কাশ্মীরে রসায়ন শিক্ষককে পুলিশি হেফাজতে হত্যা

0
324

ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পুলিশি হেফাজতে এক শিক্ষককে হত্যা করার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কয়েকশ বিক্ষোভকারী। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।-খবর আল জাজিরার।

নিহত ২৯ বছর বয়সী রিজওয়ান আসাদ পানডিট ছিলেন রসায়নের শিক্ষক। সন্ত্রাসী মামলার তদন্তের সময় তাকে আটক করা হয়েছিল। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, তাদের হেফাজতে ওই শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

কিন্তু রিজওয়ানের পরিবারের অভিযোগ, তাকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।

তার ভাই মুসাব্বির আসাদ বলেন, রোববার রাতে আওয়ান্তিপোরা গ্রামের বাড়ি থেকে রিজওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে ছেড়ে দেয়া হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছিল। আমার ভাই কোনো তৎপরতায় জড়িত ছিল না। তাকে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এক আত্মঘাতী হামলায় ভারতীয় একটি আধাসামরিক বাহিনীর ৪৪ জওয়ান নিহত হওয়ার পর কাশ্মীরে উত্তেজনা চলছে। পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলওয়ামা হামলার ঘটনায় এই রসায়ন শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি বিস্ফোরক বানাতে পারেন বলে আমাদের কাছে তথ্য ছিল। এ ছাড়া সাম্প্রতিক হামলায় তার ভূমিকা ছিল সন্দেহজনক।

রিজওয়ানের নিহতের ঘটনায় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হরতাল ডেকেছে। সর্বদলীয় হুররিয়াত পার্টির নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক এক টুইট পোস্টে বলেন, কারা হেফাজতে এ নিমর্ম হত্যাকাণ্ড আমাদের কাশ্মীরিদের অসহায়ত্ব, ঝুঁকি এবং জীবনের অনিরাপত্তার বিষয়টিও ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়মুক্তি দেয়ায় কাশ্মীরিদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ১৯৮৯ সালের সশস্ত্র বিদ্রোহের পর থেকে শতশত লোক কারা হেফাজতে নিহত হয়েছেন। যদিও নিহতদের সংখ্যা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। কিন্তু এ ধরনের মৃত্যু নিয়ে কাউকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হয়নি।

মানবাধিকারকর্মী খুররাম পারভেজ বলেন, সম্প্রতি বছরগুলোতে কারা হেফাজতের মৃত্যুর ঘটনা কমে গিয়েছিল। গত তিন দশকে ৭০ হাজার মানুষকে হত্যার তালিকায় রিজওয়ানের নাম নতুন যোগ হয়েছে। এ ছাড়া আট হাজার গুম ও অজস্র লোক নির্যাতন এবং যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চে হামলায় নিহত সিরীয় শরণার্থী ও তার ছেলের দাফন


ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে জোড়া হামলায় নিহত অর্ধশত মুসল্লির মধ্যে বুধবার প্রথমবারের মতো এক সিরীয় শরণার্থী ও তার সন্তানকে দাফন করা হয়েছে।

লিনউড মসজিদ থেকে খুব বেশি দূরে নয় এমন একটি গোরস্তানে তাদের দাফন করা হয়। এর আগে বুধবার ভোরে তাদের জানাজায় বিপুল মানুষ অংশ নেন। খালিদ মোস্তফা ও তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে হামজাকে দাফনের আগে লাউড স্পিকারে তাদের জন্য দোয়া করা হয়।

৪৪ বছর বয়সী খালিদ ও তার ছেলে শুক্রবার আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গেলে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। খালিদের স্ত্রী ছাড়াও এক কন্যা ও এক ছেলে রয়েছে। হামলায় তার ছোট ছেলে জায়িদ আহত হলেও বেঁচে গেছেন।

জানাজায় যখন দোয়া চলছিল, তখন হুইলচেয়ারে বসা জায়িদকেও হাত উঠিয়ে বাবা ও ভাইয়ের জন্য দোয়া করতে দেখা গেছে।

মোনাজাদে জায়িদ বলেন, হামলার সময় আমি আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারিনি। কিন্তু ঠিকই আপনাদের পাশেই শায়িত হব।

জানাজায় লিনউড মসজিদে হামলাকারী সন্ত্রাসীকে তাড়িয়ে দেয়া আফগান শরণার্থী আবদুল আজিজকেও দেখা গেছে। লোকজন তাকে কাছে পেয়ে আলিঙ্গন করছিলেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ওই সন্ত্রাসীর নাম মুখে নেবেন না নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী(ভিডিও সহ)


আসসালামু আলাইকুম বলে ভাষণ শুরু * বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে আইনের সর্বশক্তি প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি * স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিচ্ছেন নাগরিকরা

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলার পর দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশনে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সম্মাননার নজির দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন। মঙ্গলবারের বিশেষ এ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন নিউজিল্যান্ডের মুসলিম কমিউনিটির নেতারা।

তাদের প্রতি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে পার্লামেন্টে তার ভাষণ শুরু করেন জাসিন্দা। তিনি বলেন, মসজিদে হামলাকারী ওই সন্ত্রাসীর নাম কখনও উচ্চারণ করবেন না। তার বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের আইনের সর্বশক্তি প্রয়োগেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাসিন্দা।

ভিডিওঃ ‘সালাম দিয়ে সংসদে বক্তব্য শুরু করলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এর আগে অধিবেশনের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন ইমাম নিজামুল হক তানভি এবং ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ইমাম তাহির নওয়াজ। খবর বিবিসি ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর ও লিনউড মসজিদে হামলায় ৫০ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি। হামলাকারী অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ২৮ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ ব্রেনটন টেরেন্ট আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। বন্দুকধারী পুরো ঘটনা নিজের হেলমেটে লাগানো ক্যামেরা দিয়ে ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারও করেছিল। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনার চারদিন পর ওয়েলিংটনে পার্লামেন্ট ভবনে মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে বিশেষ পার্লামেন্ট অধিবেশনে বসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথমেই তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে তার বক্তব্য শুরু করেন। পরে ইংরেজিতে বলেন, পিস বি আপন উইথ ইউ (আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক)। তিনি বলেন, ‘সে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অনেক কিছু করতে চেয়েছিল। কিন্তু সে কুখ্যাত। আপনারা কখনই আমার মুখে তার নাম শুনবেন না।’

ভিডিওঃ ‘কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

জাসিন্দা বলেন, ‘আপনাদের অনুরোধ করব, ওই খুনির নাম নেয়ার চেয়ে যারা চলে গেছেন আমরা বরং তাদের নাম নিই। সে একজন সন্ত্রাসী, একজন অপরাধী, একজন চরমপন্থী।’

ক্রাইস্টচার্চের বন্দুকধারীর মতো রেকর্ড করা ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার ও শেয়ারিং আটকানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে আরও পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জাসিন্দা বলেন, ‘আগামী শুক্রবার ফের আরেকটি জুমার নামাজের দিন। হামলার ঘটনারও এক সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার দিন। এজন্য নিউজিল্যান্ডের সবাইকে মুসলিম সম্প্রদায়ের শোকের কথা মনে রেখে চলার অনুরোধ করছি।’ হামলাকারীর বিরুদ্ধে ‘নিউজিল্যান্ডের আইনের সব শক্তি প্রয়োগ করা হবে’ বলেও পার্লামেন্ট সদস্যদের আশ্বস্ত করেন তিনি।

ব্রেনটনের ‘নজিরবিহীন’ সাজা হতে পারে বলে মনে করছেন দেশটির আইন বিশেষজ্ঞরা। আইনজীবী সাইমন কুলেনের মতে, ব্রেনটনের অপরাধ অনেক বেশি গুরুতর। এক্ষেত্রে হয়তো তার ১০ বছরের কারাবাসের পরও প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না। এমনটা হলে এ সাজা হবে নিউজিল্যান্ডের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ‘নজিরবিহীন’।

নিউজিল্যান্ডে ১৯৬১ সালে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রহিত করা হয়। দেশটিতে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বনিু ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। সাজা আরও বেশি হলে ১০ বছর কারাবাসের পর প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।

এদিকে, শনাক্তকরণ ও ফরেনসিক ডকুমেন্টেশনের ধীরগতির জন্য এ পর্যন্ত নিহত কারও দাফন করা যায়নি। মাত্র ছয়টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, নিহত ৫০ জনের মধ্যে স্পষ্টভাবে ১২ জনের লাশ শনাক্ত করা গেছে।

বাকিদের লাশ শনাক্তকরণ ও ফরেনসিক কার্যক্রম চলছে। এ ধীরগতির বিষয়টি পুরোপুরি অবগত বলেও জানায় পুলিশ। নিহতদের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, তুরস্ক, কুয়েত, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন।

স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিচ্ছেন নাগরিকরা : নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড জানায়, মসজিদে হামলার পর দেশটির নাগরিকরা স্বেচ্ছায় তাদের লাইসেন্স করা বৈধ আধা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র জমা দিচ্ছেন। স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে গিয়ে এসব অস্ত্র জমা দিচ্ছেন তারা।

