আমি মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা ভাবি।

মানেকা গান্ধি এমনিতে পিলভিট থেকে জিতে সংসদ সদস্য হয়েছেন। এই সুলতানপুর আদতে তার ছেলে বরুণ গান্ধির কেন্দ্র। এবার মা ও ছেলের কেন্দ্র অদল-বদল হয়েছে। এর আগেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন মানেকা।

তিনি বলেছেন, বিএসপি সাংসদ মায়াবতী টাকার বিনিময়ে প্রার্থী স্থির করেন। নির্বাচনে প্রার্থী করতে ১৫-২০ কোটি টাকা করে নেন মায়া।

মানেকা বলেন, সবাই জানে মায়া টিকিট বিলি করতে পয়সা নেন। তার দলের লোকেরা সেটা গর্ব করে বলেন। তার ৭৭টি বাড়ি আছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সারাক্ষণই গণপিটুনির ভয়ে থাকে ভারতের মুসলিমরা


বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেশটির ১৭তম লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচনে এবারও ভোট দিচ্ছে মুসলিমরা। তবে সমাজ ও রাষ্ট্রে আরও এক পেশে হওয়ার ভয় নিয়ে।

পুরনো দিল্লিতে কয়েকশ’ বছর ধরে নির্ভয়েই ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসলেও এখন রাত হলেই মুসলিমরা কেউ আর একা বের হতে চান না গণপিটুনির ভয়ে। পান থেকে চুন খসলেই গণধোলাই।

দেশের রাজনীতির হালহকিকত নিয়েও জোর গলায় মুখ চালাতে পারেন না। বলতে হলে নিচু স্বরে ফিসফিসিয়ে বলতে হয়।

দিল্লিতে মেশিনের যন্ত্রপাতির দোকানের মালিক আবদুল আদনান বলেন, ‘এই মুহূর্তেই আমাকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হতে পারে এবং কেউই আমাকে বাঁচাতে আসবে না। এমনকি আমার সরকারও এখন আর আমাকে ভারতীয় মনে করে না। অথচ এ আমার বাপ-দাদার দেশ। শত শত বছর ধরে বংশপরম্পরায় এখানে বাস করে আসছি আমরা। সেই আমাকেই ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় সারাক্ষণ।’

বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন পুরনো দিল্লির বাসিন্দা কলিমুল্লাহ কাশমি (৩১)। তার একমাত্র ভয়, ফের ক্ষমতায় আসতে পারে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি।

তিনি বলেন, ‘সব সময় একটা উত্তেজনার পরিবেশ চারপাশে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে শুধু মুসলিমরা নয়, সংখ্যালঘু কারোরই দুর্ভোগের শেষ নেই। কখন কি হয় তা নিয়ে আমি ভীত ও শঙ্কিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোদির ভারতে মুসলিমদের কোনো জায়গা নেই। মুসলিমদের অনেকেই ইস্যুটি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কিন্তু ক্ষমতাবানদের কান পর্যন্ত সেটা পৌঁছাচ্ছে না।’

গুজরাটের এক আঞ্চলিক নেতা থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বড় সমর্থন নিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে আসেন মোদি। নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ভারতের অর্থনীতির আধুনিকীকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের প্রভাব বাড়ানো। এসব প্রতিশ্রুতিতে কট্টর হিন্দুত্ববাদের প্রলেপ দিয়ে উপস্থাপন করেছিলেন তিনি।

গত পাঁচ বছরে নিজের সেসব প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছেন। তবে একটি ক্ষেত্রে চরম ‘সফলতা’ দেখিয়েছেন। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের যে পরিচিতি ছিল তার কবর রচনা করেছেন তিনি। এখন দুই দশক আগে কট্টর হিন্দুত্ববাদী আদর্শের যে রাজনীতি তিনি শুরু করেছিলেন তা তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে হিন্দু কট্টরপন্থা এতটাই প্রবল যে ইতিহাসে আর কখনও এমনটা দেখা যায়নি।

ভারতের লোকসংখ্যার ৮০ শতাংশ হিন্দু। কিন্তু দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের দুই প্রধান পুরুষ প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ও জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী দেশকে ধর্মের ভিত্তিতে গড়তে চাননি।

স্বাধীনতার পর প্রথম যে সংবিধান প্রণীত হয়, তাতেও ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হবে। এত দিন সেই ঐতিহ্য ও মর্যাদা অনেকটাই ধরে রেখেছিল ভারত। বর্তমানে ভারতজুড়ে আজ যে আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ তা ২০১৪ সালের নির্বাচনের পরপরই সৃষ্টি হয়।

মানবাধিকারকর্মী ও উদার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদির অধীনে ভারত এখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে হিন্দু-মুসলিম আর উচ্চবর্ণ-নিম্নবর্ণে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

দেশটির এক ইতিহাসবেত্তা আদিত্য মুখার্জি বলছেন, ‘মোদি ও তার দলকে সহজ ভাষায় আমরা সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী বলতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ফ্যাসিবাদের কথাই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন স্বাধীন ভারতের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন জওহরলাল নেহরু। তিনি বলে গিয়েছেন, ভারতে কখনও যদি ফ্যাসিবাদ আসে, সেটা আসবে হিন্দু ফ্যাসিবাদের রূপে। তিনি যেটা বলেছিলেন আজ চোখের সামনে তাই ঘটছে।’

গোরক্ষা আন্দোলনের নামে একদল হিন্দুর মৌলবাদীর তাণ্ডব শুরু হয়। গরুর মাংস খাওয়াকে ইস্যু বানিয়ে হত্যা করা হচ্ছে শত শত মুসলিম ও অন্যান্য নিম্নবর্ণের লোকদেরকে।

