ওবায়দুল কাদেরের ‘স্বস্তির ঈদে’ সড়কে ৫৪ মৃত্যু!

0
540

ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ আগ থেকেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দাবি করে আসছেন যে এবারের ঈদ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদ। ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়ি যাবেন এবং যাত্রায় কোনো প্রকার যানজট হবে না বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

কিন্তু ঈদ যাত্রার বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। শেষদিকে এসে রাস্তায় যানজটের পাশাপাশি এবারের ঈদ যাত্রায় ৫ দিনে সারাদেশে কমপক্ষে ৫৪ জন নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ঈদের দুই দিন আগ থেকেই মানুষ বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ে। সোমবার কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের গাড়ি চাপায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ৩ জন নারী পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। একই দিন সাভারের ধামরাইয়ে দুইটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছে আরও ৪ জন। ওই দিন মোট নিহত হয়েছে ৭ জন।

এরপর, ঈদের আগের দিন মঙ্গলবারে নারায়ণগঞ্জ, সিরাজগঞ্জে, নাটোর ও সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ৪৬ জন।

এরপর, ঈদের দিন বুধবার ফরিদপুর, লালমনিরহাট, সাভার ও ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩০ জন।

তারপর, ঈদের পরের দিন বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, কুমিল্লা, ভোলা ও লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২৫ জন।

এছাড়া, ঈদের তৃতীয় দিন শুক্রবার মাগুরা, নড়াইল, কক্সবাজার, বগুড়া, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া ও কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

অপরদিকে, ওবায়দুল কাদের স্বস্তির গান গাইলেও বাস্তবে রাস্তায় যানজট ছিল প্রচণ্ড। দেখা গেছে, যানজটে আটকা পড়ে টাঙ্গাইলে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ডিসি ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। যানজটের কারণে এটাই মনে হয় ইতিহাসের প্রথম গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা।

তারপর, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুতে যানজট ছিল প্রচণ্ড। দেখা গেছে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে সড়কের অপর পাশে ক্রিকেট খেলেছে।

আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় ছিল, যানজটে আটকা পড়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্ত্বরে একজন নারী রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন। এমন ঘটনা বাংলাদেশে আগে কখনো ঘটেনি। এছাড়া অতি যানজটের কারণে ঈদে ঘরমুখো মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে রাস্তায় আগুন দিয়ে বিক্ষোভ পর্যন্ত করেছে।

কিন্তু, এরপরও ওবায়দুল কাদের তার দপ্তরে বসে বসে দাবি করছেন যে, এবার তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা উপহার দিয়েছেন।

এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে যে, ঈদ যাত্রায় ৫৪ জন নারী-পুরুষ ও শিশু সড়কে প্রাণ হারানোর পরও যদি এবারের ঈদ স্বস্তিদায়ক হয়, তাহলে কত মানুষ মরলে ওবায়দুল কাদের এটাকে অস্বস্তিকর বলবেন? সড়কে এতগুলো মানুষ মারা গেল। এরপরও কি ওবায়দুল কাদের তার ব্যর্থতা স্বীকার করবেন না?

উৎসঃ ‌‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌নবদম্পতির মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু!


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবুর বিরুদ্ধে নব দম্পতিকে মারধর করে মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনতায়ের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ফরদাবাদ গ্রামের কলেজ পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় শনিবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহম্মেদের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও আহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মীর মাসুদুর রহমান ফরদাবাদ গ্রাম থেকে স্ত্রী সামিনূর নাহার ও শ্যালিকা রাশমি আক্তারকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে পূর্বহাটি থেকে ভুরভুরিয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

কিছু দূর যেতেই ফরদাবাদ কলেজপাড়া এলাকার রাস্তায় ৮-১০ জন নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু তাদের পথরোধ করেন।

এক পর্যায়ে কোনো কারণ ছাড়াই অটোরিকশা থেকে মীর মাসুদুর রহমানকে নামিয়ে মারধর শুরু করেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও তার অনুসারীরা। সেই সময় স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে স্ত্রী সামিনূর নাহারকেও মারধর করেন তারা। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা রাশমি আক্তারকে মারধর করেন ছাত্রলীগের সভাপতি বাবু ও তার অনুসারীরা।

