শেখ হাসিনার কথিত খাদ্য নিরাপত্তার মুখোশ খুলে দিল জাতিসংঘ!

0
869

বাংলাদেশ এখন সবদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পুরো দেশই এখন ভাসছে শেখ হাসিনার কথিত উন্নয়নের জোয়ারে। আগামী ২০২১ সালের পরই বাংলাদেশ প্রবেশ করবে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার দাবি অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন তিনি। দেশের মানুষ এখন পেট ভরে খেতে পারছে। খাবারের অভাবে এখন আর কোনো মানুষ না খেয়ে মারা যায় না।

এক সময় নাকি সেনা বাহিনীর সদস্যরাও দিন তিন বেলা ভাত খেত পারতো না। তিনি ক্ষমতায় এসে তাদের জন্য ভাতের ব্যবস্থা করেছেন। তার সবচেয়ে বড় দাবি হলো-তিনি এদেশের মানুষকে উন্নত জীবন দিয়েছেন।

শেখ হাসিনার ভাষায়, বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে দেশের ঠিক মতো খাবার পেত না। ভাল খাবার তো দূরের কথা বাঁচার জন্য মানুষ ঠিক মতো তিন বেলা ভাতও খেত না। ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের জন্য বিদেশ থেকে টাকা এনে তারা নিজেদের পকেট ভারি করেছে। অসহায়-দরিদ্র মানুষের মুখের খাবার বিএনপি-জামায়াত নেতারা কেড়ে নিয়েছে।

অথচ, বিভিন্ন জরিপ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী দেশের বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। শেখ হাসিনার খাদ্য নিরাপত্তার দাবি পুরোই ভিত্তিহীন। পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যের অভাবে দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এছাড়া খাদ্যের অভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাবা-মা তাদের কলিজার টুকরা সন্তানকে বিক্রি করে দিতেও বাধ্য হচ্ছেন।

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা এফএও, কৃষি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক তহবিল, শিশু তহবিল, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি ছয়জনের একজন ভুগছে পুষ্টিহীনতায়। তাদের ভাগ্যে জুটছে না পর্যাপ্ত খাদ্য। গত এক দশকে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে। ২০০৪ সালে যেখানে এর সংখ্যা ছিলো ২ কোটি ৩০ লাখ সেখানে ২০১৮ সালে তা এসে দাঁড়ায় ২ কোটি ৪০ লাখে।

জাতিসংঘের দেয়া তথ্য মতে, শেখ হাসিনার বর্তমান শাসনামলে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ বেড়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকতো কিংবা মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা যদি নিশ্চিত হতো তাহলে পুষ্টিহীনতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা কমার কথা ছিল। ২ কোটি ৩০ লাখের মধ্যে কমে ২ কোটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পুষ্টিহীনতায় ভোগা মানুষের বাড়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয় শেখ হাসিনার কথিত খাদ্য নিরাপত্তার দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া।

দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তার কথা বলে করে আসলেও জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

রাজনীতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, শেখ হাসিনার সব কিছুই বায়ূবীয়। কথিত উন্নয়ন শুধু তাদের গলাবাজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে দুর্নীতি-লুটপাট ছাড়া দেশের মানুষের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছে শুধু আওয়ামী লীগ নেতাদের পরিবারের। পেট ভরে ভাত খেতে পারছে শুধু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাই।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে তা অপরাধ হবে না: দুদক চেয়ারম্যান


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘সিআরপিসি (প্যানাল কোড) অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি সরল বিশ্বাসে কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সেটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না। সেটিকে বড় করে সমস্যা মনে করার কথা নয়। তবে সরল বিশ্বাস যেন সরল বিশ্বাসই থাকে, তা নিশ্চিত হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিনের শেষ অধিবেশনে ডিসিদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য মামলা করা নয়, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। দমন তার পরে।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘প্রাইমারি ও মাধ্যমিক লেভেলে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা দিতে হবে। আগামী প্রজন্ম, যাদের ওপর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব বর্তাবে, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক মূল্যবোধ যদি তাদের মধ্যে গড়ে তোলা না যায়, তবে কোনও কিছুই টেকসই হবে না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন বা শিক্ষা কোনও কিছুই গড়ে তোলা যাবে না। এজন্য ডিসিদের বলেছি, জেলা ও উপজেলার প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলপর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গড়ে তুলতে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করতে।’

সাংবাদিকদের দুদক চেয়রম্যান বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম দেখার জন্য আমরা ডিসিদের বলেছি। কোথাও অনিয়ম পেলে আমাদের জানাতে বলেছি।’

উৎসঃ banglatribune

আরও পড়ুনঃ বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কেলেঙ্কারি: ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাৎ!


বড়পুকুরিয়া কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনায় সাবেক একাধিক এমডিসহ কোল মাইনিং কোম্পানির দুই ডজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে দুদক। পেট্রোবাংলার তদন্তে কয়লা দুর্নীতির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ায় ওই কমিটির সদস্যরা আসছেন জিজ্ঞাসাবাদের আওতায়।

ওই রিপোর্টে সিস্টেম লসের কারণে কয়লার ঘাটতির কথা বলা হয়। কিন্তু দুদকের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে, কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণেই খনির কয়লা কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে। জড়িতদের বিরুদ্ধে খুব শিগগির কমিশনে রিপোর্ট দাখিল করবে কমিটি।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা চুরির ঘটনা কর্তৃপক্ষের প্রথম নজরে আসে গত বছরের জুনে। যখন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়লা সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বড়পুকুরিয়ার খনি থেকেই কয়লা সরবরাহ করা হয়।

সেখানে এক লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই বিষয়টি আলোচনায় আসে। এ কয়লা চুরির ঘটনায় মামলার তদন্ত শুরুর পর দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদও বলেছিলেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে এর প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে দুদক।

শিগগির এর ফলাফল, আইনি ভাষায় যাকে বলা হয় ফাইনাল রিপোর্ট অথবা চার্জশিট (সেটা) আমরা আদালতে সাবমিট করব। ‘দিস ইজ আ ভেরি সিম্পল কেস’। তদন্তের এ পর্যায়ে অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত চলমান।

