খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সরকার কোন যোগাযোগ করেনি : ব্যারিস্টার খোকন

0
104

দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সরকার তার পরিবার বা আমাদের (আইনজীবীদের) সঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোন আলোচনা করেনি বলে মন্তব্য করেন তার অন্যতম আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। রোববার সুপ্রিম কোর্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সরকার বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছে; কিন্তু ওইসব বক্তব্য দেয়া ছাড়া তারা (সরকার) প্যারোলের বিষয়ে তার (খালেদা জিয়ার) পরিবার বা আমাদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ করেনি। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে। সরকার তাকে জেলে রেখেই রাজনীতি করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, এক এগারোর সময়ে আমি খালেদা জিয়া এবং তার দুই ছেলে তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কাজ করেছি। তিনি অসুস্থ্, খুবই অসুস্থ্। তবুও প্য্যারোলের বিষয়ে সরকার কোন যোগাযোগ করেনি।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৮ সালের গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আপিলে দুই মামলায় তাকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ মশার জন্য মানুষ মরার ওষুধ আনছে সরকার!


সরকার স্বীকার না করলেও সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ করেছে। এডিস মশার কামড়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষ মারা গেছে। যদিও সরকার এ মৃত্যুর সংখ্যা স্বীকার করছে না। এই এডিস মশা নিয়ে যখন সারাদেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে তখনও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও ছলচাতুরি করে যাচ্ছে সরকার। নকল ওষুধ দিয়ে এতদিন এডিস মশা মারার অভিনয়ও করেছে সরকার।

এদিকে, সর্বোচ্চ আদালত ভাল ওষুধ আনার নির্দেশ দেয়ার পরও এনিয়ে সরকার দুই নাম্বারী করে যাচ্ছে। আদালত ও জনগণের সমালোচনার মুখে বিদেশ থেকে ওষুদের নমুনা আনলেও সেটা দিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী মশা মরছে না।

শুক্রবার মশা নিধনে নতুন ওষুধের মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালিয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি)। নগর ভবনের মূল ফটকের সামনে তিনটি খাঁচার প্রতিটিতে ৫০টি করে মশা রেখে পরীক্ষা চালানো হয়। আধা ঘণ্টার পরীক্ষা শেষে খাঁচাগুলোয় যথাক্রমে ২২, ২৬ ও ১৮ শতাংশ মশা মারা গেছে। ‘বায়ার করপোরেশন’ কোম্পানির এই মশার ওষুধের ৩০ মিনিট পরীক্ষা শেষে সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ মশা মারা গেছে।

কিন্তু ভারতের কলকাতা থেকে আসা গবেষক দলের সদস্য শুভ দে সাংবাদিকদের বলেন, বায়ার করপোরেশনের ওষুধ মশকনিধনে কার্যকর। ভারতীয় এই গবেষকের দাবি নিয়ে নগরভবনের কর্মকর্তাদের মধ্যেই সন্দেহ সংশয় দেখা দিয়েছে। কয়েকজন বলেছেন, বায়ার করপোরেশনের ওষুধ কার্যকর হবে বলে মনে হচ্ছে না। ভারতীয় এই গবেষক দলের নিশ্চয় ওই কোম্পানির সঙ্গে কোনো লিংক আছে। যার কারণে তারা কোম্পানির পক্ষে সাফাই গাইছে।

অপরদিকে, আরও ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো এডিস মশা মারতে সরকার এখন এমন ওষুধের কথা চিন্তা করছে যা মানুষ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সরূপ।

জানা গেছে, সরকার বিদেশ থেকে যে চারটি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলোর দুটি জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ না হওয়ায় ‘প্রত্যাহার’ করে নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। আর একটি ওষুধ পরিবেশসম্মত না হওয়ায় এক যুগ আগে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে। এছাড়া একটি ওষুধ নিয়ে বিতর্কের কথা জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

জানা গেছে, ডেঙ্গু নিয়ে চলমান সংকট নিরসনের জন্য গত ২৮ জুলাই বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কীটনাশক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, সভায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী ৪-৫টি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কোন কোন ওষুধ কেনা হবে সেটা চূড়ান্ত হয়নি। তবে বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হলেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি নির্দেশে দুই সিটি কর্তৃপক্ষ চারটি ওষুধ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। যার মধ্যে দুইটি ওষুধ জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় থাইল্যান্ড সরকার এগুলো প্রত্যাহার করে। আর বিপিএল লিমিটেড কোম্পানির ‘ম্যালাথিউন ৫৭% ইসি’ কীটনাশকটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বাতিল হওয়া কীটনাশকের তালিকায় রয়েছে। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলায় ২০০৭ সালের দিকে এর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে সংস্থাটি। এর সিরিয়াল নং এপি-৬৮। এর আগে ২০০৩ সালের দিকে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন মশা নিধনে এই ওষুধটি ব্যবহার করতো। বর্তমানে বাতিল হওয়া এই ওষুধটিও কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি ওষুধগুলোর রেজিস্ট্রেশন নেই।

এ বিষয়ে বৈঠকে উপস্থিত থাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, প্রিমিফোস-মিথাইল ৫০% ইসি নিয়ে একটু কথাবার্তা রয়েছে। তারা কি এটাও তালিকায় ঢুকিয়ে দিয়েছে? আর ‘ম্যালাথিউন ৫৭% ই সি’ যদি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর নিষিদ্ধ করে থাকে তাহলে সেদিন যে মিটিং হয়েছিল সেখানে তাদের পরিচালকসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। তারা কেন বিষয়টি অবহিত করলেন না? যদি নিষিদ্ধ করা হয়, কী কারণে করা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিলেন না? তাদের তো মিটিংয়ে ডাকা হয়েছে, তারা সরকারকে গাইড করবে। সেখানে গিয়ে কেন মুখ বন্ধ করে ছিলেন?’

তিনি বলেন, ‘আমিও ওই কমিটির সদস্য। সেই মিটিংয়ে তো নির্দিষ্ট কোনও ওষুধের নাম উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে ৪ থেকে ৫টি ওষুধ রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যাতে একটিতে সমস্যা হলে অন্যটি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সিটি করপোরেশন এই তালিকা কোথায় পেলো?’

আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক (বালাইনাশক প্রশাসন ও মান নিয়ন্ত্রণ) কৃষিবিদ এজেডএম ছাব্বির ইবনে জাহান বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি সরকারের হাই পজিশন থেকে হয়েছে। তাই কোনও মন্তব্য করতে পারবো না।’

এই কর্মকর্তার বক্তব্য থেকেও বুঝা যায় যে, মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে কিংবা কীটত¦ত্ত্ববিদদের মতামতের আলোকে ওষুধ কেনা হচ্ছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কিছু লোক তাদের পছন্দের কোম্পানির কাছ থেকে মূলত ওষুধ কেনার চেষ্টা করছে। এখানে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থই বেশি দেখছে তারা।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ এবার ডেঙ্গুর পর ধেয়ে আসছে ভয়ানক ইকুইন ভাইরাস


বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহামারী হিসেবে ভয় ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু মশা। এডিস মশার আক্রমণে যখন পৃথিবী আতঙ্কিত তখনই খবর এসেছে নতুন আরেক ভয়ানক ভাইরাসের খবর।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস (ইইই) নামে পরিচিত একটি মশাবাহিত ভাইরাস নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে। এবিষয়ে সতর্কতা দিয়েছে ফ্লোরিডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

মার্কিন বার্তা সংস্থা ‘সিএনএন’এর খবরে বলা হয়েছে এই খবর। তারা বলছে, পরীক্ষাধীন অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকটি মুরগির ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ইইইভি ইতিবাচক উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা সংক্রামিত মশার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এর ফলে মানুষের মস্তিষ্ক সংক্রমিত হতে এবং ফুলে যেতে পারে।

পরীক্ষাগারে মুরগিগুলোর মাংসে ওয়েস্ট নেইল ভাইরাস এবং ইইই-এর উপস্থিতি জানতে নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। তাদের রক্ত থেকে রোগগুলোর উপস্থিতি জানা যায়। তবে, এই প্রাণীটির শরীরে এমন ভাইরাসের প্রভাব না পরলেও মানুষের শরীরে তীব্র প্রভাব পরে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অরেঞ্জ কাউন্টিতে পরীক্ষাধীন মুরগির মাংস পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরে মার্কিন স্বাস্থ্য বিভাগ ‘মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ার’ কথা নিশ্চিত। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলো (সিডিসি) জানিয়েছে, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর মানুষের মধ্যে ইইই ভাইরাস আক্রান্তের মাত্র সাতটি প্রতিবেদন পাওয়া যেতো। যা এখন বাড়ছে।’

মুরগির পরীক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়াতে এই রোগ মারাত্মক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ। সিডিসির মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মারা যায়। আর যারা বেঁচে থাকেন তাদের অনেকেরই সারাজীবন স্নায়ুতান্ত্রিক বা স্নায়বিক সমস্যা নিয়ে বাঁচতে হয়।

এই রোগের লক্ষণ ও উপশম কী?

ইইই ভাইরাসবাহী মশার কামড়ের ৪-১০ দিনের মধ্যে মানুষের শরীরে এই রোগের লক্ষণগুলি তৈরি করে বলে সিডিসি জানায়। আক্রান্ত মানুষের মধ্যে ডেঙ্গুর মতোই লক্ষণ গুলো দেখা দেয়। প্রথমে মাথা ব্যথা, অত্যধিক জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায় এবং বমি হয়।

অবস্থা বেগতিক হলে কোন কোন ক্ষেত্রে ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মধ্যে অস্থিরত্ব দেখা দেয়, খিঁচুনি উঠতে পারে এবং এমনকি কেউ কেউ কোমায় চলে যেতে পারে।

পুরো গ্রীষ্মজুড়ে মশা জনবহুল এলাকার চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এডিস মশার মতো এই মশাও বাড়ির আশেপাশের নর্দমা, কিংবা পরিত্যক্ত জলাশয়ে জন্মায়। কর্তৃপক্ষ এই সময়টাতে মানুষকে মশার কামড় খাওয়া থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।

মুখ ও শরীরের অন্যান্য অংশ কাপড়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং ঘরের দরজা জানালায় ভাল করে পর্দা দিয়ে আটকে রাখাতে হবে। আটলান্টিক ও গালফ সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ইইই ভাইরাস পরিচিত এক রোগ।

এমন ভাইরাস আক্রান্তের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা এখন পর্যন্ত আবিস্কার হয়নি। সিডিসি বলেছে, অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসগুলির বিরুদ্ধে কার্যকর নয় এবং কার্যকর কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধও আবিষ্কার হয়নি।

মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু সহায়ক থেরাপির মাধ্যমে চিকিত্সা দেয়া হয়, যার মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি, শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা, আইভি তরল এবং অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

উৎসঃ মানবকণ্ঠ

আরও পড়ুনঃ বংশ বিস্তার রোধে পুরুষ এডিস মশাকে বন্ধ্যা করা হবেঃ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

বংশ বিস্তার রোধে পুরুষ এডিস মশাকে বন্ধ্যা করা হবে

ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব মানুষকে রক্ষা করতে এবার পুরুষ এডিস মশাকে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশ হ্রাস করার স্থায়ী পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে আশুলিয়ার সাভার পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

আজ (৩ আগস্ট) সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান সাভারে পরমাণু শক্তি কমিশন পরিদর্শনে গেলে তার কাছে এ পদ্ধতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কীট জৈবপ্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীরা। মন্ত্রী শিগগিরই এই পদ্ধতি মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

পরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়। তাই মশার বংশ বিস্তার রোধে পুরুষ এডিস মশাকে গামা রশ্মির মাধ্যমে বন্ধ্যাকরণ করা হয়। এ সব বন্ধ্যা পুরষ মশা স্ত্রী এডিস মশার সাথে মিলিত হলে উক্ত মশার ডিম বা লার্ভা নিষিক্ত না হওয়ায় মশা বংশ বিস্তার হবে না।