নিউজিল্যান্ড সরকারও অস্ত্র আইন কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে। অনেকে তাদের বন্দুক জমা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি পোস্ট করছেন। তাদের একজন কৃষক জন হার্ট (৪৬)। তিনি বলেন, খামারের জীবজন্তু তাড়াতে এটি ব্যবহার করতাম। সেই কাজটি এখন অন্যভাবে করতে চাই। তাই বন্দুক জমা দিয়েছি। এ সিদ্ধান্তের পেছনে প্রভাবকের কাজ করেছে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলা।

ফেসবুকে হত্যাকাণ্ড লাইভ দেখেছেন দুইশ’র কম ব্যবহারকারী : বন্দুকধারীর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ভিডিওটি ফেসবুকে সরাসরি দেখেছে ২০০-রও কম ব্যবহারকারী। সোমবার এক বিবৃতিতে ফেসবুক জানিয়েছে, সরাসরি সম্প্রচার শেষ হওয়ারও ১২ মিনিট পর এক ব্যবহারকারী ওই ভিডিওর ব্যাপারে রিপোর্ট করেন। ভিডিওটি সরানোর আগেই অন্য এক ব্যবহারকারী ১৭ মিনিটের ভিডিওটি একটি ফাইল শেয়ারিং সাইটে আপলোড করেন।

ফুটেজটি সরিয়ে নেয়ার আগে এটি সর্বমোট চার হাজার বার দেখা হয়েছে। এ হামলার ভিডিও শেয়ার বা সংরক্ষণ করলে ১০ হাজার ডলার জরিমানা এবং ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান করেছে দেশটির সরকার। সোমবার নিউজিল্যান্ডের প্রাইভেসি কমিশনার জন এডওয়ার্ডস এ ঘোষণা দেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চের ৫০ মুসল্লি হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধ নেবে আইএস


ক্রাইস্টচার্চে ৫০ মুসল্লি হত্যার ঘটনায় প্রতিশোধ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইএসআইয়ের এক শীর্ষস্থানীয় নেতা।

সংগঠনটির মুখপাত্র আবু হাসান আল মুহাজির ৪৪ মিনিটের এক অডিও-ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, আল-মুহাজির প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ছয় মাসের নীরবতা ভেঙ্গে প্রকাশ্যে এসেছে।

ওই বার্তায় বলা হয়, দুই মসজিদে গণহত্যার এই দৃশ্য দেখে বোকা মানুষদের এবার জেগে ওঠা উচিত। আর তাদের ধর্মের ওপর এমন হামলার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য খিলাফতের (আইএস) সদস্যদের উৎসাহিত করা উচিত।

এতে আরও বলা হয়, সিরিয়ার বাঘিজ, সেখানেও মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে বোমাসহ পরিচিত অপরিচিত সব গণহত্যার অস্ত্র দিয়ে। মুসলিমদের ওপর এমন গণহত্যার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, সিরিয়ার বাঘিজে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই আইএসের যোদ্ধা ও তাদের স্ত্রী-সন্তান।

বিশ্বে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ ঘোষণাকারী আইএস এখন তাদের শেষ অধ্যূষিত অঞ্চল সিরিয়ার বাঘিজে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেইন্টন ট্যারেন্ট নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে ৫০ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অর্ধশত আহত হন। এ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে শোক বইছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে মুসল্লিদের পাহারা দিচ্ছেন অমুসলিমরা


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে নামাজের সময় অমুসলিমদের পাহারা দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর হাতে ৫০ জন নিরিহ মুসল্লি নিহত হওয়ার পর উদ্বিগ্নক্যালিফোর্নিয়ার অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা।

উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে একটি মসজিদে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম।

নৃশংস ওই হামলার জেরেই তারা নামাজের সময় স্থানীয় মুসল্লিদের পাহারা দিয়েছেন বলে টুইটারে এমনটাই জানিয়েছে স্থানীয়রা।

দেশটির স্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের এমন উদ্যোগে প্রশংসায় ভেসে ওঠে ফেসবুক, টুইটার।

দিতিয়া ডেন্স নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা গেছে মসজিদকে ঘিরে লাইনে দাঁড়িয়ে কিছু মানুষ।

ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, নিউজিল্যান্ডে দুটি মসজিদে ৫০ জন মুসলমানকে হত্যার পর মুসলমানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এমন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিরি বেলডন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা লেখেন, গত শনিবার নামাজ চলাকালীন ক্যালিফোর্ণিয়ার একটি মসজিদের সামনে একটি মানববন্ধন দেখেছি। মানববন্ধনটির কেউ মুসলমান ছিলেন না। কারণ মুসলমানরা তো মসজিদে প্রার্থনারত। এসব নন-মুসলিমরা এভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন যাতে মুসলমানরা নিরাপদে তাদের প্রার্থনা সারতে পারেন।

ওই ছবিটি পোস্ট করে অন্য একজন লিখেছেন, ‘চলুন শান্তি আর ভালোবাসা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেই।’

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর আরও জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা সম্প্রীতির সঙ্গে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তাদের এমন ভাতৃত্ববন্ধনকে ফেইথ ট্রাইও বা বিশ্বাসের ত্রয়ী নাম দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ড না পারলে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এরদোগান(ভিডিও সহ)


তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান শপথ করে বলেছেন, নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলায় দুই মসজিদে প্রার্থনারতদের ওপর হামলার ঘটনায় এর মূল্য পরিশোধ করা হবে।

মঙ্গলবার ব্লাকসি প্রদেশের জঙ্গুলডাক এলাকায় একিট সমাবেশে এরদোগান সতর্ক করে বলেন, হামলাকারীকে এ ঘটনায় উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে। যদি নিউজিল্যান্ড কিছু না করে তাহলে অন্য যে কোনো উপায়ে এর মূল্য পরিশোধ করা হবে।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তর শহর হিসেবে খ্যাত ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় প্রার্থনারত ৫০ জন মুসল্লি নিহত হন। এ ঘটনায় অনেকে হতাহত হয়েছেন।

ভিডিওঃ ‘নিউজিল্যান্ড না পারলে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এরদোগান(ভিডিও সহ)’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

এই গণহত্যাটি সোশ্যাল মিডিয়াতে লাইভ প্রকাশ করা হয়েছিল। এর সঙ্গে ছিল বর্ণবাদী, ইসলামফোবিক, ম্যানিফেস্টো ছিল যাতে তুরস্কের কথা ছিল।

এরদোগান সন্ত্রাসীর কথা উল্লেখ করে বলেন, তুমি কাপুরুষিত, শোচনীয়র সঙ্গে ৫০ জনকে হত্যা করেছে যারা প্রার্থনারত অবস্থায় ছিল।

এরদোগান বলেন, এত দূর থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীর অস্ত্রে তুরস্কে হামলার কথা স্বীকারোক্তি ছিল অস্ত্রের ছবিগুলোতে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম প্রদর্শন করে, যারা অটোমান সেনাবাহিনীতে যুদ্ধ করেছিল। যদি তুর্কিবিরোধীরা তাদের যে ভয়ংকর পরিকল্পনা আছে,সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে চায়, তাহলে আমরাও হাতে চুরি পরে বসে থাকব না। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা দেব, যা তাদের আজীবন মনে থাকবে।

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার আগে ওই সন্ত্রাসী একটি মেনিফেস্টো পাঠায় যাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরকে খ্রিস্টানদের সম্পত্তি বলে উল্লেখ করে তা তুরস্কের হাত থেকে উদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে ‘যুদ্ধবাজ’ নেতা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে ওই মেনিফেস্টোতে।

তুরস্ককে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে পুরনো শত্রু বলেও উল্লেখ করে এতে ইস্তাম্বুলকে লক্ষ্য করে বলা হয়- আমরা কনস্টান্টিনোপলে আসছি এবং শহরের প্রতিটি মসজিদ ও মিনার ধ্বংস করব। হাজি সোফিয়াকে মিনার থেকে মুক্ত করা হবে এবং কনস্টান্টিনোপল আবারও খ্রিস্টানদের দখলে আসবে।

এর আগে শনিবার এরদোগান বলেন, এমন সন্ত্রাসী হামলায় তুরস্কের তিনজন নাগরিক নিহত হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক বেন্টন হ্যারিসন ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর,আনাদলু ও ইয়েনি শাফাক

আরও পড়ুনঃ ব্রেনটন টেরেন্টের ফেসবুক লাইভ বিষয়ে যা জানাল ফেসবুক কর্তৃপক্ষ


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা চালানোর সময় ঘাতক ব্রেনটন টেরেন্টের ফেসবুক লাইভ কেন প্রচার করেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক সে বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ওই হামলার ঘটনা ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার হওয়ার পর থেকে ফেসবুকের ওপর বৈশ্বিক চাপ বাড়ছে।

