ড. কামালের মুখোশ খুলে দিলেন গণফোরাম নেতা রফিকুল ইসলাম পথিক!

0
647

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পরানো মুখোশ আর ধরে রাখতে পারলেন না কথিত জাতীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। নিজ দলের প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক অবেশেষে দেশবাসীর সামনে ড. কামালের মুখের মুখোশটা খুলে দিলেন। ড. কামালকে যারা জাতীয় ঐক্য ও আস্থার প্রতীক বলে ধারণা করেছিলেন, আজ হয়তো বা তাদের মধ্যে হুঁশ ফিরে এসেছে। ড. কামাল যে আসলেই আওয়ামী লীগের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে সেটা আজ দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার হয়েছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর অ্যানালাইসি বিডিতে একাধিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনের মাধ্যমে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যে, ড. কামাল আসলে সরকারের হয়ে খেলছে। জাতীয় ঐক্যের নামে ড. কামাল মূলত বিএনপি থেকে জামায়াতকে দূরে সরিয়ে বিএনপিকে নিঃশ্বেস করার সরকারি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সঙ্গে আছেন ভারতের আরেক এজেন্ট ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এরপর, সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের শপথের পরও অ্যানালাইসিস বিডির আরেকটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, কামালের ইশারাতেই তারা শপথ নিয়েছেন। কামাল তাদেরকে শপথ নেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে নিরব ভুমিকা পালন করেছেন। যদিও দেশবাসীকে দেখানোর জন্য সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানকে বেইমান বলে গালি দিয়েছেন। এসব ছিল ড. কামালের নাটক।

শপথ নেয়ার কারণে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানকে গণফোরাম থেকে বহিস্কার করেছেন ড. কামাল। মোকাব্বির খানকে চেম্বার থেকে ঘাড় ধরে বেরও করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মোকাব্বির খানই শুক্রবার উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের জাতীয় কাউন্সিলে। এনিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় ছিল- ড. কামাল যে এতদিন মুখোশ পরে রহস্যজনক ভুমিকা পালন করছেন সেই মুখোশ খুলে দিয়েছেন তারই দলের প্রশিক্ষণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পথিক। তিনি বলেছেন- শপথের পর মোকাব্বির খান ফুল ও মিষ্টি নিয়ে কামালের বাসায় গিয়েছিলেন। কামাল তখন সেই ফুল ও মিষ্টি ফিরিয়ে দেননি। বরং সংসদে যাওয়ার জন্য মোকাব্বির খানকে নির্দেশ দিয়েছেন। কামালের এই দ্বিমুখি আচরণের জন্য দল থেকে পদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছেন পথিক।
পথিকের এই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরই ড. কামালকে নিয়ে মানুষের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন-কানাঘুষা। রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ বলছেন- কামালের শরীরে মূলত আওয়ামী লীগের রক্ত। এই কামাল জাতীয় ঐক্য গঠন করে আওয়ামী লীগের পতন ঘটাবে এটা বিশ্বাস করা বোকামী। কামাল এতদিন যা করেছে সবই ছিল অভিনয়।

তাদের মতে- মির্জা ফখরুলরা যদি এখনো বুঝতে পারেন তাহলে বিএনপির জন্য অনেক ভাল হবে। অন্যথায় এই কামালের কারণে বিএনপির চালিকা শক্তি একদিন আওয়ামী লীগের হাতে চলে যাবে।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌শপথ নিতে সরকারের চাপ আছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংসদে না যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত বিএনপির তা বহাল আছে। এ বিষয়ে আর কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয়। দলের সিদ্ধান্ত যারা ভাঙবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএনপির নির্বাচিতরা যেন শপথ নেন, সে জন্য সরকারের চাপ আছে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

শুক্রবার রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জাহিদুর রহমান শপথ নিয়েছেন দলের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে। এটা তিনি অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন, অন্যায়, অপরাধ করেছেন। এ জন্য তার বিরুদ্ধে সংগঠন ব্যবস্থা নেবে। যেটাকে আমরা বলি সাংগঠনিক ব্যবস্থা, সেটা অবশ্যই নেয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -এটা জনগণের দল। একজন ব্যক্তি বা একটা গোষ্ঠীর যদি কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নেয় তাতে দলের বড় কোনো ক্ষতি হয় না। এই ধরনের ঘটনায় দলে কোনো বিশৃঙ্খলা নেই। এই ধরনের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে এবং এতে আমরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নই।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একজন সদস্য শপথগ্রহণ করলে তার সংসদ সদস্যপদের বৈধতা নিয়ে বিএনপি কি স্পিকার অথবা নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেবে কিনা প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আমাদের যে আগামী স্থায়ী কমিটির সভা আছে, সেই সভাতে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জাহিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সিদ্ধান্ত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটা স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। আমি তো একা সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক নই। যখন সিদ্ধান্ত হবে আপনারা তা জানতে পারবেন।

