যে কারণে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করালো ইকুয়েডর (ভিডিওসহ )

0
256

গোপন দলিলপত্র ফাঁস করে দিয়ে আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ব্রিটেনের পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত সাত বছর ধরে ইকুয়েডরে রাজনৈতিক পুনর্বাসনে ছিলেন অ্যাসাঞ্জ।

বৃহস্পতিবার হঠাৎ তার মাথার ওপর থেকে হাত তুলে নেয় ইকুয়েডর। ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফাল করিয়ার চোখে ‘হিরো’ হয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ।

কিন্তু ২০১৭ সালে লেনিন মোরেনো ইকুয়েডরের ক্ষমতায় আসার পর থেকে সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে অ্যাসাঞ্জের।

বিভিন্ন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে বেনামে ওয়েবসাইট চালানোর অভিযোগ তুলেছে মোরেনো সরকার।

ভিডিওঃ  ‘যে কারণে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করালো ইকুয়েডর (ভিডিওসহ ) ’


[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

অভিযোগ উঠে, মোরেনোর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে নানা তথ্য প্রকাশ করা হয় ওই বেনামী ওয়েবসাইটে। সেখানে ‘আইএনএ পেপার্স’ নামে একটি নথি প্রকাশিত হয়। যেখানে জানানো হয় যে, অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে মোরেনোর ভাই ও পরিবার ইউরোপে বিলাসবহুল জীবনযাপন কাটিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, সেই নথিতে মোরেনো ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত ছবিও ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এতে অ্যাসাঞ্জের ওপর ক্ষেপে যান মোরেনো। তিনি তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও ছবি হ্যাক করার অধিকার কে দিয়েছে প্রশ্ন ছুড়েন অ্যাসাঞ্জকে।

মোরেনোর এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে উইকিলিকস। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি। এতে অ্যাসাঞ্জকে দেয়া আশ্রয় প্রত্যাহার করে নেয় ইকুয়েডর সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোরেনোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের সন্দেহে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইকুয়েডর সরকার।

এদিকে আটক করার পর জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হচ্ছে। কম্পিউটার হ্যাক করার ষড়যন্ত্রের মামলায় সেখানে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক এবং কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন।

২০০৬ সালে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে অ্যাসাঞ্জ ওয়েবসাইট উইকিলিকস চালু করেন। ২০১০ সালে উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়।

সুইডেনে তার বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জামিনে থাকার সময় ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসটিতে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন অ্যাসাঞ্জ।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অন্ধকার মুহূর্ত: স্নোডেন


উইকিলিকসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য একটি অন্ধকার মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোপন তথ্য ফাঁস করে রাশিয়ার মস্কোতে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে থাকা দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ।

এক টুইটবার্তায় স্নোডেন লিখেছেন- যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ইকুয়েডর রাষ্ট্রদূত তার দূতাবাসে ইউকে সিক্রেট পুলিশ দলকে ডেকে এনে একজন ….প্রকাশকারী… বা সেটি হোক বা না হোক… সাংবাদিকতায় পুরস্কারজয়ী একজনকে ধরিয়ে দেয়ার ছবিগুলো শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের পাতায় স্থান নিতে যাচ্ছে।

অ্যাসাঞ্জের সমালোচনাকারীরা আনন্দিত হতে পারেন, কিন্তু এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য একটি অন্ধকার মুহূর্ত, লেখেন তিনি।

প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে গ্রেফতার হন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ।

সাত বছর ধরে তিনি এ দূতাবাসে ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক এবং কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন বারবার লঙ্ঘন করায় অ্যাসাঞ্জকে দেয়া আশ্রয় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

তবে উইকিলিকসের পক্ষ থেকে এক টুইটবার্তায় বলা হয়- ইকুয়েডর ‘আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে’ অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় খারিজ করে দিয়ে বেআইনি কাজ করেছে।

২০০৬ সালে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে অ্যাসাঞ্জ ওয়েবসাইট উইকিলিকস চালু করেন। ২০১০ সালে উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ওমর আল বশিরের ৩০ বছরের শাসনের অবসানে জয়, কিন্তু এখন আতঙ্কে রুপ নিয়েছে


উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের ৩০ বছরের শাসনের অবসানে জয় হয়েছে জনগণের। কিন্তু সেই জয় এখন আতঙ্কে রুপ নিয়েছে।

