কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অসাংবিধানিক : টিআইবি

0
123

প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক, দুর্নীতিবান্ধব ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শূন্য সহনশীলতার পরিপন্থি বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। শুক্রবার এক বিবৃতিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোসহ কয়েকটি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও আয়বৈষম্য নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না রেখে বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির মহাৎসবের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করায় সম্পদ ও আয়বৈষম্য আরো বাড়বে বলে মন্তব্য করে সংস্থাটি।

টিআইবি বলছে, কালো টাকা ব্যবহারের সুযোগপ্রাপ্ত খাতে দুর্নীতির একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সৎপথে এসব খাতে আয় ও সম্পদ আহরণের সুযোগ ধূলিস্যাৎ হবে; এর প্রভাবে দুর্নীতির বিস্তৃতি ও গভীরতা আরো বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে সংকটাপন্ন ব্যাংক খাতের সংস্কারে কার্যকর কোনো পথ নির্দেশ বা পরিকল্পনা না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুশাসন ও ন্যায্যতার পরিপন্থি হলেও দফায় দফায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে এসেছে একের পর এক সরকার। সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন ও দুর্নীতির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শূন্য সহনশীলতার পরিপন্থি হলেও এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে এই অনিয়মকে বাদ না দিয়ে বরং এর পরিধি আরো বাড়ানো হয়েছে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এবার জমি কেনাকেও যোগ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করা যাবে । তদুপরি এবার প্রথমবারের মত এই অবৈধটাকে পাঁচ বছরের জন্য বৈধতার প্রস্তাব করা হল। অর্থ্যাৎ দুর্নীতির মহাৎসব ও বিচারহীনতাকে পাঁচ বছর মেয়াদি লাইসেন্স দেয়া হল। চরম হতাশাজনক হলেও প্রশ্ন ওঠে, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর শূন্য সহনশীলতার ঘোষণার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার মত কি কেউ নেই সরকারি অঙ্গনে? কি হবে এই অঙ্গীকারের? এ উদ্যোগ যেমন অসাংবিধানিক তেমনি অনৈতিক, বৈষম্যমূলক এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের নামান্তর।

কেবলমাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অবৈধটাকে বৈধতা দেওয়ার অর্থ সমাজে বৈধভাবে উপার্জন করাকে নিরুৎসাহিত করা, যা অন্যদিকে চরম বৈষম্যমূলক, কারণ সৎপথে উপার্জনকারীকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। দুর্নীতির কাছে রাষ্ট্রের এই আত্মসমর্পন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে তা সরকারকে অনুধাবন করতে আহ্বান জানাই। অন্যদিকে রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও যোগসাজশের অপসংস্কৃতিতে ধুঁকতে থাকা সংকটাপন্ন ব্যাংক খাতের সংস্কারে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোন উদ্যোগ না থাকায় তা এ খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে।

ড. জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট খাতে জনগণের করের টাকায় নতুন করে বাড়তি প্রণোদনার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা এ খাতের শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় কি কোনো ভূমিকা রাখবে এবং তা কীভাবে, সে ব্যাপারে সরকার, বা যাদের চাপে এটা করা হলো তাদের কোনো বিবেচনা রয়েছে এমন ইঙ্গিত নেই।

ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্রীয় ঋণের বিষয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশাল অঙ্ক ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এমন বৃহৎ প্রকল্পসমূহে অর্থের যথার্থ ব্যয় এবং কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ও প্রস্তাবনা না থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের ‘শূন্য সহনশীলতা’ অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক। রাষ্ট্রীয় ঋণের বোঝা বাস্তবিক অর্থে দেশের সাধারণ নাগরিকদেরই বইতে হয়। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট কৌশলগত দিক-নির্দেশনার দাবি জানাই। এছাড়া, প্রতিরক্ষা খাতে বিশাল বরাদ্দের সমর্থনে যা-ই থাকুক, জনগণের এ অর্থ ব্যয়ের খাতওয়ারি কোনো তথ্য বা বিশ্লেষণের সুযোগ প্রতিবারের মত এবারও জনগণকে দেওয়া হয় নাই যা এ বিষয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য অপরিহায।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (বিসিসিটিএফ) এর জন্য কোন বরাদ্দ না করায় হতাশা প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির প্রেক্ষিতে বাজেটে কোন বরাদ্দ না রাখাটা একবারেই অযৌক্তিক এবং উল্টো পথে হাঁটার সামিল। সুতরাং বিসিসিটিএফে কমপক্ষে ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু বাজেটে ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও এলাকা চিহ্নিতকরণ ও অগ্রাধিকারসহ ব্যয়িত অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কৌশলগত দিক-নির্দেশনার দাবি জানাচ্ছি।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌প্রস্তাবিত বাজেট অবাস্তব, বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না : জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ


বর্তমান সরকারকে অনির্বাচিত সরকার অভিহিত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ বলেছেন, ‘বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মুস্তফা কামাল অনির্বাচিত জাতীয় সংসদে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মোটা অংকের যে উচ্চাকাংখী অবাস্তব বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন তা সরকারের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেই দেশের অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন। বছর শেষে গিয়ে অন্যান্য বছরের মত এবারের বাজেটও সংশোধন ও কাট-ছাট করা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।

জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ-এর পরের দিন শুক্রবার এক বিবৃতিতে জামায়াত আমীর এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে মকবুল আহমাদ বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে এডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, দেশীয় উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা, বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধ করতে লাগবে ৫৭ হাজার ৭০ কোটি টাকা এবং পূর্বের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে লাগবে ১১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটের গোটা অর্থের এক তৃতীয়াংশই ঋণ নির্ভর।’

তিনি বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পূর্বেই বাংলাদেশের বকেয়া মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮১ হাজারা ৫৬৮ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথা পিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৫শত টাকা। অর্থাৎ আজ যে শিশুটি জন্ম নিয়েছে সে ৬৭ হাজার ৫শত টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই জন্ম গ্রহণ করেছে। গত বছর ঋণের সুদ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কিন্তু তার পরিবর্তে ১ হাজার ৯ শত ৩ কোটি টাকা ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে। এবারও ঋণের সুদ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা সরকার অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে মনে হয় না।

জামায়াতের এ শীর্ষনেতা বলেন, ‘সরকার রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না বলেই অর্থনীতিবিদগণের ধারণা। ঘুষ ও দুর্নীতির কারণেই সরকার এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে না। সরকারের বাজেট বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হলো সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি। এ সমস্যাগুলো ব্যবসা, বাণিজ্য ও দেশী-বিদেশী অর্থ নিয়োগের পথে প্রধান বাঁধা, যে কারণে দেশে আশানুরুপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৮.২ শতাংশ এবং গত বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭.৮৬ শতাংশ, সেটা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সরকার নানা ধরনের গোজামিলের আশ্রয় নিয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দাবী করলেও অর্থনীতিবিদগণ তা মানতে রাজি নয়।’

তিনি বলেন, ‘বিগত ৪৮ বছরের মধ্যে বর্তমানে দেশের অর্থনীতি সবচাইতে নাজুক অবস্থায় পড়েছে। দেশে বর্তমানে খেলাপী ঋণের পাহাড় গড়ে উঠেছে। গত মার্চ পর্যন্ত খেলাপী ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৮শত ৭৪ কোটি টাকা। গত তিন মাসে খেলাপী ঋণ বেড়েছে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছরই খেলাপী ঋণের পরিমাণ বাড়ছে।দেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত হলো সরকারী-বেসরকারী ব্যাংকগুলোতে সরকারী দলের লোকদের ব্যাপক লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ। দেশের ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে কর্মক্ষম বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের কোন সুনির্দ্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে দেশে স্মাতক ডিগ্রীধারী ৪৭ শতাংশ যুবক-যুবতি এবং ৩১ শতাংশ নারী ডাক্তার ও প্রকৌশলী বেকার। বিশ্বের সবচাইতে অধিক বেকার জনসংখ্যা অধ্যুসিত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম। দেশে ২ কেটির অধিক কর্মক্ষম বেকার রয়েছে। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় ৩০ সালের মধ্যে দেশে ৩ কোটি বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনার যে হাস্যকর বক্তব্য দিয়েছেন তা বেকার লোকদের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।’

