জননেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান : জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত

0
189

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম ও শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিলো কমল। পিতা মনসুর রহমান ও মাতা জাহানারা খাতুন ওরফে রানীর সংসারে পাঁচ ভাইয়ের জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। মনসুর রহমান কলকাতায় একটি সরকারি দফতরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জিয়াউর রহমানের শৈশবের কিছুটা সময় বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা শহরে অতিবাহিত হয়।

ভারত ভাগের পর পিতার কর্মস্থল হয় পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি শহরে। সেই সুবাদে সেখানে চলে যান জিয়া। কলকাতার হেয়ার স্কুল ত্যাগ করেন ভর্তি হন করাচি একাডেমী স্কুলে। ওই স্কুল থেকে ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক পাস করে ১৯৫৩ সালে ভর্তি হন করাচির ডি.জে. কলেজে। ওই বছরই কাবুল মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেন।

১৯৮১ সালের এই দিনে (৩০ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থানরত জিয়াউর রহমান এক ব্যর্থ সেনা অভ্যূত্থানে নিহত হন। রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র সংসদ ভবনের পাশে অবস্থিত চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানকে সমাধিস্থ করা হয়। চন্দ্রিমা উদ্যান অনেকেই কাছে জিয়া উদ্যান নামেও পরিচিত।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক এই রাষ্ট্রপতির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি তুলে ধরা হলো:

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৫৩ সালে কাবুল মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ক্যাডেট হিসেবে যোগদান। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। সামরিক বাহিনীতে তিনি একজন সুদক্ষ প্যারাট্রুপার ও কমান্ডো হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন এবং স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। করাচীতে দুই বছর চাকুরি করার পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুর শহরের মেয়ে খালেদা খানমের (বেগম খালেদা জিয়া) সঙ্গে জিয়াউর রহমান বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। যুদ্ধে দুর্ধর্ষ সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যেসব কোম্পানি সর্বাধিক বীরত্বসূচক পুরস্কার লাভ করে, জিয়াউর রহমানের কোম্পানি ছিল এদের অন্যতম। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে। এছাড়াও জিয়াউর রহমানের ইউনিট এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য দুটি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়টি তামঘা-ই-জুরাত পদক লাভ করে।

১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পেশাদার ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন। সে বছরই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন।

১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়ে জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। এডভান্সড মিলিটারি এন্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান এবং কয়েক মাস ব্রিটিশ আর্মির সাথেও কাজ করেন।

১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। পূর্ব বাংলার জনপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবের বন্দিদশায় জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়েই আবারও বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামের দিশা খুঁজে পায়।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

১৯৭২ সালের জুন মাসে তিনি কর্নেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ-অফ-স্টাফ (উপসেনাপ্রধান) নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে ও ১৯৭৩ সালে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৭৫ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নির্মমভাবে স্বপরিবারে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই বছরই চিফ অব আর্মি স্টাফ নিযুক্ত হন জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন এবং নিযুক্ত হন উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক পদে।

১৯৭৬ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৬ সালের ৮ মার্চ মহিলা পুলিশ গঠন করেন, ১৯৭৬ সালে কলম্বোতে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন সম্মেলনে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ ৭ জাতি গ্রুপের চেয়ারম্যান পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৭৬ সালেই তিনি উলশি যদুনাথপুর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন উদ্বোধন করেন এবং ওই বছরের ২৯ নভেম্বর জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। একই বছরের ১৯ নভেম্বর তিনি পুনরায় সেনাবাহিনীর চীফ অফ আর্মি স্টাফ পদে দায়িত্বে প্রত্যাবর্তন করেন। ওই বছরই গঠন করেন গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

১৯৭৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি একুশের পদক প্রবর্তন করেন জিয়াউর রহমান। এবং রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত সায়েমের উত্তরসূরি হিসেবে ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন জিয়াউর রহমান দেশে আবার গণতন্ত্রায়ণের উদ্যোগ নেন। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেন। দেশের রাজনীতিতে আবারও গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়।

