কাশ্মীর সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন

0
107

কাশ্মীরকে বলা হয়ে থাকে ভূস্বর্গ। কিন্তু সৌন্দর্যের এই লীলাভূমি মানুষসৃষ্ট রাজনীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এখনও হচ্ছে। এই ভূখণ্ডে বসবাসরত নাগরিকদের জনজীবন ব্যাহত হয়েছে কখনও বা রাইফেলের গুলিতে, আবার কখনও বোমার আঘাতে। সর্বশেষ যে ঘটনাটি আবারও কাশ্মীরকে নাড়া দিল সেটি ঘটেছে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি।

কাশ্মীরের ভারতশাসিত পুলওয়ামায় আদিল আহমেদ দার নামের এক যুবকের আত্মঘাতী হামলায় ৪৯ জন ভারতীয় সেনা মৃত্যুবরণ করেন। ভারতের স্বাধীনতার পর এটাই সবচেয়ে বড় সেনা প্রাণহানির ঘটনা। জইশ-ই-মুহাম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। এ ঘটনার পর শুরু হয়েছে জঙ্গিবিরোধী অভিযান, চলছে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা।

পৃথিবীর ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি দেশই সমস্বরে ভারতের পাশে থেকে এ সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা করতে চেয়েছে। যেহেতু পৃথিবীর এই মুহূর্তের সবেচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সন্ত্রাস, তাই এটাকে যে কোনোভাবে প্রতিহত করতে হবে। এ দাবিতে সোচ্চার জাতিসংঘের প্রায় প্রতিটি সদস্য দেশ। বরাবরের মতন চলছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়। এবার ঘটনাটিকে নাটকীয় মোড় দিতে প্রথম থেকেই সব চেষ্টাই করছে দুটি দেশ।

ভারত এবার নাটকের প্রথম দৃশ্যে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর তিনটায় পাকিস্তানে বিমান হামলা করে, ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এই হামলায় প্রায় ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং এই হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানও পরবর্তী সময়ে সীমান্তে কিছু গুলিবর্ষণ করেছে। চলছে দীর্ঘ সাত যুগ ধরে চলে আসা কাশ্মীরিদের স্বাধিকার আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদ নাম দেয়ার নাটকের নতুন পর্ব। নাটকের পরিচালক ভারত ও পাকিস্তান, দর্শক জাতিসংঘসহ পৃথিবীর সব ছোট-বড় মানবাধিকার সংগঠনগুলো আর নাটকের মঞ্চ কাশ্মীর ও এর নিরীহ জনগণ।

ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীর সমস্যার বীজ বপন করেছিল ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী। ইতিহাস অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়, সৌন্দর্যের লীলাভূমি কাশ্মীর কোনোদিনও ভারত বা পাকিস্তানের অংশ ছিল না। ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে পাকিস্তান আর ভারত স্বাধীনতা পাওয়ার আগে থেকেই কাশ্মীর নিয়ে বিতর্কের সূচনা। ‘ইন্ডিয়ান ইনডিপেন্ডেন্স অ্যাক্ট’ নামে ব্রিটিশ-ভারত বিভক্তির যে পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল তাতে বলা হয়েছিল, কাশ্মীর তার ইচ্ছা অনুযায়ী ভারত অথবা পাকিস্তান- যে কোনো রাষ্ট্র্র্রেই যোগ দিতে পারবে।

কাশ্মীরের তৎকালীন হিন্দু মহারাজা হরি সিং চাইছিলেন স্বাধীন থাকতে অথবা ভারতের সঙ্গে যোগ দিতে। অন্যদিকে পশ্চিম জম্মু এবং গিলগিট-বালতিস্তানের মুসলিমরা চাইছিলেন পাকিস্তানের সঙ্গে যোগ দিতে। ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের পাশতুন উপজাতীয় বাহিনীগুলোর আক্রমণের মুখে হরি সিং ভারতে যোগ দেয়ার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এবং ভারতের সামরিক সহায়তা পান। পরিণামে ১৯৪৭ সালেই শুরু হয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ- যা চলেছিল প্রায় দু’বছর ধরে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ১৯৪৮ সালে ভারত কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করে। জাতিসংঘের ৪৭ নম্বর প্রস্তাবে কাশ্মীরে গণভোট, পাকিস্তানের সেনা প্রত্যাহার এবং ভারতের সামরিক উপস্থিতি ন্যূনতম পর্যায়ে কমিয়ে আনতে আহ্বান জানানো হয়। কাশ্মীরে যুদ্ধবিরতি বলবৎ হয় ১৯৪৮ সালে, তবে পাকিস্তান সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করে। তখন থেকেই কাশ্মীর কার্যত পাকিস্তান ও ভারত নিয়ন্ত্রিত দুই অংশে ভাগ হয়ে যায়। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তার চিঠি ও ভাষণে বহুবার বলেছেন, কাশ্মীরের মালিক কাশ্মীরের জনগণ। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কাদের সঙ্গে থাকতে চায়।

