কুষ্টিয়ার এক গ্রামেই ৪৫ ডেঙ্গু রোগী!

0
134

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একই গ্রামে ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান মিলেছে। যদিও সরকারি হিসাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ জন। উপজেলার ছাতারপাড়া গ্রামের এ ঘটনায় ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের গ্রামগুলোতেও। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকায় জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।

এদিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এতদিন এ ব্যাপারে চুপচাপ থাকলেও খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর টনক নড়েছে তাদের। ইতোমধ্যে ওই গ্রামে কাজ করার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গত এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি আছেন প্রকৌশলী নুর আলম। তার চাচা মাজেদুল ইসলাম বলেন, এলাকায় দিনকে দিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ পাল দাবি করেন, ছাতারপাড়া গ্রামে ঈদের পর থেকে ডেঙ্গু রোগ ছড়াচ্ছে। তার দাবি ঢাকা থেকে অনেকে ঈদ করতে গ্রামে আসেন। এরপর থেকেই ওই গ্রামে ডেঙ্গু রোগ দেখা দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ করতে আসা লোকজন ঢাকায় ফিরে যাওয়ার বেশ ক’দিন পর ওই গ্রামের মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হন।

ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, তাদের হিসাবমতে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত ওই গ্রামে মোট ৩৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে দৌলতপুর ও মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৫ জন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।

তবে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা ৪৫ জনের মতো।

ডা. অরবিন্দ পাল বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওই গ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম কাজ শুরু করেছে।

ওই টিমের সদস্য স্বাস্থ্যকর্মী ওয়ালিউর রহমান জানান, ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত ও তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার কাজ করছে ওই টিম।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শারমিন আক্তার বলেন, সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। নতুন করে আর কেউ যেন আক্রান্ত না হয় সে বিষয়ে নজরদারি রয়েছে। এলাকার মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। এডিস মশা যেন বংশ বিস্তার করতে না পারে সেজন্য এলাকা পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে একটি গ্রামে ৩৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দৌলতপুরবাসীর মধ্যে। ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর শুনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এজাজ আহমেদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ নতজানু পরারাষ্ট্র নীতির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না : মির্জা ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করতে হলে সরকারকে অবশ্যই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে মিয়ানমারের ফাঁদে পা দিয়েছে সরকার।

বুধবার বিএনপি আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিকেল চারটায় রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে এ গোলটেবিল বৈঠক শুরু হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মিয়ানমার সরকার তাদের পররাষ্ট্র নীতিতে সবসময় অটল থেকেছে, কিন্তু বাংলাদেশ অটল থাকতে ব্যর্থ হয়েছে। এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বাসস্থান, ভূমির মালিকানা ফিরিয়ে দেয়া, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

গোলটেবিল বৈঠকে নরওয়ে, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সুইডেন, আফগানিস্তান, চায়না, জাতিসংঘ, সুইজারল্যান্ড, পাকিস্তান, কানাডা, অষ্ট্রেয়িলা ফ্রান্স, তুরস্ক সহ বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ আহমেদ, প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজ, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এডভোকেট আহমেদ আযম খান, নিতাই চন্দ্র রায়, ডা. এ জেড এম জাহিদ, বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া, সুপ্রীম কোর্ট বারের সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ উপস্থিতি ছিলেন।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার যৌন শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করছে আজকের ডিসি!


সাম্প্রতিক সময়ের নিয়মিত সংবাদ শিরোনাম ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা। এছাড়াও যৌন হয়রানি, যৌন নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্ষণ কিংবা দুইজনের সম্মতিতে সেক্স বিনিময়ের মতো অপরাধ এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন কোনো দিন নেই যে দিন ধর্ষণের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে না।

এই অভিযুক্তর তালিকায় শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তাহলে প্রশ্ন কেন এই যৌনতার ছড়াছড়ি?

বিশ্লেষকরা বলছেন, যৌনতা ধর্ষণ-নির্যাতন এখন দেশে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। মূলত দেশের স্কুলগুলোতে সচেতনতার নামে যৌন শিক্ষা বিষায়ক একটি বই দিয়ে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই অশ্লীলতা। স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ‘নিজেকে জানো’ নামক বইটি থেকেই মূলত কিশোর-কিশোরীরা যৌনতার প্রতি আসক্তি হচ্ছে। ৮ বছর আগে যারা কিশোর ছিল। তার এখন ভরা যৌবনে অবতীর্ণ হয়েছে। ক্লাসের সেই পড়াগুলো এখন বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। তারা বলছেন, ক্ষমতাসীন সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে সচেতনতার নামে অপসাংস্কৃতি ঢুকিয়ে দিয়েছে বইয়ের মধ্যে।

