মন্ত্রীদের উদ্ভট-কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তায় মানুষ হাসাহাসি করে: রিজভী

0
86

ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রীদের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, চাপাবাজি দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারবেন না। আপনাদের উদ্ভট-অবাস্তব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন কথাবার্তায় মানুষ হাসাহাসি করে, আমোদিত হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে চাকরির জন্য জীবনবাজি রেখে ইতালি পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন আমাদের ৩৭ হতভাগ্য ভাই। এর আগেও মালেয়শিয়াসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে অবৈধ পন্থায় প্রবেশ করতে গিয়ে প্রাণহানি ঘটেছে অনেক বাংলাদেশি যুবকের।

তিনি বলেন, মিডনাইট সরকারের বিনাভোটের মন্ত্রীরা কেউ বাংলাদেশকে কানাডা-স্পেনের সঙ্গে তুলনা করছেন, কেউ প্যারিস-লসঅ্যাঞ্জেলেস-সিঙ্গাপুরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলছেন।

‘আবার নির্লজ্জের মতো এই সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের মন্ত্রী নাকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এক টুকরো বাংলাদেশ চায়, আবার বেলজিয়াম নাকি বাংলাদেশ মডেলে চলতে চায়!’

বিএনপির এ নেতা বলেন, জনগণের ভোট ছাড়াই জোর করে জনগণের ঘাড়ে চড়ে বসা এই মিডনাইট ভোটের সরকার দেশকে লুটপাট করে অর্থনীতিকে ফাঁপাফোকলা করে দিচ্ছে। বাড়ছে বেকারত্ব।

ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার, অনুগত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রশাসনের জুলুম ও অব্যবস্থাপনায় দিনকে দিন বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।

তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবেই ৪ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার কর্মক্ষম মানুষ বেকার। যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনো বাস্তবসম্মত সরকারি পদক্ষেপ নেই। যুবশক্তি আজ পথহারা। তাই হতাশায় নিমজ্জিত তরুণদের মধ্যে মাদকাশক্তির প্রবণতা বাড়ছে। নিরাপত্তা আর কাজের অভাবে দেশ ছেড়ে গিয়ে সাগরে সলিল সমাধি ঘটছে টগবগে তরুণদের।

রিজভী আরও বলেন, দেশ ছাড়তে গিয়ে সাগরে মৃত্যুর খবর প্রায়ই আসছে, কিন্তু সরকার নির্বিকার। মিথ্যা প্রপাগান্ডার জোয়ারে ভাসছে এ অন্ধকারের সরকার।

তিনি বলেন, এক দশক আগে আওয়ামী লীগ সরকার বলেছিল, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। ১০ টাকা সের চাল খাওয়াবে। কিন্তু চাকরি না হোক, মানুষ তো চায় কাজ। সরকার দেশে কর্মসংস্থান করতে পারে না, কিন্তু বেসামাল মন্ত্রীরা উন্নয়নের কল্পিত গল্প শোনায়, কৃত্রিম জিডিপি ও প্রবৃদ্ধির গল্প বানায়।

‘তাদের তথাকথিত উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরল হতভাগ্য ৩৭ বাংলাদেশি। তাদের স্বজনদের শোকের মাতম কে দেখবে?’ প্রশ্ন রাখেন রিজভী।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগ সভাপতির বাবার আম বাগানের ভেতরে গাঁজার চাষ


দিনাজপুরের বিরামপুরে ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের বাবা বিরামপুর উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওরফে টিটুর ইজারা নেয়া জমিতে শতাধিক গাঁজার গাছসহ কেয়ারটেকার মংলুকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে পৌর শহরের মিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

বিরামপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা জানান, পৌর শহরের মিরপুর মহল্লায় একটি আম বাগানে গাঁজা চাষের খবর পান অফিসার্স ইনচার্জ মনিরুজ্জামান। পরে পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা অফিসার্স ইনচার্জের নির্দেশে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে ওই বাগানে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান আম বাগানের ভেতরে গাঁজা চাষ করা হচ্ছে। সেখানে ১৫ দিন থেকে ১ বছরের অধিক বয়সের শতাধিক গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়। বাগান থেকে কেয়ারটেকার মংলু আটক করা হয়েছে।

মংলু পুলিশকে জানিয়েছে যে, গত ছয়মাস থেকে ওই বাগানে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। টিটু মেটালের স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন তাকে কাজে লাগায়।

পুলিশ জানায়, আনোয়ার হোসেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আঃ রাজ্জাকের বাবা।

ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাগানটি জনৈক আফাজ উদ্দিনের। আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করছেন। গাঁজা চাষের ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌ধর্ষক চাঁনু শিং ভিডিও ফাঁস করে দেবার ভয় দেখিয়ে ফের ধর্ষণ ও একটি অসহায় পরিবার


এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে চাঁনু শিং (৪৩) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী। শুধু তাই নয় কিছুদিনপর ভিডিও ফাঁস করে দেবার ভয় দেখিয়ে করে ফের ধর্ষণ। এরপর পুনরায় ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মেয়েটিকে আটকিয়ে রাখা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালের কক্ষে। সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হয় অসহায় মেয়েটি। এরপর ধর্ষিতার মায়ের কাছে হুমকি দেয়া হয় মেয়েকে তার হাতে তুলে দেবার জন্য। ধর্ষকের কথা অনুযায়ী মেয়েকে না দেওয়ায় মা ও ছোট বোনকে মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয় চাঁনু শিং। এমনি এক ঘটনা ঘটে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে। গত রোববার রাতে গ্রেপ্তার করে এই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে পাগলা থানা পুলিশ।

