অবরুদ্ধ কাশ্মীর যেন আরেক ফিলিস্তিন, চলছে বিক্ষোভ

0
144

ভারতের সংবিধানের কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়া ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীর কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সেখানে বিপুল সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তারা সবকিছু চেক করছে। পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে কে কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে – সবকিছু চেক করা হচ্ছে।সকল রাস্তায় সর্বত্র হাজার হাজার সেনা, পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী টহল দিচ্ছে। সব রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সবর্ত্র কারফিউ জারি করা হয়েছে। কাউকে ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। ল্যান্ড ফোন, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট ব্লক করে দেয়া হয়েছে।

এখন কাশ্মীরে ভেতরেও কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তারা একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সব কিছু মিলিয়েই পরিস্থিতি চরম সংকট তৈরি করেছে।

সব জায়গায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছ। কারণ তারা এখনো বুঝতে পারছে না যে, কী ঘটছে বা তাদের ভাগ্যে কী আছে।

আর কয়েকদিন পরেই ঈদ। ধারণা করা হচ্ছে, ভারত সরকার তখন সাময়িকভাবে কারফিউ তুলে নেবে যেন লোকজন উৎসবের আগে কেনাকাটা করতে পারে। তবে ঈদের সময় বাড়ির বাইরে তাদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হবে কিনা। তারা এখনও তা জানেন না।

ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।সবকিছু মিলিয়ে ভারতের দখলিকৃত কাশ্মীর আরেক ফিলিস্তিনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেও কারফিউ ভঙ্গ করে সেনা, পুলিশ সহ নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্যত বন্দুকের সামনেই তারা বিক্ষোভ করছে, বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটেছে।শ্রীনগর এবং কাশ্মীরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পাথর ছোঁড়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে ভারতশাসিত কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর এখন ক্রোধে ফেটে পড়েছে।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের আগে রোববার সন্ধ্যা থেকেই কাশ্মীরে টেলিফোন, মোবাইল এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।

আগামী দিনগুলোতে সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাশ্মীরের যোগাযোগ এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যে, সেখানকার অনেক লোকই এখনো ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের খবর জানেন না। তবে যারা জানতে পেরেছেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই বলছেন যে, তারা আরো খবরের অপেক্ষায় আছেন।কারণ সবার কথা তারা বিশ্বাস করছেন না।

৫০ বছর বয়সী এক কাশ্মীরি নাগরিক বলেন, আগে তারা নিজেদের স্বাধীন ভাবতেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই স্বাধীনতাও তারা হারিয়ে ফেলেছেন। তারা ভারতের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন এবং তারা ভারতের গোলামে পরিণত হয়েছেন।

কাশ্মীরের লোকজনের এটাই সাধারণ অনুভূতি।

এখানকার মূলধারার রাজনৈতিক নেতারা গৃহবন্দী। তাদেরকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। তারা প্রতিবাদ করেছেন। ভারতের সরকারের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা উচিত হবে না, এতে হাত দেয়া ঠিক হবে না।

সুতরাং এটা স্পষ্ট যে ভারতের সরকার ও কাশ্মীরের মধ্যে যোগাযোগের অভাব ছিল। কাশ্মীরের নেতাদের গৃহবন্দী হবার কথা এখনও অনেকেই জানেন না। এ ব্যাপারে সেখানে কোন সরকারি ঘোষণাও দেয়া হয়নি।

উৎসঃ সংগ্রাম

আরও পড়ুনঃ ৭৫ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছিল কাশ্মীর


কাশ্মীরের জনগণের জীবনে ১৭৩ বছরের ব্যবধানে আরেকটি পরিবর্তন এলো। ১৮৪৬ সালে এই জাতিগোষ্ঠী বিক্রি হয়েছিল মাত্র ৭৫ লাখ রুপিতে। এই রুপি ভারতীয় রুপি নয়। ওই সময় পাঞ্জাবে প্রচলিত রুপির নাম ছিল নানকশাহী। বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৫৭ সালে নবাব সিরাজউদ্‌দৌলাকে যেভাবে একদল দেশীয় রাজাকারের সহায়তায় পরাস্ত করে বাঙালির স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আটকে দিয়েছিল, একশ’ বছরের ব্যবধানে তারা সেটাই ঘটিয়েছিল কাশ্মীরে।

১৮৪৬ সালের ১৬ই মার্চ একটি জাতি, একটি জনগোষ্ঠী। গরু যেভাবে বিক্রি হয় সেভাবেই বিক্রি করে দিয়েছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গোলাপ সিং এর কাছে। কাশ্মীরের মোট আয়তন, যা বিক্রি হয়েছিল, তা ছিল ৮৪ হাজার ৪৭১ বর্গ মাইল।

এবং মানুষ ছিল ২৫ লাখ।

জম্মুর বাসিন্দা ছিলেন গোলাপ সিং। তরুণ বয়সে মহারাজা রঞ্জিত সিং এর দরবারে যোগ দেন। এবং শিগগিরই তিনি সেই দরবারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। শিখ মহারাজা রঞ্জিত সিংহ ১৮৩৯ সালে মারা যান। তার দরবার ছিল লাহোরে। কিন্তু লাহোর দরবার তার মৃত্যুর পর শিগগিরই অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় নিজেকে কিংডম এর রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্ন দেখেন গুলাপ সিং। তিনি হাত মেলান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখন ওই এলাকা নিজেদের অধীনে আনার জন্য পলাশীর আম্রকাননের মতোই নানা ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলছিল। সেই সময়ে একজন গোলাপ সিং নিজকে বৃটিশ অনুগত হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন।