জানা গেছে, সারাদেশে যেসব যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তার মাত্র ১০ শতাংশ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার, জীবনের নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নষ্টের কথা চিন্তা করে অধিকাংশ ভুক্তভোগী এসব ঘটনা গণমাধ্যমের কাছে বলেনা।

দেশের বিভিন্ন স্কুলে বিতরণ করা এই বইটিতে যৌনতায় ভরপুর। বইটির নাম ‘নিজেকে জানো’। কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত এ বইয়ের নারী-পুরুষের স্পর্শকাতর অঙ্গের নাম উল্লেখ করে এমন খোলামেলাভাবে আলোচনা করা হয়েছে যা হুবহু প্রকাশযোগ্য নয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক কি আছে এই বইতে?

বইটিতে ‘শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন’ অধ্যায়ে লেখা হয়েছে যখন একটি মেয়ে ১০-১২ বছর বয়সে পৌঁছে তখন তার শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয়। যেমন, উচ্চতা বাড়ে, মাসিক শুরু হয়, স্তন বড় হয়, বগলে লোম গজায়। এ বয়সে ছেলেদের শরীরের শুক্রাণুযুক্ত রস মাঝে মাঝে মূত্রনালী দিয়ে বের হয়ে আসে, যাকে …বলা হয়।

বইটির ‘বন্ধুত্ব ও ভালবাসা’ শীর্ষক অধ্যায়ে একটি শিরোনাম হলো ‘প্রেম করলে কেন ছেলেমেয়েরা ধরাধরি করে?’ এখানে লেখা হয়েছে প্রেম এমন একটি সম্পর্ক যেখানে প্রেমিক প্রেমিকা দু’জনের প্রতি প্রচণ্ড আকর্ষণ অনুভব করে, এ অনুভব হতেই তারা পরস্পরের খুব কাছাকাছি পেতে চায় এবং এ কারণেই অনেক সময় তারা পরস্পরকে স্পর্শ করে। আসলে কোনো সমাজেই এটা ভালো চোখে দেখে না। কৈশোর হলো জীবন গড়ার সময়। এ বয়সে এসব করে তাই সময় নষ্ট না করাই ভালো।

এ অধ্যায়ে আরেকটি শিরোনাম হলো, ‘পরিস্থিতির চাপে যদি দৈহিক মিলনের সম্ভাবনা দেখা দেয় তবে আমি সে অবস্থায় কী করবো?’ এখানে লেখা হয়েছে, বিয়ের আগে ছেলেমেয়েদের দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরা পরিস্থিতির চাপে এরকম অবস্থায় পড়তে পারে। মনে রাখা প্রয়োজন, আবেগকে ‘না’ বলতে জানাটাও বড় হওয়ার একটা লক্ষণ। পরিচয়ের একপর্যায়ে দৈহিন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। যদি কারো মনে হয় যে তার প্রেমিক এ ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী, তবে মেয়েটাকে এ প্রস্তাবে সায় না দিয়ে বড় কারো সাথে বিষয়টি আলোচনা করা ভালো। যদি তা না করা যায় আর দৈহিক সম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তবে গর্ভধারণ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য কোনো অস্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহার করা জরুরি। এরপরও যদি কোনো সমস্যা হয় তবে উপদেশের জন্য তুমি কাছের কোনো ক্লিনিকে যেতে পারো। (বইটির শেষে বিভিন্ন এনজিও পরিচালিত বেশ কয়েকটি কিনিক/সেবা সংস্থার তালিকা দেয়া রয়েছে এ সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের জন্য)।

নিজেকে জানো বইটির আরেকটি অধ্যায়ের নাম ‘দৈহিক সম্পর্ক’। এ অধ্যায়ের শুরুতে লেখা হয়েছে নারী ও পুরুষের মধ্যে যৌন সম্পর্ক স্থাপন খুবই স্বাভাবিক। তবে এতে সামাজিক ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে চলা অত্যাবশ্যক। অবৈধ যৌনমিলন তা যেকোনো বয়সেই হোক না কেন সেটা অনৈতিক ও সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। একমাত্র বিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কই বৈধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য।

এ অধ্যায়ে একটি শিরোনাম হলো ‘সতী পর্দা কি জানতে চাই?’ এ বিষয়ে যে বিবরণ বইটিতে দেয়া হয়েছে তা প্রকাশযোগ্য নয়।

এ অধ্যায়ে আরেকটি শিরোনাম হলো ‘প্রথম মিলনে কি সব মহিলার রক্ত পড়বে? এই অংশের বর্ণনাও রীতিমতো রগরগে।

