‘খুনী’ যুবরাজের সফর ঠেকাতে উত্তপ্ত তিউনিশিয়া, মামলার প্রস্তুতি!

0
689

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সফর ঠেকাতে ফুসেঁ উঠেছে তিউনিশিয়ার জনগণ। সাংবাদিক জামাল খাসোগিকে হত্যা করায় যুবরাজকে কোনভাবেই স্বাগত জানাতে চায় না আফ্রিকার এই দেশটি। অধিকারকর্মীরা বলছেন, ‘যুবরাজের হাতে এখনও খাসোগি হত্যার রক্তের দাগ লেগে রয়েছে।’

দেশটির রাজনীতিক, সচেতন সমাজ, সাংবাদিক-ব্লগার ও মতানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো যুবরাজের সফরের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

যুবরাজের বিরুদ্ধে তিউনিসিয়ার জনগণের এ প্রতিবাদ শুধু বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুবরাজের পরিকল্পিত সফর ঠেকাতে ইতিমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। এই সফরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে ইতিমধ্যে ৫০ আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

তিউনিশিয়ার খ্যাতনামা আইনজীবী ও সাংবাদিক সিন্ডিকেটের প্রধান নিজার বজলুল শনিবার আলজাজিরাকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ২ অক্টোবর খাসোগি হত্যার পর প্রথমবারের জন্য বিদেশ সফরে বেরিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ। আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিতব্য জি২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আগে দশটি দেশ সফর করবেন তিনি।

এরই অংশ হিসেবে আগামী ২৭ নভেম্বর তিউনিশিয়া সফর করবেন। তিউনিশিয়া সরকার যুবরাজের তথ্য নিশ্চিত করে শুক্রবার বলেছে, যুবরাজকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে খাসোগি হত্যার নিন্দার পাশাপাশি হত্যার ‘পেছনের সত্য’ প্রকাশে সৌদির প্রতি আহবান জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার সফরের শুরুতে সৌদি জোটের অন্যতম সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছান তিনি।

যুবরাজের সফরের আগেই আদালতে মামলা রুজু করবে আইনজীবীদের ওই দল। তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসেবসিকে লেখা এক চিঠিতে এর নিন্দা জানিয়ে তিউনিশিয়ান প্রেস সিন্ডিকেট বলেছে, সফরের মাধ্যমে যুবরাজ আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা এড়াতে এবং বিশ্বের মানুষের চোখে ধুলো দিতে চাচ্ছেন।

নাজির বজলুল যুবরাজের সফরের সমালোচনা করে তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘খাসোগির রক্ত এখনও উষ্ণ আর খুনি মোহাম্মদ বিন সালমানকে আমাদের দেশে সফর আসছেন। তাকে স্বাগত জানানো হবে না।’

এদিকে, খাসোগি হত্যার বিতর্কের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে সৌদি আরব। এ মর্মে শনিবার নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন সৌদি তথ্যমন্ত্রী আওয়াদ বিন সালেহ আল আওয়াদ। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘সহিংসতার মাধ্যমে সরকার উৎখাত বা পরিবর্তনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হল।

উৎসঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ খাশোগি হত্যা : যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির নীল নকশা ও তুরস্কের উদ্দেশ্য

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার প্রায় দেড় মাস হয়ে গেছে। তবে এ হত্যায় কে জড়িত এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কোনো পক্ষই। একপক্ষ দাবি করছে খাশোগি হত্যার নির্দেশদাতা সৌদি যুবরাজ সালমান তবে অন্য পক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। আর বিষয়টি যে আলোচনায় আছে তার পেছনে রয়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক। নানান তথ্য-প্রমাণ আসার পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদির বিরুদ্ধে কিছুই বলছেন না। আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ক্রমাগতভাবে এ হত্যার জন্য সৌদির ওপর চাপ প্রয়োগ করছে। খাশোগির হত্যার আড়ালে তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে আছে কিনা তাই উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদন।