১৮৪১ সালের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে আফগানদের বিরুদ্ধে বৃটিশরা যুদ্ধ করেছিল। আর সেই যুদ্ধে বৃটিশদের পক্ষ অবলম্বন করেন তিনি। এরপর এলো তারই স্বজাতি শিখদের বিরুদ্ধে বৃটিশ যুদ্ধের দামামা। আর সেক্ষেত্রেও গুলাপকে দেখা গেল রাজাকারের ভূমিকায়।

১৮৪৫ সালের নভেম্বর মাস। বৃটিশদের মধ্যে যুদ্ধ হলো সোবরানে। পলাশীর যুদ্ধের মতোই এটা শিখদের জীবনে সোবরান যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। হয়তো সেকারণেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী গতকাল ভারতে বিজিপির দ্বারা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা খর্ব করার বিরুদ্ধে সোচ্চার। কারণ তাদের ইতিহাসের সঙ্গে কাশ্মীরের সম্পর্ক আছে।

১৮৪৫ সালে শিখ মুক্তিযোদ্ধারা গুলাব সিংকে অনুরোধ করেছিলেন তাদেরকে আসন্ন যুদ্ধে সাহায্য করতে। কিন্তু গোলাব সিং কুটবুদ্ধির মানুষ। তিনি নানা ফন্দি-ফিকির করে তাদের সহযোগিতা থেকে বিরত থাকলেন। মীরজাফরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন।

উইলিয়াম এডওয়ার্ড লিখেছেন, গুলাব সিং সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করেছিলেন যাতে তিনি তাদের সঙ্গে যোগ না দেয়ার আগ পর্যন্ত বৃটিশদের বিরুদ্ধে হামলা না চালায়। কিন্তু তিনি সেই যোগদান আর কখনো করেননি। নানা অজুহাতে তিনি সেটা এড়িয়ে চলেন। কারণ, তিনি জানতেন কালক্ষেপণ করলে বৃটিশরা শিখদের পরাস্ত করতে পারবে। এবং বাস্তবে তাই ঘটলো। আর সেজন্য গুলাব ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তিনি তার বিশ্বাসঘাতকতার জন্য লাহোর দরবারের ক্ষমতা পেলেন আর সেটাই তাকে উত্তর ভারতে ডোগরা কিংডম প্রতিষ্ঠার সুযোগ এনে দিল।

বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শিখদেরকেই দায়ী করলো যুদ্ধ বাধানোর জন্য। আর যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করলো দেড় কোটি রুপি।

তাদের পক্ষে সেটা দেয়া সম্ভব ছিল না। তখন লাহোরের দরবারের রাজা ছিলেন দুলীপ সিং। দুর্বল। তাই সহজেই তাকে অপসারণ করে বৃটিশরা লাহোর চুক্তির আওতায় গোলাপ সিংকে সার্বভৌম স্বাধীন সার্বভৌম নৃপতি হিসেবে ঘোষণা করা হলো। ১৮৪৬ সালের ৯ই মার্চ সই করা চুক্তির আওতায় নয়নাভিরাম কাশ্মীরের পাহাড়গুলো ছিল না। পরে তা পার্শ্বচুক্তি করে বৃটিশরা তার দখলদারিত্ব তুলে দেয়।

এর সাত দিন পরেই সেই কুখ্যাত কাশ্মীর বিক্রি চুক্তি হলো।

এ রকমের চুক্তির কথা ইতিহাসে কেউ কখনো শোনেনি যে, একটি জনগোষ্ঠীকে তার নদী-নালা খাল-বিল ক্ষেত-খামার সহ একজন মাত্র ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়া সম্ভব। এটি হয়তো পৃথিবীর ইতিহাসের একমাত্র কুখ্যাত চুক্তি যা দিয়ে একটা জাতি রাষ্ট্রকে বিক্রি করে দিয়েছিল বৃটিশ সরকার।

তার ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বহু ধরনের অভিযোগের কথা, বহু কাহিনীর কথা বিশ্বের দেশে দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কিন্তু কাশ্মীরি চুক্তির মতো লজ্জাজনক বিক্রি আর কেউ কখনও শোনেনি ইতিহাসে।

কিন্তু বৃটিশ সরকার তাদের অতীতের কৃতকমের্র বহু কিছুর জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করলেও এই কাশ্মীর বিষয়ে তারা নীরব। ৭৫ লাখ রুপিতে বিক্রি করে দেয়ার জন্য তারা কোনোদিন অনুশোচনা করেনি।

ডোগরা শাসনে কাশ্মীরি জনগণের উপরে বিরাট নির্যাতন ও নিপীড়নের ইতিহাস সকলের কাছে সুবিদিত। কাশ্মীরের মুসলমানরা নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিল। মুসলমানদের বিরুদ্ধে অন্যায় অত্যাচার নির্যাতন ছিল ডোগরা শাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

এরপর এলো ১৯৪৭ সালের দেশভাগ। দেশভাগের মূলমন্ত্র ছিল হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ভারতে যাবে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো পাকিস্তানে যাবে। আর সে কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই জম্মু-কাশ্মীরের মুসলমানরা পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। কিন্তু এখানেও আবার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাজা হরি সিং তখন জম্মু-কাশ্মীরের শাসক। তিনি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু এবং লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে যোগসাজশ করলেন। কাশ্মীরিরা না যেতে পারল পাকিস্তানে, না পেল আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার।

উৎসঃ মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ভারতের ৯ রাজ্যে ভাঙনের সুর


কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫ ধারা বাতিল করায় উত্তপ্ত গোটা ভারত। দেশ-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ৯টি রাজ্যে ভাঙনের সুর বইছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে রাজ্যগুলোর নাগরিকরা।