দলের সিদ্ধান্ত নির্বাচিতরা মানছেন না, আরও অনেকে শপথ নিতে আগ্রহী, সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফখরুল ইসলাম বলেন, একজন গেছেন। বাকি যারা আছেন, যারা নির্বাচিত, তাদের সিদ্ধান্ত তো আমরা এখনো জানি না। তারা আমাদের জানাননি এখনো। আমাদের দলের সিদ্ধান্ত যেটা ছিল, সেটাই বহাল আছে। আমরা শপথ গ্রহণ করবে না, এই বিষয়ে আর কোনো দ্বিমত থাকার কথা নয়।

সরকার বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা তো স্বাভাবিক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। বাংলাদেশে বরাবরই এই ধরনের দল ভাঙার প্রচেষ্টা হয়েছে, ভেঙেছে। কিন্তু বিএনপির বিরুদ্ধে এই ধরনের প্রচেষ্টা করে কখনো কোনো লাভ হয়নি। বিএনপি সব সময়ই ফিরে এসে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে এবং স্বমহিমায় জনগণের কাছে গেছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, শপথ নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের দিক থেকে নিঃসন্দেহে চাপ রয়েছে। যেটা সব সময়ই থাকে। যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় না, তারাই এই ধরনের চেষ্টা করে থাকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল, একটি গোষ্ঠী বা একটি ব্যক্তি যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে দলের খুব বেশি ক্ষতি হয় না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনে বড় কোনো কর্মসূচি নেবে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির ব্যাপারে আন্দোলনে সংগ্রামে আছি। এটাকে ধীরে ধীরে জনগণের দাবিতে পরিণত হচ্ছে এবং হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেত্রী জেবা খান, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আখতারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেলের ঘটনা তদন্তে বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল


গত বছরের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস ৪৪ লাখ টাকা, আড়াই কোটি টাকার এফডিআর, এক কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে এখন কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে। সেই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে থলের বিড়াল বেড়িয়ে এসেছে। আর এতে ফেঁসে যাচ্ছেন আরও ৪৯ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পুলিশ।

এ ঘটনায় করা তদন্ত প্রতিবেদনটি গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব ও তদন্ত কমিটির সদস্য সৈয়দ বেলাল হোসেন।

সেই সময়ে জেলার সোহেল রানাকে গ্রেফতারের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে দুর্নীতি ও অনিয়মের ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসে।

প্রতিবেদনে ৪৯ জনের তালিকায় কারা বিভাগের একজন উপ-মহাপরিদর্শক ( ডিআইজি) , দুইজন সিনিয়র জেল সুপার, সাতজন ডেপুটি জেলারও রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত পুলিশ, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হলেন, তৎকালীন ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক, সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক, সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী, জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস, ডেপুটি জেলার মুহাম্মদ মুনীর হোসাইন, মো. ফখর উদ্দিন, মো. আতিকুর রহমান, মুহাম্মদ আবদুস সেলিম, হুমায়ূন কবির হাওলাদার, মনজুরুল ইসলাম, সৈয়দ জাবেদ হোসেন, সহকারী সার্জন ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফার্মাসিস্ট রুহুল আমিন, রামেন্দ্র মজুমদার পাল ও কর্মচারী লায়েস মাজহারুল হক।

এছাড়া কারারক্ষীসহ অন্য কর্মচারীরা হলেন- মো. আবুল হোসেন, নূর আলম, গাজী আবদুল মান্নান, মো. তাজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল করিম, মোসলেম উদ্দিন, বেলাল হোসেন, হিসাবরক্ষক এমদাদুল হক, ক্যান্টিন ম্যানেজার অলিউল্লাহ, এইচ এম শুভন, কাউছার মিয়া, আরিফ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মিতু চাকমা, শহিদুল মাওলা, শরিফ হোসেন, জুয়েল রানা, আনোয়ার হোসেন, স্বপন মিয়া, মহসীন দফাদার, আনজু মিয়া, লোকমান হাকিম, শিবারন চাকমা, ত্রিভূষণ দেওয়ান, অংচহ্না মারমা, রুহুল আমিন, শাহাদাত হোসেন, শাকিল মিয়া, আবদুল হামিদ, ইকবাল হোসেন, শামীম শাহ, মো. ওসমান, মো. বিল্লাল হোসেন ও অডিট টিমের সদস্য আবু বকর সিদ্দিকী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখিতদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে এই ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। ঘটনার পরদিন জেলার সোহেল রানাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। জেলার গ্রেফতারের পর তিনি ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন- জব্দকৃত টাকা ডিআইজি প্রিজন ও সিনিয়র জেল সুপারের। কারাগারে কীভাবে অবৈধভাবে প্রতিদিন টাকা রোজগার করে থাকে তার বিবরণও দিয়েছিলেন জেলার সোহেল রানা।