গত বৃহস্পতিবার সৌদি প্রসিকিউটর আনুষ্ঠানিকভাবে খাশোগি হত্যায় জড়িত ১১ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। সৌদি প্রসিকিউটরের এমন ঘোষণার পর ট্রাম্প প্রশাসনও নতুন করে সৌদির ১৭ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু হত্যার নেপথ্যে থাকা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কেউই অভিযুক্ত কিং-বা দায়ী করে না।

সিএনএন বলছে, এই দুই ঘটনা কোনোভাবেই কাকতালীয় নয়। দুই পক্ষ থেকে একসঙ্গে এরকম ঘোষণার পেছনে আছে একটা বড় উদ্দেশ্য। মূলত যুবরাজ সালমানের বিরুদ্ধে খাশোগি হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ দিন দিন যত বাড়তে শুরু করায় তাকে বাঁচাতেই একসঙ্গে এ ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে দুই দেশ।

কিন্তু গত শুক্রবার যে ঘটনাটি ঘটেছে তা দুই পক্ষের এই পরিকল্পনায় ছাই ঢেলে দিয়েছে। মার্কিন তদন্ত সংস্থা সিআইএ খাশোগি হত্যাকাণ্ডের তদন্তের পর জানিয়েছে যে, গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। মার্কিন এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও এ ঘটনার সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় সিএনএন।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিথার নওয়ার্ট বলেছেন, কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর আমরা পাইনি।

খাশোগি হত্যার সঙ্গে যুবরাজ সালমান জড়িত বলে মার্কিন তদন্ত সংস্থা সিআইএ যে মূল্যায়ন দিয়েছে এখনও সেটা অস্বীকার করছে সৌদি আরব। কিন্তু যদি সিআইএর এই তদন্ত শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হয় তাহলে এতদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে ট্রাম্পের যে সম্পর্ক সেটা কি একটা বড় ধাক্কা খেতে পারে।

কেননা কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগিকে হত্যার ব্যাপারে প্রথম থেকে নানারকম ব্যাখ্যা দিয়ে আসছিল সৌদি আরব। আর সে কারণেই পুরো ঘটনাটা প্রকৃতপক্ষে কি সেটা বিশ্বাস করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার পর রিয়াদ প্রথম অস্বীকার করে তারা এ ব্যাপারে কিছু্ই জানে না। কিন্তু চাপে পড়ে ঘটনার সপ্তাহখানেক পর সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেন খাশোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সিআইএর দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন সত্ত্বেও ট্রাম্প তার মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধু মোহাম্মদ বিন সালমানকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গত শনিবার তিনি পুনরায় এ ঘটনায় যুবরাজ সালমানের সম্পৃক্ততা নেই বলে তার দৃঢ় বিশ্বাসের কথা জানান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এ হত্যায় যুবরাজ সালমানের কোনো হাত নেই। সৌদি আরব আমাদের সত্যিকারের একজন ঘনিষ্ট মিত্র। তারা আমাদের অনেক কাজ ও ব্যবসার জন্য অনেক সুযোগ দেয়। যা অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এমন মন্তব্যের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবের বাদশাহ ও বন্ধু সালমানের পক্ষ হয়েই কথা বলছেন। আর তার বক্তব্যে এটা পরিস্কার যে, একজন সাংবাদিকের জীবন তার লাভজনক অস্ত্র ব্যবসা আর বাণিজ্য চুক্তিকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে না।

তবে খাশোগি হত্যা নিয়ে সৌদি আরবের ওপর সবচেয়ে বড়ে চাপটি আসছে তুরস্কের পক্ষ থেকে। দেশটি বলছে ওইদিন কনস্যুলেটে ঢোকার পরপরই খাশোগিকে হত্যা করে তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। আর পরিকল্পনা অনুযায়ী তার মরদেহ অদৃশ্য করে দেয় সৌদি আরবের পাঠানো ১৫ সদস্যেল কিলিং স্কোয়াড।