সাভার পরমাণু গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান

তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বৈজ্ঞানিকদের এডিস মশার বন্ধ্যাকরণের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হ্রাস করার এ পদ্ধতিটি একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। তাই এ পদ্ধতিকে অতি শিগগিরই সারাদেশে প্রয়োগ করার আহবান জানান তিনি।

এসআইটি পদ্ধতিতে পুরুষ জাতীয় এডিস মশাকে গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ্যা করা হয়। এই মশা অবমুক্ত করা হলে সেগুলো স্ত্রী এডিস মশার সঙ্গে মিলিত হয়। আর ওই স্ত্রী এডিস মশা যে ডিম পাড়ে তা থেকে বংশবিস্তার হয় না। এর ফলে এডিস মশার বংশ কমতে থাকে।

বিজ্ঞানীরা জানান, শুধুমাত্র বন্ধ্যা পুরুষ মশাই প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে। যেহেতু পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না ও ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে না, তাই এর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিজ্ঞানীরা বলেন, দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এসআইটি পদ্ধতি যা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত ও পরিবেশবান্ধব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক, সদস্য সানোয়ার হোসেন, পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক এম. আজিজুল হক, এনআইবির মহাপরিচালক মো. সলিমুল্লাহ, বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত, ডেইলি স্টার

আরও পড়ুনঃ সরকারের চেয়ে শেখ হাসিনার অবস্থা ভয়াবহ: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়


সরকারের চেয়ে শেখ হাসিনার অবস্থা ভয়া*হ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলন আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে যোগ দিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শনিবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম অবনতি: কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি দূর্বল। আর সরকার কোনও ভালো অবস্থানে নেই। আরেক জন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গিয়েছেন, এদিকে দেশের অবস্থা ভয়া*হ। কিন্তু তার চেয়ে মনে হয় শেখ হাসিনার অবস্থা ভয়া*হ। তা না হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খুব তাড়াতাড়ি চিকিৎসা বন্ধ করে তিনি আসতে পারতেন’।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘দেশের মানুষ বন্যায় ভাসছে কিন্তু তিনি আসতে পারছেন না। তাহলে তিনি কঠিন অবস্থার মধ্যে আছেন। এর কারণে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে তিনি আসতে পারছেন না। শোনা যাচ্ছে, নানা রকম সমস্যা। আর চোখের আলোটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বেশি জরুরি। তাহলেইতো মানুষের চোখের দিকে তাকালে তাদের চোখের ভাষাটা কি, তা বুঝতে পারবেন।

তবে আমরা চাই, আল্লাহ উনার চোখ ভালো করুক। আল্লাহ তার চোখ, শরীর ও ভাবনাটা সুস্থ করুক। আর আল্লাহ যেনো উনাকে মানুষকে ভালোবাসার তৌফিক দেন। কারণ আমরা কোনও মানুষের অমঙ্গল কামনা করি না।

গয়েশ্বর আরও বলেন, রাজনৈতিক নেত্রীর মুক্তি হয় রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে। কিন্তু আমাদের নেত্রী (বিএনপি চেয়ারপারসন খালোদা জিয়া) জেলখানায় যাওয়ার পরে আমরা এমন কোনও আন্দোলন করতে পারি নাই যে সরকার তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবে। আর আন্দোলনের কোনও আওয়াজও আমরা আদালতে দিতে পারিনি। আর বেগম জিয়াকে মুক্তি না দিলে জজদের ওপরে জনগণ ক্ষুব্ধ হবে। এই বার্তাও আমরা দেই নাই।

এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশর দুর্নীতির আড্ডাখানা।

তিনি বলেন, গণপি*নির আড়ালে অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে কি না? সে বিষয়টি সামনে আনতে হবে। সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, এর সঙ্গে বিরোধী দলের হাত আছে। তার মানে কি? তার মানে, দেশকে চরম একটা অবস্থানের মধ্যে ফেলে দেয়া এবং কোনও একটা সময়ে তারা নিজেরাই দেশ ছেড়ে কেটে পড়ে কি না।

সেমিনারে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, রবিউল আলম, কৃষকদলের আহ্বয়ক কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে এক স্বৈরাচারের বিদায়, গদিতে বসা আরেক স্বৈরাচারের


শেখ হাসিনা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন তা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির শাসন ছাড়া আর কিছুনা। এমন স্বৈরতান্ত্রিক চিন্তা এরশাদের মাথাতেও আসেনি।বাংলাদেশে একনায়কের বিদায় হয়েছে। আর সে বিদায়ের পর ক্ষমতার গদি আঁকড়ে আছে আরেক একনায়ক।

এশিয়ান টাইমসে প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর হালচাল নিয়ে এমনি সোজাসাপ্টা অভিমত ব্যক্ত করেছেন জন কনারস। “এস বাংলাদেশ বুরাইজ ওয়ান ডিকটেটর, এনাদর হোল্ডস ফার্ম,” শিরোনামের এই সম্পাদকীয়টি প্রকাশিত হয় ৩১ জুলাই। জাস্ট নিউজ পাঠকদের জন্য তার ভাবানুবাদ প্রকাশ করা হলো:

১৯৮০ পরবর্তী দশকে যে জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশ শাসন করেছেন গত ১৪ জুলাই তিনি ইন্তিকাল করেছেন। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিরক্তিকর একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। সদ্য যৌবনে পা রাখা দেশটির সবচাইতে বিতর্কিত শাসনামল ছিলো সেটা। বাংলাদেশিরা তার বিদায়ে পেছন ফিরে তাকালে দেখতে পাবে কীভাবে একজন স্বৈরশাসন চালিয়েছিলো আর পরবর্তীতে কীভাবে সে রাজনীতির ছায়ায় পালিত হলো। এরশাদের এই রাজনৈতিক প্রভাবকে আজো খেলো হিসাবেই দেখা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতির হিসেব-নিকেশে একমাত্র স্বৈরশাসকে হিসেবে যাকে দেখা হয় তিনি হলেন এরশাদ।

অতীতের যারা সাক্ষী তারা ১৯৮২ সালে সাবেক এই ক্ষমতাধর শাসকের (এরশাদ) মার্শাল ল জারিকে উঠতি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের নকশা মনে করেন। তরুণ বাংলাদেশিরা তাকে শুধুমাত্র একজন সুবিধাবাদী হিসেবেই চিনে। অধিকন্তু এরশাদ ছিলেন স্বৈরশাসক, স্বৈরতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এরশাদকে আমরা যেভাবেই স্মরণ করিনা কেন বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির হিসেবে তাকে কিছুতেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। অন্ততপক্ষে তিনি ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনাকে যেভাবে সমর্থন যুগিয়েছেন সেটার জন্য হলেও তাকে মনে রাখতে হয়। ১৯৭৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত একের পর এক যতো সামরিক অভ্যুত্থান ঘটেছে তাতে এরশাদের কল-কাঠি নাড়ায় শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ উপকৃত হয়েছে। সেই ফলের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে দলটি ভালো একটা বিজয় পেয়েছে!