তদন্ত কমিটির প্রধান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল আলম তদন্তে প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

উৎসঃ ‌jagonews24

আরও পড়ুনঃ ‌রোববার আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড়


দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি পরিণত হয়েছে নিম্নচাপে। এটি রোববার ভোরের দিকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ফণি।

ঝড়ের এই নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং এসক্যাপের মাধ্যমে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল বা বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের তীরবর্তী দেশগুলোর প্রস্তাবিত নামগুলোর মধ্য থেকে ঝড়ের এই নামকরণ হয়েছে।

নিম্নচাপের কারণে ইতিমধ্যে সাগর উত্তাল হতে শুরু করেছে। এ কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ (বিএমডি)।

এদিকে নিম্নচাপের প্রভাব পড়েছে গোটা প্রকৃতিতে। কয়েক দিনের দাপটের পর ব্যারোমিটারের পারদ নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। শুক্রবার দেশে তাপমাত্রা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমেছে। বৃহস্পতিবার দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তা কমে শুক্রবার ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়েছে। এই তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটিতে।

বিএমডির আবহাওয়াবিদ আশরাফুল আলম বলেন, শুধু তাপমাত্রার কমেছে তা নয়, এর বিস্তৃতিও কমেছে। আগের প্রায় সারা দেশে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। শুক্রবার এটি ৮-৯টি জেলা এবং কয়েকটি বিভাগে চলে এসেছে। অর্থ্যাৎ, এদিন মৃদ্যু তাপপ্রবাহ বয়ে যায় ঢাকা, মাদারীপুর, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, ফেনী, রাজশাহী, যশোর, বাগেরহাট, পটুয়াখালী জেলায়। এছাড়া সিলেট বিভাগজুড়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।

এদিন ঢাকায় বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এর অনুভূতি ছিল ৪০ ডিগ্রির মতো। অনেক ফ্ল্যাট বাড়ি ও ঘরের ভেতরটা ছিল যেন অগ্নিচুল্লি। গরমে হাঁসফাঁস করার মতো অবস্থা ছিল। এই গরমে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে বয়স্ক এবং শিশুরা।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দিনের সূর্যের আলো যখন ধরণীকে উত্তপ্ত করতে থাকে, তখন শহরে ফ্ল্যাট বাড়ির ভেতরটাও সমান্তরালে গরম হয়। বাইরে মাঝেমধ্যে বাতাস প্রবাহিত হলে শীতল লাগে। কিন্তু বাসা-বাড়ির ভেতরের গরমটা আর বের হতে পারে না। ফলে ফ্ল্যাট বাড়িগুলো একেকটা অগ্নিচুল্লির মতো মনে হয়।

আর আবহাওয়াবিদ আশরাফুল আলম বলেন, রাঙ্গামাটিতে শুক্রবার ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেশি ঢাকার চেয়ে। কিন্তু অনুভবটা ঢাকায় বেশি হওয়ার প্রধানতম কারণ মানবসৃষ্ট। এই শহরে আছে কার্বন নিঃসরনের নানা উপাদান। এর মধ্যে অত্যধিক যানবাহন ও কলকারখানার কার্বন অন্যতম। সেই সঙ্গে ইটভাটাগুলোর কার্বনডাই অক্সাইড ও কার্বন মনোঅক্সাইড গরমকে আরও উসকে দিচ্ছে।

বিএমডির কর্মকর্তারা বলছেন, তবে এই গরম কমতে শুরু করেছে। মূলত বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সুফল এটা। নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল যত উপকূলের দিকে আগাবে, গরম তত কমবে। সে কারণে আশা করা যায়, রোববার থেকে তাপমাত্রা আরও কমবে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার নেপথ্যে সামদ্রিক নিম্নচাপ, আকাশে মেঘের আনাগোনা, জলীয় বাষ্পের হার হ্রাস প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন তারা।

এদিকে বিএমডি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৭০, কক্সবাজার থেকে ২০৮৫, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৮৫ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। নিম্নচাপ কেন্দ্রে ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে। এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌযানগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

