বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়ার তোড়জোড় কেন?

0
101

দেশবরেণ্য রাজনীতিক বেগম খালেদা জিয়া। দেশ-বিদেশে রয়েছে তাঁর কোটি কোটি ভক্ত অনুরাগী। গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতির ঝান্ডা উড়িয়েছেন বাংলাদেশের আকাশে। ‘আপোষহীন’ এই নেত্রীর নামে এখনো গ্রামে-গঞ্জে মানুষ মানত করেন; মাজারে সিরনি দেন। ঘরে ঘরে গৃহবধুরা রোজা রাখেন, মসজিদে মসজিদে তাঁর রোগমুক্তির কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হচ্ছে। বাংলার মানুষের ‘হৃদয়ে যার স্থান’ সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ৭৪ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উদ্বিগ্ন দেশ-বিদেশের সবাই। তিনি ‘জাউ’ খেয়ে কোনরকমে জীবনধারণ করছেন। অথচ তাঁকে সেখান থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়ার তোড়জোড় চলছে। বেগম জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়া হচ্ছে মন্ত্রীদের বরাত দিয়ে মিডিয়ার এই খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসকরা প্রশ্ন তুলে বলেছেন, খালেদা জিয়া সুস্থ হওয়ার আগেই মেডিকেল থেকে কারাগারে নেয়ার চেষ্টা তাঁর প্রতি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি নিয়তি? তাদের বক্তব্য দেশের বরেণ্য নেতার প্রতি এমন আচরণ শুধু অমানবিকই নয়, বরং তাঁর প্রতি আইনের আবরণে কারো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, ব্যক্তিগত আক্রোশ, বিদ্বেষ ও ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ। তারা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা যে আইনে জেলের বাইরে থাকেন; সেই একই আইনে বেগম জিয়া এখনো কারাগারে কেন? তাহলে কি আওয়ামী লীগ নেতা ও ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমের কথাই সত্য? সম্প্রতি নাসিম বলেছেন, ‘পয়সা দিয়ে পুলিশ এমনকি আদালত পর্যন্ত কেনা যায়।’

বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা। এতোটাই অবনতি যে, স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারছেন না। ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তার মুখে ক্ষতের জন্য প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। জাউ (আতপ চালের সিদ্ধ ভাত) খেয়ে জীবনধারণ করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার এই অবনতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিএনপি সারা দেশের নেতাকর্মীরা। এই অবস্থায় সরকারের মন্ত্রীরা খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যা দলটির নেতাকর্মীদের কাছে মাথায় বাজ ভেঙে পড়ার নামান্তর।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি এমন আচরণকে শুধু অমানবিকই নয়, বরং তাঁর প্রতি আইনের আবরণে কারো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রচন্ড ব্যক্তিগত আক্রোশ, বিদ্বেষ ও ক্রোধ মেটানো হচ্ছে বলে মনে করছেন দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নূরুল আমিন ব্যাপারী ও প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল। তাদের দাবি আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়া উচিত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। কারাগারের স্যাঁতস্যেতে মেঝেতে থাকার কারণে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে দলটির পক্ষ থেকে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সাথে বিএনপির শীর্ষ নেতারা সাক্ষাৎ করে চিকিৎসার দাবি জানান। এরই প্রেক্ষিতে বিশেষায়িত (ইউনাইটেড) হাসপাতালের পরিবর্তে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে তাকে দুই দফা চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। কিন্তু দলটির পক্ষ থেকে বরাবরই অভিযোগ করা হচ্ছে, বেগম জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে দলবাজ চিকিৎসকদের কারণে তিনি সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। সেখানে প্রতিদিনই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। সর্বশেষ গত ১৮ মে শনিবার বিএনপির পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়ার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

বিএনপির চিকিৎসক ও আইনজীবীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কারাগারে অবস্থানকালীন তাঁর কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচন্ড ব্যথা পান। নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিরাপত্তাহীন পরিবেশে দীর্ঘদিন নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিরূপ, নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তাঁর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। মারাত্মক জীবন-বিনাশী জীবানুদ্বারা ফুসফুসের সংক্রমণ বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও ধারণা করা হয় যে, কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শুন্যতা দেখা দিয়েছে যা’ তাঁর হাড়ের জন্যে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাছাড়া অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়েছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা.এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল নানা রোগে ভুগছেন। ইতোপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি লন্ডনে চোখের অপারেশনও সম্পন্ন করেছেন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী। সে হিসাবে সুচিকিৎসার স্বার্থে তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত পরিচর্যার সকল সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরী, যা সকল সভ্য, গণতান্ত্রিক ও মানবিকতাবোধসম্পন্ন দেশে নিশ্চিত হয়। প্রকৃত ও যথাযথ সেবার অভাবে, ক্রমান্বয়ে তিনি ঘাঁড়, মেরুদন্ড ও নানাবিধ স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।

খালেদা জিয়াকে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বেগম জিয়া কোনদিনই কারাগার থেকে বের হবেন না। তিনি দেশে এসে সেটি পূঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন। ইতোমধ্যে কেরাণীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারী করা হয়েছে। এই নির্দেশ কিসের জন্য এবং কার জন্য করা হচ্ছে তা জনগণের বুঝতে বাকী নেই। দেশ কর্তৃত্ববাদী শাসনে এক মহা-শৃঙ্খলের মধ্যে আবদ্ধ হয়েছে বলেই ন্যায় বিচার নিরুদ্দেশ হয়েছে। সেই কারণে অন্যায়-অবিচারের এক চরম বহি:প্রকাশের ফলশ্রুতি হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া। অশুভ উদ্দেশ্যেই কারাগারে আদালত বসানো হচ্ছে।

অসুস্থ অবস্থায় কারাবন্দি খালেদা জিয়ার প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে সেটিকে কেবল অমানবিকই নয়, বরং রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত আক্রোশ, ক্রোধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল বলেন, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের অন্যতম বড় দলের নেতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। তাঁর সাথে যে ব্যবহার করা হয় সেটা সাদা চোখে দেখলে অমানবিক মনে হয়। আইনে কি আছে তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে আইনটা কিভাবে প্রয়োগ করা হয়? তিনি বলেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন হাসপাতালে থাকে, নাজমুল হুদার ১৫ বছরের সাজা হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে জামিন পেয়ে যায়। হত্যার আসামী, নার্সকে ধর্ষণের হুমকি দেয়া ছাত্রলীগ নেতা ৪৫ মিনিটের মধ্যে জামিন পেয়ে গেলো। আইনে অনেক কিছু থাকে, মূল কথা হচ্ছে আইনটা কিভাবে প্রয়োগ করা হয়?

খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও সবচেয়ে কঠোরতমভাবে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে মন্তব্য করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ এই শিক্ষাবিদ বলেন, তাঁর (খালেদা জিয়া) সাথে যে আচরণ করা হচ্ছে তাঁর স্ট্যাটাস, এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, বয়স বিবেচনায় কোন কিছুর সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ না। খালেদা জিয়ার প্রতি এমন আচরণ দেখে মনে হচ্ছে যেন তাঁর প্রতি কারো একটা অন্ধ আক্রোশ কাজ করছে। সেই আক্রোশটা বিভিন্ন আইনের আবরণে তার প্রতি মেটানো হচ্ছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং তাঁকে দেশে না বিদেশে নিয়ে সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রদান করা প্রয়োজন।

