প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়: খন্দকার মাহবুব

0
172

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হত্যা মামলায় দায়ের হওয়া মামলায় খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আপিল বিভাগেও বহালের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমি বারবার বলেছি- প্যারোলের বিষয়টি রাজনৈতিক বিষয়। এখানে ম্যাডাম প্যারোল চাইবেন কিনা এবং সরকার প্যারোল দেবে কিনা- এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। আমরা আইনজীবী হিসেবে এটুকু বলতে পারি যে, চিকিৎসার জন্য প্যারোল চাওয়া যায়। রাষ্ট্রও প্যারোলে মুক্তি দিতে পারে।’

বিভিন্ন দেশে প্যারোলে রাজবন্দিদের মুক্তির বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে ও পাকিস্তানে প্যারোলে মুক্তির বহু নজির আছে। রাজবন্দিদের প্যারোলে মুক্তির ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। আমরা চাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আইনগতভাবে মুক্তি দেয়া হোক।’

তিনি বলেন, মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে। তার সব মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং আইনি প্রক্রিয়ার চেয়ে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মুক্তির পথ খুঁজতে হবে।

জামিন বহালের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের আবেদন ডিসমিসড করে জামিন বহাল রেখেছেন। সরকারের বাধার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন কঠিন হবে। এখনও তার দুটি মামলা পেন্ডিং আছে। তবে এর মধ্যে আর কোনো মামলা না দিলে ওই দুটি (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট) মামলায় জামিন পেলে তিনি জেল থেকে বের হবেন।

খালেদা জিয়ার শারীরিক দিক বিবেচনায় নিয়ে সরকার তাকে শিগগিরই মুক্তি দেবে এমন আশা ব্যক্ত করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ পরীক্ষা কেন্দ্রে গায়ে আগুন, পোড়া শরীরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ফেনীর সেই ছাত্রী


ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া সেই ছাত্রী (১৮) জীবন শঙ্কায় রয়েছে। ৭৫ শতাংশ পোড়া শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অবস্থা অপরিবর্তিত। তার সুস্থ হয়ে ওঠাটা কঠিন।

রোববার সকালে তার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল যুগান্তরকে বলেন, তার অবস্থা খুবই ক্রিটিক্যাল। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। শরীরের তিন-চতুর্থাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালিও পুড়ে গেছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সকালে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, ‘মেয়েটির শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার ব্যাপারে চিকিৎসকরা এখনও কিছু বলতে পারছে না। মেয়েটির চিকিৎসা চলছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি।’

ঢামেকে বোনের বাঁচা মরার চিন্তায় শঙ্কিত তার ভাই বলেন, ‘আজ সকালে বোনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তখন তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক দেয়া ছিল। সে পানি খেতে চেয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকের নিষেধ থাকায় পানি দেয়া যায়নি। তার অবস্থা গতকালের মতোই আছে।’

ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার মা, বড় ভাই ও মেজ ভাই বার্ন ইউনিটে রয়েছেন। তার মা মেয়ের জন্য হাসপাতালের মেঝেতে বসে বিলাপ করলে স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেন।

তার চাচাতো ভাই বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাদের কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তারা আল্লাহকে ডাকতে বলছেন। আমরা সবাই অসহায়।

মোবাইল ফোনে এক স্বজনকে ছাত্রীর অবস্থা সম্পর্কে জানান তার চাচাতো ভাই। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার বাঁচার আশা ক্ষীণ।

প্রসঙ্গত ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর (১৮) গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়ার ফাজিল মাদ্রাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদ্রাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকা পরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা। তারা জানান, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থীর শরীরের ৭৫ শতাংশই পুড়ে যাওয়ায় তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এ ধরনের রোগীর চিকিৎসা করতে খুবই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ।পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন অধ্যক্ষ। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ বহু অপকর্মের হোতা সিরাজ


ফেনীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টায় আলোচিত সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধ্যক্ষ সিরাজকে এর আগে একটি শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নের সালামতিয়া মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে নোয়াখালীর বসুরহাটের রঙ্গমালা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে চাকরিচ্যুত করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও চেক জালিয়াতিসহ সোনাগাজী মডেল থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যোগদানের পর সিরাজ-উদ-দৌলা প্রতিষ্ঠানটিকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও যৌন হেনস্তার আখড়ায় পরিণত করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। তার এসব অপরাধের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকরা অভিযোগ জানালেও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা কমিটির কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য তাকে বাঁচিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দুই দশক আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ভাইস প্রিন্সিপাল পদে নিয়োগ পান সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদের মৃত কলিম উল্যার ছেলে সিরাজ-উদ-দৌলা। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় জাল কাগজপত্র বানিয়ে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে ঢোকেন বলে এর আগে অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে চার বছর আগে মাদ্রাসার তখনকার ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য এবং সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মান্নান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার ডিজি বরাবর একটি অভিযোগ জমা দেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ পেতে হলে আলিম মাদ্রাসায় চাকরির ন্যূনতম ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অথচ সিরাজ তার আগেকার দুটি দাখিল মাদ্রাসায় চাকরি করার ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দেন। ওই দুটি মাদ্রাসা অদ্যাবধি আলিম মাদ্রাসায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এ ছাড়া অধ্যক্ষ সিরাজ এর আগে বসুরহাটের রঙ্গমালা মাদ্রাসা থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং সালামতিয়া মাদ্রাসা থেকে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে চাকরি হারান বলে ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই মাদ্রাসায় নিয়োগ পাওয়ার পর সিরাজ সুবিধাবাদীদের সঙ্গে নিয়ে অনিয়মের মহোৎসবে মেতে ওঠেন। রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি। মাদ্রাসায় বখাটেদের নিয়ে একটি বাহিনীও গড়ে তোলেন। নানা সময়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন তহবিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ ছাড়া এর আগেও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠলেও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে তার মীমাংসা হয়ে যায়।’

অন্যদিকে সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ থাকা অবস্থায় উম্মুল কুরা মাদ্রাসা নামে ফেনী শহরে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন সিরাজ। ওই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল সিরাজের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে চারজন শেয়ারহোল্ডার তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা করেন।

সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় ছিল। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন এ প্রতিষ্ঠানের সহসভাপতির দায়িত্বে আছেন। অধ্যক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তার নানা অপকর্ম ঢাকার অভিযোগ উঠেছে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ আবদুল হালিম মামুন বলেন, ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তথ্য এর আগে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এনামুল করিমকে জানিয়েছি। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ একটি গ্রুপ তাকে রক্ষা করতে সব সময় মরিয়া হয়ে অবস্থান নেন।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুহুল আমিন বলেন, ‘কোনো ধরনের অপরাধকে আমরা প্রশ্রয় দিই না। রাফিকে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আমি ন্যায়বিচার চাই। দোষী যে-ই হোক না কেন আমি প্রকৃত দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।’

সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তা ও চেক জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে।’

উৎসঃ ‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আপিলে বহাল


কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষ এ জামিন বাতিল চেয়ে আপিল আবেদন করেছিল।

আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী। তাদের সহায়তা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় মওদুদ আহমেদসহ অনেক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে গত ৩১ মার্চ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন ৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করে শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেয়া হয়। চেম্বার বিচারপতি মো: নুরুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন।

গত ১৯ মার্চ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৬ মার্চ এ মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রলবোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন যাত্রী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরো ২০ জন।

এ ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি দেখানো হয়।

উৎসঃ ‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতাকে ধরে ছেড়ে দিলেন এসআই


গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াবাসহ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তারসহ (৩৮) দুইজন আটক হলেও শনিবার সকালে ছেড়ে দিয়েছেন থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান।

একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার ইয়াবাসহ যুবলীগ নেতাকে আটকের বিষয়ে দেয়া বক্তব্য বদলে শনিবার নতুন বক্তব্য দিয়েছেন এসআই আব্দুর রহমান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের স্লুইসগেট এলাকায় কালীগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই সোহেল মোল্লাসহ সঙ্গীয় ফোর্স মাদকবিরোধী অভিযান চালায়।

এ সময় ওই এলাকা থেকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ভাদার্ত্তী গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার ও একই গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে শরীফ হোসেন (৩৫) ইয়াবাসহ আটক হয়।

বিষয়টি জানার পর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে এসআই আব্দুর রহমানকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ৪ পিস ইয়াবাসহ পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার ও একই গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে শরীফ হোসেনকে আটক হয়। এ ঘটনায় মামলা হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কিন্তু শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যুবলীগ নেতা সাত্তার এবং দুপুরে শরীফকে ছেড়ে দেয়া হয়। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে থাকা এসআই সোহেল মোল্লাকে শনিবার সকালে ফোন দিলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। আব্দুর রহমান স্যার এ বিষয়ে বলতে পারবেন। আপনি তাকে ফোন দেন।