বুয়েটের জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, নিম্নচাপটি শনিবার দিবাগত মধ্যরাতের পর বা রোববার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা কতটা শক্তিশালী হবে তা এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। এর গতিপথ কেউ কেউ বলছে ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাই। তবে উপকূলঘেঁষে এন্টি ক্লকওয়াইজ পদ্ধতিতে এটি ভারত হয়ে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যেও বিস্তৃত হতে পারে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সেনবাগে বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আয়-ব্যয়ের হিসাব (রিটার্ন) দাখিল না করায় নোয়াখালীর সেনবাগে আবদুর রহমান নামে এক বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া আবদুর রহমান উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

আবদুর রহমান নোয়াখালী জেলা বিএনপির ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলার বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ছাতারপাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আয়-ব্যয়ের হিসাব (রিটার্ন) দাখিল না করায় তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না- তা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। পরে কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় স্থানীয় সরকার আইন (ইউনিয়ন পরিষদ) ২০০৯ এর ৩৪(৪)(ছ) অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হলো। বরখাস্তের চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড রক্তিম চৌধুরী জানান, স্যার ছুটিতে গেছেন। আর ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্তের বিষয়ে আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কল দিলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শিক্ষকদের অ্যাডমিট কার্ডের টাকার জন্য স্বপ্ন ভেঙে গেল চা বিক্রেতা এক ডিগ্রি শিক্ষার্থীর


টাকার জন্য কলেজ থেকে পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড না দেয়ায় ডিগ্রি (পাস) পরীক্ষা দিতে পারেননি হতদরিদ্র পরিবারের চা বিক্রেতা এক শিক্ষার্থী।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রির প্রথম বর্ষ পরীক্ষার্থী আবদুস সাত্তার বুধবারের ভূগোল বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারেনি।

এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষকের বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে কলেজের চলমান এইচএসসির বার্ষিক পরীক্ষা বয়কট করে আন্দোলন করেন প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী। পরে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতোর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ইউএনও এর হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থী আব্দুস সাত্তার দ্বিতীয় দিনের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারলেও তার শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর পিছিয়ে যাওয়ায় তার লেখাপড়ার স্বপ্ন ভেঙে পড়েছে।

কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, সিংড়া উপজেলার বিল হালতি ত্রিমোহী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী আবদুস সাত্তার চা বিক্রি করে তার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ফরম ফিলাপের জন্য এক হাজার ৮০০ টাকা জমা দেয়। পরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কলেজে অ্যাডমিট কার্ড নিতে গেলে ওই কলেজের শিক্ষক মুঞ্জুরুল আলম বকেয়া ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন।

বুধবার সকালে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী আব্দুস সাত্তার যথারীতি তার পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডের জন্য কলেজের বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে অনুরোধ ও ধরনা দিতে থাকে। পরে কলেজ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় কলেজের উপাধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ারের নির্দেশ টাকা ছাড়া কোনো অ্যাডমিট কার্ড দেয়া যাবে না।

ডিগ্রি পরীক্ষার্থী আবদুস সাত্তার বলেন, প্রায় ৫ মাস আগে তার মা মারা গেছে। তারপর থেকেই স্থানীয় জনৈক সজলের চায়ের দোকানে চা বিক্রি করে সে নিজের ও তার ছোট বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগান এবং সংসার চালান। আর অনেক কষ্ট করে চা বিক্রির টাকা জোগার করে ফরম ফিলাপের এক হাজার ৮০০ টাকা জমা দিয়েছেন। কিন্তু বাকি সামান্য টাকার জন্য তাকে অ্যাডমিট কার্ড দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, অ্যাডমিট কার্ডের জন্য শিক্ষকদের অনেক অনুরোধও করেছেন এবং বাকি টাকা চা বিক্রি করে দিতেও চেয়েছেন। কিন্তু শিক্ষকদের একই কথা টাকা ছাড়া অ্যাডমিট দিতে পারব না। এখন তার কষ্টের জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে গেল।

ওই কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, একটি গরিব পরিবারের ছেলে অনেক কষ্ট করে তার সংসার এবং লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সামান্য কিছু টাকার জন্য আর কিছু শিক্ষকদের দাম্ভিকতায় আজ শিক্ষার্থী আবদুস সাত্তার এর জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে গেল। তিনি এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

শিক্ষক মুঞ্জুরুল আলম বলেন, আমরা পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা কলেজের উপাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার স্যারের নির্দেশ পালন করেছি। আর ওই শিক্ষার্থীর অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা ছিল না।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম সারোয়ার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ওই শিক্ষার্থী কলেজে অনিয়মিত ছিল।

এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ঘটনা জানার পর ওই শিক্ষার্থীর পরবর্তী পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। আর এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেনকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌কওমি মাদ্রাসাগুলোতে নতুন নিয়মে দাওরায়ে হাদিসের প্রশ্ন পাবে হল তত্ত্বাবধায়ক


কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শনিবার থেকে আগের রুটিনে পরীক্ষা চলবে। আবু দাউদ শরিফের পরীক্ষা ১ মে অনুষ্ঠিত হবে। তহাবী শরিফের পরীক্ষা ২ মে (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে। ৩ মে পরীক্ষা শেষ হবে।

পরীক্ষা স্থগিত ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বৃহস্পতিবার রাতে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বৈঠক শেষে জানানো হয়, প্রশ্নফাঁস রোধে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় তত্ত্বাবধায়কের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হবে।

সাংবাদিকদের আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সদস্য মাওলানা মুসহেহুদ্দিন রাজু জানান, প্রশ্নফাঁস রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ নতুন নিয়মে প্রশ্ন পাঠানো হবে।

সংস্থাটির কো-চেয়ারম্যান আল্লামা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সদস্য মুফতি ওয়াক্কাস, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা মুসলিহ উদ্দীন রাজু, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি এনামুল হক, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর শধুপুর), মাওলানা মাহফুজুল হক ও মুফতি নুরুল আমিন প্রমুখ।

এর আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠায় সম্মিলিত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা হাইয়াতুল উলইয়ার চলমান দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর গত ২৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) থেকে পুনরায় পরীক্ষা শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদে ‘কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিসের সনদকে আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান প্রদান বিল-২০১৮ পাস করার পর প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

চলতি বছরে দেশের ৬টি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রায় ২৬ হাজার ৭২১ শিক্ষার্থীর আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা আরম্ভ হয়ে ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল।

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি শিক্ষা সনদের মান ঘোষণা করার পর হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে ৬ বোর্ডের সম্মিলিত দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা ইতিপূর্বেও দুবার (১৬-১৭ ও ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌দুই নৃগোষ্ঠী তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার এড়াতে মাথা ন্যাড়া করে ছদ্মবেশ, অতঃপর…


রংপুরের মিঠাপুকুরে দুই নৃগোষ্ঠী তরুণীকে গণধর্ষণ ও তাদের মধ্যে এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি রতন মিনজিকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৩।

আসামি রতন মাথার চুল ন্যাড়া করে ছদ্মবেশে বান্দরবানের জঙ্গলে লুকানোর পরিকল্পনা করছিল। তার সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই রাজধানীর সাভার থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক। ওই তরুণীর আত্মহত্যার কিছু সুইসাইডাল নোট উদ্ধারের তথ্যও জানান তিনি।

রংপুর মহানগরীর স্টেশন আলমনগর এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর সদর দফতরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, মিঠাপুকুরের খোর্দনুরপুর এলাকার আদিবাসী দুই তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর র‌্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে সাভার এলাকায় আত্মগোপনে থাকা মামলার প্রধান আসামি রতন মিনজিকে র‌্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে রতন মিনজি। গ্রেফতার এড়ানোর জন্য রতন মিনজি ছদ্মবেশ ধারণের উদ্দেশ্যে মাথার ন্যাড়া করে ও বান্দরবানের জঙ্গলে লুকানোর পরিকল্পনা করে সেখানে যাচ্ছিল। কিন্তু র‌্যাবের জালে তার আগেই সে ধরা পড়ে বলে জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

মামলা ও পারিবারিক সূত্র জানায়, রংপুরের মিঠাপুকুরের নৃগোষ্ঠী পল্লীর দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর (চলতি বছরে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে পীরগাছার সোমনারায়ণ গ্রামের বুধু মিনজির ছেলে রতন মিনজি।

গত ১৮ এপ্রিল মোবাইল ফোনে দেখা করতে ওই ছাত্রীকে ডাকে রতন। ওই দিন বিকালে একই শ্রেণিতে পড়ুয়া চাচাতো বোনকে সঙ্গে নিয়ে ওই তরুণী ভগ্নিপতির বাড়ি পীরগাছায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তারা রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে থাকা রতন ও তার দুই বন্ধু হযরত এবং মামুন দুই বোনকে কৌশলে একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গণধর্ষণ করে।

এরপর তারা দুই তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে বলতে নিষেধ করে দেয়। গোপন না রাখলে তাদের জীবননাশের হুমকি দেয়। এতে ভীত হয়ে কাউকে কিছু না বলে ভগ্নিপতির বাড়ি যায় দুই বোন। সেখান থেকে পরের দিন তারা নিজ বাড়ি ফেরে।

