শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে হিন্দি গানের তালে ছাত্রীদের নৃত্য(ভিডিও সহ)!

0
526

ঘড়ির কাঁটায় রাত সাড়ে ৭টা। বিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্র-ছাত্রীর জটলা। স্কুলের একটি বন্ধ কক্ষ থেকে ভেসে আসছে হিন্দি ও বাংলা গানের শব্দ। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে একের পর এক নৃত্য পরিবেশন করছে ছাত্রীরা।

সোমবার রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটছে এমন ঘটনা।

বিদ্যালয় পরিদর্শনে এসে রাত্রিযাপন করা পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে ছাত্রীদের নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের রাতের এমন আয়োজনে ক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ সচেতন এলাকাবাসী।

ভিডিওঃ  ‘ শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে হিন্দি গানের তালে ছাত্রীদের নৃত্য(ভিডিও সহ)!’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রধান শিক্ষকদের ত্রৈমাসিক সভা ও দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সততা সংঘের সভায় অংশ নিতে আসেন পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন।

নৈশভোজসহ রাত্রিযাপনের জন্য তিনি উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের মৌডুবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যান। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে রাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় নাচগানের।

প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি ছাত্র-ছাত্রীদের তাৎক্ষণিকভাবে খবর দিয়ে নিয়ে আসেন। একটি কক্ষে প্রবেশ করিয়ে ওই কর্মকর্তাকে খুশি করতে নৃত্য পরিবেশনের আয়োজন করা হয়।

এসময় ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইনসহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন ও প্রস্তাবিত মৌডুবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম টুকু।

আয়োজনে অংশ নেওয়া কয়েকজন ছাত্রী ও অভিভাবক জানান, সোমবার রাতে বিদ্যালয়ের আশপাশের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষকেরা জরুরি খবর দেয়। খবর পেয়ে অন্তত ৩০ জন ছাত্রী ও ২০ জন ছাত্র বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে নৃত্যের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় চিত্রশিল্পী শাহ আলম বলেন, “অফিসারকে খুশি করতে এভাবে রাতে ছাত্রীদের দিয়ে নাচগান করানো ঠিক হয়নি। এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার আসছেন। তাই কয়েকটা ছেলেমেয়ে গানটান গাইছে। তাও বাইরেও না, একটা রুমের মধ্যে।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, “নতুন একটা মাদ্রাসা পরিদর্শনে শেষে রাতে মৌডুবি স্কুলে অবস্থান করেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তাদের স্কুলের ছেলে-মেয়েরা নাচ ও গান শোনাবে বলেছে।”

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। প্রতিবেদকের কাছে এ ঘটনার ভিডিও সংরক্ষিত আছে উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন, “ওখানকার স্থানীয় বাচ্চারা নিজেরা একটু করছে। কোনো সমস্যা আছে? রাতের বেলায় স্কুলে কক্ষের মধ্যে হলে সমস্যা কী? বেআইনি কিছু হয়েছে কিনা?”

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “আয়োজন আমি করিনি। এটা প্রতিষ্ঠান করছে। তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন। আমি ছেলে-পেলেদের দু-একটা উপদেশ বাণী দিয়েছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিক ওই আয়োজন বন্ধের জন্য বলেছি, সে অনুযায়ী আয়োজনটি বন্ধ করা হয়। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবো।”

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ তারেক রহমানকে ফেরত দিতে যুক্তরাজ্যকে চিঠি


সরকারের কথিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ তিন মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তবে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিষয়টি তাদের এখতিয়ারে নেই। এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিষয়।

আর বিএনপির অভিযোগ, তারেক রহমানকে ফেরত চেয়ে আবেদন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রতিফলন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর সাজা কার্যকরের কথা বলে আসছেন। এরই মধ্যে তারেক রহমানকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে যুক্তরাজ্যের কাছে আবেদন করা হলো।

এই বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা তাঁকে (তারেক রহমান) ফেরত চেয়েছি। আমরা ব্রিটিশ সরকারকে জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে রায় হয়েছে। তাঁর অপরাধের ব্যাপ্তি, অপরাধের প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি যে কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন সেই তথ্য, আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আমরা যুক্তরাজ্য সরকারকে জানিয়েছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এবং আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছে।’

সরকারের ওই আবেদনের প্রাথমিক জবাবও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা। ওই আবেদনের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, তারেক রহমানকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে। দুই দেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

তবে শাহরিয়ার আলম বলেছেন, চুক্তি না থাকার বিষয়টি এই ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। এটা বলে দায়িত্ব এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তি না থাকলেও বিভিন্ন দেশের বন্দীকে আমরা ফেরত দিয়েছি। চুক্তি নেই এমন বেশ কিছু কাজে যুক্তরাজ্যকে আমরা সহযোগিতাও করি। তবে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে এই রকম চুক্তি যদি বাধা হয়, আমরা চুক্তি করব।’

এই বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের (সরকার) যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা তা বিএনপির ওপর, বিএনপির নেতৃত্বের ওপর, বিশেষ করে জিয়া পরিবারের ওপর চরিতার্থ করতেই এই পদক্ষেপ। তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। এখন যদি তাঁকে ফেরত পাঠানোর জন্য আবেদন করা হয়, তাহলে সেটি অমানবিক বিষয়।