কিন্তু খেয়াল করার মতো বিষয় হলো তুরস্কের কর্মকর্তারা কিন্তু খাশোগি হত্যা নিয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে তথ্য দিচ্ছে। আর এর পেছনে তাদের উদ্দেশ্য হলো খাশোগি হত্যা ইস্যুতে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখতে চাচ্ছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আলোচনায় একটা নেতিবাচকতা নিয়ে প্রতিনিয়ত সৌদি আরব আলোচিত হোক এটাই তাদের লক্ষ্য।

ঘটনার প্রায় একমাস পর তুরস্কের পক্ষ থেকে বলা হয় খাশোগি হত্যার অডিও রেকডিং তাদের হাতে আছে। এছাড়া সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর কাছে খাশোগি হত্যার রেকডিং পাঠিয়েছে আঙ্কারা।

তুরস্কের এই একটু একটু করে তথ্য দেয়ার কারণে সৌদি কর্মকর্তরা খাশোগি হত্যা নিয়ে তাদের গল্প বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন। আর এর মাধ্যমেই মূলত সৌদি আরব বলতে বাধ্য হয়েছে যে, খাশোগিকে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা হত্যা করেছে।

কিন্তু খোদ তুরস্কেই বর্তমানে সাংবাদিকরা একটা ভয়াবহ নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন সময় কি হলো যে তুরস্ক খাশোগি হত্যার বিচার নিয়ে নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে। এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্য কোনো কারণ আছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোশিয়ার মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ভূ-রাজনীতি বিষয়ক গবেষক আইহাম কামেল বলছেন, সচেতনভাবেই সৌদি আরবের ওপর আরও আক্রমণাত্মক ও দেশটিকে বিশ্বে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার জন্যই এ কাজ করছে তুরস্ক।

আইহাম কামেল বলেন, ‘এই অঞ্চলে সুন্নিদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য এ হত্যাকাণ্ডকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সৌদি আরব এবং তুরস্ক মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য বিস্তারে দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ। তুরস্ক এই ঘটনাটিকে ব্যবহার করে এই অঞ্চলে তাদের আধিপত্য বাড়ানোর কাজটি করছে।’

কিন্তু বৈশ্বিক এ রাজনীতি আর ভূ-রাজনীতির খবর পাচ্ছে না নিহত সাংবাদিক খাশোগির পরিবার। তারা এখনও তাদের স্বজনের মরদেহ পাওয়ার আশায় আছে। প্রকৃতপক্ষে খাশোগির মরদেহের আদৌ অস্তিত্ব আছে কিনা তাও এখনও জানা যায়নি। এদিকে গত শুক্রবার তুরস্ক, মক্কা ও মদিনাসহ বেশ কয়েকেটি স্থানে খাশোগির গায়েবানা জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

গত দেড় মাস ধরে খাশোগি হত্যা নিয়ে ধোয়াসা তৈরি হয়েছে তার মাধ্যমে এটাই বোঝা যাচ্ছে যে, খাশোগি হত্যার সত্য উদঘাটিত হয়নি আর এই সত্য কখনো উদঘাটন হবেও না।

উৎসঃ jagonews24

আরও পড়ুনঃ যারা ব্যক্তি স্বার্থকে বড় করে দেখেন একে পার্টিতে তাদের স্থান নেই: এরদোগান


যারা দলের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকে বড় করে দেখেন একে পার্টিতে তাদের স্থান নেই বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এরদোগান। ২০১৯ সালের মার্চ মাসের স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পার্লামেন্ট ভবনে দলীয় সংসদ সদস্যদের এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস এন্ড ডেভেলাপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) প্রধান ও তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান মঙ্গলবার তার দলের সদস্যদের আরও সতর্ক করে বলেন, একে পার্টি একটি জাতির বৃহত্তর স্বার্থ ভিত্তিক দল। ফলে যারা ব্যক্তি স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত তাদের এই দলে কোনো স্থান নেই।