১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন। ছয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি ৭৬.৬৭% ভোট পেয়ে বিজয়ী হন এবং রাষ্ট্রপতির পদে নিয়োজিত থাকেন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। অধ্যাপক এ. কিউ. এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বর্তমানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এবং যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান) বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম মহাসচিব ছিলেন। জিয়াউর রহমানে নবগঠিত বিএনপিতে বাম, ডান ও মধ্যপন্থিসহ সকল স্তরের রাজনীতিকদের অংশগ্রহণ ছিল। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যাত্রা শুরু করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সামরিক আইন প্রত্যাহার করেন।

সেনাবাহিনীতে অসম্ভব জনপ্রিয় ছিলেন জিয়াউর রহমান। ওই সময়ে অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। ১৯৮১ সালের ২৯ মে তিনি চট্টগ্রামে আসেন এবং সেখানে সার্কিট হাউসে অবস্থান নেন। এর একদিন পরই ৩০ মে ভোরে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হন। চন্দ্রিমা উদ্যানে তাঁর জানাজায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ সমবেত হয়।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌‘আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় টিকে থাকতেই খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রেখেছে’


সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দী করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে জেলা দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, দেশে এখন বাকশালী শাসন চলছে। আইনের শাসন নেই। বিচার বিভাগ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যেকোনো সময় ফুঁসে উঠতে পারে জনতা। আর এ কারণেই বর্তমান অবৈধ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রেখেছে।

আগামী দিনে রাজপথে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমেই কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। প্রস্তুত থাকুন, অচিরেই ডাক আসবে বলে যোগ করেন বিএনপির এ নেতা।

এসময় জেলা দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- জেলা দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি জাকির হোসেন বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর মাহমুদ আলম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, কাজী রানা, শাহ শিব্বির আহমেদ বুলু, রতন আকন্দ, এডএমএ হান্নান খান প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের র্শীষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌বাংলানিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি শত নাগরিকের


কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শত নাগরিক জাতীয় কমিটি। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই তার মুক্তি দাবি করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগছেন। অসুস্থ অবস্থায়ই এক বছরের বেশি সময় ধরে ‘রাজনৈতিক উদ্দশ্যেপ্রণোদিত’ মামলায় কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

তারা বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, খালেদা জিয়া ন্যূনতম মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। তার প্রতি প্রদর্শিত এ হৃদয়হীন আচরণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার যদি মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা হয়ে থাকে, তা হলে বলতেই হয়, সেই মহান লক্ষ্য থেকে তাকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা প্রত্যাশা করি- কল্যাণ, মঙ্গল ও শ্রেয়বোধ আমাদের অন্তর আত্মাকে জাগিয়ে দেবে। সত্য ও সুন্দরের পথে সরকার এগিয়ে আসবে। তারা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মগুলোর মর্মার্থ অনুধাবন করতে সক্ষম হবে। সরকার শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেবে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- শত নাগরিকের আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ, অধ্যাপক ড. আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী, মো. আসাফউদ্দৌলা, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. মাহবুবউল্লাহ, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, রুহুল আমিন গাজী, শওকত মাহমুদ, আবদুল হাই শিকদার, ড. খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী, ড. সদরুল আমিন, প্রফেসর আবদুর রহমান সিদ্দিকী, ড. তাজমেরী এসএ ইসলাম, ড. মোসলেহউদ্দীন তারেক, গাজী মাযহারুল আনোয়ার, আলমগীর মহিউদ্দিন, এরশাদ মজুমদার, এম আব্দুল্লাহ, এমএ আজিজ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, কাদের গণি চৌধুরী, ড. রাশিদুল হাসান, ইঞ্জি. আ ন হ আখতার হোসেন, প্রফেসর ড. সুকোমল বডুয়া, কামাল উদ্দিন সবুজ, ড. আমিনুর রহমান মজুমদার, ড. জেডএম তাহমিদা বেগম, ড. আখতার হোসেন খান, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌আ.লীগ যেখানে ব্যর্থ, গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম সেখানেই সফল হয়েছেন : ড. মোশাররফ