তারেক রহমানকে ফেরত আনার প্রক্রিয়ার বিষয়ে লন্ডনে অভিবাসনবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ ইকবাল বলেছেন, এটি রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়। এটি আইনগত বিষয়। তিনি বলেন, কাউকে ফেরত নিতে হলে যুক্তরাজ্যের ২০০৩ সালের প্রত্যর্পণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে হবে তথ্যপ্রমাণসহ। ওই দপ্তর আবেদনটি আদালতে পাঠাবে। আদালত আবেদনের তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন। এটা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যেতে পারে।

এই বিষয়ে জানতে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানের আইনজীবী এ কে এম কামারুজ্জামান বলেন, তারেক রহমানকে ফেরত চাওয়া রাজনৈতিক ব্যাপার। রাজনৈতিকভাবে সরকার ফেরত চাইতে পারে। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রত্যর্পণের বিষয়ে ব্রিটিশ আদালতে শুনানি হলে সেখানে সবোর্চ্চভাবে মোকাবিলা করা হবে। তবে সেটা অনেক দূরের কথা। আদৌ এটা হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ বাকশাল কায়েম করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামী সরকার : মির্জা ফখরুল


বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সোমবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণ দেশকে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানুষ আজ অধিকারহারা, তাদের মৌলিক মানবাধিকারগুলো ধুলায় লুটিয়ে দেয়া হয়েছে। দেশে ভয়ের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। চোখের সামনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে কেউ যাতে সাহসী না হয় সেজন্য ক্ষমতাসীন সরকার হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের তৎপরতা সীমাহীন মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আওয়ামী সরকার মানুষের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে উপেক্ষা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করতে বিরোধী দল ও মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিরামহীন গতিতে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক কাহিনী তৈরির মাধ্যমে মামলা দিয়ে কারান্তরীণ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ভুয়া, বানোয়াট ও সাজানো মামলায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং অধ্যাপক আমিনুল ইসলামের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ বর্তমান গণধিকৃত সরকারের ধারাবাহিক দমন নীতির অংশ। এটি গণবিরোধী সরকারের চলমান দমন পীড়ন, মধ্যরাতের নির্বাচনের পরও শেষ হয়নি, বরং আরো তীব্র গতিতে চলছে।

তিনি বলেন, সকল অপকর্ম ও দুঃশাসনের জন্য বর্তমান সরকারকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করার সময় অত্যন্ত সন্নিকটে। জনগণ আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

বিএনপি মহাসচিব অবিলম্বে রফিকুল ইসলাম হিলালী এবং আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অসত্য মামলা প্রত্যাহার করে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উৎসঃ ‌বিডি টুডে

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবিতে ‘এক হয়ে’ মাঠে নামছে ২০ দল-ঐক্যফ্রন্ট


জোটনেত্রী বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবিতে ২০ দলীয় জোট নিজ নিজ দলের অবস্থানে থেকে আন্দোলনে যাবে বলে জানিয়েছেন জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান।

একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পাশাপাশি আন্দোলন করবে। এখানে কোনও বিভেদ নেই।

সোমবার (৮ এপ্রিল) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। রাত পৌনে ৯টায় দিকে বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় ৯টা ৫০ মিনিটে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সুচিকিৎসার স্বার্থে অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপাসরসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানিয়েছে ২০ দল। জোটনেত্রীর মুক্তির দাবিতে ২০ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো নিজ নিজ দলের হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। ২০ দলের ব্যানারেও কর্মসূচি পালন করবে।’

তিনি বলেন, ‘২০ দল গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলে মধ্যে কোনও বিভেদ নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল পাশাপাশি আন্দোলন করবে।’

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্য সরকারকে বাংলাদেশ সরকারের চিঠি প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। তা যুক্তরাজ্য সরকারের আজানা নয়। অতীতেও এ ধরনের চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে গুলশানে ২০ দলের বৈঠকে অংশ নেন- ২০ দলের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইররাহিম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, খেলাফত মসলিসের আহম্মদ আবদুল কাদের পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মুনি, বাংলাদেশ মুলীম লীগ শেখ জুলফিকার চৌধুরী বুলবুল, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ ও জাতীয় দলের এহসানুল হুদা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে হাবিব উন নবী খান সোহেলকে


বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলকে কারাগারে ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার রাজধানীয় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। রিজভী আহমেদ বলেন, মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারাবন্দী আছেন হাবিব উন নবী খান সোহেল। জজকোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও তাকে বিভিন্ন থানার গায়েবি, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে আটকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, এটি বর্তমান অমানবিক, নির্দয় ও নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী সরকারের আরেকটি আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তার ডায়াবেটিস ২৫ এর ওপরে। প্রচণ্ড অসুস্থ অবস্থায় তিনি কাতরাচ্ছেন।

এর ওপর তাকে ফাঁসির সেলে রাখা শুধু অমানবিকই নয়, তার মানবাধিকার হরণ করার শামিল। এসময় তিনি অবিলম্বে হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে হাবিব উন নবী খান সোহেলকে। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় একাধিক কারাগারে বন্দী জীবন কাটছে এই বিএনপি নেতার।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ সচিবালয়ের ভবনটি ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অফিস কার্যক্রম বাতিল করেছেন শেখ হাসিনা


সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনটি ভূমিকম্পে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে অফিস কার্যক্রম বাতিল করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (৮ এপ্রিল) ওই ভবনে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সভাপতি হিসেবে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আসেননি প্রধানমন্ত্রী।

পরে সরকারের নীতি নির্ধারণী বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ওই বৈঠক থেকে ভবনটির ঝুঁকির কথা জানানো হয়। সেইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সমস্যা সমাধানে আরও একটি ২০ তলা ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

বৈঠকের বরাত দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কিনা তা-ও খতিয়ে দেখা হবে। এ নিয়ে শিগগিরই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমাদের এই ভবনের (১ নম্বর ভবন) ব্যাপারে একটা সতর্কতা আছে যে, এখানে যদি আর্থ কোয়েক (ভূমিকম্প) হয়, এগুলো দুর্বল। এটার বেইজটা অনেক পুরোনো ধরনের, ৬০-৭০ বছর আগে তৈরি করা এ ভবনটি। এটা নিয়ে একটু ঝুঁকি আছে।’

সচিব বলেন, ‘দাউকিতে (ভারতের মেঘালয়ে) ভূমিকম্পের যে আধুনিক সিগন্যালটি আছে সেটি নাড়া দেওয়ার দুই মিনিট পর আমাদের এখানে আসবে। আর আমরা যদি দুই মিনিট আগে সিগন্যাল পাই তাহলে ভবনটি খালি করতে পারবো। সব লোক মাঠে চলে যাবে, এটা সম্ভব। তবে সিগন্যালটি আসতে হবে।’

শফিউল আলম বলেন, ‘ভৌগলিক কারণেই দাউকি থেকে ঢাকা ভূমিকম্প পৌঁছাতে দুই মিনিট সময় লাগবে। এই দুই মিনিট সময় পেলেই ঢাকা শহরে যারা আছে তাদের সতর্ক করা যাবে এবং তারা সবাই সরে যেতে পারবে।’

উল্লেখ্য, সোমবার সকাল ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে ‘মাতামাতি’ পছন্দ না ২০ দলের


নির্বাচনের পরে একবারই বৈঠক হয় এবং ২০ দল নিয়ে কোনো কর্মসূচিও নেই। অন্যদিকে গত বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সময় সময় বৈঠক হচ্ছে। পাশাপাশি এই জোটের সঙ্গে একের পর এক কর্মসূচিও করছে। নতুন গঠিত ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বিএনপির এই ‘মাতামাতি’ পছন্দ করছেন না ২০ দলের নেতারা।

বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদে অংশ নেয় দুই জোটকে সঙ্গে নিয়েই। দীর্ঘদিনের জোট ২০ দলকে হাতে রেখে গত বছরের অক্টোবরে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে আহ্বায়ক করে পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনেও এই নতুন জোটের নামেই বিএনপি ও ২০ দল অংশ নেয়। তবে ২০ দলকে ৪০টি আসন এবং ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। কিন্তু পুরো জোটে বিএনপি পায় ৬টি আসন এবং গণফোরাম পায় ২টি আসন। বিএনপি ছাড়া ২০ দলের অন্য কোনো শরিক দল কোনো আসন থেকে জয় পায়নি।

সম্প্রতি ২০ দলের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতা সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কোথায় বসে কত টাকা নিয়েছেন, তা–ও তাঁর জানা বলে দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেন অলি আহমদ। তাঁর এই বক্তব্য বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। ২০–দলীয় জোটের অনেক শরিকও ঐক্যফ্রন্টের সমালোচনা করছেন প্রকাশ্যেই।

এর মধ্যেই আজ সোমবার সন্ধ্যায় ২০–দলীয় জোটের বৈঠক হতে যাচ্ছে। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সন্ধ্যা ৭টায় এই বৈঠক হবে। বৈঠকে বিএনপি ও ২০ দলের নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

ঐক্যফ্রন্টের কারণে ২০ দল একটু ঝিমিয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বিএনপি এখন ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে বেশি ব্যস্ত। ২০ দলের মধ্যে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এটা বিএনপিকেন্দ্রিক জোট। তারাই ভালো জানে, রাজনৈতিক প্রয়োজনে কখন আলোচনা করবে।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরও বলেন, বিএনপি এখন ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে বেশি এগোচ্ছে। এই মুহূর্তে ২০ দলের কোনো তৎপরতা নেই। খেলাফত মজলিসের এই নেতা জানান, ২০ দল নামে মাত্র আছে। তাঁরা এখন নিজেদের দল নিয়ে কাজ করছেন।

গত বছরের ৩০ ডিসম্বরের সংসদ নির্বাচনের পর একবারই ২০ দলকে নিয়ে বৈঠক করে বিএনপি। অন্যদিকে তারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মানববন্ধন কর্মসূচি, গণশুনানিসহ একাধিক বৈঠক করে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে গণশুনানি হয়। এতে বিএনপি তার দুই জোটের শরিকদের প্রার্থীদের অংশ নিতে আহ্বান জানায়। ২০ দল থেকে মাত্র দুজন প্রার্থী অংশ নেন। এই জোটের প্রধান কয়েকটি দল এই গণশুনানিতে অংশ নেয়নি। সর্বশেষ খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণ–অনশনে ২০ দলের কয়েকটি শরিক দলের নেতা অংশ নেন।