ফেসবুকের ওপর অভিযোগ উঠেছে যে, ফেসবুক কীভাবে আপত্তিকর সহিংস কন্টেন্ট তাদের প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে ও ইতোমধ্যে ফেসবুকের লাইভস্ট্রিম বন্ধের দাবি উঠছে।

এবার সেসব দাবির প্রেক্ষিতে ফেসবুক দাবি জানিয়েছে, ব্রেনটন টেরেন্টের সেই বর্বর হামলা ঘটনার লাইভ ২০০ জনও দেখেনি।

তবে হামলার ওই লাইভ ভিডিওটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলার আগে তা ৪ হাজারবার দেখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ফেসবুকের গ্লোবাল পলিসি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মণিকা বিকার্ট দৈনিক নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডেকে বলেন, ‘হামলার ঘটনাটি যখন লাইভ করা হচ্ছিল তখন তা দেখে ২০০ জনেরও কম মানুষ। তাছাড়া ভিডিওটি লাইভ হওয়ার পর সেটি মুছে ফেলা পর্যন্ত আনুমানিক ৪ হাজার মানুষ তা দেখে।’

মসজিদে হামলার ওই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার শেষ হওয়ার ১২ মিনিট পরও কোনো ফেসবুক ব্যবহারকারী হামলার ভিডিওটি নিয়ে তাদেরকে রিপোর্ট করেননি বলে দাবি জানান মণিকা বিকার্ট।

তবে নির্বিচারে মানুষ হত্যার ওই ভিডিওটিকে ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পদ্ধতিকে সহিংস ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেনি বলে স্বীকার করেন ফেসবুকের গ্লোবাল পলিসি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ফেসবুকের সদর দফতর তিনি নিউজিল্যান্ডের ওই দৈনিককে জানান, ‘আমাদের প্রযুক্তি বিষয়টি যে কতটা নৃশংস তা বুঝেনি। তাছাড়া যখন লাইভ করা হয় তখন কেউ আমাদের রিপোর্ট করেননি।’

এমন একটি হত্যাযজ্ঞের লাইভ প্রচারিত হয়েছে তা নিউজিল্যান্ডের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে প্রথম জানতে পারে ফেসবুক কর্তপক্ষ। আর তাদের কাছ থেকে আপত্তি আসার পরই ভিডিওটি দ্রুত মুছে ফেলেন বলে জানান মণিকা বিকার্ট।

এর আগে রোববার টুইটারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এক বার্তায় জানিয়েছিল, গত ২৪ ঘণ্টায় নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার সেই ভিডিও ১৫ লাখ ভিডিও সরিয়ে ফেলেছে ফেসুবক। ফেসবুক প্লাটফর্ম থেকে ভিডিওটি সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলতে কাজ করে যাচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে ফেসবুক নিউজিল্যান্ডের কর্মকর্তা মিয়া গারলিক বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও মানুষের সাহায্য নিয়ে ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।’ প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ডানপন্থী শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্টের গুলিতে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৪৮ জন।

ঘাতক টেরেন্ট শুধু নির্বিচারে গুলি করে গণহত্যাই চালাননি তিনি সেই দৃশ্য টানা ১৭ মিনিট ফেসবুকে লাইভ করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারী স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে মসজিদের দিকে যাচ্ছেন। মসজিদের প্রবেশ করেই মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি করা শুরু করেন।

আতঙ্কিত মুসল্লিরা মসজিদের ভেতর ছুটোছুটি করতে থাকে। তার গুলি থেকে রেহায় পায়নি কেউ। এমনকি ৩ বছরের অবুঝ শিশু মুকাদ ইব্রাহীমকেও গুলি করে শহীদ করে এই সন্ত্রাসী।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে সব নারীর হিজাব পরার ঘোষণা!


ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর চালানো স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলায় নিউজিল্যান্ডজুড়ে হিজাব পরে প্রতিবাদ জানানো হবে।

শান্তির দেশে নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে দেশটির সব ধর্মের মানুষ হিজাব পরে মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবে।

‘সম্প্রীতির জন্য হিজাব’ নামে এই কর্মসূচিটি আগামী ২২ মার্চ শুক্রবার পালন করা হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের মানুষ এই ঘটনায় শোকাহত। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো ৫০ জন মা, বাবা, সন্তান, সহকর্মী ও বন্ধুদের প্রতি আমরা ভালোবাসা ও সহমর্মিতা জানাতে চাই। মুসলিম কমিউনিটি যে অসহনীয় অবস্থার স্বীকার হয়েছে, এ কঠিন দুঃসময়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই।

দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমদের সঙ্গে কাজ করা থায়া আশমান নামের এক নারী অভিনব এ আয়োজনের উদোক্তা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুসলিমদের সঙ্গে কাজ করছেন। আফগানিস্তানে স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তার হিসেবে কাজ শুরুর পর তিনি মুসলিমদের সান্নিধ্যে আসেন। মুসলিম হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের উদারতা তাকে উৎসাহিত করেছে।

আশমান বলেন, আমি এক আতংকিত নারীর কথা শুনেছি যিনি হিজাব পরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ হিজাব পরার কারণে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। আমি বলতে চাই, ‘আমরা আপনার সঙ্গে আছি, আমরা চাই আপনি ঘরের মতো রাস্তাতেও যেন নিরাপদবোধ করেন, আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সমর্থন ও শ্রদ্ধা করি’।’

আশমান আগামী শুক্রবার নিউজিল্যান্ডবাসীকে হিজাব পরার আহ্বান জানান।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ যে কারণে জনপ্রিয় ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর চালানো স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলায় শোকাহত গোটা বিশ্ব। বিশ্বের অনেক দেশের মতো নিউজিল্যান্ডে বর্ণবাদের সমস্যা তেমন ছিল না। শান্তিপূর্ণভাবেই বিভিন্ন জাতি দেশটিতে বসবাস করত। নিউজিল্যান্ডে মুসলমানরা শান্তিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল হিসেবেই পরিচিত।

ভয়াবহ এ হামলার পর থেকে নিউজিল্যান্ডের সবধর্মের মানুষ মুসলিম কমিউনিটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বারবার গণমাধ্যমের সামনে এসে নিজেই তথ্য জানাচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে।

গত শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি ব্রেন্টন টরেন্টের নৃশংস হামলার আগ পর্যন্ত দেশটি ছিল শান্ত ও বিশ্বের দ্বিতীয় নিরাপদ দেশ হিসেবেই পরিচিত ছিল নিউজিল্যান্ড।

নিউজিল্যান্ডের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইসলাম অন্যতম। ১৯৯১-২০০৬ এর মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির প্রতিটি প্রদেশে মুসলমানরা গড়েছে অসংখ্য মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার।

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ পূর্ব নিউজিল্যান্ডের সর্বপ্রথম জুমা মসজিদ। মসজিদটিতে মুসল্লিদের আনাগোনা ছিল সব সময়। নিয়মিত জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হত এখানে। ক্রাইস্টচার্চের মুসলিমদের সর্ববৃহৎ ইসলামিক সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হত আল নূর মসজিদ।

আল নূর মসজিদের শুরুর কথা

১৯৭৭ সালে পড়াশোনার জন্য ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় সৌদি, পাকিস্তান, ভারতসহ কয়েকটি দেশের মুসলিম শিক্ষার্থী বসবাস করতেন। একসঙ্গে নামাজ পড়ার জন্য তারা একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। সম্মিলিত উদ্যোগে জমি কেনার পর ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘আল নুর মসজিদ’।

মসজিদটিতে শতাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। মূল মসজিদের পাশাপাশি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার জন্য একটি হলরুম, গেস্টরুম ও মুসল্লিদের পড়াশোনার জন্য একটি ছোট লাইব্রেরিও রয়েছে মসজিদটিতে।

মসজিদের সামনের বিশাল উদ্যানে শিশুরা খেলাধুলা করত। আল নূর মসজিদকে নিউজিল্যান্ডের মুসলমানদের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মসজিদটির পার্কিং লটও বিশাল বড়। নিউজিল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আল নুর মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে আসে।

জুমার খুতবা কয়েকটি ভাষায় অনুবাদের কারণে মসজিদটি ছিল মুসল্লিদের আকর্ষণের অন্যতম কারণ।

দেশটির ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী আল নুর মসজিদ ক্রাইস্টচার্চ শহরের দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে অবস্থানরত মেহমানদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে থাকে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। মেহমানদের থাকা-খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নির্ধারিত মেয়াদ ছিল না। ১৯৮০ সাল থেকেই স্থানীয় মুসলিমদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আল নুর মসজিদ পরিচালিত হয়ে আসছে।

১৫ মার্চ স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলা আল নূর মসজিদকে পরিচিতি দিয়েছে বিশ্বব্যাপী। শোকাহত মানুষ নিয়মিত শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন নিহতদের। ভয়াবহ এ হামলায় অনেক কিছু স্থবির থাকলেও থেমে নেই আল নুর মসজিদের আজান। এখনো মুসল্লিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য জড়ো হচ্ছেন রক্তস্নাত আল নূর মসজিদে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মসজিদে শহীদদের রক্তের মূল্য আমরা নেবই: এরদোগান