কারণ গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে সুদানের রাজধানী খারতুমসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন সুদানের হাজার হাজার নাগরিক। এ নিয়ে দেশটির পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বিক্ষোভে সেখানে অন্তত ৬০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানায় ভয়েস অব আমেরিকা।

এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে।

সুদানের এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে আছেন দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমেদ আওয়াদ ইবনে অওফ।

তবে সেই জয় নিমিষেই হারিয়ে গিয়ে ভয়ে পরিণত হয়েছে। কারণ সামরিক পরিষদ সরকারব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে দেশটির সংবিধান স্থগিত করেছে। তারা দেশটিতে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি করেছে। খবর সিএনএনের।

সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষমতার পালাবদল তত্ত্বাবধান করতে অন্তত দুই বছর তারা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

এতে বিক্ষোভকারী এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নতুন করে হতাশায় ফেলে দিয়েছে। কারণ এখন এটি সত্য যে, দেশটিতে তাড়াতাড়ি আর নির্বাচন হতে যাচ্ছে না।

এক বিবৃতিতে আফ্রিকান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, সুদান এবং তার মানুষের জন্য একটি সামরিক অভ্যুত্থান কোনো উপযুক্ত সমাধান নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সুদান আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। এই চুক্তির আওতায় দেশটিতে সরকারের কোনো অসাংবিধানিক পরিবর্তনকে দৃঢ়ভাবে নিন্দা করে। পাশাপাশি আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক নীতি ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রের কাছে দেশটি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এদিকে বৃহস্পতিবার ক্ষমতার পালাবদলে আরও ফুঁসে উঠেছে দেশটির জনগণ। দেশটির রাজধানী খারতুমে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্বদানকারী সুদানিজ প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন (এসপিএ) এই অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করে। এ সময় তারা মিলিটারি বাহিনীর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এসে বিক্ষোভ করেন।

তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশটির ক্ষমতা বেসামরিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানায়।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌মুসলিমদের হত্যা করতে গিয়ে যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করলেন মার্কিন মেরিন সেনা


ওয়াশিংটন: ইসলাম ধর্মকে চূড়ান্ত ভাবে ঘৃণা কারী একজন সম্ভাব্য উগ্র খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে বার্তা সংস্থা দি সানডে প্রোজেক্টের বরাত দিয়ে জানা যাচ্ছে।

রিচার্ড ম্যাকিনে নামের ওই লোক একজন অবসর প্রাপ্ত মেরিন সেনা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা রাজ্যে কর্মরত ছিলেন। তিনি নৌ বাহিনীতে কর্মরত থাকার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে যতজন নিরীহ লোকজন হত্যা করেছেন তাদের সঠিক সংখ্যা জেনে ভীত হয়ে পড়েন।

চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর তিনি ঘরে ফিরে আসেন এবং তার এলকোহল সেবনের অভ্যাস পরিত্যাগ করার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালান। তখনও তিনি মুসলিমদের সম্পর্কে মনের গভীরে ঘৃণা পোষণ করতেন।

তিনি স্মৃতি চারণ করে বলেন, একদিন তিনি তার স্ত্রীর সাথে স্থানীয় একটি রাজপথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং একটি দোকানের সামনে কালো বোরকা পরিহিত দুজন নারী দেখতে পান।

তিনি বলেন, ‘এ দৃশ্য দেখে আমি ঘৃণায় রাগান্বিত হয়ে পড়ি এবং বোরকা পরিহিত দুজন নারীর নাকে ঘুষি দিয়ে তাদের নাক ভেঙ্গে দিতে চেয়েছিলাম।’

যদিও তিনি তা করেন নি কিন্তু এর চাইতেও জঘন্য একটি পরিকল্পনা তার মনে খেলে যায়। তিনি নিজের গৃহে ফিরে গিয়ে ঘরে বসে একটি বোমা বানাবেন এবং তা ‘Muncie’s Islamic Centre’ এর সদর দরজার নিকট পুঁতে দিবেন বলে মনে মনে পরিকল্পনা করেন।