১৯৫৫ সালের ৩১ মার্চ লোকসভায় দেয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘কাশ্মীর কোনো বিনিময়ের বস্তু নয়, যা ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হবে। বরং কাশ্মিরের প্রাণ রয়েছে, তার পৃথক সত্তা রয়েছে। কাশ্মীরি জনগণের সদিচ্ছা এবং মতামত ছাড়া কিছুই করা যাবে না।’ ঐতিহাসিক বাস্তবতা হল, নেহেরুর রাজনৈতিক অবস্থান পরবর্তীকালে কার্যকর হতে দেখা যায়নি ভারতের রাষ্ট্র্র্রীয় নীতিতে। কাশ্মীরিদের গণভোটের আশ্বাস দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং দিনকে দিন কাশ্মীর পরিবেষ্টিত হয়েছে লাখ লাখ সেনা সদস্যের দ্বারা, হয়ে উঠেছে ভারত-পাকিস্তানের পরোক্ষ যুদ্ধের এক ক্ষেত্রে। তাতে প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ।

অন্যদিকে ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের মধ্য দিয়ে চীন কাশ্মীরের আকশাই-চীন অংশটির নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে, আর তার পরের বছর পাকিস্তান-কাশ্মিরের ট্রান্স-কারাকোরাম অঞ্চলটি চীনের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। সেই থেকে কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তান, ভারত ও চীন- এই তিন দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে। দ্বিতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হয় ১৯৬৫ সালে, এর পর আরেকটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এর পর ১৯৭১-এর তৃতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং ১৯৭২-এর সিমলা চুক্তির মধ্যে দিয়ে বর্তমানের ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ বা নিয়ন্ত্রণরেখা চূড়ান্ত রূপ পায়। ১৯৮৪ সালে ভারত সিয়াচেন হিমবাহ এলাকার নিয়ন্ত্রণ দখল করে- যা নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে চিহ্নিত নয়। তা ছাড়া ১৯৯৯ সালে ভারতীয় বাহিনী আরেকটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু তিক্ত লড়াইয়ে জড়ায় পাকিস্তান-সমর্থিত বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে। ১৯৯৯-এর সেই ‘কারগিল সংকটের’।

স্বাধীনতার দাবিতে সাধারণ কাশ্মীরিরা সোচ্চার হতে শুরু করে আশি দশকের পরপরই, এ ক্ষেত্রে প্রেরণা জুগিয়েছে ভারতীয় দখলদার সেনাবাহিনী, প্রতিনিয়ত অত্যাচার তাদের বাধ্য করেছে- মারি নয় মরি অবস্থা গ্রহণ করতে। কাশ্মীরে বিদ্রোহী তৎপরতা বড় আকারে শুরু হয় ১৯৮৭ সালে বিতর্কিত স্থানীয় নির্বাচনের পর জেকেএলএফ নামে সংগঠনের উত্থানের মধ্য দিয়ে। ভারত অভিযোগ করে, পাকিস্তান সীমান্তের ওপার থেকে যোদ্ধাদের পাঠাচ্ছে- তবে পাকিস্তান তা অস্বীকার করে। এই রাজ্যে ১৯৮৯ সালের পর থেকে সহিংস বিদ্রোহ নানা উত্থান-পতনের মধ্যে দিয়ে গেছে। ১৯৯০ সালের পর সেনাবাহিনীর অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কাশ্মীরের ভারত ও পাকিস্তানের উভয় অংশেই অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক- সব ক্ষেত্রেই রয়েছে চরম অশান্তি। এগুলো নিয়ে কোনো দেশই তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু করেনি।
সেই ১৯৪৮-এ যে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল তা আজও হয়নি। বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে জাতিসঙ্ঘের অপারগতা ও নীরবতা। কাশ্মীরিদের মানবাধিকার রক্ষার্থে তাহলে কি পৃথিবীর কেউ কোনো ভূমিকা পালন করবে না? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে পৃথিবীর বড় বড় মানবাধিকার সংস্থাকে। কাশ্মীরিদের ওপর হয়ে যাওয়া অত্যাচারগুলো কি মানবাধিকার হরণ নয়? কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ, যারা কাশ্মীর উপত্যকা, জম্মু, শ্রীনগর, লাদাখ এবং আজাদ কাশ্মীরে বসবাস করছে, তাদের কথা তো কেউ কখনও বলছে না। তারা আসলে কী চায় এই প্রশ্নটুকুও কেউ করছে না। যে স্বাধিকার আন্দোলনের জন্য তারা এই চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে বা হামলার শিকার হচ্ছে, সেই স্বাধিকারকে অস্বীকার করার অধিকার কারও নেই। যে ভারত বা পাকিস্তান আজ কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে নাটক মঞ্চায়িত করছে, সেই ভারত ও পাকিস্তানকে ১৯০ বছর ব্রিটিশ শাসনের পরাধীনতার ঘানি টানতে হয়েছিল। স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের মূল্য তাদের সবচেয়ে ভালো বোঝার কথা। তাহলে কী করে এই দুটি জাতি আরেকটি জাতিগোষ্ঠীর স্বাধিকারকে এভাবে দুমড়ে-মুচড়ে নিঃশেষ করতে পারে?

