নুসরাত হত্যা মামলা থেকে গ্রেফতারকৃত ৫ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত

0
269

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার শুনানির প্রথম দিনে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতারকৃত ৫ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ আদেশ দেন।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে তাদের গ্রেফতার করেছিল পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, যুবলীগ কর্মী নূর হোসেন হোনা ও মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, প্রাক্তন ছাত্র ব্যাংক কর্মকর্তা কেফায়াত উল্লাহ জনি এবং প্রাক্তন ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী সাইদুল ইসলাম।

জেলা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারী কৌঁসুলি (এপিপি) হাফেজ আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘তাদের নাম চার্জশিটে না থাকায় মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।’

এর আগে একই আদালত পিবিআইয়ের দাখিল করা ১৬ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে দেয়া চার্জশিট আমলে নেন। আগামী ২০ জুন চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা করা হয়েছে।

এপিপি হাফেজ আহমেদ আরও জানান, ‘নুসরাত হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, প্রভাষক আবসার উদ্দিন, মো. শামিম, ইফতেখার উদ্দিন, নূর উদ্দিন জামিন চাইলে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’

বিভিন্ন সময়ে এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিলসহ ১২ জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে একই মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। ভয়ভীতি দেখানোর পরও মামলাটি তুলে না নেয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌঁশলে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসার ছাদের উপর সিরাজ উদদৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।

এ ঘটনায় তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন আদালত।

২৯ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে মামলার এজাহারভুক্ত ৮ জনসহ ১৬ জনকে আসামি করে ৮০৮ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌খাগড়াছড়িতে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে এসআই সাইদুর রহমানকে ক্লোজড


খাগড়াছড়িতে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে সদর থানার এসআই সাইদুর রহমানকে ক্লোজড করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবার ক্রেতা অর্জুন বসাক নামে স্থানীয় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের মুসলিম পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় মুসলিম পাড়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকা থেকে ইয়াবা বেচাকেনার সময় অর্জুন বসাককে স্থানীয়রা আটক করে। পরে অর্জুনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে অর্জুন পুলিশকে জানান, তিনি সদর থানার এসআই সাইদুর রহমানের কাছ থেকে ইয়াবা কিনেছেন।

এর প্রেক্ষিতে পুলিশ এসআই সাইদুরের বাসায় তল্লাশি করে। এ সময় তাকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য খাগড়াছড়ি সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে এসআই সাইদুর রহমানকে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

মুসলিম পাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানান, খাগড়াছড়ি সদর থানার এসআই সাইদুর রহমান দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে ইয়াবার কারবার করে আসছিলেন। কিন্তু পুলিশ বলে ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি।

এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করে স্থানীয় যুবকদের মাদকাসক্ত করার অভিযোগে এসআই সাইদুরের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা।

তারা আরও অভিযোগ করেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হয়েও সাইদুর রহমান ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত হয়েছেন। হাতের নাগালে ইয়াবা বা মাদকদ্রব্য পাওয়ায় কিশোর ও তরুণরা মাদকে আসক্ত হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি শাহাদাত হোসেন টিটো জানান, ইয়াবা বিক্রির সন্দেহে এসআই সাইদুর রহমানকে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় ইয়াবাসেবী অর্জুন বসাককে আটক করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মামলার এজাহারে ইয়াবা বদির নাম নেই, আছে দুই ভাইয়ের নাম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে আব্দুর রহমান বদি (ফাইল ছবি)

কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির দুই ভাই ও এক ফুফাত ভাইয়ের ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা করতেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ডন সাইফুল করিম। পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে তারাসহ ৩৩ ইয়াবা ডনের নাম বলে গেছেন এ ইয়াবাকারবারি। তার নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলার এজাহারেই এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত ৩১ মে টেকনাফ থানায় মামলাটি করা হয়।