২০ দলের অন্যতম দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টও বিএনপিকে নিয়ে নির্বাচন করেছে, ২০ দলও করেছে। বিএনপির ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি এবং ২০–দলীয় জোটকে এড়িয়ে চলা—মোটকথা, আমাদের কাছে ভালো লাগেনি।’ তিনি বলেন, এটা দীর্ঘদিনের জোট। বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০ দলের মধ্যে সংস্কার হওয়া প্রয়োজন। ২০ দলের মধ্যে পর্যালোচনা করে অনিবন্ধিত ও যাদের তেমন কোনো অবস্থান নেই, তাদের বাদ দিয়ে সংস্কার করা দরকার। তিনি বলেন, এখানে অনেক দল আছে, যারা নামসর্বস্ব। আবার অনেক দল আছে, যারা ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে আছে।

অন্যদিকে ২০–দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে তেমন কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে না।

অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি দুটি কর্মসূচিতে বলেছেন, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করলেও ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর থেকেই ২০ দলের শরিকদের মধ্যে নতুন জোট নিয়ে ক্ষোভ ছিল। বিএনপি নতুন জোটকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে, এমন অভিযোগ তখন থেকেই।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ‘প্যারোল’ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিলেন শামসুজ্জামান দুদু


বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার থেকে যদি প্যারোলে মুক্তির কাগজপত্র দেয়া হয় তাহলে আমরা বিবেচনা করবো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন বক্তব্যের জবাবে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ‘আপনার সরকার যদি পদত্যাগপত্র দেয়, আমরা ভেবে দেখব আপনাদের শাস্তি জেলে হবে না জেলের বাহিরে হবে।’

সোমবার (৮ এ‌প্রিল) জাতীয় প্রেসক্লা‌বে ‘গণতন্ত্র: আজ‌কের বাংলা‌দেশ’ শীর্ষক আ‌লোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন। জাতীয়তাব‌াদী চালক দ‌লের উ‌দ্যো‌গে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘এক সময় বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিল কিন্তু এখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র আছে এটা দাবি করা যাবে না। দেশে এখন গণতন্ত্র নাই, গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা ছাত্র রাজনীতি করেন তারা জানেন গণতন্ত্রের কিছু শর্ত থাকে। তার মধ্যে একটি শর্ত হলো জনগণের ভোটের অধিকার সে অধিকারটা কেড়ে নেয়া হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনকে গোপাল ভাঁড় এর সাথে তুলনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আছে কিন্তু সেই কমিশনে বসে আছে গোপাল ভাড়।’

সরকারের কড়া সমালোচনা করে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘প্রশাসনের এতো খারাপ ন্যাক্কারজনক ঘটনা গত ৪৭ বছরে আমরা লক্ষ্য করিনি। প্রশাসন ডিসি-এসপি-ইউএনও মিলে রাতে ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে নির্বাচনে সেন্টারে যেতে নিষেধ করে এবং রাত্রেই ভোট শেষ করে দেয় আর নির্বাচন কমিশন বলে ইভিএম থাকলে রাতে নির্বাচন হতো না, দিনে হতো। এটা মানুষ নাকি জানোয়ার ঠিক বুঝতে পারি না।’

দুদু বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ স্বৈরতন্ত্র একসাথে চালাতে চাচ্ছে। অনেক আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন- ১ কেজি বেগুনে ১ কেজি লবণ দিব নাকি ২ কেজি দেব সেটা আমার ব্যাপার। আমি শেখ হাসিনাকে বলি- ঘরে রান্না করা রাষ্ট্র পরিচালনা করা এক জিনিস না, এটা বুঝতে হবে।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আপনি ইডেন কলেজে পড়েছেন, দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছেন। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়েছি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে-কলেজে পড়াশোনা করে তার ন্যূনতম জ্ঞান থাকা উচিত, গণতন্ত্র কি আর স্বৈরতন্ত্র কি?’

তিনি বলেন, ‘এদেশের রাজনীতি ৪০ বছর ধরে আমরা দেখছি তো। শেখ মুজিবুর রহমান কোনো ছোট নেতা ছিলেন না, যতো বিতর্কই থাক তিনি খুব বড় মাপের নেতা ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মতো নেতা বাংলাদেশে শতাব্দীতে আর একটা জন্মাবে কিনা সন্দেহ আছে।’

আ‌য়োজক সংগঠ‌নের সভাপ‌তি মো. জ‌সিম উ‌দ্দিন কবী‌রের সভাপ‌তি‌ত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বি এম শাজাহা‌নের সঞ্চালনায় আ‌লোচনা সভায় আরও উপ‌স্থিত ছি‌লেন বিএন‌পির চেয়ারপারস‌নের উপ‌দেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ,‌ যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন, কৃষক দ‌লের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মো. আ‌নোয়ার,‌ কে এম র‌কিবুল ইসলাম রিপন, আয়োজক সংগঠ‌নের সাংগঠ‌নিক সম্পাদক জু‌য়েল খন্দকার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের ঘুম হারাম : রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও জামিনে বাধা প্রদানের পেছনে সরকারের গভীর নীল নকশা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। তারা (সরকার) দেশনেত্রীকে হয় রাজনীতি থেকে না হয় দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে সরকার দলীয় লোকদের মিডিয়া, মন্ত্রী ও নেতাদের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোল নিয়ে তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। দেশনেত্রীর চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ সাহেবের বক্তব্য বিপরিতধর্মী। এতেই বোঝা যায় তারা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে নিষ্ঠুর তামাশা করছেন।

সোমবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই- নিঃশর্তভাবে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। তাকে সাজানো মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে এক বছরের বেশি সময় কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। জামিন পাওয়া তার নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার। যে মিথ্যা মামলায় তাকে জোর করে সাজা দেয়া হয়েছে, সেই মামলায় অন্যান্য সবাই জামিনে রয়েছেন। অথচ আদালতের ওপর প্রভাব খাটিয়ে শুধু দেশনেত্রীকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। নতুন নতুন গ্রেফতারি পরোয়ানা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, মামলা কিছু নয়, আসল উদ্দেশ্য দেশনেত্রীকে তিলেতিলে শেষ করা অথবা সারাজীবনের জন্য রাজনীতির ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়া। সেই উদ্দেশ্য সফল না হওয়া পর্যন্ত তাকে বন্দি করে রাখা। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী থেকে শুরু করে তাদের প্রিয়ভাজন ব্যক্তিরা একই ধরনের মামলায় জামিনে আছেন।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে তার চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা নেই। তার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় কোনো অগ্রগতি নেই। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও স্বীকার করছেন দেশনেত্রীর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আমরা জেনেছি, তিনি একেবারেই হাঁটাচলা করতে পারছেন না। ডায়াবেটিস, হাঁটু ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ।

রিজভী বলেন, সরকার তার বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করার জন্য সময়ক্ষেপণ করছে কি-না এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন গভীরতর হচ্ছে। তবে দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থার ক্ষতিকর কিছু হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, মানবিক কারণে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিষয়ে এটর্নি জেনারেল যে বক্তব্য দিয়েছেন, যদি তাই হয় তবে তিনি বারবার মিথ্যা মামলায় বেগম জিয়ার জামিন পেতে বাধা দিচ্ছেন কেন? দেশনেত্রী বেগম জিয়ার জামিনে মুক্তি পেতে সরকারের নির্দেশই সবচাইতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

সরকারের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, এক মাঘে শীত যায় না। পরিস্থিতি সব সময় একই রকম থাকে না। নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভাবুন, পরিস্থিতি বদলাতে সময় লাগে না। মানুষের আওয়াজ শুনুন। ফুঁসছে মানুষ। পায়ে পা, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে তারা। তাই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র বন্ধ করে দ্রুত দেশনেত্রী জনগণের আস্থার প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আর বাধা দিবেন না। গণমানুষের নেত্রীকে তাদের মাঝে ফিরতে দিন।

রিজভী আরও বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন কারান্তরীণ আছেন। তাকে বর্তমানে কারাগারের ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে। জজকোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও তাকে বিভিন্ন থানার গায়েবি, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলাগুলোতে গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে কারাগারে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে। এটি বর্তমান অমানবিক, নির্দয় ও নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী সরকারের দ্বারা সংঘটিত অপকর্মগুলোর মধ্যে আরেকটি ঘৃণ্য আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তার ডায়াবেটিস ২৫ এর উপরে। তাকে ফাঁসির সেলে রাখা শুধু অমানবিকই নয়, তার মানবাধিকারকেও হরনের সামিল। আমি অবিলম্বে হাবিব উন নবী খান সোহেলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারসহ নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

উৎসঃ ‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার মুক্তি প্যারোল নয় জামিন তার প্রাপ্যঃ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক


খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গণঅনশন করেছে বিএনপি। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে কর্মসূচি শুরু হয়ে বেলা ৪টা পর্যন্ত চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ শীর্ষ নেতাদের পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টায় অনশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মিলনায়তনের বাইরে অনুমতি না পাওয়ায় আধা ঘণ্টা দেরিতে মিলনায়তনের ভেতরে মাদুর বিছিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। অনশনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকরাও অংশ নেয়।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতারা বলেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। প্যারোলে নয়, জামিনে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। জামিন তার প্রাপ্য।’

অনশনে অংশ নিতে সকাল ৯টা থেকেই নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের সামনের সড়কে খণ্ড খণ্ড ভাবে জড়ো হয়ে তারা নানা স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সংবলিত ব্যানার।

এছাড়া নেতাকর্মীদের হাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ডও ছিল। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের বাইরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেন, গৌতম চক্রবর্তী, আবদুস সালাম, গোলাম আকবর খন্দকার, হাবিবুর রহমান হাবিব, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শামীমুর রহমান শামীম, শফিউল বারী বাবু, সাইফুল আলম নীরব, মোরতাজুল করীম, মাহবুবুল হাসান ভূঁইয়া পিংকু, মাইনুল ইসলাম, রাজিব আহসান, কালিয়াকৈরের মেয়র মজিবুর রহমান প্রমুখ অংশ নেন।

এছাড়া নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মহাসচিব হাবিবুর রহমান, ২০ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা ইছাহাক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদির, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি প্রমুখ অনশনে অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অবিলম্বে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন শুরু করতে হবে। জামিন তার প্রাপ্য। যে মামলায় তিনি কারাগারে আছেন, সেই মামলায় অন্যরা জামিনে আছেন। তিনি কেন জামিন পাবেন না?’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্যারোলের কথা বলিনি। আমরা জামিনে মুক্তির কথা বলেছি। দেশকে বাঁচাতে হলে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হলে, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে।’

ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘খালেদা জিয়ার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না। এজন্য আমরা বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসা চেয়েছি। কিন্তু সে সুযোগ দেয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘পিজি হাসপাতাল সরকারি হাসপাতাল। সেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ। এজন্য সেখানে দেশনেত্রীর চিকিৎসা সম্ভব নয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘অবৈধ সরকারের কাছে মুক্তি দাবি করে লাভ নেই। কারণ গণতন্ত্রও খালেদা জিয়ার মতোই সরকারের বাক্সে বন্দি। তাই গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। আর গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে আগে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আদালতে সরকারের প্রভাব থাকায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। আইনজীবী হিসেবে আপনাদের বলব, আইনি প্রক্রিয়ায় দেশনেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না। একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করা সম্ভব।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনুকম্পা বা দয়ায় হবে না, আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। সময় আসবে, ঘোষণাও আসবে, প্রস্তুতি নিন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করা হবে।’

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সময় বেশি দিন নেই। শেখ হাসিনা প্যারোলে মুক্তি নিয়েছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া প্যারোল নেননি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, খুব বেশি দিন নেই, আপনাদের নেতাকে জনগণের কাছে প্যারোল চাইতে হবে। জনগণের নেত্রী জনগণের মধ্যে আসবেন আন্দোলনের মাধ্যমে। কারও অনুকম্পা চাই না।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় নামলে দু-চারটা মামলা হবে। তাতে কী যায় আসে। দেশটাই তো একটি কারাগারে পরিণত করেছে। যদি রাস্তায় নামতে পারেন তাহলে শেখ হাসিনা এক সময় বলবে- ছেড়ে দে মা, আমি গেলাম, আমাকে মাফ করো।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যেমন প্যারোলে লাহোরে যাননি, তেমনি খালেদা জিয়াও প্যারোলে মুক্তি না নিলে সেটা হবে দ্বিতীয় নজিরবিহীন। প্যারোলে মুক্তি মানে খালেদা জিয়ার মৃত্যু, গণতন্ত্রের মৃত্যু।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘আন্দোলনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। আশা করব, এ কর্মসূচি ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন থেকে রাজপথে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে কোনো সন্দেহ সৃষ্টির অবকাশ নেই। ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার প্রথম দফাই হচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তি।’

২০ দলীয় জোটের শরিক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ঐক্যফ্রন্টের সমালোচনা করে বলেন, ‘যারা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জিয়াউর রহমানের নাম নিতে কুণ্ঠাবোধ করেন তাদের দিয়ে জাতীয় ঐক্য কতটা হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’

নয়াপল্টনে রিজভীর অনশন : খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি গণঅনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে অনশন করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার সঙ্গে অনশনে অংশ নেন- বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মাদ মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ভোটডাকাতির বৈধতা নিতে বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আয়োজন?


রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি। পর্দার আড়ালে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সমঝোতার আলোচনা হচ্ছে, এমন খবর বেশ কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে বিএনপির নির্বাচিত ৬ জন এমপি শপথ নিয়ে সংসদে যাওয়ার শর্তে সরকার খালেদা জিয়াকে প্যারোলে বা জামিনে মুক্তি দিতে পারে। যদিও বিএনপির পক্ষ থেকে প্যারোলের বিষয়টিকে বার বার প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে সংসদে যাওয়ার শর্তে খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আর বিএনপির দাবি হলো-প্যারোলে নয়, খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত সংসদের মতো এবারও আওয়ামী লীগ একদলীয় সংসদ নিয়ে চরম বেকায়দায় আছে। জাতীয় পার্টিকে কাগজে-কলমে বিরোধী দলের আসনে বসানো হলেও মূলত: দলটি সরকারি জোটেরই অংশ বিশেষ। আর জাতীয় পার্টিও নিজেদের ইচ্ছায় বিরোধী দলের আসনে বসেনি। এক প্রকার সরকারের চাপের মুখে পড়েই তারা বিরোধীদলের আসনে বসতে বাধ্য হচ্ছে।

অপরদিকে, বিদেশিরা সরকারের সঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিলেও সংসদে শক্তিশালী বিরোধীদল না থাকায় বিষয়টি খুব ভালভাবে নিচ্ছে না। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি সংসদের বাইরে থাকার বিষয়টিকেও বিদেশিরা খুব গুরুত্ব দিচ্ছে। আর প্রভাবশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রতো এখনো তাদের দাবিতে অবিচল যে, বাংলাদেশের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। এসব কারণে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ খুব অস্বস্তিতে আছে।

সরকার মনে করছে, বিএনপির আসন সংখ্যা যা-ই হোক দলটি যদি সংসদে আসে তাহলে নির্বাচন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন উঠবে না। কেউ আর সংসদকে একদলীয় সংসদ বলতে পারবে না। তাই বিএনপির নির্বাচিত ৬ জনকে সংসদে আনতে দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকেই হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা বিএনপিকে টোপ দিয়েছে- যদি আপনারা সংসদে আসেন তাহলে দলীয় প্রধানকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হবে।

আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নির্বাচিত এমপিরাও সংসদে যেতে রাজি। তারাও চান খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে সংসদে যেতে। আর এক্ষেত্রে পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছেন জাতীয় ঐক্যের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। যদিও বিএনপি নেতারা এসব কথাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