তারা সামিনূর নাহারের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, গলায় থাকা স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে ফরদাবাদ বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের পূর্বহাটি গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়েজামাতা মীর মাসুদুর রহমান জানান, শুক্রবার বিকালে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়ে ওয়াই সেতু যাওয়ার পথে ফরদাবাদ কলেজপাড়া এলাকায় পৌঁছানোর পর নূর মোহাম্মদসহ ৮-১০ জনজন ছেলে আমার নাম জিজ্ঞেস করে। নাম বলার পর আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে। পরে স্ত্রী ও শ্যালিকাকে মারধর শুরু করেন।

তিনি বলেন, কেন আমাদের ওপর হামলা করেছে, বুঝতেই পারছি না।

ফরদাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আজিজ জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি বাবুর নেতৃত্বে নব দম্পতিকে মারধর করে তাদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। এই ধরনের ঘটনা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে। দলীয়ভাবে বিষয়টি আমরা তদন্ত করে উপজেলা সভাপতির কাছে প্রতিবেদন জমা দিব।

এবিষয়ে ফরদাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বাবু বলেন, ওই ছেলেটার (মীর মাসুদুর রহমান) সঙ্গে এলাকার কিছু ছেলের পূর্বের ঘটনার জের ধরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আমার বিরুদ্ধে তার এবং তার স্ত্রীর চেইন ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা সঠিক না।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল আহমেদ জানান, বিষয়টি আমরা শুনেছি। জেলা সভাপতির নির্দেশে আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেলে ছাত্রলীগ নেতার বিরদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, নব দম্পতিকে মারধর করে মোবাইল ও চেন ছিনিয়ে নেয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে কেউ যদি অভিযোগ করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা রোববার শপথ নেবেন


বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে রোববার (৯ জুন) শপথ বাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী।

জাতীয় সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় রুমিনকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন স্পিকার।

এর আগে ২৮ মে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির যুগ্ম-সচিব মো. আবুল কাসেম। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন বিএনপির সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সাতটি আসনে জয় লাভ করে। কিন্তু দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকি সবাই শপথ নিয়ে সংসদে গেছেন। এ ক্ষেত্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, দলটিকে একটি আসন বণ্টন করে দিয়ে নির্বাচনের তফসিল দেয় ইসি।

টেলিভিশন টকশোর পরিচিত মুখ হিসেবেই ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পরিচিত। একাদশ জাতীয় সংসদের আগে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উকিল আবদুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

নিজ এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিতি না থাকলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার পরিচিতি বেশ। কারণ বিভিন্ন সময় তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় দ্রুত পরিচিতি পান এই নেত্রী। বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন দলীয় বক্তব্য জাতিকে জানাতে সংসদে কার্যক্রর ভূমিকা রাখতে পারবেন রুমিন ফারহানা।

উৎসঃ ‌‌‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌নাসিরনগরে ভিজিএফের ছয় হাজার কেজি চালসহ আটক ৩


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ট্রাকভর্তি প্রায় ৬ হাজার কেজি চাল জব্দসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের নূরপুর সড়ক বাজার থেকে এসব চাল জব্দ করা হয়। তবে এসব চালের দায় নিচ্ছেন না কেউই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জব্দ হওয়া এসব চাল ভিজিএফের। গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদ ঈদের আগে অসহায় ও হতদরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণে অনিয়ম করেছেন। তবে পুলিশ ও খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, চালের বস্তায় সরকারি দপ্তরের কোনো মোহর নেই।

আটক ব্যক্তিরা হলেন গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদের চাচাতো ভাই নূরপুর গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে মো. আলাউদ্দিন (৪৫), একই ইউনিয়নের পাঠানিশা গ্রামের জেরবাজ খাঁর ছেলে ট্রাকচালক মিজান মিয়া (৩৮) ও নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা ট্রাকচালকের সহযোগী মাসুক মিয়া (২২)।

গোকর্ণ ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আলী জাহান বলেন, ‘রাতে চোরাই পথে পাচারের সময় ট্রাকভর্তি ভিজিএফের চালসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে শুনেছি। থানায় আটক ট্রাকচালক ও ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই চাল ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এগুলো ভিজিএফের চাল বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তবে তাঁরা এসব চাল উপকারভোগী হতদরিদ্রদের কাছ থেকে কিনেছেন। কী পরিমাণ কিনেছেন, তা তাঁরা বলেননি।’

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত নয়টার দিকে নাসিরনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পংকজ দেবনাথের নেতৃত্বে তিন ব্যক্তিসহ ওই চাল জব্দ করে পুলিশ। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজিদুর রহমান জব্দ করা চাল, ট্রাক ও আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে আসেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ট্রাকে ১৪৯ বস্তা চাল আছে। প্রতি বস্তায় চালের পরিমাণ ৪০-৪৫ কেজি। আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সামিউল আলিম, গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলী জাহানসহ স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এসব চাল ভিজিএফের কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হয়।

গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের সহায়তা কর্মসূচির (ভিজিএফ) আওতায় ১ হাজার ৭৫০ জনের জন্য ২৪ টন চাল বরাদ্দ পায় এই ইউপি। উপকারভোগীদের প্রত্যেকে ১৫ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু চাল বিতরণের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্তৃক সংযুক্তকারী কর্মকর্তার (ট্যাগ অফিসার) উপসহকারী প্রকৌশলী ইছাক মিয়া উপস্থিত ছিলেন না।

গোকর্ণ ইউনিয়নের অন্তত ১৫-২০ জন হতদরিদ্র জানান, ঈদুল ফিতরের ভিজিএফের চাল বিতরণে চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদ অনিয়ম করেছেন। ১৫ কেজি করে দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা ৭ থেকে ১০ কেজি করে চাল পেয়েছেন।

ইউপি সদস্য আলী জাহান বলেন, ‘ভিজিএফের চাল বিতরণের জন্য আমি ৯০ জন হতদরিদ্রের নাম দিয়েছিলাম। তাঁরা চাল পেয়ে অভিযোগ করেছেন, ১৫ কেজির স্থলে তাঁদের ৭ থেকে ৮ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।’

৩ ও ৪ জুন ভিজিএফের চাল পেয়েছেন এমন ১৫ থেকে ২০ জন জানান, চাল পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরের একটি দোকানে তাঁরা তা ওজন দিয়ে দেখেছেন। এতে তাঁরা ১৫ কেজির স্থলে সর্বোচ্চ ১০ কেজি চাল পেয়েছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ৭ কেজি।

নাসিরনগরের ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সামিউল আলিম বলেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত কোনো বস্তা পাওয়া যায়নি। তাই এ নিয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না। চালগুলো সরকারি কি না বা ভিজিএফের কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।’ প্রতি বস্তায় ৪০-৪৫ কেজি চাল রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এখানে প্রায় ৬ হাজার কেজি চাল রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদ অসহায়দের মধ্যে বিতরণের জন্য ভিজিএফের ২৬ হাজার ২৫০ কেজি (প্রায় ২৬.২৫০ টন) চাল বরাদ্দ পেয়েছিলেন।

শনিবার একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোন না ধরায় গোকর্ণ ইউপির চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঈদের আগে তিনি জানিয়েছিলেন, চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি। এসব অভিযোগ মিথ্যা। সব চাল বিতরণ হয়েছে। সবাইকে ১৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সবাই চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ট্রাকভর্তি ১৪৯ বস্তা চালসহ তিনজনকে আটক করেছি। ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার উপস্থিতিতে চালগুলো সরকারি কি না, যাচাই করেছি। জব্দকৃত চাল সরকারি ভিজিএফের চাল নয় বলে তিনি জানিয়েছেন। কারও কোনো অভিযোগ না থাকলে চালগুলো মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল কবির ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম জানান, চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তিনি এখনো জানতে পারেননি। তিনি বিস্তারিত জেনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

উৎসঃ ‌‌‌প্রথম আলো

আরও পড়ুনঃ ‌রাতের ভোটে কি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়, প্রশ্ন রিজভীর


‘বিএনপি বিদেশে দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে’- ফিনল্যান্ডে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া এ বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, দেশে মধ্যরাতে নির্বাচন হয়, ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে ১৫৩ আসনে ক্ষমতাসীনরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়, তাতে কি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে?

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় রিজভী বলেন, দেশ-বিদেশের সবাই জানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কীভাবে বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচনকে নিরুদ্দেশ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিংসা-প্রতিহিংসার ছোবলে গণতন্ত্রের শাশ্বত বাণী মত-পথ ও আদর্শের ভিন্নতার মধ্যে ঐক্যের মিলিত সুরকে ক্ষতবিক্ষত করেছেন। তিনি দেশকে চিরস্থায়ী বিভেদ-বিভাজনের সর্বনাশা নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এর একটি ভয়ঙ্কর উদাহরণ- রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হওয়ার কারণে দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছেন। সত্তোরোর্ধ অসুস্থ একজন নারীকে আজ কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। ঈদের দিনেও তার মুক্তি মেলেনি।