গত ৩০ মে গভীর রাতে টেকনাফ স্থলবন্দরের সীমানাপ্রাচীরের শেষ প্রান্তে নাফ নদের পারে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন সাইফুল করিম। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৯টি এলজি, ৪২ রাউন্ড শটগানের তাজা কার্তুজ, ৩৩ রাউন্ড কার্তুজের খোসা ও এক লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ৩১ মে টেকনাফ মডেল থানার এসআই রাসেল আহমদ বাদী হয়ে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেন। এর মধ্যে ১৮ আসামির পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারের তথ্যানুযায়ী, বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ৩৩ প্রভাবশালী ইয়াবা ব্যবসায়ী ও হুন্ডিচক্রের নাম প্রকাশ করেন সাইফুল করিম। এর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির দুই ভাই মৌলভী মুজিব ও আবদুল শুক্কুর, ফুফাত ভাই রাসেল, টেকনাফ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, তার ছেলে টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া, টেকনাফের হুন্ডিসম্রাট জাফর আলম ওরফে টিটি জাফর, তার ছোট ভাই গফুর, নাজিরপাড়ার ইয়াবা ডন নুরুল হক ভুট্ট, এনামুল হক মেম্বারসহ অনেকের নাম রয়েছে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল করিম স্বীকার করেন, আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীর চলমান মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার পর থেকে তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। পলাতক থেকেও এলাকার ইয়াবা ব্যবসার সিন্ডিকেট নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে আমদানি পণ্যের ভেতরে লুকিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবা ট্যাবলেট তিনি নিয়ে আসেন। তখন থেকেই টেকনাফসহ সারাদেশে ইয়াবার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার অন্যতম সহযোগী ছিল টেকনাফের হুন্ডিসম্রাট জাফর আলম ওরফে টিটি জাফর। তার মাধ্যমে হুন্ডির টাকায় বাংলাদেশে ইয়াবার চালান আনা হতো এবং সিন্ডিকেট সদস্য ও সহযোগীদের মাধ্যমে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। মামলার আসামিরা যৌথ মূলধন বিনিযোগ করে ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি কিনে দখল নিয়ন্ত্রণ করত। তবে মামলার এজাহারে টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, পুলিশের কোনো কর্মকর্তা কিংবা সাংবাদিকের নাম নেই।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘সাইফুল করিম মৃত্যুর আগে পুলিশের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকটি সিন্ডিকেটের ইয়াবা ও হুন্ডিচক্রের সদস্যদের নাম বলে গেছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ এদিকে সাইফুল করিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার পর প্রভাবশালী ইয়াবাকারবারি এবং মামলার আসামিরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। মৌলভী মুজিব এতদিন টেকনাফে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও কিছুদিন ধরে মিয়ানমারের মংডুতে অবস্থান করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ ও তার ছেলে শাহজাহান চেয়ারম্যান আত্মগোপন করেছে ঢাকায়। নুরুল হক ভুট্ট কক্সবাজারের একটি আস্তানায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় ১৮টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে টেকনাফ থানার পুলিশ নুরুল হক ভুট্ট, তার এক ভাই ও বাবার ৩১ কোটি টাকার স¤পদ জব্দ করে। এর মধ্যে আছে দুটি আলিশান ভবন ও ২০ একর জমি।

উৎসঃ ‌‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে: কাদের সিদ্দিকী


সংসদে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের দেয়া আলটিমেটাম ইস্যুতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, রাজনীতি করতে হলে জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হবে। অবস্থান পরিষ্কার থাকতে হবে। বিএনপিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।

সোমবার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। তবে জোটের দুই শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার অনুপস্থিতিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এখানে মান অভিমান নয়। এখানে জনআস্থার বিষয়টি জড়িত। একেক সময় একেক কথা আর একেক রকম সিদ্ধান্ত নিলে মানুষের কাছে মুখ দেখানো যায় না’।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করা যায় না। এই রাজনীতি আমি করিও না। আমি সোজাসাপ্টা মানুষ। আমি কম বুঝি। আপনাদের মতো আমার এত বুদ্ধিও নাই’।

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, রাজনীতি করতে হলে জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হবে। অবস্থান পরিষ্কার থাকতে হবে। বিএনপিকে তার অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে’।

কাদের সিদ্দিকীর এই বক্তব্যের পর আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আমরা আবার বসব। প্রয়োজনে ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতেই এ নিয়ে আরও আলোচনা করব। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার, দেশের মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে। আমরা আমাদের রাজনীতি ঠিক করে এগুতে পারলে, ঠিকমতো মাঠে নামতে পারলে- সরকার বাধ্য হবে পিছু’ হটতে’।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে নিজেদের এমপিদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রথমে গণফোরামের দুজন এমপি শপথ নেন। তখন এ দুইজনের কড়া সমালোচনা করেন বিএনপি নেতারা।