গ্রামের গলি থেকে শহরের বড় রাস্তা, বাড়ির উঠান থেকে উপাসনালয় কোথাও আজ নিরাপদ নয়। বইয়ের পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট জগতেও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণা ও বিদ্বেষের বিষবাতাস।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আনন্দবাজারের প্রতিবেদন নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে অনুসরণ করছেন মোদি


ভোটযুদ্ধে ব্যস্ত ভারতের রাজনীতিবিদরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাজ্যে রাজ্যে সংঘর্ষ, গুলি, ইভিএম ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভারতের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ।

এ ভোটের লড়াই গিয়ে থামবে ২৩ মে। ভারত দখলে মোদি ও রাহুলের এ ভোটযুদ্ধকে বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে মিল খুঁজে পেয়েছেন দেশটির রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আনন্দবাজার। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ক্ষমতা চলমান রেখেছে।

সম্প্রতি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে বেশকিছু মিল দেখতে পেয়েছেন ভারতীয় পর্যবেক্ষকরা।

মূলত তারা বলছেন, ভোটে জয়লাভ করতে শেখ হাসিনার বেশ কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করেছেন নরেন্দ্র মোদি।

সেসব মিল নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছে ভারতের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে ‘হাসিনা: আ ডটারস টেল’ নামে একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের দুঃখ-বিষাদের কথা ফুটে ওঠে ছবিটিতে।

সিনেমাটির পরিচালক পিপলু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ ছবিতে আন্তরিক ভঙ্গিতে চিত্রায়ণ করেছেন বিভিন্ন ভূমিকায়। কখনও বঙ্গবন্ধুর মেয়ে কিংবা কারও বোন, কখনও একজন নেতা কিংবা সারা দেশের ‘আপা’ হিসেবে এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে তার ব্যক্তিসত্তাকে।

বিশ্লেষকরা সে সময় বলেছিলেন, ছবিটির লক্ষ্য ছিল ভোটের আগে বাংলাদেশিদের আরও বেশি শেখ হাসিনার কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া।

একই প্রক্রিয়ায় ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে ভারতে মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র ‘পিএম নরেন্দ্র মোদি’।

ছবিটি আগামী ১২ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। ভারতে সাত দফা ভোটে মোদির এই বায়োগ্রাফি ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে সে আলোচনায় ব্যস্ত ভারতের গণমাধ্যম ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

চলচ্চিত্র তারকাদের দলে ভেড়ানো

চলচ্চিত্র দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের পর চলচ্চিত্র তারকাদের দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো ছিল আওয়ামী লীগের আরেকটি কৌশল। সে কৌশলটিও লুফে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে রিয়াজ, ফেরদৌসের মতো রুপালি পর্দার অনেক তারকাই আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। দলের মনোনয়নপত্র কিনতে ভিড় জমিয়েছিলেন শমী কায়সার, রোকেয়া প্রাচী, আকবর পাঠান ফারুকের মতো জননন্দিত তারকারা। তাদের স্বাগত জানিয়ে প্রচারণায় কাজেও লাগিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি। এসব নন্দিত তারকাদের কথায় সাড়াও দিয়েছেন ভক্ত-অনুরাগীরা।

একই কৌশল নিলেন নরেন্দ্র মোদি। ভোটব্যাংক বাড়াতে ভারতের জনপ্রিয় তারকাকে পুঁজি করেছেন মোদি। সম্প্রতি একঝাঁক বলিউড তারকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদি।

বলি পরিচালক করণ জোহর ও রোহিত শেটি, অভিনেতা রণবীর সিং, রণবীর কাপুর, বরুণ ধাওয়ান ও অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে মোদিকে। সে ছবি রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

ক্রিকেটারদের যোগদান

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে হঠাৎ দেশের সেরা ক্রিকেট তারকা মাশরাফিকে আওয়ামী লীগে যুক্ত করেন শেখ হাসিনা। সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও যুক্ত হবেন বলে খবর রটে।

নির্বাচনে নড়াইল-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন মাশরাফি।

এদিকে ভারতের নির্বাচনে ভারতীয় ক্রিকেট তারকা গৌতম গম্ভীরকে নিজের শিবিরে যুক্ত করলেন নরেন্দ্র মোদি।

মোদির এমন সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার অনুকরণ বলেই মন্তব্য করছেন ভারতীয় রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

বিরোধী দলগুলো ‘ঐক্য’

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’। এককভাবে আওয়ামী লীগকে ভোটে পরাজিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল মিলে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ গড়ে।

একই চিত্র দেখা গেছে এবারের ভারতের লোকসভা নির্বাচনে। নরেন্দ্র মোদিকে সরাতে ভারতের রাজনীতিতেও বিরোধীরা ঐক্য গড়ে তুলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মুখে বারংবারই উচ্চারিত হয়েছিল শেখ হাসিনা দেশের ‘অতন্দ্র প্রহরী’। নির্বাচনী জনসভার বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বলেছেন, শেখ হাসিনা যা হারানোর ৭৫ সালেই হারিয়েছেন। নতুন করে হারানোর কিছু নেই তার। তিনি অকুতোভয়। তিনি দেশের ‘অতন্দ্র প্রহরী’।

একই রকম প্রচারে নেমেছেন নরেন্দ্র মোদি। ‘আমি চৌকিদার’ ঘোষণা দিয়ে যেন শেখ হাসিনার ‘অতন্দ্র প্রহরী’ ঘোষণাকে প্রতিধ্বনিত করলেন তিনি। ভোটের মাঠে দেশ রক্ষায় ‘চৌকিদার’ স্লোগানে মাতোয়ারা এবার বিজেপি।

