অবরুদ্ধ খালেদা জিয়াকে যেভাবে নিরাপত্তা দিয়েছিল জামায়াত!

0
296

শিরোনামটা দেখে আপনার কাছে নিশ্চয় অদ্ভুত মনে হচ্ছে। আর বিষয়টি অদ্ভুত মনে হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, খালেদা জিয়া এদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সবচেয়ে বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। শেখ হাসিনা প্রতিদিন তাকে দুর্নীতিবাজ, অশিক্ষিত ও খুনি বলে গালি দিলেও আসলে খালেদা জিয়াই এদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সরকারের বাইরে থেকেও তিনি যথেষ্ট নিরাপত্তা পেয়েছেন। পুলিশ ছাড়াও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছে। এছাড়া দলীয় লোকজনতো আছেনই। এরমধ্যে আবার জামায়াতকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা দিতে হবে কেন? আর খালেদা জিয়াও জামায়াতের নিরাপত্তা নেবে কেন? এমন প্রশ্ন সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।

বিষয়টা একটু খোলাসা করলেই সব প্রশ্নের জবাব পাঠকরা পেয়ে যাবেন। খালেদা জিয়ার একটা বিশেষ ক্রাইসিস মুহূর্তে পর্দার আড়াল থেকে নিরাপত্তার দিকটাসহ সার্বিক খোঁজ খবর রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। সময়টা ছিল ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা ৩ মাস অবরোধের সময়। ওই সময় খালেদা জিয়া তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় টানা অবরোধের ঘোষণা দেয়ার পর ওই দিন প্রেসক্লাবে ঢুকে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরের দিন আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক নেতারা তাকে প্রেসক্লাব ছাড়তে বাধ্য করেন। প্রেসক্লাবের গেট থেকে মির্জা ফখরুলকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর ক্রমান্বয়ে বিএনপির আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতাকে আটক করে পুলিশ। আর বাকীরা চলে যায় আত্মগোপনে। তবে, খালেদা জিয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে অবরোধ সফল করতে মাঠে নেমে আসে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আর মাঠে নামার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। তারা শুধু খালেদা জিয়ার ঘোষণার অপেক্ষা করছিল।

সরকারবিরোধী আন্দোলনে যখন সারাদেশ উত্তাল, তখন গুলশানের কার্যালয়ে আটকা পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন গুলশানের কার্যালয়ে প্রবেশ করাতো দূরের কথা গুলশানের কোনো রাস্তায় তারা নামতে পারেনি। তখন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কেউ গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি।

ওই সময় দেখা গেছে, অবরোধের তৃতীয় দিন সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের উত্তর পাশের সড়কের পূর্ব মাথায় স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের সঙ্গে অন্য আরেকটি গ্রুপের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ওই গ্রপটির পরিচয় জানা না গেলেও পরে জানা গেছে তারা জামায়াত-শিবিরের লোক ছিল।

যেভাবে নিরাপত্তায় ছিল জামায়াত

টানা অবরোধের সময় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের চেষ্টা করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার অফিসে কয়েক দফা হামলাও চালানো হয়েছে। এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা অস্ত্র হাতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের গেটের সামনে গিয়ে খালেদা জিয়াকে গালাগালি করেছেন। র‌্যাব-পুলিশসহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। এমন আরও বহু ঘটনা তখন ঘটেছে।

তবে, প্রতিদিন কারা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে যেতো, সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়ে কখন কোন সড়কের কোথায় অবস্থান নিতো সব খবরই রাখতেন জামায়াতের শীর্ষনেতারা। গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন লোক পালা বদল করে সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে সামনে অবস্থান করতেন। জামায়াতের একটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক ওই এলাকায় অবস্থান করতো।

বিষয়টিকে সরাসরি তদারকি করতেন তৎকালীন ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। আর স্থানীয়ভাবে সমন্বয় করতেন বাড্ডা, গুলশান ও বনানী এলাকার জামায়াতের ৬ জন দায়িত্বশীল। বিশেষ কারণে- এখানে ওই ছয়জনের নাম উল্লেখ করা গেল না।

দেখা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান যেদিন দল বল নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য গিয়েছিলেন সেদিন গুলশানের বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মীকে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। কথা বললে একজন জানিয়েছিলেন, তারা উপরের নির্দেশে এসেছেন। কেউ যদি খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে আক্রমণ করার চেষ্টা করে তাহলে তারাও প্রতিরোধ করবেন। এভাবে তারা পুরো তিন মাস নিজেদের লোক দিয়ে গুলশান এলাকার সব খবর নিতেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যও প্রস্তুত থাকতেন।

পরবর্তীতে স্থানীয় একজন সমন্বয়কের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান- খালেদা জিয়া তাদের জোটের শীর্ষনেতা। তিনি শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার আদায়ের জন্যই আজ সরকারের রোষানলের শিকার। জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে তার বিষয়টি দেখাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তার প্রতি ভালবাসা, বিশ্বাস এবং আস্থা থেকেই আমরা এ ব্যবস্থা নিয়েছিলাম।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার পাবনায় পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যার অভিযোগ