খনি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, মামলায় যে ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল তারা ছাড়াও আরও কিছু নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, স্বল্পসময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের জন্য কমিশন থেকে তদন্ত টিমকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ওই নির্দেশনা পাওয়ার পর টিমের সদস্যরা নড়েচড়ে বসেছেন। তারা সংগ্রহ করেছেন ২০০৫ থেকে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত এমডিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নাম-ঠিকানা।

মামলার ১৯ আসামির মধ্যে কে কোথায় আছেন, কতজন জামিনে আছেন তাদের বিষয়েও খোঁজখবর শুরু হয়েছে। মামলার পরপরই সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদসহ ১৯ জনের বিদেশ গমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

তালিকায় হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ ছাড়াও সাময়িক বরখাস্তকৃত বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নূর-উজ-জামান চৌধুরী, কোম্পানি সচিব ও মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আবুল কাশেম প্রধানিয়া, মহাব্যবস্থাপক নূর-উজ-জামান চৌধুরী, উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর) একেএম খালেদুল ইসলামসহ ব্যবস্থাপক, উপ-ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক পর্যায়ের ১৯ জনের বিরুদ্ধে খনির ওই কয়লা চুরির ঘটনায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার পরপরই ১৯ জনের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দুদক। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনও বলবৎ। তদন্ত পর্যায়ে দুদকের তদন্ত টিম সাবেক একাধিক এমডিসহ ৩২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা একে অপরের কাঁধে দায় চাপিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন।

খনির কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্ত করছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামসুল আলম। এই তদন্ত তদারক করছেন পরিচালক কাজী শফিকুল আলম। অনুসন্ধান শুরুর পরপরই কাজী শফিকুল আলম কয়লা খনি পরিদর্শন করে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

তিনি বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আসেন। দুদক কর্মকর্তারা পরিদর্শনে গিয়ে খনির ইয়ার্ডে দুই হাজার টন কয়লা পান। যদিও কাগজে-কলমে সেখানে এক লাখ ৪৬ হাজার টন কয়লা মজুদ থাকার কথা। তদন্ত কর্মকর্তা সামসুল আলম বলেন, এটি একটি পেন্ডিং মামলা। আমরা তদন্ত শেষ করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করব।

সূত্রমতে, দুদকের তদন্ত টিম দ্রুত কাজ শেষ করতে বেশ কিছু কৌশল গ্রহণ করেছে। তবে টিমের সদস্যরা তাদের কৌশল প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। তবে এটুকু ধারণা পাওয়া গেছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলামান, তারা কেউ জামিনের বাইরে থাকলে গ্রেফতার হচ্ছেন।

আর নতুন করে তদন্তে যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেদিকেও নজর রাখছে দুদক।

খনি কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করে ২৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

এ ছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি, বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ও এর সঙ্গে যোগ করা হয়। কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িতরা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং ৪০৯ ধারা অনুযায়ীও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

সে কারণে মামলার এজাহারে ‘তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা’ নেয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। দুদক টিম মনে করে, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে মামলার অভিযোগেই ধারণা দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে তার সত্যতা পাওয়ায় এখন এর পেছনে আর কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সূত্র জানায়, দুদকের তদন্তে বেশ কিছু নতুন নাম বেরিয়ে এসেছে। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত ৯ জন এমডি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ তালিকায় রয়েছেন- গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান, আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ। এদের মধ্যে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা মারা গেছেন।

আর প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদ মামলার আসামি। কয়লা কেলেঙ্কারিতে বাকি ৭ জনের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যেভাবে জানাজানি হয় ঘটনা : কয়লা চুরির ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের প্রথম টনক নড়ে গত বছরের জুনে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়লা সরবরাহে ঘাটতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে।

যন্ত্রপাতি স্থানান্তর করতে জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে খনির উৎপাদন কিছুদিন বন্ধ থাকবে- এ খবর পাওয়ার পর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। জুলাই মাসে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ করে দেয়া হয়।

এরপর জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এতে দেখা যায়, ২০০৫ সাল থেকে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উৎপাদন এবং সরবরাহের হিসাবের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে।

কাগজে-কলমে গরমিলের পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন। তখনই ফাঁস হয়, ১৪ বছর ধরে খনি থেকে কয়লা চুরি হয়েছে। খনি কর্তৃপক্ষের মামলায়ও অভিযোগ করা হয়, ২০০৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা চুরি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ২৩০ কোটি টাকা।

এদিকে পেট্রোবাংলা কর্তৃক গঠিত কমিটির তদন্ত রিপোর্টে সত্য গোপন করে কাউকে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ জন্য ওই কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দুদকের কর্মকর্তারা কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইন্স) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গত বছর ২৫ জুলাই সরকারের কাছে ওই রিপোর্ট দাখিল করে। রিপোর্টে বাতাসের সঙ্গে ডাস্ট, বৃষ্টির পানিতে ফাইন পার্টিকেল ওয়াশ আউট কয়লার মজুদ হ্রাস করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, বৃষ্টির পানিতেও মজুদ কয়লা থেকে কোল ডাস্ট বা ফাইন পার্টিকেল ধুয়ে যাচ্ছে। এসব কারণেও কয়লার ঘাটতি হতে পারে। এ বিষয়ে ব্যাপক তদন্তের প্রয়োজন আছে বলে রিপোর্টে মতামত তুলে ধরা হয়।

তবে কয়লা ঘাটতির জন্য খনির সাবেক এমডি মার্কেটিং ও মাইন অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তারা দায়ী বলে রিপোর্টে বলা হয়। এতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫২৫ টন কয়লা ঘাটতির কথা স্বীকার করে সাবেক এমডিসহ মার্কেটিং ও মাইন অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও অজ্ঞতাকে দায়ী করা হয়।