থানায় দায়ের করা মামলায় ও ধর্ষিতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কান্দিপাড়া আব্দুর রহমান ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গত ৮ই ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ৯টায় দিকে কান্দিপাড়া বাজারে একা পেয়ে প্রতিবেশী চাঁনু শিং তার সহযোগী মোশারফের সহায়তায় রিভলভার দেখিয়ে তাকে জিম্মি করে ধর্ষণ করে। এ সময় মোশারফ ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও করে। এর কিছুদিন পর ইন্টারনেটে এই ভিডিওটি ছেড়ে দেবার ভয় দেখিয়ে কলেজ ছাত্রীকে ময়মনসিংহ শহরের চরপাড়া এলাকায় বেসরকারী স্পন্দন হাসপাতালে নিয়ে ঐ কলেজ ছাত্রীকে পুনরায় ধর্ষণ করে চাঁনু শিং। এ ধর্ষনের ঘটনাও ভিডিও করে তার সহযোগী হাসপাতালে মালিক স্বপন ও মোশারফ।

ধর্ষিতা জানায়, স্বপন ও মোশারফ হাসপাতালে ঐ রুমে ধর্ষিতাকে আটকে রেখে দরজা বাইরে থেকে লাগিয়ে দেয় এবং হাসপাতালে মালিক স্বপন ও মোশারফ তাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। হাসপাতালের এক নার্সের সহযোগিতায় শিক্ষীর্থীটিকে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসে গফরগাঁও শহরের এক আত্মীয় বাসায় আশ্রয় নেয়। এরপর ধর্ষক চাঁনু শিং বাড়িতে এসে ধর্ষিতার মাকে চাপ প্রয়োগ করে মেয়েকে তাদের হাতে তুলে দিতে। ধর্ষকের কথামতো ধর্ষিতার মা তার মেয়েকে চাঁনু শিং এর হাতে তুলে না দেওয়ার চানু শিং ও তার লোকজন ধর্ষিতার মা ও ছোট বোনকে মারধোর করে বাসা থেকে বের করে দিয়ে বাসায় তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর ধর্ষিতার পরিবার গফরগাঁও শহরের এক আত্মীয় বাসায় আশ্রয় নেয়। অসহায় পরিবারটি এ ঘটনায় উপজেলার সদরের কয়েকজন মানবাধিকারকর্মী ও উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের জানালে তাদের পরার্মশে গত রোববার সন্ধ্যায় ধর্ষিতার বাদী হয়ে পাগলা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর রোববার রাত ৮ টায় দিকে পাগলা থানার পুলিশ কান্দিপাড়া বাজার থেকে ধর্ষক চানু শিং কে গ্রেপ্তার করে।

ধর্ষিতার মা জানায়, চানু শিং আমার মেয়েকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। এ ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করলে ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়াসহ আমি ও আমার মেয়েদের জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এলাকাবাসী জানায়, চাঁনু শিং এলাকায় চিহিৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী। এবং ইয়াবা কারবারীদের নিয়ে তার একটি বিশাল বাহিনী রয়েছে। সে নিজেকে সবসময় থানার পুলিশের প্রিয় লোক বলে পরিচয় দিতো। তার ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এ ব্যাপারে পাগলা থানার ওসি মোঃ ফায়েজুর রহমান বলেন, ভিকটিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ১৬৪ ধারা জবানবন্দী দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ ‌মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ইয়াবাসহ ছাত্রলীগ নেতা আটক


মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সেলিম হোসেন নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার তোবারিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক সেলিম হোসেন ওই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে এবং উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক।

সাটুরিয়া থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) আবুল কালাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সেলিমকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রি ও সেবন করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী রাজু আহমেদ বুলবুল জানান, মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন তাকে ছাড় দেয়া হবে না। সেলিমের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়াকে কেন কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হচ্ছে?


সরকারের কথিত মামলায় কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে সরিয়ে নেয়া হবে। কেরানীগঞ্জের কারাগারের ভেতরে স্থাপিত বিশেষ আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

এর আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এতে বলা হয়েছে, কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে একটি নবনির্মিত ভবনকে অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডাদেশ পাওয়া বিএনপি প্রধান এখন ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরের ব্যাপারে চিকিৎসকদের ছাড়পত্রের নির্ভর করা হবে।

খালেদা জিয়াকে কবে নাগাদ কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হতে পারে?

এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ” তার চিকিৎসা হচ্ছে। ডাক্তার যখন বলবে যে তাঁর চিকিৎসা সম্পন্ন হয়ে গেছে, তখন তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।”

আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সবগুলো মামলা বিশেষ আদালতে ছিল। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশেই। খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত করার আগে থেকেই কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে বিশেষ আদালত স্থানান্তর করে তার বিচার কাজ চলছিল।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যেহেতু কেরানীগঞ্জে চলে গেছে সেজন্য সেখানে বিচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কিন্তু হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে খালেদা জিয়ার কি কোনো স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?

আইনমন্ত্রী বলেন, ” আমরা তো এমন কোনো কথা বলি নাই যে কালকেই নিয়ে যাব, কালকেই বিচার শুরু হবে। ডাক্তাররা যতক্ষণ পর্যন্ত ছাড়পত্র না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তো আমরা বলি নাই যে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হবে।”

ডাক্তারদের ছাড়পত্রের উপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জ কারাগারের ভেতরে আদালত বসানো হয়েছে এবং সেখানেই খালেদা জিয়ার বিচার হবে।

খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কি বিশেষ কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়েছে?