দৈহিক সম্পর্ক অধ্যায়ে আরেকটি শিরোনাম হলো ‘মায়ের পেট থেকে কিভাবে বাচ্চা বের হয়ে আসে ?’ এখানে সন্তান প্রসবের যে বিবরণ দেয়া হয়েছে তাও প্রকাশযোগ্য নয়। ‘বাচ্চা কিভাবে হয়?’ শিরোনামে লেখা হয়েছে কিভাবে মায়ের গর্ভে সন্তান আসে তার বর্ণনা।

‘বিয়ের আগে কেউ কেউ কনডম বা খাবার বড়ি ব্যবহার করে। সেটা কি ঠিক?’ শীর্ষক শিরোনামে লেখা হয়েছে এ দু’টি জন্ম নিরোধক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।

দৈহিক মিলন অধ্যায়ের আরেকটি শিরোনাম হলো ‘অনেকের সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে তা ক্ষতিকর। এরকম হলে কিভাবে নিরাপদ থাকা যায়?’ এখানেও লেখা হয়েছে অনেকের সাথে দৈহিক সম্পর্ক থাকলে কনডম ব্যবহার খুবই জরুরি।

বইটিতে যৌনমিলন অধ্যায় আলোচনার আগে কিভাবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছেলেমেয়েরা পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে, সে আকর্ষণ এবং ভালোলাগা প্রকাশের উপায় কী সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া যৌন অনুভূতি প্রকাশের বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

বইয়ে লেখা হয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্ব দোষের কিছু নয়। একটি ছেলে ও একটি মেয়ের মধ্যে ভালো লাগার পরের পর্যায়ে যৌন অনুভূতি এমনকি যৌন আকর্ষণও সৃষ্টি হতে পারে। এ অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ বিভিন্নভাবে ঘটতে পারে, যেমন চিঠি লিখে, দেখা করে, হাত ধরে বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরেকটু কাছাকাছি এসে। যৌন অনুভূতি প্রকাশ করা দোষের কিছু নয়, তবে সেটি হতে হবে দুইজনের সম্মতিতে, মার্জিত ও শালীনভাবে।

নিজেকে জানো বইটিতে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বোধ, প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠা, পরস্পরকে ভালো লাগা বা প্রেমের অনুভূতি প্রকাশের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে প্রথমে। এরপর ভালো লাগা পরের পর্যায় থেকে পরস্পরের প্রতি যে যৌন আকর্ষণ সৃষ্টি হয় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বইটির আরেকটি অধ্যায়ের নাম ‘আকর্ষণ’। এ অধ্যায়ের একটি শিরোনাম ‘একটা ছেলেকে নিয়ে আমি অনেক ভাবি। মাঝে মধ্যে স্বপ্নেও দেখি। আগে তো এমন হতো না। এখন কেন হয়?’ এখানে লেখা হয়েছে কাউকে নিয়ে এ রকম ভাবনা হওয়া ভালো লাগার লক্ষণ। এটি আবেগের বহিঃপ্রকাশ, যা সাধারণত এ বয়সে হতে পারে। পরের পর্যায়ে এটি ভালোবাসায়ও রূপ নিতে পারে। কোনো ছেলেকে গভীরভাবে ভালোবাসার আগে তার সম্পর্কে আগেই সব কিছু জেনে নেয়া উচিত।

এ অধ্যায়ে আরো লেখা হয়েছে ছেলে ও মেয়েরা এ বয়স থেকে একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ বোধ করে। এ ব্যাপারটা খুবই স্বাভাবিক। ছেলেরা চায় মেয়েদের আকর্ষণ করতে আর মেয়েরা চায় ছেলেদের। এ বয়সে ছেলেমেয়েদের নিজেকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

ভাবে পুরো বইটিতে অশালীন যৌনতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ছেলে-মেয়েদেরকে খারাপ হওয়ার জন্য যা প্রয়োজন এই বইতে সবই আছে।

এ বই নিয়ে রীতিমতো বিব্রত এবং অস্বস্তিতে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ। প্রশ্ন উঠেছে স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে এ ধরনের বই বিতরণের উদ্দেশ্য নিয়ে। অনেকেই বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের প্রেম শিখানো ছাড়া এর উদ্দেশ্য আর কিছু নয়। এমনিতেই সিনেমা টেলিভিশন ও ইন্টারনেট যৌন বিষয়ে অবাধ প্রচার-প্রচারণা চলছে। আলোচ্য বইটির ক্ষতিকর প্রভাব ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়েছে বলে অনেক শিক্ষক-অভিভাবক উল্লেখ করেছেন। তারা বইটিকে প্রেম যৌনতার ‘হাতে কলমে’ শিক্ষা বলে বর্ণনা করেছেন।