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর চালানো স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলার বিচার যদি নিউজিল্যান্ড সরকার সঠিকভাবে করতে না পারে, তাহলে তুরস্ক এর বিচার করবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

মঙ্গলবার তুরস্কের জঙ্গুলাডাক জেলায় এক নির্বাচনী জনসভায় এরদোগান বলেন, মসজিদের ভেতর যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের রক্ত বৃথা যাবে না, শহীদদের রক্তের মূল্য আমরা নেবই।

ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা ভোলা যাবে না উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ৫০ জন মুসল্লিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমরা এটা কখনো ভুলতে পারব না। আমরা এর শেষ দেখেই ছাড়ব।

ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ এ হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় জানিয়ে এরদোগান বলেন, এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত হামলা। হামলাকারী দু’বার তুরস্ক এসে ৪৬ দিন অবস্থান করেছিল। তার আক্রমণের শিকার মুসলমানরা হলেও মূল টার্গেট তুরস্ক এবং ইউরোপে বসবাসকারী তুর্কি জনগোষ্ঠী।

তবে কেউ যদি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে হামলার চেষ্টা করে তাহলে হামলাকারীদের কফিন ফেরত পাঠানো হবে।

শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের গুলিতে তুরস্ক ও উসমানি খিলাফতের বিরুদ্ধে তাদের ভয়ানক ষড়যন্ত্রের কথা লেখা ছিল জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, তার অস্ত্র ও হামলার আগে পাঠানো মেনিফেস্টোতেই বোঝা যায়, ষড়যন্ত্র কত গভীর।

যদি তুর্কিবিরোধীরা তাদের যে ভয়ংকর পরিকল্পনা আছে,সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে চায়, তাহলে আমরাও হাতে চুরি পরে বসে থাকব না। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শিক্ষা দেব, যা তাদের আজীবন মনে থাকবে।

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলার আগে ওই সন্ত্রাসী একটি মেনিফেস্টো পাঠায় যাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরকে খ্রিস্টানদের সম্পত্তি বলে উল্লেখ করে তা তুরস্কের হাত থেকে উদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানকে ‘যুদ্ধবাজ’ নেতা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে ওই মেনিফেস্টোতে।

তুরস্ককে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে পুরনো শত্রু বলেও উল্লেখ করে এতে ইস্তাম্বুলকে লক্ষ্য করে বলা হয়- “আমরা কনস্টান্টিনোপলে আসছি এবং শহরের প্রতিটি মসজিদ ও মিনার ধ্বংস করব। হাজি সোফিয়াকে মিনার থেকে মুক্ত করা হবে এবং কনস্টান্টিনোপল আবারও খ্রিস্টানদের দখলে আসবে।”

উৎসঃ যুগান্তর,আনাদলু ও টিআরটি আরবি

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অধিনায়কের যে ফেসবুক পোস্ট প্রশংসিত সারা বিশ্বে


শান্তির দেশ বলে পরিচিত নিউজিল্যান্ড বাকরুদ্ধ। ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলার ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না কেউ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির নাগরিকরা বারবার যে কথাটি জানাতে চাচ্ছেন – আমরা নিউজিল্যান্ডবাসী এমন নই, আমরা সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী নই, আমরা শান্তিকামী।

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে দেশটির সেলিব্রেটিরা বলছেন, মুসলমান অধিবাসীরা! আপনারা ভয় পাবেন না, আপনারা আরও বেশি বেশি মসজিদে নামাজ পড়তে যান।

এমনই একটি বার্তা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক কেন উইলয়ামসন। তিনি একটি ছবি পোস্ট করেছেন যা রীতিমত ভাইরাল। সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে ছবিটি।

১৭ মার্চ কেন উইলিয়ামসনের শেয়ার করা ওই ছবিটি দেশটির জাতীয় প্রতীক সিলভার ফার্নের।

তবে ফার্নের পাতাটিতে রয়েছে ভিন্নতা, যা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। ফার্নের শিড়দাড়ায় দাঁড়িয়ে নামাজরত মুস্ললিরা। প্রতি মুসল্লির রয়েছে প্রতিচ্ছবি। এভাবেই দেশটির জাতীয় প্রতীকের আদলে তিনি তৈরি করেছেন নামাজের কাতার। নামাজরত কাতারবন্দী মানুষের বিপরীতে মানুষের প্রতিচ্ছবি যা বিনয় প্রকাশ করছে।

ছবির ক্যাপশনে কেন উইলিয়ামসন লিখেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতো আমিও বুঝে উঠতে পারছি না যে এটা কী ঘটল! এটা বুঝতে পেরেছি যে আমাদের দেশে ভালোবাসার প্রয়োজনীয়তা কখনও তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি আমার একাগ্রতা সব ভুক্তভোগী, নিহতের পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষী, মুসলিম সম্প্রদায় ও এ ঘটনায় আঘাত পাওয়া অন্য নিউজিল্যান্ডবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই। চলুন আমরা সবাই এক হই।’

এরপর ছবিটির নিচে হ্যাশট্যাগ দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘হ্যালোব্রাদার।’ ছবিতে আরও লেখা রয়েছে, ‘স্ট্যান্ডিং ইন সলিডারিটি। ১৫ মার্চ ২০১৯।’ যার অর্থ-১৫ মার্চের ঘটনায় সংহতি প্রকাশ।

কেন উইলিয়ামসনের সেই ফেসবুক পোস্টটি।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অধিনায়কের এই পোস্টটি এখন পর্যন্ত ৪২ হাজার লাইক পড়েছে। ২১ হাজারের বেশি শেয়ার হয়েছে।

কেন উইলিয়ামসনের ছবিটি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

তিনি এর বিশ্লেষণ করে ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘সিলভার ফার্ন নিউজিল্যান্ডের জাতিসত্তার প্রতীক। নামাজ পড়া মানুষরাও একসঙ্গে একটা সিলভার ফার্ন। অসাধারণ মানবিক গুণসম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর দেশটিতে সাধারণ মানুষরা এই অভিব্যক্তি তুলে ধরে দাঁড়িয়েছেন বেদনায় বাকরুদ্ধ মুসলমানদের পাশে। শিখে নিই, এভাবে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে। সব ধরনের অমানুষিকতা আর বর্বরতার বিরুদ্ধে।’

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ডানপন্থী শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের গুলিতে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৪৮ জন।

এ ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। কাছাকাছি লিনউড মসজিদেও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। শান্তির দেশে এমন জঘন্য হামলার ঘটনায় গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন এই হামলাকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় বলে অভিহিত করেছেন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ সালাম দিয়ে সংসদে বক্তব্য শুরু করলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও সহ)


দুই মসজিদের নৃশংস হত্যাকেন্ডর পর নিউজিল্যান্ডের সংসদে প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। এতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডের্ন আসসালামু আলাইকুল বলে বক্তব্য শুরু করেছেন।

এ সময় ক্রাইস্টচার্চের আল-নূর ও লিনউদ মসজিদে হামলাকারীকে আইনের পুরো সাজা ভোগ করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।

পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন জেসিন্ডা। মসজিদে হামলায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়ে পার্লামেন্টের স্পিকারকে সম্বোধন করে জেসিন্ডা বলেন, আসসালামু আলাইকুম। (আপনার ওপর শান্তি বির্ষত হোক)।

ভিডিওঃ ‘সালাম দিয়ে সংসদে বক্তব্য শুরু করলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]
এর আগে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদের হতাহতদের শ্রদ্ধা জানাতে ওয়েলিংটনে এক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখানে মসজিদে হত্যাযজ্ঞের চারদিন পর ওই অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, যারা প্রাণ হারিয়েছেন আপনারা তাদের কথা বলুন। কিন্তু যে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তার নাম নেয়া থেকে বিরত থাকুন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ ডানপন্থী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে আধা সয়ংক্রিয় রাইফেল দিয়ে হামলা চালায়। এতে ৫০ নিহত হয়েছেন। এ হামলায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

এ হামলায় সারা বিশ্ব নিন্দা জানায়। তবে হামলাকারী সাজা নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তরা বলছেন, টেরেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ খুবই মারাত্মক। তাকে কঠোর সাজা দিতে পারেন বিচারক। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশটিতে ১৯৬১ সালে মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিল করা হয়েছে।

ফৌজদারি আইনজীবী সিমন কুলেন বলেন, কোনো প্যারোল ছাড়াই তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হতে পারে। এমন সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আর এমন সাজা দেয়া হলে তা হবে নজিরবিহীন।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু (ভিডিও সহ)


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের প্রস্তুতির সময় নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনের শুরুতেই পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

এদিন উগ্র-ডানপন্থী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় ৪৮ জন আহত হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র দফতর।

ভিডিওঃ ‘কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরু (ভিডিও সহ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে অংশ নিয়ে স্পিকারকে সালাম জানিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডের্ন।