উৎসঃ ‌আনন্দবাজার পত্রিকা

আরও পড়ুনঃ ‌ভোট বিএসপিতে যাচ্ছে বিজেপিতে যা খুবই চমকে দেয়ার মতো।


ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে বিতর্ক পুরনো। ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে এ যন্ত্রটি নিয়ে অভিযোগের কমতি নেই। উত্তরপ্রদেশের লাক্ষ্ণেৌর সাহারানপুরে একটি ইভিএমে ত্রুটি দেখা গেল, যা খুবই চমকে দেয়ার মতো।

ইভিএমে বিএসপির (বহুজন সমাজ পার্টি) পক্ষে ভোট দেয়ার পর সেটি বিজেপির পক্ষে যাচ্ছে। দারা সিং নামের এক ব্যক্তি তার প্রমাণ সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর বিতর্ক শুরু হয়েছে। খবর ইকোনোমিক টাইমসের।

দারা সিং সাংবাদিকদের বলেন, ভোট দেয়ার জন্য সাহারানপুরে ভোট কেন্দ্রে পৌঁছলে তিনি বিজেপির পক্ষে ভোট যাচ্ছে, তা দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘আমি হাতি (বিএসপির প্রতীক) টিপে ছিলাম, কিন্তু আমার ভোট বিজেপিতে যাচ্ছে।

আমি দেখি, হাতির ঘরে টিপলে তার নিচে থাকা বিজেপির ঘরে আলো জ্বলে উঠল। এটি সেখানে উপস্থিত নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে জানাই।’ তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৩৮টি ভোট পড়েছে যখন তিনি ত্রুটির বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মনোযোগ আকর্ষণের পরও তারা পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিক রাজদীপ সারদেসাই টুইটারে ধারা সিংয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পোস্টটি শেয়ার করেন। বিজনোর সেক্টর ম্যাজিস্ট্রেট রাকেশ কুমার, ইভিএম বিভ্রান্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘এমন ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ইউনিফরম পরে জুমা পড়ালেন ইমাম


ইরানে শুক্রবার জুমার নামাজে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ইউনিফরম পরে নামাজ পড়িয়েছেন রাজধানী তেহরানের ইমাম মুভাহাদি কারমানি।

যুক্তরাষ্ট্র বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেয়ার প্রতিবাদে তিনি ইউনিফরম পরে এ নামাজ পড়ান।-খবর আল আরাবিয়ার

নিজ দেশের সেনাবাহিনীর সমর্থনে তিনি বলেন, ইরানের প্রতিটা নাগরিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্য।

পরে ইসরাইলকে হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে সক্ষম। যদি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আল খামিনি নির্দেশ দেন, তবে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলকে ধ্বংস করে দেবে।

এ ছাড়া ইরানি সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও বোকামি দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।

ওই ইমাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে, যা এ অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দেবে।

গত সোমবার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

তেহরানও পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডকে (সিইএনটিসিওএম) একই অভিধায় অভিযুক্ত করেন। এ ছাড়া মার্কিন সরকারকে সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কেবল মৃত্যুই সস্তা কাশ্মীরে


কাশ্মীরের বাসিন্দা গোলাম রসুল খান এখানের সব কিছু দেখেছেন। এর মধ্যে পাক-ভারত দুটি যুদ্ধ হয়ে গেল। এ ছাড়া কয়েক ডজন সশস্ত্র সহিংসতাও তিনি দেখেছেন।

এতগুলো বছর কেটে যাওয়া ও সংঘাতের ঘটনা দেখে দেখে তিনি শান্তির আশা ছেড়ে দিয়েছেন। ৭৬ বছর বয়স গোলাম রসুল বলেন, যদি আপনারা আমাদের শান্তি দিতে নাও পারেন, একটি বাংকার অন্তত দেন।-খবর সিএনএনের

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি শহরে বসবাস করেন তিনি। নিয়ন্ত্রণরেখার কাছেই শহরটি। ফলে পাক-ভারত সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পড়ে যান তারা।

গত ফেব্রুয়ারিতে পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটির মধ্যে একপশলা আকাশ যুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর অহরহ ক্রসফায়ারের মধ্যে পড়ছেন তারা।

গোলাম রসুল বলেন, আমরা বাংকার চাচ্ছি, যাতে সীমান্তের তীব্র গোলাবর্ষণের সময় আমরা সেখানে লুকিয়ে থাকতে পারি। এ ছাড়া আমাদের কোথাও যাওয়ার কিংবা সুরক্ষার উপায় নেই। আমরা সত্যিকারের এক অন্যায়ের মধ্যে আছি।

এই কাশ্মীরি বৃদ্ধের মতে, ভারতের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের মূল সমস্যাগুলো উপেক্ষা করে যাচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই তারা কেবল কাশ্মীর সংকটকে পুঁজি করে। বিশেষভাবে লোকসভা নির্বাচনের সময় এটিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গোলাবর্ষণ ছাড়াও বিদ্রোহী ও সেনাবাহিনীর মধ্যে অনবরত লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

সহিংসতার এই চক্র কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। মানুষের নিত্যপণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে।

গোলাম রসুল বলেন, এখানে বেঁচে থাকা ব্যয়বহুল, আর মৃত্যুই এখানে কেবল সবচেয়ে সস্তা।

এসব বিষয়ে সবার মনোযোগ টানতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী নাদিম আব্বাসি। নিজের মোবাইলে তিনি গোলাবর্ষণে মারাত্মকভাবে আহত রিয়াজ আহমেদের ছবি দেখান।

গত মার্চের শুরুতে উরিতে সীমান্তের গ্রামে গোলায় আহত ৩২ বছর বয়সী রিয়াজের একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। দুই সপ্তাহ পর হাসপাতালে তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

আব্বাসি বলেন, বাংকার থাকলে তিনি বেঁচে যেতে পারতেন।

৭৫ বছর বয়সী নাদিম আব্বাসির জন্য সীমান্তের গোলাবর্ষণের ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। রসিকতা করে তিনি বলেন, আপনার মতো বিদেশি সাংবাদিকদের এখানে আসা উচিত?