মকবুল আহমাদ বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ৪ কোটি লোক দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করছে। অতি দরিদ্র সীমার মধ্যে আছে ২ কোটি মানুষ। দেশের ২ কোটি ৫০ লক্ষ লোক পুষ্ঠিহীনতায় ভুগছে। অথচ বাজেটে দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্ম-মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র লোকদের জন্য কোন সুখবর নেই। তাদের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর এবং ৪ স্তরের ভ্যাটের বোঝা আরো বাড়বে। ধনীদের সারচার্জে বড় ধরনের ছাড় দিয়ে তাদের তুষ্ট করা হয়েছে। ধনীদের সম্পদ কর বা সারচার্জের সীমা ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এবারের বাজেটে আয়কর মুক্ত আয়ের সীমা বিগত তিন বছরের মতই ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। অথচ বাস্তবতার নীরিখে তা হওয়া উচিত ছিল কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাজেটে শিশু খাদ্য তরল ও গুড়া দুধ, সব ধরনের চিনি, গ্লুকোজ, মধু, অলিভওয়েল, ভোজ্য তেল, বৈদ্যুতিকি মটর, ফ্লাক্স, গ্লাস, প্লেট, চুলা, এ্যালুমিনিয়ামের হাড়ি-পাতিল, স্মার্ট ফোন, ভোজ্য তেল ও মোবাইল ফোনে কথা বলা ইন্টারনেট ইত্যাদির দাম বাড়ানো হয়েছে। এ প্রস্তাব গরীব মানুষের স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। অপর দিকে মটর সাইকেল, স্বর্ণ, এসি, ফ্রিজের দাম কমানো হয়েছে। যা ধনী লোকদের জন্য সহায়ক হবে। অপ্রদর্শিত কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা চালু রেখে দুর্নীতিকেই উৎসাহিত করা হয়েছে। সঞ্চয় পত্রের মুনাফার উপর কর দ্বিগুণ করা হয়েছে। সব ধরনের রপ্তানী কর চারগুণ করা হয়েছে। এতে রপ্তানী নির্ভর শিল্প বিশেষ করে পোষাক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার দেশী শিল্পের সুরক্ষার কথা বললেও সরকারের এ সিদ্ধান্ত পোশাক শিল্পসহ দেশীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারী কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা, ভর্তুকী, সুদ, পেনশন ইত্যাদি অনুউন্নয়ন খাতে গোটা বাজেটের ৫৯. ৫ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে। অপর পক্ষে উন্নয়ন খাতের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০.৫ শতাংশ। এ থেকে বুঝা যায় সরকার উন্নয়নের ফাঁকা বুলি আওরিয়ে সরকারী আমলা-কর্মচারীদের তোষামোদ করে ক্ষমতায় থাকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড কৃষিখাতের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রেখেছে ৫.৪ শতাংশ। দেশের কৃষকগণ তাদের উৎপাদিত ধান, চাল, পাট ও ইক্ষুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। তারা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান সে জন্য বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ আরো অন্তত: ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ভর্তূকি দিয়ে হলেও তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য দেয়া উচিত।’

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৬.৭৫ শতাংশ। শিক্ষাকে কর্মমুখী করার জন্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ আরো বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা উচিত উল্লেখ করে মকবুল আহমাদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ১২ জুন জাতীয় সংসদে বলেছেন, ‘ঘুষ, খাব না, কাউকে ঘুষ খেতেও দিব না’। অথচ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সবাইকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুষ দিয়ে এবং নির্বাচনের পরে সরকারী অর্থে তাদের জন্য ভুরি-ভোজের ব্যবস্থা করে তাদের সন্তুুষ্ট করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোন কথাই নেই। তাই প্রধানমন্ত্রীর মুখে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফাঁকা ভুলি মানায় না।’

বর্তমান জাতীয় সংসদ জনগণের নির্বাচিত নয় এবং এ সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্বও করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অনির্বাচিত সংসদের কোন মূল্য জনগণের কাছে নেই। অনির্বাচিত সরকার জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না বলেই তারা জনকল্যাণকামী বাজেট পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই দেশের রাজনৈতিক দল, জোট, সুশীল সমাজ ও অর্থনীতিবিদগণের বাজেট পর্যালোচনা আমলে নিয়ে প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধন করে জনকল্যাণমুখী করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস: বিএনপি


