জনসংখ্যার ভারসাম্য আনতেই ১০ লাখ অভিবাসী নেবে কানাডা!

0
552

কানাডা সরকার ১০ লাখ অভিবাসী নিচ্ছে। তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসেরও অনুমতি দেবে দেশটির সরকার।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগামী তিন বছরে কানাডায় ১০ লাখ অভিবাসী নেয়া হবে। এটি প্রতিবছর দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ শতাংশ।

এ প্রকল্পের আওতায় এ বছর তিন লাখ ৫০ হাজার লোক নেয়া হবে। এ ছাড়া ২০২০ সালে তিন লাখ ৬০ হাজার ও ২০২১ সালে তিন লাখ ৭০ হাজার লোক নেবে কানাডা সরকার।

কিন্তু যখন বিশ্বের অন্যান্য দেশ অভিবাসীনীতিতে কঠোর হতে শুরু করেছে, এ সময় কানাডার এমন উদারতার কারণ কী?

এ বিষয়ে কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক (আইআরসিসি) মন্ত্রী আহমেদ হোসেন বলেন, নতুন অভিবাসীদের কারণে কানাডার বয়স্ক জনগোষ্ঠী ও শিশু জন্মের পতনশীল হারের সঙ্গে একটি ভারসাম্য তৈরি হবে। এর সঙ্গে নতুন শ্রমিক পাওয়া যাবে।

অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ হোসেন ইতিমধ্যে নতুন অভিবাসীদের আগাম স্বাগত জানিয়েছেন।

এ ছাড়া আমি নিজেও সোমালিয়া থেকে আসা একজন অভিবাসী, বলেন মন্ত্রী।

এর আগে ২০১৭ সালে দুই লাখ ৮৬ হাজারের বেশি লোককে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে কানাডা সরকার।

সুত্রঃ ‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ নাগরিকত্বের শর্ত শিথিলঃ ৩ বছরে ১০ লাখ শ্রমিক নেবে কানাডা! যেতে পারেন আপনিও

আগের তুলনায় কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ করা হয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ ১০ লাখ দক্ষ শ্রমিক নেবে কানাডা। এসব শ্রমিক স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাস, কাজ করার অনুমতি ও নাগরিকত্ব পাবেন।

সম্প্রতি কানাডার ইমিগ্রেশন মন্ত্রী আহমেদ হুসেন এ খবর দিয়েছেন। হাই স্কিল্ড, ফ্যামিলি মাইগ্রেশন, ট্রেড স্কিল্ডসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৬০ রকমের প্রোগ্রামের আওতায় এসব লোকজন নেওয়া হবে।

২০১৯ সালে কানাডায় অভিবাসনের সিআরএস (আবেদনের যোগ্যতা) পয়েন্টের নিম্নমুখী স্কোরের প্রবণতা দেখে চলতি বছর সবচেয়ে কম পয়েন্ট দিয়েও কানাডায় আবেদনের সুযোগ পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে দুই লাখ ৮৬ হাজার অভিবাসীকে স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে কানাডা।

পৃথিবীর অন্য দেশের মতো বাংলাদেশের অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও ১০টি ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন। সাধারণত এক্সপ্রেস এন্ট্রি ও পিএনপি, এ দুই ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বেশি আবেদন করা হয় ।

যে ১০টি পদে আবেদনের মাধ্যমে দ্রুত যাওয়া যাবে সেগুলো হলো- সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট ম্যানেজার, বিজনেস অ্যানালিস্ট, কাস্টমার সার্ভিস রিপ্রেজেন্টেটিভ, আইটি প্রজেক্ট ম্যানেজার, সিনিয়র অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও ম্যানুফ্যাকচারিং। এ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রের দক্ষ পেশাজীবীরাও আবেদন করতে পারবেন। কানাডায় নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিজের আছে কি না, তা জানতে কেউ বিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শও নিতে পারেন।

কানাডা সবসময়ই ‘আগে আসলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে অভিবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিল সি-৬ অনুযায়ী দেশটিতে সিটিজেনশিপের আবেদন করতে পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত তিন বছর সেখানে বসবাস করতে হবে। এর আগে ছয় বছরের মধ্যে চার বছর বসবাসের বিধি ছিল। এ ছাড়া, অস্থায়ী ক্যাটাগরিতে কাজ কিংবা পড়াশোনার কারণে আগে কেউ কানাডায় থেকে থাকলে সেই সময়কেও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, কানাডায় অভিবাসনের আবেদন করতে সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ বায়োডাটা, পরিবারের তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি পাস, আইইএলটিএস, ইসিএ সার্টিফিকেট, কমপক্ষে দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মেডিকেল রিপোর্ট, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ইত্যাদি লাগে। অনলাইনেই আবেদন করা যায়। তবে জব অফার ছাড়া আবেদন করে লাভ নেই। অর্থাৎ কানাডায় পদার্পণের পরই যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাবেন, এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এজন্য এসব পদেই অভিজ্ঞ জনবল নেওয়া হচ্ছে।

আবেদনের জন্যে যোগ্য কি না তা নিরূপণ করার পরই প্রোফাইল তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিয়ে লটারির ড্রর জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

কানাডায় ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে আরো বিস্তারিত জানতে আগ্রহী যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে।

কানাডার অভিবাসন আইন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতালব্ধ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘মূলত যেকোনো ডিপ্লোমাধারী অথবা ডিগ্রি পাসধারী দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেন। বাংলাদেশিরা যদি প্রথম থেকেই দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে ফাইল প্রসেস করে, তবে স্বল্প সময়ে এই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত। প্রকৃতপক্ষে যারা যোগ্যতা রাখেন, তাদের আর দেরি করা ঠিক হবে না’। একইসঙ্গে অযোগ্য ব্যক্তিরা যেন অযথা আবেদন করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না করেন সে ব্যাপারেও অনুরোধ জানান এ আইনজীবী।

ফ্রি অ্যাসেসমেন্টে আগ্রহীরাও ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেড’র চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো যাবে info@worldwidemigration.org এই ঠিকানায়। কেউ বিস্তারিত জানতে ভিজিট করতে পারেন wwwww.bmc.com. ওয়েবসাইটে।

এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টরের ৫১ সোনারগাঁও জনপথের খান টাওয়ারে (লেভেল ৫) ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের অফিসেও খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। ফোনে প্রাথমিক তথ্যের জন্য কথা বলতে পারেন: ০১৯০৪০৩৬৮৯৯, ০১৯০৪০৩৬৮৯৮, ০১৯০৯-০৮৩৯৬৩, ০১৯০৯-০৮৩৯৬২, ০১৭৮৫৭০০৭৫৮, ০১৯৮৭৭১৪২৯০ এসব নম্বরে।

সুত্রঃ ‌এনটিভি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here