এরপর ১৯ এপ্রিল বিকালে লজ্জা ও ক্ষোভে এসএসএসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী ওই তরুণী গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। বিষয়টি প্রথমে কেউ না জানলেও পরে ওই ছাত্রীর মোবাইল ফোনে প্রেমিক রতনের ছবি এবং তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা ক্ষুদে বার্তায় আত্মহত্যার নেপথ্যের কারণ বেরিয়ে আসে।

পুলিশ এ ঘটনায় প্রথমে মামলা নিতে না চাইলে পরে ঘটনার পাঁচদিন পর ২৩ এপ্রিল আত্মহত্যা করা ওই তরুণীর বোন বাদী হয়ে রতন মিনজি, হযরত এবং মামুনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ওই তরুণী সুইসাইড নোট লিখে যায়। তাতে রতন মিনজির সঙ্গে তার পূর্বপরিচয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। র‌্যাব ওই সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌প্রতিবেশীর পা কেটে নেয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেই নেতা আবুল বাশার গ্রেফতার


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পা কেটে নিয়ে যাওয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবুল বাশার (৩৮),তার দুই ভাই মনির হোসেন মেম্বার (৫৫), দেলোয়ার হোসেন ওরফে ধন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে মামলার মূলহোতা আবুল বাশার (৩৮), তার দুই ভাই মনির হোসেন মেম্বার (৫৫), দেলোয়ার হোসেন ওরফে ধন মিয়াকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার গ্রেফতারকৃতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল শুক্রবার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বিকালে আবুল বাশার ও তার লোকজন কালা মিয়া এবং তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে টেঁটাবিদ্ধ করে কালা মিয়ার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে নিয়ে যায় ও তার ছেলে বিপ্লব মিয়ার দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। বর্তমানে বাবা-ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি সালাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সানারপাড় একটি বাড়ি থেকে মামলার প্রধান আসামি আবুল বাশার ও তার দুই ভাইকে গ্রেফতার করি গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে। শুক্রবার গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রিমান্ড মঞ্জুর করলে মামলার অনেক বিষয়ে জানা ও পা উদ্ধারের বিষয়ে তথ্য পাব বলে আশা করছি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জাহিদুরকে বহিষ্কারের ইঙ্গিত দিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়


দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে শপথ নেয়া ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি জাহিদুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেয়ায় দল তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘শপথের বিষয়টি জাতীয় প্রেস ক্লাবে বসে শুনলাম। এটা ওনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং দল এটা দেখবে। সাংগঠনিকভাবে যা ব্যবস্থা নেয়ার, তাই করা হবে।’

একাদশ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত অনেকেই শপথ নিতে আগ্রহী এ বিষয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। তাঁরা দল করেন। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাঁরা দলীয় সিদ্ধান্ত মানবেন। একজন ব্যক্তি যদি দলের সিদ্ধান্ত না মানেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক যে নিয়ম আছে, তা কার্যকর করা হবে।’

এর আগে মানবন্ধনে দেয়া বক্তৃতায় গয়েশ্বর বলেন, দলের সিদ্ধান্ত, দলের আদর্শ এবং খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে কেউ যদি শপথ নিয়ে থাকে বা ভবিষ্যতে নেয়, তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে চলার যোগ্যতা রাখে না। তারা গণদুশমন। জনতা ঠিকই সময়মতো তার বিচার করবে।

তিনি বলেন, আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত যে আমরা পার্লামেন্টে যাব না। দলের সিদ্ধান্ত যিনি অমান্য করবেন, তিনি দলের লোক হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

জাহিদুর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, সিদ্ধান্তের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হবে। জনগণও তাকে ক্ষমা করবে না। দল থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর আগে দুপুরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাহিদুর রহমান জাহিদ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ-রানীশংকৈল) আসনে তিনি নির্বাচিত হন। রংপুর বিভাগের মধ্যে জাহিদুর রহমানই একমাত্র বিএনপির প্রার্থী, যিনি জয়ী হতে পেরেছেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিদেশি গণমাধ্যমে পেন্সিলে আঁকা খালেদা জিয়ার কারাজীবন! ( ছবি সহ )


কথিত দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এক বছরেরও বেশি সময় কারাগারে রয়েছেন। এবার তার সেই কারাজীবন নিয়ে পেনসিলের আঁকা বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে ইন্দোনেশিয়ার গণমাধ্যম বেনার নিউজ।

খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে কর্তৃপক্ষ তাতে বাধা দিয়েছেন। কারাগারে যাওয়ার পর ৭৩ বছর বয়সী খালেদা জিয়ার কোনো আলোকচিত্র কিংবা ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