বোমা পুঁতে দিয়ে তিনি নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে মুসলিমদের মৃত্যুর দৃশ্য অবলোকন করবেন বলে ঠিক করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমি অন্তত ২০০ জন মুসলিমকে হত্যা করবো বলে পরিকল্পনা করেছিলাম। ইসলাম সম্পর্কে আমার মনের তীব্র ঘৃণা আমাকে এ পথে ধাবিত করার জন্য উৎসাহ দিয়েছিল।’

কিন্তু এক পর্যায়ে রিচার্ড ম্যাকিনে মুসলিম সমাজকে আরো একটি সুযোগ দিতে চেয়েছিলেন। তিনি খোলা মনে স্থানীয় একটি ইসলামিক কেন্দ্রে ভ্রমণ করেন এবং সেখান গিয়ে তিনি পবিত্র কোরআনের একটি কপি উপহার পান আর তা নিজের সাথে করে ঘরে নিয়ে আসেন।

এর আট সপ্তাহ পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং এর কিছু বছর পর একসময় মুসলিমদের যেই কেন্দ্রটি বোমা মেরে উ

ড়িয়ে দিবেন বলে পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি বর্তমানে ঠিক সেই ইসলামিক কেন্দ্রটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বার্তা সংস্থা দি সানডে প্রোজেক্ট কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘একদিন আমি নিজের ঘরে মুসলিমদের সম্পর্কে ঘৃণা মূলক কিছু আলোচনা করছিলাম আর অন্য ধর্মের প্রতি আমার পুষে রাখা ঘৃণা দেখে আমার কন্যা আমার দিকে খুবই বাজে ভাবে তাকিয়েছিল।’

তার কন্যার এমন আচরণই তার হৃদয়ের পরিবর্তনে সহায়তা করেছিল বলে তিনি জানান।

তিনি জানান, তিনি নিজের অতীতে তার মধ্যে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা চালিয়ে ৫০ জন মুসলিম হত্যাকারী ব্রেন্ডন টারান্ট কে দেখতে পেয়েছিলেন।

রিচার্ড ম্যাকিনে বলেন, ‘যে ব্যক্তি অপরাধ করার জন্য উদগ্রীব ছিল, যে ব্যক্তি নিরীহ মানুষদের হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল সে মূলত আমিই ছিলাম। ব্রেন্ডন টারান্ট এবং আমি আসলে একই ব্যক্তিই ছিলাম। যখন সে মসজিদের দরজায় কড়া নাড়ছিল তখন সে থামেনি এবং চিন্তা করে দেখেনি। আর যখন আমি ইসলামিক কেন্দ্রে যাই এবং হাসি মুখের সম্ভাষণ দেখতে পাই তখন আপনা আপনি ভাবেই আমি নিজেকে উষ্ণ সম্বর্ধনার সাথে জড়িত করি। এটি আমার মনকে খুলে দিয়েছিল এবং আমি আসলে সত্য অনুধাবন করতে শুরু করেছিলাম।’

উৎসঃ ‌নিউজ ডট কম ডট এইউ।

আরও পড়ুনঃ ‌ক্রাইস্টাচার্চের মুসল্লিকে সন্ত্রাসী বলে খিস্তি, ট্রাম্প ভক্ত গ্রেফতার


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদের বাইরে এক মুসল্লিকে গালাগাল করার দায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত মাসে দুটি মসজিদে এক অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির এলোপাতাড়ি গুলিতে অর্ধশত মুসল্লি নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার আল নুর মসজিদের বাইরে এক মুসলমানকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে গালাগাল করছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ড্যানিয়াল নিকোলাস তাওপাওয়া। এতে সেখানকার মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়।

সব মুসলমানই সন্ত্রাসী বলে খিস্তিখেউড় করছিলেন তিনি।

ক্যান্টাবুরি পুলিশের কমান্ডার সুপারিন্টেনডেন্ট জন প্রাইস বলেন, কেবল পরিচয়ের কারণে কাউকে টার্গেট কিংবা অন্যায় আচরণ করলে আমাদের সম্প্রদায় তা সহ্য করবে না। পুলিশও তাকে ছাড় দেবে না।

তিনি বলেন, আর মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য বিষয়টি একেবারে বিশেষ। কারণ তারা ইতিমধ্যে একটি ভয়ঙ্কর অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছেন।

শক্তপোক্ত শরীরের কালো চুলের ঘাড়ে ও কাঁধে ট্যাটু করা এক ব্যক্তি মসজিদের বিপরীতে পার্কে হেঁটে গিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কিন্তু পরে তাকে আটক করা হয়েছে।