নতুন বাজেটকে উচ্চাভিলাষী আখ্যা দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাজেটের শিরোনাম থেকেই উন্নয়নের ‘গীত’ প্রকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের ‘গীত’ আর মানুষ শুনতে চায়না। কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তা সাধারণের এমনিতেই নাভিশ্বাস উঠেছে।

শুক্রবার বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাজেটের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে বিএনপি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

তার মতে, বাজেটের আকার বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন যেন অর্থমন্ত্রী।

মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছেন। বাজেটের আকার বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছেন যেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কিন্তু বাজেট বৃদ্ধির এ প্রগলভতা বছর শেষে চুপসে যেতে দেখা যায়। বাজেটের আকার কত বড় এ নিয়ে আর জনমনে কোনো উচ্ছ্বাস নেই।

‘কেননা প্রত্যেক বছরের শেষ দিকে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ যেভাবে কাটছাঁট করা হয়, তাতে বিরাট আকার বাজেটের অন্তঃসার শূন্যতাই প্রকাশ পায়,’ বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ঘোষিত বাজেটের শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ- সময় এখন আমাদের সময় এখন বাংলাদেশের’। বর্তমান অর্থমন্ত্রী পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দেয়ালে লেখা দেখা গেছে ‘সময় এখন আমাদের: সময় এখন বাংলাদেশের’।

তিনি জানান, আবার বছর খানেক আগে টিভির পর্দায় একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন হিসেবেও শোনা গেছে ‘সময় এখন আমাদের’। আসলে সময় এখন তাহাদের এবং একমাত্র তাহাদেরই। সেটা বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।

বাজেটের শিরোনাম থেকেই উন্নয়নের ‘গীত’ প্রকৃষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের ‘গীত’ আর মানুষ শুনতে চায়না। কর আর দ্রব্যমূল্যের চাপে ভোক্তা সাধারণের এমনিতেই নাভিশ্বাস উঠেছে।

আয়-বৈষম্য, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের কারণে সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি জনগণ এখন আর উন্নয়নের মিষ্টি কথায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না, বলেন মির্জা ফখরুল।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপির এমপিদের সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের


জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে দলীয় সংসদ সদস্যদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এ নির্দেশ দেন। দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ও গঠন করেছে বিএনপি।

বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির ছয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল ছাড়াও কমিটিতে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বিএনপি সংসদে থাকবে। সংসদীয় রীতিনীতি মেনে বক্তব্য রাখবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদও জানাবে। কিন্তু এমন কিছু করবে না যাতে সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়।

নির্দেশনা মতে, জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন মঙ্গলবারই সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। এদিন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে অনেক দিন পর সংসদে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরা সরব থাকব।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতির মহাতাণ্ডব চলছে। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। জনগণের পক্ষে এসব বিষয় সংসদে তুলে ধরব। তবে কতটা পারব জানি না। এ ক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটি দেখতে হবে।

হারুন বলেন, ‘চলতি অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা বাজেট অধিবেশন। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। বাজেট যাতে জনস্বার্থে হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

সোমবারের বৈঠকের বিষয়ে বাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা উকিল আবদুস সাত্তার গণমাধ্যমকে বলেন, সংসদ অধিবেশন নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। যেন আমরা সবাই ঠিক থাকি, সবকিছুর ঠিকঠাক জবাব দিতে পারি, নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দিই—এসব ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে দল থেকে। পাশাপাশি সংসদে যোগদানের সুযোগের কীভাবে সদ্ব্যবহার করা যায়, সে বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে দলের সদস্যদের বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।সেই মোতাবেক বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিএনপির নারী সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বক্তব্য রাখেন। তিনি ফ্লোর নিয়ে বলে ওঠেন, একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। বিএনপির এ এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

ফ্লোর নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। টিআইবিসহ সবাই বলেছে- এ সংসদ জনগণের ভোটে হয়নি। তাই খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ যেন একদিনও না বাড়ে।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি, যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

তারেক রহমানের প্রতি সরকার অন্যায় করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।’