নাদিম বলেন, এটিই আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। এসব দেখে দেখেই আমরা বড় হয়েছি, মরেও যাব। আগামী প্রজন্মও এই একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাবে। এখানে পরিবর্তনের কিছু নেই। এ নিয়ে আমি হতাশ নই। আল্লাহর ইচ্ছায় যেকোনো দিন আমি মারা যাব।

কাশ্মীরের দুটি অংশের নিয়ন্ত্রণ করে ভারত ও পাকিস্তান। কিন্তু তারা অখণ্ড কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করছে।

১৯৮৯ সাল থেকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হয়। কাশ্মীরিরা স্বাধীনতা কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হতে এর আগে শান্তিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।

সশস্ত্র প্রতিরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার কাশ্মীরিকে জীবন দিতে হয়েছে। অঙ্গ হারানো, ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বেশুমার।

সংঘাতের প্রভাব কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই। শ্রীনগরসহ পুরো কাশ্মীরে তার প্রতিধ্বনি বিস্তার করছে।

গত মার্চে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিকরা যখন সেখানে যান, তখন শহরটি পুরোপুরি ভুতুড়ে দেখাচ্ছিল।

পুলিশি হেফাজতে এক স্বাধীনতাকামী শিক্ষকের মৃত্যুর পর পুরো কাশ্মীরে হরতাল ডাকা হয়েছিল। স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, রাস্তায় পুলিশ ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মার্কিন প্রেসিডেন্টের মেয়ে যখন রেস্তোরাঁর পরিচারিকা!


একটি কৃষ্ণাঙ্গ মেয়ে চাকরির খোঁজে হন্যে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। সবখানেই প্রতিযোগিতা- কর্ম খালি নেই।

কাজের তেমন অভিজ্ঞতা নেই, তাই ভালো কোনো চাকরি মিলছে না তার। মেয়েটির মনে হলো রেস্তোরাঁর পরিচারিকার কাজটি তিনি করতে পারবেন। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাসাচুয়েটসের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় গিয়ে ইন্টারভিউ দিতে থাকেন মেয়েটি।

প্রথম দিকে বিফল হচ্ছিলেন তিনি। সব রেস্তোরাঁর মালিক একই কথা বলেন- আমাদের এখানে কোনো লোকের প্রয়োজন নেই। অন্য কোথাও খুঁজে দেখ।

কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েটি হতাশ হতে থাকেন। একদিন মাসাচুয়েটসের মার্থাস ভাইনইয়ার্ড নামের একটি দ্বীপে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁয় চাকরি হয় মেয়েটির।

প্রথম দিনেই রেস্তোরাঁর মালিক ন্যান্সি তাকে সতর্কবার্তা দেন, কোনো দিনই দেরি করে আসা যাবে না। দেরি করে এলে চাকরি হারাতে হবে।

মালিকের কথায় সায় দিয়ে নিয়মিত কাজ করতে থাকেন সেই কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী। যথাসময়ে তার উপস্থিতি দেখে রেস্তোরাঁর কর্মকর্তারাও সন্তুষ্ট হন।

কাজেও বেশ মনোযোগী তিনি। কাস্টমারদের অর্ডার নেয়া, দ্রুত খাবার পরিবেশন, টেবিল পরিষ্কার করে দেয়াসহ অন্যান্য সব কাজই চটপটে করেন তিনি।

এর পরও মাঝেমধ্যে কিছু ভুল হয়ে গেলে গালমন্দ শুনতে হয় তাকে। চুপচাপ তাও সহ্য করেন তরুণী।

এমন একদিনের ঘটনা। কফির পেয়ালা সরাতে গিয়ে অলক্ষ্যে কিছুটা কফি এক কাস্টমারের কাপড়ে পড়ে যায়। এতে প্রচণ্ড রেগে গিয়ে রেস্তোরাঁর কর্মকর্তাকে বিচার দেন ওই কাস্টমার।

কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে সেই কাস্টমারের কাছে মাফ চেয়ে এবারের মতো পার পেয়ে যান মেয়েটি। এভাবে ব্যস্তময় পরিচারিকার দায়িত্বের ওপর ভর করে দিন চলে যেতে থাকে মেয়েটির।

একদিন সহকর্মীর জন্মদিন উৎসবে যোগ দিতে হয় মেয়েটিকে। সেখানে কেক কাটার পর দেখা গেল মেয়েটি কেক খাচ্ছেন না।

জোর করেও তাকে কেক খাওয়ানো যাচ্ছে না। সহকর্মীরা ভাবলেন, বেশি সস্তা দরের কেক বলেই কী খেতে পারছেন না তিনি?

আবার তারা ভাবলেন, গরিব ঘরের মেয়েদের এর চেয়ে ভালো কেক চোখেও তো দেখে না। তা হলে এই কেকে কামড় দিতে সমস্যা কী?