এমন প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, ” ঝুঁকিপূর্ণ থাক আর না থাক, আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না। ঝুঁকিপূর্ণ এমন কোনো তথ্যাদি আমাদের কাছে নাই। কিন্তু আমরা সব ব্যাপারেই সিকিউরিটি কনসার্ন।”

তিনি বলেন, ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এরকম কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন সরকার হতে চায় না।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারের সুবিধার্থে এবং নিরাপত্তার বিবেচনায় কেরানীগঞ্জে ইতোমধ্যে একটি ভার্চুয়াল কোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

“সরকার যে ই-জুডিশিয়ারি স্থাপন করছে সেখানে একটি বিধান রাখা হচ্ছে যাতে হাই সিকিউরিটি কারাবন্দীরা কারাগার থেকে সাক্ষ্য দিতে পারে। সে কারণে কেরানীগঞ্জে কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপন করা হয়েছে,” বলছিলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন , ঢাকা শহরের ভেতরে বর্তমানে কোনো কেন্দ্রীয় কারাগার নেই। যেহেতু কেন্দ্রীয় কারাগারটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়েছে সেজন্য খালেদা জিয়াকেও সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

“খালেদা জিয়া একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। ওনাকে মুভ করার জন্য আগেও একটা স্পেশাল কোর্ট ছিল জেলখানার কাছে,” বলছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

উৎসঃ ‌‌বিবিসি

আরও পড়ুনঃ ‌শরিকদের কাছে সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে বিএনপির ব্যাখ্যা


নানামুখী টানাপড়েনের প্রেক্ষিতে ২০দলীয় জোটের শরিকদের ক্ষোভ প্রশমনের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। শরিকদের কাছে সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলোর ব্যাপারে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী দেবে বিএনপি। বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনেও যাওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দলটির। তবে উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে শরিকদের কাছে এমন মনোভাবের কথা জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। এছাড়া জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নারী নির্যাতন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, হত্যার প্রতিবাদে রমজানের মধ্যে যে কোনো একদিন মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঈদের পর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়ার বিষয়েও একমত পোষণ করেছেন জোট নেতারা। জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি যোগ দেননি।

বিএনপির পাঁচ এমপির শপথকে কেন্দ্র করে জোটে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরিকরা। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট তারা। ভুলবোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শরিক দলের নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো সিদ্ধান্তে শরিকদের মতামত নেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। মাসে অন্তত দুই দিন জোটের বৈঠকের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত জোটের এ বৈঠক হয়। পরে শরিক দলের নেতাদের নিয়ে ইফতার করেন বিএনপি নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির ড. রেদোয়ান আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব, খেলাফত মজলিসের ড. আহমেদ আবদুল কাদের, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

সূত্র জানায়, বৈঠকের শুরুতে শরিক দলের নেতারা বিএনপি নেতাদের কাছে জানতে চান- নির্বাচন আমরা প্রত্যাখ্যান করলাম, শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্তও ছিল। পরে জোটের সঙ্গে আলোচনা না করে কেন শপথের সিদ্ধান্ত নেয়া হল। আবার অন্য এমপিরা শপথ নিলেও মহাসচিব কেন নিলেন না। এ নিয়ে শরিকদের ব্রিফ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা কৌশলগত কারণে শপথ নিয়েছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি যায়নি। আমি বাইরে থেকে কাজ করতে চাই। আমরা পার্লামেন্টে কথা বলব, আবার বাইরেও বলব। পার্লামেন্টে গিয়েই বিএনপির এমপি হারুন-অর রশিদ নির্বাচনকে অবৈধ, সরকারকে অবৈধ বলেছেন বলেও উদাহরণ দেন বিএনপি মহাসচিব। পরে সার্বিক পরিস্থিতিতে বিএনপির ব্যাখ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করেন শরিক দলগুলো। ভুলবোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তারা। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে শরিকদের মতামত নেয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। মাসে অন্তত দুই দিন জোটের বৈঠকের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জোটের এক শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানান, বৈঠকের একপর্যায়ে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিষয়ে শরিকদের মতামত জানতে চান বিএনপি নেতারা। এ সময় আমরা প্রার্থী দেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলেছি। পরে বিএনপির এক নেতা বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে আমরা একজনকে নমিনেশন দেব। তবে কাকে দেবেন তা বলেননি। এছাড়াও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে আমরা একই কথা বলেছি। ওই উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতারা বৈঠকে বলেছেন, বগুড়ায় আমরা প্রার্থী দেব বলে চিন্তাভাবনা করছি। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, বৈঠকের একপর্যায়ে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের আলটিমেটাম নিয়ে কথা বলেন অনেকে। ইরানকে উদ্দেশ করে তারা বলেন, মিডিয়ার মুখরোচক হওয়ার দরকার নেই; যা বলবেন বৈঠকে, মিডিয়ায় কেন বলবেন। জবাবে ইরান বলেন, আমার কথা ভুলভাবে মিডিয়ায় উপস্থাপন করা হয়েছে। আলটিমেটামের কথা অস্বীকার করেন তিনি। এছাড়া আন্দালিভ রহমান পার্থ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারা বৈঠকে জানান, আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে পার্থ সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। তবুও তাকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কিন্তু তিনি আসেননি। মান-অভিমান থাকতে পারে, দীর্ঘদিন একসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তাকে জোটে ফেরানোর জন্য এখনও আমরা হাল ছাড়িনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ যুগান্তরকে বলেন, জোটের বৈঠকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু আমি বৈঠকে যোগ দেব না- এটাই স্বাভাবিক। কারণ ২০ দলে এখন আমি নেই। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাকে আলাদাভাবে বিএনপি ডাকলে আমি যেতে পারি।