মসজিদে হামলায় হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়ে পার্লামেন্টের স্পিকারকে সম্বোধন করে জাসিন্ডা বলেন, মিস্টার স্পিকার, আস সালামু আলাইকুম।

পার্লামেন্টের ওই অধিবেশনে তিনি হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাসহ হামলাকারীকে প্রতিহত করতে গিয়ে প্রাণ হারানো সাহসী নাইম রশিদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন।

শুক্রবারের ওই হামলায় বাংলাদেশ, ভারত, তুরস্ক, কুয়েত, সোমালিয়া এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকরা নিহত হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কমপক্ষে ৪৮ জন। এদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ইসলামে আসার পর মুসল্লিদের বাঁচাতে প্রাণ দিলেন যে নারী


ক্রাইস্টচার্চের লিনউড মসজিদে শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলার সময় অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ৬৫ বছর বয়সী এক নারী।

লিন্ডা আর্মস্ট্রং নামে ওই নারী সবসময় উৎফুল্ল থাকতেন। দয়ালু হৃদয়ের কারণে সবাই তাকে বোন লিন্ডা নামে ডাকতেন। শুক্রবার নিজের জীবন দিয়েই তার প্রমাণ দিয়েছেন।-খবর খালিজ টাইমস ও বিবিসির।

খালিজ টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলীয় এক শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি করতে শুরু করলে অন্য নারীদের বাঁচাতে বন্দুকের সামনে নিজের বুক পেতে দেন।

দুই দশক আগে লিন্ড ইসলামধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। গত দুই বছর ধরে তিনি লিনউড মসজিদে নামাজ পড়তেন।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ইডওয়ার্ড ওয়াসওর্থ বলেন, আপনি কে কিংবা কোথা থেকে এসেছেন, সেটিকে কোনো ব্যাপার বলে মনে করতেন না তিনি। আপনার কিছু দরকারে তার কাছে গেলে, তিনি অবশ্যই একটি উপায় বাতলে দিতেন।

নেলসন ও টাসম্যান জেলায় দাবানলে আক্রান্ত হয়ে বাস্তচ্যুত মানুষের সহায়তায় তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। মসজিদ সেক্রেটারি বলেন, ওই নারী গাড়িভর্তি পণ্য নিয়ে আক্রান্তদের সহায়তায় চলে যেতেন।

‘বোন লিন্ডা সবসময় আমাকে বলতেন, ইসলামে আসার পর তিনি একটি শান্তিময় জীবন কাটিয়েছেন। প্রতিটি ভাই ও বোনই ছিল তার পরিবার। এতেই তিনি সত্যিকার শান্তি পেতেন।’

হামলার সময় প্রাণে বেঁচে যাওয়া লিনউড মসজিদের ইমাম লতিফ আলাবি বলেন, সেদিন সেখানে অন্য নারীরাও নামাজ পড়তে আসেন। তিনি একপাশ থেকে অন্যপাশে সরে যাচ্ছিলেন। অন্যদের শরীরে যাতে গুলি না লাগে, সে জন্য তিনি সামনে চলে আসেন।

নিউজিল্যান্ডে জন্ম নেয়া লিন্ডা বেড়ে ওঠেন অকল্যান্ডে। মসজিদ এলাকার বাসিন্দারা তাকে ভালোবাসতেন।

তার নাতি কিরণ গোস বলেন, তার ভেতরে শিশুদের মতো নিষ্পাপ একটা চরিত্র ছিল। পর্যটক, অভিবাসী ও শরণার্থী বান্ধব ছিলেন। তাদের জন্য তার দুয়ার, মন ও রান্নাঘর সবসময় উন্মুক্ত থাকত।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মুসলিমবিদ্বেষী প্রচার সইতে না পেরে চাকরি ছাড়লেন সংবাদকর্মী


ক্রাইস্টচার্চে হামলার পর স্কাই নিউজের এক জুনিয়র গণসংযোগ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। তার অভিযোগ, মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভাষ্যকাররা মেরুকরণ ও আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলছেন।

স্কাই নিউজ টেলিভিশনের তিন বছর কাজ করেছেন রাশনা ফাররুক। এবিসি অনলাইনকে তিনি লিখেছেন, কোনো কোনো রাতে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তাম। এমনকি বাড়ি আসার পথে গাড়ির ভেতরে আমি কান্না করতাম। কারণ নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে নিয়মিত আপস করতে হচ্ছে আমাকে।-খবর গার্ডিয়ানের

তিনি বলেন, ক্রমাগত দোষ চাপিয়ে দেয়া একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসেবে নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করাই শেষ কথা ছিল না, বরং অনুষ্ঠানগুলোতে মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারের কারণেও তিনি নিরুৎসাহিত হয়েছেন।

রাশনা বলেন, যখন ভাষ্যকার ও পণ্ডিতরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে দর্শকদের আতঙ্কিত করে তুলতেন, তখন আমি নিজের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে আপস করে অলসভাবে দাঁড়িয়ে থাকতাম।

তবে রাশনার লেখা প্রকাশ করায় এবিসি নিউজের সমালোচনা করেছেন স্কাই নিউজের ভাষ্যকার ক্রিস কেন্নি।

রাশনা দাবি করেন, স্কাই নিউজ অস্ট্রেলিয়া মসজিদের ভেতর থেকে ছবি প্রকাশ করেছে। কিন্তু স্কাই নিউজ বলছে, তারা খুনি শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির হত্যার দৃশ্যের সরাসরি সম্প্রচারের একটি অংশ প্রচার করেছেন, মসজিদের ভেতর থেকে নয়।

এমনকি যেসব ভাষ্যকারের সাক্ষাৎকার রাশনা ফাররুককে মানসিকভাবে পীড়া দিত, তাদের নাম প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদের মধ্যে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি করে আসা করি বারনাডি, ইট’স ওকে টুবি হোয়াইটের পোলিন হ্যানশন এবং ব্রাউনিয়ন বিশপ রয়েছেন।

এ মুসলিম তরুণী বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম ও অভিবাসীদের হয়ে প্রতিবাদকারী দর্শকদের ফোনের জবাব দিতাম আমি। কিন্তু তারা জানতেন না, ফোনের এ পাশে যে নারী তাদের সঙ্গে আলাপ করছেন, সেও তাদের মতো একজন।

‘যখন ভাষ্যকাররা দেশের প্রতিটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ঝাড়ছে, তখন স্টুডিওর অপর পাশের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতাম আমি। তারা দর্শকদের মধ্যে মেরুকরণ ও মানসিক বৈকল্য তৈরি করে যাচ্ছিলেন।’

স্কাই নিউজের ক্যানবেরার পার্লামেন্ট হাউসের একজন গণসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন রাশনা ফাররুক। সেখানে তিনি স্টুডিওতে আসা অতিথিদের সহায়তা করতেন।

তিনি বলেন, আমরা যদি ক্রাইস্টচার্চের হত্যাকাণ্ডের দিকে তাকাই, তবে আমাদের গণমাধ্যমে যা ঘটেছে, তাতে কী বাস্তব জীবনের পরিণতি ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে।

তবে স্কাই নিউজের মুখপাত্র বলেন, আমরা রাশনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তার ভবিষ্যত কর্মতৎপরতায় সাফল্য কামনা করছি।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ মাথায় ডিম ভেঙে আলোচিত সেই তরুণ ৪২ হাজার ডলার নিহতদের পরিবারে দান করছেন ‘ডিম বালক’

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে আলোচিত সেই তরুণ এবার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

অভিবাসী মুসলমানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারী অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে আলোচিত সেই তরুণ এবার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

১৭ বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওই সাহসী তরুণ নিজের জন্য সংগৃহীত অর্থ ক্রাইস্টচার্চের নিহত মুসল্লিদের জন্য ব্যয় করবেন। ‌ডিম বালক খ্যাত উইল কনোলি ঘোষণা দিয়েছে, তার জন্য সংগৃহীত অর্থ তিনি নিউজিল্যান্ডের ভয়াবহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে খরচ করবেন।

অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভাঙার দায়ে উইল কনোলিকে গ্রেফতার করা হলে তার জন্য একটি তহবিল গঠন করা হয়। সিনেটরের মাথায় ডিম ভাঙার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে বিশ্বজুরে সাহসী তরুণ হিসেবে প্রশংসিত হন উইল কনোলি।

ভিডিওঃ অস্ট্রেলিয়ার সিনেটরের মাথায় ডিম ভাঙলেন তরুণ

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

গ্রেফতারের পর তার মুক্তি ও আইনি সহায়তার জন্য অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মাত্র দুই হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ইতিমধ্যে তার জন্য জমা পড়েছে প্রায় ৪২ হাজার ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৩৫ লাখ টাকার মতো। ক্রাউডফান্ডিং সাইট ‘গো ফান্ড মি’র মাধ্যমে এ অর্থ সংগৃহীত হয়।