মেয়েটি জবাব দিলেন, পেট ভরা তাই খেতে ইচ্ছা করছে না।

এভাবেই সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলছিল মেয়েটির চাকরিজীবন।

একদিন রেস্তোরাঁর এক কর্মী দেখলেন, কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েটি কাজ শেষে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে একটু আড়ালে গেলেই ছয় দীর্ঘদেহী মানুষ তাকে ঘিরে রাখেন। আর নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যান। মেয়েটিকে বিলাসবহুল গাড়িতেও চড়তে দেখেন তিনি।

পর দিনই ঘটনাটি নিয়ে বেশ গুঞ্জন শুরু হয়। রেস্তোরাঁর অন্যান্য সহকর্মীর কাছে এতদিনের চেনা মেয়েটি রহস্যময় হয়ে ওঠে।

সবাই আড়চোখে দেখতে থাকেন তাকে। কথাটি চলে যায় রেস্তোরাঁর মালিকের কানে। এভাবে বিষয়টি এক কান দু কান করে চলে যায় স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে।

কে এই মেয়ে সেই রহস্য উদ্ঘাটনে নেমে পড়েন সাংবাদিকরা। তারা জানতে পারেন কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েটির আসল পরিচয়।

মেয়েটি আসলে আর কেউ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছোট মেয়ে সাশা ওবামা!

বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। বিশ্ববাসী জেনে যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছোট মেয়ে সাশা ওবামা নিজের পরিচয় লুকিয়ে এতদিন একটি রেস্তোরাঁয় পরিচারিকার কাজ করছিলেন।

গ্রীষ্মকালীন ছুটির ফাঁকে মাসাচুয়েটসের ওই রেস্টুরেন্টে কাজ নিয়েছিলেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের মেয়ে কেন এমনটি করলেন সে বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এর জবাব দেন বারাক ওবামার স্ত্রী মিশেল ওবামা। গণমাধ্যমে তিনি বলেন, সন্তানরা একটি বয়সে আসার পর তাদের বিলাসিতা ছাড়তে বাধ্য করেছি আমি। আমি তাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে পথে ছেড়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জীবনটা শুধুই হোয়াইট হাউসকেন্দ্রিক নয়। এখানে জানতে হবে কীভাবে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের খেটে খাওয়া মানুষের জীবন। এটি না হলে নিজেকে সঠিক মানুষরূপে গড়ে তুলতে পারবে না তারা।

আর সে জন্যই ছুটির ফাঁকে এমনটি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

উৎসঃ ‌ফক্স ফাইভ, বস্টন হেরাল্ড

আরও পড়ুনঃ ‌ব্রিটেনের আদালতে দোষী সাব্যস্ত অ্যাসাঞ্জ (ভিডিওসহ )


জামিনের শর্তভঙ্গের অভিযোগে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

বৃহস্পতিবার তাকে সাজা দেয়ার জন্য সাউথওয়ার্ক ক্রাউন আদালতে পাঠানো হয়। সেখানে ১২ মাসের সাজা হতে পারে অ্যাসাঞ্জের। তবে আদালতে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাসাঞ্জ।
এদিকে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সরকারি কম্পিউটারে বেআইনিভাবে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণেরও আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ২০১০ সালে বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসে ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বর্বরতার তথ্য, ছবি ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে আলোচনায় উঠে আসেন অস্ট্রেলীয় নাগরিক অ্যাসাঞ্জ।

তারপর থেকেই তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। সুইডেনের করা নারী নির্যাতনের মামলার জেরে ২০১২ সাল থেকে ইকুয়েডরের দূতাবাসে আশ্রয়ে ছিলেন তিনি। কথিত আছে গোপন চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়ার জন্যই দূতাবাসে পুলিশ ডেকে অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দেয় ইকুয়েডর।

ভিডিওঃ  ‘যে কারণে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করালো ইকুয়েডর (ভিডিওসহ ) ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো যখন ইকুয়েডরের ক্ষমতায় আসেন সে সময় থেকেই বর্তমান সরকারের সঙ্গে ‘নানা কারণে’ দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। অনলাইনে রাজনৈতিক মন্তব্য না করতে হুশিয়ারিও দেয়া হয় অ্যাসাঞ্জকে। তার বিরুদ্ধে বেনামে ওয়েবসাইট চালানোর অভিযোগ তুলেছে মোরেনো সরকার।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ, ওই ওয়েবসাইটে মোরেনোর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় নিয়েও নানা বিষয় প্রকাশ করা হয়। ‘আইএনএ পেপার্স’ নামে প্রকাশিত নথিতে মোরেনো ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত ছবিও ফাঁস করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সেই তথ্য সামনে আসার পর মোরেনো প্রশ্ন তুলেছিলেন, তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও ছবি হ্যাক করার কে অধিকার দিয়েছে অ্যাসাঞ্জকে? যদিও উইকিলিকসের তরফে টুইট করে দাবি করা হয়, এই তথ্য ফাঁসে কোনোভাবেই জড়িত নন অ্যাসাঞ্জ।

শুধু তথ্য ফাঁসই নয়, দূতাবাসে থাকাকালীন দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ উঠেছে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে। ইকুয়েডরের বিদেশমন্ত্রী হোসে ভ্যালেন্সিয়ার অভিযোগ, দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জ যে ফোনটা ব্যবহার করতেন সেটার কোনো রেজিস্ট্রেশন ছিল না। দূতাবাসের পরিবেশও খারাপ করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নিপীড়িত মুসলিম ছাত্রের আত্মহত্যাচেষ্টা নিউজিল্যান্ডে; সহযোগিতা চায় পরিবার