আসিফ নজরুল বলেন, বেগম জিয়ার জামিনের ক্ষেত্রে কোন রকম সরকারি হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত। এটা যেকোন সাধারণ বিবেকবান সাধারণ মানুষ বলবে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে রাজনৈতিক আক্রোশ তো আছেই, এর সাথে কারো ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হচ্ছেন বেগম জিয়া। এটা খুবই দুঃখজনক এবং বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না। এটার রেশ বহুদিন থাকবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজনের) সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রত্যেকটা নাগরিকের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। আমরা আশা করি বেগম জিয়া ন্যায় বিচার পাবেন। যদিও এ নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছে। তাঁর জামিন পাওয়া এবং চিকিৎসা পাওয়ারও অধিকার রয়েছে। আদালত তার বয়স, সম্মান, সাজা বিবেচনা করে যদি জামিন পাওয়ার যোগ্য হয় তাহলে আদালত তাকে জামিন দেবেন। তিনি আরো বলেন, সরকারের দায়িত্ব তাঁর জামিন পাওয়ার যোগ্য হলে জামিন দেয়া এবং একইসাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এর থেকে ব্যত্যয় ঘটালে এটা কারো জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে তার যদি স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় তাহলে সেটা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে সেটা অন্যরাও অনুসরণ করবে। আবার যদি এক্ষেত্রে কোন অনৈতিকতা, অন্যায়ের কোন প্রশ্ন উঠে সেটা অনাকাক্সিক্ষত। আমি আশা করবো সরকার খালেদা জিয়ার প্রতি ন্যায়ের সাথে, আইনসম্মত এবং তার যে অধিকার প্রাপ্য সে অনুযায়ি কাজ করবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী নূরুল আমিন ব্যাপারী বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে যেভাবে কারাগারে নিয়ে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় অমানবিক। রাজনৈতিক মামলা যদি হয় আর প্রতিহিংসা পরায়ণ যদি কোন উদ্দেশ্য থাকে তাহলে সেখানে মানবিক আর অমানবিক বিষয় সরকার দেখবে না। এজন্য তারা বেগম খালেদা জিয়াকে অসুস্থ্য অবস্থাতেই কেরানীগঞ্জ কারাগারে নিতে পারে। এ অবস্থায় তাকে সেখানে নিলে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার সেটিকে কোন তোয়াক্কা করছে না। সরকার মনে করছে, তারা যেভাবে দেশ চালাচ্ছে সেখানে কোন কিছু তোয়াক্কা করার কিছু নেই। গণতান্ত্রিক সরকার যদি প্রতিষ্ঠিত হতো তাহলে তারা এভাবে বিরোধীদলের নেতার প্রতি আচরণ করতো না। বরং সম্মান প্রদর্শন করতো। তারা জবাবদিহিমূলক সরকার হলে চিন্তা করতো জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে, জনগণের কাছে ভোট চাইতে হবে, জবাব দিতে হবে। এই প্রক্রিয়াটা এখানে নেই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এবং গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর। এখন আর জবাবদিহিতা নিয়ে আর কোন প্রশ্ন আসে না। যেখানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই, রাষ্ট্র যেখানে গণতন্ত্রের প্রতি কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। সেখানে সরকার খালেদা জিয়া বা যেকোন লোককে এভাবে শাস্তি দিতেই পারে। তবে এটাই শেষ কথা নয়। প্রবিাদে রয়েছে এই দিন দিন নয়/ আরো দিন আছে/ একই দিনকে নিয়ে যাবে/ সেই দিকের কাছে। অতএব সাবধান! #

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম র‌্যাংকিংয়ে না থাকার কারণ জানালেন ড. মঈন খান


প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ে না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন পরিচালিত র‌্যাংকিং ব্যবস্থা এশিয়ার ৪১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত আমাদের সবার গর্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিতে পারেনি।

কারণ হিসেবে বিএনপির এ নেতা বলেন, কোর্স কারিকুলাম বা সিলেবাসসমূহ অনেক ডিপার্টমেন্টেই উন্নত বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হালনাগাদ করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে ছাপা হওয়া নামি প্রকাশকের পাঠ্যবইয়ের বদলে অখ্যাত ভারতীয় বা অনুন্নত বিভিন্ন দেশের প্রকাশকের পাঠ্যবইগুলো বেছে নেয়া হয় ক্লাসরুমে পাঠদানের জন্য।

ঢাবিতে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব আজ চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে মূল্যায়ন না করে নিছক দলীয় রাজনৈতিক কর্মী অর্থাৎ ছাত্রলীগের কর্মীকে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে ভোটার তৈরির চেষ্টা করা হয়, যাতে শিক্ষক রাজনীতিতে প্রভাব বজায় রাখা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেটসহ সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার না থাকাকেও র‌্যাংকিংয়ের অন্তরায় হিসেবে দায়ী করেন মঈন খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও কেবল পাঠ্যবই থেকে স্কুলের বাচ্চাদের যেভাবে পড়ানো হয়ে থাকে, সে রকমই একমুখী লেকচারভিত্তিক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়।

পরীক্ষা পদ্ধতিরও সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ ছাত্র বলেন, শিক্ষকের দেয়া লেকচারের ওপর নেয়া ক্লাস নোট অনুসরণ করে কিংবা বড়জোর পাঠ্যবই থেকে মুখস্থ করে পাস করা যায়, এমন প্রশ্নপত্রই তৈরি করা হচ্ছে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা নিয়ে মঈন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হবার কথা শিক্ষা ও গবেষণার স্থান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম অপ্রতুল যা আমরা সবাই জানি। গবেষণা তহবিলের অপ্রতুলতার কথাও বহুল আলোচিত।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের যোগ্যতা যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয় তবে তাকে দিয়ে মানসম্মত গবেষণা করানো কতটুকু সম্ভব তার উত্তর সবারই জানা।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের পরীক্ষা নেয়া এবং খাতা দেখার মত কাজের জন্য বাড়তি সময় দেয়ার কারণেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মৌলিক গবেষণায় অংশগ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারেন না বলে মনে করেন বিএনপির এ নেতা।

ড. মঈন খান আরও বলেন, যে কোনো মানসম্মত মৌলিক গবেষণা প্রকাশের মাধ্যম হল আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ও স্বীকৃত একাডেমিক জার্নালসমূহ। সেসব জার্নালে মৌলিক গবেষণাপত্রগুলো কঠোরতম পিয়ার রিভিউর নানা ধাপ পেরিয়ে ছাপানো হয়ে থাকে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিয়োগ বা পদোন্নতির জন্য গবেষণাপত্র কোথায় কোন জার্নালে প্রকাশ হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে কোনো বিশেষ মর্যাদা বা ইনসেনটিভ প্রদান করা হয় না।

‘যে কোনো জার্নালে বা পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণাপত্রকে একই পাল্লায় মাপা হয়। ফলে যে জার্নালে মৌলিক গবেষণাপত্র ছাপাতে বেশ কষ্ট স্বীকার করা লাগে এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন পড়ে সেই সমস্ত জার্নালের পেছনে না ছুটে খুব সহজেই ছাপা যায় এমন জার্নালে গবেষণাপত্রের নামে কিছু একটা ছেপে নিয়োগ ও পদোন্নতি বাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলে।’ যোগ করেন তিনি।

ড. মঈন খান বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা সংস্থাগুলোর মধ্যে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের আওতায় জ্ঞান আদান-প্রদানের প্রয়োজনীয়তা সর্বজনস্বীকৃত। এতে করে উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাগারে লব্ধ জ্ঞান অনুন্নত বিশ্বের গবেষকরা সহজে জানতে পারেন এবং তার ভিত্তিতে নিজেদের পরবর্তী গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম মান্ধাতা আমলেই রয়ে গেছে। মূলত কাগজেপত্রের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বমানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে এমন কোনো উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পরিলক্ষিত হয় না। এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রৃাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন করা উচিত এমন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যাদের বৈশ্বিক পর্যায়ের র‌্যাঙ্কিং উল্লেখযোগ্যভাবে উঁচুমানের এবং গবেষণা কার্যক্রমে বিশ্বব্যাপী সুনাম রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ২৮৩টি এক্সচেঞ্জ চুক্তি বলবৎ রয়েছে দেশ বিদেশের নানা বিশ্ববিদ্যালয় বা সংস্থার সঙ্গে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিনষ্ট হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, একসময় অনেক বিদেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়তে এলেও আমার জানামতে এই মুহূর্তে একজনও বিদেশি শিক্ষাথী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাই। আমার জানামতে ভাষা ইন্সটিটিউটে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন মিলিয়ে হাতেগানা কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন। অন্য কোথাও কোনো বিভাগে বিদেশি শিক্ষক বা গবেষকের দেখা বলতে গেলে মেলেই না।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ঈদ শপিংয়ে ট্রায়াল রুমের গোপন ক্যামেরা থেকে নারীদের সাবধান হতে হবে


ঈদে নতুন পোশাক কিনতে রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। নিজের পছন্দের পোশাক কিনতে ক্রেতার ছুটছেন নামিদামি সব শপিংমলে।

রেডিমেট পোশাক কিনতে যারা শপিংমলগুলোতে যান তারা সাধারণত ট্রায়াল রুমে ট্রায়াল দিয়ে পোশাক কিনে থাকেন। কারণ শখের যে পোশাক আপনি কিনছেন, সেটি আপনার পরনে ঠিকমত না হলে বিপাকে পরতে হয়।

বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে রেডিমেট পোশাক কেনা ও ট্রায়াল রুমের গোপন ক্যামেরা থেকে সাবধান হতে হবে। কারণ আপনার সামান্য অসাবধনতার কারণে বিপাকে পড়বেন আপনি। তাই ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরার বিষয়ে সর্তক থাকুন।

বিভিন্ন ট্রায়াল রুমে আপনার অজান্তেই ক্যামেরা লুকিয়ে রাখার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে অনেকবার। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নারীরা।

আসুন জেনে নেই কীভাবে বুঝবেন ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরা লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

১. ট্রায়াল রুমে ঢুকে প্রথমেই চারপাশ খুব ভালোভাবে দেখার পর পোশাক পরে মাপ দেখুন।

২. পোশাকের মাপ দেখার আগে অবশ্যই হ্যাঙার, কাঠের দেয়ালে ভালোভালে দেখে নিন ক্যামেরা লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিনা।