পরে শপথ নেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে বিএনপি থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সংসদ সদস্য শপথ নেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জানিয়ে দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সাতজনের শপথ গ্রহণের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে ৮ জুন ফ্রন্ট ছেড়ে দেবে তার দল।

সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী এক মাসের মধ্যে যে যে অসঙ্গতি আছে, তা সঠিকভাবে নিরসন না হলে ৮ জুন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে’।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জেএসডির কেন্দ্রীয় নেতা শহিদ উদ্দীন আল মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহেদ উর রহমান, মমিনুল ইসলাম, বিকল্প ধারার একাংশের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমীন বেপারী, মহাসচিব অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌চাঁদ দেখা নিয়ে সরকারের নাটকীয়তার পর উন্নত প্রযুক্তির ৫০ লাখ টাকার যন্ত্র কিনবে!


চাঁদ দেখতে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্র কিনবে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এবার ঈদুল ফিতরের আগে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ধর্ম মন্ত্রণালয়– সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

তারা আরও জানায়, চাঁদ দেখার জন্য থিওডোলাইট জাতীয় যন্ত্র কেনা হবে। প্রতিটির দাম পড়বে ৫০ লাখ টাকার মতো।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি গত ২৯ রমজান প্রথমে ঘোষণা দেয় ওই দিন দেশের কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ঈদ হবে ৬ জুন। কিন্তু তারাবিহর নামাজের পর রাত ১১টার দিকে আবার কমিটি ঘোষণা দেয় চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ হবে ৫ জুন। শেষ পর্যন্ত গত বুধবার দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিটির একাধিক সদস্য এবারের ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা নিয়ে কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে প্রশ্ন তোলেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সচিব আনিছুর রহমান বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

তিনি কমিটিকে বলেন, ৪০-৪৫ জন আলেমের পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রথমবার দেওয়া ঘোষণার আগে দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। তখন আলেম-ওলামারা মত দেন, সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যাওয়ার সঙ্গে এ দেশের ঈদের সম্পর্ক নেই। দেশে চাঁদ দেখা যেতে হবে। এ কারণে প্রথম ঘোষণা আসে।

পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি চাঁদ দেখতে পেয়েছেন। এ কারণে চাঁদ দেখা যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে কেন আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার করা হবে না- সে প্রশ্নও বৈঠকে আসে। তখন ধর্মসচিব বৈঠকে জানান, চাঁদ দেখার জন্য থিওডোলাইট জাতীয় যন্ত্র কেনা হবে। প্রতিটির দাম পড়বে ৫০ লাখ টাকার মতো।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি রুহুল আমীন মাদানী জানান, তারা মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করে দিয়েছেন যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিতর্ক তৈরি না হয়। ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তির টেলিস্কোপ ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। টেলিস্কোপ থাকলেও তা আধুনিক নয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা চাঁদ দেখার জন্য আধুনিক যন্ত্র কিনবে।

তিনি বলেন, বৈঠকে আসন্ন পবিত্র হজ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যাতে সুষ্ঠুভাবে হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, সে ব্যবস্থা করার সুপারিশ করা হয়েছে। এবার হজযাত্রীদের ইমিগ্রেশন ঢাকায় হবে। বিমানের ফ্লাইটেও কোনো সমস্য হবে না বলে তারা আশা করছেন।

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হজ ক্যাম্পের সিটসহ অন্যান্য সমস্যা, ফ্লাইটের সিডিউল সঠিক সময়ে না হওয়া এবং সৌদি আরব যাওয়ার পর বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিরসন করার জন্য সংসদীয় কমিটি ও মন্ত্রণালয়ের একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়।

কমিটির সদস্য শওকত হাচানুর রহমান, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, এইচ এম ইব্রাহিম, তাহমিনা বেগম ও বেগম রত্না আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ঘুষ লেনদেন: ডিআইজি মিজান ও দুদক কর্মকর্তা বাছিরের কী শাস্তি হবে?


শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও তথ্য পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে ঘুষ লেনদেনের কারণে ডিআইজি মিজান ও দুদক কর্মকর্তা বাছিরের কী ধরনের শাস্তি হবে?

সোমবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘অসদাচরণের বিভিন্ন ধরনের দণ্ড আছে তার মধ্যে গুরুদণ্ড, মাঝারি দণ্ড ও লঘু দণ্ড রয়েছে। তবে এখনই এ বিষয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তি বলছেন ঘুষ দিয়েছেন এনামুল বাছির বলছেন ঘুষ নেইনি।’

তিনি বলেন, কমিশনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি অনৈতিক বিষয়ে জড়িয়ে পড়েন তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অডিওতে আমাকে জড়িয়ে ফেললে কী করবেন? জড়িয়ে ফেললে জড়িয়েছে আর কি। ঘুষ দেয়ার অভিযোগে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘সে ব্যাপারটি তদন্ত করতেই কমিটি। নিয়ম আইনের মধ্য থেকে একটি অনুসন্ধান করতে হবে তারপরে পরবর্তী ব্যবস্থা।

ডিআইজি মিজানের যে ঘুষ দেয়ার দাবি যদি দেখেন যে সেটা সত্য তখন কি আপনারা তার বিরুদ্ধে মামলায় যাবেন কিনা জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘ডেফিনেটলি। এ ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন হবে না।

এনামুল বাছিরের সম্পদ অনুসন্ধান করা হবে জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, সেটা ডিফারেন্ট ইস্যুজ। তদন্ত কমিটি যদি মনে সেটা করা দরকার তাহলে সেটা করবে।

সাংবাদিকদের দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, যে অডিও রেকর্ডের বিষয়টি মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে সেটা ফরেনসিক ছাড়া যাচাই করা মুশকিল।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তারা যেহেতু কোনো রিপোর্ট দাখিল করেনি তাই খন্দকার এনামুল বাছিরকে ওই অনুসন্ধানের দায়িত্ব (ডিআইজি মিজানুর রহমানের জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ) থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এ ছাড়াও ওই অভিযোগ অনুসন্ধানে নতুন একজন পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রীর সম্পদের বিষয়ে যতটুকু অনুসন্ধান হয়েছে তার ভিত্তিতেই যাচাই-বাছাই করে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা শেষ করবে।

এ ঘটনায় দুদক সম্পর্কে মানুষের আস্থা সংকট দেখা দেবে কিনা জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনে ৮৭৪ জন কর্মকর্তা রয়েছে। সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নেয়া সম্ভব নয়। আমরা যখনই সংশ্লিষ্ট পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি সঙ্গে সঙ্গেই এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি ও ব্যবস্থা নিয়েছি। তাই আমি মনে করি জনগণের আস্থা সংকটের কিছু নেই।

ডিআইজি মিজানকে সাসপেন্ড করার পর তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ক্লোজড করা ছিল, তারপরও কীভাবে তিনি এত টাকা লেনদেন করলেন?-এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘যখন ঘুষ লেনদেনের বিষয় আসবে তখন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিশ্চয়ই জিজ্ঞেস করবে এত টাকা তিনি কোথায় পেলেন? এই টাকার উৎস কী? এই টাকা যদি আপনিই দিয়ে থাকেন আপনারই উৎস কী? সবকিছুই আসবে।’

দুদকে কি কোনো গোয়েন্দা কার্যক্রম নাই যে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা যায়? এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, গোয়েন্দা কার্যক্রম আছে বলেই তো ২২-২৫ জন কর্মকর্তাকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং অ্যাকশন নেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় কমিশন বিব্রত কিনা জানতে চাইলে বলেন, না না, কেন কমিশন বিব্রত হবে। কমিশন কি কোনো ঠুনকো জিনিস নাকি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে বিব্রত হবে। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেয় না, নিবেও না। তবে দায়ী ব্যক্তির অপরাধ আমলে নেয়া হয়েছে বলেই তো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সংসদকে ‘অবৈধ’ বলার ব্যাখ্যা দিলেন আ স ম রব


বর্তমান সংসদকে ‘অবৈধ’ বলার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। এ সময় তিনি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় জোটের শরিক জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় এ বৈঠক শুরু হয়।

প্রায় ঘণ্টাখানেক বৈঠকের পর আ স ম আবদুর রব সাংবাদিকদের সামনে সরকারের বিভিন্ন ‘অনিয়ম’, ‘দুর্নীতির’ চিত্র তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি সংসদকে ‘অবৈধ’ বলার পরও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিতদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন।

আ স ম রব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ কারাগারে, তিনি যেখানে চিকিৎসাধীন আছেন সেখানে বোমা পাওয়া গেছে। তার জীবন হুমকির মুখে। আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। লক্ষাধিক মামলা রয়েছে নেতাকর্মীদের নামে। সংসদে এসব বিষয়ে আলোচনা করতেই নির্বাচিতরা শপথ নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনগণের ঐক্য, ‘জনগণের স্বার্থেই’ তারা সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে এসেছেন।