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের পর বাইরের দিক থেকে সবার প্রত্যাশা ছিলো বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উপায় এবং পন্থাগুলো বিকশিত হবে। দেশ স্থিতিশীল হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, হাসিনা যেভাবে দেশ পরিচালনা করে যাচ্ছেন তা স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির বাস্তবায়ন। এরকম স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতি এরশাদের মাথাতেও আসেনি।

প্রধান সব বিরোধীদলগুলো ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছিলো। ২০১৮ সালেও স্পষ্টত অস্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে যেটাকে নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে “প্রহসন”।

ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য হাসিনাকে কোনো অভ্যুত্থান করতে হয়না। কিন্তু বিরোধীদলকে শেষ করে দেবার যে নির্ভার পন্থা তিনি বেছে নিয়েছেন তাতে করে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিকাশের আশা অংকুরে মরে যাচ্ছে। ২০১৮ সালের ভোটে অংশ নিয়েছিলো বিএনপি। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগে দলটির হাজারো নেতা-কর্মী আর নির্বাচনী প্রার্থীকে গ্রেফতারের মুখোমুখি হতে হয়। ভোটের দিনেও ৪০ এর বেশী প্রার্থী নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো।

হাসিনা সরকারের অধীনে রাজনৈতিক বিরোধী কর্মী এবং সমালোচকদের সহিংসভাবে দমন করা হয়। আইনের ইচ্ছামতো বদল করে সমাজকর্মী, সাংবাদিক এবং শিল্পীদের আটকে এবং জেলে পুরা হয়। বাংলাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বাহানা করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে ব্যবহার করে শতাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে হাজারো মানুষকে। রাজপথে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুলিশি হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে।

যারা অনলাইনে সরকার, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর স্বজনদের যারা সমালোচনা করে তাদের আটক করতেই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বানানো হয়েছে। ২০১৮ সালের আগস্টে ফেসবুকে এবং আল-জাজিরায় মানবাধিকার লংঘন নিয়ে কথা বলার অপরাধে সাংবাদিক এবং সমাজকর্মী শহীদুল আলমকে ১০৭ দিন জেলে থাকতে হয়েছে।

সবচাইতে অন্যায় আচরণের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে বিএনপি এবং তার নেতাকর্মীদের। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবদনের প্রেক্ষিতে দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর থেকে দ্বিগুণ করে সেটা ১০ বছর বানানো হয়েছে। গত বছরের শুরু দিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়। এটাকে ২০১৮ সালের নির্বাচন থেকে খালেদা জিয়াকে বঞ্চিত করার কৌশল বলেছেন সমালোচকরা। আর শেষমেষ সে বুদ্ধিই কাজে লাগানো হলো।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেছেন, “২০১৮ সালের বাংলাদেশ নির্বাচনে যেটা খোলাখুলিভাবে দৃশ্যমান হলো তা হলো সরকার শক্ত হাতের ভয় দেখিয়ে তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করছে।”

“সরকারের উচিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মুক্ত মতপ্রকাশ, আইনের স্বাধীনতা এবং গতিশীল সুশীল সমাজকে স্বীকৃতি দেয়া।”

হাসিনার সমর্থকরা তার নেতৃত্বকে বৈধতা দিতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বুলি কপচায়।

হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসনে অস্থিরতা ক্রমশ বড়ছে। আর সেটা এখনকার জন্য যেমন, তেমনি দীর্ঘ মেয়াদের জন্যও একটা ঝুঁকি। তার সরকার যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলছে সেটা একটা ঝুঁকি হিসেবে থেকেই যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা যখন রাজপথে নেমে আসে তখন থ্রিজি এবং ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় সরকার।

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায় বাংলাদেশের অংশীদার যারা রয়েছে তাদের উচিত সরকারের এসব নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলা।

শেখ হাসিনা ধারাবাহিকভাবে কঠোর হস্তে নির্যাতন করে তার সমালোচকদের মুখ বন্ধ রাখতে চাইছে। এতোকিছু করেও তিনি জাতিসংঘ থেকে “চ্যাম্পিয়নস অফ দ্যা আর্থ” পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন। পরিবেশ নিয়ে সংবিধান ধারা সংশোধন করার কারণে জাতিসংঘ যখন তাকে স্পষ্টত পুরস্কৃত করছে ঠিক সেই সময়টাতেই গণতন্ত্র সুরক্ষার প্রতি তার যে অবজ্ঞা সে বিষয়টি কিন্তু দৃষ্টিসীমার বাইরে ফসকে যাচ্ছে।

যখন মিয়ানমার, থাইল্যান্ড এবং হংকংয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা নিয়ে কথা হয় তখন কিন্তু বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অবনতির বিষয়টি নিয়ে কথা হয়না। ভালো পরিবেশে রাজনীতি থেকে মানুষ কী প্রত্যাশা করতে পারে -এরশাদের মৃত্যু সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।

উৎসঃ justnewsbd

আরও পড়ুনঃ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যু : নতুন হিসাব কষছে বিএনপি


জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যাওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে নতুন হিসাব-নিকাশ কষছে বিএনপি। গ্রেফতারের ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও আইনি প্রক্রিয়ায়ই নেত্রীর মুক্তি হতে পারে, এমন আশা এত দিন দলের অভ্যন্তরে কিছুটা হলেও ছিল। কিন্তু সর্বশেষ এই রায়ের পর সেই ভরসা বলতে গেলে পুরোটাই উবে গেছে। কর্মীদের মধ্যে এখন আরো বেশি ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নীতি নির্ধারণীয় পর্যায়ে থাকা সিনিয়র নেতারাও রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণের ক্ষেত্রে চাপে পড়ে গেছেন। তারাও বেগম জিয়ার মুক্তি ইস্যু নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। গতকাল রাতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন নেতারা। সেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও স্কাইপিতে যুক্ত ছিলেন।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর বিএনপিতে তিন ধরনের মত ছিল। এক. কারাগারে পাঠানো হলে মাসখানেকের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসবেন খালেদা জিয়া। দুই. বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে ছেড়ে দেয়ার জন্য নয়। এবং তিন. আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি সম্ভব নয়, রাজপথেই এর ফায়সালা হতে হবে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিন আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যাওয়ার পর এই তিন ধরনের মতো একমতে রূপ নিয়েছে বলে গতকাল সিনিয়র এক নেতা জানিয়েছেন। ওই নেতার মতে, ‘রাজপথ ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনার আর কোনো পথ খোলা নেই।’

বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, আদালতের সর্বশেষ এই অবস্থানের পর রাজনৈতিক দূরত্ব আরো তীব্র হলো। বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের কট্টর অবস্থানের প্রকাশ ঘটল। সরকারের প্রধানের ইচ্ছা ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, সেটিও স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যেটুকু অবশিষ্ট ছিল তাও শেষ হয়ে যাওয়ার পথ ধরেছে।

৭৫ বছর বয়স্ক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্বাস্থ্যের অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়ার জিবে আলসার হয়েছে। এক সাপ্তাহে তার চার কেজি ওজন কমেছে। উনি শুঁকিয়ে গেছেন। কিছুই খেতে পারছেন না। হুইল চেয়ার ছাড়া মুভ করতে পারছেন না। বিছানা থেকে একা নিজে উঠতে পারেন না। হুইল চেয়ারে বসিয়ে তাকে টয়লেটে, ওয়াসরুমে বা খাবার টেবিলে নিতে হয়। এভাবে বেগম জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মির্জা ফখরুল।

আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি অসম্ভব মনে করে, অসুস্থতা বিবেচনায় এনে প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হবে কি না তা নিয়ে নতুন করে আবারো বিএনপির ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। মাস চার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে এই আলোচনা বেশ চাউর হয়েছিল। বিএনপির নেতারা তখন বলেছেন, বেগম জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেতে চান না। বিএনপির সিনিয়র একা নেতা বলেছেন, দল, পরিবার ও সর্বোপরি বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টি। বিএনপির মধ্য সারির নেতাদের একটি অংশ অবশ্য শুরু থেকেই যেকোনো প্রক্রিয়ায়ই হোক বেগম জিয়াকে কারমুক্ত দেখতে চান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা মনে করছেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন হাইকোর্টে সরাসরি খারিজ হয়ে যাওয়ায় তার মুক্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে তারা বলেছেন, এখন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালাস চেয়ে যে আপিল আবেদন শুনানির অপেক্ষায় আছে, সেই আবেদনটি হাইকোর্টের অন্য কোনো বেঞ্চে উপস্থাপন করে জামিন আবেদন করা যেতে পারে। আর দ্বিতীয় প্রক্রিয়া হলো হাইকোর্টের জামিন আবেদন খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়া। তারা বলেছেন, যেহেতু খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবীকে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না, সেহেতু এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবীরা সম্মিলিতভাবে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় এখন আপিল বিভাগে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। এ কারণে সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হবে না। সাত বছরের সাজায় তার জামিন নামঞ্জুর করা অত্যন্ত দুঃখজনক।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী ও বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে যে শর্তগুলো আদালত বিবেচনা করেন, তার প্রত্যেকটাই শর্তই বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। যেমন স্বল্প সাজা, শারীরিকভাবে অসুস্থ, বয়স বিবেচনা ও তার সামাজিক অবস্থান। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার হকদার ছিলেন। তার পরেও তাকে জামিন না দিয়ে উনাকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা অবিচারেরই নামান্তর।

এ মামলায় জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কি হতে পারে? এ প্রশ্নের জবাবে কায়সার কামাল বলেন, যেহেতু বেগম খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবীকে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে দেয়া হচ্ছে না, সেহেতু সিনিয়র আইনজীবীরা আলোচনায় বসে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন। সেই সাথে আমরা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করে তার পরামর্শ নেয়ার চেষ্টা করব।

উৎসঃ নয়া দিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‘সাঈদী হুজুর মুক্তি পাবেন এবং আবার ময়দানে নাহমাদুহু বলে ওয়াজ শুরু করবেন।’


‘সাঈদী হুজুর মুক্তি পাবেন এবং আবার ওয়াজের ময়দানে গিয়ে নাহমাদুহু বলে তার ওয়াজ শুরু করবেন।’ গোলাম মাওলা রনিকে এক আওয়ামীলীগ সমর্থক সাঈদী বক্তের ফোনকল।

আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমানে বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি। তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে তিনি পটুয়াখালীর স্থানীয় এক বন্ধুর ছেলের উদ্ধৃতি দিয়ে আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। নিচে পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলঃ

“আজকের এই পবিত্র দিনে একটি পবিত্র স্থানে বসে আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে এই মাত্র আমি যা শুনলাম তাতে আমার অন্তর শীতল হয়ে গেলো ! বর্তমানে জীবিত আছেন এমন চারটি প্রজন্মের মধ্যে সবচেয়ে ছোট প্রজন্মের মন মস্তিষ্কে জনাব সাঈদী কিভাবে ঢুকে পড়েছেন তার বাস্তব প্রমান পাওয়ার পর মনে হলো – জনাব সাঈদী হয়তো এই যুগের মুজাদ্দেদ এবং জমিনে জান্নাতি মানুষের জীবন্ত প্রতিরূপ !

