শেখ হাসিনার আশ্বাসে কোন আস্থা রাখতে পারছে না খেলাফত মজলিস

0
105

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, শুধু আশ্বাস দিলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রী তার সরকার ও পুলিশ বাহিনী বিরোধী দলের উপর ঝাপিয়ে পড়েছেন। অতীতে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নেয়ার আশ্বাস দিলেও আজ মামলার তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদার পরও হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতা–কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, তারা কেউ বাড়ী ঘরে থাকতে পারছে না। তাই শুধু আশ্বাসের কোন ধরনের ভরসা নেই। তিনি অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ ও জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার দাবী করে বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে নির্বাচন হবে অর্থহীন।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমদ আবদুল কাদের এ সব কথা বলেন। জাতীয় সংকট নিরসনকল্পে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজস করা হয়।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি মেনে নেওয়ার দাবি জানান আহমদ আবদুল কাদের বলেন, জাতি সংলাপের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর শুভবুদ্ধির উদয় হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবি মেনে নেবেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন, পার্লামেন্ট ভেঙে দেবেন এবং একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনে সহযোগিতা করবেন। তা হলেই চলমান জাতীয় সংকটের সমাধান হতে পারে।

খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি শেখ গোলাম আসগরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন।

অন্যান্যের মধ্যে দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জলিল, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, ইসলামী ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি মুহাম্মদ তাইফুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ গোলাম আসগর বলেন, সংলাপে যদি সরকার সমঝোতায় না আসে বা জনগণের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে আপনারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। সংলাপের মাধ্যমে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ দেশে এরপর যা ঘটবে তার দায়-দায়িত্ব সরকারেরঃ ড. কামাল হোসেন

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা সংলাপের মাধ্যমে দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছি। আমরা চেয়েছি শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায় করতে। এখন বল প্রধানমন্ত্রীর কোর্টে। দেশে এরপর যা হবে তার দায়-দায়িত্ব সরকারের।

বুধবার আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সংলাপের পর রাজধানীর বেইলি রোডে নিজের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় জোটের মুখপাত্র বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গায়েবি মামলা ছাড়া কোন দাবি পূরণ হয়নি। দাবি না মানলে কঠোর আন্দলনে যে পরিণতি হবে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। আলোচনার সুযোগ এখনও আছে। স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ অবস্থায় সমাধানে পৌছাতেই শেষ অব্দি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সংলাপ আন্দোলনেরই একটা অংশ। দাবি না মানলে আরও আন্দোলন হবে। সংলাপ কেমন হয়েছে-এই প্রশ্নর জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সেটা এখন বলতে চাচ্ছি না। আলোচনা ভালো না হলে জনগণকে সাথে নিয়ে ভালোর পথে আনা হবে।

এসময়, দাবি না মেনে বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে ইসি অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর প্রমুখ।

সুত্রঃ আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ১০ উপদেষ্টার নির্দলীয় সরকারের প্রস্তাব দিল ঐক্যফ্রন্ট!

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে ১০ উপদেষ্টা নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

বুধবার (৭ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপে বসে লিখিত আকারে এ প্রস্তাব দেয় ঐক্যফ্রন্ট।

সংলাপের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। ওই সূত্র মতে, ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিলেও আওয়ামী লীগ তা নাকচ করে দিয়েছে। দলটি জবাবে বলেছে, এটা সংবিধান সম্মত নয়, এতে সাংবিধানিকশূন্যতা সৃষ্টি হবে। আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ আরও বিভিন্ন দাবি পুনরুত্থাপন করেছে ঐক্যফ্রন্ট।

বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফা সংলাপ বেলা ২টার দিকে শেষ হয়। সর্বশেষ খবর অনু্যায়ী, নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি দাওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।

সুত্রঃ বাংলানিউজ২৪

আরও পড়ুনঃ সংলাপে নির্বাচন পেছানো ও উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব নাকচ করল আওয়ামীলীগ

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বসা সংলাপ শেষ হয়েছে। সংলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে নেতারা বেরিয়ে আসেন।

সংলাপ শেষে সরকারি দলের মুখপাত্র সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির বেশ কিছু দাবি মানা হয়েছে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের করা সরকারের নির্ধারিত মেয়াদ শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন এবং ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপ শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা জানান।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন পিছিয়ে দিতে এটা তাদের বাহানা। কিন্তু আমরা সংবিধানের বাইরে যাবো না। নির্বাচন পেছানোর সুযোগ নেই। গত ৭ দিনে যত সংলাপ হয়েছে সেসব বিষয় নিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সংসদ যেদিন বসেছে সেদিন থেকে হিসেব করে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু তারা সংলাপে প্রস্তাব দিয়েছেন নির্বাচন সংসদের মেয়াদ শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে করার। কিন্তু এটা সংবিধানের বাইরে। তাই আমরা এতে সম্মত হইনি। আর একজন প্রধান উপদেষ্টাসহ ১০ জন উপদেষ্টা রেখে নির্বাচন করার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের অনুরোধ করেছেন, আপনারা নির্বাচনে আসুন, আমরা দেখিয়ে দেবো এই সরকারের অধীনেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। এরপর যদি আপনারা জিতেন আপনারা ক্ষমতায় আসবেন, আর আমরা জিতলে আমরা আসবো।

তবে তাদের ৭ দফায় থাকা বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন তফসিল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে না, দলীয় পতাকা থাকবে। কোনো ধরনের সরকারি ফ্যাসিলিটি (সুবিধা) আমরা এনজয় করবো না। তখন সব কিছু থাকবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে।

নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার আহ্বান মেনে নেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটা এখন কোথাও থাকে না। তবে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন থাকবে। তারা নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন অনুযায়ী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে।

সুত্রঃ জাস্ট নিউজ

আরও পড়ুনঃ আজকে শুধু সংলাপ হয়েছে, আর কিছু নয়ঃ আব্দুল মালেক রতন

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সংলাপের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মা‌লেক রতন বলেছেন, শুধু সংলাপ হয়েছে, আর কিছু নয়।

বুধবার (৭ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে সংলাপ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তবে ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতারা সংলাপের আলোচনার বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।

এ সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে আরও অংশ নেন শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত ‌চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহ‌সিন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম প্রমুখ।

সুত্রঃ বাংলানিউজ২৪

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here