৩. আয়নায় লক্ষ্য করুন যদি উল্টোদিকে অন্য ঘর বা দেয়াল দেখতে পান সঙ্গে সঙ্গে বেড়িয়ে আসুন।

৪. দরজায় ও আয়নায় একটি টোকা দেন। ফাঁপা শব্দ হলে, সাবধান হোন লুকানো ক্যামেরা আপনাকে দেখছে

৫. আয়নায় আঙুল ছোঁয়ান। আঙুল আর প্রতিফলনের মধ্যে দূরত্ব থাকলে বুঝবেন ক্যামেরা রয়েছে।

৬. পোশাক পরিবর্তন করে নতুন পোশাক পরতে যদি ট্রায়াল রুম ব্যবহার করেন তবে নিরাপদ থাকতে ভেতরের বাতিগুলো নিভিয়ে দিন।

৭. মোবাইল ফোনের আলোতে পোশাক চেঞ্জ করুন, এরপর বাতি জ্বেলে আয়নায় দেখে নিন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ধানক্ষেতে কৃষকের আগুন দেয়ার ঘটনা শতাব্দীতে প্রথম: শামসুজ্জামান দুদু


উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষক তার ক্ষেতে আগুন দিলেও সরকার নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, গত এক শতাব্দীতে এ রকম ঘটনা আর ঘটেনি।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ধানসহ সব ধরনের ফসলের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

দুদু বলেন, গত এক শতাব্দীতে লক্ষ্য করবেন, কৃষক তার উৎপাদিত ধানে আগুন দিয়েছে এরকম ঘটনা দ্বিতীয়তা ঘটেনি। কিন্তু এ সরকারের আমলে ঘটেছে।কী ভয়ঙ্কর, কৃষক তার ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষেতে আগুন দিচ্ছে, আর সরকার নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে।

কৃষক ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষিমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, কৃষিমন্ত্রীর বাড়ি টাঙ্গাইলে। আর সেই টাঙ্গাইলের কৃষকরা নিজের ধানক্ষেতে আগুন দিয়েছে। কৃষিমন্ত্রী কিছুই করেন নাই, প্রধানমন্ত্রী কিছুই করেন নাই। কারণ এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সরকার অবৈধ সরকার বলেই জনগণের কাছে, কৃষকদের কাছে কোনো জবাবদিহি তারা করতে চায় না।

দেশে ভয়ঙ্কর শাসন চলছে উল্লেখ করে দুদু বলেন, যে শাসনে এ দেশের কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ ছাত্র-যুবক-নারী কেউ নিরাপদ নয়, কারোর পক্ষেই স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কৃষক দলের আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এই স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্রের সরকারকে বুঝিয়ে দিতে হবে, বাংলাদেশের জন্ম মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। লাখ লাখ শহীদ হয়েছেন, মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন এই স্বাধীনতার জন্য।

জনগণ এক হলে দেশে একনায়কতন্ত্র টিকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হবে। গণতন্ত্রের প্রশ্নে এই দেশে লুটপাট দুর্নীতি একনায়কতন্ত্র স্বৈরতন্ত্র টিকবে না- এটাই বুঝিয়ে দিতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক তকদির হোসেন জসিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুগ্ম-আহ্বায়ক সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌এগুলোতো হলো খুচরা দুর্নীতিঃ হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে যেগুলো প্রকাশিত হয়নি!


শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের জন্যই যে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হচ্ছে তা এখন আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যেসব প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলোতে চলছে হরিলুট। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের দুর্নীতির মহোৎসবের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ের নাম করে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক, কোনো কোনোটিতে ৭৫ শতাংশ।

আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো- এক কেজির মতো ওজনের একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে ফ্ল্যাটে তুলতে খরচ হয়েছে প্রায় তিন হাজার টাকা। জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেক্ট্রিক আয়রন ওপরে তুলতেও খরচ হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ টাকা।

প্রায় আট হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকার বেশি। প্রতিটি শোবার বালিশ ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে প্রায় এক হাজার টাকা করে। আর একেকটি ওয়াশিং মেশিন ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি।

কেবল ভবনে ওঠানোর ক্ষেত্রেই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও অস্বাভাবিক অর্থ ব্যয় দেখানো হয়েছে। ২০ তলা ওই ভবনটির প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য প্রতিটি বালিশ কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা করে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ওপরে ওঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা দরে, ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা হয়েছে ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে। এছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা করে। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা।

ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রব কিনে ভবনে ওঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি মেট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট এক কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে ওঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে।

আরও জানা গেছে, এই প্রকল্পের আওতায় একজন গাড়িচালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের বেতনের সমান। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে রাঁধুনি আর মালির বেতন ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে সর্বসাকুল্যে ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। যা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীর ছয়গুণেরও বেশি। প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালকের মাসিক বেতন মোট ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। যা প্রধানমন্ত্রীর সম্মানীর প্রায় পাঁচগুণ। কোনো কিছু তোয়াক্কা না করে দেশের টাকা এভাবেই হরিলুট করা হচ্ছে রুপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব দুর্নীতি-লুটপাটের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের লোকজন জড়িত। এই দুর্নীতির টাকার বড় একটি অংশ এসেছে তাদের পকেটে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এগুলোতো হলো খুচরা দুর্নীতি। সরকার এখান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নিচ্ছে। যেগুলো প্রকাশিত হয়নি।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের এই লুটপাটের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞমহলসহ সাধারণ মানুষ বিস্মিত হয়েছেন। সবার প্রশ্ন একটিই- বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে এসব কি হচ্ছে? মেগা প্রকল্পের নামে যে সরকার মেগা দুর্নীতি করছে এটাই প্রমাণ।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌দেশের কৃষকদের বঞ্চিত করে ভারত থেকে চাল আমদানি


দেশের সাধারণ কৃষকরা ধানের দাম না পেয়ে মনের দুঃখে ধানক্ষেতে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছেন; ধানের ন্যায্যমূল্যের দাবিতে সড়ক অবরোধ করছেন; ঠিক সেই সময় দেশের কৃষকদের বঞ্চিত করে ভারত থেকে চাল আমদানি করার প্রস্তুতি চলছে। ২০ মাসে আমদানি করা হয়েছে ২৪ লাখ টন চাল; এখনো আমদানির পাইপলাইনে রয়েছে আরো ৩ লাখ ৮০ হাজার টন। এ যেন দেশের কৃষক মেরে ভারতীয় কৃষককে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা! অবশ্য গতকাল খাদ্য সচিব জানিয়েছেন, আপাতত ভারত থেকে কোনো চাল আমদানি করা হচ্ছে না। কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ইনকিলাবকে বলেন, সরকারিভাবে চালের আমদানি শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।

অথচ বাস্তবতায় উল্টো চিত্র। স¤প্রতি দি এশিয়া ফাউন্ডেশন ও বিআরআইইএফ প্রকাশিত ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব রাইস ট্রেড বিটুইন বাংলাদেশ ইন্ডিয়া অ্যান্ড নেপাল’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ২০ মাসে ভারত থেকে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এর বেশির ভাগ নন-বাসমতী হলেও বাসমতী চালও রয়েছে। এ পরিমাণ চাল আমদানিতে বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে প্রায় ৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। ওই প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ভারতের অর্থবছরের হিসাবে ২০১৭-১৮ সময়ে দেশটি থেকে বাংলাদেশে চাল (বাসমতী ও নন-বাসমতী) রফতানি হয়েছে ২০ লাখ ৪২ হাজার ৫৮২ টন। অন্য দিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৮১ টন। সব মিলিয়ে দুই অর্থবছরের ২০ মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে চাল এসেছে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ টন। ১ এপ্রিল থেকে ভারতে নতুন অর্থবছর শুরু হয়।

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক ইনকিলাবকে বলেন, সরকারিভাবে চালের আমদানি শূন্যের পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে। কয়েক বছর ধরেই আমদানি করা হচ্ছে না। দেশে চালের পর্যাপ্ত উৎপাদনের কারণে বেসরকারিভাবে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে উচ্চ শুল্কহার বসানো হয়েছে। তবে কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে চাল রফতানির বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। দেশের খাদ্য চাহিদায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বাড়তি চাল রফতানির উদ্যোগ নিলে কৃষকরা দাম পাবেন। বোরো মৌসুম শেষ হলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ ইনকিলাবকে বলেন, বর্তমানে আমাদের প্রচুর পরিমাণ চাল রয়েছে। ভারত অথবা অন্য কোনো দেশ থেকে আপাতত কোনো চাল আমদানি করছি না। পাইপলাইনে আরো ৩ লাখ ৮০ হাজার টন রয়েছে, সেগুলো আনা নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক ইনকিলাবকে বলেন, চাল আমদানি উন্মুক্ত রেখে কৃষকের উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ সাংঘর্ষিক। গত আমন মৌসুমে যখন বাম্পার ফলন হলো, তখনই উচিত ছিল চাল আমদানি বন্ধ কিংবা আরো উচ্চ শুল্ক আরোপ, সেটি করা হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দেশে উৎপাদন কমে গেলে আমদানি শিথিল করা যেতে পারে। চলতি বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। আমনের পর বোরোতে পরপর দুই মৌসুম ভালো ফলনের কারণে চাল আমদানির ব্যাপারে এখনই কঠোর হতে হবে। তা না হলে কৃষক যে বোরো ধানের দাম পাচ্ছেন না তা আরো জটিল আকার ধারণ করবে। ভবিষ্যতে কৃষক চাল উৎপাদন থেকে সরে আসতে পারে। এতে হুমকিতে পড়তে পারে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা।