গত ৬ মে ২০ দল ছাড়ার ঘোষণা দেয় আন্দালিভ রহমান পার্থর দল বিজেপি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বেশি প্রাধান্য ও শপথ নেয়ার সিদ্ধান্তকে অনৈতিক দাবিসহ আরও কিছু ইস্যুতে জোট ছাড়েন তিনি। সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০ দলীয় জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সোমবার তৃতীয়বারের মতো বৈঠক করে বিরোধী এই জোট।

বৈঠক শেষে জোটের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সেগুলো হল- ২০ দলীয় জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখ বৈঠক করবে। জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সূচিকিৎসার দাবিতে ২০ দলীয় জোট একক ও পৃথক পৃথক কর্মসূচি দেবে। তিনি বলেন, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্যের দাবি এবং কৃষিপণ্যের দাম কমানোর দাবি করা হয়েছে বৈঠক থেকে। মিডনাইট নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে ২০ দলের বাইরের রাজনৈতিক দলগুলোকে একত্র করার উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ ২০ দল থেকে চলে গেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পার্থ আমাদের সঙ্গে শুরু থেকেই ছিলেন। আশা করি মান-অভিমান ভুলে আবার ২০ দলীয় জোটে ফিরে আসবেন। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের আলটিমেটাম প্রসঙ্গে জোটের সমন্বয়ক বলেন, ইরান আজকেও বৈঠকে ছিলেন। তিনি ২০ দলীয় জোট ছাড়ার আলটিমেটামের কথা অস্বীকার করেছেন।

২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে মতবিরোধ চলছে- এমন প্রশ্ন করা হলে নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পূর্বে ২০ দলীয় জোটের মতামত নেয়া হয়েছে। তারা সবাই জাতীয় ঐক্য গঠনের পক্ষে বলেছেন এবং সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তাই ঐক্যফ্রন্ট গঠনে কোনো বাধা নেই। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যখন ২০ দল বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সম্পর্কে নিউজ করেন তখন আমাদের সঙ্গে কথা বলে করলে ভালো হয়। তাহলে সঠিক নিউজ করতে পারবেন এবং জনগণও বিভ্রান্ত হবেন না। অন্যথায় ভুল নিউজ প্রকাশ হতে পারে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিঃ ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে সহসম্পাদক পদ!


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সদ্যই ঘোষণা করা হয়েছে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ৬১ জন সহসভাপতি, ১১ জন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ১১ জন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ৩০১ জন। তবে ঘোষণার পরপরই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ করেছেন এই কমিটির বিরোধিতা করে। তারা বলছেন, কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী পদ পাননি। আর পদবঞ্চিত হওয়ার অভিযোগও করেছেন অনেকেই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই কমিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য, অর্থাৎ প্রায় একশ জনই পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

সোমবার (১৩ মে) বিকেলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানির সই করা পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশিত হয়।

এর পরপরই বিক্ষোভে নামেন ছাত্রলীগের একাংশ। সেখানেই নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া একাধিক ছাত্রলীগ নেতা জানান, তারা এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করবেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্টও দিয়েছেন। সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেই তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। তবে মধুর ক্যান্টিনে মারধরের শিকার হওয়ায় তারা আগামীকাল মঙ্গলবার (১৪ মে) সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সভাপতি বি এম লিপি আক্তার বলেন, কাউকে অভিনন্দন জানানোর অধিকার যেমন আমার আছে, ঠিক একইভাবে অযোগ্য কাউকে কমিটিতে স্থান দিলে সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর অধিকারও আছে। অথচ সেই অধিকার আদায় করতে গিয়েই আমাদের ওপরে হামলা করা হলো।

লিপি বলেন, ঘোষিত কমিটিতে অযোগ্যদের স্থান করে দেওয়াতে এই কমিটির প্রায় একশ নেতা প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। অনেকের সঙ্গেই আমার কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে আজকেই ৪০ জন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

নিজের অবস্থান জানিয়ে লিপি বলেন, আমি পদত্যাগ করার ঘোষণা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অভিভাবক। আমি তার কাছে আকুল আবেদন জানাই, যেন তদন্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। আমরা এই কমিটি মানি না। আমি রোকেয়া হলের প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। এরপর আমি রোকেয়া হলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করি। আমি ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটারিয়া বিষয়ক সম্পাদক। অথচ আমাকে দেওয়া হয়েছে উপসম্পাদকের পদ। এটা একটা বড় প্রশ্ন আমার কাছে। শুধু আমিই না, আমাদের সঙ্গে যারা আজ হাকিম চত্বর ও মধুর ক্যান্টিনের প্রতিবাদে ছিলেন, তাদের অবস্থাও আমার মতো। তাদেরও আমার পদের মতো পদ দিয়ে নিগৃহীত করা হয়েছে। কাউকে কাউকে তো যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কমিটিতে জায়গাই দেওয়া হয়নি।

সুফিয়া কামাল হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিলোত্তমা শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত। অথচ আমাদের বঞ্চিত করে যারা আগে কোনো কমিটিতে ছিল না, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আমরা মিছিল করেছি। মিছিলের সময়ই আমার ও লিপির ওপর হামলা করা হয়। এরপর আমরা সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করি। সেই সংবাদ সম্মেলনে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়। আমি পদত্যাগ করতে চাচ্ছি। শুধু আমি না, অযোগ্যদের এভাবে কমিটিতে ঠাঁই দেওয়ার প্রতিবাদে আমাদের অনেকেই পদত্যাগ করতে চাচ্ছে।