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘যেখানে আওয়ামী লীগ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম সেখানেই সফল হয়েছেন। এ কারণেই আওয়ামী লীগ নিজেদের ব্যর্থতা লুকাতে ভোট ডাকাতি ও দুর্নীতিকে বেছে নিয়েছেন।’

আজ বৃহস্পতিবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত নয়াবাজার ইউসুফ মার্কেটের দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ভয় পাই, সেই কারণে রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়ে নিরাপরাদ দেশনেত্রী মাসের পর মাস কারাগারে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।’

ইফতার মহফিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

এ সময় মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ‘বেগম জিয়ার একমাত্র অপরাধ তিনি আপসহীন ও গণতন্ত্রকামী। দেশে এখন প্রকাশে লুটপাট চলছে, রূপপুরে বালিশ কেলেঙ্কারীর কথা এখন মানুষের মুখে মুখে। মেঘা প্রজেক্ট মেঘা দুর্নীতি সরকার অলিখিত বাকশালের দিকে এগিয়ে চলেছে এখানে কথা বললেই গুম নয়তো খুন। এই অত্যাচারের মরনখেলা আর কত দিন চলবে?’

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টুর পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন- মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ইউনুস মৃধা, সাবেক কমিশনার নবীউল্লাহ নবী, যুগ্মসম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌আমাদের সময়

আরও পড়ুনঃ ‌আন্দোলন ছাড়া কোনো উপায় নেই: শামসুজ্জামান দুদু


বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু ব‌লে বলেছেন, ‘দেশে এখন অস্বাভাবিকতা বিরাজ করছে। এই অস্বাভাবিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আন্দোলন ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর সে আন্দোলন করবে ছাত্র-জনতা, শ্রমিক-কৃষক, মেহনতী মানুষ, আমাদেরকে তাদের কাছে যেতে হবে। ঘরে বসে থেকে কথা বলে কোনো লাভ নেই। রাস্তায় নামার পথ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে একাত্তরের চেতনাকে ধারণ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সেন্টিমেন্টকে ধারণ করতে হবে। কারণ আন্দোলন ছাড়া এদেশে কোনো ভালো কিছু অর্জন হয় নাই।’

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) শিশু কল্যাণ পরিষদে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, ‘দেশ এখন একনায়কতন্ত্র, অনৈতিক, একদলীয় কেন্দ্রিক, স্বৈরতান্ত্রিকভাবে চলছে। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হ‌য়ে‌ছি‌লো স্বাধীনতার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, দেশের মানুষের অধিকারের জন্য, আর যারা এর বিপক্ষে ছিল তারা ছিল পাকিস্তানের স্বৈরশাসকের পক্ষে। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তারা গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে, মানুষের অধিকার আদায়ের পক্ষে কাজ করছে না। তারা এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা, এই জায়গা থেকে বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’

ছাত্রদ‌লের সা‌বেক এই সভাপ‌তি ব‌লেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন মহাবীর, তিনি শুধু স্বাধীনতার ঘোষক নন, তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রপতি, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে তিনি এমন একজন নেতা ছিলেন, যিনি সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে আ‌লো‌কিত ক‌রে‌ছি‌লেন। আর পঁচাত্তরে শাসকরা দুর্ভিক্ষ দেখিয়েছে, বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে স্বৈরাশাসক প্রতিষ্ঠা করেছে, রক্ষীবাহিনী তৈরি করে ৪০ হাজার লোককে হত্যা করেছে। পঁচাত্তরের পরের সময়টা হচ্ছে বাংলাদেশের আলোকিত সময়। শেখ মুজিবুর রহমান যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ দলের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার পুনরায় সুযোগ দিয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। এই সত্যটা যদি আওয়ামী লীগ সরকার মেনে নিত তাহলে বাকি সত্যগুলো প্রকাশিত হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানকে আমরা খারাপ ভাবি, সেই পাকিস্তান ১৯৭০ সালের নির্বাচন রাতে করেনি। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে, নির্বাচন আগের দিন রাত্রে করা হয়েছে। সেই জন্য বলি দেশ এখন অস্বাভাবিকতা বিরাজ করছে এ অস্বাভাবিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আন্দোলন ছাড়া কোন উপায় নেই।’