শারীরিক দুর্বলতার জন্য মাঝে মাঝে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করেন খালেদা জিয়া।

বেনার নিউজ দাবি করছে, বিএনপি এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়ার কারাজীবন নিয়ে স্কেচ তৈরি করেছেন ইলাস্ট্রেটর রেবেল পেপার।

পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি হচ্ছেন একমাত্র খালেদা জিয়া। একসময় সেখানে কয়েক হাজার বন্দি ছিলেন। কারাগারে তার পাশের কক্ষেই থাকেন তার ব্যক্তিগত পরিচারিকা ফাতেমা।

২০১৮ সালে তারা পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। এর বছর দুয়েক আগে ২০১৬ সালে সেটি খালি করে বন্দিদের একটি নতুন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কারাগারে প্রশাসনিক ভবনের প্রথম ফ্লোরেই খালেদা জিয়ার থাকার জায়গা। তিনি ১০ ফুট লম্বা ও আট ফুট চওড়া একটি কক্ষে থাকেন।

কারাগারটি একজন সাবেক উপপরিদর্শক বেনার নিউজকে বলেন, সেখানে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে একটি টেবিল, দুটি চেয়ার দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া একটি গ্লাস, পিরিচ, চিরুনি, টুথব্রাশ, টুথপ্লেট, সাবান ও শ্যাম্পুসহ অন্যান্য জিনিসও রয়েছে তার জন্য।

২০১৮ সালের জুনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে খুবই নোংরা পরিবেশে রাখা হয়েছে। পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারটি পরিত্যক্ত। এতে বড় বড় ইঁদুর থাকে।

তিনি বলেন, আপনারা শুনে অবাক হবেন, খালেদা জিয়া যে কক্ষে থাকেন, সেই কক্ষটিতে একটি বিড়াল ইঁদুর শিকার করেছে।

কিছু কছু বিরোধী নেতা অভিযোগ করেন, কক্ষটিতে পোকামাকড়ের উপদ্রুব রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, তারা ডাহা মিথ্যা বলছেন। খালেদা জিয়াকে বিশেষ বন্দির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তাকে খাট, বিছানা, বালিশ, ফ্রিজসহ অন্যান্য আসবাবপত্র দেয়া হয়েছে।

‘কিন্তু সেখানে কীটপতঙ্গের উপদ্রব কেমনে হয়? কক্ষটি খুবই পরিচ্ছন্ন।’

খালেদা জিয়ার বন্দিত্ব নিয়ে বিএনপির নেতারা রাজনীতি করছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি কারাকর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

প্রতিদিনের রুটিন অনুসারে খালেদা ফল দিয়ে সকালের নাস্তা করেন এবং পত্রিকা পড়েন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে স্বাভাবিক সুপ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারাকর্মকর্তা বেনার নিউজকে বলেন, তিনি পেঁপে ও অন্যান্য ফলের জুস পছন্দ করেন। আমাদের দেয়া ফল তিনি খাচ্ছেন।

খালেদা জিয়াকে তার পছন্দ অনুসারে একটি পত্রিকা দেয়া হয়। এ ছাড়া কারাকক্ষে তাকে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন দেখার সুযোগ দেয়া হয়।

সরকার কারাগারের ভেতর বিশেষ জজ আদালত বসিয়েছেন। যেটা তার কক্ষ থেকে খুব দূরে নয়। সেখানে তার বিরুদ্ধে মামলার শুনানির সময় তাকে আনা হয়।

হুইলচেয়ারে বসে তিনি যখন আদালতে যান, তখন দুই নারী পুলিশ থাকে তার সঙ্গে। মাঝে মাঝে তিনি শুনানিতে আসতে অস্বীকার করেন।

গত ১ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় তাকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন- খালেদা জিয়ার অসুস্থতা সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার মতো নয়। কাজেই স্বাস্থ্যের জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করেই তাকে বেঁচে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার আর্থ্রাইটিস ও হাঁটুতে সমস্যা আছে। তার পেশি সক্রিয় রাখতে আমরা দুজন ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দিয়েছি। প্রতিদিন তাকে থেরাপি দেয়া হয়।

‘এ ছাড়া তার মেডিকেল চেকআপের জন্য একজন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসক তার রক্তচাপ, রক্তের শর্করার রেকর্ড রাখেন।’

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে দাবিদার কে এই শমী?