পরবর্তী সময় তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেও এ ব্যাপারে কিছু মনে করতে পারছেন না। কিন্তু পুলিশ তাকে ভিডিও দেখালে এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ অবশেষে গ্রেফতার


নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদের বাইরে এক মুসল্লিকে গালাগাল করার দায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত মাসে দুটি মসজিদে এক অস্ট্রেলীয় শ্বেতাঙ্গ জঙ্গির এলোপাতাড়ি গুলিতে অর্ধশত মুসল্লি নিহত হয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার আল নুর মসজিদের বাইরে এক মুসলমানকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে গালাগাল করছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ড্যানিয়াল নিকোলাস তাওপাওয়া। এতে সেখানকার মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়।

সব মুসলমানই সন্ত্রাসী বলেগোপন দলিলপত্র ফাঁস করে দিয়ে আলোচিত ওয়েবসাইট উইকিলিকসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ব্রিটেনের পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বৃহস্পতিবার লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইকুয়েডর সরকার আশ্রয় প্রত্যাহার করায় অবশেষে গ্রেফতার হলেন অ্যাসাঞ্জ।

সাত বছর ধরে তিনি এ দূতাবাসে ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন। খবর বিবিসি, এপি ও রয়টার্সের।

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো বলেছেন, আন্তর্জাতিক কনভেনশন বারবার লঙ্ঘন করায় অ্যাসাঞ্জকে দেয়া আশ্রয় প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

তবে উইকিলিকসের পক্ষ থেকে এক টুইটবার্তায় বলা হয়- ইকুয়েডর ‘আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে’ অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় খারিজ করে দিয়ে বেআইনি কাজ করেছে। লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জ সাত বছর ধরে লুকিয়েছিলেন।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা আরও জানান, ইকুয়েডর সরকার তার রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহারের পর ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত পুলিশকে দূতাবাসে ডেকে নেয়।

কারণ তার বিরুদ্ধে জারি করা পরোয়ানা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল পুলিশের। গোয়েন্দা পুলিশ স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূতের আহ্বানে তারা দূতাবাসে প্রবেশ করে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করেছেন।

তাকে এখন মধ্য লন্ডনের এক থানায় রাখা হয়েছে। এরপর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি উইকিলিকস ধরে ফেলার ঘোষণা দেয়ার পরদিন তার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেয়া হল। এদিকে ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতারের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে রুশ সম্প্রচারমাধ্যম আরটি। ভিডিওতে দেখা যায়, অ্যাসাঞ্জকে টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলছে লন্ডন পুলিশ। সে সময় অ্যাসাঞ্জকে চিৎকারও করতে দেখা যায়।

অ্যাসাঞ্জের গ্রেফতারের পর ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ টুইট করেছেন। টুইটে তিনি লেখেন- অ্যাসাঞ্জ পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে আমি নিশ্চিত করছি এবং ব্রিটেনে তিনি বিচারের মুখোমুখি হবেন।

২০০৬ সালে কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে অ্যাসাঞ্জ ওয়েবসাইট উইকিলিকস চালু করেন। ২০১০ সালে উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়। এ সাইটে অ্যাসাঞ্জ একের পর এক গোপন মার্কিন দলিলপত্র প্রকাশ করেন। এ কারণে বিব্রত যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর খুবই ক্রুদ্ধ হয়। ওই সব নথির মধ্যে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধসম্পর্কিত ৭৬ হাজার এবং ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত আরও ৪০ হাজার নথি ছিল।

এগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গ্রেফতার এড়াতে ২০১২ সালে তিনি লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন। সুইডেনের সেই মামলা খারিজ হলেও অ্যাসাঞ্জ ব্রিটিশ আইন ভাঙায় আবার গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে দূতাবাস থেকে বের হতে পারছিলেন না। তার যুক্তি ছিল- বাইরে বেরুলেই তাকে জোর করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেয়া হবে এবং যেখানে উইকিলিকসের প্রশ্নে তাকে জেরার মুখোমুখি হতে হবে। ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি ৪৭ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জকে নাগরিকত্ব দেয় ইকুয়েডর।

২০১৮ সালের জুনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুরক্ষার অবসান ঘটাতে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। অপরদিকে সম্প্রতি ইকুয়েডর অভিযোগ করে, দেশটির প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর ব্যক্তিগত নথি ফাঁস ও ছড়িয়ে দিচ্ছে উইকিলিকস। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঋণ মওকুফ চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মোরেনো।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পাকিস্তানের রাফাল প্রশিক্ষণের খবরে ভারতের আতংক!