এ ছাড়া ২০০৫ সালের পর থেকে কখনোই কয়লার মজুদ পরিমাপ করা হয়নি বলে মন্তব্য করা হয়। পেট্রোবাংলা গঠিত কমিটির তদন্তে কয়লা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা বা কয়লা গায়েব বা চুরির সঙ্গে জড়িত কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশও না করায় বিষয়টি দুদকের তদন্তের আওতায় আনা হয় বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তারা বলেন, বাতাসের সঙ্গে ডাস্ট উড়ে যাওয়ায় কয়লার মজুদ হ্রাস’ পাওয়ার গল্প অবিশ্বাস্য।

উৎসঃ sangbad247

আরও পড়ুনঃ শহীদ জিয়ার আমালে মানুষ দরজা খুলে ঘুমাত, দেশে উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুণ্ঠন : রিজভী


গণতন্ত্রের অভাবে শাসন কাঠামো ভেঙে পড়েছে মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বর্তমান অবৈধ সরকার তথাকথিত উন্নয়নের ফাঁপড়বাজির মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে ধোঁকা দিয়ে জোর করে ক্ষমতার মসনদ দখল করে স্বৈরশাসন চালাচ্ছে। রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে গোষ্ঠীশাসনতন্ত্র বা অলিগোর্কি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাস্তবে জনগণের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- উন্নয়ন প্রোপাগান্ডার ঢোল বাজানো বন্ধ করুন। দেশের দরিদ্র মানুষকে নিয়ে তামাশা করবেন না। দ্রুত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুইয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, কৃষকদলের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের রথী-মহারথীরা গণতন্ত্রের চাইতে উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়ার নামে সব সামাজিক চুক্তি ভঙ্গ করে জনগণকে শৃঙ্খলিত করেছে। জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের নামে চলছে বল্গাহীন লুণ্ঠন। প্রায় আড়াই কোটি মানুষ তিন বেলা পেটভরে খেতে না পারলেও এই মিডনাইট সরকার উন্নয়নের দোহাই দিয়ে গরিবের পেটে লাথি মারতেই গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে, জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। মিডনাইট নির্বাচনকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা হলো এই উন্নয়ন হলো ক্ষমতাসীন দলের লোকজন আর তাদের সহযোগীদের পকেটের উন্নয়ন। আর নিরন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর উন্নয়ন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও), শিশু তহবিল ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিওএইচও), আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উদ্যোগে ‘বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাস্তবতা ২০১৯’ শিরোনামে যৌথভাবে প্রণীত নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, ‘বাংলাদেশে ২ কোটি ৪২ লাখ মানুষ ভালোভাবে খেতে পায় না। পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে বাংলাদেশে প্রতি ছয়জন মানুষের মধ্যে একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। গত এক দশকে এদেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা অন্তত ১০ লাখ বেড়েছে।’

রিজভী বলেন, অথচ প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, ‘দেশে কোনো হাহাকার নেই, অভুক্ত মানুষ নেই।’ জনগণের টুঁটি চেপে ধরা এই সরকারের চাপাবাজ মন্ত্রীরা বলছেন, বাংলাদেশ নাকি উন্নয়নে সিঙ্গাপুর, কানাডা এবং ইউরোপের মতো উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছে। এই সরকারের অর্থমন্ত্রী গতবছর বলেছিলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কানাডার সমান হয়ে যাবে। এক বছরের মধ্যে স্পেন, থাইল্যান্ডের সমান হয়ে যাবে। দেশে কোন গরীব নেই। এমনকি এক বছর আগে ২০১৮ সালের ২৫ জুন জাতীয় সংসদে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সেই সময়ের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন দেশের দারিদ্র্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে ৪ কোটি লোক দরিদ্র, ২ কোটি লোক অভুক্ত থাকে। পুষ্টি ঠিকভাবে পায় না। তার চেয়ে বড় কথা দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে বিপুলভাবে।’

তিনি বলেন, প্রবাদ আছে-মিথ্যা বলা মহাপাপ, আর এখন বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সত্য বলা মহাভয়। মিথ্যা বলা যদি কোনো ‘শিল্প’ হতো তাহলে অনর্গল মিথ্যা বলা এই সরকারের মন্ত্রী-নেতারা হতেন সেই শিল্পের নায়ক-মহানায়ক। এরা তাদের রাজনৈতিক পাঠশালায় সত্য কথা বলার শিক্ষা অর্জন করেননি। জাতিসংঘের ‘বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাস্তবতা ২০১৯’ প্রতিবেদন হলো চাপাবাজ সরকারের ‘উন্নয়নের বিহাইন্ড দ্যা সিন’। রাষ্ট্রকে ধনীর তোষণে পরিণত করা হচ্ছে আর তার জনগণকে ভাতের মাড় খাওয়ানো হচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন, গত বছর ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হিলটন হোটেলে এক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি নাকি দেশের ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াচ্ছেন। তাহলে এই হলো তার খাওয়ানোর নমুনা! ক্ষমতাসীনরা করছে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন, আর বলে বেড়াচ্ছে সেটাই নাকি জনগণের উন্নয়ন। গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে মিথ্যা উন্নয়নের প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। জনগণের টাকায় পরিচালিত বাংলাদেশ টেলিভিশন করমচা আর লেবুর বাম্পার ফলন নিয়ে ব্যস্ত।

রিজভী বলেন, এদেশের প্রায় আড়াই কোটি মানুষের ঘরে খাদ্য নাই, অথচ সরকারের লোকজন ১ টাকার কাজ ১০ টাকায় দেখিয়ে ডিজিটাল লুটপাট করে দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ছে। বাংলাদেশের ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং ১ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ ব্যয় চীন, ভারত ও যুক্তরাজ্যের চেয়ে বহুগুন বেশি। নানা অজুহাতে মেগা প্রজেক্টগুলোর প্রকল্প ব্যয় কয়েকশ গুন বৃদ্ধি করে মেগা চুরির সুবন্দোবস্ত করা হয়েছে। পদ্মা সেতুর প্রকল্প ব্যয় ছিল ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। আর তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। প্রায় সবগুলো ফ্লাইওভারের প্রকল্প ব্যয় এভাবে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মেগা চুরির সুযোগ সৃষ্টি করতে সরকার মেগা প্রকল্প গ্রহণে বেশি আগ্রহী। আর এটাকে জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন বলে চালানো হচ্ছে। উন্নয়নের নামে চুরির রোল মডেল হচ্ছে বর্তমান আওয়ামী সরকার।