তবে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমের বক্তব্যেও এসবের কিছু আভাস পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে সরকার তা বিবেচনা করবে। আর নাসিম বলেছেন, সংসদে এসে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলুন, লাভ হতেও পারে।

নাসিমের বক্তব্যে বিষয়টি পরিষ্কার যে, কোনো আইনি জটিলতার কারণে খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ নয়। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার চাচ্ছে না তাই খালেদা জিয়াও মুক্তি পাচ্ছেন না। সরকার মূলত চাচ্ছে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে যে ভোট ডাকাতি হয়েছে সেটার বৈধতা আদায় করতে। এখন দেখার বিষয়- খালেদা জিয়া কি বাইরের আলো বাতাস দেখার জন্য ভোটা ডাকাতির বৈধতা দেবেন নাকি কারাগারেই থাকবেন। তবে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া এসব প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ এস এম হলের হামলাকারীরা ছাত্রলীগের, ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত!


এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি মুজাহিদ কামাল ও জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম ও ছাত্রলীগ কর্মী মোবাশ্বের মারুফ (ওপরে বাঁ থেকে)। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে হল সংসদে প্রার্থী হওয়ায় উর্দু বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরিদ আহমেদকে নির্যাতন করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় হল প্রাধ্যক্ষের কাছে বিচার চাইতে গেলে অবরুদ্ধ করা হয় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের। হামলা করা হয় ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, শামসুন্নাহার হলের ভিপি তাসনিম আফরোজ ইমিসহ বেশ কয়েকজনের ওপর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি।

গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত করা হয়েছে অভিযুক্তদের পরিচয়। এ ঘটনায় জড়িতদের অনেকেই ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আছেন যাদের গত বছরে বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

যদিও ছাত্রলীগ আগে থেকেই দাবি করেছে, তারা এ ঘটনায় জড়িত নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন এর আগে বলেছেন, হামলার নাটক সাজিয়ে তাদের চরিত্রে দাগ লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভুক্তভোগীরা ঘটনার সময় ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করেছেন। তারা নিশ্চিত হয়েছেন হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে।

হামলায় জড়িতরা

এ ঘটনার কয়েকদিন পর কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক শিক্ষার্থী ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে বলেন, ঢাবি শাখা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজিরের শরীরে যে ছেলেটি দৌড়ে এসে লাথি মারেন তিনি লোক প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী মোবাশ্বের মারুফ। তিনি ছাত্রলীগ মনোনীত হল সংসদের জিএস জুলিয়াস সিজারের সমর্থক।

অভিযোগের বিষয়ে মোবাশ্বের মারুফ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমি ঘটনার দিন দুপুরে ট্রেনে করে কক্সবাজার আসি। এসেই হোটেলে উঠি। আমি এর সঙ্গে জড়িত নই।’ তবে কক্সবাজারে কোনো ট্রেন লাইনই নেই। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত গিয়ে তারপর বাসে করে কক্সবাজার যেতে হবে। মোবাশ্বেরের কাছে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ট্রেনের টিকেট দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি। তবে তিনি কক্সবাজারের যে হোটেলে ওঠেন তার একটি রশিদ দেখান। সেখানে দেখা যায়, ঘটনার পরের দিন ৩ এপ্রিল তিনি ওই হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নেন। এ ছাড়া তিনি কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার একটি বাসের টিকিট দেখালেও তাতে কোনো নাম বা সময় উল্লেখ নেই।

হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, যারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছিল তাদের মধ্যে রয়েছেন এস এম হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ, সহসাধারণ সম্পাদক নওশের আহমেদ, সহসভাপতি মিলন হোসাইন নিরব, সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক জাহিদ হাসান, নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক নাবিল হায়দার এবং হল ছাত্র সংসদের ১ নম্বর সদস্য আবির রহমান সৈকত।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি ও ছাত্রলীগ নেতা মুজাহিদ কামাল এবং জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার।

এদিকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও হল সংসদের ভিপি মুজাহিদ কামালকে এর আগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনটির গত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বহিষ্কারের বিষয়টি সেই সময় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। একাধিক গণমাধ্যমেও বহিষ্কারের বিষয়টি আসে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত কামালের বিরুদ্ধে বুয়েট মার্কেটের একটি হোটেলে খাওয়া শেষে টাকা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে সময় তাঁর নেতৃত্বে ওই হোটেলে ভাঙচুর করা হয়। এতে একটি মামলাও করে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এই মামলায় দুই নম্বর আসামি হন ২ এপ্রিলের হামলায় অভিযুক্ত ও হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম। সায়েমকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

ফরিদকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনার অভিযোগ দিতে ২ এপ্রিল এস এম হলে যান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর ও সমাজসেবা সম্পাদক আকতার হোসেন, শামসুন্নাহার হলের ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও ফারুক হোসেন, ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির, ডাকসুর ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খানসহ কয়েকজন। সে সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয় এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, হল সংসদের ভিপি ছাত্রলীগ নেতা কামাল হোসেন, জিএস জুলিয়াস সিজার তালুকদার, সাহিত্য সম্পাদক আকিব মোহাম্মদ ফুয়াদসহ অন্যদের হাতে লাঞ্ছিত হন সেমন্তি, ইমি ও বেনজিরসহ ছাত্রীরা। তাদের গায়ে ডিমও ছুঁড়ে মারে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এ ঘটনার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় তারা সারারাত সেখানে অবস্থান করেন। পরের দিন বুধবার সকালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। তিনি হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে সোমবারের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আলটিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