নিউজিল্যান্ডে এক কিশোর (টিনএজ) স্কুলছাত্রের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। ওই কিশোরের পরিবার জানিয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তার ওপর ভয়ানক নিপীড়ন চালানো হয়েছে। এ কারণে তাদের ছেলেটি গত সপ্তাহে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

১৪ বছর বয়সী ওই মুসলিম কিশোরটিকে গত সোমবার সন্ধ্যায় বাবা-মা অকল্যান্ডের হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ছেলেটি ওই হাসপাতালে তিনদিন নিবিড় তত্ত্বাবধানে ছিল। এখন সে পরিবারের পরিচর্যায় বাড়িতে অবস্থান করছে। একজন পারিবারিক মুখপাত্রের মাধ্যমে তার বাবা-মা জানিয়েছেন, বাইরের কোনো ধরনেরসহায়তা ছাড়া তাদের সন্তানের পরিচর্যায় তারা অসহায় বোধ করছেন।

ওই মুখপাত্র জানান, এই পরিচর্যা করতে গিয়ে তারা অবসাদগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চাপ অনুভব করছেন। ছেলটির অবস্থাও তথৈবচ। তাকে সেই বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে যেখানে সে আত্মহননের প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

তিনি জানান, ছেলেটি এখনো সুস্থ হয়নি। তারা তাকে (বাবা-মা) নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছেন।

জানা গেছে, ওই কিশোর অকল্যান্ড সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের শেষের মাসগুলো থেকে এখন পর্যন্ত সে স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছে। কারণ, সে বলছে, তার ওপর নিপীড়নের মাত্রা বেড়ে গেছে। বিকল্প মাধ্যমে সে শিক্ষা গ্রহণ করা শুরু করেছে। তবে স্কুলটির নাম জানাননি ওই পারিবারিক মুখপাত্র।

পরিবারের ওই মুখপাত্র জানান, গত বছরের শেষের দিকে নিপীড়নের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। এবং ছেলেটি ‘নিজেকে রক্ষা করতে’ স্কুলে ছুরি নিয়ে যেত।

তিনি জানান, এক চিঠিতে ছেলেটি বলেছে, স্কুলে তাকে প্রহার করা হয়েছে। ‘টেক্সট মেসেজ’ এবং ফোনের মাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। আইএসআইএস এবং সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন উপনামে তাকে ডাকা হচ্ছে।

ওই মুখপাত্র জানান, কিছু ছেলে তার (কিশোরটির) গলায় ছুরি রেখে হুমকি দিয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ছেলেটিকে হত্যা করার হুমকি দিয়েছিল অন্য ছাত্ররা। তাকে হুমকি দিয়ে নিয়মিত ‘টেক্সট মেসেজ’ এবং ফোনকল পাঠিয়েছিল তারা।

এ কারণে ভয়ানক মানসিক চাপের মধ্যে ছিল ছেলেটি।

তিনি জানান, ছেলেটি ওই ছাত্রদের নম্বরগুলো ব্লক করে দিয়েছে। সে এখন একজন জেনারেল ফিজিসিয়ান (জিপি) এবং মনোবিজ্ঞানীর চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মুখপাত্রটি বলছেন, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছিল ছেলেটি। ছেলেটি একটি ই-মেল বার্তায় বন্ধুদেরকে বলেছিল, সে আত্মহত্যা করার কথা ভাবছে।

তিনি বলেন, ছেলেটির আত্মহত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি তার বন্ধুরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেয়।

তিনি জানান, কিন্তু স্কুল যে কাজটি করেছিল তা খুবই হতাশাজনক। তার পিতামাতাকে একটি সভায় ডেকে আনা হয়। এরপর স্কুল থেকে তাদের ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলা হয়।

মুখপাত্র জানান, এই ছেলেটিকে সাহায্য করতে তার পরিবার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা এ বিষয়ে অন্যদের খুব একটা সমর্থন পায়নি।

তিনি বলেন, ছেলেটির পরিবারের ভাষাগত দক্ষতা কম। তারা নিউজিল্যান্ডে তাদের অধিকার সম্পর্কে অনেক কিছুই অবগত নয়। এ কারণে তারা স্কুলটির উপর ওই বিষয়ে নির্ভর করেছিল।

এদিকে, স্কুলটির প্রিন্সিপাল মন্তব্য করেন, ছাত্রদের নিজস্ব বিষয়ে স্কুল কোনো মন্তব্য করতে পারে না। তবে নিপীড়ন গ্রহণযোগ্যস নয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ শীর্ষ অগ্রাধিকার। যেকোনো ধরনের পীড়ন অগ্রহণযোগ্য। আমরা স্কুলে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির জন্য কঠোর পরিশ্রম করি।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ক্যাটরিনা ক্যাসি জানিয়েছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি ছেলেটির পরিবারের পক্ষ থেকে ওই নিপীড়নের বিষয়ে অভিযোগপত্র পেয়েছেন তিনি।

তিনি বলছেন, আমরা ওই বিষয়ে আলোচনা করতে স্কুলের সাথে কাজ করেছি।

তিনি মন্তব্য করেন, প্রতিটি শিশু এবং তরুণের জন্য স্কুলের পরিবেশ নিরাপদ হওয়া দরকার। আমরা প্রত্যাশা করি, প্রতিটি স্কুল এমন একটি সংস্কৃতিবলয় তৈরি করবে যা ইতিবাচক আচরণ চর্চা করবে।

উৎসঃ ‌নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড

আরও পড়ুনঃ ‌সুদানের নতুন শাসক : কে এই আওয়াদ


তিন যুগের শাসক ওমর আল বশির পদত্যাগ করেছে বৃহস্পতিবার। দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সেনাবাহিনীর চাপে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার পদত্যাগের পরই দেশটির শাসনভার গ্রহণ করেছ সেনাবাহিনী। তারা আগামী দুই বছরের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে। এই সরকারের প্রধান করা হয়েছে আওয়াদা ইবনে আওফ। কিন্তু কে এই আওয়াদ, যার নেতৃত্বে উৎখাত করা হলো দীর্ঘ তিন যুগের শাসককে?