বিশেষ করে জামালপুরের ডিসি কবিরের অনৈতিক কাজের ভিডিও গণম্যামে প্রকাশের পরই সারাদেশে হৈচৈ পড়ে যায়। অনেকেই বলছেন, এতদিন শিক্ষকরা স্কুলে যা পড়াতেন, ডিসি এখন এসব বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। আর এ অবদান একমাত্র শেখ হাসিনার। উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি সারাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে ধর্ষণও পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন। আর সাথে তার সোনার ছেলে ও মেয়েরাতো আছেই।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ভারত বাংলাদেশের অর্ধেক নিতে চায়, সরকার টু শব্দটিও করছে না: জাফরুল্লাহ


গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের চারদিকে অশুভ শক্তির তৎপরতা শুরু হয়েছে। ভারত বাংলাদেশকে ভাগ করে অর্ধেক অংশ নিয়ে নিতে চায়। অথচ সরকার টু শব্দটি করছে না।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুম কাজী জাফর আহমদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভারত কোনো সময়ই বাংলাদেশে শান্তি শৃংখলা বজায় থাকুক সেটা চায় না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব সময়ই নতজানু নীতি গ্রহণ করছে। বাংলাদেশের সামনে সময় এসেছে ভারতে মুখোশ উন্মোচন করার। তিনি বলেন, আমরা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী মৃত্যুবার্ষিকী ঘটা পালন করছি কিন্তু তিনি যে নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন আওয়ামী লীগ এখন তার ধারে কাছেও নেই।

জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামান হায়দারের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম রব, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা’র মহাসচিব লুৎফর রহমান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব জাফরুল্লাহ খান চৌধুরী (লাহুরী), কাজী জাফরের মেয়ে কাজী জয়া, প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি সেলিম মাষ্টার, নওয়াব আলী আব্বাস খান, এডভোকেট শফিউদ্দিন ভূইয়া, এডভোকেট মুজিবুর রহমান, রুহুল আমীন, এ এস এম শামীম, ডা. এম এ মামুন ভুইয়া, মহসীন সরকার প্রমুখ।

উৎসঃ শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুনঃ রুমিনের সমালোচনার আগে একশবার ভোট চোরদের সমালোচনা করুন: আসিফ নজরুল


গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্লট চেয়ে আবেদন করে সমালোচিত হওয়া জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ইসলাম। বিএনপির সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিনের সমালোচকদের উদ্দেশে এই শিক্ষাবিদ বলেছেন, তার (রুমিনের) সমালোচনা করার আগে ভোট চোরদের সমালোচনা করেন।

ব্যারিস্টার রুমিনের প্লটের আবেদনে সংবাদ নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় তখন নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন আসিফ নজরুল।

সোমবার আসিফ নজরুলের ফেসবুক পেইজে দেয়া স্ট্যাটাসটি হুবহু পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো-

‘রুমিন দশকাঠা জমি চেয়ে কাজটা ভালো করেননি। তবে তার সমালোচনা করার আগে অন্তত একশত বার ভোট চোর, ব্যাংক চোর, প্রকল্প চোর, শেয়ার চোর আর ঘুষখোরদের নাম ধরে ধরে সমালোচনা করতে হবে আপনাকে।

পারবেন? না পারলে রুমিনের সমালোচনা করার কোনো অধিকার আপনার নেই। কারণ রুমিন তাদের তুলনায় কোন অপরাধই করেননি। তিনি শুধু ভুল করেছেন, নৈতিকতার দিক দিয়ে অশুদ্ধ কাজ করেছেন।

রুমিনকে সমালোচনা করার অধিকার আছে কেবল দুধরনের মানুষের। ১. যারা নিশঙ্ক চিত্তে সবার সব ধরনের অপকর্মের সমালোচনা করেন, ২. বিএনপির সেসব ত্যাগী কর্মী যারা বিশ্বাস করেছিলেন যে, রুমিন সংসদে গেছেন শুধুমাত্র সরকারের অপকর্ম তুলে ধরতে আর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তুলতে।

আর রুমিন, আপনি আপনার ভুল স্বীকার করে নিন। আপনি সাধারণ নাগরিক বা আইনজীবী হিসেবে জমির জন্য আবেদন করলে দোষ ছিল না। আপনাদেরই ভাষায় অবৈধ সংসদের এমপি হিসেবে আপনি এ আবেদন করতে পারেন না।’

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা!


