অবশেষে কামাল-জাফরুল্লাহদের ষড়যন্ত্রই সফল হলো!

0
721

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কথিত দুর্নীতির মামলায় কারাগারে নেয়ার পর থেকেই বিএনপিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নিতে একটি মাস্টার প্ল্যান করেছিল আওয়ামী লীগ। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকার বেছে নিয়েছিল ড.কামাল হোসেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদকে। এনিয়ে অ্যানালাইসিস বিডির একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্যেকটা প্রতিবেদনেই সরকার কখন কাকে দিয়ে কি করছে এসবের সবিস্তারে বর্ণনা দেয়া আছে।

এক্ষেত্রে সরকারের দুইটি পরিকল্পনা ছিল। প্রথম পরিকল্পনা ছিল বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসা। এজন্য ড. কামাল ও জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দিয়ে গঠন করিয়েছিল কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাদের পাল্লায় পড়েছিল বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ড. এমাজউদ্দিন আহমদ। এই তিনজনে মিলেই মূলত বিএনপিকে আন্দোলন বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে কুপরামর্শ দিয়েছিল।

দেখা গেছে, ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল ৭ দফা দাবি না মানলে তারা নির্বাচনে যাবে না। দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামবে। কিন্তু, সরকারের পক্ষ থেকে দুই দফা সংলাপে দাবি না মানা সত্ত্বেও ড. কামাল নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর এতে সম্মতি দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এরপর, ব্যাপক ভোট ডাকাতির নির্বাচনের পর সিদ্ধান্ত হলো তারা সংসদে যোগ দেবেন না। কিন্তু লোকোচুরি করে শপথ নেন ড. কামালের দলের দুই এমপি। পরে জানা গেল ড. কামালের সম্মতিতেই তারা শপথ নিয়েছেন।

এরপর, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তারা আন্দোলনে যাবে। সরকারকে বৈধতা দেয়ার জন্য তারা সংসদে যাবেন না। কিন্তু দেখা গেল, ড. কামাল আর জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্ররোচনায় পড়ে বিএনপির নির্বাচিত এমপিরাও সোমবার শপথ নিলেন। হয়তো মঙ্গলবার মির্জা ফখরুলও শপথ নিবেন। তাদের এই শপথের মধ্যদিয়ে সরকারের পুরো চক্রান্তই সফল হলো। কামালের ষড়যন্ত্র থেকে আর বেরিয়ে আসতে পারলো না বিএনপি।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন- এই শপথের মধ্যদিয়ে বিএনপি নামক একটি বৃহত্তর দলের রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটলো। এই দলটি আর নিজস্ব শক্তি নিয়ে কখনো মাঠে দাঁড়াতে পারবে কিনা সন্দেহ আছে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌শেষ মুহূর্তে বিএনপির নাটকীয় সিদ্ধান্ত


শেষ মুহূর্তে চার এমপির শপথ : সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছেন মির্জা ফখরুল * সংসদে গিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাইবেন এমপিরা * স্বাগত জানিয়েছেন রাজনীতিবিদসহ সুশীল সমাজ * সন্ধ্যায় সংসদে যোগদান

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির চার সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন বলে জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বিকালে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে তারা শপথ নেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনও শপথ নেননি। তিনি সময় চেয়ে স্পিকার বরাবর চিঠি দিয়েছেন। এদিকে শপথের পর একাদশ জাতীয় সংসদের চলতি দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে যোগ দিয়েছেন বিএনপির ৫ সংসদ সদস্য। সোমবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শপথের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে রাত পৌনে আটটায় তারা অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।

শাসক দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিএনপির পাঁচজন এবং গণফোরামের আরও দু’জনসহ মোট সাত এমপির শপথ গ্রহণকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন।

একাদশ সংসদের প্রথম দিন থেকে শপথ না নেয়ার বিষয়ে অনড় ছিল বিএনপি। দলের এমপিদের শপথ ঠেকানোর বিষয়ে মরিয়া ছিলেন শীর্ষ নেতারা। প্রথমে একজন শপথ নেয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্যরাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এ ইস্যুতে দফায় দফায় বৈঠক করেন।

এমপিদের নিয়ে আবার তাদের ছাড়াও বৈঠক করেন। শপথ নিলে পরিণতি কি হতে পারে সে ইঙ্গিতও দেয়া হয়। সব মিলে শপথ ইস্যুতে বিএনপির মধ্যে নানা ধরনের নাটক হয়। শেষ দিন এসে তারা হঠাৎ করেই শপথের বিষয়ে নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেন।

চলতি সংসদের মেয়াদের ৯০তম দিনে সোমবার হঠাৎ ৪ এমপিকে শপথ গ্রহণের নির্দেশ দেন দলের হাইকমান্ড। এভাবে হঠাৎ নির্দেশ দেয়াকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা ধরনের আলোচনা হয়। রাতে দলের মহাসচিব সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই ৪ এমপি শপথ নিয়েছেন। এরপরই অবসান ঘটে এ সংক্রান্ত সব জল্পনা-কল্পনার।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। শপথ নেয়া এই চারজন হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম এবং বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন। ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান শপথ গ্রহণ করেন।