জানা গেছে, সোমবারের ওই বৈঠকে বাজেট অধিবেশনের বিষয় অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতে সরকারের অনিয়মের বিষয়টিও তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের অনিয়মের তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সংসদ সদস্যদের সাহায্য করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির স্ব স্ব বিষয়ক সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আগেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিষয়কভিত্তিক সম্পাদকদের সরকারের বিভিন্ন সেক্টরের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে পৃথক পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যেমন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। সেই প্রতিবেদন সংসদ সদস্যরা সংসদে তুলে ধরবেন। এ রকম সব সম্পাদককে ছায়ামন্ত্রীর মতো প্রতিবেদন তৈরির নির্দেশনা দেয়া আছে।

সোমবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন—উকিল আব্দুস সাত্তার, মো. হারুনুর রশীদ, মো. জাহিদুর রহমান, মো. আমিনুল ইমলাম, মোশারফ হোসেন ও সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌হিজাব নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছেঃ আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী


সম্প্রতি গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ‘হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢেকে এটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাঁবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো, এটার তো কোনো মানে হয় না’- নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুইনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী।

শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে নারীদের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, একজন নারীর জন্য পরপুরুষের সামনে দুই হাত, দুই পা খোলা রাখার অবকাশ নেই। পা থেকে মাথা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীরে পর্দা করা শরয়ি হিজাবের মূল উদ্দেশ্য।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

তবে হিজাব সম্পর্কে শেখ হাসিনার ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যে মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন মুসলমান ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কোনোভাবেই শরিয়তের বিধান নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করতে পারে না।

শরিয়তের অন্যতম বিধান পর্দা সম্পর্কে দেয়া এ বক্তব্য প্রত্যাহার করে মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে তাওবা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন হেফাজত মহাসচিব।

হিজাব (পর্দা) ইসলামের অন্যতম একটি ফরজ বিধান উল্লেখ জুনায়েদ বাবুনগরী বিবৃতিতে আরও বলেন, একজন নারীর ইজ্জত আবরু রক্ষায় শরয়ি পর্দার বিকল্প নেই। একজন নারী শরয়ি পর্দা মতো চললে সমাজে ইভটিজিং, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ইত্যাদির ন্যায় অপরাধ ও অনৈকিতা থাকবে না। সমাজ হবে শান্ত ও সুশৃঙ্খল।

পর্দাহীনতার কারণেই আজ নারী নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিশু থেকে শুরু করে সত্তর বছরের বৃদ্ধাও আজ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু নির্যাতন নয়; নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যাও করা হচ্ছে। এর মূল কারণ হলো- বেপর্দা, নির্লজ্জতা ও বেহায়াপনা।

বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, পবিত্র কোরআন শরিফের সাতটি আয়াত এবং প্রায় ৭০টির মতো হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত। এসব আয়াত ও হাদিস দিয়ে পর্দার বিধান প্রমাণিত হওয়ার পাশাপাশি সর্বপ্রকারের বেপর্দা হারাম হওয়াও সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

‘সুতরাং শরয়ি পর্দা নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত শেখ হাসিনার মুখে এমন আপত্তিকর মন্তব্য দুঃখজনক। প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে পর্দা সম্পর্কে দেয়া এমন বক্তব্যে কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, শরয়ি পর্দা নারীর ভূষণ, ইজ্জত আবরু রক্ষার অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু নারী সমাজ আজ পশ্চিমাদের তালে তাল মিলিয়ে চলাফেরা করে নিজের ইজ্জত আবরু বিনষ্ট করছেন। মানবরূপী নরপশু লম্পটদের ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

পর্দা সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য নয়; বরং শালীন পোশাক পরিধান, শরয়ি পর্দা ও ইসলামী অনুশাসন মেনে চলার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে ইভটিজিং, ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনমুক্ত সমাজ গড়তে সবার প্রতি আহ্বান জানান হেফাজত মহাসচিব।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ আলেম সমাজ (ভিডিও সহ)


মুসলিম নারীদের পর্দাকে কটাক্ষ করে শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও আলেম সমাজ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

গত রোববার বিকেলে গণভবনে ত্রিদেশীয় সফর শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা। ওই সময় গাজী টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজার নারীদের নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতে পায়ে মোজা, চোখ-নাক ঢাইক্কা এইটা কি? জীবন্ত টেন্ট (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানোর কোনো মানে হয় না।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