তিনি আরো বলেন, বিনা নির্বাচনে শুধু লুটপাটের জন্য ক্ষমতায় থাকা এই অবৈধ সরকারের গত দশ বছরে ধনী আরো ধনী, গরীব আরো গরীব হয়েছে। নজীরবিহীন দলীয়করণ, প্রশাসন ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল ও ক্ষয়িষ্ণু করেছে। জবাবদিহিতার অভাব, অকার্যকর পালার্মেন্ট দুর্নীতিকে লাগামহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ধ্বংসের মুখে। শেয়ার মার্কেট লুট, ব্যাংক লুট, দলীয় ব্যক্তিদের জন্য ঋণ সুবিধা ও ফেরত না দেবার প্রবনতা একনায়ক সরকারের সমর্থক ও তল্পীবাহকদের বা লাগামহীনভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও গণলুট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ভেতরে ভেতরে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলছে। বার বার জিডিপি হিসেবের বিভ্রাটে ফেলা হচ্ছে জাতিকে। সরকারের জিডিপি’র হিসাব ডাহা মিথ্যাচারের একটি নমুনা।

তিনি বলেন, এদেশের জনগণ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি যে, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার সহধর্মিনী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুবর্ণ শাসন আমলের কথা। এখনো যে প্রবাদটি চালু আছে তা হলো জিয়ার আমলে মানুষ দরজা খুলে ঘুমাতে পারতো, আর এখন দুষ্কৃতিকারীরা ঘরের ভিতর ঢুকে মানুষ খুন করছে। বিএনপি শাসনামলের ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে গোল্ডম্যান স্যাকস বাংলাদেশকে ‘নেক্সট ইলেভেন’ উন্নয়নশীল দেশভুক্ত করেছে, আর বিশ্বখ্যাত বিদেশী পত্রিকা বাংলাদেশকে ইমার্জিং টাইগার আখ্যা দিয়েছিল। সাম্প্রতিককালের মিডিয়াতে বলা হচ্ছে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জিডিপির হিসেবের যে ইংগিত দিয়েছে তা সরকারের দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শুভংকরের ফাঁকি হলো আয় বৈষম্য বেড়েই চলেছে। উন্নয়নের সুফল সরকারের কিছু অনুগ্রহপুষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কুক্ষিগত হচ্ছে। দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্তের অবস্থা আরো শোচনীয় হচ্ছে। দেশে খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ মহামারি আকারে বেড়েই চলছে। ২২ জেলায় বন্যায় অসহায় অভুক্ত মানুষকে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে না।

রিজভী বলেন, সম্প্রতি আওয়ামী নেতা হানিফ সাহেব বলেছেন- বিএনপি আন্দোলন করে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে পারবে না। এই কথায় প্রমাণিত হলো যে, প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার কারণেই বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী। এদেশের মুক্তিকামী জনগণের আশাস্থল দেশনায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজানো মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। বিচার বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

তিনি জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ। পর্যায়ক্রমে সবগুলো বিভাগে এই মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এটা আমাদের আন্দোলনের একটি ধাপ। আজ বরিশালে আমাদের মহাসমাবেশ হবে। মহাসমাবেশ ঘিরে মুক্তকামী জনতার মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ প্রসাদ খাইয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’ মন্ত্র পাঠের ঘটনা ‘অন্যায়’: হাইকোর্ট

ইসকন নামে হিন্দুবাদী একটি সংগঠন চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুলে প্রসাদ খাইয়ে শিক্ষার্থীদের ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে। এ ঘটনাকে ‘অন্যায়’ বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট।

দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন নজরে আনা হলে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার। এসময় তিনি দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন আদালতে পড়ে শোনান এবং বলেন, এক ধর্মের রীতি-নীতি অন্য ধর্মের মানুষের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া আমাদের সংবিধান সমর্থন করে না।

তখন হাইকোর্ট বলেন, ‘একটি এনজিও কোনও স্কুলে খাবার বিতরণ করতে পারে। কিন্তু জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে যদি প্রসাদ খাইয়ে মন্ত্র পাঠ করিয়ে থাকে, তবে সেটা অন্যায়।’

ভিডিওঃ  ‘স্কুলে খাবার দেওয়ার নামে এসব কি করছে ইসকন? ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘আমরা কোনও ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। এর আগেও শবে বরাত নিয়ে আমরা হস্তক্ষেপ করিনি। আপনারা (আইনজীবীরা) যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আছে, স্থানীয় প্রশাসন আছে, তাদেরকে বলুন।’

এ পর্যায়ে আইনজীবী তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আদালত আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আমরা আগে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাবো। সেখানে প্রতিকার না পেলে আবারও আপনাদের (আদালত) কাছে আসতে হবে।’
প্রসঙ্গত, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) ‘প্রসাদ খাইয়ে স্কুলে শিক্ষার্থীদের হরে কৃষ্ণ হরে রাম মন্ত্র পাঠ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রসাদ খাওয়ালো আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ফর লাইফ’ কর্মসূচির আড়ালে গত ১১ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৩০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। ইসকন কর্মীদের শেখানো মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ মন্ত্র পাঠ করে এ প্রসাদ গ্রহণ করে। শ্লোক-মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রসাদ গ্রহণে উৎসাহিত করায় অনেক শিক্ষার্থী তা গ্রহণে অস্বীকৃত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নজিরবিহীন কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’

উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

আরও পড়ুনঃ পৌরসভা প্রকল্পে হরিলুটঃ এক কম্পিউটারে দেড় লাখ, নলকূপে ২৫ লাখ টাকা ব্যয়!


নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটারি সুবিধা দিতে পৌরসভার সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ এবং রুপকল্প ২০২১ অর্জনে অবদান রাখার জন্য ৪০টি পৌরসভায় এই প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ১ জুন একনেক সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেকের ওই সভায় জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন সেবা প্রাপ্তি সহজতর করার লক্ষ্যে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৩০ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে এই প্রকল্প কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পের নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাড়ে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রকল্পের বাস্তবিক অগ্রগতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের ৯৪% অতিবাহিত হলেও এখনো ৭০% কাজ বাস্তবায়ন করতে পারেনি প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রকল্পের মালামাল কেনার নথিপত্র পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, এই প্রকল্পের প্রতিটি কাজেই অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে, প্রকল্পটি মূল ব্যয় ২৩০ কোটি টাকা ধরা হলেও এতে কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শদাতার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা অধিক। শুধু পরামর্শকই নয় প্রকল্পের হিসাবরক্ষণ নথিপত্র ও কাজের অগ্রগতির ডাটা সংগ্রহের জন্য ৮টি কম্পিউটার ক্রয় করা হয়েছে, যেটার হিসাব দেখানো হয়েছে ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। তাতে প্রতিটি কম্পিউটারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা।

৪০ পৌরসভার ১৭ হাজার ২৩০টি বসতবাড়িতে পানির সংযোগ বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এতে প্রতিটি ঘরে পানির সংযোগ দিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা। অপরদিকে পৌরসভাতে ৭৮টি ডিপ টিউবওয়েল (উৎপাদক নলকুপ) স্থাপন বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, এতে প্রতিটি নলকুপ স্থাপন করতে খরচ হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা করে। ১৬১টি পানির পাম্প ও পাবলিক টয়লেট বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ খরচ করা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা, এতে হিসাব করে দেখ যায় প্রতিটি টয়লেটে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগেই খরচ করা হয়েছে ৮০ হাজার টাকার উপরে।

উক্ত প্রকল্পে শুধুমাত্র পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ খরা করা হয়েছে ৪০ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে এই প্রকল্প শুরু করার আগে ১০০টি নলকুপ পরীক্ষা করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে সেটার প্রতিটির খরচ ধরা হয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এই প্রকল্পে অধীনে ৪০টি পৌরসভার ৬২০ কি.মি. পাইপলাইন স্থাপন করতে ৭৪ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা। এতে প্রতি কি.মি. পাইপলাইন স্থাপনে খরচ হয়েছে গড়ে ১২ লক্ষ টাকা করে। ৬টি পানির ট্যাংক নির্মাণের খরচ দেখানো হয়েছে ৯ কোটি টাকা, এতে প্রতিটি প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ৮৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা, এতে প্রতিটির মুল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লক্ষাধিক টাকার ওপরে। প্রকল্পের নির্ধারিত ৪০টি পৌরসভায় পাকা ও আধাপাকা মোট ১১১টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। এতে প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে খরচ হয়েছে ৮ লক্ষ টাকার ওপরে। কিছু কিছু পৌরসভায় টয়লেট নির্মাণ না করেও বরাদ্দের অর্থ তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তাদের চলাচলের জন্য ৫টি রানার মোটর সাইকেল কেনার জন্য খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় ৭ লক্ষাধিক টাকা। এমনকি ১টি জিপগাড়ি কেনা হয়েছে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করে। উক্ত প্রকল্পটি দেখাশুনা করার জন্য কর্মী বাবদ খরচ হয়েছে ৭ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের পানির পাম্পে ইলেকট্রিক বোর্ড স্থাপন করতে খরচ ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা, এত প্রতি বোর্ড স্থাপনেই খরচ হয়েছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা।

এই প্রকল্পের নির্ধারিত ৪০ টি পৌরসভা হলো – মেহন্দিগঞ্জ, বোরহানউদ্দিন, স্বরুপকাঠি, শানারাশ, ছেঙ্গারচর, দাউদকান্দি, চকরিয়া, কবিরহাট, সাভার, ভাঙ্গা, কটিয়াদি, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, মিরকাদিম, ত্রিশাল, পলাশ, ঘোড়াশাল, মনোহরদী, শিবপুর, নড়িয়া, ডামুডা, জাজিরা, ভেদোরগঞ্জ, নালিতাবাড়ি, নোয়াপাড়া, ঝিকরগাছি, কালিয়া, গুরুদাসপুর, সিংড়া, বেড়া, সাঁথিয়া, শাহজাদপুর, রতনপুর, ফুলবাড়ি, শেতাবগঞ্জ, বিরামপু, গাবতলি, শান্তাহার, মাধবপুর ও কালিগঞ্জ।

এসব পৌরসভায় পানি ও স্যানিটেশনের জন্য বড় আকারের বরাদ্দ হলেও বাস্তবে বেশ কিছু পৌরসভায় এসব প্রকল্পের কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। আবার যেখানে প্রকল্প খুঁজে পাওয়া গেছে সেখানে পাওয়া যায়নি একনেক থেকে অনুমোদিত প্যাকেজসমূহের কাজ। অর্থ বরাদ্দে প্রতিটি পৌরসভায় উৎপাদক নলকুপ, ওভারহেড ট্যাংক, পাইপলাইন, পানি শোধনাগার, পাবলিক টয়লেট, ঘরবাড়িতে পানির সংযোগের কথা উল্লেখ থাকলেও কিছু পৌরসভায় শুধু টিউবওয়েল ও পাবলিক টয়লেট স্থাপন করেই শতভাগ কাজ দেখানো হয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য পুরণের লক্ষ্যে প্রকল্পের রাজস্ব ও মূলধন মোট ৩০ টি ক্যাটাগরি রেখে প্রকল্প ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়। এসব প্রকল্পের প্রজেক্টের মধ্যে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার ৮টি, ওভারহেড ট্যাংক -৬টি, উৎপাদক নলকুপ-৭৪টি, পাইপ লাইন-৬২০ কি. মি, পানির গৃহসংযোগ-১৭২৩০টি, টিউবওয়েল-২১৬৫টি, পাবলিক টয়লেট-১১১টি। এই প্রকল্পের মূল বাস্তবায়নকাল ছিল জুন ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস ‌পর্যন্ত মোট ৩ বছর ৬ মাস হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারেনি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পে সময় ১ বছর ৩ মাস বাড়ানো হলেও এখনো শেষ করতে পারেনি প্রকল্পের ৫০% কাজ। এই প্রকল্পের ব্যয় ১৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ২৩০ কোটি করা হয়।