সোমবার বিকালে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, বিএনপির সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, দলের আরেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া উপস্থিত ছিলেন।

যে কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : সংসদে শপথ না নেয়ার বিষয়ে অনড় সিদ্ধান্ত থেকে হঠাৎ সরে আসায় দলটির ভেতরে এবং বাইরে চলছে নানা আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ এ সিদ্ধান্ত বদলের পেছনে নানা কারণ খোঁজার চেষ্টা করছেন তারা। এদিকে বৃহস্পতিবার জাহিদের শপথের পর বাকিদের এ পথ থেকে ফেরাতে নানাভাবে চেষ্টা চালান দলের নীতিনির্ধারকরা। নির্বাচিতদের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত— চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কথা বলছেন।

তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। রোববার সন্ধ্যায় নির্বাচিতদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। সেখানে স্কাইপে নির্বাচিতদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান কথা বলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সংসদে না যাওয়ার ব্যাপারে তাদের অনুরোধ করেন। কিন্তু নির্বাচিতরা তাদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। উল্টো তারা সংসদে যাওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্যরা নির্বাচিতদের নিয়ে পৃথক বৈঠক করেন।

সেখানেও তাদের শপথ না নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু বৈঠকে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে তাদের অবস্থান দেখে স্থায়ী কমিটির অনেকেই সন্দেহ করেন তাদের শপথ থেকে বিরত রাখা যাবে না। এরপর স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। নির্বাচিতদের মনোভাব তাকে অবহিত করেন। বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের সাংগঠনিক বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা বলেন, রোববার রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠকেই তারেক রহমান শপথের পক্ষে কথা বলেন। আলোচনায় স্থায়ী কমিটির সব নেতাই শপথের বিপক্ষে মতামত দেন। তবে তারা এ-ও বলেন, এই শপথের সঙ্গে যদি খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি থাকে, তাহলে তাদের আপত্তি নেই।

আর যদি তা-ই হয়, তাহলে আরও আগে এ নিয়ে আলোচনা হল না কেন? আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্ত দিয়ে এমপি শপথ নিতে পারত? জাহিদুর রহমানকে কেন বহিষ্কার করা হল? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে তারেক রহমান তাদের জানান, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।

সূত্র জানায়, দলের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে এবং গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার স্বার্থেই শেষ মুহূর্তে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ ব্যাপারে দলের সিনিয়র নেতা ছাড়াও কয়েকজন বুদ্ধিজীবীর পরামর্শ নেন তিনি। সবাই সংসদে যাওয়ার পক্ষে মত দেন।

সূত্র জানায়, নির্বাচিত চারজন শপথ নিতে যাচ্ছেন সোমবার সকাল থেকেই এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ ভবনে গণমাধ্যম কর্মীরাও ভিড় জমান। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে গেলেও তারা সংসদ ভবনে উপস্থিত হননি। এরপর তারা শপথ নিচ্ছেন না এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র জানায়, শপথ নিতে যেতে বিলম্ব হওয়ার কারণ ছিল দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। নির্বাচিত চারজন গুলশানের একটি বাসায় একসঙ্গে অবস্থান করেন। দুপুরের পর দলের হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তারা সংসদ অভিমুখে রওয়ানা হন। বিকালে তারা শপথ নেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির মোট ছয়জন জয়ী হন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন আরও দু’জন। নির্বাচনের পরপরই ভোটে ব্যাপক অনিয়ম এবং কারচুপির অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানোর পাশাপাশি তারা শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে গণফোরামের দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচিত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ গত ৭ মার্চ শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দেন।

তাকে অনুসরণ করে গণফোরামের প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত দলটির আরেক নেতা মোকাব্বির খান গত ২ এপ্রিল শপথ নেন। গত ২৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শপথ নেন ঠাকুরগাঁও-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির মো. জাহিদুর রহমান। শপথগ্রহণের সময়সীমার শেষ দিনে এসে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বিএনপির বাকি চারজনও সংসদ সদস্য হিসেবে শপ গ্রহণ করলেন।

শপথের পর এমপিদের প্রতিক্রিয়া : দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে শপথ নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হারুনুর রশীদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার।

শপথগ্রহণ শেষে হারুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশে, তার সঙ্গে কথা বলে দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদে এসেছি। দেশে গণতন্ত্র নেই। কথা বলার সুযোগ নেই। তাই কথা বলতে সংসদে এসেছি। সংসদে যোগ দিয়ে আমরা আমাদের নেত্রীর (খালেদা জিয়া) মুক্তির দাবি জানাব। একই দাবি করেন উকিল আবদুস সাত্তার। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘উপরের নির্দেশেই সংসদে যোগ দিয়েছি।’

বিভিন্ন দলের নেতা, সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ সুশীলসমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া : শাসক দল আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সংবিধান বিশেষজ্ঞসহ সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা বিএনপির পাঁচজন এবং গণফোরামের আরও দুইজনসহ মোট সাতজন সদস্যের শপথগ্রহণকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন।