মেহেদী হাসান : সহকারী অধ্যাপক, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে ভারতীয় বর্বরতার তীব্রতা বেড়েছে: ওআইসি


কাশ্মীরে ভারতীয় বর্বরতার তীব্রতা বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। ভারত সরকারের কাশ্মীর নীতির কঠোর সমালোচনা করে একটি প্রস্তাবনাও অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি ।

শনিবার আবুধাবিতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। শুক্রবার ওআইসির সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যোগ দেওয়ার পরদিনই ওই প্রস্তাব অনুমোদন করে ইসলামিক দেশগুলোর সর্ববৃহৎ সংস্থা ওআইসি।

তবে ওআইসির এ প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কাশ্মির ইস্যু একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

ওআইসি জানায়, ২০১৬ সাল থেকে কাশ্মীরে ভারতীয় বর্বরতার তীব্রতা বেড়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ আটক ও গুম বেড়েছে বলে জানানো হয় ওআইসির প্রস্তাবে। ভারত নিরীহ কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে নির্বিচার বলপ্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ আনা হয় ওআইসির প্রস্তাবে।

পাকিস্তানের প্রবল আপত্তি ও বয়কট সত্বেও প্রথমবারের মতো এবারের ওআইসি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। প্রতিবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরেশী এ বৈঠকে অংশ নেন নি।

শুক্রবার ওআইসি’র সভায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সুষমা স্বরাজ প্রতিবেশী পাকিস্তানের ব্যাপক সমালোচনা করেন। সরাসরি নাম না নিলেও পাকিস্তানকে কড়া আক্রমণ করে সুষমা বলেন, যে সব দেশ সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধে অন্য দেশ গুলির ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। সুষমার যোগ দেওয়ার পরদিনই ওআইসির সভায় গৃহীত প্রস্তাবে ভারতের কাশ্মীর নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়। এ দিকে ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে আমাদের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সর্বজনবিদিত। আমরা আবারও নিশ্চিত করতে চাই যে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিভাজ্য অংশ এবং এটা ভারতের একান্তই নিজস্ব বিষয়।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে শুক্রবার ওআইসির সভায় যোগ দিয়ে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওআইসি’র দেশগুলোকে এক যোগে কাজ করার আহ্বান জানান সুষমা স্বরাজ। তার ১৭ মিনিটের ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মানবতা রক্ষা করতে চাই, তাহলে অবশ্যই সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও অর্থ দেওয়া রাষ্ট্রগুলোকে সেসব দেশে থাকা সন্ত্রাসী আস্তানার অবকাঠামো ধ্বংস এবং অর্থায়ন বন্ধ করতে বলতে হবে।

সুষমা বরেন, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসবাদ বিশ্বকে ভয়াবহ বিপদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রবাদ ভিন্ন নাম এবং পথ অবলম্বন করে। তাদের ব্যবহৃত কারণগুলোও বহুমাত্রিক।

সুষমার এই বক্তব্যের পরদিনই ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবে ভারতের কঠোর নিন্দা জানানো হলেও আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ফিরিয়ে দেওয়ায় পাকিস্তানের প্রশংসা করা হয়। গত বুধবার ভারত-পাকিস্তান বিমান যুদ্ধের পর পাকিস্তানে আটক হন ওই ভারতীয় পাইলট। যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রশংসা করা হয় ওআইসি’র পক্ষ থেকে।

ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন করে প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তানের মতো ভারতেরও উদারতা দেখানো উচিতঃ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান

শনিবার তুরস্কের ট্রাবজন শহরে একটি গণ সমাবেশে বক্তৃতা দিচ্ছেন এরদোগান। ছবি: আনাদলু

পাক-ভারত চলমান যুদ্ধাবস্থায় কারোই লাভ হবে না উল্লেখ করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেছেন, আটক ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান যে ইতিবাচক মানসিকতা দেখিয়েছে তাকে অবশ্যই অভিনন্দন জানাতে হবে। আমরা আশা করি যে ভারতের বন্ধুরা একইভাবে ইতিবাচক পদক্ষেপ ও উদার মানসিকতা দেখাবে।

এরদোগান বলেন, আমরা আশা করব আমাদের ভারতীয় বন্ধুরাও একই রকম আন্তরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

আগামী ৩১ মার্চ আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শনিবার উত্তরাঞ্চলীয় ট্রাবজন শহরে একটি গণ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। খবর আনাদলুর।

চলমান উত্তেজনা নিরসনে তুরস্ক সবধরনের সহায়তা করবে জানিয়ে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বলেন, পাক-ভারত চলমান উত্তেজনা নিরসনে যা কিছু দরকার তা করতে প্রস্তুত রয়েছে তুরস্ক।

তিনি বলেন, ‘আমরা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংকট সমাধানে আমাদের যা করতে হবে তা নিশ্চিত করব এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্কের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