হামলার সময় দর্শকের ভূমিকায় প্রক্টর দল

ভিপি নুরসহ অন্য শিক্ষার্থীদের ওপর যখন হামলা করা হয়েছিল তখন আশপাশে কাউকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। একটি পক্ষ ছিল হামলাকারী আর অন্যটি ছিল ভুক্তভোগী। তখন তৃতীয় একটি পক্ষকে নীরব ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। তাদের গায়ে প্রক্টর টিমের পোশাক দেখা যায়। কিন্তু তারা ছিলেন দর্শকের ভূমিকায়। হামলাকারীদের কোনো বাধা দেননি তাঁরা।

ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানীকে ফোন করা হলে তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, সেখানে প্রক্টর টিমকে পাঠানো হয়েছে, তারা দেখবে। প্রক্টর দলের নীরব ভূমিকার কথা তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, ওটা হলের অভ্যন্তরীণ বিষয় তো। হল প্রাধ্যক্ষ যাচ্ছেন, তিনি দেখবেন।

ডিম নিক্ষেপের শিকার হন হল প্রাধ্যক্ষও

ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরসহ অন্যদের দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার পর ঘটনাস্থলে যান হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারদার। প্রাধ্যক্ষ ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসছিলেন, তখনও তাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এই হামলায় বাদ যাননি হল প্রাধ্যক্ষও। যেটি তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন।

জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ বলেন, যখন নুরসহ অন্যদের বের করে আনি তখন ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। এই ধাক্কা আমিও খেয়েছিলাম। আমার গায়েও ডিম নিক্ষেপ করা হয়েছিল। অন্ধকারে কারা নিক্ষেপ করেছিল, জানি না। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখবে।

তদন্তে অগ্রগতি নেই

হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেন এস এম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম জোয়ারদার। এ কমিটির প্রধান করা হয় হলের জ্যেষ্ঠ আবাসিক শিক্ষক ড. সাব্বির আহমেদকে। তদন্তের চারদিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা ছুটির কারণে কোনো মিটিং বা কিছুই করতে পারিনি। তদন্ত শেষ করতে প্রায় ৪০ জনের মতো সাক্ষাৎকার নিতে হবে। এতে প্রায় এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে।

ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন

ওই হামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আগামীকাল সোমবার পর্যন্ত আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘উপাচার্য আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তারা বিচার করবেন। আমরা সোমবার পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছি। তারা যদি এর মধ্যে বিচার না করে তবে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

নুর বলেন, তদন্ত কমিটি চাইলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের খুঁজে বের করতে পারে। এই সময়ই যথেষ্ঠ। আমাদের কাছে সব তথ্য আছে। তারা চাইলে আমরা দিতে পারব।

উৎসঃ ‌এনটিভি

আরও পড়ুনঃ ডিসেম্বরের নির্বাচন গণতন্ত্রের মানদন্ড পূরণে ব্যর্থ: বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী


বাংলাদেশের কাছের বন্ধু হিসেবে বৃটেন স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান থাকা এক প্রত্যয়ী বাংলাদেশ দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন সফররত দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। রোববার রাজধানীর এক হোটেলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত সেমিনারে তিনি বলেন, আমরা প্রাণবন্ত বিতর্ক, উদ্দীপনাময় সুশীল সমাজ এবং প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন দেখতে চাই। বৃটিশ মন্ত্রী তার দীর্ঘ বক্তৃতায় বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জানান, ২০২১ সালে বাংলাদেশ যে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আয়োজনে বৃটেনও অংশীদার হতে চায়। এ সময় মার্ক ফিল্ড বলেন, বন্ধু হিসাবে আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবারও বলছি, এখানে ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হয়েছে তা গণতন্ত্রের মানদন্ড পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই নির্বাচনের যত অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে তার পূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির আহ্বানও পূণর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৃটিশ মন্ত্রী আরও বলেন, তার দেশ দেখতে চায় যে উদীয়মান গণতান্ত্রিক ভূমি বাংলাদেশ অবাধ ও স্পন্দনশীল গণমাধ্যমের দ্বারা জবাবদিহির আওতায় থাকবে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় অর্ধশতকের জন্য তা হবে এক চমৎকার রূপকল্প এবং সেই সাথে এটি হবে দেশটির অবিসংবাদিত সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সবচেয়ে ভালো উপায়। বৃটিশ মন্ত্রী জানান, যে কোনো উপায়ে এ সম্ভাবনা অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকতে তার দেশ প্রস্তুত।

দুই দেশের মধ্যকার ইতিহাস ও আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্ককে শক্তিশালী ও গভীর করেছে মন্তব্য করে মার্ক ফিল্ড বলেন, বাংলাদেশ গত অর্ধশতকে যে বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে বৃটেন তাকে স্বাগত জানায় এবং আগামীতে এ দেশের আরও অনেক কিছু অর্জনের সম্ভাবনাকে তারা উপলব্ধি করছেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম প্রধান অতিথি ও ড. মশিউর রহমান গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন পিআরআই’র ড. আহসান মনসুর। উল্লেখ্য, বৃটেনের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ কার্যালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর করছেন এবং সোমবার তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

উৎসঃ ‌মানবজমিন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here