তারা মনে করেন, সংখ্যায় কম হলেও বিএনপি এবং গণফোরামের সদস্যরা ইচ্ছা করলে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তারা জনগণের কথা বলতে পারবেন। মানুষের সুখ দুঃখের কথাও সংসদে বলতে পারবেন।

আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বিএনপির সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি বিএনপির সদস্যরা শপথ নেবেন। শপথ নেয়া ছাড়া বিকল্প তাদের হাতে কিছু ছিল না। যারা শপথ নিয়েছেন তাদের আমরা অভিনন্দন জানাই, সাধুবাদ জানাই। আশা করি তারা সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।’

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন যুগান্তরকে বলেন, শেষ মুহূর্তে হলেও বিএনপির সদস্যরা শপথ নিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমি মনে করি তাদের আরও আগেই সংসদে যোগ দেয়া উচিত ছিল।’

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ যুগান্তরকে বলেন, ‘দেরি হলেও বিএনপি সদস্যদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। এটা ভালো দিক।’

বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, একজন নির্বাচিত সদস্য শপথ নেবেন, সংসদে যাবেন, জনগণের পক্ষে কথা বলবেন- মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা করে। বিএনপির সদস্যরা শপথ নিয়ে সঠিক কাজই করেছেন।

নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতিক্রিয়া : চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলের নির্বাচিতদের শপথকে স্বাগত জানিয়েছেন। সোমবার গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এমপিদের শপথ নেয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। এটা দলের ও জনগণের জন্য ভালো।

আমরা আমাদের এমপিদের মাধ্যমে সংসদে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নেতাকর্মীদের জেল-জুলুম নিয়ে কথা বলতে পারব। একই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কথা বলেছেন বগুড়া জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম দিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সন্দেহ থাকলেও পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবাদ মাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে নিশ্চিত হন এবং সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন বিএনপির পাঁচ এমপি : শপথ নিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদের চলতি দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্থ কার্যদিবসে যোগ দিয়েছেন বিএনপির পাঁচ সংসদ সদস্য। সোমবার বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তারা অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।

বিএনপির পাঁচজনের মধ্যে বিরোধী দলের সারিতে অর্থাৎ চার নম্বর সারিতে জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতারের ডান পাশে বসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। তার পাশে বসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার। আর বাকি তিনজন বসেন একেবারে পেছনের সারিতে। অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার পর সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে তারা করমর্দন করেন। এ সময় তাদের সিট দেখিয়ে দেন সংসদের আর্দালিরা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌অধিবেশনে যোগ দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুবিচার দাবি করেছেন হারুনুর রশীদ


শপথগ্রহণের পর জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুবিচার দাবি করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মো. হারুনুর রশীদ। একই সঙ্গে সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনাকে ‘আমার নেত্রী’ বলেও সম্বোধন করেন তিনি।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রবীণ সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেই আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ, শ্রীলঙ্কার গীর্জা ও হোটেলে সন্ত্রাসী হামলায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশে ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন ও পুড়িয়ে মারার ঘটনায় গভীর ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে এবং এ সকল সন্ত্রাসী, যৌন নিপীড়নের ঘটনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল দেশের সংসদ, সরকার ও নাগরিকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছে।’

সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ বলেন, অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। সারাদেশের মানুষ আজ বিক্ষুব্ধ, অসন্তুষ্ট। জনগণের ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হোক এটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। জনগণ চায় একটি ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হোক। দেশে আইনের শাসন থাকবে, সুশাসন থাকবে। জনগণের প্রতিনিধির দ্বারা দেশ শাসিত হবে -এটি এ দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, সংসদ নেতা অনেক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন। আমি আশা করব, আজ আমরা (বিএনপি) সংসদে প্রথম এসেছি, এত তাড়াতাড়ি অস্থির হয়েন না। আমি আপনাদের কাছে আহ্বান জানাব, বাস্তব অবস্থায় দেশের যে সংকট সেই সংকট সমাধানের জন্য আমার নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) আমি অনুরোধ করব, এ বিষয়ে আপনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অহংকার আর দাম্ভিকতা না দেখিয়ে প্রকৃতপক্ষে দেশে যে সংকট চলছে- তা সমাধানের জন্য আমার নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) অনুরোধ করব। অনুরোধ করব সংসদ নেতাকে, এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, যাই বলেন না কেন, সারাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন। আমরা সংখ্যায় কম হতে পারি। বাস্তবতা হচ্ছে দেশের ১৭ কোটি মানুষ আজকে জিম্মি, অসহায়। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিককার হরণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময় যে উপজেলা নির্বাচন হয়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল তা বর্জন করেছে। আপনারা একাধিক প্রার্থী দিয়েছেন। আপনারা বিরোধী প্রার্থী দিয়েছেন। তারপরও সেখানে ৫ শতাংশ মানুষও ভোট দেয়নি। মানুষ কী অবস্থায় আছে- এটা নিশ্চয় আপনাদের উপলব্ধিতে আসা উচিত। এ সংকট থেকে যত দ্রুত আমরা বেরিয়ে আসতে পারব, ততই আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে, কল্যাণকর হবে।

বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, মাননীয় নেত্রীকে বলতে চাই। আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিম্ন আদালতের ফরমায়েশি রায়ে সাজাপ্রাপ্ত। খালেদা জিয়া দীর্ঘ ১৫ মাস যাবৎ উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে নিম্ন আদালত থেকে অত্যন্ত জঘন্যতম মামলা- খুন, হত্যা, ধর্ষণের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে উচ্চ আদালতে জামিন নিয়ে আসছে।

তিনি বলেন, সংসদ নেতার প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ করব। ৭৩-৭৪ বছর বয়স্ক বৃদ্ধা। উনি হুইল চেয়ারে চলাফেরা করছেন। এ অবস্থায় তার সত্যিকার অর্থে জেলখানায় থাকার কথা নয়। অন্ততপক্ষে উনার জামিন পাওয়া উচিত। উচ্চ আদালতে যদি আপনারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেন। আপনার যারা অ্যাটর্নি জেনারেল-সরকারি কর্মকর্তারা আছেন তারা যদি সত্যিকার অর্থে বাধা প্রদান না করেন তাহলে আমি বিশ্বাস করি উনি কালকেই জামিন পাবেন। উনি কালকেই জামিন পাবেন।

হারুনুর রশীদ বলেন, আমরা প্রত্যাশ্য করব, সত্যিকার অর্থে এ দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপিকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে বিএনপি। এভাবে দেশে শান্তি ফিরে আসবে না। আপনাকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করতে হবে। দেশে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে। কিন্তু দেশে ব্যাপক ও ভয়াবহ লুটাপাট হচ্ছে। এই লুটপাটের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা বিরোধীদলের কয়েকজন সদস্য সংসদে এসেছি সত্যিকারের কথাগুলো বলতে। এই সংসদ নেতার সামনে দাঁড়িয়ে শপথ করে বলছি, শপথ নেয়ার সময় বলেছি ‘আমরা সত্য কথা বলব, ন্যায় কথা বলব’। সারা বাংলাদেশে যে সমস্ত ঘটনাগুলো সংঘঠিত হচ্ছে সেগুলো আমরা বলার চেষ্টা করব। মাননীয় স্পিকার আপনি সময় দেবেন, আমরা যদি সময় পাই তাহলে কথা বললে আপনারাই উপকৃত হবেন। আপনারা সঠিক তথ্যগুলো জানতে পারবেন।

বিএনপির এ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমরা সংসদে প্রবেশ করেছি। তোষামোদি নয়, বাস্তব কথাগুলো বলার জন্য আমরা সংসদে এসেছি। আমরা ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। ভোটের অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু আমরা এ জায়গাটিকে হারিয়ে ফেলেছি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বলেন, মোটরশ্রমিক ইউনিয়ন বলেন, মালিক ইউনিয়ন বলেন, ঠিকাদার পরিষদ বলেন, ব্যক্তিগত নির্বাচনগুলোসহ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনও সরকারের ইশারা ছাড়া সম্পন্ন হয় না। এতে ভয়াবহ সংকট তৈরি হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য মাননীয় সংসদ নেতা আপনি..। আল্লাহপাক ক্ষমতার মালিক, আমরা কে কতদিন ক্ষমতায় থাকবো জানি না। কিন্তু আপনি পারেন এবং আপনি পারবেন তা প্রমাণ করেছেন। এখন এই বিষয়গুলোর জন্য আপনাকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

হারুনুর রশীদ বলেন, মাননীয় নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেবেন। হ্যাঁ, বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছে। তারা সংসদে প্রবেশ করেছেন। তাহলেও অন্ততপক্ষে আমরা মানুষের কাছে, দেশের কাছে বলেতে পারব। আমরা সংসদে ঢোকার পর উনাকে (খালেদা জিয়া) প্রধানমন্ত্রী মুক্তি করেছেন। উনার বয়স হয়ে গেছে- অনুরোধ করব। উনার নিম্ন আদালতে বিচার করেন। এরপর উচ্চআদালত আছে। জজকোর্ট আছে। হাইকোর্ট আছে। বিচার করেন কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু অন্ততপক্ষে জামিনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না।

প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন করে তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে এই সন্ত্রাসী ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। বড়ভাই মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ সেলিম ভাই। আমরা ওয়ান ইলেভেনের সময় একসঙ্গে কারাগারে ছিলাম। তার নাতি শ্রীলঙ্কায় নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান-কাল-পাত্র নেই। বাংলাদেশও এর থেকে মুক্ত নয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশকে সন্ত্রাস মুক্ত করতে হবে। অবশ্যই জঙ্গিমুক্ত করতে হবে। মাদকমুক্ত করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে এ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমরা পদক্ষেপ নিতে পারলে সাফল্য অর্জন করা যাবে।

বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, নুসরাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে ঘটনাগুলো পত্রপত্রিকায় আমরা দেখতে পাই- ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছে। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, এ জন্য মাননীয় সংসদ নেতাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সন্ত্রাস দমন, ধর্ষণ, নির্যাতনের ক্ষেত্রে এক রকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে আমরা সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে সন্তোষজনক জায়গায় যেতে পারব।

একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে নিঃসন্দেহে বিতর্ক রয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোটের অধিকারকে হরণ করা হয়েছে। যেভাবেই বলি না কেন, ৩০ তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

উৎসঃ ‌‌জাগোনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়া বিচারিক নয় রাজনৈতিক কারণে বন্দি: আমীর খসরু


মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বরাত দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণেই বন্দি করে রাখা হয়েছে, বিচারিক সিদ্ধান্তে নয়। সিলেটের স্থানীয় একটি হোটেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াছ আলীর গুমের ৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি। আমীর খসরু বলেন, খালেদা জিয়া কোনো অপরাধ করেননি, তার বিরুদ্ধে মামলা জামিনযোগ্য।

সরকার খালেদা জিয়াকে ভয় পায় বলেই বন্দি করে রাখা হয়েছে। সিলেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে। জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়েই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ফরমায়েশি সাজা দেয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে পুলিশের পাহারায়। এদিন থাকবে না, পরিবর্তন হবেই। আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব। এ জন্য দরকার একটি গণআন্দোলন। এ আন্দোলন গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে দিতে হবে।

ইলিয়াছ আলীর সঙ্গে ৭ বছর আগে গুম করা হয় ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, জুনেদ আহমদ ও গাড়িচালক আনসার আলীকে। ‘কারান্তরীণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, গুম নামক অপরাজনীতির ভয়াবহতা ও অবরুদ্ধ গণতন্ত্র’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কাহির চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিলেট বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ সিলেট জেলা সভাপতি ডা. শামীমুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আমীর খসরু বলেন, আ’লীগের ক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে গুম, খুন, হত্যা ও গায়েবি মামলা। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে দুর্বল দল আওয়ামী লীগ। দলটি নানা ফন্দিতে আজীবন ক্ষমতায় থাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে স্বৈরাচারী সরকারের মতো নৈরাজ্য চালাচ্ছে দেশজুড়ে। বিএনপি নেতাদের মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করে ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রকল্পকে পাকাপোক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মন্ত্রীরা বিদেশি চাপে বারবার খালেদার প্যারোলে মুক্তির কথা বলছেন। তারা বলছে, বিএনপি চাইলে তারা খালেদা জিয়ার প্যারোল বিবেচনা করবে। কিন্তু আমরা তো খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি চাইনি।

অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান মান্না নিজের কারাবরণের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি ২৩ ঘণ্টা গুম ছিলাম। সরকারের বাহিনীগুলো আমাকে গ্রেফতারের পর ২৩ ঘণ্টা স্বীকার করেনি। ডাকসুর সাবেক ভিপি মান্না বলেন, ভোট চুরির ৪ মাস অতিবাহিত হলেও আমরা কোনো আন্দোলন করতে পারিনি। আমাদের রাজনৈতিক শক্তি দেখাতে পারিনি। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্ভয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছে। নইলে তারাও ভাবত এক মাঘে শীত যায় না, ভোট চুরিতে সহযোগিতা করত না। মান্না বলেন, দেশে প্রহসনের ভোট হয়েছে। সরকার এখন দুর্নীতিতে লিপ্ত। রুখে দাঁড়ানোর সময় এখনও আছে, মানুষকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, ইফতেখার আহমদ দিনারের বাবা ডা. মঈনুদ্দিন, জুনেদ আহমদের ছোট ভাই হাসান মঈনুদ্দিন আহমদ ও আনসার আলীর স্ত্রী মুক্তা বেগম এ সময় আবেগঘন বক্তৃতা করেন। সভায় বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ও বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাদের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে বিএনপির শপথ !


সম্প্রতি বিএনপি নেতা জাহিদুর রহমানের দলীয় সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে শপথ নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সোমবার দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ গ্রহণ করেছেন দলের আরও চার সাংসদ।

হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্নের খানিকটা উত্তর মেলে দলটির মহাসচিবের বক্তব্যে। মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ হিসাবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে আমাদের দল সংসদে যাচ্ছে। তবে নিজের শপথ গ্রহণের কথা জানতে চাইলে অনেকটা এড়িয়ে যান এ নেতা। তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন জানতে পারবেন।

তাহলে কি খালেদা জিয়ার মুক্তির স্বার্থেই তারেক রহমানের এমন সিদ্ধান্ত? সূত্র বলছে, দলীয়প্রধানের জামিনে মুক্তির পর জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিলো বিএনপির নির্বাচিতদের। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকারের চাপে দলীয় প্রধানের মুক্তির শর্তে সিনিয়র নেতারা তাৎক্ষণিক ভাবে নীতিগত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্য একটি সূত্র বলছে, এর আগে গত ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে খালেদা জিয়ার মুক্তি, বিএনপির নেতাদের শপথের বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর ১ এপ্রিল বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের একটি বৈঠকেও এ নিয়ে চুলচেরা পর্যালোচনা হলেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি নেতারা।