যুদ্ধ কোনো দেশের জন্যই কল্যাণকর নয় ইঙ্গিত দিয়ে এরদোগান বলেন, ‘তীব্র উত্তেজনা এবং আগুন জ্বালানো তেল কারও উপকারে আসে না।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, এই ইস্যুতে উত্তেজনা নিরসনে কী করা উচিত সে বিষয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে তিনি টেলিফোনে আলাপ করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় দেশটির আধাসামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে হামলায় অন্তত ৪০ সেনা নিহত হন। এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ। ভারত এ হামলার পেছনে পাকিস্তানের মদদ রয়েছে বলে দাবি করে আসছে।

এই হামলার জেরে গত মঙ্গলবার কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয় বলে দাবি করেছে দেশটি।

মঙ্গলবার ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানে বালাকোট এলাকায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে বোমা হামলা চালায়। ভারতীয় গণমাধ্যম দাবি করে এতে অনেক জঙ্গি হতাহত হয়েছে। তবে পাকিস্তান বলছে, এতে তাদের দেশে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর পর এদিন বিকালে পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক গোলা বর্ষণ করে। এতে ভারতীয় দুই নাগরিক নিহত হওয়া দাবি করা হয়েছে। বুধবার সকালে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় দুটি বিমান ঢুকে পড়লে পাকিস্তান তা ভূপাতিত করে। এ ঘটনায় দুইজন নিহত ও এক ভারতীয় পাইলটকে আটক করেছে পাকিস্তান।

দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আটক ভারতের পাইলটকে মুক্তি দিচ্ছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এমন ঘোষণা দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

পাইলটকে মুক্তির কারণ হিসেবে ইমরান খান বলেছেন, শান্তির বার্তা দিতেই ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। তবে তিনি এও হুশিয়ারি দেন যে, পাইলটের মুক্তির সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের দুর্বলতা ভাববেন না। শুক্রবার রাতে উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ভারতের হাতে তুলে দেয় পাকিস্তান।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ পাক-ভারত উত্তেজনা বিপর্যস্ত কাশ্মীরের অর্থনীতি


চলমান উত্তেজনায় ব্যবসায় প্রতিদিন ১৫০ কোটি রুপি ক্ষতি * বিদেশি পর্যটকের মধ্যে কাশ্মীরে ঘুরতে যাওয়ায় বাংলাদেশ তৃতীয়

পুলওয়ামা হামলা ও তার জেরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধাবস্থায় বিপর্যস্ত কাশ্মীরের অর্থনীতি। আতঙ্কে স্থবিরতা নেমে এসেছে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে। এতে লোকসান গুনছেন এ অঞ্চলের বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীরা।

অনেকটা পর্যটন নির্ভরশীল হওয়ায় বিপর্যয় নেমে এসেছে কাশ্মীরের সার্বিক অর্থনীতিতে। পর্যটক আগমন শূন্যের কোটায় দাঁড়িয়েছে। কর্মসংস্থানের তীব্র সংকটে থাকা এ রাজ্যে পর্যটন খাতকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করে অনেক মানুষ। পর্যটক আগমনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে এ অঞ্চলের অর্থনীতি। বর্তমানে পর্যটক আগমন শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরম বিপর্যয়ে পড়বে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি।

কাশ্মীর ইকোনমিক অ্যালান্সের মুখ্যসচিব সিরাজ আহমেদ জানিয়েছেন, কেবল পর্যটন শিল্পে নয়, ব্যবসাতেও প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, চলমান উত্তেজনায় প্রতিদিন ১৫০ কোটি রুপি ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকদের কাশ্মীরে না আসার পরামর্শ দিচ্ছে বিভিন্ন দেশের সরকার। এটিও পর্যটন শিল্পে ভাটা পড়ার অন্যতম একটি কারণ বলে ধারণা ব্যবসায়ীদের। ২০১২ সাল থেকে কাশ্মীরে আসা নিয়ে নেতিবাচক পরামর্শ দেয়া বন্ধ করেছিল জাপান, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য।

ভারতের জম্মু-কাশ্মীরকে যেন প্রকৃতি সাজিয়েছে তার নিজের মতো করে। সুন্দর এ রাজ্য সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ভ্রমণের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থান। শুধু ভারতের মুকুট হিসেবেই নয়, সারা বিশ্বের মানুষের কাছে ভূ-স্বর্গ হিসেবে পরিচিত জম্মু-কাশ্মীর। দেশটির উত্তরাঞ্চলের এ রাজ্যটি পাহাড়, ঝরনা ও তুষারপাতের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হলেও অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বিমোহিত করে তাদের।

অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছর শত শত পর্যটক আসেন এখানে। বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছেও এটি অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকের মধ্যে কাশ্মীরে ঘুরতে যাওয়ায় বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। শীতপরবর্তী এ সময়ে আরও বেশি সুন্দর হয়ে ওঠে ভূ-স্বর্গ। হরেক পসরা সাজিয়ে প্রকৃতি স্বাগত জানায় ভ্রমণপ্রেমীদের। তাই এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় উপত্যকায়।