বর্তমান কমিটিতে উপসম্পাদকের পদ পেয়েছেন বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীনও। তিনি বলেন, আমরা আজ অযোগ্যদের কমিটিতে স্থান দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের ওপর হামলা করে সেটা বানচাল করা হয়েছে। আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) আবার সংবাদ সম্মেলন ডাকব। সেখানে আমরা পদত্যাগ করার ঘোষণা দেবো।

এদিকে, ছাত্রলীগের এই কমিটিতে পদ দিতে টাকার লেনদেনের অভিযোগও করছেন বিক্ষোভকারীরা। লিপি বলেন, আমাদের কাছে এমন মেসেজও রয়েছে যে কক্সবাজারের একজনকে সহসম্পাদক দেওয়া হয়েছে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে। এছাড়াও বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত অনেককেই এই কমিটিতে স্থান করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের আদর্শিক ও সাংগঠনিক অবস্থার সঙ্গে যায় না— এমন অনেক ব্যক্তিকেও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

লিপি আরও বলেন, আমরা যখন হাকিম চত্বর থেকে মধুর ক্যান্টিনে যাই, তখন সাদিক খান, রাকিব, ফাহিম, আল ইমরান, জহুরুল হক হলের সোহানরা সেখানে ছিল। বিভিন্ন হলের পদপ্রত্যাশী অনেকেই আমাদের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। তারা ‘ভাই’দের তুষ্ট করতে এই হামলা চালায়। তারা আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং চেয়ার উঠিয়ে আমাদের মারধর করে। ন্যায্য অধিকারে দাবি চাইতে গিয়ে আজ আমাদের ওপর হামলা করা হলো।

দক্ষ ও যোগ্য কমিটির দাবি জানিয়ে লিপি বলেন, নির্দিষ্ট কারও বিপক্ষে আমাদের কোনো অবস্থান নেই। আমরা চাই একটা দক্ষ ও যোগ্য কমিটি। যতক্ষণ সেটা না হবে, ততক্ষণ আমরা আন্দোলন চালাতে থাকব। মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নেবো। আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) গণভবনে যাব আপার (প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা) সঙ্গে দেখা করতে। তিনি আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল, আমাদের ভরসা। তিনি নিশ্চয় আমাদের দাবি শুনবেন।

নতুন কমিটির সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ সংগঠন। এখানে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সবাই রাজনীতি করেন। রাজনীতি করলে অনেকেই পদ-পদবী নিয়ে ভাবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো— সবাইকে তো আর পদ দিয়ে খুশি রাখা যাবে না। অনেকেই নিজের পছন্দের পদ পাবেন না, এটাও স্বাভাবিক। আর সেক্ষেত্রে যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই— আশা করি তারা খুব দ্রুতই বুঝবেন যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভরসার স্থান হলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার অনুমোদিত কমিটি আজ (সোমবার) ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি, সবাই তার প্রতি সম্মান রেখেই দ্রুত নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। যদি কমিটিতে কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে সেটা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করবেন।’

বিক্ষোভকারীদের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে নাহিয়ান বলেন, ‘যেহেতু আমি সেখানে ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাইছি না।’

এদিকে, পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিরোধিতাকারীরা সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মধুর ক্যান্টিন এলাকায় গেলে মারধরের শিকার হন। আহত অবস্থায় তাদের কমপক্ষে সাত জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে শ্রাবণী দিশা চোখে আঘাত পেয়েছেন, মাথার পেছনে আঘাত পেয়েছেন তানজির শাকিল। এছাড়া লিপি আক্তার, ফরিদা পারভীন, তিলোত্তমা শিকদার, জেরিন জিয়া ও শ্রাবণী শায়লা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন বলে জানান ঢামেক জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

উৎসঃ ‌‌সারাবাংলা

আরও পড়ুনঃ ‌বিবাহিত হয়েও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন তারা

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাবেন না।

এর পরেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বেশ কয়েকজন বিবাহিত নেতাকর্মী যে কারণে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, বিবাহিত হয়েও অনেককে পদ দিয়েছেন শোভন-রাব্বানী।

এজন্য পদ পাওয়া ওইসব নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ।

প্রমাণ হিসাবে পদবঞ্চিত যাদের নাম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহসভাপতি পদ পাওয়া সোহানী তিথি, সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপসম্পাদক পদ পাওয়া আফরিন সুলতানা লাবণী, উপসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ পাওয়া রুশী চৌধুরী, সহসম্পাদক পদ পাওয়া আনজুমান আরা আনু ও সামিহা সরকার সুইটি।

এরা সবাই বিবাহিত বলে জানান তারা।

এছাড়াও সহসভাপতি ইশাত কাসফিয়া ইরাও বিবাহিত বলে অভিযোগ করছেন কেউ কেউ।

গঠনতন্ত্রের ৫-এর গ ধারাকে লঙ্ঘন করে এসব নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিবাদ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

এ বিষয়ে শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা ফেসবুকে লেখেছেন, নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।

সোমবার বিকালে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়।

সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন ৬১ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন, সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন ১১ জন। এছাড়া বিষয়ভিত্তিক সব সম্পাদক এবং সহ সম্পাদক ও উপসম্পাদকের নামও ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগ ২৯ তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিজেরা কমিটি করতে ব্যর্থ হলে ৩১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক অর্পিত ক্ষমতাবলে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন।

তবে কমিটির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় দু দফায় দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ডাকসুর তিন নেতাসহ অন্তত ৮জন আহত হয়েছেন।

হামলায় আহতরা হলেন- ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সদস্য ও ডাকসুর বর্তমান সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, কবি সুফিয়া কামাল হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা শিকদার, ডাকসুর আরেক সদস্য ফরিদা পারভীন, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আক্তারসহ কয়েকজন।