‌বিএন‌পির এই নেতা ব‌লেন, ‘শহীদ জিয়ার পথ, বেগম খালেদা জিয়ার পথ আন্দোলনের পথ। সেই জন্য সবাই আসুন ঐক্যবদ্ধ হই। আন্দোলনের পথ খুঁজে বের করি। সেই আন্দোলনকে সফল করে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করি।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. জহুরুল হক শাহজাদা মিয়া, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম, লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ।

উৎসঃ ‌‌ব্রেকিংনিউজ

আরও পড়ুনঃ ‌গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়া ও দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করার শপথ বিএনপি নেতাদের


দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে তার কবরে ফুল দিয়ে গণতন্ত্র মুক্ত করার শপথ নিয়েছেন বিএনপি নেতারা। বৃহস্পতিবার ঢাকার জিয়া উদ্যানে মির্জা ফখরুল বলেন ‘আজকে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে আমরা শপথ নিয়েছি, গণতন্ত্রের মাতা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করব।’

সাবেক রাষ্ট্রপতির কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ফখরুলসহ দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জিয়াউর রহমান এ দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন। বাক্‌স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু আজকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়, গণতন্ত্রের মাতাকে একটি মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে।’ এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি লড়াই করে যাবে। যত দিন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে না আসবে, তত দিন জাতীয়তাবাদী দল মানুষের সঙ্গে থাকবে। আন্দোলন করবে।

মওদুদ আহমদ বলেন, হাজার চেষ্টা করলেও জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া যাবে না। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, তত দিন তাকে এ দেশের মানুষ স্মরণ করবে। তাকে স্মরণ করার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি ক্ষমতায় এসে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমদ আযম খান, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ, শামা ওবায়েদ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর রাজধানীর গরিবদের মধ্যে খাবার বিতরণ করতেন দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মহানগর বিএনপির উদ্যোগে শতাধিক স্পটে এ খাবার বিতরণ করা হতো। কিন্তু এবার খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় তা সীমিত আকারে পালন করা হচ্ছে।

এদিকে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ড্যাবের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

উৎসঃ ‌‌নয়াদিগন্ত

আরও পড়ুনঃ ‌ভুল শুধরে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিতে হবে: বরকত উল্লাহ বুলু


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।

কিন্ত তার মুক্তির জন্য আমরা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারি নাই। এজন্য আমরা কেউ জীবন উৎসর্গ করি নাই, কারাবরণও করি নাই।

তাই আত্মসমালোচনার মাধ্যমে অতীতের ভুল-ত্রুটি শুধরে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনসম্পৃক্ত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা যাতে অচিরেই তাকে মুক্ত করতে পারি, আমাদেরকে আজ এই শপথ নিতে হবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে দোয়া ও ইফতার মাহফিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি এ সব কথা বলেন।

রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে একটি আবাসিক হোটেলে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপির উদ্যোগে রাজনীতিবিদদের সম্মানে ওই অনুষ্ঠান হয়।

দলটির সভাপতি ক্বারী মো. আবু তাহেরের সভাপতিত্বে ওই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আওয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজউদ্দিন নসু, দেবাশীষ রায় মধু, তাবিথ আউয়াল, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মো. ফরিদ উদ্দিন, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ডিএলের সাইফুদ্দিন মনি, বাংলাদেশ ন্যাপের এমএন শাওন সাদেকী, এনডিপির শাহ নেওয়াজ খান প্রমুখ। ইফতারের আগে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির লড়াই চলবে: ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ


বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাব।যতদিন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ফিরে না আসবে, যতদিন গণতন্ত্রের নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্ত না হবেন, ততদিন জাতীয়তাবাদী দল মানুষের সঙ্গে থাকবে এবং আন্দোলন করবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় মওদুদ আহমদ বলেন, হাজার চেষ্টা করলেও শহীদ জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যাবে না। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন শহীদ জিয়াকে এ দেশের মানুষ স্মরণ করবে। তার অনেক কারণ, এর মধ্যে অন্যতম হলো- একদলীয় শাসনের প্রেক্ষাপটে তিনি ক্ষমতায় এসে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই আন্দোলনে এখনও আমরা আছি।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে বিএনপির অন্যতম এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, আমাদের নেত্রী জেলে আছেন। তবে বিএনপি এখনও সজাগ, এখনও সচেষ্ট। বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই লড়াই অব্যাহত রাখবে।