কাতারের বিমানবাহিনীর কাছে থাকা রাফাল যুদ্ধবিমানের সাহায্যে পাকিস্তানের পাইলটরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০১৭ সালের নভেম্বরেই ফ্রান্সের মাটিতে চলেছিল এ প্রশিক্ষণ। এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর ভারতের উদ্বেগ বেড়েছে বলে জানায় দেশটির গণমাধ্যমগুলো।

ভারতীয় গণমাধ্যম এআইএন অনলাইন ডট কম নামের একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে কাতারের হয়ে যে পাইলটরা রাফাল বিমান ওড়ানোর প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা।’

ভারতের মতোই ফ্রান্সের কাছ থেকে রাফাল কিনতে চুক্তিবদ্ধ কাতার। রাফাল যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারক দাসোঁ অ্যাভিয়েশন। তাদের তথ্যানুযায়ী ২০১৫ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে ২৪টি যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে কাতার। ২০১৭ সালে কাতার আরও ১২টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে নতুন চুক্তি করে ফ্রান্সের সঙ্গে। প্রথম দফার ২৪টি যুদ্ধবিমানের জন্য চুক্তির অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

সেই যুদ্ধবিমান চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ নিতেই কাতার থেকে ফ্রান্সে গিয়েছিল পাইলটদের একটি দল। সেই দলেই ছিলেন পাকিস্তানি পাইলটরা, এমনটাই দাবি এআইএন অনলাইন ডট কমের।

পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকেন তাদের মধ্যে কাতারও আছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

অংশীদারি বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছ থেকে নানা ধরনের সামরিক সরঞ্জামও পেয়ে থাকে পাকিস্তান। জর্ডানের কাছ থেকে দেশটি ১৩টি এফ-১৬ এ/বি যুদ্ধবিমানও পেয়েছিল; ফেব্রুয়ারিতে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতের সঙ্গে পাল্টাপাল্টিতে পাকিস্তানের বিমানবাহিনী এসব বিমানের কয়েকটি ব্যবহার করেছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ফ্রান্সে কাতারি বিমানচালকদের প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়ে অবগত নন বলে জানিয়েছেন ভারতে অবস্থিত দাসোঁর কার্যালয়ের নির্বাহীরা।

২০১৫ সালে ফরাসি এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যে ২৪টি যুদ্ধবিমান কিনেছিল কাতার, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার প্রথম চলানটি সরবরাহ করা হয়েছে।

কাতার ২০১৭ সালে আরও ১২টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনতে দাসোঁর সঙ্গে চুক্তি করেছিল।

রাফাল যুদ্ধবিমান বিষয়ে পাকিস্তানিরা প্রশিক্ষণ পেলে তা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সমর বিশ্লেষকরা।

ভারতকে যেসব বিমান সরবরাহ করা হবে, সেগুলোতে অন্তত ১৪টি জায়গায় কাতারকে দেয়া রাফালের সঙ্গে পার্থক্য থাকলেও দুই সংস্করণের যুদ্ধবিমানেই একই রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা থাকছে।

রাফালের আরবিই-২ রাডার চালককে আকাশ, সমুদ্র কিংবা মাটিতে শত্রুপক্ষের একাধিক লক্ষ্যবস্তু ও পথ নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে স্পেকট্রা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা শত্রুপক্ষের বিমানগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের হুমকি নির্ণয়ে পারদর্শী।

পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা এসব প্রযুক্তি বিষয়ে জেনে থাকলে, সহজেই রাফালের আক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পারবে, বলছেন ভারতের বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা।

“কীভাবে এর অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কাজ করে, কীভাবে একে জ্যাম করে ঠেকিয়ে দেয়া যায় (প্রশিক্ষণ পেলে) সবই জানতে পারবেন তারা,” বলেছেন ভারতীয় বিমান বাহিনীর মিগ-২৭ যুদ্ধবিমানের সাবেক চালক অনশুমান মেইনকর।