এদিকে জাহিদুর রহমানের শপথ নেয়ার পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিজয়ী ব্যক্তিরা যাতে শপথ নেন, সে জন্য সরকার হুমকি-ধামকি ও নানাভাবে চাপ তৈরি করছে এবং তাঁদের নজরদারিতে রেখেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এক দিকে সরকারের পরিকল্পনা বিএনপি নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণে বাধ্য করবে, তাই তাদেরকে কোন চিঠি পাঠানো হয়নি। অন্যদিকে রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ‘ধীরে চলো নীতি’ অবলম্বন করছিলেন বিএনপি। কিন্তু আইন অনুযায়ী, সংসদ বসার তিন মাসের মধ্যে শপথ নেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ হিসেবে ৩০ এপ্রিলের আগেই শপথ নিতে হবে ঐক্যফ্রন্টের সকল বিজয়ী প্রার্থীদের। তাই সরকারের চাপে ও খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্তে দলীয় নীতি ভেঙে তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপি।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌শমী কায়সারকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের আহ্বান


অভিনেত্রী ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই- ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার জাতীয় প্রেসক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে তার দুটি স্মার্ট ফোন হারানোকে কেন্দ্র করে প্রায় অর্ধশত সাংবাদিককে চোর সন্দেহে হলরুমে আটকে রেখে দেহ তল্লাসী ও ‌চোর বলে সম্বোধনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাব।

সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক কবির আল মাহমুদ কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি ফায়সাল আহমেদ দ্বীপ, সিনিয়র সহসভাপতি মিরন নাজমুল ও সাধারণ সম্পাদক জমির হোসেন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন প্রায় অর্ধশত সাংবাদিককে চোর সন্দেহে দেহ তল্লাশী করে শমী কায়সার পুরো সাংবাদিক সমাজকেই ছোট করেছেন, যা তার কাছে কেউ আশা করেনি।

নেতৃবৃন্দ বলেন সাংবাদিকদের ভিডিও রেকর্ডিংয়ের কল্যাণেই শমী কায়সারের মোবাইল চোরকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে; যে কোন সাংবাদিক ছিল না, বরং অনুষ্ঠানের আয়োজকদেরই ভাড়া করা লোক এবং সাংবাদিকদের সহযোগিতার কারণেই তিনি তার মোবাইল ফোন ফিরে পান। মোবাইল চুরির জন্য শমী কায়সারের অসতর্কতাকে দায়ী করে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সামান্য দুটি মোবাইলের জন্য সাংবাদিকদের এভাবে অপদস্থ ও ছোট করা মোটেই কাম্য নয়।

আমরা তার কাছ থেকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেছিলাম। নেতৃবৃন্দ বলেন, এ ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিক সমাজের কাছে শমী কায়সারের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। এ ছাড়াও অন্যদের মধ্যে শমী কায়সারকে তার অসৌজন্যমূলক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের জন্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি রিয়াজ হোসেন, মিনহাজুল আলম মামুন, মাহবুব সুয়েদ, ফারুক আহমেদ মোল্লা, নুরুল ইসলাম, আখি সীমা কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বাহার, জহুরুল হক, কবির আল মাহমুদ, নাজমুল হোসেন, জামিল আহমেদ সায়েদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রনি মোহাম্মদ, শফিউল শাফি, অর্থ সম্পাদক মাহবুব হোসাইন, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ রাসেল আহম্মেদ, আমির হোসেন লিটন, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুল আমিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোহাম্মদ আসলামুজ্জামান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জাহিদ কায়সার, অভিবাসী সম্পাদক জুম্মন মাদবর, মহিলা সম্পাদিকা মনিকা ইসলাম, সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান, খান রিপন, মিল্টন রহমান, ফেরদৌসী রহমান প্রমুখ।

যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘একজন শহীদ সাংবাদিকের মেয়ে হয়ে পিতার পেশার উত্তরসূরিদের ‘চোর’ বলে সম্বোধন করে শমী কায়সার প্রকারান্তরে তার পিতাকে নিকৃষ্টভাবে অসম্মান করেছেন। শুধু তাই নয়, একজন সেলিব্রেটি হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘মোবাইল ফোন হারানো’র সূত্র ধরে যে আচরণ করেছেন, তা সেলিব্রেটিদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার মতো একজন অভিনেত্রী ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌খালেদা জিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা চলছে : আমান উল্লাহ আমান


বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার লক্ষ্যে এই অনির্বাচিত সরকার প্রতিবাদী কন্ঠস্বর বন্ধ করতে চায়। আর সেজন্যই বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃবৃন্দকে কারাগারে আটকে রেখেছেন।

আজ সোমবার বৃহত্তর ময়মনসিংহ ফোরাম কর্তৃক আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, বাংলাদেশের সকল নির্বাচনী কেন্দ্রে ভোট হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর রাতে। সকল ডিসি ও ইউএনও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের আগের রাতেই ব্যালট পেপার দিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এটা বাংলাদেশের সব জনগণ জানেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানেন না।