রসিকতার ছলে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দুলাল হোসেন নামে এক সহকর্মীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বরাত হোসেন নামে এক শ্রমিকের বিরুদ্ধে।

শনিবার দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দুলাল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা বিসিক শিল্প নগরীতে দুলালের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দেয় সহকর্মী বরাত হোসেন।

নিহত দুলাল পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের পূর্বটিয়ারতলা গ্রামের আবু বক্কারের ছেলে। অভিযুক্ত বরাত হোসেন একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে।

নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে মূলগ্রাম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আরজান আলী যুগান্তরকে জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে অন্যান্য দিনের মতো দুলাল পাবনা বিসিক শিল্প নগরীতে শ্রমিকের কাজ করতে যায়। অতিরিক্ত গরমের কারণে দুলাল তার সহকর্মী বরাতকে ধুলা পরিষ্কার করার মেশিন দিয়ে শরীরে বাতাস দিতে বলে।

এ সময় রসিকতার ছলে বরাত হোসেন পাইপ দিয়ে দুলালের পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে দিলে সে (দুলাল) অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাকে পাবনা মেডিকেলে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে দুলালের মৃত্যু হয়।

এদিকে শনিবার বিকালে দুলালের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশ দুলালের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা নিয়ে যান। এই ঘটনার পর পালিয়ে যায় অভিযুক্ত বরাত হোসেন।

এ ব্যাপারে চাটমোহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পাবনা সদর থানা পুলিশের মাধ্যমে আমরা খবর পেয়ে অভিযুক্ত বরাত আলীকে ধরতে অভিযান শুরু করেছি। তবে ঘটনাটি যেহেতু সদর থানায় ঘটেছে এ ব্যাপারে তারাই ব্যবস্থা নেবে।

পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক বলেন, পুলিশকে না জানিয়ে দুলাল নামের ওই শ্রমিকের লাশ বাড়িতে নিয়ে যান স্বজনরা। যেহেতু সদর থানা এলাকায় ঘটনা সেহেতু লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। তবে পায়ুপথে বাতাস ঢোকানোর কারণে তার (দুলাল) মৃত্যু হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সত্যভান্দি এলাকায় মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে কারখানার শ্রমিক সুমনের (২৮) পায়ু পথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সত্যভান্দির নয়াপাড়ার উদয়ন ববিন মিলের শ্রমিক সুমনকে কে বা কারা পায়ু পথে বাতাস ঢুকিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মিলের সামনে ফেলে রাখে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ভূলতা আল-রাফি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বগুড়ার কাহালুতে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে রাসেল মিয়া (১৯) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছিল। ওই দিন সকালে কাহালু উপজেলার বীরকেদার এলাকায় এবিসি টাইলস নামে একটি সিরামিক কারখানার শ্রমিক রুবেল হোসেন (২৪) তার সহকর্মী রাসেল মিয়ার পায়ুপথে জোরপূর্বক বাতাস ঢুকিয়ে দেয়। এতে রাসেল অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানার লোকজন তাকে শজিমেক হাসপাতালে নেয় এবং রুবেলকে আটক করে পুলিশে দেয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নারায়ণগঞ্জে ইয়াবাসহ দুদক কর্মকর্তা গ্রেফতার!


দূর্ণীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তাকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।

আটককৃত ওই ব্যক্তির নাম হাসিবুল হাসান সুমন (৩৫)। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সেগুনবাগিচা কার্যালয়ের ডাটা এন্ট্রি কর্মকর্তা অফিসার।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের আল্লামা ইকবাল রোড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তবে সুমনের পরিবারের দাবি, পুলিশ সোর্সের মাধ্যমে সুমনকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

আটক হাসিবুল হাসান সুমন স্থানীয় হাবিবুল্লাহর ছেলে। সুমন নিজেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সেগুনবাগিচা কার্যালয়ের ডাটা এন্ট্রি অফিসার হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার তারাবিহর নামাজের পর শহরের আল্লামা ইকবাল রোড এলাকায় টহল পুলিশের একটি দল সুমনের দেহ তল্লাশি করে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে।

তবে ফাঁসিয়ে দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ওসি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছেন- তিনি গত ৪ মাস ধরে ইয়াবায় আসক্ত। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে গ্রেফতারকৃত সুমনের স্বজনরা অভিযোগ করেন, রাতে পুলিশ আমাদেরকে জানায় সোর্সের মাধ্যমে ইয়াবা বেচাকেনার তথ্য পেয়ে পুলিশ সুমনকে আটকে তার দেহ তল্লাশি করে কিছু পায়নি। পরে কিছু দূরে সুমনের পরিচিত একজনকে তল্লাশি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে। কিন্তু সকালে পুলিশ রাতের বক্তব্য থেকে সরে এসে বলছে সুমনের দেহ তল্লাশি করে ইয়াবা পাওয়া গেছে।