আর সেদিকে তাকিয়েই প্রতীক্ষা করে থাকেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে অশান্তির জেরে পর্যটন ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছিল। এর পরের দুই বছর মোটামুটি শান্তি বজায় ছিল কাশ্মীরে। শান্তির হাত ধরেই সমৃদ্ধি আসছিল পর্যটন শিল্পে। মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল উপত্যকার অর্থনীতি। গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর জম্মু-কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পে ধস নামে। সে ধস কাটিয়ে উঠতে এবার আশায় বুক বেঁধেছিলেন রাজ্যের পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ১৪ ফেব্রুয়ারির পর সব পাল্টে গেছে।

মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের সব বুকিং বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাশ্মীরের ‘ট্র্যাভেল এজেন্ট’ সংগঠনের সভাপতি আবদুল খলিফ ওয়াংনু। তিনি বলেন, এবার অনেক বেশি পর্যটক আশা করেছিলাম। কিন্তু বর্তমান চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পর্যটক আগমন শূন্যের কোঠায় দাঁড়িয়েছে। অন্যবার এ সময় শ্রীনগরগামী বিমানের আসন ভর্তি থাকে, এবার সব খালি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অনেকেই কাশ্মীরে আসতে চাইছেন না।

এদিকে উপত্যকায় বেড়াতে গিয়ে আটকা পড়েছেন অনেক পর্যটক। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পর্যটন ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আটকা পড়েছেন অন্তত কয়েকশ পর্যটক। তাদের বিনা খরচে থাকার সুযোগ দিতে দরজা খুলে দিয়েছেন উপত্যকার হোটেল মালিক থেকে সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, পুলওয়ামায় ১৪ ফেব্রুয়ারি আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ৪২ জন ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এ হামলার দায় স্বীকার করে বলে ভারতের দাবি। এর জবাব দিতেই মঙ্গলবার ভোরে পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে অভিযান চালায় ভারত।

ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী ওই অভিযানে ৩০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে ভারতের দাবি নাকচ করে আসছে পাকিস্তান। এরপর মঙ্গলবার দিনের প্রথমদিক থেকে বুধবার পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পরস্পরের দাবি অনুযায়ী, ভারতের দুটি ও পাকিস্তানের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এর মধ্যে অভিনন্দন নামে একজন ভারতীয় পাইলট পাকিস্তানি সেনাদের হাতে আটক হন। শুক্রবার তাকে ফেরত দিলেও দুই দেশের মধ্যে এখনও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ইমরান খানকে কাতার আমিরের অভিনন্দন


ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে ফেরত দেওয়াসহ চলমান উত্তেজনার শান্তিপূর্ণ সমাধান করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।

রোববার টেলিফোন করে এ অভিনন্দন জানান কাতার আমির। খবর ডন ও জি নিউজের।

কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মুসলিম বিশ্বের এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা চলমান পাক-ভারত সমস্যা ও বিশ্বব্যাপী এর নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ে কথা বলেছেন। কাতারের আমির উভয়দেশকেই সহনশীল আচরণের অনুরোধ জানান।

পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ ফায়সাল এক টুইটবার্তায় বলেছেন, পাক-ভারত চলমান উত্তেজনা নিরসনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের টেলিফোনে কথা হয়েছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ভারতের সঙ্গে চলমান যুদ্ধাবস্থা দ্রুত বন্ধ করার তাগিদ দিয়েছেন।

টুইটবার্তায় তিনি বলেন, এ সময় ইমরান খান পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে ভারতের বিমান হামলাসহ যাবতীয় বিষয় কাতারের আমিরকে অবহিত করেন। কাতারের আমির উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষত পাকিস্তানের গ্রেফতার হওয়া ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে মুক্তি দিয়ে পাকিস্তান শান্তির আবহ তৈরি করেছে বলে জানান কাতারের আমির।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি ও ইমরান খান পাক-ভারত বিষয় ছাড়াও দু’দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ভারতের কঠোর সমালোচনায় ওআইসি


ভারত সরকারের কাশ্মীর নীতির কঠোর সমালোচনা করে একটি প্রস্তাবনা অনুমোদন দিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। শনিবার আবুধাবিতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

শুক্রবার ওআইসির সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ যোগ দেয়ার পরদিনই ওই প্রস্তাব অনুমোদন করে ইসলামিক দেশগুলোর সর্ববৃহৎ সংস্থা ওআইসি। তবে ওআইসির এ প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কাশ্মির ইস্যু একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

পাকিস্তানের প্রবল আপত্তি ও বয়কট সত্বেও প্রথমবারের মতো এবারের ওআইসি সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। প্রতিবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ কোরেশী এ বৈঠকে অংশ নেন নি ।

শুক্রবার ওআইসি’র সভায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সুষমা স্বরাজ প্রতিবেশী পাকিস্তানের ব্যাপক সমালোচনা করেন। সরাসরি নাম না নিলেও পাকিস্তানকে কড়া আক্রমণ করে সুষমা বলেন, যে সব দেশ সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় তাদের বিরুদ্ধে অন্য দেশ গুলির ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত।