বিষয়টি জানতে এসআই আব্দুর রহমানকে ফোন দিলে আগের দিনের বক্তব্য পাল্টে বলেন, ভাই কোনো কিছু পাইনি। ওপর থেকে তদবির ছিল, তাই ছেড়ে দিয়েছি।

শুক্রবার সকালে সাংবাদিকদের বলেছেন, ৪ পিস ইয়াবা পেয়েছেন, আজ বলছেন কিছুই পাননি, আসলে কোনটা সত্য? এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই আব্দুর রহমান বলেন, থানায় এসে কথা বলে যান, বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এসআই আব্দুর রহমান ও সোহেল মোল্লার বক্তব্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি মো. আবুবকর মিয়া বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বিস্তারিত জেনে আমি আপনাকে জানাতে পারব।

উৎসঃ ‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না


স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক রাখা হচ্ছে না। দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চার বছর পার না হতেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। এ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়া নিয়ে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা দেওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। এটি পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত। তবে আমরা অফিসিয়ালি এখন বলতে পারবো না। এ বিষয়ে আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন উন্মুক্তভাবে হওয়ার ধারা ভেঙে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় প্রতীকে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য ২০১৫ সালে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন-সংক্রান্ত পাঁচটি আইন সংশোধন করা হয়। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের শুরুটা হয়েছে সিটি ও পৌরসভার মেয়র নির্বাচন দিয়ে। সর্বশেষ এটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োগ করা হয়। তবে এ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আইনগুলো সংশোধন করে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে সংশোধনের পর কার্যকর করা হবে।

এদিকে সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে যাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করে আমাদের তৃণমূল পর্যন্ত মারামারি পৌঁছে গেছে। এর ফলে মনোনয়ন বাণিজ্য এমন পর্যায়ে গেছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনেও এমন কোনও ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না যে অর্থ ছাড়া ভোট দিয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি কলুষিত হয়ে গেছে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।’

আইনটি যখন পরিবর্তন করা হয়েছে তখন কি এসব বিষয় সরকার বিবেচনা করেনি কিংবা কোনও বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়নি? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বহুবার বলেছি। আমাদের কোনও মতামতই সরকার আমনে নেয়নি। হয় আবেগ কিংবা একটা চিন্তা করেই হুট করে সরকার এই আইন পরিবর্তন করেছে।’

উৎসঃ ‌justnewsbd

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের বিকাশের স্বার্থেই অবাধ গণমাধ্যম জরুরি : ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড


বাংলাদেশের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশের স্বার্থেই অবাধ গণমাধ্যম নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মতোই আইনের শাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কার্যকর গণতন্ত্রের ভিত্তিই হচ্ছে এসব উপাদান।

বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে শনিবার দুপুরে প্রথম আলো কার্যালয় পরিদর্শনে এসে মার্ক ফিল্ড এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, একটি কার্যকর গণতন্ত্র অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি আনতে পারে এবং সমৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে দেয়।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে প্রথম আলো কার্যালয়ে স্বাগত জানান সম্পাদক মতিউর রহমান। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসনসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের শুরুতে মার্ক ফিল্ড বলেন, তাঁর এবারের সফরের আলোচ্যসূচির ওপরের দিকেই আছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টি। এ বছরের ১০ ও ১১ জুলাই কানাডাকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকার লন্ডনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক সম্মেলন করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন চালু এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টানেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোনো উপদেশদাতা হিসেবে নয়, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই বলছি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সত্যিকার অর্থেই আমাদের উদ্বেগ আছে।’

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে মার্ক ফিল্ড বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পূর্ণ অঙ্গীকার রয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর সারা বিশ্বে প্রায় ৮০ জন গণমাধ্যমকর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে, যা ছিল সবচেয়ে বাজে বছর। একই সময়ে দৈনন্দিন কাজ করতে গিয়ে কয়েক শ সাংবাদিককে কারাবরণ, অপহরণ কিংবা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অন্য দেশকে নির্দেশ করছি এমনটা ভাবার কারণ নেই। কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের নিজের দেশেও অনেক বিতর্কের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ০৬ এপ্রিল। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মার্ক ফিল্ড। কারওয়ান বাজার, ঢাকা, ০৬ এপ্রিল। ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

বিচারবহির্ভূত হত্যা আর গুমের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মার্ক ফিল্ড বলেন, ‘এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সব সময় উচ্চকণ্ঠ আছি। যেকোনো দেশেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আমাদের উদ্বেগ রয়েছে।’