আ স ম রব বলেন, পরবর্তীতে ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারের বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ীর কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক বীর হাবিবুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম আহ্ববায়ক ডা. জাহিদুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের নেতা মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার আদালত স্থানান্তরের বিরুদ্ধে রিট শুনানি মঙ্গলবার


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের জন্য পুরান ঢাকার কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার চেয়ে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।

আজ শুনানিতে সম্পূরক নথিপত্র দাখিল করার জন্য সময় চান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এর পর আদালত শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করেন।

হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সোমবার এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনালের মুরাদ রেজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

ব্যারিস্টার মীর হেলাল জানান, সম্পূরক নথিপত্র দাখিল করার জন্য সময় চাওয়া হলে আদালত শুনানির জন্য কালকের দিন ঠিক করে দেন।

২৬ মে আদালতের অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আদালত স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করেন।

পরের দিন রিটের শুনানি করতে গেলে মামলায় হাইকোর্টের আদেশের পর দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পক্ষভুক্ত করা হয়।

২৮ মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ মামলাটি ১০ জুন পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এর আগে আদালত স্থানান্তরে জারি করা গেজেট বাতিল চেয়ে গত ২১ মে আইন সচিবকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়। সে নোটিশে গত ১২ মে জারি করা গেজেট বাতিলে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে বলা হয়, এই সময়ের মধ্যে গত ১২ মে জারি করা এ-সংক্রান্ত গেজেটটি প্রত্যাহার বা বাতিল না করা হলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। সে অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে কোনো জবাব না পেয়ে ২৬ মে রিট আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে বৈঠকে বসছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

দূরত্ব ঘুচিয়ে ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’ নিরসন করে ফের রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৈঠকে বসছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। আজ জেএসসি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় মিলিত হবেন তারা।

এ বৈঠকে ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আজকের বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোটের শরিকদের মধ্যে নানা ইস্যুতে সৃষ্ট সংকট, দূরত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করার উদ্যোগ নেয়া হবে।আলোচনা হবে রাজপথে নামার নতুন কর্মসূচির বিষয়েও।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামা জোটটি নির্বাচনে আটটি আসনে জয়লাভ করে।

নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ফল বর্জন ও সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ঐক্যফ্রন্ট। জোট শরিকদের না জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বিএনপি ও গণফোরামের নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেন। এ নিয়ে ফ্রন্টের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এসব কারণে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত আর মাঠে দেখা যায়নি তাদের।

জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোনো কর্মসূচি না থাকা এবং বিএনপি ও গণফোরামের সদস্যদের সংসদে যোগদান নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভেতরে এক ধরনের চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

পাশাপাশি বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ এবং জোটের আরেক শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর জোট ছাড়ার আলটিমেটামের মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসে। ফলে কার্যত থমকে দাঁড়ায় জোটের যাবতীয় কর্মকাণ্ড।

জানা গেছে, এই অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘদিন পর বৈঠকে বসছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। এর আগে তারা ঘরোয়াভাবে কয়েক দফা বসেছেন, কথাও বলেছেন নিজেদের মধ্যে। প্রথমে ১২ জুন বৈঠক ডাকা হলেও পরে তা এগিয়ে ১০ জুন নির্ধারণ করা হয়।

ঈদের পর দিন এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন জানান, ঐক্যফ্রন্ট ভাঙছে না, জোটের পরিধি আরও বাড়বে। পাশাপাশি রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ঘোষণা দেন ড. কামাল হোসেন।

সেই প্রস্তুতি হিসেবে আজকের বৈঠক বলে জানিয়েছেন জোট সংশ্লিষ্ট নেতাদের কেউ কেউ। এতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিগত দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে।

জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য ধরে রাখতে বিএনপির আন্তরিকতার কমতি নেই। এ বিষয়ে ড. কামাল হোসেনও ইতিবাচক। ঈদের পর দিন দলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে আগামী দিনের আন্দোলন সংগঠিত করার আহ্বান জানান। ডিসেম্বরের মধ্যে ফল আনতেও তাগাদা দেন ড. কামাল হোসেন। এর অংশ হিসেবেই অভ্যন্তরীণ সংকট দূর করে নিজেদের ঐক্য সুসংহত করার পাশাপাশি নয়া উদ্যমে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বৈঠক হলেই ঐক্যফ্রন্টের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে মনে করছে জোটের শরিক দলগুলো। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজকের বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। প্রশ্ন উঠলে তিনি উত্তর দেবেন— এ প্রস্তুতি তার রয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ঐক্যফ্রন্ট কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, বিষয়টি ঐক্যফ্রন্টের বড় দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। পাঁচ মাস নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকলাম, সে নিষ্ক্রিয়তা ভাঙতে পারে বিএনপি। তারা কোনো কারণেই হোক উদ্যোগ নিচ্ছে না। আশা করি, বিএনপি দ্রুত এগিয়ে আসবে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কর্নেল (অব.) অলি আহমদের বাসায় চীনা রাষ্ট্রদূত


লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু।

রোববার রাতে ওলির মহাখালীর ডিওএইচএসের বাসায় তারা এই বৈঠক করেন।

জানতে চাইলে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম যুগান্তরকে বলেন, এটাকে ঠিক বৈঠক বলা চলে না। সৌজন্য সাক্ষাত।

তিনি বলেন, চীনের রাষ্ট্রদূতের সম্মানে আমাদের প্রেসিডেন্ট নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে চলমান রাজনৈতিক বিষয় ছাড়াও দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে প্রতিহিংসা বললেন মির্জা ফখরুল


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে নিয়ে করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি একে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর জাপান, সৌদি আরব ও ফিনল্যান্ড সফর নিয়ে আজ রোববার গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারেক রহমানকে লন্ডনে থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নাম নিতে ঘৃণা লাগে। এ ছাড়া বলেন, আজ হোক কাল হোক এক দিন না একদিন তাঁর (তারেক রহমান) শাস্তি কার্যকর হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খানের মাধ্যমে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন তা শিষ্টাচার বহির্ভূত। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের বক্তব্যের আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

উৎসঃ ‌‌‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ‌শপথ গ্রহণ শেষে যা বললেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা


শপথ নিয়েই সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, খুব খুশি হবো আমার সংসদ সদস্য হওয়ার মেয়াদ একদিনের বেশি না হলে।শিগগিরই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের বিষয়ে জোর দেন এই নারী এমপি।

রোববার দুপুর ১২টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ ভবনে তাঁর কার্যালয়ে রুমিন ফারহানার শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানে চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও সংসদ সদস্য ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শপথ শেষে রুমিন বলেন, এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। গঠিত হওয়ার পর আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই সংসদকে অবৈধ বলেছি। আমি এখনও তা বলছি।

অবৈধ বলছেন তাহলে কেন শপথ নিলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন বলেন, ‘বিষয়টি খুব পরিষ্কার। এটা হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক স্পেস। আমাদের কথা বলার জায়গাগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। সেই অর্থে দেখতে পাচ্ছি সংসদ একটি ভালো অ্যাভিনিউ যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারি আমাদের দলের কথা, দেশের কথা ও মানুষের কথা বলার জন্য। আর সেই স্পেসটা ব্যবহার করার জন্য আমাদের এই সংসদে আসা।

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মামলার মেরিট, তার বয়স, সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় তিনি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য। তাকে জামিন বঞ্চিত করে কারাগারে রাখা হয়েছে এর পুরোটাই বেআইনি। এবং তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। নিশ্চয়ই সেই বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে কথা বলবো।

তিনি বলেন, এই সংসদ অবৈধ।নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পক্ষে কথা বলতেই সংসদে যোগ দিয়েছে বিএনপি।

একাদশ সংসদে আনুপাতিক হারে বিএনপি একটি মাত্র সংরক্ষিত আসন পেয়েছে। সেই আসনে বিএনপি রুমিনকে মনোনয়ন দিয়েছে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির সহআন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক।

টেলিভিশন টকশোর পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে মনোনয়ন চান।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আবদুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। নিজ এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিতি না থাকলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার পরিচিতি রয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, ভাষাসংগ্রামী অলি আহমদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। তিনি দলীয় বক্তব্য জাতিকে জানাতে পারবেন।

৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসনে জয়লাভ করে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকি সবাই শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন।

এ ক্ষেত্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, দলটিকে একটি আসন বণ্টন করে দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌আ’লীগ নেতারা মিথ্যাচার দিয়ে ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারদর্শী: রিজভী