কাতার এবং ভারত দুই দেশের রাফালেগুলোতেই আকাশ থেকে আকাশে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে ছোড়া যেতে পারে এমন ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত থাকবে। পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর চালকরা এ তথ্য জানতে পারলে স্বভাবতই ভারতীয় আক্রমণ ঠেকাতে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লার চেয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকবে,বলেছেন তিনি।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা রাফালে বিমানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কি না এ প্রসঙ্গে দাঁসোর কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সুদানে ক্ষমতা দখল করল সেনাবাহিনী, প্রেসিডেন্ট বশির গ্রেফতার


আফ্রিকার দেশ সুদানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে সেনাবাহিনী। ক্ষমতা দখলের পর দুই বছরের শাসন জারি করা হয়েছে।

গ্রেফতার করা হয়েছে সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে। ক্ষমতা দখলে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ ইবনে ইউসুফ।

তিনি বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দুই বছরের শাসন জারির বিষয়ে ঘোষণা দেন। নাইরেজিয়ার আবুজাভিত্তিক অনলাইন পত্রিকা প্রিমিয়াম টাইমস এ খবর দিয়েছে।

রয়টার্স ও বিবিসির খবরে জানা গেছে, উত্তর দারফুরের উৎপাদন ও অর্থনীতিমন্ত্রী আদেল মাহজুব হুসেইন দুবাইভিত্তিক আল হাদাত টেলিভিশনকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাশারকে সরানোর পর ক্ষমতা অর্পণের জন্য একটি সামরিক পরিষদ গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, সুদানের সূত্রগুলো আল হাদাতের প্রতিবেদনকে সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন। বশির কড়া পাহারার মধ্যে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সামরিক বাহিনী শিগগিরই একটি ঘোষণা দেবে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। রাজধানীর খার্তুমে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ঘোষণায় বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে শুধু বলা হয়, অল্পক্ষণের মধ্যেই সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ একটি বিবৃতি দেবে। এর জন্য প্রস্তুত থাকুন। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদিক জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে হাজার হাজার লোক জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করতে থাকায় সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী মন্ত্রণালয়টির চারদিকে এবং প্রধান সড়ক ও সেতুগুলোয় সেনা মোতায়েন করেছে। খার্তুমের হাজার হাজার বাসিন্দা রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে নেচে-গেয়ে বশিরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হওয়া প্রতিবাদকারীরা, ‘সরকারের পতন হয়েছে, আমরা জিতেছি’ বলে স্লোগান দিচ্ছে। সেনা সদর দফতরের পাশে অবস্থান নেয়া এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, ‘আমরা বড় খবরের অপেক্ষায় আছি। সেটি কী না জানা পর্যন্ত আমরা এখান থেকে নড়ব না। তবে বশিরকে সরতে হবে এটি আমরা জানি।’

এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত সম্প্রচার করা হচ্ছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ৩০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন ওমর আল বশির। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হয়ে উঠছিল।

তিন দশকের ক্ষমতার মেয়াদে প্রেসিডেন্ট বশির এই প্রথম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন।

চলতি সপ্তাহের প্রথমদিকে সৈন্যরা গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উর্দি পরা সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রাজধানী খার্তুমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হওয়া কয়েক হাজার সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টাকালে সেনা সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। মঙ্গলবারের ওই সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছয়জন।

উৎসঃ ‌আনাদলু, ইয়েনি শাফাক ও রয়টার্স।

আরও পড়ুনঃ ‌হিজাব পরিধান করায় মার্কিন মুসলিম নারী সেনাকে হেনস্থার অভিযোগ


ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো রাজ্যের কলোরাডো স্প্রিং শহরের ফোর্ট কার্সনে কর্মরত দেশটির সেনাবাহিনীর একজন মুসলিম নারী সৈনিককে তার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিজাব পরিধান করায় হেনস্থা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বার্তা সংস্থা আর্মি টাইমস এমন খবর দিয়েছে।

সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনসের নিযুক্ত আইনজীবী আর্মি টাইমসকে বলেন, তার মক্কেল যখন কর্নেল ডেভিড জিনের সঙ্গে দেখা করে সেনাবাহিনীতে নারী পুরুষ সমতার কথা আলোচনা করছিলেন ঠিক তখন সেখানে উপস্থিত কমান্ডার সার্জেন্ট মাজ ক্রিস্টিন মোন্টোয়া অভিযোগ করে বলেন যে, সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনস এমনভাবে হিজাব পরিধান করেন যার ফলে তার চুল ঢাকা থাকে।