শ্রদ্ধা শেষে সমাধি প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মির্জা ফখরুলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

এ সময় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ বিএনপির


জিয়াউর রহমানের ৩৮তম শাহাদতবার্ষিকীতে কারাবন্দি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ নিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাতার আদর্শ অনুসরণ করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনারও অঙ্গীকার করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে মৃত্যুবার্ষিকীতে সংসদ ভবন এলাকায় জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এই শপথের কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

এর আগে শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে বলেছেন, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার আদর্শ, দেশপ্রেম, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আজ জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রেরণার উৎস।

তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার অম্লান আদর্শ, দর্শন ও কর্মসূচি আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং দেশীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির রক্ষাকবচ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার জীবিতকালে জাতির চরম দুঃসময়গুলোতে জিয়াউর রহমান দেশ ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। মহান স্বাধীনতার বীরোচিত ঘোষণা, স্বাধীনতাযুদ্ধে অসামান্য ভূমিকা এবং রাষ্ট্র গঠনে তার অনন্য কৃতিত্বের কথা আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।

তিনি বলেন, ’৭১ সালে সারা জাতি যখন স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, অথচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তহীনতায় দেশের মানুষ দিশাহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে ২৬ মার্চ মেজর জিয়ার কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষণা সারা জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের অভয়মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এরই ফলশ্রুতিতে দেশের তরুণ, ছাত্র, যুবকসহ নানা স্তরের মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

মির্জা ফখরুল বলেন, পরে স্বাধীনতা-উত্তর শাসকগোষ্ঠী দেশে একদলীয় একনায়কতান্ত্রিক শাসন কায়েম করেন। সেই সময় দেশের সর্বত্র ভয়াবহ নৈরাজ্য নেমে আসে। ঠিক সেই সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে ফিরিয়ে দেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং সংবাদপত্র ও নাগরিক স্বাধীনতা। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা করেন। উৎপাদনের রাজনীতির মাধ্যমে দেশীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধশালী করেন। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির আখ্যা থেকে খাদ্য রফতানিকারক দেশে পরিণত করেন। তার অর্থনৈতিক সংস্কারের কারণেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হয়।

তিনি বলেন, এই মহান জাতীয়তাবাদী নেতার জনপ্রিয়তা দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারী শক্তি কখনই মেনে নিতে পারেনি। আর তাই চক্রান্তকারীরা ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একজন মহান দেশপ্রেমিককে দেশবাসী হারায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান অগণতান্ত্রিক সরকার বিরোধী দলের অধিকার, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। সে জন্য দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সাজানো মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এ যেন গণতন্ত্রকেই কারাগারে আটকিয়ে রাখা।

তিনি বলেন, জাতীয় জীবনের চলমান সংকটে শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় স্বার্থ, বহুমাত্রিক গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার সুরক্ষায় ইস্পাতকঠিন গণঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দিনের আলাদা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনসমূহ। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনও নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ


ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে এক বাংলাদেশি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তার নাম রুবেল আহমেদ (২৩)।

বৃহস্পতিবার ভোরে রত্নাই কোর্টপাড়া সীমান্তের ৩৮২ পিলার এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ নিয়ে গত ২৫ দিনে বিএসএফ চার বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেছে। এদের একজনও ছাড়া পায়নি।