ব্রেক্সিট নিয়ে যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্রেক্সিট নিয়ে পুরো পরিস্থিতি এখনো যথেষ্ট ঘোলাটে। তবে ব্রেক্সিট নিয়ে তাঁর নিজের অনুতাপ রয়েছে। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সরকারকে অনেক বেশি সময় দিতে হচ্ছে। ব্রেক্সিট থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে লোকজনের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাজ্যকে সবার ওপরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেওয়ার নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ইউরোপ থেকেও যুক্তরাজ্য মুখ ফিরিয়ে নিতে চায় না। এর কারণ, ইউরোপ গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক আর নিরাপত্তা অংশীদার।

একাত্তরে স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক বেশ নিবিড় বলে মন্তব্য করেন মার্ক ফিল্ড। তিনি বলেন, এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কটা কয়েক শতকের না হলেও কয়েক দশকের তো বটেই। এটা লোকজনও বোঝেন।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের রাজনৈতিক শাখার প্রধান আবু জাকি, গণমাধ্যম শাখার প্রধান নিসার হুসেন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌প্রথমআলো

আরও পড়ুনঃ ‘মুজিববর্ষ’ কি লুটপাটের আরেক প্রজেক্ট?


আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী পালনের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০২০ সালকে সরকার মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। গত ১৭ মার্চ শেখ মুজিবের জন্মবার্ষিকীতে শেখ হাসিনা এ ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পাড়ায় মহল্লায় যাতে মুজিববর্ষ পালন করা হয় সেই লক্ষ্যে একাধিক কমিটিও গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আওয়ামীপন্থী বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে কয়েকটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ মুজিবের ভুমিকা নিয়ে অবশ্যই বিতর্ক আছে। তিনি স্বাধীনতা চেয়েছেন বা স্বাধীনতার জন্য পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এমন কোনো প্রমাণ আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দেখাতে পারেনি। শেখ মুজিব মূলত ক্ষমতা চেয়েছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণে শেখ মুজিব মূলত কেন্দ্রীয় সরকারকে ৪টি শর্ত দিয়েছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তন যদি তার দেয়া শর্তগুলো পূরণ করতো তাহলে নিশ্চয় পূর্ব পাকিস্তান আর আলাদা হতো না। মুক্তিযুদ্ধেরও প্রয়োজন হতো না।

এরপর মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে ৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত দেশ পরিচালনায় শেখ মুজিবের ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী ছিল। শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে মহামানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে শেখ মুজিবের স্বপ্নের যে ফিরিস্তি প্রতিদিন মানুষের সামনে তুলে ধরছেন তা সবই অতিরঞ্জিত ও বিকৃত। কারণ, শেখ মুজিবের পুরো আমলটাই ছিল দুর্নীতি, লুটপাট, খুন-হত্যা, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, বিরোধী পক্ষের ওপর দমন-পীড়ন, নির্যাতনে ভরপুর। মানুষের বাকস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও শেখ মুজিব দেশের সব রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে দেশে সেই পাকিস্তানি শাসন জারি করেছিল। এদেশের সকল শ্রেনি-পেশার মানুষ শেখ মুজিব ও তার পরিবারের ওপর এতই ক্ষুব্ধ ছিল যে, ১৫ আগস্ট তারই ঘনিষ্ঠদের হাতে স্বপরিবারে জীবন দিতে হলো শেখ মুজিবকে।

তারপরও এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবের অবদানকে একেবারে অস্বীকার করে না। মুক্তিযুদ্ধের আগে দেশের মানুষকে অধিকার আদায়ে সংগঠিত করেছিলেন শেখ মুজিব। পূর্ব বাংলার পক্ষ থেকে আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্টভাষায় প্রতিবাদ করেছিলেন। এসব সত্য। দেশের মানুষ এসব স্বীকারও করে।

কিন্তু, শেখ হাসিনা তার বাবা শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে যা করছেন তা সবই অতিরঞ্জিত। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম পরিবর্তন করে সেগুলোতে শেখ মুজিবের নাম দেয়া হয়েছে। আবার শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করে তার নামে বিনোদন পার্ক করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ সরকার মুজিববর্ষ পালনের যে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সেজন্য আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিদের নিয়ে দেশে যত সংগঠন ও সংস্থা আছে সবগুলোতে একটি করে কমিটি গঠন করা হবে। সেই হিসেবে কয়েকশ কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি কমিটির জন্যই সরকারের পক্ষ থেকে থাকবে মোটা অংকের বাজেট।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মুজিববর্ষ পালনের জন্য সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টর থেকে এক হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেছে। এসব খাতের মধ্যে ব্যাংক-বিমাসহ আর্থিক খাতকে তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাংক-বিমা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেতো আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো চাঁদাবাজি করবেই। মোটকথা মুজিববর্ষ পালনের নামে সরকার লুটপাটের আরেক বৃহৎ প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ খালেদা জিয়ার প্যারল ও সংসদ নিয়ে যা ভাবছে বিএনপি