সুষমার যোগ দেয়ার পরদিনই ওআইসির সভায় গৃহীত প্রস্তাবে ভারতের কাশ্মীর নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে কাশ্মীরে ভারতীয় বর্বরতার তীব্রতা বেড়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ আটক ও গুম বেড়েছে বলে জানানো হয় ওআইসির প্রস্তাবে। ভারত নিরীহ কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে নির্বিচার বলপ্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ আনা হয় ওআইসির প্রস্তাবে।

সুষমার বক্তব্যের পরদিনই ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবে ভারতের কঠোর নিন্দা জানানো হলেও আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে ফিরিয়ে দেওয়ায় পাকিস্তানের প্রশংসা করা হয়। গত বুধবার ভারত-পাকিস্তান বিমান যুদ্ধের পর পাকিস্তানে আটক হন ওই ভারতীয় পাইলট। যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রশংসা করা হয় ওআইসি’র পক্ষ থেকে।

ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে সমর্থন করে প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

এ দিকে ওআইসির গৃহীত প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে আমাদের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সর্বজনবিদিত। আমরা আবারও নিশ্চিত করতে চাই যে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিভাজ্য অংশ এবং এটা ভারতের একান্তই নিজস্ব বিষয়।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে শুক্রবার ওআইসির সভায় যোগ দিয়ে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওআইসি’র দেশগুলোকে এক যোগে কাজ করার আহ্বান জানান সুষমা স্বরাজ। তার ১৭ মিনিটের ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি মানবতা রক্ষা করতে চাই, তাহলে অবশ্যই সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও অর্থ দেওয়া রাষ্ট্রগুলোকে সেসব দেশে থাকা সন্ত্রাসী আস্তানার অবকাঠামো ধ্বংস এবং অর্থায়ন বন্ধ করতে বলতে হবে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন: কাশ্মীরে এখন কেন বোমা হামলা ঘটছে?

ভারতের কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমার স্বামী। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমার স্বামী প্রশ্ন রেখে বলেছেন, এখন কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলা ঘটছে কেন? কেন তারা বাবা এইচডি দেব গৌড়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে এমনটি ঘটেনি?

তিনি বলেন, দেব গৌড়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বিদ্রোহীরা বিস্ফোরণ ঘটাননি কিংবা কাউকে হত্যা করেননি? কিন্তু এখন কেন ঘটছে? এ নিয়ে ভারতীয়দের ভাবতে আহ্বান জানান তিনি।

তারা বাবা দেব গৌড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে কাশ্মীরে কোনো বিস্ফোরণ কিংবা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন কুমার স্বামী।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কাশ্মীরে যেতে হলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী লাগে। কিন্তু ভারতে যদি কোনো প্রধানমন্ত্রী থেকে থাকেন, যিনি একটি খোলা জিপে চড়ে জম্মু-কাশ্মীরের পাক-ভারত সীমান্তে যেতে পারতেন, তা হলে তিনি হচ্ছেন দেব গৌড়া।

কাজেই এ ঘটনা ভুলে না যেতে সবার কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাক-ভারত উত্তেজনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কুমার স্বামী বলেন, এটি কোথায় গিয়ে ঠেকে, তা তিনি বলতে পারছেন না।

কর্নাটক মুখমন্ত্রী বলেন, তারা এমনভাবে বিজয় পতাকা উড়াচ্ছেন, যেন বিমান উড়িয়ে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে গিয়ে বোমা মেরে আসছেন। বরং একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতিকে অপব্যবহার করছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

‘বিজেপির দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার এমন যে তারা একাই গিয়ে দেশকে উদ্ধার করেছেন। এ ছাড়া কেউ না। তারা মানুষের নিরপরাধ মানসিকতার অপব্যবহার করছেন।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ : গণভোট নাকি গণহত্যা


কাশ্মিরের অতীত এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সবাই অবগত, তাই সরাসরি মূল আলোচনায় চলে যাবো। কাশ্মির নিয়ে পাক-ভারত উত্তেজনা বহুদিনের। কিন্তু কাশ্মিরিরা চায় স্বাধীনতা। কিন্তু পাকিস্তান ও ভারতের টানাটানির কাছে কাশ্মিরের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাটি চাপা পড়ে যায় বারবার। কাশ্মিরিরা মুসলিম হওয়ায় পাকিস্তান তাদের কাছে কিছুটা প্রিয়, যদিও তারা পাকিস্তানের অধিন হতে চায় না। অন্যদিকে কাশ্মিরিরা ভারতকে একেবারেই পছন্দ করেনা কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতার লোভের কারণে তাদেরকে ভারতের শাসন মেনে নিতে হয়। আর যখনই তারা স্বাধীনতা চায় তখনই তাদের উপর নেমে আসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অত্যাচার। কাশ্মিরিরা কোনভাবেই ভারতীয় আধিপত্য মেনে নিতে চায় না। কিন্তু এখানে বিদ্রোহ মানেই ‘জঙ্গি’। বৈশ্বিক রাজনীতির অংশ হিসেবে ‘জঙ্গি’ তকমাটা ভারত ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। কাশ্মিরে কিছু ঘটলেই পাকিস্তানকে টেনে আনাটা খুবই লাভজনক, তাতে কাশ্মিরিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাটাকে চাপা দেওয়া যায়।