ভারতের সংবিধানের ৩৬৮ ধারার ভিত্তিতে ৩৭১ নম্বর ধারায় নয়টি রাজ্যকে বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা ও অধিকার দেয়া হয়েছে। ওই রাজ্যগুলো হলো; কাশ্মীর, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, আসাম, মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল ও অন্ধ্রপ্রদেশও রয়েছে।

কাশ্মীরিদের জন্য রক্ষাকবচ সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা বাতিল করায় এখন বাকি রাজ্যগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওইসব রাজ্যেও ভাঙনের সুর দেখা যাচ্ছে।

মিজোরামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা লালথানহাওলা বলেন, এ ঘটনা মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশের মতো রাজ্যের পক্ষে আতঙ্কের।

কংগ্রেস মুখপাত্র লাল লিয়াংচুঙ্গা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ৩৭১ ধারায় হাত পড়লে রুখে দাঁড়াবে মিজোরা। নিজেদের অধিকার রক্ষায় আমরা আত্মবলিদানেও প্রস্তুত।

নাগাল্যান্ডের বৃহত্তম জনজাতি মঞ্চ নাগা হো হো-র সভাপতি চুবা ওঝুকুমের বলেছেন, আমরাও অধিকার হারানোর আশঙ্কায় ভুগছি। ভারত-নাগা শান্তি আলোচনা চলাকালীন কেন্দ্র নাগাদের অধিকারে হাত দিলে ফল খারাপ হবে।

উৎসঃ সময়টিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মির নিয়ে ভারতীয় পদক্ষেপ আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন: চীন


কাশ্মির নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ এ অঞ্চলের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বকে ক্ষুন্ন করেছে।

সম্প্রতি কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করে চীন। একইসাথে চীন এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতাও করে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনাইং বলেন, চীন সবসময়ই চীন-ভারত সীমান্তে ভারতের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে। এমনকি এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নেয়া লাদাখ একইসাথে চীনা ভূখন্ড বলে জানায় চীন।

ভারত একতরফাভাবে তার সংবিধান পরিবর্তন করে চীনা সার্বভৌমত্বকেও হুমকির মুখে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন হুয়া চুনাইং।

হুয়া বলেন, ভারতের এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং এর কোন আইনী ভিত্তি নেই।

হুয়া বলেন, চীন সীমান্ত ইস্যুতে ভারতকে আরও সতর্ক হতে হবে। এবং এমন কোন পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে যাতে দুই দেশ তাদের মধ্যকার চুক্তিসমূহ মেনে চলতে পারে।

একইসাথে বিতর্কিত এ অঞ্চলে ভারতের বিপুল সেনা মোতয়নে চীন উদ্বিগ্ন বলেও জানায় এই মুখপাত্র।

হুয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযত আচরণ করতে হবে যাতে কোন পদক্ষেপ এ অঞ্চলের শান্তি বিনষ্ট করে তাতে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি না করে।

তিনি আরও বলেন, এ ইস্যুতে দু দেশকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুজে বের করতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানে আসতে হবে যাতে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা পায়।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ ‘ইমরান খান কাশ্মিরকে ট্রাম্পের কাছে বিক্রি করে এসেছেন’


কাশ্মির নিয়ে চলমান উত্তেজনায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কঠিন সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের ইসলামপন্থি দলগুলোর জোট মজলিসে মুত্তাহিদা আমলের প্রধান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুর রহমান।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইমরান খান কাশ্মিরকে ট্রাম্পের কাছে বিক্রি করে এসেছেন এবং নিজেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে খালি হাতে এসেছেন। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, মোদি সরকার যা করেছে তা আকস্মিক কিছু নয়। নির্বাচনের সময়ই নরেন্দ্র মোদি কাশ্মিরের সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের কথা বলেছিলেন। বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতেও তারা বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিল।

কাশ্মির ইস্যুটি এখন আন্তর্জাতিক ফোরাম থেকে বেরিয়ে গেছে মন্তব্য করে পাকিস্তানের প্রভাবশালী এ রাজনীতিবীদ বলেন, ভারত একতরফাভাবে এখন কাশ্মিরকে নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছে। অথচ আমাদের সরকার এখনও বসে বসে তামাশা দেখছে।

সরকারের সমালোচনা করে পাকিস্তানের কাশ্মির কমিটির সাবেক সভাপতি আরও বলেন, কাশ্মির বিষয়ে সরকার এখনও কোনো পলিসি নির্ধারণ করেনি। সেনা কমান্ডারদের বৈঠকেও কাশ্মির নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে, অথচ সরকার এখনও স্পষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীও কাশ্মির ইস্যুতে চুপ রয়েছেন।

কাশ্মিরের বর্তমান সংকটের জন্য ইমরান খানকে দায়ী করে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে ইমরান খান কাশ্মিরকে ট্রাম্পের কাছে বিক্রি করে এসেছেন। সিলেক্টেড প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের কাছ থেকেও খালি হাতে ফিরে এসেছেন। আত্মসমর্পণ করা ইমরান খানের বংশীয় স্বভাব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাই সংকটকালীন এ মুহূর্তে জনগণ এ সরকারের ওপর ভরসাও রাখতে পারছে না। আমি পাকিস্তানবাসীর কাছে আবেদন করব, আসুন আমরা এক হই। আজাদীর এ লড়াইয়ে আমাদের কাশ্মিরিদের সহায়তা করতে হবে।

কাশ্মিরি জনগণকে আমাদের আশ্বস্ত করতে হবে যে, আমরা এ সময় তাদের সঙ্গে রয়েছি।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মির ইস্যুতে জরুরি বৈঠক ডেকেছে ওআইসি


ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির সমস্যা নিয়ে বৈঠক ডেকেছে অরগ্যানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। ভারত সরকার কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ায় এ বৈঠকের জন্য আহ্বান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ড. মোহাম্মদ ফয়সাল। তিনি জানান, মঙ্গলবার জেদ্দায় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

এক টুইটবার্তায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ফয়সাল বলেন, ওআইসির আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশী কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানকে তুলে ধরবেন।

জম্মু-কাশ্মির নিয়ে ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে নিন্দনীয় এবং অবৈধ বলে উল্লেখ করে মোহাম্মদ ফয়সাল জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখার বিষয়ে আজ জেদ্দায় ওআইসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী রাওয়ালপিন্ডিতে বৈঠক করে। এর পরই পাক আইএসপিআরের পক্ষ থেকে কাশ্মিরীদের সমর্থনের ঘোষণা দেয়া হয়। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কাশ্মিরীদের প্রতি দায়বদ্ধতা পূরণে যে কোনো কিছু করতে পাক সেনাবাহিনী প্রস্তুত।

এর আগে সোমবার সকালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব করেন। সংসদের অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতির সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মিরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হয়। সেই সঙ্গে একটি স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদাও হারায় কাশ্মীর।

আইনটি পাস করার আগে থেকে জম্মু ও কাশ্মিরে ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল ভারত সরকার। পরে তাদের সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-ক ধারা অনুযায়ী কাশ্মিরের বাসিন্দা নয় এমন ভারতীয়দের সম্পদের মালিক হওয়া এবং চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল।

৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মিরের এমন এক স্বায়ত্তশাসন রয়েছে যা ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের রাজ্য পায়নি।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মিরকে নিজেদের সংবিধান এবং একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দিয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দিয়েছে।

সংসদে ক্ষমতাসীন জোট সোমবার ধারা দুটি বাতিলের যে বিল উত্থাপন করে তা পাস হওয়ায় কাশ্মিরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দশা এখন ফিলিস্তিন কিংবা মিয়ানমারের রাখাইনের রোহিঙ্গাদের মতো হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

এর আগে গত রোববার ওআইসির তরফ থেকে জম্মু-কাশ্মিরে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ পরাধীন কাশ্মিরের ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ


ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার সোমবার সংবিধানের অধীন কাশ্মিরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে। এতে উপত্যকাটিতে নতুন করে র*ক্তপাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিরোধপূর্ণ হিমালয় অঞ্চলটিতে বড় বড় রাজনৈতিক ও সশ*স্ত্র সংঘা*তের সময় এখানে উল্লেখ করা হল। এসব সংঘা*তে ৭০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছেন।

১৯৪৭-১৯৪৯

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার পর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। সাবেক হিমালয় রাজ্য কাশ্মির ওই দুই দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। ভূখণ্ডটির ওপর সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব পেতে দেশ দুটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

১৯৪৯ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ সমর্থিত একটি অস্ত্রবিরতি রেখায় সম্মত হয় ভারত-পাকিস্তান। নিয়ন্ত্রণরেখা নামে যেটি এখনও দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত হয়ে আছে।

১৯৫৩

জম্মু ও কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহকে বরখাস্ত এবং কারাবন্দি করে ভারত। উপত্যকাটির স্বাধীনতায় তার সমর্থনের জন্য ১১ বছর তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়। পার্টিশনের পর অবশেষে ১৯৭৫ সালে রাজ্যটির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি ক্ষমতায় ফিরে আসেন।

১৯৫৭

জম্মু ও কাশ্মিরের সংবিধান কার্যকর করা হয়। রাজ্যটিকে ইন্ডিয়ান ইউনিয়নের বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়।

১৯৬৫-৬৬

কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণের জন্য ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান। কোনো নিষ্পত্তি ছাড়াই সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতির মধ্য দিয়ে সেই যুদ্ধ শেষ হয়।

১৯৭১-৭২

ভারত-পাকিস্তান সিমলা চুক্তি সই করে এবং নিয়ন্ত্রণরেখা নামে পরিচিত একটি অস্ত্রবিরতি লাইনে তারা একমত হয়।

১৯৮৪

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে ভারতের জেলে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী জম্মু-কাশ্মির লিবারেশন ফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাতা মকবুল ভাটকে।

১৯৮৯-৯০

কাশ্মীরে ভারতের শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ে এবং রাজ্যটিতে ভারত সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসন আরোপ করে।

১৯৯৬

সাত বছরের মধ্যে কাশ্মিরে রাজ্যসভার নির্বাচন হয়। কিন্তু নয়াদিল্লির বলপ্রয়োগের অভিযোগের কারণে নির্বাচনটি বিতর্কিত হয়। এটি ঠিক ১৯৮৭ সালের নির্বাচনের মতো হয়। যেটা দুর্নীতি ও স*শস্ত্র বিদ্রোহের কারণে গোলযোগপূর্ণ হয়েছিল।

১৯৯৯

কাশ্মিরের কার্গিল সেক্টরে অভিযান চালায় পাকিস্তান। ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে দুই পক্ষের হাজারখানেক সেনা মারা যায়। মার্কিন চাপে ওই যুদ্ধ বন্ধ হয়।

এ বছর দুই দেশ লাহোর ঘোষণায় সম্মত হয়। কাশ্মিরসহ সব ইস্যুতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানানো হয় এতে।

২০০১-২০০৩

ভারতীয় শহর আগ্রায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের সম্মেলন কাশ্মির ইস্যুতে অবসান ঘটে।

২০০১ ও ২০০২ সালে দফায় দফায় হাম*লায় নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত-পাকিস্তানের সেনা জড়ো করে। ২০০৩ সালের নভেম্বরে একতরফা অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করে পাকিস্তান।