পানি সরবরাহ ব্যাবস্থা এবং স্যানিটেশন সুবিধা মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ হিসাবে এখানে পানি ও স্যানিটেশনের চাহিদাটাও একটু বেশি। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য পৌরসভার পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সেই লক্ষ্যে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পটির বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

এই প্রকল্প বাস্তবিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কমকর্তা জানান, আসলে আমাদের পৌরসভায় এই প্রকল্পের কাজ করার বরাদ্দ এবং নিদের্শনা আসার পরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে কি কি কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তবে শুনেছি পানির লাইন, পাবলিক টয়লেট, গৃহসংযোগ, টিউবওয়েল নির্মাণ করার কথা রয়েছে কিন্তু ৪ বছরে শুধুমাত্র ২ পাবলিক টয়লেট আর বড়বড় নেতাদের বাসাবাড়িতে পানির সংযোগ ছাড়া তেমন কোন কাজ করা হয়নি।

পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এই আওতাধীন বরাদ্দকৃত পৌরসভা সাভার’র পৌর মেয়র হাজী মো. আবদুল গনি জানান, আমার পৌরসভায় পানির লাইনের কাজ ৭০% শেষ হয়েছে এবং বসতবাড়িতে পানির সংযোগও কিছুটা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ৫০ টি টিউবওয়েলের বরাদ্দ হয়েছে কিন্তু এখনো সেটার বাস্তবিক কোন কাজ শরু করা হয়নি। আশা করি দ্রুতই কাজ শুরু করা হবে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ডিপিএইচ’র নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব বশির আহম্মেদ জানান, আমরা জনস্বাস্থ্য অধিদফতরের বিধিবিধান মেনেই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করেছি ।এখানে উন্মুক্ত দরপত্র দিয়ে মালামাল কেনাসহ অন্যান্য কাজ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই করা হয়েছে।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ সিইসির অসাংবিধানিক হজ মিশনঃ নির্বাচন বহির্ভূত বিষয়ে এভাবে যুক্ত হওয়া নজিরবিহীন


একজন সাংবিধানিক পদধারী হয়ে নির্বাচন বহির্ভূত বিষয়ে এভাবে যুক্ত হওয়া নজিরবিহীন।

‘যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকে লাঠি বাজে’ বলে বাংলায় একটি প্রবচন আছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার হজ মিশনে বেরিয়ে পড়ার খবর আমাদের সেই প্রবচনটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের বাইরে এমন একটি ব্যবস্থাপনার কাজে তিনি নিজে কীভাবে যুক্ত হলেন? সরকারি হজ্ব মিশনের ব্যবস্থাপনায় নিযুক্ত ১০ সদস্যের একজন তিনি। যারা তাঁকে যুক্ত করল, তারা কী বিবেচনায় এটা মাথায় নিলেন, সেটাও কম বড় প্রশ্ন নয়। কারণ, বছরের পর বছর নানা অদ্ভুত ঘটনা জাতীয় প্রশাসনে ঘটেছে। কিন্তু একজন সাংবিধানিক পদধারী হয়ে নির্বাচনবহির্ভূত বিষয়ে এভাবে যুক্ত হওয়া এর আগে কেউ কল্পনা করতে পেরেছেন, তা ভাবনায় আনতে পারি না।

হজব্রত পালন এবং হজের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত হওয়া দুটি আলাদা বিষয়। সরকারি খরচে হজব্রত পালন মানেই জনগণের টাকায় হজ করা। শত ভাগ ভোট পড়াকে সিইসি যেমন যথার্থই ‘অস্বাভাবিক’ বলেছেন। তেমনি সরকারিভাবে তাঁর দ্বারা হজের তত্ত্বাবধান অস্বাভাবিক। নির্বাচন অস্বাভাবিক হলে তা বাতিল করার এখতিয়ার ইসির থাকে। কিন্তু অনেকেই তার কঠিন সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা নেবেন। কিন্তু হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হওয়া যদি আইন ও রীতিনীতি সমর্থন না করে, তাহলে সিইসি তাঁর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারেন। এটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। তবে এটা জানার কৌতূহল সংবরণ করা কঠিন যে কার মাথা থেকে কীভাবে এমন চিন্তা বেরলো যে, দেশের সিইসিকে হজ ব্যবস্থাপনায় আনা যায়। কেউ ভাবতে পারেন, সিইসি স্বয়ং এ রকম একটি ধারণা অন্যদের মধ্যে না ছড়িয়ে দিলে অন্য কারও পক্ষেই এমন একটি আবিষ্কার করা অসম্ভব।

সিইসিকে যুক্ত করা প্রস্তাবিত উচ্চপর্যায়ের হজ মিশন কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। সরকারি খরচে হজ পালনকে আমাদের মতো দেশে একটা রক্ষণশীল বিষয় হিসেবে দেখা হয়। আমাদের জিডিপির উন্নতি ঘটেছে বলে সরকারি খরচে অবস্থাপন্নদের হজে পাঠানো অগ্রহণযোগ্য। সিইসির উচিত হবে ব্যক্তিগত খরচে হজ পালন করা। তিনি তা না করলে একটি নীতিমালা তৈরি করে নিতে হবে। কারণ, সিইসি হিসেবে তাঁর হজের খরচ সরকার বহন করলে অন্যান্য কমিশনারের কী হবে! আরও প্রশ্ন আছে। দেশে সাংবিধানিক পদধারীদের মোট সংখ্যা এবং তাঁরা কী নিয়মে, কবে কীভাবে সরকারি হজ মিশনে যাবেন, সেই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক।