কিন্তু কোনো মুসলিম নারীদের পর্দাকে এভাবে তাচ্ছিল্য করে দেয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য কোনো গণমাধ্যমই প্রকাশ করেনি। অ্যানালাইসিস বিডি ওই দিন রাতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের ভিডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। অ্যানালাইসিস বিডির এই সংবাদ প্রকাশের পরই এনিয়ে দেশের আলেম-ওলামাসহ সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

দেখা যাচ্ছে, ধর্মপ্রাণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অশালীন ভাষায় শেখ হাসিনাকে গালাগালি করছেন। অনেকেই আবার মুসলমান নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে তাওবা করে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে, মুসলিম নারীদের পর্দাকে তাচ্ছিল্য করে দেয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশের ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ আলেম সমাজ। তারাও শেখ হাসিনাকে এমন গর্হিত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

ইতিমধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করিম শেখ হাসিনার বক্তব্য ক্ষোভ প্রকাশ করে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন। শেখ হাসিনাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্যও তিনি তার বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার বক্তব্য আলেম সমাজ চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তবে, তারা এও বলছেন যে শেখ হাসিনার বক্তব্য সরাসরি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সামিল। এমন বক্তব্য দিয়ে বড় অপরাধ করেছেন। শেখ হাসিনা যদি তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার না করে তাহলে এটা নিয়ে কিছু হতেও পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষস্থানীয় একজন আলেম বলেছেন, ওআইসি সম্মেলনে গিয়ে শেখ হাসিনা ঠিকই কালো বোরকা পরে নিজের শরীর ঢেকেছিলেন। তখনতো তিনি নিজেও একটি জীবন্ত টেন্ট ছিলেন। আর দেশে এসেই তিনি মুসলিম নারীদের পর্দাকে তাচ্ছিল্য করে বক্তব্য দিয়েছেন। শেখ হাসিনা আসলে একজন বকধার্মিক। একদিকে ধর্মের কথা বলে অন্যদিকে ধর্মীয় বিধানের আঘাত করে।

তিনি বলেন, দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমনরা ধৈর্য ধরে বসে আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করে তাহলে এই ধৈর্য বেশি থাকবে না। কারণ, ইসলামের একটি বিধানকে কটাক্ষ করে একজন মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের এমন বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শেখ হাসিনা এদেশের কোটি কোটি মুসলিম নারীকে অপমান করেছেন। এদেশের মুসলমানদে কলিজায় তিনি আঘাত করেছেন। তাকে অবশ্যই তাওবা করে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় মুসলমানরা ঘরে বসে থাকবে না।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! (ভিডিও সহ)


শপথ গ্রহণ করে জাতীয় সংসদে যোগদানের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তার এক বক্তব্যেই মঙ্গলবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

সংসদে যোগ দিয়ে প্রথম দিন শুভেচ্ছা বক্তা হিসেবে বলার সুযোগ নিয়ে রুমিন বলেন ‘একাদশ জাতীয় সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’ এ সময় সংসদ কক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রুমিনের বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপির এই এমপি প্রায় আড়াই মিনিট বক্তব্য রাখলেও সরকারদলীয় মন্ত্রী-এমপিদের চিৎকার, চেঁচামেচি ও প্রতিবাদের কারণে সংসদ কক্ষে কেউ রুমিনের বক্তব্য ভালোভাবে শুনতে পাননি।

এ সময় স্পিকার সরকারি দলের সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানালেও কেউ কর্ণপাত করেননি।

রুমিনের পুরো বক্তব্য

ভিডিওঃ  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যে প্রথম দিনেই উত্তপ্ত জাতীয় সংসদ! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আজকে সংসদে আমার প্রথম দিন। যে কোনো রাজনীতিবিদের মতোই সংসদে আসা, সংসদে দেশের কথা, মানুষের কথা বলা আমার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, আমি এমন একটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি, যেই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। নির্বাচনের পরপরই যদি আপনারা টিআইবির রিপোর্ট দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি গণমাধ্যম দেখেন, যদি আপনারা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের দেখেন, যদি আপনারা নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট দেখেন, আপনারা দেখবেন এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সুতরাং আমি খুশি হবো যদি এই সংসদের মেয়াদ আর একদিনও না বাড়ে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে আছি যেই সংসদে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, বাংলাদেশের মানুষের, গণমানুষের নেত্রী, যিনি জীবনে কোনো দিন, কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি- সেই বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে, একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় আজকে কারাগারে ১৬ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে। একজন আইনজীবী হিসেবে আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার যে ম্যারিট, তার শারীরিক অবস্থা, তার সামাজিক অবস্থান এবং তার যে বয়স, সবকিছু বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’

