মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর আগেই সিন্ডিকেট চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে তাদের দখলে নিতে

0
93

মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে মারিং কাটিং। দুদেশের সরকারের সিদ্ধান্তকে পাস কাটিয়ে একটি চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে বাজারটি তাদের দখলে নিতে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার স্থগিতের প্রায় এক বছর অতিবাহিত হতে চলেছে।

এখনও মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষে বিদেশী শ্রমিক নেয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসলেও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন চলতি মাসেই সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনার কথাকে সামনে এনে চক্রটি আট-ঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বন্ধ শ্রমবাজার ইস্যুতে চলতি মাসের যে কোনো সময় মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন। এ সফরেই ভিসা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের যে পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া এবার চালু হবে, তাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি যেন বাছাই হয়, লোক পাঠানোর খরচ যেন সাশ্রয়ী হয়, কোথাও কোনো আইন যেন লঙ্ঘন না হয়- তা নিশ্চিত করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের কার্যক্রম ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশসহ সোর্স কান্ট্রিভুক্ত ১৬ দেশ থেকেই বিদেশী কর্মী আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে আবার কোন প্রক্রিয়ায় বিদেশী কর্মী নেয়া শুরু হবে সে জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের নির্দেশে মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কেডিএন) মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ করছে। তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেই স্বল্প অভিবাসন ব্যয়ে দেশটি শ্রমিক নেয়ার কার্যক্রম শুরু করবে বলে সে দেশে থাকা রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের একাধিক বৈঠকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মীর অভিবাসন খরচ, বেতন, থাকা, চিকিৎসা, দেশে ফিরে যাওয়া এবং দীর্ঘ স্থায়ী কল্যাণের বিষয়ে কাজ করছে মালয়েশিয়া সরকার। তাদের নিকট শ্রমিকের প্রতারণা ও অবহেলার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা নিয়েছে। এসব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাধা কি এবং করণীয় কি তা মালয়েশিয়া সরকার দেখছে। আমাদের পক্ষে সাজেশন দেয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সফরকালে এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আশাকরি দ্রুতই কর্মী নিয়োগ শুরু হবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে হাই কমিশনার বলেন, এখনো যারা আকাশপথে অথবা অবৈধভাবে থাকার জন্য মালয়েশিয়ায় আসার চিন্তা করছে, তারা যেনো ভুলেও এভাবে না আসে। এখন অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আসা মানেই বিপজ্জনক। আর অবৈধভাবে এলে মালয়েশিয়া সরকার কোনোভাবেই তাদের কাজ করার সুযোগ দেবে না। বরং দেশের মান কমবে।’

এ দিকে চলতি বছরের ১৪ মে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী (তখন প্রতিমন্ত্রী) ইমরান আহমদ মালয়েশিয়া সফরে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তানশ্রি মুহিউদ্দিন ইয়াসিন ও মানবসম্পদ মন্ত্রী এম কুলাসেগারানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের অগ্রগতি হিসেবে ২৯ ও ৩০ মে মালয়েশিয়ায় দুদেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আরেকটি বৈঠক হয়। কিন্তু সেখান থেকেও শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে কোনো রূপরেখা পাওয়া যায়নি।

৭ জুলাই মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুউদ্দিন বিন আব্দুল্লাহর বাংলাদেশ সফরের বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানালেন, আগস্টেই খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদও একই কথা বলেন। আগস্ট শেষ হলেও শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। এবার অপেক্ষার চোখ সেপ্টেম্বরে।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কর্মী প্রেরণের আগেই মেডিকেল সেন্টার দখলে নিতে বেশ কিছুদিন ধরে নানা উপায়ে চেষ্টা তদবির চলছে। সেটার পর এখন ট্রেনিং সেন্টারের নতুন ইস্যু সামনে নিয়ে এসেছে একটি গ্রুপ। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি দখলের চেষ্টা করছে তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বায়রার এক নেতা বলেন, ২০ বছরের বেশি সময় মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাচ্ছি, এতোদিন তো সিআইডিবি লাইন্স বা সনদ লাগেনি। এখন নতুন করে এটিকে সামনে আনা হচ্ছে। এর কারণ, একটি গ্রুপ তাদেরকে (সিআইডিবি প্রতিনিধি) একটা পদ্ধতি বানাতে চাচ্ছে। তারা বলবে কর্মী যেতে তাদের নির্ধারিত এই কয়েকটি ট্রেনিং সেন্টারের সনদপত্র লাগবে। কোনো ট্রেনিং না করিয়েই, দেখা যাবে সনদের জন্য অতিরিক্ত ১০ টাকা করে দিতে হচ্ছে কর্মীদের। এমন হলে অভিবাসন ব্যয় বাড়বে এবং ব্যবসাও গুটি কয়েক মানুষের কাছে চলে যাবে। এর আগেও একটি শ্রমবাজারে এমন কাজ করা হয়েছিল। সিআইডিবি’র সনদ নিয়েই কি মালয়েশিয়ায় কর্মী যেতে হবে? আর এই প্রতিনিধি এনে বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার পরিদর্শন করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে কি জানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়? মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানালেন, এ বিষয়ে কিছুই জানেনা তিনি। কিছুই জানানো হয়নি মন্ত্রীকে। মন্ত্রী বললেন, যে কোনো পদ্ধতিই করুক না কেনো, সিন্ডিকেট হতে দেবো না। সিন্ডিকেটের খারাপ দিকটা আমরা জানি। কর্মী মারার সিন্ডিকেট আর হবে না।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ হাসিনা কি পারবে মোদিকে রুখে দিতে?


বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারিয়েছে। তারা এখন থেকে আর আসাম রাজ্যের নাগরিক নন। তারা এখন রাষ্ট্রহীন। এই ১৯ লাখের মধ্যে ৮ লাখ মুসলমান আর বাকী ১১ লাখ হিন্দু।

ভারত সরকার গত দুই বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, আসামে অনুপ্রবেশকারী ৪০ লাখ বাংলাভাষী রয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সময়ই হুমকি ধামকি দিচ্ছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদেরকে ঝেটিয়ে ভারত থেকে বিদায় করা হবে। তাদেরকে খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

সর্বশেষ গত শনিবার তারা ১৯ লাখ লোককে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও আসামের অর্থমন্ত্রী হৈমন্ত বিশ্বশর্মা রোববার বলেছেন, ১৪ লাখ লোককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ভারতের এই দাবিকে নাকচ করে বলেছে- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে কোনো নাগরিক ভারতে যায়নি। আসামে বাংলাদেশের কোনো লোক নেই। ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেবে না বলেও আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জানা গেছে, আসামের এই নাগরিক তালিকা প্রকাশের মূল টার্গেট হলো মুসলমান। আসাম থেকে মুসলমানদেরকে বের করে দেয়ার জন্য লক্ষ্য নিয়েই নরেন্দ্র মোদি এই এনআরসি করেছে। এর প্রমাণ হলো-আসাম রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলমানরা তুলনামূলক কম বাদ পড়েছে। এতে করে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বিজেপি নেতারা। আসামের বিজেপি সভাপতি রণজিৎ কুমার দাস বলেছেন-আমরা এই এনআরসির প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও আসাম পাবলিক ওয়ার্ক নামের দুইটি সংগঠন। যাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনআরসি করার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

মোদি-অমিত শাহ’র মূল টার্গেট হলো এই এনআরসির মাধ্যমে ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাই নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশকে বাংলাদেশে ঠেলা দেয়ার চেষ্টা করবে ভারত।

এখন প্রশ্ন হলো-ভারত যদি আসাম থেকে ৫ লাখ লোককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনা কি তা ঠেকাতে পারবে? ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি শেখ হাসিনার সরকার শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে? ভারত যদি জোর করে ঠেলে দেয় তাহলে বিজিবি কি সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে? এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি জোর করে কয়েক লাখ লোককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হবে না। কারণ, ভারতকে ঠেকানোর মতো নৈতিক শক্তি শেখ হাসিনার নেই। ভারতই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। অন্যথায় শেখ হাসিনা আরও আগেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেন। এখন ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়া শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হবে না।

তাদের মতে, দেশের সংকটের চেয়ে শেখ হাসিনার কাছে এখন তার দল ও নিজের সংকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশ গোল্লায় যাক, তার দরকার এখন ক্ষমতা। কারণ, ক্ষমতা হাত ছাড়া হলেই এক কঠিন বিপদের মুখোমুখি হবেন তিনি। তাই, ক্ষমতার জন্য তিনি আসামের ১০ লাখ লোককে জায়গা দিতেও রাজি হবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হিন্দু নেত্রী প্রিয়া সাহার মিথ্যা নালিশের সাথে ভারতের এনআরসি প্রকাশের যোগসূত্র দেখছেন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ করার পরেও প্রিয়া সাহকে শেখ হাসিনার সরকার কিছুই করার ক্ষমতা রাখেনি। আর যেহেতু প্রিয়া সাহাকে শেখ হাসিনা কিছুই বলতে পারেনি, সেহেতু ভারত বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের মত আচরণ করলেও শেখ হাসিনা কিছুই করতে পারবে না। বরং দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আসাম থেকে ঠেলে দেয়া ভারতীয় নাগরিকদের সাথে রোহিঙ্গাদের সাথে খাবার ভাগ করে খাওয়ার মত ঘোষণা দিলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়া ফেনী নদী থেকে ভারতের পানি উত্তোলন


