লন্ডনে যাওয়ার লোভে ৪০ শিল্পী ওয়েস্টিনে একত্রিত হয়ে বোকা! গুলশান থানায় জিডি

0
1570

যুক্তরাজ্যে লন্ডনে ‘বাংলাদেশ মেলা’ নামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের লোভ দেখিয়ে দেশের ৪০ জন তারকাশিল্পী, কলাকুশলীর পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নেয়ার পর মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

হুমকি দেয়া ব্যক্তি নিজেকে প্রবাসী বাংলাদেশি ও নাম জুবাইর বলে পরিচয় দিয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অংশগ্রহনের লোভ প্রতারিত হয়ে হুমকি পাওয়া শিল্পীদের মধ্যে আছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস, সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী, আগুন, কনা, দিনাত জাহান মুন্নী, আঁখি আলমগীর, ইমরান, গীতিকার কবির বকুল, অভিনেত্রী সোহানা সাবাসহ অনেকে।

হুমকি পাওয়া শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি ব্রিটিশ মোবাইলফোন নম্বর থেকে শিল্পীদের সবার মোবাইলফোনে বার্তা পাঠিয়ে এই হুমকি দেয়া হচ্ছে। মোবাইলফোনে পাঠানো এসব বার্তায় ‘জুবাইর’ নাম উল্লেখ করা হচ্ছে।

তবে কয়েকজন শিল্পী জানান, গত মাসে লন্ডন থেকে জুবাইর নামের এক ব্যক্তি নিজেকে প্রবাসী বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিয়ে তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। ফোনে তিনি জানান যে, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত লন্ডনে ‘বাংলাদেশ মেলা’ নামে সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন করা হবে। ৯ দিনের এই উৎসবে লন্ডনের তিনটি স্থানে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আর এ ব্যাপারে কথা বলতে জনৈক জুবাইর নামের ওই ব্যক্তি ৩ সেপ্টেম্বর, সোমবার ঢাকায় আসবেন বলে শিল্পীদের জানান। ওই দিন ঢাকায় এসে ওয়েস্টিন হোটেলে তাদের সঙ্গে কথা বলে অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন তিনি। সোমবার নির্ধারিত সময়ে ৩৫-৪০ জন তারকাশিল্পী হোটেল ওয়েস্টিনে চলে আসেন। এরপরই মোবাইলফোনে হুমকি দিয়ে হোটেলে উপস্থিত সবাইকে বার্তা পাঠান জুবাইর নামধারী ওই ব্যক্তি। ফলে তারা সবাই প্রতারিত হয়ে বোকা হয়ে যান।

বার্তায় জুবাইর অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী এবং ওই অভিনেত্রীর ভাই প্রতারণা করে তার কাছ থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি অনেক শিল্পীর কাছে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু সবাই এড়িয়ে গেছেন। তাই শিল্পীদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করেছেন। ৩ দিনের মধ্যে ওই দু’জনের কাছ থেকে সব টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন তিনি। তা না হলে কোনো শিল্পী যেন দেশের বাইরে যেতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা করবেন বলে হুমকি দেন ওই জুবাইর।

এরপর বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতেই শিল্পীদের পক্ষ থেকে গুলশান থানায় জিডি করা হয়।

এ ব্যাপারে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, এ বিষয়ে জিডি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

উৎসঃ সময় টিভি, নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘মশা মারা শিখতে সিঙ্গাপুর যাবে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা’