জানা গেছে, ব্যবসায়ীর কারসাজি বন্ধ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও চালের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০১৫ সালের শেষ দিকে শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। এর সঙ্গে রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) যোগ হয় ৩ শতাংশ। ফলে চাল আমদানিতে সব মিলিয়ে ২৮ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। এর প্রভাবে পরের প্রায় দেড় বছর ধরে চাল আমদানি এক রকম বন্ধ ছিল, কিন্তু ২০১৭ সালের মে মাসে পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওরাঞ্চলে সৃষ্ট আগাম বন্যায় ফসলহানির পর সরকার চালের আমদানি শুল্ক উঠিয়ে দেয়। এ ছাড়া বাকিতে চাল আমদানির সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়। এর ফলে ব্যাপকভাবে চাল আমদানি শুরু হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষে প্রায় ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার টন চাল আমদানি করা হয়। অবস্থানগত কারণে আমদানির বেশির ভাগই হয় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। গত বছরের শেষ দিকে সরকার চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করে। এতে চাল আমদানি কমলেও বন্ধ হয়নি। যদিও হাওরের বন্যায় চালের ঘাটতি ১০ লাখ টন হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়। কিন্তু গত দুই বছরে দেশে ৫৫ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছর আমদানি হয় ১৩ লাখ ৩০ হাজার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছর প্রায় ৪০ লাখ টন। চলতি অর্থবছরে মোট আমদানি দুই লাখ টন হলেও এখনো পাইপলাইনে ৩ লাখ ৮০ হাজার টন চাল রয়েছে।

গত শনিবার এক সেমিনারে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকও চাল আমদানিকে অস্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন। বাড়তি আমদানি, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কাছে মজুদ থাকা এবং উদ্বৃত্ত উৎপাদন ধানের দাম নিয়ে সঙ্কটকে জটিল করেছে।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌রাজধানীতে ৮০ ভাগ হোটেলে খাওয়ানো হয় মৃত মুরগীর চিকেন গ্রিল এবং শর্মা


রাজধানীর কাওরানবাজার, কাপ্তানবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন মুরগী আসে কয়েক লাখ। পরিবহণ এবং তাপমাত্রার কারণে প্রতিদিনই মারা যায় কয়েক হাজার মুরগী । মৃত মুরগিগুলো ফেলে দেয়ার কথা থাকলেও কখনোই ডাস্টবিনে মৃত মুরগী দেখা যায় না। তাহলে কোথায় যায় মরে যাওয়া সেই মুরগীগুলো। মাই টিভি

রাত আনুমানিক চারটায় রাজধানীর কাওরানবাজার সংলগ্ন সড়কে গাড়ি থেকে মুরগী নিয়ে যাওয়ার পর পড়ে থাকা মৃত মুরগীগুলো সংগ্রহ করে এক যুবক। রাজধানীর অন্য একটি বাজারের চিত্রে দেখা যায় দুই তিনজন লোক ঘুরছে মৃত মুরগীর সন্ধানে। রাতে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা যায় পড়ে থাকা অসংখ্য মৃত মুরগী ।

কাওরানবাজারের সকালের দৃশ্যে দেখা যায়, ঝুঁড়ি থেকে মুরগী বের করে বিক্রি করছে এক যুবক। জিবিত মুরগীর দাম যেখানে দের থেকে দু’শ টাকা সেখানে এই মুরগীর দাম শুনলেই বোঝা যায় জীবিত নাকি মৃত মুরগী।

এক মুরগী বিক্রেতা বলেন, মুরগীর দাম ৮০ টাকা কেজি। এখন মুরগীর দাম কম তাই এই দামে বিক্রি করি।

মৃত মুরগী সংগ্রহকারি এক মহিলা বলেন, এগুলো নিয়ে বিক্রি করি। মানুষ এগুলো খায় ১০ টাকা ২০ টাকা ভাগা দিয়ে বিক্রি করি।

পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ড্রামেই পাওয়া যায় তিনটি মৃত মুরগী । প্রতিটি দোকান সূত্রে জানা যায় প্রতিদিন এক দোকানে গড়ে ৫টি করে মুরগী মারা গেলে এক কাওরানবাজারেই মারা যায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মুরগী । রাজধানীর সব বাজার মিলে তা দাঁড়ায় কয়েক হাজার।

এসব মৃত মুরগী কোথায় ফেলা হয় জানতে চাইলে মুরগী ব্যবসায়ীরা বলেন, এগুলো ডাষ্টবিনে ফেলা হবে। আর পরিচ্ছন্নতাকর্মী এসে নিয়ে যাবে। প্রতিদিন প্রায় ২০-৩০টি মুরগী ডাষ্টবিনে ফেলা হয়।

ডাষ্টবিন তদারককারিরা বলেন, এখানে কোনো মরা মুরগী আসে না। পা চামড়া এই সব আসে।

আসলে মৃত মুরগীগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে মাছের খাবার হিসেবে। বাজার থেকে সংগ্রহ করা এসব মৃত মুরগী এছাড়াও ব্যবহার হচ্ছে রাজধানীর বেশ কিছু সংখ্যক রেষ্টুরেন্টে। রেস্টুরেন্টের চিকেন গ্রিল এবং শর্মা খাওয়ার আগে অতিরিক্ত শক্ত, অতিরিক্ত ঝাঁল, জিরার ঘ্রাণ এবং হাড়ের ভিতরে মজ্জগুলো কালো এগুলো লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে খাওয়ানো হচ্ছে মৃত মুরগী; এমন তথ্যই জানালেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর কাপ্তন বাজার এবং কাওরানবাজার মুরগী ব্যবসায়ী এবং এই বাজারগুলোর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানী বাজারগুলোতে প্রতিনিয়ত কয়েক বাজার মৃত মুরগী ফেলা হয় ডাষ্টবিনগুলোতে। কিন্তু বাজারের নির্দিষ্ট দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ডাষ্টবিনে কখনোই দেখা যায় না মৃত মুরগী।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা সংবিধান পরিপন্থী : জমির উদ্দিন সরকার


বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কোন সাজাই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা সম্পূর্ণরুপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী। তিনি বলেন , বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা প্রদানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রতিহিংসাপূরণ এবং শুধু মাত্র বেগম জিয়াকে হয়রানি ও বিপর্যস্ত করার জন্য। এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অধিকার গ্রুপ, মানবাধিকার সংস্থা এমনকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকারগুলোর পক্ষ থেকেও বেগম জিয়ার মামলা কে সাক্ষ্য প্রমাণহীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলে অভিহিত করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান,বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম,বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিনতির দিক ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, কারাগারে অবস্থানকালীন তাঁর কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ,নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে তার নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবণা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি তার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী -এমপিদের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছে, যা শুধু অমানবিকই নয় সরকারের নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই বক্তব্য একজন বন্দীর মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এই বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য। সরকার দলীয় মন্ত্রী ও নেতাদের নিষ্ঠুর রসিকতা একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রুপটিই ফুটে ওঠে।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সরকারের লোকজন শুরু থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার যথাযথ সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে বলে দেশ ও বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে আসছেন, কিন্তু কারাগারে থাকার সময় বন্দী দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ার কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আজও দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং সাম্প্রতিককালে সরকার নিয়োজিত চিকিৎসকদল তার স্বাস্থ্য বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তাতে এক বছর পূর্বে ব্যক্ত সকল অনুমান ও শংকা অক্ষরে অক্ষরে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ফলে সরকারের সুচিকিৎসার দাবীকে সাম্প্রতিক মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট বিন্দুমাত্র সমর্থন করছে না। এই মেডিকেল বোর্ডের লিখিত প্রতিবেদনে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে শংকা ও পূর্বানুমিত ক্রমাবনতির ধারণা এখন প্রতিনিয়ত মারাত্মক অবনতির চিত্রই ক্রমাগত ফুটে উঠছে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌আওয়ামী ইতিহাসের সেরা দুর্নীতিঃ ২ কোটি টাকার বালিশ