২০০৮

বার্ষিক তীর্থযাত্রার ব্যবস্থাপনায় একটি ট্রাস্টকে একখণ্ড জমি দেয়ার পরিকল্পনা করে রাজ্য সরকার। এতে বিচ্ছিন্নবাদীরা হিন্দু অধিগ্রহণ ও ভারতবিরোধী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরবর্তী সময়ে ওই পরিকল্পনা বাতিল ঘোষণা করা হয়।

২০১০

তিন বেসামরিক লোক নিহত হওয়ার পর এক র*ক্তাক্ত বিদ্রোহ শুরু হয়। সড়কে বিক্ষোভ করায় শতাধিক লোককে হ*ত্যা করা হয়।

২০১৬

এক জনপ্রিয় বিদ্রোহী নেতাকে হ*ত্যার জেরে কয়েক মাস ধরে কাশ্মিরের রাস্তায় বিক্ষোভ চলে। এতে কয়েকশ লোক নিহত হন।

ওই বছর একটি সেনাঘাঁটিতে হামলায় ১৮ জওয়ান নিহত হন। ১৫ বছরের মধ্যে বিদ্রোহীদের সবচেয়ে বড় হা*মলা ছিল এটি।

২০১৯

স্থানীয় এক তরুণের আত্ম*ঘাতী হাম*লায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ জওয়ান নিহত হন। পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদ ওই হাম*লার দায় স্বীকার করে।

এ ঘটনার জেরে পাকিস্তানের বালাকোট শহরের বাইরে বোমা হা*মলা চালায় ভারত। পাকিস্তানও পাল্টা হা*মলা চালালে এক ভারতীয় পাইলট আটক হন। শান্তির নিদর্শন হিসেবে ইমরান খান তাকে ফেরত দেন।

সোমবার কাশ্মিরের স্বায়ত্তশানের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে রাজ্যটিকে দুই ভাগে বিভক্ত ঘোষণা করে ভারত। গত সাত দশক ধরে এই স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছিল কাশ্মির।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরকে ভাগ করার সিদ্ধান্ত না মানার ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের


কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের যে সিদ্ধান্ত বিজেপি সরকার নিয়েছে তা না মানার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার চেন্নাই যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

মমতা বলেন, আমি বিশ্বাস করি কাশ্মীরের বাসিন্দারাও আমাদের ভাই-বোন। আমি এ পদ্ধতির সঙ্গে একমত নই। আমাদের দল কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এই বিলকে সমর্থন করতে পারি না।

৩৭০ ধারা বিলুপ্তির আইনটি গণতান্ত্রিকভাবে হয়নি দাবি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারতো। বিষয়টি নিয়ে কাশ্মীরের জনগণকে ডাকা উচিত ছিল। আলোচনার মাধ্যমে সবাইকে সহমতে এনে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া যেত। কোনো কিছুই স্থায়ী নয়।

জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতারের কড়া সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারা কেউই সন্ত্রাসবাদী নন উল্লেখ করে গণতন্ত্রের স্বার্থে অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কাশ্মির দখলে মোদিকে অভিনন্দন জানানোর পর মারা গেল সুষমা স্বরাজ


ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৬ জুলাই) নয়াদিল্লির এআইআইএমএস হাসপাতালে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি।

৩ ঘণ্টা আগেও শেষ টুইটার পোস্টে কাশ্মীরে ৩৭০ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন স্বরাজ। এই দিনের জন্য সারা জীবন তিনি অপেক্ষা করেছিলেন বলে ওই পোস্টে জানান সুষমা।

সেই টুইটের বেশ কিছুক্ষন পর তাকে সঙ্কটজনক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। ইতোমধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও নীতিন গদকড়ি। এবার লোকসভা নির্বাচনে ভোটে লড়েননি তিনি। নিজেই জানিয়েছিলেন সেই ইচ্ছার কথা।

তবে, বাংলাদেশে আওয়ামীলীগকে অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসাতে উনি নির্লজ্জভাবে বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। একারণে উনি বাংলাদেশের দেশপ্রেমী মানুষের কাছে ঘৃণিত ব্যক্তি ছিলেন। গত পাঁচ বছরে ভারতের স্বরাজের কথিত সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসা পেয়েছে ভারতের হিন্দুবাদী মহলে। রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তান বিরোধী কড়া বার্তা মনে রাখার মতো। যখনই কোনো ভারতীয় বিশ্বের কোনো প্রান্তে বিপদে পড়েছেন, তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সুষমা। দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে আটকে থাকা মুক ও বধির ভারতীয় মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে এনেছেন সুষমা।

তার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে কংগ্রেস।

সুষমা স্বরাজ (এই শব্দ সম্পর্কেএই শব্দ উচ্চারণ সম্পর্কে (সাহায্য·তথ্য)) (জন্ম ১৪ ফেব্রুয়ারী ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে। সে একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক আইনজীবী ছিলেন। ভারতীয় জনতা পার্টির একজন সিনিয়র নেতা ও সাবেক সভাপতি, তিনি ২৬ মে ২০১৪ সাল থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন; ইন্দিরা গান্ধীর পর তিনি দ্বিতীয় নারী হিসাবে এই দফতরের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি সংসদ সদস্য (লোকসভা) হিসাবে সাতবার এবং আইন পরিষদের (বিধানসভা) সদস্য হিসাবে তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৭ সালে ২৫ বছর বয়সে, তিনি উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যর মন্ত্রীসভার সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৩ অক্টোবর ১৯৯৮ সাল থেকে ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি দিল্লীর ৫ম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সুষমা স্বরাজ (নীর শর্মা) ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে হরিয়ানার আম্বালা ক্যান্টনমেন্টে[৪] হারেদে শর্মা ও শ্রীমতী লক্ষ্মী দেবীর সন্তান হিসাবে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাষ্ট্রীয় স্বায়ত্ত্বক সংঘের সদস্য। তার বাবা-মা পাকিস্তানের লাহোর শহরের ধরামপুরা এলাকা থেকে এসেছিলেন। তিনি আম্বালা ক্যান্টনমেন্টের সনাতন ধর্ম কলেজে পড়াশোনা করেন এবং সংস্কৃত ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানে প্রধানের সাথে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যয়ন করেন। হরিয়ানার ভাষা বিভাগ দ্বারা অনুষ্ঠিত একটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় তাকে তিন বছরের জন্য সেরা হিন্দি বক্তার পুরস্কার জিতেছিল।