স্বজনরা জানান, সুজনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি তারাবিহর নামাজের পর সে রাস্তায় বের হলে এক যুবক প্লাস্টিকের ছোট একটি পুঁটলা তার সামনে ফেলে রাখে। কিছু বুঝে উঠার আগেই পুলিশ সেখানে এসে সুমনকে আটক করে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হত্যা গুম খুনের রোল মডেল বাংলাদেশ: আ স ম রব


জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, সরকার সবকিছুতেই রোল মডেলের কথা বলতে বলতে বাংলাদেশ এখন হত্যা-গুম-খুন-ধর্ষণ ও ভোট ডাকাতির রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

নুসরাত, তানিয়াসহ সারাদেশে নারী-শিশু হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার জেএসডি আয়োজিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রব এসব কথা বলেন।

জেএসডি সহসভাপতি তানিয়া রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, মোশারফ হোসেন, আবদুর রাজ্জাক রাজা, অ্যাড. সৈয়দা ফাতেমা হেনা, এস এম সামসুল আলম নিক্সন, নুরুল আবছার, শফিকুল ইসলাম, তৌফিক উজ জামান পীরাচা প্রমুখ।

আ স ম রব বলেন, সরকার নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করতে গিয়ে শিক্ষক সমাজের নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে শিক্ষকদের কাছে আজ ছাত্রীরা নিরপদ নয়। নুসরাতকে শিক্ষক ও সহপাঠিরা মিলে আগুন দিয়ে হত্যা করেছে, তানিয়াকে ধর্ষণের পর নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন ২-৪ বছরের শিশু থেকে শুরু করে নার্স গৃহবধূ, ছাত্রী-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের নারী-শিশু ধর্ষিত, নির্যাতিত ও হত্যার শিকার হচ্ছে। ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি করে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদকে বিদায় করতে হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগ নেতার হাতে নারী চিকিৎসক লাঞ্ছিত, ইন্টার্নদের কর্মবিরতি


সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতার হাতে দায়িত্বরত নারী চিকিৎসক লাঞ্ছিত, হত্যা ও ধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে সিলেটের সব মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

এ ঘটনায় শনিবার লাঞ্ছিত নারী চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন সিলেট নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ, পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তাররা। এসব হাসপাতালে কর্মবিরতি চললেও জরুরি সেবা চালু আছে।

কর্মবিরতি চলাকালে উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তাররা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ডাক্তারদের জন্য নিরাপদ কর্মস্থল, ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আন্দোলনরত কয়েকজন ইর্ন্টান ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তারকে ধর্ষণ করার হুমকি ও অসদাচরণ করার প্রতিবাদে সকাল থেকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে কর্মবিরতি পালন করছেন সিলেটের সব মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তাররা।

প্রতিটি কলেজের কিছু ইন্টার্ন চিকিৎসক উইমেন্স মেডিকেল কলেজে এসে তাদের এই প্রতিবাদে সংহতি প্রকাশ করছেন। এছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ইর্ন্টান চিকিৎসকরা।

কর্মবিরতি চলাকালে সব মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা মিলে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠক শেষে পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নারী নির্যাতনকারীরা ক্ষমতাসীন দলের বলেই পার পেয়ে যাচ্ছে: রিজভী


বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সারা দেশে পাইকারি হারে নারী নির্যাতন চলছে। যারা এ কাজগুলো করছে, তারা অধিকাংশ ক্ষমতাসীন দলের লোক। আর ক্ষমতাসীন দলের লোক বলেই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, তারা (নির্যাতনকারীরা) সরকারের আনুকূল্য পাচ্ছে। আর আনুকূল্য পাচ্ছে বলেই এ সামাজিক অপরাধ সরকার ঠেকাতে পারছে না।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধনে এ অভিযোগ করেন রিজভী।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির এ নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকার নারী। অথচ কী দুর্ভাগ্যের বিষয়- পাইকারি হারে নারী নির্যাতন চলছে। যখন থেকে তারা ক্ষমতায় এসেছেন তখন থেকে তারা এটা করছে। আর নারী নির্যাতন নির্মূল করার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু নির্মূল করা তো দূরে থাক, আমরা অনেক সময় উসকানি দিতে দেখেছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ সালাউদ্দিন আহমেদের গুম দিবস। আজকে তিনি ভারতে কেন? কারণ তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পরে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন এবং কয়েকবার এমপিও ছিলেন।
‘কিন্তু এক অন্ধকারের মৃত্যুকূপের মধ্যে তাকে ফেলে রাখা হয়েছে। আজ সেখানে তিনি এক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এখন তার নামই হয়ে গেছে গুম সালাউদ্দিন।’

রিজভী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস জীবন দিয়েছিলেন। আর আড়াই হাজার বছর পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য কারাগারে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন পার করছেন। এরপরও তার মাথাকে নত করা যায়নি।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেত্রী জেবা খান, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ঠাকুরগাঁওয়ে শিশুর পেটে আরেক শিশু!


ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের বাবুল রায়ের ১২ বছরের মেয়ে বিথিকা রাণীর পেটে অস্ত্রোপচার করে চার কেজি ওজনের একটি টিউমার পাওয়া গেছে। আর এই টিউমারের মধ্যেই আরেক শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

বিথিকা রাণী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

তার বাবা জানান, গত দশদিন আগে হঠাৎ করেই বিথিকার শারীরিক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। তার পেট হঠাৎ করেই ফুলতে থাকে। এতে ঘাবড়ে যান তিনি। পরে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান বিথিকার পেটে বড় আকারের টিউমার রয়েছে। যা জরুরি ভিত্তিতে অপারেশন করা প্রয়োজন।

পেশায় দিনমজুর বাবুল রায় মেয়েকে নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের হাসান এক্স-রে ক্লিনিকে ভর্তি করে ডা. নুরজ্জামান জুয়েলের শরণাপন্ন হন। ডা. জুয়েল ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন হওয়ায় প্রথমে রাজি হননি। পরে বাবুলের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।

শুক্রবার বিকালে অপারেশন করে দেখা যায় শিশুটির পেটে প্রায় চার কেজি ওজনের টিউমার রয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে টিউমারটি কেটে তার চোখ ছানাবড়া। টিউমারের ভেতরে আরেক শিশুর বসবাস। সেখানে শরীরের হাত, কলিজাসহ নানা অংশ বিদ্যমান।

এ ব্যাপারে ডা. মো. নুরজ্জামান জুয়েল বলেন, মেডিকেল সাইন্সে এটাকে বলে বাচ্চার পেটের ভেতরে বাচ্চা। জন্মগতভাবে বিথিকা জমজ। কিন্তু কোনো কারণবশত আরেক শিশু পৃথিবীর মুখ দেখতে পায়নি। এটা বিথিকার জন্মের সময় থেকে তার পেটে থেকে যায়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো। আশা করা যায় আর কোনো ঝুঁকি নেই।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পায়ুপথে পেট্রোল ঢেলে বিএসএফ-এর নির্যাতন, বাংলাদেশি শ্রমিককে হত্যা


সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর নির্যাতনে কবির হোসেন (৩২) নামে এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত শ্রমিক সদর থানার কালিয়ানি ছয়ঘরিয়া গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। শুক্রবার রাতে ভারতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে নির্যাতন করে ফেলে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আজ ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা তার পায়ুপথে পেট্রোল ঢেলে নির্যাতন করেছে।

জানা যায়, নিহত শ্রমিক কবির হোসেন সীমান্তের ওপারে ভারতে শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজ শেষে শুক্রবার রাতে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বছিরহাট থানার ডুগলি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে।

তার ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালায়। পরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পুশখালী সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ফেলে যায়।

আজ ভোরে গ্রামবাসী তাকে পড়ে দেখে উদ্ধার করে জেলার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারে অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা কবিরের পায়ুপথে পেট্রোল ঢেলে নির্যাতন চালিয়েছে। সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তবে সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্ণেল খন্দকার মহিউদ্দিন বিএসএফ তাকে সরাসরি মেরেছে- এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কবির দেশের ভেতরেই কোন্দলে মারা গেছে। পরে সীমান্তে ফেলে গেছে।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌খেতে বসা শিশুকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ


মা খেতে দিয়ে পানি আনতে গিয়েছেন। ছয় বছরের শিশুটি বাড়ির সিঁড়িতে বসে খাচ্ছিল। সেখান থেকেই তাকে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে মুখ চেপে ধর্ষণ করেন শিশুটির মায়ের চাচাতো ভাই ও প্রতিবেশী মিল্টন ফকির (২২)। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের হিসাবে চলতি মাসের প্রথম আট দিনে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৪১টি শিশু। টুঙ্গিপাড়ায় আহত শিশুটিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুটির মা জানান, তাঁর স্বামী বিদেশে থাকেন। মেয়েকে নিয়ে টুঙ্গিপাড়া সদরে থাকেন তিনি। চলতি মাসে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যান। সেখানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেয়েকে খেতে দিয়ে পানি আনতে গিয়েছিলেন। একটু পরে এসে দেখেন মেয়ে নেই, খাবার পড়ে আছে। কিছুক্ষণ মেয়ের নাম ধরে ডাকাডাকি করেন মা। না পেয়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে দেখেন শিশুটি পাশের নির্মাণাধীন ভবন থেকে আসছে। কিন্তু সে হাঁটতে পারছে না, কাঁপছে। অবস্থা দেখে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে ওঠেন মা। ‘মা আমাকে মিল্টন মামা…’ এটুকু বলেই মায়ের কোলে অচেতন হয়ে পড়ে শিশুটি।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সানোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসার জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। মিল্টনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে এক তরুণীকে (১৯) ফাঁদে ফেলে দুদিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ জানায়, চার মাস আগে সালথা উপজেলার ওই তরুণীর সঙ্গে বোয়ালমারীর বনচাকী গ্রামের ইউসুফ শেখের (২০) সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর বিয়ে করার কথা বলে গত বুধবার মেয়েটিকে মনোদিয়া বাজারে ডেকে এনে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন ইউসুফ। পরের দিন বনচাকী গ্রামের আকমল বিশ্বাস (৩৫) ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেন। কৌশলে মেয়েটি থানায় জানালে পুলিশ গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। অভিযুক্ত ইউসুফ, আকমল ও যে বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল, তার মালিক মেহেদীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উৎসঃ ‌‌prothom Alo