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাদের দাবি-আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে বর্তমান সরকার খুব মধুর সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বিশ্বব্যাপী এখন বাংলাদেশের সুনাম বাতাসের সঙ্গে বয়ে বেড়াচ্ছে। বাংলাদেশ এখন এমনই শক্তিশালী দেশ, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লোকজন এখন আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও চীনের সঙ্গে তো বাংলাদেশের সম্পর্ক অতি উচ্চমাত্রায় পৌঁছেছে। কিন্তু, বাস্তবতা কি তা বলে?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীন-ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের একতরফা সম্পর্ক চলছে। একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের সম্পর্ক হয় আদান-প্রদানের মাধ্যমে। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। একজনের বিপদের সময় অন্যজন এগিয়ে আসবে। সহযোগিতা করবে। কিন্তু, শেখ হাসিনা এখন পর্যন্ত চীন-ভারতকে শুধু দিয়েই যাচ্ছেন। দুইটি দেশের জন্য শেখ হাসিনা সব কিছু উজার করে দিচ্ছেন। বিনিময়ে তিনি দেশ দুইটি থেকে বাস্তব সম্মত কোনো সহযোগিতা পাননি। যার বাস্তব প্রমাণ রোহিঙ্গা ইস্যু। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, উচ্চমাত্রার বিদেশি বন্ধুরা শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হলো মিয়ানমার থেকে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিক কারণে তখন তাদেরকে আশ্রয় দেয়া হয়েছিল। এখন এসব রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশে ফেরত নেয়া বা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশকে কোনো সহযোগিতাই করছে না। রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিতে মিয়ানমারের ওপর তারা কার্যকর কোনো চাপ দিচ্ছে না। এমনকি শেখ হাসিনার উচ্চমাত্রার দুই বন্ধু চীন-ভারতও এনিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। শুধু নিরব ভূমিকা বললে ভুল হবে, দেশ দুইটি সরাসরি মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে।

কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতারা প্রতিনিয়ত বলে বেড়াচ্ছেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সরকার এক করতে সক্ষম হয়েছে। শেখ হাসিনার দাবি, দুনিয়ার সব মানুষ নাকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন।

দেখা গেছে, গত নভেম্বরে প্রথম দফায় কয়েকশ রোহিঙ্গা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। রোহিঙ্গরা তাদের নাগরিকত্ব চাচ্ছেন। কিন্তু মিয়ানমার সরকার সেটা দিতে রাজি নয়। যার কারণে রোহিঙ্গারা আর নিজ দেশে যায়নি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এনিয়ে আর কিছু বলেনি।

এরপর গত ২২ আগস্ট আড়াই হাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তারিখ ছিল। বাংলাদেশ মিয়ানমারের হাতে তাদের তালিকাও দিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের এক দফা দাবিও মানেনি। যার কারণে এবারও কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি হয়নি।

জানা গেছে, চীন-ভারতের পরামর্শেই মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের রেখে আসা রাখাইনে দেশ দুইটিকে অর্থনৈতিক অঞ্চল করার সুযোগ করে দেবে মিয়ানমার সরকার।

আর গত ২২ আগস্ট মিয়ানমারের নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের সেনা প্রদানের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, রোহঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর চাপ দিলে চীন তা সহ্য করবে না।

তাই কুটনিতিক মহল বলছেন, ভারত এবং চীনকে বাংলাদেশ বন্ধু হিসেবেই বিবেচনা করে। কিন্তু সে বন্ধুত্বের মধ্যে অনেক শর্ত বিরাজমান। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ দুটি দেশকে বাংলাদেশের পক্ষে আনা কূটনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার মনে করে ভারত ও চীন এ সংকট সমাধানের জন্য কাজ করছে তাহলে সেটা ভুল। আসলে ভারত ও চীন শেখ হাসিনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে চলে গেলেন মা, ফেরেনি আমান আযমী!


যেখানে অজ্ঞাত লাশের কথা শুনতেন সেখানেই ছুটে যেতেন মা আফিফা আযম সাথে তার পরিবারের সদস্যরা। তবুও খোঁজ মেলেনি সন্তানের। ছেলের প্রতীক্ষায় থাকতে থাকতে নিজেও চলে গেলেন পরপারে। পরিবারের সদস্যরা এখনও গুমরে কাঁদে। বলছিলাম গুম হয়ে যাওয়া অধ্যাপক গোলাম আযমের পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আযমীর পরিবারের কথা।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ছেলে বিগ্রেডিয়ার আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে বাড়ি থেকে ফিল্মি স্টাইলে উঠিয়ে নিয়ে যায় সাদা পোষাকের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোন খবর নেই। এ নিয়ে কারো তেমন কোনো মাথাব্যাথাও দেখা যায়নি। তৎকালীন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় হলেও বাংলাদেশের গণমাধ্যম ছিল একেবারেই নীরব। বরং সত্যকে আড়াল করে অনেক বিভ্রান্তিকর সংবাদ তখন প্রচার হয়েছে।