অবশেষে সাংবাদিকদেরকেও চোর বানিয়ে ছাড়লেন শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে দাবিদার ও আওয়ামী লীগের উচ্ছিষ্ঠভোগী শমী কায়সার। অভিনেত্রী হিসেবে শমী কায়সার সবার কাছে পরিচিত। বিশেষ করে শহীদুল্লাহ কায়সারের নামের অংশ নিজের নামের শেষে যোগ করার কারণেই মুলত শমীকে মানুষ চিনে। তবে, আওয়ামীপন্থী মিডিয়ায় শমীর আগমন ঘটেছে এক নববুদ্ধিজীবী হিসেবে। বিভিন্ন টিভি টকশোতে গিয়ে সে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারের চেষ্টা করে। তার বক্তব্য শুনলে মনে হয় যে, সে নিজেই একজন মুক্তিযোদ্ধা। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় তার জন্মই হয়নি।

শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে দাবিদার কে এই শমী কায়সার? কি তার বংশ পরিচয়? তার কি আসলেই কোনো বংশ পরিচয় আছে? তার মা-খালাদের পরিচয় পাওয়া গেলেও সত্যিকার অর্থে তার কোনো পিতৃ পরিচয় পাওয়া যায়নি। অনেকে মনে করে শমীর বাবার কোনো পরিচয় নেই। অ্যানালাইসিস বিডির অনুসন্ধানেও শমীর সঠিক বাবার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

উইকিপিডিয়ায় শমীর পরিচয় দেয়া হয়েছে- সে ১৫ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম শহীদুল্লাহ কায়সার ও মাতার নাম পান্না কায়সার। তার মা পান্না একজন লেখক এবং সাবেক সংসদ সদস্য। শমীর একজন ছোট ভাই আছেন, অমিতাভ কায়সার। তার মা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দুজা চৌধুরীর স্ত্রী মায়া পান্নার বোন। ফলে, শমী এবং রাজনীতিবিদ মাহি বি. চৌধুরী খালাতো ভাই-বোন।

শমী ১৯৯৯ সালে ভারতীয় নাগরিক ব্যবসায়ী অর্নব ব্যানার্জী রিঙ্গোকে ছলেবলে কৌশলে ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করেন। তবে পরবর্তীতে রিঙ্গো তার নিজের ধর্মে ফিরে যান। এর দুই বছর পর তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি ২০০৮ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের আরেক দালাল হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ এ আরাফাতকে বিয়ে করেন।

এবার আসা যাক শমীর বাবার বংশের দিকে। শমীর দাবি তিনি শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে। আসলে শহীদুল্লাহ কায়সার কি তার অর্জিনাল বাবা? শমী কি সেই প্রমাণ দেখাতে পারবেন? মোটেও না।

কারণ, ১৯৬৯ সালে বিয়ে হয় বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সার ও অধ্যাপিকা পান্না চৌধুরীর। তখন পান্না চৌধুরীর বয়স মাত্র ২২ বছর। শহীদুল্লাহ কায়সারকে গুম করা হয় ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

শহীদুল্লাহ কায়সারের সাথে তার স্ত্রীর সংসারের মেয়াদ প্রায় দুই বছর। এই দুই বছরে শহীদুল্লাহ কায়সারের দুইটি সন্তান হয়! এক, শমী কায়সার, জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে। দুই, অমিতাভ কায়সার প্রকাশ অমি কায়সার।

সবেচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- ১৯৬৯ সালে শহীদুল্লাহ কায়সার পান্না চৌধুরীকে বিয়ে করেন। ঐ সালের কোন মাসে বিয়ে করেন সেটা জানা যায়নি। যদি ধরে নেওয়া হয় ঐ বছরের জানুয়ারি মাসেই তিনি বিয়ে করেছেন, তাহলেও সেই মাসের ১৫ তারিখেই কীভাবে শমী কায়সার জন্মগ্রহন করতে পারেন? বিয়ের এক মাসেই কী করে সন্তান জন্ম নেয়? তাছাড়া, ১৯৬৯-১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে কিভাবে দুইটি সন্তান জন্ম দিতে পারে শহীদুল্লাহ কায়সার।

শমী শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে এটা কোনো যুক্তিতেই মিলে না। শমী তার মা পান্না চৌধুরীর গর্ভে এসেছিল শহীদুল্লাহ কায়সারের সঙ্গে বিয়ের আগেই। এখন শমীর আসল বাবার পরিচয় কি হবে সেটা গবেষণার দাবি রাখে।

কথিত আছে,পান্না কায়সার গর্ভবতী হয়েছিলো তার এক খিরিস্টান বয় ফ্রেন্ড দারা যার নাম ছিলে জন ম্যাথিও সে ডাবির আইন বিভাগের দ্বিতিয় বর্ষের ছাএ ছিলো সে শহিদুল্লা হলের ৫০৮ নং ( পাচ তলার আট) রুমে থাকতো।এ ইতিহাস বেশ লম্বা।

উৎসঃ ‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here