বাংলাদেশের সম্মতি ছাড়া ফেনী নদী থেকে পানি নিয়ে যাচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সীমান্তের জিরো লাইনে পাম্প বসিয়ে নদীটি থেকে পানি উত্তোলন করছে দেশটি। পানি উত্তোলন না করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পানিসম্পদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম শহরের জনগণের খাবার পানি সরবরাহের জন্য ভারতীয় পক্ষ ফেনী নদী থেকে পানি চেয়েছিল ২০১০ সালে। ওই বছরের জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি পাম্পের মাধ্যমে চায় ভারত। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে মানবিক দৃষ্টিকোণে ভারতকে পানি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি বিধায় সে সিদ্ধান্ত ভারতকে আর জানানো হয়নি। এ সময়ে বাংলাদেশের অনুমতি ও সম্মতি ছাড়া পাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ কিউসেক পানি নদী থেকে উত্তোলন করা শুরু করে ভারত। ফলে বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়া পানি উত্তোলন এবং সীমান্তের শূন্য লাইনে স্থাপনা বা পাম্প বসিয়ে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করছে দেশটি।

যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে পানি উত্তোলন না করতে এবং সীমান্তের শূন্য লাইনে স্থাপনা অপসারণে ভারত কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা দেশটির প্রতিনিধি দলের কাছে জানতে চাওয়া হয়। ভারতের প্রতিনিধি দল জানায় যে, এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ পানি দিতে সম্মত হয়। কেউ খাবার পানি চাইবে, বাংলাদেশ সেটি দেবে না, বিষয়টি সে রকম নয়। তারা যে পরিমাণ পানি চেয়েছে তা ফেনী নদী প্রবাহের ২ থেকে ৩ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের সম্মতিতে পানি উত্তোলন করলে বিষয়টি ভালো হতো।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০১০ সালে ভারতকে পানি দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়। তবে সে সিদ্ধান্ত ভারতকে আর জানানোর সুযোগ হয়নি। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি এড়িয়ে চলতে পানিসম্পদ সচিব বা মন্ত্রী পর্যায়ে নির্ধারিত বৈঠকে বসেনি ভারত।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে আবারও পানি নেয়ার অনুরোধ জানায় ভারত। তবে এতদিন যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ের কোনো বৈঠক ছাড়া বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে পানি উত্তোলন করছে দেশটি। তবে তারা যাতে পানি উত্তোলন না করে সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি নোট ভারবাল (অনুরোধপত্র) পাঠানো হয়েছে।’

দীর্ঘ আট বছর পর চলতি বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ত্রিপুরার সাবরুমে খাবার পানির সংকট রয়েছে। ভারতের সাবরুম শহরের জনগণের খাবার পানি সরবরাহের জন্য ভারতীয় পক্ষের অনুরোধে মানবিক দৃষ্টিকোণে নিয়ে পানি দেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে কতটুকু পানি দেয়া হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

নোম্যান্সল্যান্ডে অবৈধভাবে ২৬টি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎচালিত লো লিফট পাম্প বসিয়েছে ভারত

বাংলাদেশ-ভারত পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার এবং ভারতের পক্ষে দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে যৌথভাবে সমীক্ষা এবং বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ভারতীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা; অন্যান্য অভিন্ন নদী যেমন- মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিবণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন; আপারা সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের ইনটেক চ্যানেলের (রহিমপুর খাল) অবশিষ্ট অংশের খনন কাজ বাস্তবায়ন; বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সম্প্রসারণ; বাংলাদেশের আখাউড়ায় সিঅ্যান্ডবি খাল ও জাজি নদী দূষণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা; পশ্চিম বাংলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাংগন নদীতে শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়া; বাংলাদেশের চিনিকল থেকে নির্গত তরল বর্জ্য দ্বারা পশ্চিম বাংলার মাথাভাঙ্গা-চূর্ণী নদী দূষণ; ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ত্রিপুরার সাবরুম শহরে ‘ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই স্কি’ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ভারত এ নদীর উৎপত্তিস্থল তাদের দেশে বলে দাবি করছে। ভারতের তরফ থেকে বলা হয়, এ নদীর উৎপত্তি ত্রিপুরা রাজ্যে। অথচ অনুসন্ধান ও সরজমিনে দেখা গেছে, এর উৎপত্তি মাটিরাঙ্গার ভগবানটিলায়। নদীর ১০৮ কিলোমিটারের কোনো অংশ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি। এর মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি আছে শুধু গঙ্গা নিয়ে। সেই গঙ্গা চুক্তিতে ন্যায্যতা মানা হচ্ছে না। ১৯৯৬ সালে সম্পন্ন গঙ্গা পানিচুক্তি অনুযায়ী লাদেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেয়ার কথা। অথচ কোনো কোনো বছরে মাত্র দেড় হাজার কিউসেক পানি পেয়েছে বাংলাদেশ। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে গত পাঁচ দশক ধরে। সর্বশেষ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তিতে রাজি হলেও তিস্তার পথে এখন বাধা পশ্চিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়৷ এ চুক্তি কবে হবে তা এখন কেউ বলতে পারছেন না। বাংলাদেশও একপ্রকার আশা ছেড়ে দিয়েছে।

৫৮টি আন্তর্জাতিক নদীর চারটি ব্যতীত সবগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ভারত হয়েই। ভৌগোলিক অবস্থার কারণে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশকে তার পানি আগ্রাসনের অসহায় শিকারে পরিণত করাটা সহজ হয়েছে।

উৎসঃ জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here