রাজনৈতিক রসিকতার ছলে বহুল ব্যবহৃত বাক্য ‘নালিশ করে কী পেলেন’? ‘বালিশ’! নালিশ করে যদি সত্যিই বালিশ পান তাহলে সত্যিই আপনি ভাগ্যবান। তবে সে বালিশ হতে হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের গ্রিন টিসি হাউজিং প্রকল্পের। কারণ, তাদের ব্যবহৃত এক একটি বালিশের মূল্য প্রায় ৬ হাজার টাকা। অবিশ্বাস্য তুলতুলে নরম বালিশ! অকল্পনীয় মনে হচ্ছে! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য গ্রিন সিটি প্রকল্পটির ফ্ল্যাটে ব্যবহারের জন্য বালিশ ও আসবাসপত্র কেনা এবং ভবনে উঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। প্রকল্পের নথি বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে এই তথ্য। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, সরকারি নিয়ম মেনেই এই দামে বাজার থেকে ‘কেনাকাটা’ করা হয়েছে। প্রকল্পে শুধু বালিশ কেনা হয়েছে ৩৩০টি। প্রতিটি বালিশের মূল্য ৫৯৫৭ টাকা। এগুলো আবার ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচ করা হয়েছে ৯৩১ টাকা। এতে খরচ হয় মোট ২ কোটি ২৭ লাখ ৩ হাজার ৪০ টাকা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান (কেপিআই) কেনাকাটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় বইছে। প্রশ্ন হলো- রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ মহামান্য প্রেসিডেন্ট কি ৬ হাজার টাকার বালিশে মাথা দিয়ে ঘুমান? শুধু কি তাই! প্রকল্পের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। তিনি মাসে পান প্রায় ৭ লাখ টাকা। প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার বেতন পান প্রায় ৭৪ হাজার টাকা। মালী বেতন পান প্রায় ৮০ হাজার টাকা। মিডিয়ায় এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের পর ১৬ মে বৃহস্পতিবার এ ঘটনা তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রোববার তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব। যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার ইনকিলাবকে বলেন, এ ধরনের একটি বিষয় আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর দরদাম ও অন্যান্য বিষয় দেখার জন্য কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। এরপর তারা কী করেছে, তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্য হয় তা তো খুবই বিপদের কথা। এমন হরিলুট চলছে অথচ দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই, কোনো স্বচ্ছতা নেই। দেশে বর্তমানে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা যদি থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি এমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে দুর্নীতির অবস্থা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে। টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখের এবং উদ্বেগের বিষয়। কারণ সরকারের এত বড় হাই-প্রোফাইলের একটি প্রকল্পের একটি অংশে এত বড় দুর্নীতির বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। এ ধরনের অস্বচ্ছতার কারণগুলো হচ্ছে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কেনাকাটা নিয়ে ঘটেছে অকল্পনীয় সমুদ্রচুরির ঘটনা। প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য নির্মিত ভবনে আসবাবপত্র কেনা আর তা ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ দেখে সবাই হতবাক! সরকারি অর্থের এমন বেহিসাবি সাগরচুরি কারবারে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বইছে ঝড়। কেউ কেউ কৌতুক করে বলছেন, বাহুবলি সিনেমার নায়কও বাংলাদেশে আসছেন, বালিশ তোলার কাজ করতে। অনেকে আবার বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জাত ব্যবসায়ী। তিনি যদি খবর পান বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠায় এত টাকা, তাহলে তিনি বাংলাদেশে আসতে পারেন। কেউ লিছেছেন দেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের উচিত বিসিএসের পড়াশোনা বাদ দিয়ে বালিশ তোলার কাজ খোঁজা। কেউ লিখেছেন, উচ্চশিক্ষিত ছেলেমেয়েদের এখন রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের গাড়ির ড্রাইভার, বাগানের মালীর লোভনীয় পদের জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া উচিত। বিশিষ্টজনেরা বলছেন, সরকারি অর্থের হরিলুট হচ্ছে, এটা বিভিন্ন সময় প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এমন অবিশ্বাস্য কাহিনী এটা একেবারেই মেনে নেয়া যায় না। বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কর্মরতদের ফ্ল্যাটের জন্য বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্রয় এবং তা ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচে একবার চোখ বুলিয়ে দেখা যাক। এসব পণ্য ক্রয় করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাবনা পূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। প্রতিটি বালিশ কেনায় খরচ পড়েছে ৫৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ হয়েছে ৭৬০ টাকা। প্রতিটি বিছানা কেনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫৯৮৬ টাকা। আর ফ্ল্যাটে ওঠানোর ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯৩১ টাকা। চাদর ও বালিশ কেনা হয়েছে ৩৩০টি করে। প্রতিটি খাট কেনায় খরচ হয়েছে ৪৩৩৫৭ টাকা। আর ওঠানোর ব্যয় ১০৭৭৩ টাকা। সর্বমোট খাট কেনা হয়েছে ১১০টি। একটি বৈদ্যুতিক চুলা কেনার খরচ পড়েছে ৭৭৪৭ টাকা। আর ওই চুলা ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ৬৬৫০ টাকা। প্রতিটি বৈদ্যুতিক কেটলি কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫৩১৩ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা। রুম পরিষ্কারের একটি মেশিন কিনতে সংশ্লিষ্টরা খরচ দেখিয়েছে ১২০১৮ টাকা। আর ওঠাতে খরচ দেখিয়েছে ৬৬৫০ টাকা। প্রতিটি ইলেকট্রিক আয়রন কিনতে খরচ পড়েছে ৪১৫৪ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ২৯৪৫ টাকা। টেলিভিশন প্রতিটির দাম ৮৬৯৬০ টাকা। আর ওঠানোর খরচ ৭৬৩৮ টাকা। টেলিভিশন কেনা হয়েছে ১১০টি। সেগুলো রাখার জন্য আবার কেবিনেট করা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে। ফ্রিজের দাম দেখানো হয়েছে প্রতিটি ৯৪২৫০ টাকা। আর ওঠাতে খরচ পড়েছে ১২৫২১ টাকা। ওয়ারড্রোব প্রতিটি কেনায় খরচ দেখানো হয়েছে ৫৯৮৫৮ টাকা। ওঠাতে খরচ পড়েছে ১৭৪৯৯ টাকা। মাইক্রোওয়েভ প্রতিটি কেনায় ব্যয় ৩৮২৭৪ টাকা। খরচ হয়েছে ৬৮৪০ টাকা। প্রতিটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকায়, ভবনে ওঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা করে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা। ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের প্রতিটি সেট কেনা হয়েছে এক লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়। ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে।

সরকারি টাকার এই রেকর্ড লুটপাটে নাম এসেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় মূল প্রকল্প এলাকার বাইরে গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীর। ওই পল্লীতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য ২০ তলা ১১টি ও ১৬ তলা আটটি ভবন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলা ৮টি ও ১৬ তলা একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া ৯টি ভবনের ৯৬৬টি ফ্ল্যাটের জন্য আসবাবপত্র কেনা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে একটি ২০ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র কেনা ও তা ভবনে ওঠাতে সব মিলে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। প্রকল্পের নথি বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে দাম আর ওঠানোর ওই রেকর্ড। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন নিয়ম মেনেই কেনাকাটা করা হয়েছে।

চলুন জেনে নিই এই প্রকল্পে কর্মরতদের বেতন কাঠামো। এই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের মাসিক বেতন ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন এজন্য আরো ২ লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে তিনি পাবেন ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। প্রকল্প পরিচালকের গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা। অথচ বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনী আর মালীর বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা।

একইভাবে উপপ্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্যসব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরো কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ সংক্রান্ত উন্নয় প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন; যা সচিবের বেতনের প্রায় ৯ গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে ৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও ৩ লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। এ ছাড়াও বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩ মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাতা সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, এমন ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে তো খুবই বিপদের কথা। এমন হরিলুট চলছে অথচ দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই, কোনো স্বচ্ছতা নেই। তা তো পরিষ্কার। দেশে বর্তমানে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয়। দেখেন সংসদে যে কাজগুলো করার কথা সেগুলো হচ্ছে কি না। দেশে আইনের শাসন আছে কি না। এসব ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। পার্লামেন্টের কমিটিগুলোকে অ্যাক্টিভ করতে হবে। যে পার্লামেন্টে বিরোধী দল থাকে না, সে পার্লামেন্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। পার্লামেন্টে কোনো বিষয় নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না। ওয়াকআউট হয় না, কোনো প্রশ্ন হয় না, নিয়ম, অনিয়ম নিয়ে কথা হয় না। তাহলে তো এমন অবস্থা হবেই। সরকারের উচিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এত উন্নয়ন এভাবে না করে টেকসই উন্নয়ন করা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা যদি থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি এমন দুর্নীতির ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে দুর্নীতির অবস্থা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের ঘটনা অন্ত্যত দুঃখের এবং উদ্বেগের বিষয়। কারণ সরকারের এত বড় হাই প্রোফাইলের একটি প্রকল্পের একটি অংশে এত বড় দুর্নীতির বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তোলে। এধরনের অস্বচ্ছতার কারণগুলো হচ্ছে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকা।

নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিস ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। শুধু আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌রূপপুর প্রকল্পে মালির বেতন ৮০ হাজার, গাড়ি চালকের ৯৩ হাজার টাকা অকল্পনীয় লুট পাট!


দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটিতে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ক্রয়ে লাগামছাড়া দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হয়েছে।

একটি বালিশের পেছনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা। এর মধ্যে এর দাম বাবদ ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা আর সেই বালিশ নিচ থেকে ফ্ল্যাটে ওঠাতে খরচ ৭৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি টাকায় আকাশ সমান দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে তুলতে অস্বাভাবিক হারে অর্থ ব্যয়ের এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের পাবনা গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা।

শুধুমাত্র আসবাবপত্র কেনা ও ফ্ল্যাটে ওঠাতে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ২৯২ টাকা। এরই মধ্যে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, এই প্রকল্পের সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ।

এই প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, এজন্য আরও দুই লাখ টাকা পাবেন। সব মিলিয়ে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানি এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর সম্মানির ছয়গুণেরও বেশি পাবেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিচালক।

পাশাপাশি গাড়ি চালকের বেতন ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। রাঁধুনি আর মালির বেতন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি চালক, রাঁধুনি আর মালির এই পরিমাণ বেতন ধরা হয়েছে।

একইভাবে উপ-প্রকল্প পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালকসহ অন্য সব পদেই অস্বাভাবিক বেতন-ভাতা ধরা হয়েছে। বেতন ছাড়াও আরও কয়েকটি খাতে অস্বাভাবিক ব্যয় ধরে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওঠার কথা রয়েছে। পাস হওয়ার পর ব্যয়ের দিক থেকে এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যা পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রায় চার গুণ।

প্রকল্পটির বিভিন্ন খাতের অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। ১২ খাতে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাবও চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

ডিপিপি অনুযায়ী, ৩৬৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন ও ভাতা হিসেবে ৬৯৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ৩৬ শতাংশ এবং ভাতা ধরা হয়েছে ৬৪ শতাংশ। সরকারি বেতন কাঠামোর গ্রেড অনুসরণ না করে ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকসহ ১৬টি পর্যায়ে বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্প পরিচালক পাবেন ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা বেতন, যা সচিবের বেতনের প্রায় নয় গুণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক পাবেন তিন লাখ ৬৩ হাজার টাকা। তিনি প্রকল্পের স্টেশন ডিরেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এজন্য অতিরিক্ত এক লাখ ৮০ হাজার টাকা পাবেন তিনি। এতে তার মোট বেতন দাঁড়াবে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, যা প্রধানমন্ত্রীর বেতনের প্রায় ৪ দশমিক ৭২ গুণ।

প্রকল্পের রাশিয়া অফিসের পরিচালকের বেতন ধরা হয়েছে তিন লাখ ২১ হাজার টাকা করে। প্রকল্পের সাত বিভাগের সাতজন প্রধানের বেতনেও তিন লাখ ২১ হাজার টাকা। কারিগরি ও প্রশাসনিক অন্যান্য পদের বেতনও অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পদেও এসব ব্যক্তি কাজ করবেন। এজন্য তারা অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পাবেন।

বেতনের বাইরে বার্ষিক সর্বোচ্চ তিন মাসের মূল বেতনের সমান চিকিৎসা ভাতা, মাসিক তিন থেকে ছয় হাজার টাকা যাতায়াত ভাড়া, মাসিক ১০ থেকে ১৫ হাজার সন্তানদের শিক্ষাভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে মাসিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেজস্ক্রিয় ভাতা এবং ২০ শতাংশ হারে শিফট ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির কর্মকর্তা পর্যায়ে সর্বনিম্নে বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ তিন হাজার টাকা। বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা প্রতি মাসে এ হারে বেতন পাবেন। এর বাইরে তিনি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ থেকে অতিরিক্ত ৪৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। অর্থাৎ তার মোট বেতনের পরিমাণ দাঁড়াবে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা। এতে তার বেতন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী এমনকি রাষ্ট্রপতির চেয়েও বেশি পড়বে।

প্রকল্পটির গাড়ি চালকের বেতন ৭৩ হাজার ৭০৮ টাকা, যা একজন সচিবের কাছাকাছি। বর্তমানে সচিবের বেতন ৭৮ হাজার টাকা। তবে প্রকল্পটির গাড়িচালকরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন। এতে আরও ১৮ হাজার টাকা পাবেন গাড়িচালকরা। এতে তাদের বেতন দাঁড়াবে ৯১ হাজার ৭০৮ টাকা। প্রকল্পটির সর্বনিম্ন বেতন রাঁধুনি বা মালির। প্রকল্প থেকে তিনি বেতন পাবেন ৬৩ হাজার ৭০৮ টাকা। আর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করলে অতিরিক্ত পাবেন ১৬ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার বেতন পড়বে ৭৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যা সচিবের বেতনের চেয়েও বেশি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, প্রকল্পটির বেতন-ভাড়া সরকারি স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন ও অনিয়ন্ত্রিত। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যান্য ব্যয় নিয়েও এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাবতা যাচাই স্পষ্ট নয়, ইআইএ নিয়ে লুকোচুরি, স্পেন্ট ফুয়েল (অবশিষ্ট তেজস্ক্রিয় জ্বালানি) ইস্যুর সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পটি অনুমোদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আগে প্রকল্পের ব্যয়সহ বিতর্কিত ইস্যুগুলো সমাধান করা দরকার। এর পর প্রকল্প অনুমোদন পর্যায়ে যাওয়া উচিত।

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (মূল পর্যায়) প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। ৯ বছর মেয়াদি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। রাশিয়ান ফেডারেশনের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট হিসেবে দেবে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। বাকি ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা দেয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এর মধ্যে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (প্রাথমিক পর্যায়) প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, পরিকল্পনা কমিশন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এতে সংস্থাটির নিজস্ব যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের কোনো খাতেই অযৌক্তিক ব্যয় ধরা হয়নি। আর কর্মকর্তাদের বেতন নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এখানে আকর্ষণীয় বেতন না দিলে কেউ চাকরি করতে আসবে না। সব দিক বিবেচনা করেই এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে সব প্রশ্নের জবাব কমিশনে তুলে ধরা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করলে উন্নয়নের রোল মডেল খুঁজে পাওয়া যাবে না: আ স ম আবদুর রব


জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, সরকার এপ্রিল মাসে ধান কেনার কথা থাকলেও তা না কিনে কৃষককে মধ্যস্থতাকরীদের কাছে জিম্মি করে ফেলেছে। পৃথিবীর সকল দেশে কৃষকরা উৎপাদন করে লাভ করে, আর আমাদের দেশের কৃষকরা লস করে। ক্ষোভে দুঃখে কৃষক পাকা ধান ক্ষেতে আগুন দিচ্ছে এর পরিণতি ভয়াবহ। মধ্যস্থতাকারী সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ধান না কিনে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকেই ধান ক্রয় করতে হবে।

ধানের ন্যয্য মূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জেএসডি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে জেএসডি সভাপতি এসব কথা বলেন।

দলের সহ-সভাপতি মিসেস তানিয়া রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন মো. সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, অ্যাড. সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, অ্যাড. সৈয়দ ফাতেমা হেনা প্রমুখ।

আ স ম আবদুর রব আরও বলেন, উৎপাদন খরচ থেকে ৩০০ টাকা কমে প্রতি মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। পুঁজিপতিরা ব্যাপক ঋণ মওকুফ পাচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে। মেঘা প্রকল্পের নামে অপচয় হচ্ছে। অথচ ১৭ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে না।

এ সময় তিনি একদিকে চাল রপ্তানি করা অপরদিকে আমদানি করার এ ভানুমতির খেল বন্ধ করার দাবি জানান। বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ করতে হবে। এদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কৃষকরা উৎপাদন বন্ধ করে দিলে উন্নয়নের রোল মডেল খুঁজেও পাওয়া যাবে না। দেশে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে। ১৭ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। একই সঙ্গে তিনি পাটকল শ্রমিকদের ৯ দফা দাবি, মজুরি কমিশন ঘোষণা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

উৎসঃ ‌‌বিডি-প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চায় ২০ দল


বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচন্ড চাপে। দলের তৃণমূল নেতারা চান চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে দ্রুত রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার আন্দোলনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি দিতে পারেননি। এতে তৃণমূলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে এবার সোচ্চার হয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো। সম্প্রতি ২০ দলীয় জোটের সভায় শরিক দলগুলো বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতারা প্রতীকী অনশন, মানববন্ধন, সেমিনার, বিদেশি কূটনীতিকদের অবহিত করতে বৈঠক করা ছাড়া রাজপথে কোনো আন্দোলন করতে পারেননি কিংবা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে সরকারের মনোভাব বোঝারও চেষ্টা করেননি। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ না হলে মামলা হবে, এমন ধারণা দলটিকে রাজপথ থেকে দলীয় কার্যালয়ে আবদ্ধ করে ফেলেছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজপথে আন্দোলন শুরু করতে চায় ২০ দলীয় জোট।

এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি- এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ঠেকাতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তার মুক্তির জন্য এলডিপি সারা দেশে জনমত গড়ে তুলবে। আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে।

এ বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে বন্দি আছেন। কার্যত গোটা দেশই আজ বন্দি। তাই খালেদা জিয়া এবং বন্দি দেশটাকে মুক্ত করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে।

তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এ বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব নয়। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে। নেতাদের বারবার এমন বক্তব্য দেয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে বিএনপি যাচ্ছে না কেন? এর জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। এই দলের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। আমরা কোনোভাবেই আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করতে পারি না। চেষ্টা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে কারাবন্দি। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে তিনি কারাবন্দী হন। দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য আইনি পথে হাঁটছে বিএনপি। তবে এতে তারা খুব একটা সফল হতে পারছে না। আর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথের আন্দোলনও জোরদার হচ্ছে না। দলের নেতারা অনেক সময় আইনি ও আন্দোলন দুটো পথেই অগ্রসর হওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কাক্সিক্ষত ফল পায়নি বিএনপি।

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশ নিয়ে বিএনপির ভরাডুবির পর দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের কাছে চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবি আবার জোরালো হয়। তার মুক্তির জন্য বিএনপির সর্বস্তরে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার দাবি ওঠে। তবে বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতা মনে করেন, আইনি পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তারা সে কথা প্রকাশ্যে বলেছেনও। এ প্রসঙ্গে আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, সরকার চাইলেই কেবল খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের কাছে কাকুতি-মিনতি করে বেগম জিয়ার মুক্তি আসবে না। রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামই বেগম জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ। আর আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে নেমে জেল-জুলুমের ভয় করলে চলবে না। আন্দোলন করতে গেলে জেল আসবে, জুলুম আসবে। এসব মোকাবেলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদন্ড দেন হাইকোর্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা রিভিশন আবেদনের রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে দেন। এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার নামে আরো ৩২টি মামলা রয়েছে।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌আদালত থেকে নাসিমকে ডাকল না, আমি বললে কোর্টে দাঁড় করাবে : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

টাকার বিনিময়ে কোর্ট-কাচারী কেনা যায়- আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের এমন বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, দুই দিন আগে নাসিম বলেছেন, কোর্ট-কাচারী নাকি টাকা দিয়ে কেনা যায়। কিন্তু বিচারপতি তা শোনেও নি, পড়েও নি। এটা আদালত অবমাননা হলো না? কোর্ট-কাচারী টাকায় কেনা যায় তার জানা আছে। এ কথা বলার পরেও আদালত থেকে কেউ কিছু বললো না। নাসিম সাহেবেকে ডাকলো না। একথা যদি আমি বলি তাহলে আদালতে নিয়ে দাঁড় করাবে।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

গয়েশ্বর বলেন, আমরা জানি দানবের বিরুদ্ধে মানববন্ধন যথেষ্ট নয়। রাজপথে আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আপোসহীন নেত্রীর কর্মী হিসেবে রাস্তায় দাঁড়াতে পারি, রাস্তার মোকাবিলা করতে পারি, তাহলে অবশ্যই এ সরকারের যত শক্তিই থাকুক, খালেদা জিয়াকে তারা জেলে আটক রাখতে পারবে না।

তিনি বলেন, সে কারণে আমাদের সকল নেতাকর্মীর একটি অঙ্গীকার থাকতে হবে, জেল জুলুম যাই হোক, আমরা নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য যে কোনো ধরনের আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকবো। এ অঙ্গীকারের প্রতিশ্রুতি যখন সরকার লক্ষ্য করতে পারবে, তখন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ ত্বরান্বিত হবে। শুধুমাত্র আকুতি মিনতি অথবা মানবতার কথা বলে, অসুস্থতার কথা বলে প্রধানমন্ত্রীর হৃদয় কখনও টলবে না। কারণ যার হৃদয় নেই, তার কাছে আবেদন নিবেদন অগ্রাহ্য হবে এটাই স্বাভাবিক। সে কারণে বলছি, আন্দোলন সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

গয়েশ্বর বলেন, সর্বশেষ গতকাল প্রধানমন্ত্রীর একটি উক্তি নির্মম পরিহাস ও মানবতার প্রতি কটাক্ষ। একজন বৃদ্ধা বলা যায়, যার বয়স ৭৩ এর উপরে, তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ অবস্থায় নির্জন কারাগারে বসবাস করছেন। তাকে নিয়ে মশকরা করে তিনি পায়েশ খান। পায়েশ খাওয়াটা অপরাধ বা বিলাসের বিষয় না। এটা মানবতার সাথে অশোভন আচরণ পর্যায়ে পড়ে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তির কোনো বাধা নেই। একমাত্র বাঁধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর বলেন, যে দৃষ্টান্ত আপনি স্থাপন করবেন সেই দৃষ্টান্ত ভোগ করার জন্য ভবিষ্যতে প্রস্তুত থাকবেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় আপনি জেলে গিয়েছিলেন এবং আপনার সঙ্গে অশোভন আচরণ করার কারণে কঠোর এবং কঠিন ভাষায় সেদিন বেগম খালেদা জিয়ার নিন্দা করেছিলেন। আপনার পক্ষে কথা বলেছিল। সেদিন ব্যক্তিগতভাবে আমি কমপক্ষে ১৭ বার আপনার মুক্তি চেয়েছি। খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ওয়ান ইলেভেনকে গণতন্ত্রের ওপর হানা, আক্রমণ মনে করেছি। সেই কারণে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি এবং তাদের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে তার নিন্দা করেছি। কিন্তু বিনিময়ে আপনি কী করছেন? ক্ষমতায় আসার পরে বেমালুম ভুলে গেছেন। আগামীতে আপনার যদি কোনো বিপর্যয় হয় আপনার মুক্তি চাওয়ার জন্য মানুষ তো দূরের কথা, কোনো পশুপাখিও পাওয়া যাবে না।

চাল আমদানির সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, আজকে বিদেশ থেকে চাল আমদানি করা হয়। আবার সরকার বলে খাদ্যে চাল উদ্বৃত্ত। আর কৃষকরা দাম পায় না। দাম না পাওয়ায় আজকে ধানে আগুন, কৃষকের ধানে আগুন, মনে আগুন। কোনদিন তারা রাস্তায় আগুন দেবে তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।

গয়েশ্বর আরও বলেন, আজকে যারা ব্যাংকের টাকা মেরে খায়, তাদেরকে সুবিধা দেয়া হচ্ছে। আর যারা কৃষিঋণ নেয়, তাদেরকে জেলে ঢুকানো হচ্ছে। এই বৈষম্যের কারণে বোঝা যায় আপনার (প্রধানমন্ত্রী) অর্থনীতি লুটপাটের অর্থনীতি। লুটপাট করে দেশের টাকা বিদেশে জমছে। দেশে কোনো বিনিয়োগ নেই। অচিরেই অভাববোধ দৃশ্যমান হবে, অর্থের সঙ্কটে প্রত্যেকটা পরিবার ভুগবে।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক সুলতানা রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌’চাল আমদানি সরকারের কারসাজি’


চাল আমদানি সরকারের কারসাজি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বলেছেন, ‘যেখানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বলা হয়, সেখানে আমদানির প্রশ্নই আসে না। কিন্তু আজকে এ সরকার চাল আমদানি করছে। এটা সরকারের কারসাজি। দেশের কৃষকদের মূল্য দিতে হবে, তাদের উৎপাদনের মূল্য দিতে হবে। শ্রমিকদের মজুরি দিতে হবে। আজকে আমাদের মৌলিক শিল্পগুলোকে রক্ষা করতে হবে।’

শনিবার (১৮ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী পাটকল শ্রমিক দলের আয়োজনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘দেশের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত চাল বিদেশে রফতানির পরিকল্পনা করছে সরকার’- খাদ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে নোমান বলেন, ‘যেখানে সরকার আমদানি করছে সেখানে উদ্বৃত্ত হয় কী করে। আসলে দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে। ব্যাংক লুটপাট হচ্ছে। এদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে কোন কোন ক্ষেত্রে টাকা পাচার হচ্ছে।’

উৎসঃ ‌‌বিডি প্রতিদিন

আরও পড়ুনঃ ‌জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে খালেদা জিয়া স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না


সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন, তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এ অবস্থায় বিশেষায়িত হাসপাতালে রেখে তার চিকিৎসা করানো জরুরি। অবিলম্বে কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি করে বিএনপি।

গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির নেতারা এ কথা বলেন। কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

এই সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান। দলের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জমির উদ্দিন সরকার বলেন, কারাগারের দূষণযুক্ত পরিবেশে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবন সবই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খালেদা জিয়া এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