তবে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে উইল কনোলি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোক্তাকে জানিয়ে দিয়েছেন, এই অর্থের বড় অংশটি ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের দিয়ে দেবেন তিনি।

গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ডানপন্থী শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারেন্টের গুলিতে ৫০ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন অন্তত ৪৮ জন।

নৃশংস এ হামলার কারণ হিসেবে দেশটির ইমিগ্রেন্টকে দায়ী করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং।

মসজিদে হামলার ঘটনায় মুসলিম অভিবাসীদের দায়ী করা অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ফাটিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ১৭ বছরের অস্ট্রেলিয়ান তরুণ উইল কনোলি। শনিবার মেলবোর্নের মোরাবিনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় কট্টর এ অস্ট্রেলিয়ান সিনেটরের মাথায় ডিম ফাটিয়ে প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যানিং কথা বলার সময় তার পেছনে এই তরুণ দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করেই তার বাঁ-হাতে মোবাইল ধরে ডান হাতে অ্যানিংয়ের মাথায় একটি ডিম ফাটিয়ে দেন। এর একটু আগে সে তার মোবাইলে ভিডিও করা শুরু করে। ডিম ছোড়ার পরও নির্বিকার ভঙ্গিতে ভিডিও করে যাচ্ছিল উইল কনোলি।

হতবাক অ্যানিং পেছনে ঘুরে তরুণের মুখে চড় মারতে শুরু করলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ সময় পাশে থাকা লোকজন ওই তরুণকে মাটিতে চেপে ধরে, অন্য একজন অ্যানিংকে সরিয়ে নেয়।

উইল কনোলিকে আটক করা হলেও কোনো অভিযোগ না এনেই পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে আরও তদন্তের পরে ঠিক করা হবে, এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ গঠন করা হবে কিনা।

মুক্তির পর টুইটারে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় উইল বলেছেন, ‘রাজনীতিকদের ডিম মারবেন না। এতে আপনাকে ৩০ জন নিম্ন শ্রেণির লোককে মোকাবেলা করতে হবে। আমার কঠিন শিক্ষা হয়ে গেছে।’

টুইটারে দেওয়া পোস্টে তার প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইল কনোলি।

উইল কনোলি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে ওই মুহূর্তটিতে আমি গর্বিত অনুভব করেছি। আপনাদের বলতে চাই, মুসলমানরা সন্ত্রাসী নয় এবং সন্ত্রাসবাদের কোনও ধর্ম নেই। মুসলমানদের যারা সন্ত্রাসী সম্প্রদায় মনে করে, তাদের মাথা অ্যানিংয়ের মতোই শূন্য।

এদিকে বিতর্কিত মন্তব্যকারী অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর সিনেটর ফ্রেজার অ্যানিংয়ের মাথায় ডিম ভেঙে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছেন ১৭ বছরের তরুণ উইল কনোলি। তাকে এখন ‘ডিম বালক’ নামেই ডাকা হচ্ছে। টুইটারে #eggboy নামে একটি ট্রেন্ডও চালু হয়ে গেছে। ওই ঘটনার পর ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারে তার ফলোয়ার সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়েছে। ‌‌‌‌‌

ডিম বালকের’ পাশে দাঁড়িয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনো। অ্যানিংয়ের মুসলিমবিদ্বেষী মন্তব্যের কঠোর নিন্দা করেছেন তিনি। অ্যানিংয়ের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন টুইটারে বলেন, তার এ ধরনের বক্তব্য ন্যক্কারজনক। এ ধরনের মতামতের অস্ট্রেলিয়াতে কোনো স্থান নেই। এটা অস্ট্রেলীয় সংসদ। নিজের মন্তব্যের জন্য তার লজ্জিত হওয়া উচিত। আমার সরকার কোনোভাবেই এর সঙ্গে একমত নয়।

শুক্রবারের বিবৃতির জন্য অ্যানিংয়ের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার পার্লামেন্টে তিরস্কার প্রস্তাব তুলবে বলেও জানান তিনি।

সোমবার গো-ফান্ডমি পেজের একজন বলেন, আমি কিছুক্ষণ আগে ‘ডিম বয়’ উইলির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। তার জন্য গঠিত তহবিলের বেশির ভাগ অর্থ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতদের সহায়তায় পাঠাতে চান উইলি।

উৎসঃ দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড ও আল জাজিরা

আরও পড়ুনঃ ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা ঘটনায় নিহতদের পরিচয় প্রকাশ


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই অভিবাসী।

বিবিসি অনলাইন জানিয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই পরিবার নিয়ে কোলাহলমুক্ত ও বিশুদ্ধ পরিবেশে একুট শান্তিতে জীবনযাপন করতে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করছিলেন। এ ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড।

এ ছাড়া সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ২টায় সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। যেখানে ছবিসহ নিহতদের নাম ও বয়স উল্লেখ করা হয়েছে।

এ তালিকা নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিসর, জর্ডান, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও সোমালিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

নিহতের তালিকায় ২ শিশু ও ২ কিশোর রয়েছে। তারা হলো- মুকাদ ইব্রাহীম (৩), আবদুল্লাহ দিরিয়া (৪), সায়দ মিলনে (১৪) ও হামজা (১৬)।

তালিকায় প্রকাশিত আরও নিহত হলেন- ওসামা আদনান আবু কাইক (৩৭), মহসিন আল হারবি (৬৩), জিহান রাজা (৩৮), লিন্ডা আর্মস্ট্রং (৬৫), কামাল দারিশ (৩৯), মাহবুব খন্দকার (৬৫), খালেদ মুস্তফা (৪৫), ড. হারুন মাহমুদ (৪০), মোহাম্মদ আবদুস সামাদ (৬৬), নাঈম রশিদ ও তার ছেলে তালহা (২১), হুসনে আরা পারভিন (৪২), আলি ইলমাদানী (৬৬), তরিক রহমান (২৪), সৈয়দ জাহানদাদ আলি (৪৩), মনির সোলায়মান (৬৮) ওজায়ের কাদের (২৪), মোহাম্মদ ইমরান খান (৪৭), আমাদ জামালুদ্দিন আবদুল গনি (৬৮), সৈয়দ আরীব আহমেদ (২৬). মাতুল্লাহ সাফি (৬৫), হুসাইন মোস্তফা (৭০), রমিজ ভোরা (২৮), লিলিক আবদুল হামিদ (৫৮), হাজি দাউদ নবী (৭১), ফরহাজ আহসান (৩০), মোহাম্মদ আলি ভোরা (৫৮), মোজাম্মেল হক (৩০), গোলাম হুসেইন ( ৬০), আত্তা ইলায়ান (৩৩), করম বিবি (৬০), হুসেইন আল উমারি (৩৬), মুসা ওয়ালি সুলেমান প্যাটেল (৬০), মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৩৬), আবদেল ফাত্তাহ কাসেম (৬০), জুনায়েদ ইসমাইল (৩৬) এবং আশরাফ আলী (৬১)।

এ ছাড়া জাকারিয়া ভূঁইয়া নামে এক অভিবাসী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল সংবাদমাধ্যমটি।

এ হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।

তন্মধ্যে নিহত দুই বাংলাদেশি হলেন স্থানীয় লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ ও গৃহবধূ হোসনে আরা ফরিদ।

হোসনে আরা স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে নিহত হন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

নিহতের তালিকায় থাকা ছোট্ট শিশু মুকাদ বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ওই দিন আল নুর মসজিদে গিয়েছিল। বাবা ও ভাই সেদিন পালিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারলেও শিশু মুকাদ জঙ্গি ব্রেনটন টেরেন্টের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

আফগান বংশোদ্ভূত প্রকৌশলী দাউদ নবী বীরত্বের সঙ্গে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন সেদিন। ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখত কিশোর সায়াদ মিলনে (১৪)। মায়ের সঙ্গে আল নুর মসজিদে তার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্নের সমাপ্তি ঘটল। আর মাঠে দেখা যাবে না সায়াদকে।

পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ থেকে আসা নাইম রশিদ (৫০) অনেকটা সময় বেঁচেছিলেন। তবে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মৃত্যু হয় এই বীরের।

ভিডিও ফুটেজে বন্দুকধারীকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। নিহত হয়েছেন নাইম রশিদের ছেলে তালহা রশিদও। পরিবার সূত্রে জানা গেছে বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল তার।

নিহতের তালিকা। ডেইলি মেইল

সাত মাস বয়সী ও তিন বছর বয়সী দুই শিশুসন্তান রেখে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ভারতের হায়দরাবাদ থেকে আসা ফারহাজ আহসান।

নিহত হয়েছেন সিরিয়া যুদ্ধে শরণার্থী খালেদ মোস্তফা। যুদ্ধে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর বুলেটের আওয়াজকে ত্যাগ করে শান্তিতে বাঁচতে নিউজিল্যান্ড এসেছিলেন তিনি।

সেই অস্ত্র থেকে রেহাই পায়নি তার জীবন। এ ঘটনায় তার এক ছেলে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে নাগরিক হুসাইন আল ওমারি (৩৫) ও জান্নাহ ইজাত রয়েছে নিহতের তালিকায়।