উৎসঃ সময় টিভি, বিবিসি, এনডিটিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মিরের উপর অধিকার হারিয়েছে ভারত: আজাদ কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী


জম্মু-কাশ্মিরের উপর ভারত পাকাপাকিভাবেই তার অধিকার হারালো।

সোমবার ভারতীয় রাজ্যসভায় ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ ও কাশ্মিরকে কাশ্মিরকে দুইভাগ করে সেখানে কেন্দ্রের শাসন প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত বিল পাশ হবার পর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু-কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক হায়দার।

প্রধানমন্ত্রী রাজা ফারুক বলেন, ভারত এর মাধ্যমে কাশ্মিরের উপর তার অধিকার হারালো। এ পরিস্থিতিতে আজাদ কাশ্মিরের আইনসভায় একটি বিশেষ অধিবেশনও ডাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কখনোই ভারতের অংশ ছিলাম না কিন্তু ভারত আজ লাদাখ ও জম্মু ভ্যালিও হারালো।

এসময় তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক কাশ্মিরে গণহত্যা চালানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেন।

রাজা হায়দার বলেন, সরকার শুধু মাত্র ভারতীয় প্রোপাগান্ডার জবাবই দেবেনা বরং কাশ্মির নিয়ে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিও বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে। ভারত এমন পরিস্থিতি তৈরি করে পাকিস্তানের সাথে একটি জটিল সম্পর্ক সৃষ্টি করছে।

আজাদ কাশ্মির প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে কথা বলেছি এবং কাশ্মিরে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের ভ্রমণের প্রস্তাব রেখেছি। আমাদের কিছুই লুকানোর নেই সেখানে যা চলছে তা অবশ্যই দেখা উচিত। ভারতের উপর চাপ প্রয়োগ করে হলেও সেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের ভ্রমণ করা উচিত।

হায়দার বলেন, সরকারের খুব দ্রুতই বিশ্বনেতৃবৃন্দের সাথে কাশ্মির সমস্যা নিয়ে সমাধানে বসা উচিত।

এসময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, পাকিস্তানী বাহিনী নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর শক্ত অবস্থানে আছে তারা ভারতের যে কোন পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেবে। আজাদ জম্মু-কাশ্মিরের সকল জনগণ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পাশে থাকবে।

হায়দার কাশ্মির ইস্যুতে সরব থাকার জন্য পাকিস্তানী রাজনীতিবীদদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙ্গে গেল : ক্যাপ্টেন অমরিন্দর

কোন ধরনের আলোচনা ছাড়াই আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল করা হলো, এটি কোন ভাল ফল বয়ে আনবেনা। এটি ভারতের ইতিহাসে একটি কালোদিন হিসেবেই গণ্য হবে।

এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অব. অমরিন্দর সিং। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে গণতান্ত্রিক ও আইনী নিয়মের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে এ সিদ্ধান্ত জম্মু-কাশ্মিরের উপর চাপিয়ে দেয়া হলো তাতে ভারতের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে।

ক্যাপ্টেন অমরিন্দর বলেন, “ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি অন্ধকার দিন,” এর ফলে ভারতে একটি খারাপ নজির স্থাপন করা হলো। ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে অন্যান্য রাজ্যগুলোর স্বাধীকার লঙ্ঘন করারও পথ তৈরি হলো। অথচ এটি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা যেতো।

একইসাথে অমরিন্দর পাঞ্জাবে আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল উপলক্ষ্যে সকল ধরনের উদযাপন নিষিদ্ধ করে পাঞ্জাবে অবস্থানরত ৮ হাজার কাশ্মিরী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে পাকিস্তান সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ ভারতের ভাঙন শুরু হয়ে গেল: সাবেক মন্ত্রী চিদম্বরম


যত বড় পদক্ষেপ, ঠিক ততটাই চড়া স্বরে শুরু হয়ে গেল বিরোধিতা। এখন থেকেই শুরু হয়ে গেল ভারতের ভাঙন— রাজ্যসভা থেকে বেরিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম। আর রাজ্যসভার মধ্যে বিরোধী দলনেতা গোলাম নবি আজাদের মন্তব্য— হত্যা করা হল সংবিধানকে। জম্মু-কাশ্মীরের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লা গৃহবন্দি থাকায় আসতে পারেননি মিডিয়ার সামনে। কিন্তু টুইটারে তাঁরা দু’জনেই তীব্র আক্রমণে বিঁধলেন মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারকে।

জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের কথা এ দিন অমিত শাহ রাজ্যসভায় ঘোষণা করা মাত্রই তুমুল হট্টগোল শুরু করে দেন বিরোধী দলগুলির সাংসদরা। কংগ্রেসের গুলাম নবি আজাদ, তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, ডিএমকে-র তিরুচি শিবা, এমডিএমকে-র ভাইকোদের নেতৃত্বে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জম্মু-কাশ্মীরের দল পিডিপির দুই সাংসদ সংবিধানের প্রতিলিপি সংসদের মধ্যেই ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগেই রুলিং দিয়েছিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। কিন্তু তাতেও হট্টগোল আটকানো যায়নি। পিডিপি সাংসদদের আচরণে প্রবল অসন্তুষ্ট হন বেঙ্কাইয়া, মার্শাল ডেকে বার করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তাঁদের। হট্টগোলের মধ্যেই অমিত শাহ কাশ্মীর সংক্রান্ত ঘোষণাপত্র এবং বিল পড়ে শোনাতে থাকেন।

চেয়ারম্যানের বিশেষাধিকার প্রয়োগের সুবাদে অমিত শাহ তাঁর কাজ সেরে ফেলেন ঠিকই। কিন্তু তাতে রাজ্যসভার উত্তাপ কমানো যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকারকে তথা বিজেপি-কে তীব্র আক্রমণ শুরু করে বিভিন্ন বিরোধী দল। সংসদের ভিতরে শুধু নয়, বাইরেও শুরু হয় ক্ষোভ উগরে দেওয়া।

নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে এবং তার নীতিকে এ দিন সবচেয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন পি চিদম্বরম। গুলাম নবি আজাদ, ডেরেক ও’ব্রায়েনদের পাশে নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন দেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘সাংবিধানিক ইতিহাসে আজ কালো দিন। সরকার যা করেছে, তা অভূতপূর্ব।’’

চিদম্বরম গোটা দেশকে সতর্ক করে দেওয়া ঢঙে বলেন, ‘‘এটা যদি জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে করা যায়, তা হলে দেশের অন্য রাজ্যগুলোর প্রত্যেকটার সঙ্গেই করা যেতে পারে।’’ প্রবীণ কংগ্রেস নেতার ব্যাখ্যা, ‘‘প্রথমে রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়া হবে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হবে, বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হবে, বিধানসভার ক্ষমতা সংসদের হাতে যাবে, সরকার সংসদে একটা প্রস্তাব আনবে, সেটাতে সংসদ অনুমোদন দেবে এবং রাজ্যটা আর থাকবে না।’’ চিদম্বরম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন— প্রত্যেকটা রাজ্যকে এই ভাবে ভেঙে দেওয়া যাবে, দুটো অথবা তিনটে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা যাবে।

এর পরেই আসে চিদম্বরমের সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি। তিনি বলেন, ‘‘এই সরকার যদি এই পথেই এগোতে থাকে, তা হলে এখন থেকেই ভারতের ভাঙন শুরু হয়ে গেল।’’

জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভায় বর্তমানে কংগ্রেসের দলনেতা গুলাম নবি আজাদ বলেন, সংবিধানকে হত্যা করা হল। ভারতের মানচিত্র থেকে একটা রাজ্য আজ মুছে গেল— এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি,আনন্দবাজার

আরও পড়ুনঃ বিজেপি সংবিধানকে ধর্ষণ করেছে, আরেকটি ফিলিস্তিন বানাচ্ছে: রাজ্যসভা এমপি


কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই-এম) এমপি টিকে রঙ্গরাজন বলেছেন, ‘আজকের দিনটি কালো দিবস। বিজেপি ভারতের সংবিধানকে ধর্ষণ করেছে। আপনারা জম্মু-কাশ্মির-লাদাখের মানুষের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করেননি। আইনসভা (জম্মু কাশ্মিরের) বিলোপ করেছেন। কোনো নির্বাচন আয়োজন করেননি। ওখানে নতুন করে ৩৫ হাজার সৈন্য পাঠিয়েছেন। আপনারা আরেকটি ফিলিস্তিন বানাচ্ছেন।’

রাজ্যসভায় আজ সকালে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু-কাশ্মিরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা (৩৭০ ধারা) বাতিলের প্রস্তাব পেশ করার পর এমপি রঙ্গরাজন এসব কথা বলেন।

অবশ্য একই সময় শিবসেনার এক এমপি জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা ও রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি কেড়ে নেয়ার ঘটনাকে অখণ্ড ভারত গঠনের পথে একধাপ অগ্রগতি হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

অমিত শাহ রাজ্যসভায় কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদ রদ করার প্রস্তাব এবং জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখকে আলাদা আলাদাভাবে কেন্দ্রের শাসনের অধীনের বিল সংসদে পেশ করার পর শিবসেনা এমপি সঞ্জয় রাউত বলেন, “আজ আমরা জম্মু কাশ্মির পেলাম। কাল বেলুচিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির নিয়ে নেবো। আমি নিশ্চিম প্রধানমন্ত্রী মোদি অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন সত্যি করবেন।”

এর আগে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরকে দুইভাগে ভাগ করার প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ সকালে সংসদে ‘জম্মু ও কাশ্মির রিঅর্গানাইজেশন বিল ২০১৯’ নামের এই বিলটি উপস্থান করা হয়। এতে লাদাখ ও জম্মু কাশ্মিরকে আলাদা আলাদা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় অঞ্চলই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা শাসিত হবে। তবে জম্মু ও কাশ্মিরের নিজস্ব একটি আইনসভা থাকবে আর লাদাখের আইনসভা থাকবে না।

রাজ্য ও বিধানসভায় উভয় জায়গায়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাশ হবে এসব প্রস্তাব ও বিল।

এদিকে প্রস্তাব পেশের পর বিশেষ মর্যাদা রদ করার প্রজ্ঞাপনে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মিরের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’; যা ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ পরিচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব রাখার সাথে সাথে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। তাদের শোরগোলের মধ্যে অমিত শাহের বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না।