সর্বশেষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনসুলিন ব্যবহারের পরও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে তার মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচ- ব্যথা রয়েছে। স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগছেন। মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত ?অসুস্থ।

তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এটি মেনে নেওয়া হবে না। এটি মানবতাবিরোধী কাজ। এক প্রশ্নে মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই। আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ তার চিকিৎসা দরকার।

এ জন্য তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌এই সরকার প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে সংবিধান লঙ্গন করছেঃ তৈমুর আলম খন্দকার


এই সরকার প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে সংবিধান লঙ্গন করছে বলে মন্তব্যে করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা অ্যাড. তৈমুর আলম খন্দকার।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্যে করেন।

তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া এ দেশে স্থিতিশিল অবস্থা ফিরে আসবেনা। এই সরকার মানবাধিকার ও মানবিক মুল্যেবোধ পদদলিত করেছে। যারা সরকারী দল বা সরকারের সমর্থক তারাই রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেছে। আর যারা বিরোধীদল করে বা সরকারের সমর্থক না তাদের কোন চাকুরি ও প্রমোশনসহ সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তৈমুর আলম খন্দকার আরো বলেন, এখন জনগণের দায়িত্ব এ দেশে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। কারন এ দেশে গনতন্ত্র নাই। এক দলীয় শাসনে পরিচালিত হচ্ছে দেশ।

কয়েক দিন আগে রূপগঞ্জ সদর এলাকায় এক সংখ্যালঘু পরিবারের উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর মামলা করে বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। অব্যাহত প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ওলামাদল নেতা সামসুর রহমান খাঁন বেনু, যুবদল নেতা আব্দুল কাইয়ুম প্রধান, খন্দকার আলাল, হাফিজুর রহমান পিন্টু, মহিলালীগ নেত্রী পারভিন বেগম, অ্যাড. সামাদ মোল্লা, যুবদল নেতা সালাউদ্দিন, অ্যাড. আজিজুর রহমান মোল্লা, আফজাল হোসেন, ইদরিস আলীসহ আরো অনেকে।

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

আরও পড়ুনঃ ‌সেহেরির সময় ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীর হামলা (ভিডিও সহ)।


সেহেরির সময়ে ঢাবির রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তারকে ডেকে নিয়ে তার উপরে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি! ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসিতে ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের ওপর হামলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জেরে শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই পদবঞ্চিত।

এ ঘটনায় টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়েছেন হামলার শিকার নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

ভিডিওঃ  ‘সেহেরির সময় ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সেক্রেটারীর হামলা (ভিডিও সহ)’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তারা অভিযোগ করেন, রোকেয়া হল ছাত্রলীগ সভাপতি বিএম লিপি আক্তার, সুফিয়া কামাল হলের সাধারণ সম্পাদক সারজিয়া শারমিন চম্পা ও কেন্দ্রীয় সংসদের উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদারকে মারধর করেন গোলাম রাব্বানী। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান বলেন, আমাদের সঙ্গে তারা বসেছিলেন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রাব্বানী ভাই লিপি, সম্পা ও তিলোত্তমা আপুর গায়ে হাত তোলেন। আমরা এর নিন্দা জানাই।

এ হামলার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন লাঞ্ছিত নেত্রীরা ও পদবঞ্চিতরা। তিনি বলেন, আমরা এখন রাজুতে (রাজু ভাস্কর্য) অবস্থান নিয়েছি। এ ঘটনার বিচার চাই। আর কতদিন এভাবে মার খেতে হবে ছাত্রলীগের মেয়েদের।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে সংবাদ পাঠিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ

তানিশা, ফারজানা করিম, শবনম ও সঙ্গীতাসহ সংবাদ পাঠিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে

চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে সংবাদ পাঠিকা এবং নারী কর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, যৌন নিপীড়ন এবং নানা রকম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। যা নারী নির্যাতন এবং কর্মস্থলে পরিবেশ লংঘনের শামিল বলে জানা গেছে। নারীদের সঙ্গে তিনি কুৎসিত অরুচিকর আচরণ করছেন বলে সেখান থেকে চাকরি ছেড়ে দেওয়া একাধিক নারী সংবাদ পাঠিকা অভিযোগ করেছেন। তাদের অভিযোগ, চাকরি ছাড়তে তাদের বাধ্য করা হয়েছে।

এদের মধ্যে রয়েছেন তানিশা, ফারজানা করিম, শবনম ও সঙ্গীতা। এরা সবাই জনপ্রিয় সংবাদ পাঠিকা। যারা বাদ পড়েছেন তারা বলেছেন যে, আমরা নারী নির্যাতন নিয়ে কথা বলছি, যৌন হয়রা্নির বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছি। অথচ চ্যানেল আইয়ে শাইখ সিরাজ যা করছেন তার বিচারের কি হবে? সেটারও তদন্ত হওয়া উচিত। নারীদের এক হওয়া উচিত। এটারও বিচার হওয়া উচিত। শাইখ সিরাজের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চ্যানেল আই এখন অনিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌বাংলা ইনসাইডার

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার কারাগার বদল সরকারের ষড়যন্ত্র: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ


চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেয়ার উদ্যোগ সরকারের একটি অংশের ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত ‍অসুস্থ।তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় তাকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।এটি মেনে নেয়া হবে না। এটি মানবতাবিরোধী কাজ।

‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব না, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে’, বারবার এমন বক্তব্য দেয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না কেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং দ্রুত মুক্তির বিষয় নিয়ে এখানে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমরা আজ এর মধ্যেই থাকতে চাই। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে আজকের বিষয়টি ডাইভার্ড হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে দলের অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে।
খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার।এজন্য তার মুক্তি দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আ’লীগকে কথা শোনানোর ব্যবস্থা করব: মির্জা আব্বাস


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা করা হবে বলে হুশিয়ার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আন্দোলন না করে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তি জানালে ক্ষমতাসীন দল ব্যবস্থা নেবে কিনা সাংবাদিকদের-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে কীভাবে কথা শোনাতে হয় সে ব্যবস্থা আমরা এক সময় করব। এত চিন্তা করে লাভ নেই।’

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি বিএনপি চায় না উল্লেখ করে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমরা প্যারোল চাইব না। তিনি (খালেদা জিয়া) অসুস্থ্য তার চিকিৎসা দরকার।এজন্য তার মুক্তি দাবি করছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ : আসিফ নজরুল


বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, মওলানা ভাসানীদের আমলে আমরা ছিলাম মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার তাগিদে স্বাধীন জাতি। এখন আমরা স্বাধীনতার নামে লেজ গুটিয়ে রাখা, মাথা গুটিয়ে রাখা একটা দাস জাতিতে পরিণত হয়েছি। এটা আমরা নদীর পানির দিকে এবং বিভিন্ন সেক্টরের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। আসলে আমরা বাইরে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ।

শুক্রবার মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে জামালপুর জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের আয়োজনে শহরের হুমায়রা কমিউনিটি সেন্টারে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আসিফ নজরুল বলেন, প্রতিনিয়ত সীমান্তে আমাদের ভাইদের হত্যা করা হচ্ছে এবং বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকেও হত্যা করা হচ্ছে। আমরা যখন দেখি বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা লুট হয়ে যাচ্ছে, ১০০ টাকার প্রকল্প যখন এক হাজার টাকার প্রকল্পে পরিণত করা হচ্ছে, জনগণের ট্যাক্সের টাকা, ভ্যাটের টাকা ও আমাদের কষ্টের টাকা নিয়ে এই সরকার কি নয়-ছয় করছে এবং দুর্নীতিমূলক কাজ করছে।

যখন ১৬ কোটি মানুষের ভোটের অধিকার আগের রাতে ছিনিয়ে নেয়া হয়। তখন আমার সত্যিই মনে হয়, আজকে মাওলানা ভাসানীর মত একজন মানুষের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। তিনি স্টংলি বলতে পারতেন, ‘খামস’। যার খামস শুনে ভয় পেত- দেশ প্রেমিকহীন অত্যাচারী মানুষ। বাংলাদেশে বর্তমানে এমন এক শাসন ব্যবস্থা চলতে, ‘‘বাইরের মানুষের কাছে বিড়াল, দেশের মানুষের কাছে বাঘ’। এই অবস্থায় আমাদের দেশে একজন বাঘের প্রয়োজন ছিল, যিনি দেশের মানুষের জন্য মহামানব আর বাইরের মানুষের কাছে বাঘের মত। মূলত মাওলানা ভাসানী ছিলেন প্রচন্ড দেশ প্রেমিক, জনবান্ধব ও প্রচন্ড সৎ একজন মানুষ। কোন ভয় দেখিয়ে তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।

জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানু, ভাষানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বার নঈম জাহাঙ্গীর, অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা ভাসানী অনুসারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রশীদ বাবু।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here