উৎসঃ ‌‌যুগাতর

আরও পড়ুনঃ ক্ষোভ দেখাতে গিয়ে ছত্রলীগের হাতেই মার খেল ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিতরা মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। ছবি: ইউএনবি

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলা চালিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। আজ সোমবার পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিতরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের এক বছর পর গতকাল বিকেলে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কমিটি ঘোষণার পর যাঁরা প্রত্যাশিত পদ পাননি এবং কমিটিতে জায়গা পাননি, তাঁদের অনেকের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এল এ ঘটনার মধ্য দিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে ৬০ থেকে ৭০ জন পদবঞ্চিত নেতা–কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। সন্ধ্যায় তাঁরা মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে যান সংবাদ সম্মেলন করতে। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া ও রাজপথের কর্মীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন। আয়োজক ছাত্রলীগের রাজপথের কর্মীবৃন্দ। তাঁরা যে টেবিলে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেন, তার পাশের টেবিলে অবস্থান নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী নেতা–কর্মীরা। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন শুরু করার একপর্যায়ে একজন গিয়ে তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। ডাকসুর কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক লিপি আকতার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয়। কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা এগিয়ে গেলে তাঁকেও লাঞ্চিত করা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলন করতে আসা নেতা–কর্মীদের ওপর অন্য পক্ষের নেতা–কর্মীরা হামলা চালান। গত কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা রাকিব হোসেন, সাইফ বাবুসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। হামলার ঘটনায় লিপি আক্তার, তিলোত্তমা শিকদার (নতুন কমিটির উপসংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক), ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমদসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিতরা মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। ছবি: ইউএনবি

পদবঞ্চিতদের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছি৷ কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাদের বাদ দিয়ে অছাত্র, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের নিয়ে “পকেট কমিটি” করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবি, এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে প্রকৃত ছাত্রলীগকর্মীদের যেন পদায়ন করা হয়৷’
নতুন কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ পাওয়া নেতা–কর্মীদের দাবি, একটি ‘বিশেষ সিন্ডিকেটের’ নেতা–কর্মীরা কমিটি ঘোষণার পর বিক্ষোভ করছে। এ বিষয়ে সাইফ বাবু বলেন, ‘রাজনীতি যখন যেভাবে চলেছে, সেভাবেই আমরা করেছি। সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। আমরা ছাত্রলীগ করি।’

শ্রাবণী শায়লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।’
পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি সাদিক খান, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, মাহবুব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। তাঁরা কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদন নিয়ে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চারজন নেতা এবং ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কমিটি করা হয়েছে। বিগত কমিটির অসহযোগিতার কারণে কমিটি দিতে দেরি হয়েছে। এখন যাঁরা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা গত কমিটির নিজস্ব লোক (মাই ম্যান)। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি।

হামলার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে আসতে থাকেন বর্তমান কমিটির অনুসারী নেতা–কর্মীরা। ‘প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চূড়ান্ত’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদগুলো ছিল ফাঁকা। গতকাল বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা বেশ কয়েকজন এবার কমিটিতে জায়গা পাননি। আবার অনেকে পদ পেলেও তা তাঁদের মনঃপূত হয়নি।

উৎসঃ ‌‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ‌হত্যা ও মাদক মামলার আসামিসহ বিবাহিত অছাত্ররাও ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে!

ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন হত্যাচেষ্টা ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলার কয়েকজন আসামি। রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয়, বিবাহিত ও অছাত্ররাও।

দুই বছর মেয়াদি কমিটির ৯ মাস পার হওয়ার পর আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এই কমিটির অনুমোদন দেন।

এর আগে দুপুরের দিকে তালিকা নিয়ে গণভবনে যান সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দুই নেতা। তাঁরা ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সদস্যদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।

গত বছরের ১১ মে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের পর কমিটি ঘোষণার নিয়ম থাকলেও শীর্ষ পদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে সময় নেন শেখ হাসিনা। সম্মেলনের আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার নাম প্রকাশ করা হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির ২ নম্বর সহসভাপতি তানজিল ভূঁইয়া তানভীর, সহসভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ ও সোহেল রানার বয়স ৩০ বছরের বেশি। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের সদস্য পদই থাকার কথা নয়।

৫ নম্বর সহসভাপতি আরেফিন সিদ্দিকী সুজনকে এক সময় ইয়াবা সেবন ও মাদক রাখার অভিযোগে মাস্টারদা সূর্যসেন হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

৬ নম্বর সহসভাপতি আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও ইয়াবা সেবন এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মল চত্বরে পয়লা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

৭ নম্বর সহসভাপতির পদ পেয়েছেন বরকত হোসেন হাওলাদার। শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অভিযোগে তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।

১৩ নম্বর সহসভাপতি শাহরিয়ার কবির বিদ্যুতের বিরুদ্ধে মাদক মামলা রয়েছে।

আরেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসানের পরিবার জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গোপালগঞ্জে একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি।

আরেক সহসভাপতি মাহমুদুল হাসান তুষার এক সময় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও পয়লা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে।

ছাত্রলীগের ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়া প্রদীপ চৌধুরী ২০১৪-১৫ সেশনে পরীক্ষায় নকলের দায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিন বছরের জন্য বহিষ্কার হয়েছিলেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে পহেলা বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ।

দপ্তর সম্পাদক আহসান হাবীব সাবেক চাকরিজীবী এবং তাঁর বিরুদ্ধেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখের কনসার্টে আগুন দেওয়ার অভিযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাকিনুল হক চৌধুরী কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের আপন ছোট ভাই। তিনি ছাত্রলীগে নিষ্ক্রিয় বলে জানা গেছে।