যদি একজন সাংবিধানিক পদধারী হজ ব্যবস্থাপনায় নিজেকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে অন্যান্য সাংবিধানিক পদধারীও তা করতে পারেন। এটা শোভন কি না। এটা নৈতিক কি না। একটা হতে পারে বিষয়টি সিইসির ক্ষেত্রে ওয়ান টাইম এক্সসেপশন বা একমাত্রবারের জন্য ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে। অন্যরা কখনো একে নজির হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। সে ক্ষেত্রে সিইসির বিষয়ে আমাদের একটা নিশ্চয়তা পেতে হবে। জনগণকে জানতে হবে যে তিনি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার গ্যারান্টি না দিতে পারলেও হজ ব্যবস্থাপনায় নিয়মশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার গ্যারান্টি দিচ্ছেন। বিমান ও পাটকলের মতোই একটা লোকাসানি কিংবা মলিন ভাবমূর্তি আমরা যেন কিছুতেই হজ ব্যবস্থাপনা থেকে মুছে ফেলতে পারি না।

সরকারি খরচে হজের বিষয়ে একটা সতর্কতা দেখলাম। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রত্যেকে ভ্রমণসঙ্গী হিসেবে স্বামী/স্ত্রী ও সন্তানসহ সর্বোচ্চ তিনজনকে সঙ্গে নিতে পারবেন। সফরসঙ্গীদের বিমানের টিকিট নিজ উদ্যোগে গ্রহণ করতে হবে এবং মক্কা ও মদিনার আবাসন, যাতায়াত, মিনা–আরাফাহর তাঁবু ভাড়ার ব্যয় বাবদ জনপ্রতি এক লাখ টাকা যাত্রার আগে পরিশোধ করতে হবে। অনুমান করি, সদস্যদের প্রত্যেকের খরচ তাহলে আমজনতার পকেট থেকে যাবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও দুই সদস্য, ধর্মসচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক–৩ ওই প্রতিনিধিদলের সদস্য। কেউ আমাদের বলুক, ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের বিশেষ করে রাজনীতিকেরা নিজেদের খরচেই যাবেন এবং সম্ভবত সেটা তাদের নির্বাচনী ব্যয় এবং সম্পদের বিবরণীর সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হবে না।

আরও একটি প্রশ্ন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে হজের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হলে আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হবে। তাদের সেই উদ্বেগ কোথায়? দলটিতে কি যোগ্যতম লোকের এতটাই আকাল পড়েছে যে হজ ব্যবস্থাপনায় এখন সিইসিকে হায়ার করে আনতে হচ্ছে। কী ঘটছে দলটিতে?

তবে আমাদের মূল উদ্বেগ সিইসিকে নিয়েই। তিনি ভুল পরামর্শ পেয়ে থাকতে পারেন। সংবিধান বলেছে, সিইসির নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন তত্ত্বাবধান করবেন। তাহলে এখন তিনি হজ তত্ত্বাবধান করলে তা অসাংবিধানিক হবে। সংবিধান বা রুলস অব বিজনেস সংশোধন ছাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপনে তো তাঁকে হজ ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা কেউ লিখতে পারবেন না। তা আইনগতভাবে সিদ্ধ হবে না। ভোট তত্ত্বাবধায়ক থেকে ‘হজ তত্ত্বাবধায়ক’ বনে যাওয়ায় রুলস অব বিজনেস লঙ্ঘিত হবে। তাঁর সফরের খরচের টাকা মহাহিসাব নিরীক্ষক হয়তো আটকে দিতে পারেন। দেবেন কি না, সেটাই প্রশ্ন।

একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, রুলস অব বিজনেস, আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাত, নৈতিকতা এবং সর্বোপরি প্রতিষ্ঠিত সাংবিধানিক রীতিনীতি বলে কিছু বিষয় রয়েছে। এটা থাকতেই হবে এবং তা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে কিংবা তেমনটা দেখা দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হবে।

সিইসি একজন দক্ষ আমলা হিসেবেই সিভিল সার্ভিসে সদর্পে বিচরণ করেছেন। সুতরাং রাষ্ট্রীয় আচারের দিকটি সাংবিধানিক পদধারী অন্য অনেকের চেয়ে তাঁর ভালো জানার কথা। এই লেখাটি শেষ করার পরেও মনে হয়েছে, খবরটি কি ঠিক? সত্যিই তিনি হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন? স্বতঃপ্রণোদিতভাবে নাকি কেউ চাপিয়ে দিয়েছে?

প্রতিমন্ত্রী হজবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের হজ মিশনের নেতৃত্ব দেবেন, সেটা প্রকারন্তরে আরেকটি পরিহাস। কারণ, সাংবিধানিক পদধারীদের মধ্যে সিইসির অবস্থান অনেক ওপরে। সিইসি ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি রয়েছেন। সুতরাং সিইসি যদি ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে একটি বিশেষ হজ মিশনে যাবেনই, তাহলে তিনি নেতৃত্বের পুরোভাগে থাকবেন না কেন? ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের ব্যত্যয় ঘটাতে হবে কেন?

মিজানুর রহমান খান:প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক

উৎসঃ প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ দেশের বিচার ব্যাবস্থা ধ্বংস করে এখন নিজেই ন্যায়বিচার খুঁজছেন সেই সিনহা!


সরকারের নির্দেশে নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে, সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিচারের নামে প্রহসনন করে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। সেই বিচারপতি সিনহা নিজেই এখন ন্যায়বিচার চেয়ে আকুতি-মিনতি করছেন।

সম্প্রতি ফার্মার্স ব্যাংকের ৪ কোটি পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এ মামলা দায়েরের পরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বেনার নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিচারপতি সিনহা।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সিনহা বলেছেন, প্রধান বিচারপতি থাকতেই ন্যায় বিচার পাইনি। এখন কিভাবে আশা করি! তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশে ন্যায় বিচার আশা করা যায় না!

এখন প্রশ্ন হলো-প্রধান বিচারপতি থাকাকালীন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজে কয়টি ন্যায়বিচার করেছিলেন? কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতা ও বিএনপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেয়া ফাঁসির আদেশগুলো কি সঠিক ছিল? এসকে সিনহা কি তখন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এসব রায় বহাল রেখেছিলেন? মোটেও না। বরং তিনি নিজেই ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কয়টা ফাঁসির রায় দিয়ে দেন।

সরকারের কথিত ট্রাইব্যুনালের সবচেয়ে বড় কেলেংকারি ছিল স্কাইপির কথোপকথন ফাঁস। স্কাইপে সিনহা বাবু সেদিন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিমকে বলেছিলেন, ৩টা রায় দিয়া লন। আপনাকে এখানে (আপিল বিভাগে) নিয়া আসি!