স্পেশাল স্টেটাস এর অধীনে জম্মু কাশ্মির রাজ্যের নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা সহ, স্থাপবর সম্পত্তির মালিকানা, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখতো, যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ছিলো না।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ বিজেপি সংবিধানকে হত্যা করলো: গোলাম নবী আজাদ


কাশ্মিরের স্পেশাল স্ট্যাটাস প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়ে এবং রাজ্যটিকে দিখণ্ডিত করার মাধ্যমে বিজেপি ভারতের সংবিধানকে হত্যা করেছে বলে অভিহিত করেছেন রাজ্যসভায় বিরোধী দলীয় নেতা গোলাম নবী আজাদ।

কাশ্মিরের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা কোনো সাধারণ দিন নয়। ঐতিহাসিক কিছু ঘটে গেল। যা করা হয়েছে তার কঠোর নিন্দা জানাই। আমরা ভারতের সংবিধানের পক্ষে লড়াই করবো। আজ বিজেপি সংবিধানকে হত্যা করলো।”

এর আগে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরকে দুইভাগে ভাগ করার প্রস্তাব পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ সকালে সংসদে ‘জম্মু ও কাশ্মির রিঅর্গানাইজেশন বিল ২০১৯’ নামের এই বিলটি উপস্থান করা হয়। এতে লাদাখ ও জম্মু কাশ্মিরকে আলাদা আলাদা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় অঞ্চলই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা শাসিত হবে। তবে জম্মু ও কাশ্মিরের নিজস্ব একটি আইনসভা থাকবে আর লাদাখের আইনসভা থাকবে না।

রাজ্য ও বিধানসভায় উভয় জায়গায়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাশ হবে এসব প্রস্তাব ও বিল।

এদিকে প্রস্তাব পেশের পর বিশেষ মর্যাদা রদ করার প্রজ্ঞাপনে ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজনাথ কোবিন্দ স্বাক্ষর করেছেন।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কাশ্মিরের ‘স্পেশাল স্ট্যাটাস’; যা ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ পরিচ্ছেদের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে তা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাব রাখার সাথে সাথে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। তাদের শোরগোলের মধ্যে অমিত শাহের বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না।

স্পেশাল স্টেটাস এর অধীনে জম্মু কাশ্মির রাজ্যের নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ন্ত্রণ করা সহ, স্থাপবর সম্পত্তির মালিকানা, মৌলিক অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ছাড়া নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার রাখতো, যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ছিলো না।

এদিকে রাজ্যসভায় ভাষণ শেষে লোকসভায় ভাষণ দেবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

উৎসঃ যমুনা নিউজ টিভি

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরি জনগণকে সর্বাত্মক সহায়তার ঘোষণা পাকিস্তানের


কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান।

সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের রাজ্যসভায় ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের স্বাক্ষরের পর পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তা প্রত্যাখ্যান করে। খবর ডন ও জিয়ো নিউজ উর্দুর।

৩৭০ ধারা বাতিলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কাশ্মীর একটি বিরোধপূর্ণ এলাকা। যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি স্বীকৃত বিষয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মীর বিষয়ে ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত ওই রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদা বাতিল করতে পারে না। কাশ্মীরি জনগণ ভারতের এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না।

ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের লড়াইয়ে কাশ্মীরি জনগণকে রাজনৈতিক,কূটনৈতিকসহ সর্বপ্রকারের সহায়তা দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ পাকিস্তান।

এর আগে রোববার দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ভারত যদি কোনো অপরিণামদর্শী অঘটন কিংবা আগ্রাসন চালায়, তবে পাকিস্তান উপযুক্ত জবাব দেবে।

নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে বেসামরিক লোকজনকে নিশানা করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুচ্ছ গোলা নিক্ষেপের পর ইমরান এই বৈঠকের ডাক দেন।

এতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারভেজ খাত্তাক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরাইশি, সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ও অন্যান্য সামরিক এবং বেসামরিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজাদ কাশ্মীরে অস্থিতিশীলতা বাড়াতে ভারতীয় চেষ্টার নিন্দা জানানো হয়েছে বৈঠকে। বিবৃতিতে বলা হয়, আফগান সংঘাত নিরসনের দিকে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পাকিস্তান আলোকপাত করছে, তখন এই অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৈঠকে বলা হয়, ভারতীয় আগ্রাসনে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাবে এবং তা অস্থিতিশীলতার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের সংবিধানের ৩৫-ক ধারা ও ৩৭০ অনুচ্ছেদ কাশ্মীরকে যে মর্যাদা দিয়েছে তা বাতিল করেছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার।

সোমবার সকালে ভারতীয় পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রস্তাব করেন। সংসদের অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতির সইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই কাশ্মীরকে বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা দেয়া ৩৭০ ধারা বিলুপ্ত হল। সেই সঙ্গে একটি স্বায়ত্বশাসিত রাজ্যের মর্যাদাও হারাল কাশ্মীর।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৫-ক ধারা অনুযায়ী কাশ্মীরের বাসিন্দা নয়—এমন ভারতীয়দের সম্পদের মালিক হওয়া এবং চাকরি পাওয়ায় বাধা ছিল।

৩৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরের এমন এক স্বায়ত্তশাসন রয়েছে যা ১৯৪৭ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশের রাজ্য পায়নি।

অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান এবং একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দিয়েছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দিয়েছে।

সংসদে ক্ষমতাসীন জোট সোমবার ধারা দুটি বাতিলের যে বিল উত্থাপন করে তা পাস হওয়ায় কাশ্মীরে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দশা এখন ফিলিস্তিন কিংবা মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের মতো হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here