উপরোক্ত বিষয়টি খুলে বলার পূর্বে প্রতি শুক্রবারে আমার জীবন যাত্রা নিয়ে কিছু বলে নেই ! দিনটিতে আমি রোজা রাখি এবং সাড়ে এগারোটার মধ্যে মসজিদে চলে আসি ! সারাদিন এই পবিত্র গৃহে থাকি এবং মাগরিব অথবা এশা পড়ে বাসায় যাই ! এই আট-নয় ঘন্টা সময়ে আমি সাধারণত কোনো ফোন রিসিভ করিনা ! কিন্তু আজ একটা ফোন কেন জানি রিসিভ করলাম !

ফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটি ইতস্তত কণ্ঠ জানতে চাইলেন আমি গোলাম মাওলা রনি কিনা ? তার পর ফোনকর্তা তার নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে জানালেন যে, তিনি নবম শ্রেণীতে পড়েন ! তার বাবার নাম কাম্বার এবং ফুফার নাম নুরুল হুদা যিনি বর্তমানের সিইসি !

কাম্বার আমার বহু পুরোনো বন্ধু ! কিন্তু গত কুড়ি বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই ! কাম্বারদের পুরো পরিবার কট্টর আওয়ামীলীগ এবং তারা বেশ ধনী এবং অভিজাত ! কাম্বারের ছেলে জানালেন যে, তিনি ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্র এবং আওয়ামীলীগ করেন ! নিয়মিত নামাজ পড়েন – কোরান তেলাওয়াত করেন এবং ইসলামের নিয়ম কানুন কঠোর ভাবে অনুসরণ করেন!

ভিডিওঃ ‘আল্লামা সাঈদী সম্পর্কে গোলাম মাওলা রনির চমৎকার মূল্যায়নের সেই ভিডিও! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আমার বন্ধু পুত্র আমাকে জানালেন যে , জনাব দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজ শুনেই তিনি ধর্ম কর্মে একনিষ্ঠ হয়েছেন ! সম্প্রতি সাঈদী সাহেব কে নিয়ে আমার দেয়া একটি বক্তব্য তিনি ইউ টিউবে দেখার পর কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য আমাকে ফোন করেছেন !

আল্লাহর দ্বীনের অনুরক্ত সম্মানিত কিশোরটি ফোনে আমার সঙ্গে কথা শেষ করার পূর্বে কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন যে , তিনি বিশ্বাস করেন – সাঈদী হুজুর মুক্তি পাবেন এবং আবার ওয়াজের ময়দানে গিয়ে নাহমাদুহু বলে তার ওয়াজ শুরু করবেন !

ছেলেটির কথা শুনে আমি কিছুক্ষন বাকরুদ্ধ হয়ে রইলাম ! তারপর এই স্টেটাস লিখতে শুরু করলাম ! আল্লাহর দরবারে বন্ধু পুত্রের জন্য দোআ চাই এবং তার মনের আকুতিটি যেন কবুল হয় সেই জন্যও দোআ করছি ! আমিন !”

উৎসঃ সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ ‌জেল থেকে আল্লামা সাঈদীঃ ’আমি আবার ফিরে আসবো কোরআনের ময়দানে। ইনশাআল্লাহ’

কারাবন্দি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাথে তার ৩য় পুত্র মাসুদ সাঈদী (ফাইল ছবি)

মাসুদ সাঈদী

“আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী হাফিজাহুল্লাহর (আমার হৃদয়ে সঞ্চিত সবটুকুন ভালবাসা যার পবিত্র দু’পায়ে নিবেদিত) সাথে দেখা করতে আজ আমরা তার পরিবারের সদস্যরা কাশিমপুর কারাগারে গিয়েছিলাম।

সাক্ষাতে জন্য আবেদন করার পর কারা কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩ ঘন্টা গেটের বাইরে বসিয়ে রেখেছিল আমাদের। আজ বৃষ্টিও হয়েছে বেশ কিছুটা সময়। বৃষ্টির মধ্যেই বসে থাকতে হয়েছে আমাদের। সকালে নাস্তা করে বেরিয়েছিলাম, এর মাঝে আর কিছুই খাওয়া হয়নি। এমনিতে আমি ডায়াবেটিসের রুগী। বেশী সময় না খেয়ে থাকলে শরীর কেঁপে ওঠে, দূর্বল লাগে। আমাদের সাথে ঘরের বাচ্চারাও থাকে, বসে থাকতে থাকতে তারাও এক সময় ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে, ছটফট করতে থাকে। এভাবে প্রায় প্রতি সাক্ষাতে আমাদেরকে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট দিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ যে কি তৃপ্তি পান তা আমার মতো অযোগ্য এক ব্যক্তির মাথায় আজো ঢুকলো না। এমন আচরণ করাটা কি ‘উপরের নির্দেশ’ নাকি তাদের চাকুরী বাঁচানো (!) না চাকুরীতে প্রমোশনের কোন ফর্মুলা (?) তা আমার জানা নেই।

অবশেষে দেখা করার ডাক এলো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আব্বার মায়াবী চেহারাখানি দেখে মূহুর্তেই সব কষ্ট ভুলে গেলাম। দেখা করতে ঢুকেই আরেক পেরেশানীতে পরলাম। খালি হাতের ঘড়ি দেখছি। এই বুঝি কেউ একজন এসে বলবে, ‘স্যার উঠুন, আপনাদের সাক্ষাতের সময় শেষ।’ মাথার ভেতর খালি ঘুরপাক খাচ্ছে ‘৩০ মিনিট’, ‘৩০ মিনিট।’ আমাদের সাক্ষাতের সময় যে মাত্র ৩০ মিনিট !!

পরিবারের সবার সাথে আব্বা হাসি মুখে কথা বলছিলেন। আর আমি আব্বার মুখের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম, এমন একজন মানুষকে কেমন করে ‘ওরা’ গত ৯টি বছর ধরে আটকে রেখেছে!! আহারে! এই মানুষটি যদি বাইরে থাকতেন, তাহলে তার তাফসীর শুনে গত ৯ বছরে অন্তত: ৯জন মানুষতো ইসলাম গ্রহন করতো, অন্তত: ৯জন মানুষতো নামাজী হতো, অন্তত: ৯জন মানুষতো সুদ ঘুষ ছেড়ে দিতো, অন্তত: ৯জন মানুষতো জেনা ব্যভিচার ছেড়ে দিতো, অন্তত: ৯জন মানুষতো কোরআন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের কর্মী হতো !! হায় আফসোস!