২৯ তারিখের ভুয়া নির্বাচনে কী রকম ভোট হয়েছে তা এদেশের শিক্ষক সমাজ জানেন। তারা কিভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন তা জিজ্ঞেস করলেই জানতে পারবেন।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, সংসদে এখন আর জনগণের কথা বলা হয় না। এ অনির্বাচিত সরকার জনগণের ভোটের অধিকারসহ সব অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে রাজপথে আন্দোলন করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌মুক্ত গণমাধ্যম না থাকলে গণতন্ত্রকে সুষ্ঠু বলা যায় না : মির্জা ফখরুল


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম না থাকলে গণতন্ত্রকে সুষ্ঠু বলা যায় না। দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও আমরা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারিনি।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত বার্ষিক কাউন্সিল-২০১৮ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশে গভীর এক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বহু আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছ। এসব আন্দোলন সংগ্রামে বহু রাজনীতিবিদ হামলা-মামলা-খুন-গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই ফ্যাসিবাদী সরকার সকল রাষ্ট্রীয় যন্ত্রগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। প্রায় সকল গণমাধ্যমের মালিকানা দখল করেছ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনীতিবিদরা সবসময় খারাপ হয় না। তারা দেশের জন্য অনেক ত্যাগ করেন। আমাদের অনেক নেতাকর্মী আছেন যারা সরকারের হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ঢাকায় এসে রিক্সা চালাচ্ছেন, হকারের কাজ করছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগ থেকে অনেক নেতাকর্মী বের হয়ে জাসদ তৈরী করেছিলেন। সেই জাসদের অনেক নেতাকর্মীকে ৭২-৭৫ সরকার হত্যা করেছিলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন বাকশাল চালু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তখন বহুদলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছেন। আমরা দেশনেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌সাংবাদিকরা নজিরবিহীন নির্যাতনের শিকার : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সাংবাদিকদের উপর এ সরকারের আমলে এত নির্যাতন হয়েছে যে বিগত সকল সরকারের আমল যোগ করেও এত নির্যাতনের নজির পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, এরকম জালিম সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন দেশে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না।

আজ রোববার বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন কতৃক আয়োজিত বার্ষিক কাউন্সিল-২০১৮ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমীন গাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ইভিএম নিয়ে দেয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, মানুষ এখন ভোট কেন্দ্রে যায় না। মানুষকে জোর করেও সরকার ভোট কেন্দ্রে নিতে পারছে না।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ভালোর জন্য বলছি, মজলুমের ভাষা বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের উপর নির্যাতন বন্ধ করুন। তিনি বলেন, জুলুম করে কোন সরকার ক্ষমা পায়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, দিন দিন বাংলাদেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। মানুষ বাহিরে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ পেলেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে দেশের এই অস্থিতিশীল অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর মাধ্যমে দেশকে বসবাস যোগ্য করে তুলতে হবে।

এসময় তিনি উপস্থিত সবাইকে দুনিয়ার পাশাপাশি আখেরাতের কামিয়াবি লাভের লক্ষ্যে কুরআন-হাদিসের আলোকে চলার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যর্থ স্বাধীনতা সবার জন্য কলঙ্ক : ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন


দেশে বিরোধী দলের রাজনীতিকদের ব্যর্থতার কারণেই ভোটের অধিকার হারানো মানুষ রাজপথে নামছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এম হাফিজ উদ্দিন খান। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতি কুলসিত হতে হতে সর্বশেষ পর্যায়ে চলে গেছে। গণতন্ত্রের প্রথম যে শর্ত সেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এখন আর দেশে নেই। গণতন্ত্রের এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে গণআন্দোলন প্রয়োজন। গণআন্দোলনের প্রয়োজন, কিন্তু নের্তৃত্বে ব্যর্থতায় মানুষ বাধ্য হয়ে ঘরে বসে রয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দি ঢাকা ফোরাম’ আয়োজিত গণতন্ত্র ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন বলেন, ব্যর্থ স্বাধীনতা সবার জন্যই কলঙ্ক। জেলখানায় বসে ভোট ডাকাতির খবর শুনেছি। ১৭ কোটি মানুষকে ভীতির মধ্যে রেখে দেশে চলছে এখন মুষ্টিমেয় সুবিধাবাদীর সরকার। তাদের কাছে মিথ্যাই সত্য, দুর্নীতিই সততা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বেম গোলটেবিল বৈঠকে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, স্বাধীন দেশের সরকার হবে জনগণের অধিকার রক্ষার সুশাসন। নির্বাচন হবে বৈধতার ভিত্তিতে। কিন্তু জেলে থেকে আমাকে শুনতে হলো ভোট ডাকাতির কাহিনী। দেশে ভোটের রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে। ভোট ডাকাতি করতে পুলিশি শক্তির অপব্যবহার করা হয়েছে। জনগণ এখন প্রশাসনের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। ১৭ কোটি মানুষ অন্যায় অবিচারের কাছে অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে। দেশের রাষ্ট্রীয় শক্তির ভয়ভীতির আতঙ্কে আমরা রয়েছি।

