খাশোগির হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের নাম ও ছবি প্রকাশ করল তুরস্ক

0
388

সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির সন্দেহজনক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৫ ব্যক্তির নাম এবং ছবি প্রকাশ করেছে তুরস্কের একটি পত্রিকা। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি আরবের কন্স্যুলেটের ভেতরে খাশোগিকে হত্যার পর তারা দেশটির ভূখণ্ড ছেড়ে চলে যায়।

গতকাল (মঙ্গলবার) তুরস্কের ‘ডেইলি সাবাহ’ খাশোগির হত্যাকাণ্ডে জড়িত সৌদি নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি বলেছে, তারা দু’টি ব্যক্তিগত বিমানে করে রিয়াদ থেকে ইস্তাম্বুলে আসে। গত ২ অক্টোবর যেদিন খাশোগি সৌদি কন্স্যুলেটে প্রবেশ করে একই দিনে তারাও সেখানে প্রবেশ করে। এসব ব্যক্তি কন্স্যুলেটে যাওয়ার আগে নিকটবর্তী দু’টি আন্তর্জাতিক হোটেলে ওঠেন। কন্স্যুলেটের অপারেশন শেষ করে ওইদিনই তারা তুরস্ক ত্যাগ করেন। খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এসব সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এখন খুঁজছে বলেও সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনার তদন্তের সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র মিডলইস্টআই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ ইউনিটের সদস্য। এদের একজন সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর ফরেনসিক বিভাগের প্রধান বলেও ওই সূত্রটি জানিয়েছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরিমি হান্টের টুইট

এদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরিমি হান্ট লন্ডনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছেন এবং নিখোঁজ সাংবাদিক জামাল খাশোগির বিষয়ে অবিলম্বে যথোপোযুক্ত জবাব চাওয়া হয়েছে। এরপর তিনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আয-জোবায়েরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং খাশোগির নিখোঁজের ঘটনায় রিয়াদকে সতর্ক করেন।

সাংবাদিক খাশোগিকে টুকরো করতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা : নিউইয়র্ক টাইমস

১৫ জনের একটি হত্যাকারী টিম সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যা করেছে বলে বিস্ফোরণ প্রতিবেদন ছাপায় নিউইয়র্ক টাইমস।

পত্রিকাটিতে বলা হয়েছে সৌদি আরবের রাজ পরিবারবিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে দেশটির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, সৌদি আরব থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে গিয়ে ১৫ জনের একটি ঘাতক টিম ওই হত্যা মিশনে অংশ নেয়। নিউইয়র্ক টাইমের বরাত দিয়ে বুৃধবার আলজাজিরা এসব তথ্য জানায়।

তারা সৌদি আরব থেকে ইস্তাম্বুলে পৌঁছেই দুটি ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে ওঠে। সেখান থেকে সরাসরি ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে চলে যায়।

সাংবাদিক খাশোগি কনস্যুলেটে পৌঁছার আগেই তারা হত্যার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। খাশোগি সেখানে প্রবেশের পর তারা তাকে হত্যা করে। হত্যার পর তার মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়।

পত্রিকাটি লিখেছে, ঘাতক দলে একজন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তিনি সঙ্গে করে একটি করাত নিয়ে এসেছিলেন। ওই করাত দিয়েই তাকে টুকরো টুকরো করা হয়। হত্যা মিশন শেষ হতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। মিশন শেষে ঘাতকরা দ্রুত তুরস্ক ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলে যায়।

দুটি প্রাইভেট বিমানে করে ঘাতকরা তুরস্কে গিয়েছিল।

আমেরিকায় স্বেচ্ছা-নির্বাসনে থাকা জামাল খাশোগি তার তুরস্কে থাকা বান্ধবীকে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতে গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে যান। কিন্তু সেখান থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি।
পার্সটুডে

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here