আওয়ামী নেতারা চরম মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারঙ্গম বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, চরম মিথ্যাচার আওয়ামী লীগ ও সরকারে পদোন্নতির একমাত্র মাপকাঠি। আওয়ামী লীগে ব্যক্তির যোগ্যতা ও মেধার ইন্টিগ্রেটির কোনো বালাই নেই।

‘আওয়ামী লীগের নেতাদের মনস্তত্ব বিশ্লেষণে যেটি পাওয়া যায় তা হলো ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড, চরম মিথ্যাচার, অপরাধ করেও অনুশোচনাহীন, অগভীরতা, পরজীবীর মতো আচরণ এবং ব্যর্থতার দায়িত্ব নিতে অপারগতা।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির এ নেতা বলেন, একবার তিনি মন্ত্রিত্ব খুইয়ে এবারের মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন শুধু অবান্তর, অবিরল ও মিথ্যাচারের প্রতিভা প্রমাণ করে।

তিনি আরও বলেন, বিএসএমএমইউ (পিজি) একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ওই এলাকায় তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গোয়েন্দাদের সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকার কথা। যেখানে সরকারি অনুমোদন ছাড়া কাকপক্ষিও ঢুকতে পারে না; সেই বিএসএমএমইউতে বোমাসদৃশ্য বোতল উদ্ধারের ঘটনায় তথ্যমন্ত্রী এখন বিএনপির যোগসূত্র খুঁজছেন।

‘এ জন্যই বলেছি যে, আওয়ামী নেতারা চরম মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারঙ্গম। তথ্যমন্ত্রীর তো ভুলে যাওয়ার কথা নয়, শেরাটনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে বিএনপির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে সারা দেশে গাড়িতে পেট্রল বোমা হামলা কারা করেছিল, বিহঙ্গ গাড়িতে পেট্রল হামলা কারা করেছিল, যা পরবর্তী সময় আওয়ামী নেতারাই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এ স্বীকারোক্তির কথাটি তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করলেন না কেন?’

রিজভী বলেন, নরসিংদী রোডের বিআরটিসি বাস আজিমপুরে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছিল কারা? এসব করেছিল যারা, তারা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও রাষ্ট্রযন্ত্র, যা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। নারায়ণগঞ্জে পেট্রল বোমা হামলায় যুবলীগ নেতারা কীভাবে আটক হয়েছিলেন, রাবিতে ছাত্রলীগ কীভাবে বোমা হামলার স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করেছিল।

‘সুতরাং পেট্রল বোমা কালচার আওয়ামী লীগের আবিষ্কৃত, সেটি তথ্যমন্ত্রী এড়িয়ে গেলেও দেশবাসী ঠিকই জানেন,’ যোগ করেন তিনি।

বিএনপির এ নেতা বলেন, বিএসএমএমইউতে পেট্রল বোমাসদৃশ্য বোতলও ক্ষমতাসীন মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এটি কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, এটিও দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন!


গত বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি ছবি।

লাখো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার করতে দেখা গেছে।

ছবিটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন নেটিজেন।

শেয়ার করা পোস্টে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্যে করছেন অনেকে। তবে এসব মন্তব্যের মাঝে নেতিবাচকই বেশি দেখা গেছে।

কৃষিমন্ত্রীর ভাইরাল সেই ছবিতে দেখা গেছে, খোলা একটি নৌকার পাটাতনে মুখোমুখি দুটি সোফা পাতা রয়েছে। আর একটি সোফায় হাস্যোজ্জ্বল মুখে বসে আছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তার সঙ্গে নৌকায় নারী-শিশুসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।

নৌকাটি ঘন জঙ্গলের পাশ কেটে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। বেশ খোশ মেজাজে রয়েছেন মন্ত্রী।

কৃষিমন্ত্রীর এই ছবিকে ঘিরে নানা রকম মন্তব্য করা হয়েছে।

অনেকে লিখেছেন, ‘আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য এ নৌকা ভ্রমণেও যদি কৃষিমন্ত্রীর সোফার প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি কৃষকের সুখ-দুঃখ কীভাবে অনুভব করবেন।’

সমীরণ দেবনাথ নামে একজন লিখেছেন, ‘কৃষিমন্ত্রী হবেন মাটির মানুষ। যার মাটির সঙ্গে সখ্য থাকবে। অথচ ইনি দেখছি এর উল্টো।’

সৈয়দা তাজমিরা আখতার নামে একজন কমেন্ট করেছেন, ‘এইসব কর্মকাণ্ড দেখে হতাশ হয়ে যাচ্ছি। এরা নিজেদের জনগণের সেবক মনে করেন না।’

শামীম আহমেদ লিখেছেন, ‘এখনতো মন্ত্রী, তাই হয়তো একটু বাড়তিই উঠলেন এই আর কী…..’