পার্লামেন্ট ভবনে একে পার্টির দলীয় সভায় বক্তৃতাকালে এরদোগান বলেন, রাজনীতির একেকটি স্তর আমাদের জন্য মানুষের সেবা করার একেকটি হাতিয়ার। এরদোগান জোর দিয়ে বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের আগে একে পার্টির স্বার্থ আসবে এবং আগামী ২০১৯ সালের মার্চ মাসের পৌর নির্বাচনের আগেই দলের সকল স্তরের সদস্যদেরকে এই কথা মনের মধ্যে গেঁথে নিতে হবে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য তুরস্কের দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা শুরু করে দিয়েছে। এটা প্রধান নির্বাচনী জেলাগুলোতে মেয়র হওয়ার দৌড়ে দলের আভ্যন্তরীণ সদস্যদের প্রতিযোগিতার একটি প্রক্রিয়া।

‘প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া হলো- কে কত ভাল জনগণের সেবা করতে পারবে তার প্রতিযোগিতা। মাঝে মাঝে একের অধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে পারে। তাদের মধ্যে যাকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করা হবে, অন্যরা অবশ্যই তাকে সহযোগিতা করবে। প্রার্থীতার মনোনয়ন না পাওয়ায় যারা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি নাখোশ হবে অথবা অন্য উপায় খুঁজবে তারা কখনোই একে পার্টির অনুগত ছিল না বলে ধরে নেয়া হবে’, বলেন এরদোগান।

২৪ জুনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচনে একে পার্টির পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এরদোগানের জন্য যে পরিমাণ জনসমর্থন এসেছে তাকে সফলতা হিসেবে দেখা হয়েছে। তবে একে পার্টির সংসদীয় দৌড়ের জন্য জনসমর্থন প্রত্যাশিত হারের চেয়ে কম ছিল। এরদোগান তখন বলেছিলেন, কম জনসমর্থনের মাধ্যমে ভোটাররা যে বাণী দিয়েছে তা বিবেচনায় নেয়া হয়েছে এবং দল এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে। আর তাই মার্চ ২০১৯ এর নির্বাচনকে বিশেষজ্ঞরা নতুন সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় একে পার্টির সাফল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে দেখছেন।

একে পার্টির সভাপতি বলেন, আমাদের দুর্বল দিকগুলো ঠিক করতে আমরা রাতদিন কাজ করবো। যারা নিয়মনীতির ভেতর থাকবে না তারা সংশোধিত না হলে তাদেরকে ছাটাই করা হবে। ব্যক্তির ভুলের কারণে জনগণের চোখে দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।

দলের তৃতীয় বারের মত ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি সামনে এনে এরদোগান বলেন, মেয়র বা সংসদ সদস্যরা যেহেতু তিন বারের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারে না তাই কেউ যদি পুনরায় মনোনায়ন না পায় সে যেন দলের প্রতি ক্ষুব্ধ না হয়।

“দলের কারো ‘আমি’ বলার অধিকার নাই। একে পার্টি হলো ‘আমরা পার্টি’। এ ব্যাপারে কারো যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে তাহলে দল থেকে সতর্ক করার জন্য অপেক্ষা না করে তার উচিত এখনই কেটে পড়া। সংগঠন এবং প্রার্থীদের একে অপরকে দেখা উচিত। আমাদের মাপকাঠি হবে ‘জনগণ আমার সম্পর্কে কী ভাবছে’ তার উপর”, এরদোগান বলেন।

গত বছর একে পার্টি একটি নতুনত্বের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছিল যেখানে ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারাসহ কিছু প্রধান প্রদেশের মেয়রদেরকে পদত্যাগ করতে বলা হয় এবং তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয় পৌর সমাবেশে নির্বাচিত নতুন মুখদের। এ ব্যাপারে এরদোগান বলেন, তার দলে ক্ষেত্রবিশেষে যে শিথীলতা দেখা গেছে তা দূর করে গতি ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল।

সে থেকে দলে এবং সরকারে ব্যাপক রদবদলের মধ্যে দিয়ে গেছে একে পার্টি। ইতোমধ্যে একে পার্টি ডেলিগেটদের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের উপর একটি বৈদ্যুতিক ভোট জরিপসহ তিন-স্তর বিশিষ্ট নতুন প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চালু করেছে। ডেলিগেটদের দ্বারা পরিচালিত ‘ই-টেন্ডেন্সি’ জরিপটি রবিবার এরদোগানের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