আরও পড়ুনঃ ‌‘ বাংলাদেশে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীতে ছিল বলে জানা নেই’


বলা হচ্ছে দেশ উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু এই উন্নতির অন্তরালে মানুষ আর্তনাদ করছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো মানুষ নিরাপদে নেই। এমন অনিরাপদ অবস্থা আমরা ৭১ সালেই দেখেছিলাম। এর বড় উদাহরণ হচ্ছে ধর্ষণ। এসব অন্যায় রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির আয়োজনে ‘শ্রমিক আন্দোলনের একাল সেকাল’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দৃশ্যমান দুর্ভিক্ষ না থাকলেও দেশে নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে দাবি করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আজকে দেশে যে রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে, তার চেয়ে খারাপ অবস্থা অতীত ইতিহাসে ছিল কি না আমার জানা নেই। আমরা দুর্ভিক্ষ দেখেছি যে দুর্ভিক্ষে অনেক মানুষ মারা গেছে। কিন্তু আজকে বাংলাদেশে দৃশ্যমান কোনো দুর্ভিক্ষ না থাকলেও নীরব দুর্ভিক্ষ আছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই শিক্ষাবিদ। বলেন, ‘আমরা দেখেছি, নুসরাত জাহানের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা জড়িত ছিল এবং সবাই মিলে প্রমাণ করতে চাইল যে নুসরাত আত্মহত্যা করতে চেয়েছে। ইতিমধ্যে একজন নার্সকে বাসের মধ্যে ধর্ষণ করে হত্যা করা হলো।’

তিনি কথা বলেন দেশের আাইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতি নিয়েও। বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন মুক্তিযুদ্ধের ভুয়া সনদে পদোন্নতি নিতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। অথচ যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে তারাই যদি দুর্নীতি করে তাহলে রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার অবস্থা কী তা সহজে অনুধাবন করা যাচ্ছে। আমরা পুঁজিবাদের অধীনে দাস হয়ে রয়েছি। এ ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে রাষ্ট্রের মালিক শ্রেণির সঙ্গে শ্রমিক শ্রেণির যে শোষণের সম্পর্ক তা ভেঙে দিতে হবে। বিপ্লবের মাধ্যমে পুরনো রাষ্ট্রকে ভেঙে এমন রাষ্ট্র করতে হবে, যে রাষ্ট্র মানবিক হবে, যেখানে নারী ধর্ষিত হবে না, যেখানে মুক্তিযুদ্ধের নামে প্রতারণা করবে না কেউ।’

আলোচনা সভায় শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী এবং শাহ আতিউল ইসলামকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জুনায়েদ সাকি, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ঢাকাটাইমস

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়া ছাড়া পেলে জনস্রোতে ক্ষমতাসীনরা ভেসে যাবে: মির্জা ফখরুল


খালেদা জিয়া জেল থেকে ছাড়া পেলে যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে, তাতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভেসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার তিন যুগ পূর্তি উপলক্ষে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার এ প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

গভীর চক্রান্তের শিকার হয়ে খালেদা জিয়া আজ কারারুদ্ধ- এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি কেন কারারুদ্ধ আছেন? কারণ দেশনেত্রী হচ্ছেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি যদি আজ বেরিয়ে আসেন, তা হলে এরা (সরকার) নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। জনগণের যে স্রোত, যে উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি হবে, সেই তরঙ্গে তারা ভেসে যাবে। এ জন্য তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। কিন্তু তাকে আটক রাখা যাবে না। এ দেশের জনগণ তাকে মুক্ত করে আনবে।

খালেদা জিয়ার আশু মুক্তি কামনা করে তিনি বলেন, জনগণের যে আবেগ, সেটাকে কাজে লাগিয়ে অবশ্যই তাকে মুক্ত করে আনতে পারব বলে আমাদের বিশ্বাস।

নানাভাবে বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে অভিযোগ করে দলটির মহাসচিব বলেন, মিডিয়া প্রচারণা এবং অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জনগণ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আমাদের দলের মধ্যে বিভ্রাট সৃষ্টির কাজ শুরু হয়ে গেছে।

নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিভ্রান্ত হবেন না। মনে রাখবেন- আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি আমাদের অবশ্য পালনীয়।আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশ থেকে আমাদের পরিচালনা করছেন। আমরা সবাই তার নির্দেশে, তার কথায় একত্রিত হয়ে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক রাজনীতির দিকে এগিয়ে যাব— এটিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ একটি দলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটা দলের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এটি সহজ কাজ নয়, কঠিন কাজ।

স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে গেছে মন্তব্য করে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আজকে বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম থাকতে পারবে কী, পারবে না? বাংলাদেশ তার নিজস্ব মর্যাদায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে কী পারবে না? সেই প্রশ্ন ১৬ কোটি মানুষের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে তিন যুগ ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে খালেদা জিয়ার ভূমিকা নিয়ে ছবি শোভা পেয়েছে। ছবিগুলো তুলেছেন বাবুল তালুকদার।

ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট রক্ষায় কত জীবন ও রক্ত দিয়েছে জামায়াত?


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রক্ষার জন্যই ১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর গঠিত হয়েছিল বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট। এই জোট গঠনে মূলত মূল ভুমিকা পালন করেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে তখন গঠিত হয়েছিল ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলসহ আরও কয়েকটি সংগঠন নিয়ে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য।

চারদলীয় জোট আর সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের আন্দোলনের মুখে ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। তখন থেকেই মূলত আওয়ামী লীগ ও ভারত আস্তে আস্তে জামায়াতের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। ২০০১-৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে ব্যাপক অপপ্রচার চালায় আওয়ামী লীগ। এছাড়া, বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধার কারণে জামায়াতের ওপর একটা চরম প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে আওয়ামী লীগ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার কাজে হাত দেয় আওয়ামী লীগ। এজন্য প্রথমেই তারা ২০১০ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে জামায়াতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এদেশে সবার আগে মাঠে নামে জামায়াত। সেজন্য ভারতের পক্ষ থেকেও জামায়াতকে দুর্বল করতে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এদিকে, জামায়াত যখন বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে না আসার সিদ্ধান্তে অটল থাকে তখনই সরকার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের কথিত মামলায় জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে আটক করে।

ওই সময় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, কথিত মামলায় গ্রেফতারের পর সরকারের পক্ষ থেকে জামায়াত নেতাদেরকে বলা হয়েছে যে, বিএনপি থেকে আপনারা বেরিয়ে আসলে আপনাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে। অন্যথায় যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়ে গ্রেফতার দেখানো হবে। কিন্তু, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখন সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি। দল এবং তাদের জীবন ঝুকির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কার পরও তারা তাদের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন।

এরপরই শুরু হয় একের পর এক শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাদের মামলা। সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করে কারারুদ্ধ করা হয় শীর্ষনেতাদেরকে। চরম মিথ্যাচার ও বানোয়াট সাক্ষীর মাধ্যমে তারা প্রথমেই অন্যায়ভাবে বিচারের নামে হত্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আব্দুল কাদের মোল্লাকে। জানা গেছে, আব্দুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আগেও সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপি জোট ছাড়ার জন্য জামায়াতকে বলা হয়েছে। কিন্তু জামায়াত নেতৃবৃন্দ তখনো কোনো আপোস করেননি।

এরপর একে একে হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের শীর্ষনেতাদেরকে। সকলকে ফাসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেও যখন বিএনপি থেকে জামায়াতকে আলাদা করতে পারেনি তখন সরকার জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এমনকি, নিবন্ধন বাতিলের আগেও সরকার জামায়াতকে বলেছিল বিএনপি ছাড়ার জন্য।

আর জোটে থাকার কারণেই যে সরকার জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধাপরাধের মামলা দিয়েছে সেটা বিএনপিও বুঝতে পেরেছে। খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতা ওই সময় প্রায় প্রতিদিনই বলতেন যে, শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণেই জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী। বিএনপি জোট থেকে জামায়াত চলে গেলেই সরকার তাদের ওপর আর নির্যাতন করবে না। কাউকে ফাসিতেও ঝুলাবে না। বিএনপি নেতা হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খন্দকার মোশাররফ হোসেন একাধিক বার বলেছেন যে, ৯৬ সালের নির্বাচনের আগে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে জামায়াত বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল তখন তারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আর এখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জোট বাঁধার কারণেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধীর দল হয়ে গেছে।

অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার কারণে জামায়াত শুধু তাদের শীর্ষনেতা এবং নিবন্ধনই হারায়নি। বিগত ১১ বছর ধরে সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে দলটির সারাদেশের নেতাকর্মীরা। জামায়াত-শিবিরের সহ¯্রাধিক মেধাবী নেতাকর্মীকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রিমান্ডের নামে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে। বলা যায়-শুধু বিএনপির সঙ্গে থাকার কারণে সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখন ঘর ছাড়া। কেউ বাসায় থাকতে পারেনি। বিগত ১১ বছরে জামায়াতের শত শত নেতাকর্মীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরিচ্যুত হয়েছেন কয়েকশ নেতাকর্মী। এত নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও নিজেদের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে আপোস করেনি জামায়াত।