মাত্র ছয়সপ্তাহ আগে জেনারেল আওয়াদকে নিজের ডেপুটি হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই আওয়াদই রাষ্ট্রীয় টিভিতে বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার ঘোষণা দেন। বিষয়টিকে পদত্যাগ বলা হলেও, মূলত তাকে অনেকটা বাধ্য হয়েই ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে। বশির সরকারের প্রতিরক্ষমন্ত্রী ছিলেন আওয়াদ। সুদান সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের একজন তিনি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৩ সালে দারফুর সঙ্ঘাতের সময় গোয়েন্দা প্রধানের পদে ছিলেন তিনি।

দারফুরে সহিংসতার দায়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র যে তিন সুদানি সামরিক কর্মকর্তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছিল তার একজন ৬৫ বছর বয়সী আওয়াদ।

২০১০ সালে সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগের পর আওয়াদ সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ দেন। মিসর ও ওমানে কূটনৈতিক মিশনে কাজ করার পর ২০১৫ সালে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন ওমর আল বশির। সেই সময়ই মূলত খার্তুমের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন সাবেক এই জেনারেল।

গত কয়েক মাস ধরে প্রেসিডেন্ট বশিরের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ চলছে, শুরু থেকেই তার প্রতি সহানূভূতিশীল ছিলেন আওয়াদ। শেষ পর্যন্ত বশিরকে হটিয়ে তিনিই বসলেন ক্ষমতার মসনদে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অন্ধকার মুহূর্ত: স্নোডেন


উইকিলিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য একটি অন্ধকার মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করে রাশিয়ার মস্কোতে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ।

এক টুইটবার্তায় স্নোডেন লিখেছেন- যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইকুয়েডর রাষ্ট্রদূত তার দূতাবাসে ইউকে সিক্রেট পুলিশ দলকে ডেকে এনে একজন ….প্রকাশকারী… বা সেটি হোক বা না হোক… সাংবাদিকতায় পুরস্কারজয়ী একজনকে ধরিয়ে দেয়ার ছবিগুলো শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের পাতায় স্থান নিতে যাচ্ছে।

অ্যাসাঞ্জের সমালোচনাকারীরা আনন্দিত হতে পারেন, কিন্তু এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য একটি অন্ধকার মুহূর্ত, লেখেন তিনি।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে গ্রেফতার হন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।

সাত বছর ধরে তিনি এ দূতাবাসে ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক এবং কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন বারবার লঙ্ঘন করায় অ্যাসাঞ্জকে দেয়া আশ্রয় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

তবে উইকিলিকসের পক্ষ থেকে এক টুইটবার্তায় বলা হয়- ইকুয়েডর ‘আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে’ অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় খারিজ করে দিয়ে বেআইনি কাজ করেছে।

২০০৬ সালে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে অ্যাসাঞ্জ ওয়েবসাইট উইকিলিকস চালু করেন। ২০১০ সালে উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মুসলিমদের হত্যা করতে গিয়ে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করলেন মার্কিন মেরিন সেনা


ওয়াশিংটন: ইসলাম ধর্মকে চূড়ান্ত ভাবে ঘৃণা কারী একজন সম্ভাব্য উগ্র খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে বার্তা সংস্থা দি সানডে প্রোজেক্টের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে।

রিচার্ড ম্যাকিনে নামের ওই লোক একজন অবসর প্রাপ্ত মেরিন সেনা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যে কর্মরত ছিলেন। তিনি নৌ বাহিনীতে কর্মরত থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যতজন নিরীহ লোকজন হত্যা করেছেন তাদের সঠিক সংখ্যা জেনে ভীত হয়ে পড়েন।

চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ঘরে ফিরে আসেন এবং তার এলকোহল সেবনের অভ্যাস পরিত্যাগ করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালান। তখনও তিনি মুসলিমদের সম্পর্কে মনের গভীরে ঘৃণা পোষণ করতেন।

তিনি স্মৃতি চারণ করে বলেন, একদিন তিনি তার স্ত্রীর সাথে স্থানীয় একটি রাজপথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং একটি দোকানের সামনে কালো বোরকা পরিহিত দুজন নারী দেখতে পান।

তিনি বলেন, ‘এ দৃশ্য দেখে আমি ঘৃণায় রাগান্বিত হয়ে পড়ি এবং বোরকা পরিহিত দুজন নারীর নাকে ঘুষি দিয়ে তাদের নাক ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলাম।’

যদিও তিনি তা করেন নি কিন্তু এর চাইতেও জঘন্য একটি পরিকল্পনা তার মনে খেলে যায়। তিনি নিজের গৃহে ফিরে গিয়ে ঘরে বসে একটি বোমা বানাবেন এবং তা ‘Muncie’s Islamic Centre’ এর সদর দরজার নিকট পুঁতে দিবেন বলে মনে মনে পরিকল্পনা করেন।

বোমা পুঁতে দিয়ে তিনি নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে মুসলিমদের মৃত্যুর দৃশ্য অবলোকন করবেন বলে ঠিক করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমি অন্তত ২০০ জন মুসলিমকে হত্যা করবো বলে পরিকল্পনা করেছিলাম। ইসলাম সম্পর্কে আমার মনের তীব্র ঘৃণা আমাকে এ পথে ধাবিত করার জন্য উৎসাহ দিয়েছিল।’