তবে আলহামদুলিল্লাহ, ৯ বছর ধরে আটকে রেখে শত মানসিক যন্ত্রনা দিয়েও আমার বাবা আল্লামা সাঈদীর মানসিক দৃঢ়তায় এক চুল পরিমানও চিড় ধরাতে পারেনি ‘ওরা।’ তিনি যেন ধৈর্যের এক পিরামিড। শত কষ্টের মাঝেও তিনি কোরআনের ময়দানে ফেরার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন।

আজো কথা প্রসংগে আবারো দৃঢ়কন্ঠে আব্বা ঘোষনা করলেন, ’আমি আবার ফিরে আসবো কোরআনের ময়দানে ইনশাআল্লাহ, কোটি জনতাকে আবার শোনাবো কোরআনের শাশ্বত বাণী, ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশেই একদিন উড়বে ইসলামের পতাকা।’

দৃপ্ত কন্ঠে আব্বার কথাগুলো শুনে আমরা চোখের পানি ফেলেছি। আর চোখের পানি দিয়ে দাড়ি ভিজিয়ে বলেছি, ‘ওগো আরশের মালিক, ওগো আহকামুল হাকিমীন! তুমি কাশিমপুর কারাগারের ছোট্ট এই রুমে বসা তোমার গোলামদের আহাজারি কবুল করো। আমাদের চোখের পানি কবুল করো। আমরা মজলুম, আমাদের হাতগুলোকে তুমি খালি হাতে ফিরিয়ে দিওনা।’

চোখের পানি শুকাতে না শুকাতে উঠে দাঁড়াতে হলো। একজন কারারক্ষী এসে জানালেন সাক্ষাতের সময় শেষ। সাক্ষাতের এই ‘৩০ মিনিট’ কি আরেকটু দীর্ঘ হতে পারতো না !! ঘড়ির কাটাটা কি আরেকটু ধীরে ঘুরতে পারতো না !!

আব্বার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এলাম চোখ মুছতে মুছতেই, কিন্তু হৃদয়টা ভরে আছে নিদারুন এক প্রশান্তিতে। ঐ মায়াবী চেহারাটা দেখেছি যে! ঐ পবিত্র হাতে চুমু খেয়েছি যে!”

গ্রেফতারের কয়েক বছর আগে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর সাথে তার ৩য় পুত্র মাসুদ সাঈদী (ফাইল ছবি)

Masood Sayedee – মাসুদ সাঈদী

পুনশ্চ ::

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে আপনাদের ভালবাসার ’সাঈদী’ আপনাদের দোয়ায় ভালো আছেন।

দেশ বিদেশের যারা আব্বার কাছে সালাম জানিয়েছিলেন আপনাদের সকলের সালাম আমি তার কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আব্বাও আপনাদের সকলকে সালাম জানিয়েছেন। আপনাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাঁকে সুস্থ রাখেন, ভাল রাখেন। তাকে হেফাজতে রাখেন। তার নেক হায়াত দারাজ করেন। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ওয়াল জালাল তাকে যেন আবারো কোরআনের ময়দানে ফিরিয়ে দেন।

উৎসঃ আল্লামা সাঈদীর ৩য় পুত্র মাসুদ সাঈদীর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে

আরও পড়ুনঃ আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাংলাদেশের জমি চায় ভারত


ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা বিমানবন্দরকে (বর্তমান মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর) সম্প্রসারণ করতে চায় ভারত। এজন্য জমির প্রয়োজন হওয়ায় বাংলাদেশের কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি চেয়ে প্রস্তাব করেছে দেশটি। তবে, ভারত কী পরিমান জমি চেয়েছে তা প্রকাশ করেননি কোনো কর্মকর্তা।

ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এ বিষয়ে নিউএজকে বলেছেন, সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিনি আরো বলেন, ভারতকে ইতোমধ্যে ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেয়া হয়েছে। গত এক বছর ধরে বেশ কয়েকটি সভায় নতুন করে এই প্রস্তাব দিয়ে আসছে দেশটি।

ভারত কী পরিমাণ জমি চেয়েছে তা প্রকাশ করেননি কোনো কর্মকর্তা। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগরতলা বিমানবন্দর এবং এর রানওয়ে আখাউড়ার চানপুরে সীমান্তের এক কিলোমিটারেরও কম দূরে অবস্থিত।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কলকাতা ও গুয়াহাটি থেকে বিমান উড্ডয়নের পর আগরতলা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে।

২০১৮ সালের জুলাই মাসে ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী) বাংলাদেশ সফরকালে প্রথম এ প্রস্তাব দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরার আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ ভারতের সাথে কীভাবে তার জমি ভাগ করে নিতে পারে তা পরীক্ষা করার জন্য গতবছরের অক্টোবর মাসে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দা সংস্থার সাথে একটি বৈঠক করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, ‘বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর আমরা তাদেরকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলেছিলাম। ২০১৮ সালের অক্টোবরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা ভারতের সাথে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদি বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন।’

একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিমানবন্দর কীভাবে পরিচালিত হবে, সীমান্তবর্তী জমি ইজারা দেওয়া হবে কিনা এবং সরকার ভারতের সাথে জমিটি ভাগ করে নিতে চাইলে প্রক্রিয়া কী হতে পারে তাও আমরা আলোচনা করেছি।’ সভায় অংশ নেওয়া অন্য একজন কর্মকর্তা একটি মানচিত্র এনে দেখিয়েছেন যে, যদি আগরতলা বিমানবন্দরটি বাড়ানো হয়, তাহলে ভারত বাংলাদেশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে লাইট স্থাপন করবে এবং বিমানবন্দর সুরক্ষার জন্য এলাকাটি ঘিরে নেবে।

পররাষ্ট্রসচিব শহিদুল হক বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় বিষয়টির সাথে সম্পর্কিত। মন্ত্রণালয়গুলো বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করছে।’