ঘটনার দিন সাত ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক আল নুর ও লিনউড মসজিদে ছিলেন। পাঁচজন নিরাপদে পালিয়ে আসতে পারেন। তবে নিহত হয়েছেন লিলিক আবদুল হামিদ।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে চার মাসে ৪ অস্ত্র কেনেন ব্রেনটন


ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালিয়ে অর্ধশত মুসলমানকে হত্যাকারী শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির কাছে অস্ত্র বিক্রি করেছিল গান সিটি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

ব্রেনটন অনলাইন সেবা থেকে চার মাসে চারটি অস্ত্র ক্রয় করেন বলে জানান গান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড টিপল। খবর এএফপির।

ক্রাইস্টচার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান ওই সন্ত্রাসীর কাছে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ বিক্রি করেছে। তার কাছে লাইসেন্স ছিল। তার সম্পর্কে অস্বাভাবিক কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তার দোকান থেকে বিক্রীত অস্ত্র কোথায় ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনো প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে অস্বীকার করেছেন টিপল।

তিনি বলেন, অস্ত্র নিয়ে বিতর্কে জড়ানোর সময় এটি নয়। তবে দায়িত্ববোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, না, আমি কোনো দায়িত্ব নেব না।

তার মতে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের আবেদনের পরীক্ষা করার দায়িত্ব হচ্ছে পুলিশ বিভাগের। এমনকি ভবিষ্যতেও কেউ যদি একই ধরনের লাইসেন্স নিয়ে আসেন, তার কাছেও তিনি অস্ত্র বিক্রি করবেন বলে স্বীকার করেন।

মসজিদে হামলায় ব্যবহৃত সামরিক কায়দার আধা-স্বয়ংক্রিয় (এমএসএসএ) আগ্নেয়াস্ত্র তার দোকান থেকে কেনা হয়নি বলে এ অস্ত্র ব্যবসায়ী জানান।

তিনি বলেন, হামলায় ব্যবহৃত একটি অস্ত্র আমি তার কাছে বিক্রি করিনি। আমি ভিডিও দেখেছি, রাইফেল দেখেছি। তবে আমি জানি এ অস্ত্র কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

আমি যেটি ধারণা করছি, সে অনুসারে যদি এটির সিরিয়াল নম্বর হয়, তবে গান সিটিসংশ্লিষ্ট দোকান থেকে সেটি সংগ্রহ করা হয়নি।

২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রথম শ্রেণির আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পান ব্রেনটন টেরেন্ট। পরে একটি অনলাইন সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে চার মাসে চারটি অস্ত্র ক্রয় করেন।

টিপল বলেন, গান সিটির কাছে অস্ত্র বিক্রির নথি আছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পুলিশকে দিয়েছি।

প্রসঙ্গত শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত ব্রেনটন টেরেন্ট নামে এক শেতাঙ্গ বন্দুক হামলা চালায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এ ছাড়া আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রায় অর্ধশত মানুষ।

উৎসঃ যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ নিউজিল্যান্ডে হামলা ও সভ্যতার সংঘাতের ‘ছক’: ১৯৯৮ সালে ‘সেভিওর’ সিনেমায় হামলার পরিকল্পনা!


ড. মারুফ মল্লিক

সদ্য বলকান যুদ্ধ শেষ হয়েছে। বলকানের মানুষের গায়ে তখনো যুদ্ধের ক্ষত। মার্কিন লেখক, চলচ্চিত্রকার ও ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক অলিভার স্টোন একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করলেন। পরিচালক সদ্য যুগোস্লাভিয়া ভেঙে তৈরি হওয়া সার্বিয়ার পরিচালক পেটার আন্তোনিয়েভিচ। চলচ্চিত্রটি অনেকেই দেখেছেন। আমিও বহুবার দেখেছি। নাড়া দেওয়ার মতো একটি চলচ্চিত্র। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, এটি একটি যুদ্ধবিরোধী চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটির নাম ‘সেভিওর’। এতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডেনিস কোয়াইদ। চলচ্চিত্রে ডেনিস অভিনীত চরিত্রটির নাম জশুয়া রোজ। ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রের শুরুতেই দেখা যায় সন্ত্রাসী হামলা দৃশ্য। জশুয়া মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তা হিসেবে প্যারিসে মার্কিন দূতাবাসে নিয়োজিত ছিল। প্যারিসের এক কফিশপে স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে দেখা করে জশুয়া। জশুয়া সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মার্কিন দূতাবাসে ঢুকতে যাওয়ার সময় কফিশপে ইসলামিস্ট সন্ত্রাসীরা হামলা করে। জশুয়ার স্ত্রী ও ছেলের মৃত্যুর নিদারুণ দৃশ্য দেখা যায় চলচ্চিত্রটিতে। এরপরই জশুয়া ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী ও সন্তান হত্যার প্রতিশোধ নিতে এক মসজিদে হামলা করে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের একে একে গুলি করে হত্যা করে।

নিউজিল্যান্ডের ঘটনার সঙ্গে কি কোনো মিল পাচ্ছেন? বলা হচ্ছে, ২০১৭ সালের এপ্রিলে স্টকহোমে উজবেক যুবকের হামলার প্রতিশোধে ক্রাইস্টচার্চে হামলা করেছেন অস্ট্রেলীয় যুবক ব্রেনটন টারান্ট। ‘সেভিওর’ সিনেমার সঙ্গে আমি কেমন যেন হুবহু মিল খুঁজে পাচ্ছি। সিনেমাটি আরও একবার দেখুন। জশুয়া মসজিদের ভেতরে ঢুকে একে একে গুলি করছে। মুসল্লিরা বাঁচার তাগিদে ছোটাছুটি করছে। সবাইকে মারা হয়েছে ভেবে জশুয়া মসজিদ থেকে বের হয়ে এলে এক আহত মুসল্লি জশুয়াকে পেছন থেকে গুলি করতে উদ্যত হয়। কিন্তু জশুয়ার এক সহকর্মী তাকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর জশুয়া মার্সেনারি সৈনিক হিসেবে সার্বিয়ার পক্ষে বলকান যুদ্ধে যোগ দেয়। সেখানে গিয়ে সার্বিয়া-বসনিয়ার সীমান্তে এক বসনীয় কিশোরকে হত্যা করে। কিশোরটি ভেড়া বা ছাগল নিতে একটি ছোট্ট ব্রিজের ওপর উঠে এসেছিল। যা–ই হোক, নানা ঘটনার পর জশুয়ার মনে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব দেখা যায়। সিনেমার শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, ক্রোয়েশিয়ান শহর স্প্লিতের কাছে অ্যাড্রিয়াটিক সাগরে জশুয়া তার অত্যাধুনিক রাইফেলটি ফেলে দেয়। এ সময় তার কোলে ছিল যুদ্ধশিশু ভেরা। ভেরার মাকে বসনিয়ান সৈনিকেরা আটকে রেখেছিল। বন্দী বিনিময়ের সুযোগে ভেরার মা ক্রোয়েশিয়াতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফিরে আসে। জশুয়া অস্ত্রটি ফেলে দিয়েছে বটে কিন্তু যুদ্ধে যা হওয়ার তা হয়েছে। তামাম বলকান ততক্ষণে বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে।

‘সেভিওর’ মুভিটি আমি অনেকবার দেখেছি। দেখে বোঝার চেষ্টা করেছি। প্রথম দেখি ১৯৯৮ সালের দিকে। তখন মনে হয়েছিল, যুদ্ধের নির্মমতা খুবই ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। ভেরার মায়ের হত্যার দৃশ্য দেখে থমকে উঠেছিলাম। বা সার্বিয়ান সৈনিক গোরান যখন বসনিয়ান বৃদ্ধার আঙুল কেটে ফেলে, তখন তা দেখে শিউরে উঠেছিলাম। এরপর যতবার এই সিনেমা দেখেছি, ওই অংশটুকু আর দেখতে পারিনি। কিন্তু কখনোই চিন্তা করতে পারিনি ‘সেভিওর’–এর বাস্তব দৃশ্যায়ন দেখতে পাব। নির্মম হলেও সত্যি যে ‘সেভিওর’–এর দৃশ্যাবলি এখন বাস্তবেই নেমে এসেছে। হরহামেশাই এখানে সেখানে হামলা হচ্ছে। বার্লিনে ক্রিসমাসের মার্কেটে ট্রাক তুলে দিচ্ছে তো, প্যারিসের শার্লি এবদোতে হামলা হচ্ছে। সুইডেনের মালমোতে মসজিদে হামলা হচ্ছে তো স্টকহোমে ট্রাক তুলে দিচ্ছে পথচারীদের ওপর। কানাডার মসজিদে ঢুকে হামলা কোনো উগ্রপন্থী। সব মিলে এক ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন আর কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। সবাই সবার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। আমি এশিয়ান। সবাই ভাবে, আমি সন্ত্রাসী কি না। তুমি ইউরোপীয়। আমি ভাবি, তুমি উগ্র ডানপন্থী কি না।

সভ্যতার সংঘাত নামক বিষাক্ত তত্ত্বের কী বীভৎস বাস্তবায়ন!