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, দেশকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে সিটি করপোরেশনগুলোর কর্মকর্তারা অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কযেকটি দেশ সফর করেছেন। তারা খুব শিগগির সিঙ্গাপুর যাবেন, সেখানে কীভাবে এই রোগগুলো প্রতিরোধ করা হচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করার জন্য।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জ‌্যেষ্ঠ সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) জন্য ২০০টি ফগার মেশিন, ১৫০টি হস্তচালিত মেশিন ও ৪০ হাজার লিটার মেলাথিয়ন কীটনাশক সরাসরি ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৫ কোটি ৩২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনে দ্রুততম সময়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধের জন্য এসব যন্ত্র ও কীটনাশক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এসব যন্ত্রপাতি ও কীটনাশক উত্তর সিটি করপোরেশনের হাতে পৌঁছবে। টেন্ডারের মাধ্যমে এগুলো সংগ্রহ করটা বেশ সময়সাপেক্ষ। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে এসব ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা কয়েকটি দেশ সফর করেছেন। তারা পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর যাবেন। সিঙ্গাপুরের একটি প্রকল্প আছে- মশাকে আকৃষ্ট করে তারা একত্রে মারে। তারা গর্ত করে সব মশা আকৃষ্ট করে সেখানে আনে, তখন সব মশা একসঙ্গে মারা হয়। আমাদের আগে মশা তাড়ানো হতো, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতো। তাই লাভ বেশি হয়নি। বর্তমানে পদ্ধতিতে মোটামুটি পরিবর্তন আসছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের ডেঙ্গু স্মরণকালের ভয়াবহতা দেখিয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের বিষয়টি জাতীয়ভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার। শুরুর দিকে সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় না থাকলেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জন্য এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব এখনো পাঠানো হয়নি। এবার শুধু উত্তর সিটির জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে। ডিএসসিসি যদি এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নেয় তাদের বিষয়েও একই সিদ্ধান্ত হবে। উত্তর সিটি করপোরেশন যেহেতু কিনছে, দক্ষিণেও হয়তো কিনবে। মশা মারার এ কার্যক্রম বছরব্যাপী চলবে। শীত বেশি হলে এত মশা থাকবে না।

অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে। সেগুলো কিছুটা পর্যালোচনা করার প্রয়োজন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে তা করে পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জানিয়েছি: ড. কামাল হোসেন


বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি কূটনীতিকদের জানিয়েছি। দেশের জনগণ কোন পরিস্থিতিতে আছে, আমরা তা তুলে ধরেছি- কূটনীতিকরা শুনেছেন।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের গুলশানের বাসায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের এ বৈঠক হয়। বুধবার গুলশান-২ নম্বরে ৩৬ রোডের ৯ নম্বর বাড়িতে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে এ বৈঠক শুরু হয়। আর শেষ হয় দুপুর ১২টার আগেই।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে ড. কামাল হোসেন জানান, কূটনীতিকদের সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুতে কথা হয়েছে। দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের কলংকিত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে ‘অবৈধ’ সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। ফলে দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এ বিষয়টিই কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে। এই সংকট উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রব বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, মঈন খানের বাসায় চায়ের আড্ডায় এসেছিলাম। এখানে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। অনির্বাচিত সরকারের কারণে দেশে যে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেটিই কূটনীতিকদের জানানো হয়েছে।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা কূটনীতিকদের বলেছি, দেশে গণতন্ত্র নেই। ভোট ডাকাতির সংসদ গঠনের মধ্য দিয়ে যত রকমের অনিয়ম সবই হচ্ছে। একটা লুটপাটের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়াবাড়ি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় একটি দেশ চলতে পারে না। এর থেকে মুক্ত হতে হলে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন প্রয়োজন। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ গঠিত হলেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে।

আপনাদের কথা শুনে কূটনীতিকরা কী বলেছেন, জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী বলেন, তারা তো এভাবে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেন না। তারা নোট নেন। তবে দেশের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তারাও সব কিছু দেখছেন।

খালেদা জিয়ার জামিন বারবার আটকে দেয়ার বিষয়েও কূটনীতিকদের অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া জামিন নিতে গিয়ে নিম্নআদালতের রায়ে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে পুনরায় কারাগারে নেয়ার বিষয় নিয়েও কূটনীতিকের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সূত্র জানায়, বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত, কানাডার উপরাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ বিরোধীদলীয় নেতার পদ পেতে দেবর-ভাবির লড়াই শুরু


জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ পেতে লড়াই শুরু করেছেন দেবর-ভাবি। দেবর জাতীয় পার্টির (জাপা) বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা করে চিঠি দেয়ার পরদিনই বুধবার ভাবি রওশন এরশাদ নিজেকে ওই আসনে বসানোর জন্য স্পিকারকে চিঠি দেন।

বুধবার বিকেলে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানের লেখা চিঠিটি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে পৌঁছে দেন দলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু।

সংসদের একাধিক ব্যক্তি বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি মুজিবুল হক চুন্নু। তবে স্পিকারের দফতরের এক কর্মকর্তা চিঠিটি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা নিয়োগ দেন স্পিকার।

এর আগের দিন মঙ্গলবার জাপার বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা করে সংসদে চিঠি দেন দলের কয়েকজন। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে পাঁচ সংসদ সদস্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর দপ্তরে গিয়ে এই চিঠি দেন। চিঠিতে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয় রওশন এরশাদকে।

জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরই দলটির কে হবেন চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, তা নিয়ে শুরু হয় রশি টানাটানি। দলের একটি পক্ষ ইতোমধ্যে জিএম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যানের পদ দিয়েছেন। এতে নাখোশ রওশন ও তার অনুসারীরা। এরপর শুরু হয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ। এ মতবিরোধের মধ্যেই জিএম কাদেরের পক্ষে বেশির ভাগ এমপির স্বাক্ষর নিয়ে সংসদে চিঠি জমা দিলেন তারা। সংসদে এখন সংরক্ষিতসহ ২৫টি আসন আছে জাতীয় পার্টির। দলের প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন হবে। এর মধ্যে ১৫ জনের স্বাক্ষর নিয়ে চিঠি জমা দেন তারা।

দলটির বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম কাদের স্বাক্ষরিত স্পিকারকে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘মহাত্ম আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানাচ্ছি যে, মহান জাতীয় সংসদে বর্তমানে জাতীয় পার্টির প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে। আপনি নিশ্চিয় অবগত আছেন যে আমাদের দলের চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা বিগত ১৪ জুলাই ২০১৯ তারিখে ইন্তেকাল করেছেন। ফলে মহান জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং পার্টির সংসদীয় দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যরা, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে ১৮ লালমনিরহাট-০৩ থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত আমি গোলাম মোহাম্মাদ কাদেরকে মহান সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়ন দেয়ার জন্য প্রস্তাব করছে।’

‘অতএব উপরোক্ত বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম এবং পার্টির সংসদীয় দলের মনোনীত সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে আমাকে নিয়োগ দানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আদেলুর রহমান, নাজমা আক্তার, শরিফুল ইসলাম ও জিন্না।

স্বামী এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায়ই স্ত্রী রওশন ও ভোট ভাই কাদেরের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। আর এর পেছনে দলের পদপদবি। যা সামাল দিতে দুজনের পদে নানা পরিবর্তন আনতে হয়েছিল এরশাদকে।কিন্তু এরশাদ মারা যাওয়ার পর তাদের দ্বন্দ্ব আরো প্রকট আকার ধারণ করে।

উৎসঃ জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ হাসিনা কি পারবে মোদিকে রুখে দিতে?


বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারিয়েছে। তারা এখন থেকে আর আসাম রাজ্যের নাগরিক নন। তারা এখন রাষ্ট্রহীন। এই ১৯ লাখের মধ্যে ৮ লাখ মুসলমান আর বাকী ১১ লাখ হিন্দু।

ভারত সরকার গত দুই বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, আসামে অনুপ্রবেশকারী ৪০ লাখ বাংলাভাষী রয়েছে। তারা বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতারা প্রায় সময়ই হুমকি ধামকি দিচ্ছেন যে, অনুপ্রবেশকারীদেরকে ঝেটিয়ে ভারত থেকে বিদায় করা হবে। তাদেরকে খুঁজে বের করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে।

সর্বশেষ গত শনিবার তারা ১৯ লাখ লোককে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে বিজেপির শীর্ষ নেতা ও আসামের অর্থমন্ত্রী হৈমন্ত বিশ্বশর্মা রোববার বলেছেন, ১৪ লাখ লোককে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ভারতের এই দাবিকে নাকচ করে বলেছে- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ থেকে কোনো নাগরিক ভারতে যায়নি। আসামে বাংলাদেশের কোনো লোক নেই। ভারত সরকার কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেবে না বলেও আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

জানা গেছে, আসামের এই নাগরিক তালিকা প্রকাশের মূল টার্গেট হলো মুসলমান। আসাম থেকে মুসলমানদেরকে বের করে দেয়ার জন্য লক্ষ্য নিয়েই নরেন্দ্র মোদি এই এনআরসি করেছে। এর প্রমাণ হলো-আসাম রাজ্যের বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মুসলমানরা তুলনামূলক কম বাদ পড়েছে। এতে করে চরম হতাশা প্রকাশ করেছে রাজ্যের বিজেপি নেতারা। আসামের বিজেপি সভাপতি রণজিৎ কুমার দাস বলেছেন-আমরা এই এনআরসির প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছে অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও আসাম পাবলিক ওয়ার্ক নামের দুইটি সংগঠন। যাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এনআরসি করার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