ফুয়াদ লিখেছেন, ‘নৌকায় উঠে এমন রাজকীয় ভঙ্গিতে এর আগে কাউকে বসতে দেখিনি। হয়তো এর মাধ্যমে ড. রাজ্জাক জানালেন, তিনি আমাদের মতো সাধারণ নাগরিক নন, তিনি মন্ত্রী, তিনি ভিআইপি।’

কেউ কেউ ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর অমিল খুঁজে পেয়েছেন।

প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে (সাবেক কৃষিমন্ত্রী) সবকিছুতে ইনি উল্টো ডিগ্রির। কৃষিমন্ত্রী হিসেবে ইনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি ভুল চয়েস।’

একজন ব্যাঙ্গ করে লিখেছেন, মন্ত্রীর এই প্রমোদতরী ভ্রমণের সময় ওই আশপাশের খালগুলোর নৌকা আটকে রাখা হয়েছিল কিনা। নাকি তিনি উল্টো পথ দিয়ে যাচ্ছেন?

একটি ফেসবুক গ্রুপে লেখা হয়েছে, ‘দেশে যখন ধান কাটতে টাকা না থাকায় কৃষক জমিতে আগুন দিচ্ছে, ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা ঈদ করতে পারছে না, আত্মহত্যাও করতে চেয়েছেন কয়েকজন কৃষক, তখন মাননীয় মন্ত্রী নৌকাতে সোফা বিছিয়ে ভ্রমণে বেরিয়েছেন!

কৃষকদের এই অবস্থায় কৃষিমন্ত্রীর এমন নৌকা ভ্রমন কতটা কাঙ্খিত দেশের মানুষের কাছে?’

এমন সব নেতিবাচক ও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্যের ভিড়ে ইতিবাচক মতামতও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কয়েকজন।

কেউ কেউ মন্ত্রীর সমর্থনে বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করতে অনুরোধ করেছেন।

সুব্রত নন্দী নামে একজন লিখেছেন, ‘ভাই উনি সহজ-সরল মানুষ। চাটুকাররা হয়তো নৌকায় সোফা বসিয়ে ওনাকে বসতে বলেছেন। উনি অতো কিছু না ভেবে বসে পড়েছেন।’

একজন লিখেছেন, ‘এটা দৃষ্টিকটু হতে যাবে কেন? ড. আব্দুর রাজ্জাক একজন খাঁটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তবু যদি কারও কাছে বিষয়টি খারাপ লেগে থাকে তাহলে তার ভুল ভেবে মাফ করে দিয়েন।’

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটিতে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত রাতারগুল ভ্রমণে গিয়েছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ভ্রমণের আয়োজন করেন কানাডা আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার আহমেদ।

এ বিষয়ে সারওয়ার আহমেদ বলেন, ‘কৃষিমন্ত্রী স্বপরিবারে বৃহস্পতিবার সিলেট পৌঁছান। সেখান থেকে সেদিনই তিনি রাতারগুল ভ্রমণে যান। তবে নৌকার ওপর সোফা তুলে কৃষিমন্ত্রীর ভ্রমণের ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।’

নৌকায় সোফা তোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সোফা ও নৌকার আয়োজন করে। মন্ত্রী এ বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রণালয়কে দায়ী করে বেশ ফুঁসে রয়েছেন সাধারণ জনতা। গত ১৩ মে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া গ্রামের আবদুল মালেক সিকদার নামের এক কৃষক নিজের পাকা ধানে আগুন দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে এলে দেশব্যাপী তোলপাড় হয়। কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশবাসী।

তুমুল সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে ফেসবুকে।

এ ঘটনার পর সমস্যা নিরসনে চাল আমদানি বন্ধ করে চলতি বছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টন চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী।

তবুও অনেকে সমালোচনা করেই যাচ্ছেন। কৃষিমন্ত্রীর এবার এম ছবিটি যেন সেই সমালোচনার নৌকার পালে আবার হাওয়া দিল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here