তিন বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলো আমান আযমী ফিরে আসেননি। পরিবার তাকিয়ে রয়েছে প্রয়াত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পুত্র হুম্মামের মতোই একদিন ফিরবেন সেই আশায়। বার বার প্রশাসন, রাষ্ট্রের কাছে স্বজনরা দৌঁড়ঝাপ করেও কোন লাভ হয়নি।

তিন বছর পরে বড়ভাই সালমান আযমী আকুল হয়ে লিখেছেন, তিনটি বছর পেরিয়ে গেল আমার ভাইটিকে ওরা গুম করেছে। আমার মা অপেক্ষা করতে করতে চলেই গেলেন। আর আমরা এই আশায় বসে আছি যে আল্লাহ্ আমাদের ভাইটিকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেবার ব্যবস্থা করবেন। ছোট ভাইয়া, আপনি যেখানেই থাকুন, আল্লাহ আপনাকে হেফাজতে রাখুন।

শুধু আমান আযমী নয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গত দশ বছরে যে গুমের এই বিভীষিকা বাংলাদেশ পাড়ি দিয়েছে তা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগকে হার মানিয়েছে। গত দশ বছরে ৫২৪ জন মানুষেরও বেশী বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছে। এদের বেশিরভাগেরই কোন হদিস মেলেনি। আদৌ তারা ফিরবেন কি না জানেনা পরিবার।

পুলিশ সদরদপ্তরের রিপোর্ট অনুসারে আওয়ামী সরকারের দশবছরে (২০০৯-২০১৮) অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৭৪৫২টি। এর মধ্যে ২০০৯ সালে ৮০০ জন, ২০১০ সালে ৮৮১ জন। ২০১১, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে ৮৭০ জন করে অপহৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে ৯২২ জন, ২০১৫ সালে ৮০৬ জন, ২০১৬ সালে ৬৩৯ জন, ২০১৭ সালে ৫০৯ জন, ২০১৮ সালের জুলাই পর্যন্ত ২৮৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছে।

একই সময়ে জামায়াতের সাবেক নেতা মীর কাসেম আলীর ছোট ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকেও গুম করা হয়। রাতের আঁধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাকেও তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গুম করা হয় বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে। আজ পর্যন্ত তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। একই বছরে ৪ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে বাস থেকে নামিয়ে গুম করে র‍্যাব। দুই ছাত্র ওয়ালীউল্লাহ ও মুকাদ্দাসের আজ পর্যন্ত কোন খোঁজ মেলেনি। চৌধুরী আলমের পরিবার জানেনা কোথায় আছে তাদের পরিবারের বটবৃক্ষ। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ কিংবা নিরীহ সুখরঞ্জন বালির পরিবার জানেনা কবে দেশে ফিরতে পারবে তাদের অভিভাবক।

এভাবে বলতে থাকলে ঘটনার পরিক্রমা শেষ হবার নয়। গত জুন মাসের ২৯ তারিখে চলে গেলেন ব্রিগেডিয়ার (অব.) আমান আযমীর মা আফিফা আযম। জীবনের শেষ সময়েও ছোট ছেলের মুখে হাত বুলানোর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এভাবে সন্তান, স্বামী, বাবাদের জন্য অপেক্ষা করতে করতে কেটে যাচ্ছে হাজারও মায়ের দিন। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সে পরিস্থিতির বাস্তব কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া এই মানুষগুলো আদৌ কোনোদিন ফিরবে কিনা কেউ আজও পর্যন্ত বলতে পারছেনা। এক সীমাহীন অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে নিকষ অন্ধকারের দিকে যেন এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, যেখানে আজ বিরোধী মতের মানুষগুলোকে পিপড়ার চেয়ে নগন্য বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: শুধু সুন্দরবন নয়, প্রতি বছর দেশের ৫০০০ কোটি টাকা ক্ষতি!


বিশেষজ্ঞ মতামত ও সকল জনমতকে উপেক্ষা করেই ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবনের অতি নিকটবর্তী রামপালে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে সরকার। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন মারত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হবে। শুধু সুন্দরবনই ধ্বংস হবে না, পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে ওই এলাকার কৃষি জমির ওপরও এটার মারাত্ম প্রভাব পড়বে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার ১৮৩০একর ধানী জমি অধিগ্রহণ করেছে। এর ফলে ৮ হাজার পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যাবে। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হতে পারে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের। ফলে উদ্বাস্তু এবং কর্মহীন হয়ে যাবে প্রায় ৭৫০০ পরিবার। শুধু তাই নয়, এর ফলে প্রতি বছর হারাতে হবে কয়েক কোটি টাকার কৃষিজ উৎপাদন। এইতো গেল কৃষকের দুর্ভোগের কথা। এবার দেখুন পরিবেশের কি ক্ষতি হবে?