মোদি-অমিত শাহ’র মূল টার্গেট হলো এই এনআরসির মাধ্যমে ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাই নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশকে বাংলাদেশে ঠেলা দেয়ার চেষ্টা করবে ভারত।

এখন প্রশ্ন হলো-ভারত যদি আসাম থেকে ৫ লাখ লোককেও বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনা কি তা ঠেকাতে পারবে? ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কি শেখ হাসিনার সরকার শক্তভাবে দাঁড়াতে পারবে? ভারত যদি জোর করে ঠেলে দেয় তাহলে বিজিবি কি সীমান্তে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে? এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে।

তবে, বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি জোর করে কয়েক লাখ লোককে বাংলাদেশে ঠেলে দেয় তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে তা ঠেকানো সম্ভব হবে না। কারণ, ভারতকে ঠেকানোর মতো নৈতিক শক্তি শেখ হাসিনার নেই। ভারতই শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছে। অন্যথায় শেখ হাসিনা আরও আগেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেন। এখন ভারতের বিরুদ্ধে যাওয়া শেখ হাসিনার পক্ষে সম্ভব হবে না।

তাদের মতে, দেশের সংকটের চেয়ে শেখ হাসিনার কাছে এখন তার দল ও নিজের সংকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশ গোল্লায় যাক, তার দরকার এখন ক্ষমতা। কারণ, ক্ষমতা হাত ছাড়া হলেই এক কঠিন বিপদের মুখোমুখি হবেন তিনি। তাই, ক্ষমতার জন্য তিনি আসামের ১০ লাখ লোককে জায়গা দিতেও রাজি হবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তবে দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হিন্দু নেত্রী প্রিয়া সাহার মিথ্যা নালিশের সাথে ভারতের এনআরসি প্রকাশের যোগসূত্র দেখছেন। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী আচরণ করার পরেও প্রিয়া সাহকে শেখ হাসিনার সরকার কিছুই করার ক্ষমতা রাখেনি। আর যেহেতু প্রিয়া সাহাকে শেখ হাসিনা কিছুই বলতে পারেনি, সেহেতু ভারত বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের মত আচরণ করলেও শেখ হাসিনা কিছুই করতে পারবে না। বরং দুর্বল ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আসাম থেকে ঠেলে দেয়া ভারতীয় নাগরিকদের সাথে রোহিঙ্গাদের সাথে খাবার ভাগ করে খাওয়ার মত ঘোষণা দিলেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়া ফেনী নদী থেকে ভারতের পানি উত্তোলন


বাংলাদেশের সম্মতি ছাড়া ফেনী নদী থেকে পানি নিয়ে যাচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে সীমান্তের জিরো লাইনে পাম্প বসিয়ে নদীটি থেকে পানি উত্তোলন করছে দেশটি। পানি উত্তোলন না করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পানিসম্পদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ভারতের ত্রিপুরার সাবরুম শহরের জনগণের খাবার পানি সরবরাহের জন্য ভারতীয় পক্ষ ফেনী নদী থেকে পানি চেয়েছিল ২০১০ সালে। ওই বছরের জানুয়ারিতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি পাম্পের মাধ্যমে চায় ভারত। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ এক বৈঠকে মানবিক দৃষ্টিকোণে ভারতকে পানি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি বিধায় সে সিদ্ধান্ত ভারতকে আর জানানো হয়নি। এ সময়ে বাংলাদেশের অনুমতি ও সম্মতি ছাড়া পাম্পের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫ থেকে ৪০ কিউসেক পানি নদী থেকে উত্তোলন করা শুরু করে ভারত। ফলে বাংলাদেশের অনুমতি ছাড়া পানি উত্তোলন এবং সীমান্তের শূন্য লাইনে স্থাপনা বা পাম্প বসিয়ে আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করছে দেশটি।

যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি পর্যায়ের একাধিক বৈঠকে বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে পানি উত্তোলন না করতে এবং সীমান্তের শূন্য লাইনে স্থাপনা অপসারণে ভারত কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা দেশটির প্রতিনিধি দলের কাছে জানতে চাওয়া হয়। ভারতের প্রতিনিধি দল জানায় যে, এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ পানি দিতে সম্মত হয়। কেউ খাবার পানি চাইবে, বাংলাদেশ সেটি দেবে না, বিষয়টি সে রকম নয়। তারা যে পরিমাণ পানি চেয়েছে তা ফেনী নদী প্রবাহের ২ থেকে ৩ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের সম্মতিতে পানি উত্তোলন করলে বিষয়টি ভালো হতো।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০১০ সালে ভারতকে পানি দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে সম্মত হয়। তবে সে সিদ্ধান্ত ভারতকে আর জানানোর সুযোগ হয়নি। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি এড়িয়ে চলতে পানিসম্পদ সচিব বা মন্ত্রী পর্যায়ে নির্ধারিত বৈঠকে বসেনি ভারত।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে আবারও পানি নেয়ার অনুরোধ জানায় ভারত। তবে এতদিন যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ের কোনো বৈঠক ছাড়া বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই বাংলাদেশের ফেনী নদী থেকে পানি উত্তোলন করছে দেশটি। তবে তারা যাতে পানি উত্তোলন না করে সেজন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি নোট ভারবাল (অনুরোধপত্র) পাঠানো হয়েছে।’

দীর্ঘ আট বছর পর চলতি বছরের আগস্টে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ত্রিপুরার সাবরুমে খাবার পানির সংকট রয়েছে। ভারতের সাবরুম শহরের জনগণের খাবার পানি সরবরাহের জন্য ভারতীয় পক্ষের অনুরোধে মানবিক দৃষ্টিকোণে নিয়ে পানি দেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে কতটুকু পানি দেয়া হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

নোম্যান্সল্যান্ডে অবৈধভাবে ২৬টি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎচালিত লো লিফট পাম্প বসিয়েছে ভারত

বাংলাদেশ-ভারত পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার এবং ভারতের পক্ষে দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশ ও ভারতের পানিসম্পদ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় প্রাপ্ত পানির সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে যৌথভাবে সমীক্ষা এবং বাংলাদেশে গঙ্গা-পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে ভারতীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা; অন্যান্য অভিন্ন নদী যেমন- মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিবণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন; আপারা সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের ইনটেক চ্যানেলের (রহিমপুর খাল) অবশিষ্ট অংশের খনন কাজ বাস্তবায়ন; বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা সম্প্রসারণ; বাংলাদেশের আখাউড়ায় সিঅ্যান্ডবি খাল ও জাজি নদী দূষণ এবং আন্তঃসীমান্ত নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা; পশ্চিম বাংলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই, পুনর্ভবা ও টাংগন নদীতে শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ কমে যাওয়া; বাংলাদেশের চিনিকল থেকে নির্গত তরল বর্জ্য দ্বারা পশ্চিম বাংলার মাথাভাঙ্গা-চূর্ণী নদী দূষণ; ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ত্রিপুরার সাবরুম শহরে ‘ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই স্কি’ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ভারত এ নদীর উৎপত্তিস্থল তাদের দেশে বলে দাবি করছে। ভারতের তরফ থেকে বলা হয়, এ নদীর উৎপত্তি ত্রিপুরা রাজ্যে। অথচ অনুসন্ধান ও সরজমিনে দেখা গেছে, এর উৎপত্তি মাটিরাঙ্গার ভগবানটিলায়। নদীর ১০৮ কিলোমিটারের কোনো অংশ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪টি। এর মধ্যে পানিবণ্টন নিয়ে চুক্তি আছে শুধু গঙ্গা নিয়ে। সেই গঙ্গা চুক্তিতে ন্যায্যতা মানা হচ্ছে না। ১৯৯৬ সালে সম্পন্ন গঙ্গা পানিচুক্তি অনুযায়ী লাদেশকে ৩৫ হাজার কিউসেক পানি দেয়ার কথা। অথচ কোনো কোনো বছরে মাত্র দেড় হাজার কিউসেক পানি পেয়েছে বাংলাদেশ। তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে গত পাঁচ দশক ধরে। সর্বশেষ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তিতে রাজি হলেও তিস্তার পথে এখন বাধা পশ্চিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়৷ এ চুক্তি কবে হবে তা এখন কেউ বলতে পারছেন না। বাংলাদেশও একপ্রকার আশা ছেড়ে দিয়েছে।

৫৮টি আন্তর্জাতিক নদীর চারটি ব্যতীত সবগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ভারত হয়েই। ভৌগোলিক অবস্থার কারণে ভারতের পক্ষে বাংলাদেশকে তার পানি আগ্রাসনের অসহায় শিকারে পরিণত করাটা সহজ হয়েছে।

উৎসঃ জাগোনিউজ

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here