ঈদের রাতে পুরান ঢাকার জাহাজবাড়ি ভেঙে ফেলার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, ঈদের রাতে ভেঙে ফেলা হলো পুরান ঢাকার জাহাজবাড়ি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিম লোকজন দিয়ে ঈদের রাতে হঠাৎ চকবাজারের এই ভবন ভেঙে ফেলেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে। এ বাড়িটি একটি ঐতিহ্য। শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। হাইকোর্টেরও নিষেধাজ্ঞা ছিল। তার পরও আওয়ামী দখলদারির হাত থেকে এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি রেহাই পেল না। এ ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো, আওয়ামী লীগ মূলত এখন ‘দখল লীগ’-এ পরিণত হয়েছে।

বিএসএমএমইউ হাসপাতাল থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বোমা উদ্ধারের ঘটনায় সেখানে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। আমি আজকে আবারও বোমা উদ্ধারের ওই রহস্যজনক ঘটনায় দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশঃ ফ্রিডম হাউস-এর প্রতিবেদন


বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত বাড়ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ফ্রিডম হাউস। সংস্থাটি তাদের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার এ তালিকায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতিবাচক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

বিজনেস ইনসাইডার জানায়, গণতন্ত্রের জন্য নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোতেও গণমাধ্যম তার মতপ্রকাশে বাধার মুখে পড়ছে।

‘কোনো সমালোচনা দেখা দিলে তাকে থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে’।

ফ্রিডম হাউসের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকার কথা, তারা উল্টো নিজেদের বিরুদ্ধে কিছু প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন এবং নিজেদের পক্ষে খবর প্রকাশে সুবিধা দিচ্ছেন।

চীন, রাশিয়া, সৌদি আরবকে রাখা হয়েছে গণমাধ্যমের জন্য সবচেয়ে খারাপ দেশের তালিকায়। ভারত, পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের তুলনায় ভালো বলে দেখানো হয়।

বাংলাদেশের তালিকায় আরো রয়েছে, কঙ্গো, কিউবা, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ।

উৎসঃ ‌‌‌ফ্রিডম হাউস-এর প্রতিবেদন

আরও পড়ুনঃ ‌একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে পর্যাপ্ত অভিযোগ আছে


বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও ‘সংকুচিত গণতান্ত্রিক’ পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি বলেছে, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে পর্যাপ্ত একাধিক অভিযোগ আছে।’ যুক্তরাজ্য সরকারের ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি রিপোর্ট ২০১৮’-এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের বিদেশ ও কমনওয়েলথ কার্যালয় থেকে আজ বৃহস্পতিবার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের মানবাধিকারের সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক—যুক্তরাজ্য দৃঢ় ও স্বচ্ছভাবেই এটা প্রত্যাশা করেছিল। গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তা সহায়তা করবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সব বিরোধী দলের এ নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। নির্বাচনের সময় গ্রেপ্তারসহ নানা রকম বাধা তৈরি করা হয়েছিল। যার কারণে বিরোধী দলগুলোর নির্বাচনী প্রচারণা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের দিনে নানা রকম অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ আছে। যার ফলে অনেকেই ভোট দিতে পারেননি।’

নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট যত রকমের অভিযোগ রয়েছে, তার সব কটির গ্রহণযোগ্য সমাধানের জন্য বাংলাদেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য।

গতকাল ডয়চে ভেলের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, নির্বাচন ইস্যু ‘ডান অ্যান্ড ডাস্টেড’। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ধুলোয় মিশে গেছে, এ আলোচনা শেষ৷ এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে এখন আর কোনো আলোচনা করার সুযোগ নেই৷

যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গেল বছর বাংলাদেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়। এ ছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও কমেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ৫৪ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরগুলোর অবস্থা উন্নত হয়েছে। যদিও আশ্রয়শিবিরে যৌন হয়রানি, মানব পাচার, অপরাধমূলক কাজসহ নারী-পুরুষের মৌলিক সেবাগুলো এখনো ঝুঁকির মুখে রয়ে গেছে।

ওই প্রতিবেদনে জাতিসংঘের সংস্থা ও এনজিওদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অতিরিক্ত সাত কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মোট অর্থের পরিমাণ ১২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।।

উৎসঃ ‌‌‌পালাবদল

আরও পড়ুনঃ ‌পদ্মার মা ইলিশ সরিয়ে নিতে ভারতের নতুন ষড়যন্ত্র!


বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ যেন সাঁতার কেটে ভারতের এলাহবাদ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে সেজন্য ফারাক্কা বাঁধের স্লুইট গেটগুলো খোলা রাখার ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফারাক্কা বাঁধের স্লুইস গেটগুলো প্রত্যেকদিন চার ঘণ্টা আরো ওপরে তুলে রাখা হবে।

ইলিশ যাতে অবাধে ভারতের এলাহাবাদে ঢুকতে পারে সে লক্ষ্যে নেয়া এ সিদ্ধান্ত চলতি বছরের জুন থেকে কার্যকর হবে। প্রত্যেক বছর ডিম ছাড়ার মৌসুমে (জুন মাসে) সমুদ্রের লোনা পানি থেকে বাংলাদেশের নদীগুলোতে উঠে আসে মা ইলিশ।

ফারাক্কা বাঁধের নেভিগেশন লকের কারণে বাঁধ পার হয়ে ভারতের দিকে যেতে পারতো না ইলিশ। ফলে বাংলাদেশের ভেতরেই ইলিশ অবাধ চলাচল করে।

গঙ্গার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পানি সম্পদ মন্ত্রী নিতীন গাদকরী। ইলিশ যেন সহজেই ফারাক্কা পার হয়ে উজানের দিকে এলাহাবাদে ঢুকতে পারে সেজন্য নেভিগেশন লকের ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে।

ভারতীয় নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভাইস চেয়ারম্যান প্রবীর পাণ্ডে বলেছেন, প্রত্যেকদিন রাত ১টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত গেটগুলো খুলে রাখা হবে। কারণ এই সময়েই ইলিশ চলাচল করে।

দেশটির নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভারতে ইলিশ বেশি পরিমাণে পাওয়া যাবে।

উৎসঃ ‌‌‌sangbad247

আরও পড়ুনঃ ‌গণতন্ত্রের স্বার্থে নতুন করে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে: মির্জা ফখরুল ইসলাম


দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের স্বার্থে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অবিলম্বে এই নির্বাচন বাতিল করে নতুন নির্বাচন দিতে হবে।

শনিবার বিকালে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন চত্বরে গাজীপুর মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম মৃত্যু বার্ষিকী ও ইফতার পূর্ব আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আলমগীর বলেন, নতুন নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকার অর্থাৎ একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। যারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। আর সেই নির্বাচনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে।

মির্জা আলমগীর বলেন, আমাদের দেশের ষোলো কোটি মানুষের নেত্রী, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখন কারারুদ্ধ। কারাগারে বসেই তিনি প্রতি মুহূর্তে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তিনি প্রতি সপ্তাহে শুধু একটি ম্যাসেজই পাঠান- দলকে যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ রাখুন। আমরা এ পর্যন্ত যতগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা-পরামর্শ করেই নিয়েছি। এমপিদের শপথ নেয়া এবং আমার শপথ না নেয়া সবই দলীয় সিদ্ধান্ত। আমাদের এমপিগণ সংসদে গিয়ে দেশনেত্রীর মুক্তির কথা বলবে। সারাদেশের মানুষ ও বিশ্বে মানুষ তাদের কথা শুনবে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দূর করেন। যারা অভিমান করে দূরে সরে আছেন, তাদের কাছে টেনে নেন। তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে এক হউন। এটা আমাদের জনগণের দাবি। কোটি কোটি নেতাকর্মীদের দাবি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দাবি। খালেদা জিয়াকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক করে রাখা হচ্ছে। তাকে মুক্ত করতে হবে, গণতন্তকে মুক্ত করতে হবে। আর দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হলে আমাদের সংগঠনকে শক্তিশালী করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্যে আসুন আমরা সবার আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলি।

তিনি আরো বলেন, মনের মধ্যে যে ব্যাথা বেদনা আছে তা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। আমাদের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। দেশকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপির কোনো সংকট নেই, এই সংকট হচ্ছে জাতির, বাংলাদেশের। আজকে যদি এ সংকট থেকে উত্তরণ করতে না পারি বাংলাদেশ থাকবে না, দেশের গণতন্ত্র থাকবে না। সুতরাং দেশ ও জাতির স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে আজকে নতুন নির্বাচন দেয়া, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়া এখন একমাত্র কর্তব্য। আর এটাই আমাদের দাবি।

গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি হাসান উদ্দিন সরকারের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহরাব উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় সদস্য মো. মজিবুর রহমান, ডা. মাজহারুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শাহ মো. রিয়াজুল হান্নান, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আফজাল হোসেন কায়সার, মো. শহীদ উজ্জামান, আহম্মদ আলী রুশদী, আজিজুর রহমান পেরা, বশির আহমেদ বাচ্চু, কাউন্সিলর হাসান আজমল ভূইয়া প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌‌justnewsbd

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here