‘সেভিওর’ সিনেমাটি দেখলে হালের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের একটি পূর্বরূপকল্প পাওয়া যায়। যখন সিনেমাটি মুক্তি পায়, তখনো বিশ্বে আইসিস, আল–কায়দার দাপট ততটা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তালেবানরা আফগানিস্তানে জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে। কিন্তু হান্টিংটন, ডোনাল্ড রামসফেল্ডরা সভ্যতার সংঘাত নিয়ে খুব মাতামাতি করছেন। নতুন ধারণা ও তত্ত্ব পেয়ে আমরাও ঝাঁপিয়ে পড়লাম। নিওকনজারভেটিভদের এই সভ্যতার সংঘাত তত্ত্বের আড়ালে কী ছিল, সেটা কেউই অনুসন্ধান করে দেখিনি। নোয়াম চমস্কির মতো কেউ কেই সমালোচনা করলেও খুব বেশি পাত্তা পাননি তখন। নাইন–ইলেভেনের পর সবাই সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে মত্ত। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাই জিহাদি জজবা নিয়ে নেমে পড়ে ঠিক তালেবান, আইসিসের মতোই।

১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘সেভিওর’ এর আরও ডিভিডির দুটি কভার ছবি

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ‘সেভিওর’–এর পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার কীভাবে ১৯৯৮ সালে বসে ২০১৯ সালের গল্প জেনে গেলেন। অনেকেই বলবেন, তাঁরা দূরদর্শী। কবি–সাহিত্যিকেরা অনেক কিছুই আগাম অনুধাবন করতে পারেন। তাঁদের কল্পনাশক্তি প্রবল। ১৯৯৮ সালে আঁচ করে ফেলেছিলেন ২০১৯–এ কী ঘটবে। আবার বিপরীত গল্পও আছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলো আগামী ২০ বছর বা ৫০ বছরে কী করবে, তা আগেই ঠিক ফেলে। বিশ্বকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, সেই পরিকল্পনা নিয়ে তারা মাঠে নামে। এই পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সাংস্কৃতিক উপাদান ছড়িয়ে দিতে থাকে। এর অন্যতম হচ্ছে চলচ্চিত্র। ‘র‍্যাম্বো’ চলচ্চিত্রে দেখেছি—নায়ক একাই এক শ। আফগানিস্তান থেকে ভিয়েতনাম সর্বত্র একাই সবাইকে হারিয়ে দিচ্ছেন। ‘র‍্যাম্বো’ সিরিজের সব চলচ্চিত্রে খলনায়ক ছিল সোভিয়েতপন্থীরা। সোভিয়েতের পতনের পর খলনায়কের আসনে চলে আসে মুসলমানরা। যেমন ‘সেভিওর’-এও।

‘সেভিওর’ বা ‘র‍্যাম্বো’, সব চলচ্চিত্রে নায়ক কিন্তু একজনই। তিনি হচ্ছেন আমেরিকান। হলিউডের চলচ্চিত্রে তো মার্কিন নায়কই থাকবেন। আফগান বা ভিয়েতনামিরা হবে কী করে? কথা সত্য। কিন্তু সন্ত্রাসী তকমার ক্ষেত্রে যে কেবল একটি গোষ্ঠীই চিহ্নিত হয়েছে। হালের সন্ত্রাসীরা কতটুকু মার্কিনবিরোধী, তা নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। অনেকেই সন্দেহ করে থাকেন এই সন্ত্রাসীরা মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের অগ্রবর্তী বাহিনীই। এরা বিভিন্ন স্থানে হামলা করে মার্কিনদের প্রবেশের সুযোগ করে। তারও আগে এরা নেমে পড়ে চলচ্চিত্র, সামাজিক-রাজনৈতিক তত্ত্ব, গান, কবিতা নিয়ে। কেউ কেউ বলে থাকেন ‘সেভিওর’ যুদ্ধবিরোধী চলচ্চিত্র। আবার অনেকেই বলে থাকেন, ‘সেভিওর’ যুদ্ধকে উসকে দেওয়ার চলচ্চিত্র। সভ্যতার সংঘাতের একটি সাংস্কৃতিক রূপ হচ্ছে ‘সেভিওর’। সোভিয়েত–পরবর্তী যুদ্ধের গতি–প্রকৃতি কী হবে, তা ‘সেভিওর’–এর মাধ্যমেই মার্কিন আমাদের ২১ বছর আগে বলে দিয়েছেন। ‘সেভিওর’–এ কিন্তু সেব্রেনিতসার গণহত্যার কথা বিস্তারিত বলা হয়নি। একটি ক্রোয়েট গণহত্যার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। বসনিয়ায় কোনো সন্ত্রাসী লড়াই ছিল না। বসনীয়দের মুক্তির লড়াই ছিল বলকানের যুদ্ধ। যদিও এই যুদ্ধ সার্ব ও পশ্চিমারাই বসনীয়দের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। সেখানে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে বসনীয় যুদ্ধকে পরিচালক কোন উদ্দেশ্যে যুক্ত করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিষয়টি এমন, তুমি আমার স্ত্রী–সন্তানকে হত্যা করেছ, আমি এখন মুসলমানদের খুন করব। তা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক। হচ্ছেও তাই। সন্ত্রাসীরা হামলা করে ইউরোপ, আমেরিকা। ট্যারেন্টরা হামলা করে ক্রাইস্টচার্চে।

‘সেভিওর’ চলচ্চিত্রটিকে ঘিরেই সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের ছক অনুধাবনের কসরত চলতে পারে। ‘সেভিওর’ দেখিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যদের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই কেমন হবে। এতে কে কোন পক্ষে থাকবে। চলচ্চিত্রে দেখানোই হয়েছে সন্ত্রাসীরা হামলা করবে। এরপর মসজিদেও হামলা হবে। দাঙ্গা–ফ্যাসাদ শেষে জশুয়াদের মধ্যে মানবিক বোধের উদয় হবে। এ কারণেই বেইভ্রিককে মানসিক রোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মার্কিন মুলুকে স্কুল–কলেজে হামলাকারীও মানসিকভাবে অসুস্থ। অসম্ভব কিছু না। দেখা যাবে, ব্রেইভিক সুস্থ হওয়ায় তাঁর ব্যবহৃত অস্ত্রটি উত্তর মহাসাগরে ফেলে দিচ্ছেন। কিন্তু তত দিনে সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান যুদ্ধে ছারখার। লাখো সিরিয়ান ইউরোপে উদ্বাস্তু। হাজারো মানুষ পঙ্গু। কেবল মুসলমানরাই পরিপূর্ণভাবে ‘সুস্থ’। এবং সন্ত্রাসী তকমা তাদেরই প্রাপ্য। ফিলিস্তিনের পাথর ছুড়ে মারা যুবকেরা সন্ত্রাসী। আইসিস থেকে কাশ্মীরি—সবাই এককাতারে।

আজকের গ্রেট রিপ্লেসমেন্টে অনুপ্রাণিত হয়ে টারান্টের মেনিফেস্টো ‘সেভিওর’–এরই ধারাবাহিকতা। যে উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিনরা ‘সেভিওর’, ‘র‍্যাম্বো’ বাজায়ে ছড়িয়ে দিয়েছিল, তা সফল। চারদিকে মার্কিনদের জয়জয়কার। সেখানে খুশি, সেখানে ঢুকে যাচ্ছে সন্ত্রাস দমনের নামে। দখল করে নিচ্ছে দেশ–জনপদ। ভয়–বিদ্বেষ জারি হয়ে আছে সর্বত্র। সব জায়গাতেই বিভাজন। মারা পড়ছে মায়ের সঙ্গে প্যারিসে ঘুরতে বের হওয়া শিশু সন্ত্রাসীর ট্রাকচাপায়। অথবা ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় সাধারণ মুসল্লি। তাই এই সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে আগপাছ বুঝতে হবে। এর গভীরে যেতে হবে। বুঝতে হবে এই সন্ত্রাসবাদ লড়াইয়ের আড়ালে আছে সমাজকে, বিশ্বকে বিভাজিত করার হীন উদ্দেশ্য। দেশ দখলের সুপ্ত বাসনা।

তাই ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় আমরা আহত হয়েছি বটে অবাক হয়নি। অন্তত যারা ‘সেভিওর’ চলচ্চিত্রটি দেখেছিলাম। কী ঘটবে, তা মার্কিনরা ১৯৯৮ সালেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বলে দিয়েছে তাদের এজেন্ডা সেটিং পরিকল্পনার আওতায়।

লেখকঃ ড. মারুফ মল্লিক, ভিজিটিং রিসার্চ ফেলো, ইনস্টিটিউট অব ওরিয়েন্ট অ্যান্ড এশিয়ান স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অব বন

উৎসঃ প্রথম আলো

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here