সিনহা বাবু আজ ন্যায়বিচার খুঁজছেন। সেদিন ৩টা ফাঁসির রায় দেয়ার নির্দেশ দেয়া কি ন্যায়বিচার ছিল?

দেখা গেছে, আবদুল কাদের মোল্লার মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী স্বাক্ষী হিসাবে সরকার হাজির করেছিল কথিত মোমেনা বেগমকে। এই মোমেনা বেগম ৩ জায়গায় একই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ৩ রকমে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে বলেছেন, ঘটনার সময় তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। পরবর্তীতে মানুষের কাছে শুনেছেন। এরপর তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে। এখানে তিনি বলেছেন, তাঁর বয়ষ ১২-১৩ ছিল। ঘটনার সময় ছোটবোনকে নিয়ে খাটের নিচে ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে ছিলেন। তবে আবদুল কাদের মোল্লাকে দেখেছেন এমন কথা বলেননি। বলেছেন মানুষের কাছে শুনেছেন তিনি। তৃতীয়বার তাঁকে দিয়ে বলানো হয়েছে ট্রাইব্যুনলের ক্যামেরা ট্রায়ালে। প্রশ্ন হচ্ছে, খাটের নিচে ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা ১২-১৩ বছরের একজন কিশোরী ৪০ বছর আগে দেখা চেহারা কিভাবে চিহ্নিত করলেন? ট্রাঙ্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তি কিভাবে দেখলেন! এর মধ্যে তার কোন বক্তব্যটি সত্য? মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরকে দেয়া বক্তব্য? তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া বক্তব্য ? নাকি ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য দেয়ার সময় দেয়া বক্তব্য? এক ব্যক্তির একই ঘটনায় ৩টি বক্তব্য থেকে একটাকে সত্য হিসাবে ধরে নেয়ার বিচারের মাপকাঠি কি ছিল? এই মোমেনার বিতর্কিত বক্তব্যের স্বাক্ষ্য থেকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসির নামে হত্যার রায় দিয়েছিলেন সিনহা বাবু! এটা কি ন্যায় বিচার হয়েছিল?

এসকে সিনহা মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়ের আগে বলেছিলেন, ফাঁসি দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থিত করতে পারেনি। তারপরও আপনি মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় বহাল রেখে ছিলেন। এটা কি ন্যায়বিচার ছিল?

ঠিক একইভাবে জামায়াতের অন্যান্য শীর্ষনেতাদের ক্ষেত্রে সিনহা বাবু সরকারের নির্দেশে ফরমায়েশি রায় দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে সিনহা বলেছেন, বাংলাদেশে এখন ন্যায়চিবচার আশা করা যায় না।

সিনহার এমন মন্তব্যে সাধারন মানুষ বলছেন, এদেশে একদিন ন্যায়বিচার ছিল। আপনি যেদিন থেকে প্রধান বিচারপতির চেয়ারে বসেছিলেন, সেদিন থেকেই বাংলাদেশের ন্যায়বিচারের পরিসমাপ্তি ঘটে। সেদিন থেকেই এদেশের বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস হতে শুরু হয়। আর বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আপনি নিজেই। আর আজ বলছেন, বাংলাদেশে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি-লুটপাটের কথা স্বীকার করলেন শেখ হাসিনা!


বিগত ১০ বছর ধরে কথিত বায়ুবীয় উন্নয়নের নামে সারাদেশে শত শত প্রকল্প উদ্বোধন করে যে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তারা লুটপাট করতেছে এনিয়ে প্রায় দিনই গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে। শুধু বড় বড় প্রকল্পই নয়, টিআর-কাবিখা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দেয়া গরীবের ত্রাণের টাকাও লুটে নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এক সময় আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী ঠিক মতো তিন বেলা খেতো পেত না ১০ বছরের ব্যবধানে তারা এখন শত কোটি টাকার মালিক। বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে।

যুবলীগের একনেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট, নুর নবী চৌধুরী শাওন, আ.লীগ নেতা শাহে আলম মুরাদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাসিম, মোফাজ্জল চৌধুরী মায়া, এ কে এম রহমতুল্লাহ, মো. নাসিমসহ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা এখন সবাই শত থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক।

তারপর সুইচ ব্যাংকের দেয়া তথ্য মতে, প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। অনুসন্ধান বলছে, এসব টাকা পাচারের সাথে যারা জড়িত তারা অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও ব্যবসায়ী। এমনকি, দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত দুর্নীতি, লুটপাট ও টাকা পাচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারপরেও শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময় দুর্নীতি-লুটপাটের দায় বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে থাকেন।

তবে, দেশের কথিত উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি-লুটপাট এখন এমন একপর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যার কারনে শেখ হাসিনা নিজেও এখন বিরক্ত। এমনকি, এতদিন দুর্নীতির কথা অস্বীকার করলেও শেখ হাসিনা এখন নিজেও স্বীকার করেছেন যে দুর্নীতি হচ্ছে।

শনিবার গণভবনে বিভিন্ন মন্ত্রণায়গুলোর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যেই বলেছেন-দুর্নীতি যেন উন্নয়নগুলোকে খেয়ে না ফেলে। দুর্নীতির কারণে যে উন্নয়ন কাজগুলো ব্যাহত না হয়। দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হলেও সেটা হবে দুঃখজনক।

তাই সচেতন মহল বলছে, শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, কথিত উন্নয়নের নামে চালু করা প্রকল্পগুলোতে ব্যাপকভাবে দুর্নীতি লুটপাট হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এসব দুর্নীতি লুটপাট কারা করছে? প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব তো আর বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হাতে নয়। সবগুলোর প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা। সুতরাং দুর্নীতি-লুটপাট তারাই করছে।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here