ভোটাধিকারের দাবি নাগরিকত্বের দাবি। ভোটাধিকার রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা দলীয় রাজনীতির ব্যর্থতা নয়, আমাদের স্বাধীনতার ব্যর্থতা। স্বাধীনতার অর্থ স্বাধীনভাবে সরকার গঠনের স্বাধীনতা, দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণের অধিকার। স্বাধীনতা জনগণের সরকারের নয়। সরকারের থাকতে হবে জনগণের প্রতি দায়িত্ব্ পালনের দায়বদ্ধতা। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোট নড়বড়ে অবস্থায় বিচার ব্যবস্থাকে কোনোভাবে ধরে রেখেছে। নিম্ন আদালতের জজ-বিচারকদের চাপের মুখে রাখতে সরকারের অসুবিধা হচ্ছে না। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজেই অহরহ ফোন করেন জজ-ম্যাজিস্টেটদের কারণীয় নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। জনগণের সুবিচার পাবার অহয়াত্বের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে।

অপরদিকে আইনমন্ত্রী বলছেন বিচার বিভাগ স্বাধীন বলেই দুর্নীতিপরায়ণরা পার পাচ্ছে। সরকার এতো সাধু হলে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় থাকতে হতো না। পুলিশি মামলা দিতে সরকারকে আইনের কথা ভাবতে হয় না। সরকারই আইন। জামিন না পেলেই লক্ষ্য হাসিল। তিনি বলেন, ভয়-ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা আতঙ্কের মধ্যে জনসমস্টিকে রাখা স্বাধীনতা নয়। দেশে চলছে মুষ্টিমেয় সুবিধাবাদীদের সরকার। সরকার পরিচালনায় সেই গোষ্ঠীই প্রভাবশালী যারাই জনগণকে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করতে সাহায্য করছে। তাদের কাছে মিথ্যাই সত্য, দুর্নীতিই সততা। তাদের উন্নয়নই দেশের উন্নয়ন। জিডিপি কেন্দ্রীক উন্নয়নের বড় বড় দাবির সমর্থনে তথ্য প্রকাশে সরকারের অস্বীকৃতি বোধগম্য। তিনি বলেন, জনগনের ভোট হরন করে যে সরকারকে ক্ষমতায় থাকতে হয় সে সরকারের ব্যর্থতার কথা, গণ-ভীতির কথা অন্যদের বলতে হয় না। জনগণের ভোটাধিকার অস্বীকার করাই সরকারের চরম ব্যর্থতার স্বীকৃতি।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, দেশে ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে তা কলংকজনক নির্বাচন। ডাকসুতেও একই কায়দায় নির্বাচন হয়েছে। দেশের গুটিকতক এর প্রতিবাদ করলেও আমরা এর প্রতিবাদ করতে পারিনি। মূলত মানুষের মনে এখন ভয় ঢুকে গেছে। টকশোতে সত্য কথা বললে এখন আর তারা ডাকে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে এখন তেমন কোন আভাস দেখা যাচ্ছে না। সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সেটা হচ্ছে না। তবে সুদানে যেভাবে ৩০ বছর পর পরিবর্তন এসেছে আমাদের দেশে ১৫ বছরের শাসন চলছে। আরো হয়তো ১৫ বছর পর পরিবর্তন আসতে পারে। এজন্য গণআন্দোলন প্রয়োজন। বাংলাদেশের মানুষ এক সময় অনেক প্রতিবাদী ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষের সেই প্রতিবাদী মনোভাব এখন কোথায় গেল? মানুষ কি নির্জিব হয়ে গেল?

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সামষ্টিক সূচকের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়ন দেখানো হচ্ছে। কিন্ত দিনকে দিন মানুষে মানুষে বৈষম্য বেড়েই চলেছে। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের মানুষ উন্নয়নের সুবিধা থেকে নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কারণ এখন জনগণ নয় পুঁজিই ক্ষমতার উৎস হয়ে গেছে। দেশে সুশাসন নেই, জবাবদিহিতার প্রচন্ড অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। ভোটধিকার এখন ক্ষমতা ও অর্থের কাছে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। দেশের এ সংকট থেকে মুক্তি পেতে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে সমতাভিত্তিক ও টেকসই উন্নয়ন এর পথে এগিয়ে যেতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সরকার ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা ধরে রেখেছে। মানুষ এখন ভয়ে কথা বলতে পারে না।

ঢাকা ফোরামের এই গোলটেবিলে বক্তৃতা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. আনু মুহাম্মদ, পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক, বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান ফখরুল আযম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাশেদ তিতুমীর, ড. জামাল খান, মাহমুদ জামিল, ঢাকা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ফিনান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাইয়্যেদ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, ঢাকা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এফ এ শামীম আহমেদ, সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ আজীজ, সাবেক রাষ্ট্রদূত শাহেদ আখতার, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম, প্রফেসর ডা. মাজহারুল হক প্রমুখ। #

উৎসঃ ‌‌ইনকিলাব

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here