কয়লাভিত্তিক যেকোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অন্য যে কোনো প্রকল্পের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। বিশেষত ভষ্মিভূত কয়লার ছাই এবং উৎপন্ন গ্যাসের ফলে বায়ু ও পানি দূষণের যুগপৎ প্রভাবের কারণে এই ক্ষতি হয়। এ ধরনের প্রকল্প এলাকার আশেপাশের অঞ্চলে এসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যা বৃক্ষ এবং বনাঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ব্যাহত করে ভয়ানক মাত্রায়। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায় যে, ২০১০ সালে দেশটির মোট কার্বন ডাই অক্সাইডের ৮১ ভাগ উদগীরণ করেছে কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলো, যা থেকে মোট শক্তির মাত্র ৪১ ভাগ পাওয়া গেছে। এই সকল বিবেচনায় পৃথিবী ব্যাপি সকল দেশেই কয়লাভিত্তিক প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

সাম্প্রতিককালে এই ধরনের প্রকল্প এড়িয়ে চলার চেষ্টাটাই বেশি চোখে পড়ে। এ ধরনের কয়লাভিত্তিক প্রকল্প প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে প্রায় ২.২ বিলিয়ন গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়। রামপালের প্রকল্পের ক্ষেত্রে তা নিঃসন্দেহে মেটানো হবে পশুর নদী থেকে। পশুর নদীর পানি নোনা ও মিঠা জলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের প্রয়োজন মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই নদীটির সাথে ওই গোটা অঞ্চলের সামগ্রিক জীববৈচিত্রের সংযোগ রয়েছে। এটি ওই অঞ্চলের জনবসতির ক্ষেত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী। কিন্তু এই প্রকল্প তৈরি করতে গিয়ে সেই নদীর অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে ফেলা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ফলে সুন্দরবন ও রামপাল এলাকায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে। এছাড়া এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে যে লাভের কথা প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং লাভ হলে সেটা যাবে ভারতের পকেটে। আর লস হলে পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র মোটেও কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং ভারতের স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে গিয়ে এক সময় রাষ্ট্রের রাজস্ব খাত থেকে টাকা দিয়ে এর ভর্তুকি মিটাতে হবে।

রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হবে দুই দেশের সমান অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি নামে একটি কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন করবে ১৫% পি ডি বি, ১৫% ভারতীয় পক্ষ আর ৭০% ঋণ নেয়া হবে। যে নীট লাভ হবে সেটা ভাগ করা হবে ৫০% হারে। আর প্রকল্পে যদি লস হয় তাহলে এর পুরো দায় নিতে বাংলাদেশকে। ভারতের শুধু লাভের অংশ নেবে, কোনো লস তারা নেবে না।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে পি ডি বি। বিদ্যুতের দাম নির্ধারিত হবে একটা ফর্মুলা অনুসারে। কী সে ফর্মুলা? যদি কয়লার দাম প্রতি টন ১০৫ ডলার হয় তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ এর দাম হবে ৫ টাকা ৯০ পয়সা এবং প্রতি টন ১৪৫ ডলার হলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অথচ দেশীয় ওরিয়ন গ্রুপের সাথে মাওয়া, খুলনার লবন চড়া এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারাতে যে তিনটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যে চুক্তি হয়েছে পি ডি বির সাথে সেখানে সরকার মাওয়া থেকে ৪ টাকায় প্রতি ইউনিট এবং আনোয়ারা ও লবন চড়া থেকে ৩টাকা ৮০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনবে।

কিন্তু, সরকার ১৪৫ ডলার করে রামপালের জন্য কয়লা আমদানির প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। এরফলে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দিয়ে পি ডি বি এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে।