কিন্তু এক পর্যায়ে রিচার্ড ম্যাকিনে মুসলিম সমাজকে আরো একটি সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন। তিনি খোলা মনে স্থানীয় একটি ইসলামিক কেন্দ্রে ভ্রমণ করেন এবং সেখান গিয়ে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি কপি উপহার পান আর তা নিজের সাথে করে ঘরে নিয়ে আসেন।

এর আট সপ্তাহ পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং এর কিছু বছর পর একসময় মুসলিমদের যেই কেন্দ্রটি বোমা মেরে উ

ড়িয়ে দিবেন বলে পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি বর্তমানে ঠিক সেই ইসলামিক কেন্দ্রটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বার্তা সংস্থা দি সানডে প্রোজেক্ট কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘একদিন আমি নিজের ঘরে মুসলিমদের সম্পর্কে ঘৃণা মূলক কিছু আলোচনা করছিলাম আর অন্য ধর্মের প্রতি আমার পুষে রাখা ঘৃণা দেখে আমার কন্যা আমার দিকে খুবই বাজে ভাবে তাকিয়েছিল।’

তার কন্যার এমন আচরণই তার হৃদয়ের পরিবর্তনে সহায়তা করেছিল বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, তিনি নিজের অতীতে তার মধ্যে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসলিম হত্যাকারী ব্রেন্ডন টারান্ট কে দেখতে পেয়েছিলেন।

রিচার্ড ম্যাকিনে বলেন, ‘যে ব্যক্তি অপরাধ করার জন্য উদগ্রীব ছিল, যে ব্যক্তি নিরীহ মানুষদের হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল সে মূলত আমিই ছিলাম। ব্রেন্ডন টারান্ট এবং আমি আসলে একই ব্যক্তিই ছিলাম। যখন সে মসজিদের দরজায় কড়া নাড়ছিল তখন সে থামেনি এবং চিন্তা করে দেখেনি। আর যখন আমি ইসলামিক কেন্দ্রে যাই এবং হাসি মুখের সম্ভাষণ দেখতে পাই তখন আপনা আপনি ভাবেই আমি নিজেকে উষ্ণ সম্বর্ধনার সাথে জড়িত করি। এটি আমার মনকে খুলে দিয়েছিল এবং আমি আসলে সত্য অনুধাবন করতে শুরু করেছিলাম।’

উৎসঃ ‌নিউজ ডট কম ডট এইউ।

আরও পড়ুনঃ ‌হিজাব পরিধান করায় মার্কিন মুসলিম নারী সেনাকে হেনস্থার অভিযোগ


ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের কলোরাডো স্প্রিং শহরের ফোর্ট কার্সনে কর্মরত দেশটির সেনাবাহিনীর একজন মুসলিম নারী সৈনিককে তার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিজাব পরিধান করায় হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বার্তা সংস্থা আর্মি টাইমস এমন খবর দিয়েছে।

সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনসের নিযুক্ত আইনজীবী আর্মি টাইমসকে বলেন, তার মক্কেল যখন কর্নেল ডেভিড জিনের সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনীতে নারী পুরুষ সমতার কথা আলোচনা করছিলেন ঠিক তখন সেখানে উপস্থিত কমান্ডার সার্জেন্ট মাজ ক্রিস্টিন মোন্টোয়া অভিযোগ করে বলেন যে, সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনস এমনভাবে হিজাব পরিধান করেন যার ফলে তার চুল ঢাকা থাকে।

কর্নেল ডেভিড জিন বলেন, তিনি সেনা আইনের মধ্যে এমন কিছু পান নি যা সম্পর্কে সার্জেন্ট মাজ ক্রিস্টিন মোন্টোয়া অভিযোগ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘একজন কমান্ডার সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনসের এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ দায়ের করেছেন।’

‘তদন্তের ফলাফলে উঠে এসেছে যে, সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনস তার হিজাব এমনভাবে পরিধান করেছেন যাতে সেনা আইনের বিরোধিতা করা হয় এমন কিছু ঘটে নি।’

তথাপি, সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনস যিনি একজন মুসলিম, তিনি বলেন, তিনি সবসময় হিজাবের ভেতর তার চুল ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি আর্মি টাইমসকে বলেন, তার বিশ্বাস তার উপরস্থ কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে তাকে হেনস্থা করেছেন।

‘Military Religious Freedom Foundation’ নামের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মিকি ওয়েনস্টেইন যিনি ভাল্ডোভিনসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি আর্মি টাইমসকে বলেন, ‘এই বৈষম্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মানুষের মনে মুসলিম বিরোধিতার অন্যতম উদাহরণ।’

আর্মি টাইমস জানিয়েছেন যে, সেনা বাহিনীতে যোগ দেয়ার পূর্বে ভাল্ডোভিনসকে তার নিজের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এধরনের অনুমতিতে সাধারণত হিজাব অন্তর্ভুক্ত থাকে যা ২০১৭ সালে দেয়া হয়েছিল।

কর্নেল ডেভিড জিন বলেন, তিনি সেনাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘সেনাদের প্রতি অসম্মান, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং ধর্ম পালনের প্রতি অসম্মান হয় এমন অভিযোগ আমি সবসময় গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকি।’

তথাপি, ভাল্ডোভিনসের বলেন, তার প্রতি ক্রিস্টিন মোন্টোয়া যে বৈষম্য মূলক আচরণ করেছে সে সম্পর্কে কর্নেল ডেভিড জিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

উৎসঃ ‌kdvr.com

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here