এখনো জামায়াতের প্রত্যাশা, ২০ দলীয় জোট টিকে থাকবে এবং এই জোটের আন্দোলনের মাধ্যমে একদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হবে। মুক্ত হবে গণতন্ত্র, মানুষ ফিরে পাবে তাদের মৌলিক অধিকার। অবসান ঘটবে দুঃশাসনের।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার নেপথ্য নায়ক যারা


১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ইসলাম, কুরআন-সুন্নাহ, গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী ভুমিকার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে চারদলীয় ঐক্যজোট। চারদলীয় জোট আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে রাজপথে সফল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনের আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর ফাঁদে পড়ে জোট ছেড়ে চলে যায় এরশাদের জাতীয় পার্টি।

তবে, এরশাদ চলে গেলেও জোট থেকে যান জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী ও দলটির প্রবীন রাজনীতিবিদ নাজিউর রহমান মঞ্জুর। নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি তথা বিজেপির হাল ধরেন তার পুত্র ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। সেই থেকে ২০১৯ সালের ৬ মে পর্যন্ত দলটি বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ছিল। বিএনপির একটি হঠকারী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত ৬ মে জোট থেকে বেরিয়ে গেলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

দেখা গেছে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার জন্য বিভিন্নভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শুরু করে। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটটি ভাঙ্গার জন্য সক্রিয়ভাবে মাঠে নামে।

এক্ষেত্রে সরকার বিএনিপর কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে একাজে ব্যবহার করে। বিশেষ করে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মইন খান, সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল মাহবুবুর রহমানসহ আরও কয়েকজন নেতা। অন্যরা গোপনে তৎপরতা চালালেও জেনারেল মাহবুব এবং ড. মইন খান প্রকাশ্যে জামায়াত-শিবির বিরোধী বক্তব্য দিতে থাকনে। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম যে জনসভা করেছিল সেখানে জেনারেল মাহবুব গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ্যে জামায়াত নিয়ে কটাক্ষ মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি তার এ বক্তব্য নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে পরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিও পাঠিয়েছিল।

এছাড়া, সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে বিএনিপর অনেক সিনিয়র নেতাকে জেল খাটতে হয়েছে। নির্যাতন-হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু জেনারেল মাহবুব ছিলেন সব কিছু ধরা ছোয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে-তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেও মূলত গোপনে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে দেখা না গেলেও নেপথ্য থেকে তিনি জোট ভাঙ্গার কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছেন। আর এক্ষেত্রে তিনি এখন কাজে লাগাচ্ছেন তারই শ্যালক ও বিএনিপ মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। জেনারেল মাহবুবের স্ত্রী নাগিনা মাহবুব মির্জা ফখরুলের বোন।

জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবের লবিং ও বিভিন্ন চাপের কারণে খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে বিএনপির মহাসচিব পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এখানেও সরকারের বড় একটা পরিকল্পনা সফল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবের সেই জোট ভাঙ্গার এজেন্ডা এখন মাঠে থেকে বাস্তবায়ন করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর এর প্রথম পদক্ষেপ ছিল ড. কামালের নেতৃত্বাধীন কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শেখ হাসিনার অধীনেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া। মির্জা ফখরুল এখন যা কিছু করছেন সবই ড. কামালের পরামর্শে। ২০ দলীয় জোটের চেয়ে কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল। বলা যায়-ফখরুল এখন কামালের মুরীদ।

২০ দলীয় জোটের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জোটের সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে যাবেন না। কিন্তু মির্জা ফখরুল সেই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ৫ এমপিকে সংসদে পাঠিয়েছেন। যার কারণে, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল আন্দালিব রহমান পার্থের বিজেপি জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। শুনা যাচ্ছে, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের লেবার পার্টি ও কর্নেল অলির এলডিপিও বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করার মতো, বিএনপি-জামায়াত জোট ভাঙ্গার জন্য শুধু আওয়ামী লীগই চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করেনি। আন্তর্জাতিকভাবেও তারা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক মহল থেকে জোট ভাঙ্গার জন্য অনেক চাপ দেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। কিন্তু, খালেদা জিয়া কারো কথাকেই পাত্তা দেননি। অবশেষে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করেই সরকার বিএনপি-জামায়াত জোটটিকে ভাঙ্গার কাজে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এ কাজে সরকারকে নেপথ্য থেকে জেনারেল মাহবুব ও মাঠ থেকে মির্জা ফখরুল সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, খালেদা জিয়া যদি খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি না পান, তাহলে ২০ দলীয় জোট আর বেশি দিন থাকছে না। মির্জা ফখরুলরা যেভাবে কামালের দিকে ঝুঁকছেন তাতে ২০ দলীয় জোট এখন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। বিএনপির এই হঠকারীতার কারণে আরও কয়েকটি দল জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। দেখা যাবে একদিন অন্যতম শরিক জামায়াতও বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্য ইতিবাচক: আ স ম আবদুর রব


বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমের ঐক্যফ্রন্টের অসংগতি দূর করা বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ইতিবাচক দেখছেন জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি রাষ্ট্র যখন চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত, জনগণের মালিকানা যখন রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, শাসনতন্ত্র যখন সরকারের ইচ্ছাধীন তখন বিরোধী দলের কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার নৈতিক কর্তব্যবোধে জাগ্রত হয়েই বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টের অসংগতি নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন-যা খুবই ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রাম-গণজাগরণের ভিত্তি সৃষ্টি করবে।

আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা হলেও ২৯ তারিখ রাতেই যখন ভোট রাষ্ট্রীয়ভাবে ডাকাতি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হাইজ্যাক করা হয়েছে তখন জনগণকে নিয়ে যে প্রতিরোধ-সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল তা পারেনি। কিন্তু সকল অসংগতি দূর করে বিদ্যমান অপব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের নতুন কৌশল-ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নতুন করে জনগণের বিজয় ছিনিয়ে আনার রাজনীতিকে আরো বেগবান করবে।

উৎসঃ ‌‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সাহসী কোনো বিচারপতি এখন বাংলাদেশে নেই!


রাষ্ট্রের চারটি অঙ্গের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো বিচার বিভাগ। আর বাংলাদেশে নির্বাহী বিভাগের পরই বিচার বিভাগের স্থান। বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। বিচার বিভাগের এই স্বাধীনতা নিয়ে এখন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন বা বিশিষ্টজনদের মধ্যেই প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে না, দেশের সাধারণ নাগরিকও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আর এই প্রশ্ন তোলার পেছনেও যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

দেখা গেছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিগত ১০ বছরের শাসনামলে দেশের নি¤œ আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত চলছে সরকারের নিয়ন্ত্রণে। একটি মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে রায় প্রদান, জামিন ও কারামুক্তি সবই হচ্ছে সরকারের ইশারায়। বিশেষ করে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে কার মামলার রায় কি হবে? সাজা হবে কত বছরের? কারাগারে পাঠানোর পর জামিন পাবে কিনা? জামিন পাইলেও মুক্তি পাবে কিনা সবই হচ্ছে সরকারের নির্দেশে।

আর উচ্চ আদালতের কোনো রায় যদি সরকারের বিপক্ষে চলে যায় তাহলে বিচারপতিদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়া হয়। যেমন, সংসদ কর্তৃক বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত ধারা বাতিলের রায়ের পর যা ঘটেছে তা ছিল নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারের এমন কোনো মন্ত্রী-এমপি বাদ ছিল না যারা সংসদে দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে গালি দেয়নি। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এক পর্যায়ে তারা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে উচ্চ আদালতে যা ঘটছে তাও নজিরবিহীন। সরকারি দলের সন্ত্রাসী, খুনী, দুর্নীতিবাজরা জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসলেও কথিত দুর্নীতি মামলায় আটক খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না। এই হলো বর্তমান স্বাধীন বিচার বিভাগের খন্ড চিত্র মাত্র।

কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, এই আদালতের বিচারপতিরাই স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা করেছেন। রায়ও প্রদান করেছেন স্বাধীনভাবে। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় দিতেও তারা কোনো প্রকার কোণ্ঠাবোধ করেন নি।

যেমন, ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে আদালতের রায় নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। পরে অন্য একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে সুপ্রিমকোর্টের ফুল বেঞ্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড ওম্যান’ অর্থাৎ মাথা খারাপ মহিলা বলে মন্তব্য করেছিলেন।

সেই রায়গুলো আজ মানুষের কাছে স্বপ্ন। কারণ, এখন দেশের বিচার বিভাগ আর আগের মতো স্বাধীন নয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই বিচারপতিদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করছেন। কিন্তু তাদেরকে যে আদালতে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাস করবে সেই সাহস বর্তমানে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের নেই।

গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফোনে যা বলেছেন তা স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য অপমানজনক। খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে কি পাবে না সেটা দেখার দায়িত্ব বিচারপতিদের। কিন্তু শেখ হাসিনা রায় দিয়ে দিলেন খালেদা জিয়া আজীবন মুক্তি পাবেন না।

আইনজ্ঞরা বলছেন- শেখ হাসিনার এই বক্তব্য চরম আদালত অবমাননা। কিন্তু, আদালত অবমাননা হলেই বা আর কি। এখন আর সেই বিচারপতি নেই যারা প্রধানমন্ত্রীকে রং হেডেড বলে আখ্যা দেবেন।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here