‘সরকারের হুমকিতে আমাদের অ্যাকটিং চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন না। আমাদের শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একেকজনের নামে শত শত মামলা। মাননীয় স্পিকার তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত’- বলেন তিনি।

এই পর্যন্ত বলার পর সময় শেষ হওয়ায় স্পিকার তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শেষ করার কথা বলে বলেন, বক্তব্য শেষ করুন। পরে আবার বলার সুযোগ পাবেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর ফ্লোর নিয়ে প্রতিবাদ করেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, উনি একটি গণতান্ত্রিক দেশের… নিজেও শপথ নিয়ে অবৈধ বলায় ১৬ কোটি মানুষকে অসম্মান করেছেন। তাই আমি তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালির ৩০৭ বিধি অনুযায়ী, তার বক্তব্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি কোনো অসংসদীয় কিছু পাওয়া যায় তাহলে এক্সপাঞ্জ করা হবে।

উৎসঃ ‌‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকেই) দুর্নীতিবাজদের বসবাস!


অনুসন্ধানের মাধ্যমে দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করার লক্ষ্য নিয়েই গঠন করা হয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির মূল কাজ হলো রাষ্ট্রের সকল সেক্টরের দুর্নীতিবাজদেরকে খোঁজে বের করা। মোট কথা, দুর্নীতিবাজদের ধরা, লুটে নেয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেয়া।

কিন্তু, এক পর্যায়ে এসে দুর্নীতি দমন কমিশন নিজেই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের ভেতরই এখন বসবাস করছে বড় বড় দুর্নীতিবাজ। এখানে বসেই তারা নিজেরা অবাধে চাঁদাবাজি ও ঘুষ-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতির তদন্তের নামে কোটি কোটি টাকা ঘুষ খেয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেক্টরের বড় বড় দুর্নীতিবাজদেরকে তারা ছেড়ে দিচ্ছে। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হলো-দুর্নীতিবাজদের কাছে তারা অফিসের গোপন নথিও পাচার করছে।

অবৈধভাবে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ায় দায়ে বরখাস্ত হয়েছেন দুদকের পরিচালক এনামুল খন্দকার বাছির। এই ঘুষ নেয়ার বিষয়ে তাদের হওয়া কথোপকথনও ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন, প্রাথমিকভাবে তারা এই ঘুষ নেয়ার সত্যতা পেয়েছেন। দেশের সর্বত্র এখন এটা নিয়েই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

দুদক পরিচালক বাছিরের ঘুষ কেলেংকারির ঘটনায় যখন সর্বত্রই সমালোচনার ঝড় বইছে তখনই ফাঁস হলো দুদকের আরেক কেলেংকারি। বাংলাদেশে দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিত হলো শিক্ষা অধিদপ্তর। এখানের দুর্নীতিবাজদেরকে রেহায় দেয়ার জন্য এক দুদক কর্মকর্তার ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার ঘুষ চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়েছে। দৈনিক কালেরকণ্ট পত্রিকা মঙ্গলবার ঘুষ চাওয়ার অডিওসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এখন পর্যন্ত দুদকের পক্ষ থেকে এটার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, গত জানুয়ারি মাসে আসামির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ এবং অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক এ কে এম ফজলুল হককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত-২-এ কর্মরত ছিলেন।

ফজলুল হক বন বিভাগের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সম্পদের অনুসন্ধানে দীর্ঘ ১৩ মাস সময় নেন। তিনি অনুসন্ধানসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথির কাগজপত্র বেআইনিভাবে এক কর্মচারীর মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির হাতে দিয়েছিলেন। গত ১৪ জানুয়ারি দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) রাজধানীর একটি রেস্তোরাঁয় বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন।

এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এস এম শামীম ইকবাল নামে দুদকের এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুদক। তিনি দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ২০১৫ সালের জুন মাসে কমিশনের পক্ষ থেকে একটি মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন করা হলেও শামীম ইকবাল তা আদালতে উপস্থাপন না করে নিজের কাছে রেখে দেন।

বিশিষ্টজনসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ নিজেই এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। অন্যথায়, দুদকের পরিচালকরা এভাবে অবাধে ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত হতে পারে না।

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! (ভিডিও সহ)


পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তর মুসলিম দেশ হল আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশের মুসলমানরা শত শত বছর ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামিক কালচার অনুযায়ী জীবন যাপন করে আসছে। পোশাকের ক্ষেত্রেও এদেশের মুসলমানরা ইসলামি পোশাক পরতেই বেশি পছন্দ করেন। তারপরও পাশ্চাত্যের গোলাম হিসেবে পরিচিত কিছু নামধারী মুসলমান এদেশের মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্যের নোংরা সংস্কৃতি ঢোকানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। নেকাব ও হিজাবধারী স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারীদেরকে তারা ধর্মান্ধ বলে গালি দিয়ে থাকে। নেকাব ও হিজাব পরার কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্রীদেরকে বের করে দেয়ার ঘটনাও ঘটছে।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

আধুনিকতার নামে উলঙ্গ সংস্কৃতির অনুসারীরা প্রায় সময়ই নেকাব ও হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করে থাকে। টেলিভিশনের টকশোতে তারা হিজারধারী নারীদেরকে নিয়ে নানা রকম বাজে মন্তব্য করে থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো- এখন রাষ্ট্রের অভিভাবক শেখ হাসিনা নিজেও নেকাবধারী নারীদেরকে নিয়ে কটাক্ষ শুরু করেছেন। রোববার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা খুব তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাতে পায়ে মোজা পরা ও নেকাব দিয়ে চোখ-মুখ ঢেকে রাখা নারীদেরকে কটাক্ষ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে এসএ টিভির সিইও ও সারাবাংলা ডটনেটের সম্পাদক ইসতিয়াক রেজা প্রশ্ন করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আমাদের নারীদের বিরুদ্ধে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আস্তিক-নাস্তিক বিতর্ক সৃষ্টি করছে, ধর্মীয় সংঘাত ও সহিংসতা সৃষ্টি করছে। এদের ব্যাপারে আপনি কি ব্যবস্থা নেবেন এবং রাষ্ট্র কি ব্যবস্থা নিতে পারে?

জবাবে শেখ হাসিনা অনেক বয়ান করেছেন। হযরত খাদিজা ও আয়েশার জীবন কাহিনী বর্ণনা করেছেন। তারা নারী হয়েও যুদ্ধ করেছেন। ওই সময় নারীরা অনেক ক্ষমতাধর ছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নের বয়ান করলেন। বললেন- আমরা নারীদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন পাইলট আছে আমার নারী, আর্মি অফিসার আছে আমার নারী, মেজর আছে আমার নারী। আমি নারীদেরকে সবখানে তুলে নিয়ে আসছি। এটাই তাদের জবাব।

এরপর কয়েক সেকেন্ড বিরতির পর ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দাঁড়ালেন প্রশ্ন করতে। ওই সময় শেখ হাসিনা নারীদের প্রসঙ্গে আবার বললেন, হাত মোজা, পা মোজা, নাক-চোখ ঢাইক্কা এটা কি? জীবন্ত tent (তাবু) হয়ে ঘুরে বেড়ানো এটারতো কোনো মানে হয় না।

সচেতন মানুষও মনে করছেন, শেখ হাসিনা এখানে সরাসরি নেকাব ও হিজাবধারী নারীদেরকে অপমান করেছেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী পোশাক পরার অধিকার একজন মুসলিম নারীর আছে। কিন্তু শেখ হাসিনা একটি মুসলিম দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে হাত মোজা, পা মোজা ও নেকাব পরিধান করে নাক-চোখ ঢেকে রাখাকে তাচ্ছিল্য করতে পারেন না। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশের মুসলিম নারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।

ভিডিওঃ  ‘এবার নারীদের মোজা ও নেকাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করলেন শেখ হাসিনা! ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here