তবে, তিনি বলেন, ২০১৮ সালের অক্টোবরের ওই সভায় যারা অংশ নিয়েছিলেন তারা ভারতীয় প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। তারা প্রত্যেকেই মনে করেন, আমাদের জমির অংশ সেখানে যথাযথভাবে সংযুক্ত হবে। তিনি আরো বলেন, ওই বৈঠকে তিনি জেনেভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছিলেন। যেটি আংশিকভাবে সুইজারল্যান্ডে এবং আংশিকভাবে ফ্রান্সে পড়েছে। ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত জেনেভা বিমানবন্দরটি যখন এর উত্তর সীমান্তে চলে তখন এর অবস্থান থাকে সুইস ভূখণ্ডে। তবে, সুইজারল্যান্ড এবং ফ্রান্স উভয় স্থান থেকে সেখানে অধিগমন করা যায়।

বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য ভারতকে ভূমি দেয়া হলে তা জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে বলতে পারবেন। আমি এটিকে দূরদর্শী দৃষ্টিকোণে ব্যবসা এবং গতিশীলতার দিক থেকে দেখেছি। তিনি যুক্তি দেন যে, বিভিন্ন দেশে আন্তঃসীমান্ত বিমানবন্দর রয়েছে। অনেক দেশ একই বিমানবন্দর ব্যবহার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার সীমান্ত পরিচালনা, অভিবাসন ব্যবস্থা বা মুদ্রানীতিতে একরকম নয়।’ তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরটি দুটি দেশ যৌথভাবে পরিচালনা করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এটি যদি যৌথ উদ্যোগ হয়, তবে আমরা বিবেচনা করতে পারি। অন্যথায়, এটি যৌক্তিক নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছিলেন, ‘আমরা কাউকে এভাবে জমি দেই না। আর, এবিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

সাবেক বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এই প্রস্তাবে অবাক হয়েছেন। কীভাবে অন্য একটি দেশের বিমানবন্দর আমার দেশে সম্প্রসারণ করা যায় এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সরকার কঠোর প্রতিরোধের মুখোমুখি হবে।’ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বিমানবিষয়ক পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনায় এই প্রস্তাব যৌক্তিক নয় বলে জানান রাশেদ খান মেনন।

২০১৯ সালের শেষে এবং ২০২০ সালের শুরুতে গুয়াহাটি এবং ইম্ফলের পরে আগরতলা বিমানবন্দরটি ভারতের উত্তর-পূর্বের তৃতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে উঠবে, গত ২৪ জুন এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস।

ত্রিপুরার তৎকালীন পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী প্রানজিৎ সিংহ রায়কে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আগরতলা বিমানবন্দরকে ২০২০ সালের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এজন্য ৪৩৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রকল্পের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে টার্মিনাল ভবন, রানওয়ে এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে ৭২ একর জমি সরবরাহ করেছে সরকার।

তৎকালীন পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী প্রাণজিৎ রায় সংবাদ মাধ্যমগুলোকে বলেছিলেন, বিমানবন্দরটির সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে আগরতলা থেকে বিমানযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বাংলাদেশের অন্যান্য শহরগুলোতে যাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ১৯৪২ সালে ত্রিপুরার তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুর বিমানবন্দরটি নির্মাণ করেছিলেন।

উৎসঃ বাংলা ডেস্ক

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশের পরই সব দুধ খাটি!


সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এখানে যে সব কিছুই সম্ভব সেটা আবারও প্রমাণ করলেন সরকারের অনুগত বিচারপতিরা। দেশে উৎপাদিত পাস্তুরিত দুধ নিয়ে বেশ কয়েক মাস ধরেই সমস্যা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক পরীক্ষা করে প্রমাণ করেছেন এসব দুধে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক মাত্রায় ভারী ধাতু, সালফা ড্রাগ ও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব আছে। তার এই পরীক্ষাকে যাছাই করার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছিলেন আদালত। তারা যাছাই করে দুধে এসব ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে। আদালতে তারা গত সোমবার এনিয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

এরপর আদালত ১৪টি কোম্পানিকে দুধ উৎপাদন করতে নিষেধ করেছেন। এছাড়া উৎপাদিত দুধ বিক্রি বন্ধ করতেও আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার পরই তেলেবেগুনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন শেখ হাসিনা। লন্ডনে বসে তিনি বললেন-কোথা থেকে এক প্রফেসর এসে এসব পরীক্ষা করেছে? ফারুক আহমেদের এই পরীক্ষার সঙ্গে দুধ আমাদানী কারকদের কারসাজি আছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করলেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার শেখ হাসিনার ক্ষোভ প্রকাশ করার পরই বুধবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) পুষ্টি ইউনিটের করা পরীক্ষার বরাত দিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বললেন-এসব পাস্তুরিত ও অপাস্তুরিত তরল দুধ খেলে কোনো ক্ষতি নেই। সম্প্রতি দুধের মধ্যে ভারী ক্ষতিকর ধাতুর অস্তিত্বের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সত্য নয়। তাই তরল দুধ খাওয়া নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের এই রিপোর্ট হাইকোর্ট বিবেচনায় নেবেন বলেও তিনি তখন আশা প্রকাশ করেন।

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের আশা প্রকাশের এক ঘণ্টা পরই চেম্বার আদালত আদেশ দিলেন যে, ১৪টি কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর কিছু নেই। এই দুধ উৎপাদন ও বিক্রি চলবে।

আদালতের এই আদেশের পর মানুষ বিস্ময় প্রকাশ করছেন। আগের দিন যেখানে হাইকোর্ট বলেছে দুধে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে। এই দুধ উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। সেখানে একদিন পরই এসব দুধ কি করে খাটি হয়ে গেল?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার ক্ষোভকে প্রশমন করতেই চেম্বার আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। চেম্বার বিচারপতিরা দুধ কোনো পরীক্ষা করেননি। শুধু সরকারকে খুশী রাখতেই তারা এই আদেশ দিয়েছেন। পদ ধরে রাখার জন্য এই মুহূর্তে জাতির বৃহত্তর স্বার্থের চেয়ে সরকারের স্বার্থ রক্ষা করাই এখন তাদের মূল কাজ। সেটাই তারা করেছেন।

উৎসঃ অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here