এই কমিটির বিষয়ে কথা বলতে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। পরে আর কথা বলেননি।

সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে তিনবার ফোন দিলেও তিনি কথা বলেননি।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করল ছাত্রলীগের নারী নেত্রীরা


ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৩ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটি ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে জায়গা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ঝাঁড়ছেন ছাত্রলীগের অনেকে। এ তালিকায় বাদ যাচ্ছেন না নারী নেত্রীরাও। বর্তমান সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

এক নেত্রী লিখেছেন, সাজুগুজু করে প্রোগ্রামে যেতে পারেননি বলে শোভন তাকে পদ দেননি। আরেকজন লিখেছেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।’

কমিটি ঘোষণার কিছুক্ষণ পর জেরিন দিয়া নামে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক এক সদস্য ফেসবুকে লেখেন, ‘রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রাব্বানী ভাই আপনাদের মধুভর্তি মেয়ে লাগে। বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কী রে চেহারা সুন্দর আছে; তো সেজেগুজে আসতে পারো না!
আমি সেজেগুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটিতে রাখলেন না??
আপনারা যেসব মেয়েকে কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন?? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!!!
আর গোলাম রাব্বানী ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো এনএসআই রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই?????? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন?????
অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্য।
এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না; মানবো না…
আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।’

শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক জেয়াসমিন শান্তা লেখেন, ‘নারীদের বিবাহিত হওয়া ও আন্ডারগ্রাউন্ড প্রটোকল দেয়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে বড় পোস্ট পাওয়ার মূলমন্ত্র।
অভিনন্দন গোলাম রাব্বানী ভাই ও শোভন ভাই, হিসাব আছে, অনেক হিসাব, চলেন মিলাই।’


উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌এবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হল সেই শ্রাবনী শায়লা!


অযোগ্য, অছাত্র, বিবাহিত, বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয় বিভিন্ন মামলার আসমীদের ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদায়নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের একাংশ। সেই মিছিলে হামলার অভিযোগ উঠেছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ হামলায় ছাত্রলীগের নেত্রী তিলোত্তমা শিকদার, বিএম লিপি এবং শ্রাবনী শায়লা আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে পদবঞ্চিত ছাত্রনেতারা বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

বিক্ষোভকারীরা সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত, বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া এবং ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মীদের বঞ্চিত করায় এই প্রতিবাদ।

ছাত্রলীগের গত কমিটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন, জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান, সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকত প্রমুখ এতে নেতৃত্ব দেন।

জানা গেছে, মিছিলটি মধুর ক্যান্টিনের সামনে গেলে নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্তরা বাধা দেন। হাতাহাতির এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের নারী নেত্রীদের গায়েও হাত তোলেন কিছু নেতাকর্মী।

শামসনু নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করেছি। কিন্তু আমাদের কোনো পদ দেওয়া হয়নি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু আমাদের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে।

নতুন কমিটির সাদিক খান, অর্থ সম্পাদক রাকিব হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল ভূইয়া , সহসভাপতি কামাল খান, উপ-ক্রীড়া সম্পাদক বায়জিদ কোতোয়াল হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন পদবঞ্চিতরা।

‘নিপীড়ন বিরোধী’ শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাওয়ের সময় তৎকালীন ঢাবির বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবনী শায়লার মারমুখী ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়।

পদবঞ্চিত ছাত্রনেতা তিলোত্তমা শিকদার বলেন, আমি গত কমিটিতে উপ-অর্থ সম্পাদক ছিলাম। এবারও উপ-সম্পাদক রাখা হয়েছে। একটি হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমাদের রীতিমতো অপমান করা হয়েছে।

এ সময় পদবঞ্চিত সাবেক প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু বলেন, তারা (শোভন-রাব্বানী) একটি বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করেছেন। আপনারা জানেন, এই কমিটিতে বহিষ্কৃত, অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত, সংগঠনে নিষ্ক্রিয়দের স্থান দেয়া হয়েছে। যারা ক্যাম্পাসে বিগত ১০ বছরে ছাত্রলীগের মিছিল-মিটিং করেছে, ডাকসু নির্বাচনসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা করেছে তাদের এই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, গত কমিটির ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জনকে কোনো পদ-পদবি দেয়া হয়নি। আমরা শেখ হাসিনা কাছে একটি দাবি জানাতে চাই, এই বিতর্কিত কমিটিতে যারা বিতর্কিত তাদের বাদ দিয়ে যারা প্রকৃত ছাত্রলীগ তাদের যেন স্থান দেয়া হয়।

ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের নিয়ম মানে না, তাদের কমিটিতে রাখা হয়েছে। আমরা যখন এর বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করি তখন ছাত্রলীগের কিছু গুন্ডা ও অছাত্র আমাদের ডাকসু সদস্য তিলোত্তমা শিকদার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তারের ওপর হামলা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেনসহ অনেকে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অধিভুক্ত কলেজ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বহিষ্কার, প্রক্টরের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের নামে দেয়া মামলা প্রত্যাহার এবং তদন্ত কমিটিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি রাখার দাবিতে ‘নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করে। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক মারধর করে। এসময় তৎকালীন ঢাবির বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবনী শায়লার মারমুখী ছবি ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। এনিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

আরও পড়ুনঃ ‌‘সেজে গুজে আসিনি বলে ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখলেন না?’: সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শোভনের সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া

সেজে গুজে আসেনি বলে কমিটিতে রাখেননি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য জেরিন দিয়া। নতুন কমিটিতে পদ না পেয়ে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারির চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই নেত্রী।

তিনি লিখেছেন, রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

সংবাদ প্রকাশের কিছুক্ষন আগে তার এই পোস্টটি সরানো হয়েছে

নতুন কমিটিতে স্থান না পেয়ে আজ সন্ধ্যায় তার নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দেয় জেরিন দিয়া। সংবাদের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং গোলাম রব্বানী ভাই আপনাদের মধু ভর্তি মেয়ে লাগে । বড় বড় প্রোগ্রামে মেয়েদের মুখ না দেখলে তো আপনাদের মন ভরতো না। শোভন ভাই আপনি একদিন আমাকে সবার সামনে বলছিলেন কি রে চেহারা সুন্দর আছে ; তো সেজে গুজে আসতে পারো না!