সেই ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু করে কাশ্মির কখনো স্থির থাকেনি। ‘জঙ্গি’ তকমা আর পাকিস্তানি ইন্ধনের অযুহাত কাশ্মিরিদের স্বাধীনতাকে বিলম্বিত করলেও ভারত কখনো স্বস্তি পায়নি। বিগত বছরগুলোতে কাশ্মিরের অস্থিরতা আরও বেড়েছে, সেই সাথে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাও বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই স্বাধীনতাকামীদের হত্যা করেও বিদ্রোহীদের মনোবল দমানো যায়নি, আরও বেড়েছে। অতি সম্প্রতি সশস্ত্র কাশ্মিরি বা স্বাধীনতাকামীদের পক্ষ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের হামলা এবং কমপক্ষে ৪৪ জনের মৃত্যু কাশ্মিরিদের শক্তি এবং মনোবল সম্পর্কে ভারতকে ভাবাচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে গিয়ে বিপদে পড়ে গেছেন। বিমান হামলার মাধ্যমে ৩০০ ‘জঙ্গি’ হত্যার এক আজগুবি দাবি নিয়ে মোদি ভারতকে বেশ ভালোভাবেই নাড়া দিয়েছিলেন, এই ‘সফলতা’কে পুঁজি করে সারা ভারত চষে বেড়াবার পরিকল্পনা করার সময়েই দুইটি মিগ বিধ্বস্ত এবং একজন পাইলট আটকের খবরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

সামনে নির্বাচন উপলক্ষে জনগণকে পক্ষে আনার এটাই উত্তম সুযোগও বটে। তাই নরেন্দ্র মোদি এক ঢিলে দুই পাখি মারতে গিয়ে বিপদে পড়ে গেছেন। বিমান হামলার মাধ্যমে ৩০০ ‘জঙ্গি’ হত্যার এক আজগুবি দাবি নিয়ে মোদি ভারতকে বেশ ভালোভাবেই নাড়া দিয়েছিলেন, এই ‘সফলতা’কে পুঁজি করে সারা ভারত চষে বেড়াবার পরিকল্পনা করার সময়েই দুইটি মিগ বিধ্বস্ত এবং একজন পাইলট আটকের খবরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়।

এই পরিস্থিতিতে পাক ভারত যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করছে অনেকেই। দুটি দেশের হাতেই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এবং অস্ত্র কী করতে পারে সে সম্পর্কে সবাই অবগত আছেন। আর পারমাণবিক অস্ত্রের কারণেই দেশ দুটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়াতে হয়তো চাইবে না। কিন্তু যুদ্ধের সম্ভাবনা একেবারেই ফেলে দেয়া যাবে না।

আপাত দৃষ্টিতে ভারতকে খুবই আক্রমণাত্মক মনে হলেও ভারত পাকিস্তানের উপর ঐভাবে হামলা করবে না। কারণ ভারত এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ডক্টোরিন ভিন্ন। ভারতের পারমাণবিক ডক্টোরিন হলো, তারা আগে থেকে আক্রান্ত না হলে তারা পারমাণবিক হামলা চালাবে না। আর পাকিস্তানের ডক্টোরিন হলো, অন্য কেউ আক্রমণের আগেই তারা পারমাণবিক আক্রমণ করবে।

পাকিস্তানের এই ডক্টোরিনের কথা মাথায় রেখেই ভারত উত্তেজনা প্রশমিত করতে বাধ্য হবে। আর যদি পাকিস্তান পারমাণবিক হামলা চালাতে বাধ্য হলে এমনভাবে হামলা করবে যাতে ভারত পারমাণবিক হামলা না করতে পারে। আজ ভারতকে যতই আক্রমণাত্মক মনে হোক না কেন এগুলো হুমকি ধমকির মধ্য সীমাবদ্ধ থাকবে। ভারত ইতোমধ্যেই বড় ভুল করে ফেলেছে। এই ভুলের মাশুল তাদের বছরের পর বছর ধরে দিতে হবে।

কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ভারত কিভাবে কাশ্মিরকে ডিল করবে তার উপর। ভারতের সাম্প্রদায়িক এবং বিভেদের রাজনীতি কাশ্মিরিদেরকে ইতোমধ্যেই ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘কাশ্মির বিস্ফোরণ’কে কেন্দ্র করে ভারত জুড়ে কাশ্মিরিদেরকে এমনভাবে ট্রিট করা হয়েছে তাতে কাশ্মিরিরা ভাবতে বাধ্য হবে যে তারা ভারতের নাগরিক নয়। হিন্দু অধ্যুষিত ভারতীয়দের মনোভাবে মনে হয় তারাও কাশ্মিরিদেরকে ভারতের নাগরিক মনে করেনা। ভারত জুড়ে কাশ্মিরিদের প্রতি এই বিদ্বেষকে কংগ্রেস এবং বিজেপির সমর্থকরা সমানতালে অংশীদার। কাশ্মিরিদের প্রতি ভারতীয়দের এই মনোভাব কাশ্মিরের ভবিষ্যত নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কাশ্মিরের নতুন প্রজন্ম কোনভাবেই ভারতকে মেনে নেবেনা। কাশ্মিরিদের প্রতি ভারতের রাজনীতি এবং জনগণের মনভাবের পরিবর্তন না হলে কাশ্মিরের স্বাধীনতাকে ঠেকানোর সম্ভাবনা খুব কম।

কাশ্মিরি মুসলমানদেরকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করতে এথনিক ক্লিনজিংও হতে পারে। অথবা পলিটিকাল মাইগ্রেশনের মাধ্যমেও কাশ্মিরি মুসলমানদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হতে পারে। অতীতে অনেক দেশই বিদ্রোহ দমনের জন্য এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

কাশ্মির নিয়ে পাক ভারত উত্তেজনা যাবে, হয়ত মাঝে মাঝে বাড়বে। কিন্তু কাশ্মিরের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত হবে। ভারতের রাজনীতিক এবং থিংকট্যাংক এটা খুব ভালো করেই জানে। ভারত কাশ্মিরকে কীভাবে ডিল করবে এইটা তাদের উপর নির্ভর করছে। তারা সদাশয় হয়ে জাতিসংঘের অধিনে গণভোটের মাধ্যমে কাশ্মিরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দ্বায়িত্ব তাদের হাতেই ন্যাস্ত করতে পারে। কিন্তু এই ধরনের পরিপক্ব এবং ইতিবাচক রাজনীতি ভারতের কাছ থেকে আশা করা যায় না।

ভারত যে কোন উপায়ে কাশ্মিরকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। কাশ্মিরকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কাশ্মিরিদের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে কাশ্মিরে প্যালেট গান ব্যবহৃত হচ্ছে। ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল ভারতকে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এর অনেক অর্থ হতে পারে।

কাশ্মিরি মুসলমানদেরকে সংখ্যালঘুতে পরিণত করতে এথনিক ক্লিনজিংও হতে পারে। অথবা পলিটিকাল মাইগ্রেশনের মাধ্যমেও কাশ্মিরি মুসলমানদের সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হতে পারে। অতীতে অনেক দেশই বিদ্রোহ দমনের জন্য এই ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতি মায়ানমারের দিকে তাকালে আমার যুক্তিগুলোর প্রমাণ পাওয়া যাবে। আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ভারত মায়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছে। তবে যাই করা হোক না কেন কাশ্মিরের স্বাধীনতাকে আটকে রাখা যাবে না!

উৎসঃ ‌জবান

আরও পড়ুনঃ পাইলটকে মুক্তি দেয়া দুর্বলতা নয়: ইমরান খান

আটক ভারতীয় পাইলট উইং কমান্ডার ভি অভিনন্দন বর্তমানকে শুক্রবার মুক্তি দিচ্ছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে এমন ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। খবর দ্য ডন।

আটক ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণার পর পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উত্তেজনা কমানোর এই পদক্ষেপকে দুর্বলতা ভাবা উচিত হবে না। ইমরান খান বলেন, শান্তির বার্তা দিতেই ভারতীয় পাইলটকে ফেরানো হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক সক্ষমতা এবং প্রবল কূটনৈতিক তৎপরতাতেই এটা সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে ফেরালে যদি পাক-ভারত উত্তেজনা প্রশমিত হয়, তাতে আপত্তি নেই পাকিস্তানের। এ ব্যাপারে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলতে চান ইমরান খান।

ইমরান খান বলেন, সব সঙ্কটই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। কিন্তু কারতারপুর করিডর খোলা সত্ত্বেও আমরা ভারতের কোনো সাড়া পাইনি।

ভারতের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে অ্যাসেম্বলিতে নিজের দেশের গণমাধ্যমের প্রশংসা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ইমরান বলেন, ভারতের গণমাধ্যম যুদ্ধের হিস্টিরিয়া তৈরি করেছে। কিন্তু আমাদের গণমাধ্যম একাত্বতা দেখিয়েছে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম ভারত কিছু করবে। কিন্তু আমাদের অভিযান চালানোর উদ্দেশ্য ছিল শক্তি প্রদর্শন এবং আমরা সেটি করেছি।

ইমরান বলেন, আমরা ভারতের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটাতে চাইনি। সে জন্য দায়িত্বশীল উপায়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমি আগেই বলেছি, ভারত যদি কিছু করে, তাহলে আমরা তার জবাব দেব।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ভারতের ৪০ জনেরও বেশি জওয়ান নিহত হয়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ এই হামলার দায় স্বীকার করে। এরপরই প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here