এতে একে পার্টির ইস্তাম্বুল শহরের মেয়র নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সংসদীয় স্পিকার বিনালী ইলদরিম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সলুর নাম জোরালোভাবে শোনা যায়।

৮১ টি প্রদেশের প্রায় ১,২৭,১৪৮ জন ডেলিগেট প্রথমবারের মত অনলাইন জরিপে ভোট প্রদান করে। সকল ডেলিগেটদের প্রায় ৯০.৩৩ শতাংশ এই জরিপে অংশগ্রহণ করে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ডেলিগেট অংশ নেয় ইস্তাম্বুল শহর থেকে। ইস্তাম্বুলের ডেলিগেটদের ৯৮ শতাংশ ভোট দেয়।

আগে ‘টেন্ডেন্সি’ জরিপে সাধারণত প্রায় দুই সপ্তাহ সময় লাগতো। সে তুলনায় ‘ই-টেন্ডেন্সি’ জরিপ মাত্র সাত ঘন্টায় শেষ হয় এবং একই দিনে ফলাফল দলীয় চেয়ারম্যানের নিকট পেশ করা হয়।

টেন্ডেন্সি জরিপের সিস্টেমে একজন ব্যক্তি আরেকজনের বিপরীতে ভোট দিতে পারবে না এবং এতে কোনো প্রকার গোপনীয়তা প্রকাশের সুযোগ নেই। কারণ এটি কোনো ব্যক্তির উপর নির্ভর না হয়ে জেলাগুলোর জন্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে এর ফলাফল কেবল এরদোগানই দেখতে পারবেন।

জরিপে আঙ্কারার প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র মোস্তফা তুনা, একে পার্টির ডেপুটি চেয়ারম্যান মেহমেত ওজ্জাসেকি এবং আঙ্কারার ডেপুটি এমরুল্লাহ ইসলার এবং ফাতিহ সাহিন এর নাম উঠে এসেছে।

‘দৈনিক সাবাহ’ থেকে ভাষান্তরে: মুহাম্মদ তানজীমুদ্দীন।

আরও পড়ুনঃ খাশোগি হত্যাকাণ্ড: ট্রাম্পের বক্তব্য হাস্যকর মনে করে তুরস্ক


তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একেপি’র ডেপুটি চেয়ারম্যান নুমান কুরতুলমাস বলেছেন, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য ‘হাস্যকর’।

বুধবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিআরটি হাবিরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। খবর এএফপি’র।

নুমান কুরতুলমাস বলেন, ট্রাম্পের বিবৃতি ছিল হাস্যকর ও কৌতুক। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ওয়াশিংটন সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুরতুলমুস আরও বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ যারা সৌদি কনস্যুলেটের বাগানের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পাখির পালকের রং সম্পর্কে জানে তাদের পক্ষে এটা জানা অসম্ভব যে কে খাশোগির হত্যার নির্দেশ দিয়েছিল।’ এটা আমেরিকার জনগণ এমনকি গোটা বিশ্বের মানুষ বিশ্বাস করবে না বলেও জানান তিনি।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সৌদি আরবের রাজতন্ত্র বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানকে দায়ী করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন।

আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা সত্ত্বেও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যাই হোক না কেন, আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব।

উল্লেখ্য, অক্টোবর মাসে তুরস্কের ইস্তাম্বুলস্থ সৌদি কনস্যুলেটে ব্যক্তিগত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন খাশোগি। হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে আমেরিকায় বসবাসরত খাশোগি ওয়াশিংটন পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখতেন। সৌদি আরবের সমালোচক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

খাশোগি নিখোঁজ হওয়ার পর রিয়াদ প্রথমে অস্বীকার করে তারা এ ব্যাপারে কিছু্ই জানে না। কিন্তু চাপে পড়ে ঘটনার সপ্তাহখানেক পর সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হন এবং খাশোগিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার কথা স্বীকার করে নেন। সম্প্রতি সৌদি কর্তৃপক্ষ খাশোগি হত্যায় জড়িত ১১ ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

আরটিএনএন

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here