আমি সেজে গুজে আসতে পারি নাই দেখে আমাকে কমিটি তে রাখলেন না?

আপনারা যেসব মেয়েদের কমিটিতে রেখেছেন তারা কয়দিন থেকে রাজনীতি করে! আপা কি জানেন? আর নিজে বিবাহিত বলে কমিটিতে দুনিয়ার বিবাহিত মেয়েদের রেখেছেন!

আর গোলাম রাব্বানি ভাই আমাকে সবার সামনে বলছিলেন দুইদিনের মেয়ে কেমনে পোস্ট পাইছো বুঝি নাই! কয়জনের বেডে গেছো NSI রিপোর্ট করলেই জানা যাবে। মনে আছে গোলাম রাব্বানী ভাই ??? আমি তখন আপনার যোগ্য কথার জবাব দিয়েছিলাম। আজ তার শোধ নিলেন???

অনেক তথ্য অপেক্ষা করছে আপনাদের জন্যে ।

এই বিবাহিত বিতর্কিত কমিটি মানি না ; মানবো ন…

আমার শ্রমের মূল্য দিতে হবে আপনাদের।

আরও পড়ুনঃ ‌ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের মারধর করল নতুন কমিটির সদস্যরা

মধুর ক্যান্টিনে মুখোমুখি অবস্থান নেন ছাত্রলীগের দু’পক্ষ

সম্মেলনের এক বছর পর ৩০১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই কমিটিকে বিতর্কিত ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

একপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে সেখানে হামলা চালিয়েছে সদ্য পদপ্রাপ্তরা। এতে ছাত্রলীগের হল কমিটির সাবেক নেতাসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের এক বছর পর গতকাল বিকেলে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। কমিটি ঘোষণার পর যাঁরা প্রত্যাশিত পদ পাননি এবং কমিটিতে জায়গা পাননি, তাঁদের অনেকের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এল এ ঘটনার মধ্য দিয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে ৬০ থেকে ৭০ জন পদবঞ্চিত নেতা–কর্মী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। সন্ধ্যায় তাঁরা মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে যান সংবাদ সম্মেলন করতে। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অছাত্র, ছাত্রদল, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া ও রাজপথের কর্মীদের বঞ্চিত করার প্রতিবাদে’ সংবাদ সম্মেলন। আয়োজক ছাত্রলীগের রাজপথের কর্মীবৃন্দ। তাঁরা যে টেবিলে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নেন, তার পাশের টেবিলে অবস্থান নেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অনুসারী নেতা–কর্মীরা। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

পদবঞ্চিতরা সংবাদ সম্মেলন শুরু করার একপর্যায়ে একজন গিয়ে তাঁদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। ডাকসুর কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক লিপি আকতার এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে তাঁকে চেয়ার ছুড়ে মারা হয়। কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা এগিয়ে গেলে তাঁকেও লাঞ্চিত করা হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলন করতে আসা নেতা–কর্মীদের ওপর অন্য পক্ষের নেতা–কর্মীরা হামলা চালান। গত কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা রাকিব হোসেন, সাইফ বাবুসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। হামলার ঘটনায় লিপি আক্তার, তিলোত্তমা শিকদার (নতুন কমিটির উপসংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক), ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহমদসহ ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।

পদবঞ্চিতদের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, ‘ছাত্রলীগের জন্য সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করেছি৷ কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমাদের বাদ দিয়ে অছাত্র, বিবাহিত ও বিতর্কিতদের নিয়ে “পকেট কমিটি” করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দাবি, এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে প্রকৃত ছাত্রলীগকর্মীদের যেন পদায়ন করা হয়৷’

নতুন কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ পাওয়া নেতা–কর্মীদের দাবি, একটি ‘বিশেষ সিন্ডিকেটের’ নেতা–কর্মীরা কমিটি ঘোষণার পর বিক্ষোভ করছে। এ বিষয়ে সাইফ বাবু বলেন, ‘রাজনীতি যখন যেভাবে চলেছে, সেভাবেই আমরা করেছি। সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই। আমরা ছাত্রলীগ করি।’

শ্রাবণী শায়লা বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়েছিলাম। সেখানে এ ধরনের হামলা ন্যক্কারজনক। আমরা হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।’

পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, ঘোষিত কমিটির সহসভাপতি সাদিক খান, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, মাহবুব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। তাঁরা কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী।

হামলার পরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে মধুর ক্যানটিনে আসতে থাকেন বর্তমান কমিটির অনুসারী নেতা–কর্মীরা। ‘প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত চূড়ান্ত’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।

গত বছরের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরীকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য পদগুলো ছিল ফাঁকা।

গতকাল বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাতে দেখা যায়, ছাত্রলীগের গত কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন পদে থাকা বেশ কয়েকজন এবার কমিটিতে জায়গা পাননি। আবার অনেকে পদ পেলেও তা তাঁদের মনঃপূত হয়নি।

উৎসঃ ‌‌সংবাদ ২৪৭

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here