প্যারোলে নয়, জামিনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায় বিএনপি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদেও দলটির যাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন। এ নিয়ে পর্দার অন্তরালে এক ধরনের সমঝোতাও চলছে। যে সমঝোতার অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১ এপ্রিল তাকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী- তার পুরো শরীর ব্যথায় আক্রান্ত। অন্যের সাহায্য ছাড়া তিনি নড়াচড়া করতে পারেন না। পাশাপাশি ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে ভুগছেন ৭৭ বছর বয়স্ক সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, অসুস্থতা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা নিতে রাজি ছিলেন না। তার আগ্রহ ছিল বিশেষায়িত হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা নেয়ার। তার এই অনীহার কারণে মার্চের মাঝামাঝিতে কারা কর্তৃপক্ষ একবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েও সফল হয়নি। অন্য দিকে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিএনপিতেও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। এরিই একপর্যায়ে দলের সিনিয়র দু’জন নেতা কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তারা খালেদা জিয়াকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যেখানেই হোক এই মুহূর্তে তার চিকিৎসা খুবই প্রয়োজন। নেতাদের এই সাক্ষাতের পরই বিএসএমএমইউতে আসতে রাজি হন তিনি।

বিএনপির নেতারা বলেছেন, তারা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে চাইছেন। তার চিকিৎসায় মেডিক্যাল বোর্ড রয়েছে। সেই মেডিক্যাল বোর্ড যেভাবে সুপারিশ করবেন, সেভাবেই তার চিকিৎসা হবে। তারা যদি মনে করেন, বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব নয়, প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে চিকিৎসা নিতে হবে, তাহলে সেটি বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী হবে না, তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের এক নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চান না। এমনকি কোনো নেতাও তার সামনে এ বিষয়টি উত্থাপন করেননি। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয় নিয়ে দলের কোনো পর্যায়ে এখনো আলোচনা হয়নি বলে নিশ্চিত করে জানান ওই নেতা।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হচ্ছে এ ধরনের কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। তবে আমরা তার জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বাত্মক লড়াই চালিয়ে যাবো। আশা করি, তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি পাবেন।

এ দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে সংসদে যাওয়ার আলোচনাকেও নিছক গুজব বলছে বিএনপি। গত ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ডাকাতির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি ও তাদের নিয়ে গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। একই সাথে তারা পুনর্নির্বাচনের দাবিতেও নানামুখী কর্মসূচি পালন করে চলছে।

ওই নির্বাচনে বিএনপি থেকে ছয়জন এবং গণফোরাম থেকে দু’জন নির্বাচিত হন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দু’জন সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। শপথ নেয়ার কারণে সুলতান মনসুরকে গণফেরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মোকাব্বির খানের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ২ এপ্রিল শপথ নেয়ার পর গত পরশু মোকাব্বির খান ড. কামালের সাথে তার মতিঝিলের চেম্বারে দেখা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ড. কামাল তাকে বলতে গেলে অপমানজনকভাবে বের করে দেন।

জানা গেছে, যে নির্বাচন বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই সংসদে বিএনপির শপথ নেয়ার কোনো ইচ্ছাই নেই। বিএনপির নির্বাচিতরাও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কিছু করবেন না বলে স্পষ্টভাবে কেন্দ্রকে জানিয়ে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ বলেন, বিএনপির সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। যেসব আলোচনা হচ্ছে, এগুলো উড়ো খবর। ভোটারবিহীন এ সংসদে বিএনপি যাবে না।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. মঈন খান বলেন, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, এই সংসদ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পক্ষে কোনো কাজ করতে পারে না। যারা মনে করেন, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, সংসদে গিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলবেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বলেছেন, আমরা প্রতিদিনই মনে করব, একটা বেআইনি দখলদারি সরকার বসে আছে। তাকে মেনে নেয়ার কোনো কারণই নেই। আমরা সরকারকে বলেছি এই নির্বাচন বাতিল করে একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনরায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে।

উৎসঃ ‌নয়া দিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here