কর্নেল ডেভিড জিন বলেন, তিনি সেনা আইনের মধ্যে এমন কিছু পান নি যা সম্পর্কে সার্জেন্ট মাজ ক্রিস্টিন মোন্টোয়া অভিযোগ করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘একজন কমান্ডার সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনসের এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ দায়ের করেছেন।’

‘তদন্তের ফলাফলে উঠে এসেছে যে, সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনস তার হিজাব এমনভাবে পরিধান করেছেন যাতে সেনা আইনের বিরোধিতা করা হয় এমন কিছু ঘটে নি।’

তথাপি, সার্জেন্ট চেসিলিয়া ভাল্ডোভিনস যিনি একজন মুসলিম, তিনি বলেন, তিনি সবসময় হিজাবের ভেতর তার চুল ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি আর্মি টাইমসকে বলেন, তার বিশ্বাস তার উপরস্থ কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে তাকে হেনস্থা করেছেন।

‘Military Religious Freedom Foundation’ নামের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মিকি ওয়েনস্টেইন যিনি ভাল্ডোভিনসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি আর্মি টাইমসকে বলেন, ‘এই বৈষম্য যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মানুষের মনে মুসলিম বিরোধিতার অন্যতম উদাহরণ।’

আর্মি টাইমস জানিয়েছেন যে, সেনা বাহিনীতে যোগ দেয়ার পূর্বে ভাল্ডোভিনসকে তার নিজের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরিধানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এধরনের অনুমতিতে সাধারণত হিজাব অন্তর্ভুক্ত থাকে যা ২০১৭ সালে দেয়া হয়েছিল।

কর্নেল ডেভিড জিন বলেন, তিনি সেনাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন।

তিনি আরো বলেন, ‘সেনাদের প্রতি অসম্মান, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং ধর্ম পালনের প্রতি অসম্মান হয় এমন অভিযোগ আমি সবসময় গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকি।’

তথাপি, ভাল্ডোভিনসের বলেন, তার প্রতি ক্রিস্টিন মোন্টোয়া যে বৈষম্য মূলক আচরণ করেছে সে সম্পর্কে কর্নেল ডেভিড জিন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

উৎসঃ ‌kdvr.com

আরও পড়ুনঃ ‌আসামে মুসলিম বৃদ্ধকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ (ভিডিওসহ )


ভারতের আসাম রাজ্যে গরুর মাংস বিক্রির অপরাধে ৭০ বছর বয়সী এক মুসলিম বৃদ্ধকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার আসামের বিশ্বনাথ জেলায় শওকত আলী নামে ওই বৃদ্ধকে নির্যাতন ও হেনস্তা করা হয়। খবর এনডিভির।

অমানবিক এ ঘটনার একটি ভিডিও অনলাইলে ভাইরাল হলে রাজ্যটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, বৃদ্ধ শওকত আলী কাদার মধ্যে হাঁটু গেড়ে বসে আছে। কয়েকজন লোক শওকতকে ঘিরে ধরেছে। তাকে তারা কয়েকটি প্রশ্নও জিজ্ঞাসা করছে।

ভিডিওঃ  ‘আসামে মুসলিম বৃদ্ধকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ (ভিডিওসহ ) ’

[সংবাদের ভিডিওটি দেখতে প্লে বাটনে ক্লিক করুন]

জানতে চাইছে, শওকত কি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন? তার গরুর মাংস বিক্রির লাইসেন্স আছে কি না এবং সে বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়েছে কি না।
এ সময় শওকত কাদার মধ্যে হাঁটু গেড়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য কাকুতি-মিনতি জানান।

এ ঘটনায় পৃথক দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বনাথ জেলা পুলিশ। এর মধ্যে একটি শওকত আলীর ভাইয়েরা মামলা দায়ের করেছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ভিডিওতে যাদের দেখা গেছে তাদের খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

উগ্রপন্থীদের আক্রমণে আহত শওকত আলীকে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে আসামের শাসক দল বিজেপি সোমবার লোকসভা নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ করেছে। সেখানে এনআরসি তালিকা তৈরির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

উৎসঃ ‌যুগান্তর

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here