আরও মজার বিষয় হলো-১৪৫ ডলার করে যে কয়লা কিনা হবে সেটাও আনবে ভারত থেকে। বিশ্ববাজারে যে কয়লার দাম কোয়ালিটি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০- ৮০ ডলারের কাছাকাছি। আর ৭০% বিদেশী ব্যাংক থেকে যে ঋণ আনা হবে, ওই ঋনের সমস্ত সুদ বহন করবে বাংলাদেশ। এছাড়া ঋণের টাকাও নাকি নেয়া হবে তাদের কাছ থেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যদি ২০ ঘণ্টা করে ৩০ বছর চালু থাকে এবং ইউনিট প্রতি ৪.৮৫ টাকা আর্থিক ক্ষতি ধরা হয় কেবল তাহলেই অঙ্কটা দাঁড়াবে এক লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা! এ হিসাবে প্রতি বছল বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশের স্বার্থে নয়, শুধু ভারতকে খুশি করতেই শেখ হাসিনা দেশের এমন সর্বনাশী পরিকল্পনা করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ যারা হিন্দুদের শত্রু তারা বাংলাদেশ ও জাতির শত্রুঃ ওবায়দুল কাদের


দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রুরা জাতিরও শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের শত্রু যারা তারা বাংলাদেশেরও শত্রু। তারাই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার রাজধানী পলাশীর মোড়ে র‌্যালি মিছিল উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিনে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষবৃক্ষকে উৎটনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।

এ সময় তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকার মাইনরিটি বান্ধব সরকার। এ সরকার যতদিন আছে আপনাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। অন্যান্য ধর্মীয় আচার ও উৎবগুলোও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এইদিক দিয়ে আপনারা নিরাপদ।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যত দিন পর্যন্ত বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তাদের নিরাপত্তা নিয়ে ভায়ের কোনো কারণ নেই।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সর্বকালের সেরা সময় পার করছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় উন্নিত। আমাদের প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের কোনো টানাপোড়েন নেই।

এ সময় আগামী অক্টোবরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করবেন বলেন জানান তিনি।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে আমরা আরও একধাপ এগিয়ে যাব। এ সফরের পর আমাদের কনস্ট্রাকটিভ পার্টনারশিপ আরও নতুন উচ্চতায় উন্নতি হবে এবং আমাদের দেশের বিরাজমান অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাব।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ গরিবের চামড়ায়ও কামড় দিলেন সেই দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান!


কুরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতন নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। মুসলমানরা তাদের কুরবানির পশুর চামড়া গরিব, মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে বিতরণ করে দিয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এটা আল্লাহ ও তার নবীর নির্দেশ। প্রতিবছর কুরবানির পশুর চামড়ার টাকা গরিব, মিসকিন ও এতিমদের আয়ের একটি উৎস। আর দেশের হাজার হাজার এতিমখানার আয়ের প্রধান উৎস হলো কুরবানির পশুর এই চামড়ার টাকা।

এ বছর চামড়ার সঠিক দাম না পাওয়ায় দেশের বহু মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চামড়া নিয়ে এবার যা হয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। এবার শুধু কম দামই নয়, অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে গর্ত করে মাটির নিচে চামড়া চাপা দিয়েছে। কেউ কেউ চামড়া কিনে বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে তোলপাড়। গণমাধ্যমগুলোতেও চামড়া পানিতে ফেলে দেয়ার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চামড়ার এই তুঘলকি কাণ্ড নিয়ে সবাই বলছে এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট জড়িত। কিন্তু এই সিন্ডিকেটে কারা জড়িত? গরিবের চামড়ায় কারা কামড় দিয়েছে? এ প্রশ্নের জবাব আসছে না। আর বিএনপি বলছে আওয়ামী লীগের এক বড় নেতা এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্ত, কে এই ব্যক্তি তার নাম বলেনি বিএনপি।

তবে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে গরিবের চামড়ার পেছনে সেই সেন্ডিকেটের পরিচয়। অনুসন্ধান বলছে, এই সেন্ডিকেটের মুল হোতা শেখ হাসিনার শিল্প ও বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা দরবেশ খ্যাত সালমান এফ রহমান। যিনি এর আগে দেশের শেয়ারবাজারসহ আরও বিভিন্ন খাতে কালো থাবা দিয়েছেন। যার কালো থাবায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে শেয়ারবাজারের হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর স্বপ্ন। সহায় সম্বল সব হারিয়ে যারা এখন পথে পথে ঘুরছেন। সেই দরবেশই আবারও উঠেপড়ে লেগেছে দেশের গরিব, মিসকিন ও এতিমদের চামড়া ছিনতাইয়ের কাজে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন একাধিক মৌসুমি ব্যবসায়ী ও ট্যানারী ব্যবসায়ী বলেছেন, দরবেশই হলেন নাটেরগুরু। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রীর শক্তিশালী উপদেষ্টা হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টরা মুখে তার নাম উচ্চারণ করতে পারছেন না। এদিকে গরমের কারণে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে সালমান এফ রহমানের এমন মন্তব্যে হাস্যকর বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here