রুবেল আহমেদ উপজেলার উদয়পুর তালবস্তি গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে রত্নাই কোর্টপাড়া সীমান্তের ৩৮২ পিলার এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন হানিফ। এ সময় ভারতের ১৭১ সোনামতি বিএসএফ ক্যাম্পের জওয়ানরা তাকে আটক করে নিয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও-৫০ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম সাফিউন নবী বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ মে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝাড়ী সীমান্ত থেকে চড়ইগেদী গ্রামে আইন উদ্দিনের ছেলে হাবিলউদ্দিন হাবিল, ১৬ মে রত্নাই যুগীবস্তী গ্রামের হানিফ, ও ২২ মে চোষপাড়া সীমান্ত থেকে চড়ই গেদী বেউরঝারী গ্রামের নিজামের ছেলে মাহমুদ ওরফে ন্যাড়া মিস্টারকে বিএসএফ আটক করে নিয়ে যায়।

তাদের একজনও ছাড়া পাননি। আটককৃতরা ভারতের কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌পাথরঘাটায় ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি ইয়াবাসহ আটক


বরগুনার পাথরঘাটায় অভিযানে চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি নেছার উদ্দিন (২২) ও তপু কাজীকে (২৫) ১১০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌরশহরের লঞ্চঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশের মন্টু কোম্পানির দোকানের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ওই বিল্ডিং থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

আটক নেছার উদ্দিন হাওলাদার কালমেঘা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আইউর আলী হাওলাদারের ছেলে ও পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। আর তপু কাজী পাথরঘাটা পৌরশহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাকির কাজীর ছেলে।

পাথরঘাটা থানার এসআই মনিরুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাথরঘাটা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে পৌরশহরের ৮নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশের মন্টু কোম্পানির দোকানের বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে ১১০ পিস ইয়াবাসহ তপু কাজী ও নেছার উদ্দিন হাওলাদারকে আটক করা হয়। পুলিশের ধারণা তারা দীর্ঘদিন ধরে পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যাবসা করে আসছে।

তিনি আরও জানান, তপু কাজীর বিরুদ্ধে মাদক ও নারী শিশুসহ ৬টি মামলা আছে পাথরঘাটায়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দেয়া হয়েছে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌চরমপন্থীদের আত্মসমর্পণ: নেপথ্যে আ. লীগ নেতার বাণিজ্য


রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী গত এপ্রিলে জয়পুরহাট জেলার ৮০ জন ‘চরমপন্থী’ আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউই চরমপন্থী নয়। তালিকাভুক্ত সাতজন ফাঁসির আসামি, যাঁরা কারাবন্দী অথবা পলাতক। আছেন সন্ত্রাসী আর মাদক ব্যবসায়ীরাও। আবার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা নিজেও এই চরমপন্থীর তালিকায় রয়েছেন।

চরমপন্থী না হওয়ার পরেও কেন এই আত্মসমর্পণ?

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

স্থানীয় পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা বলছেন, এঁদের কেউ চরমপন্থী নন। আর্থিক লোভ দেখিয়ে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা।

তালিকাভুক্ত কয়েকজন বলেছেন, চরমপন্থী সেজে আত্মসমর্পণ করলে ঝুটঝামেলা থাকবে না, টাকা পাওয়া যাবে—এই লোভ তাঁদের দেখিয়েছিলেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের দুই নেতা। প্রথমজনই চরমপন্থী নেতা পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। এই নেতারা ‘আর্থিক প্রণোদনা’র বখরা নিতে তাঁদের চরমপন্থী সাজিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া তালিকাটি ধরে সরেজমিন অনুসন্ধান করেছে প্রতিবেদক হারুন আল রশীদ। এই প্রতিবেদক কথা বলেছেন জয়পুরহাটের বিভিন্ন স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নানা পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে।

যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, তালিকার অন্তত ২২ জন ছাত্রদল, যুবদল বা বিএনপির নেতা-কর্মী। বাদবাকি প্রায় সবাই যুবলীগ বা স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেন, যাঁদের বেশ কয়েকজন অতীতে বিএনপি-জামায়াতের ঘরে ছিলেন।

আত্মসমর্পণের ইতিবৃত্ত
চরমপন্থী আন্দোলনে দীর্ঘকাল যুক্ত একজন রাজনৈতিক নেতা বলেছেন, ১৯৬৯ সালে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল লাল পতাকা) এ দেশে সমাজতন্ত্র কায়েমের জন্য চরমপন্থার সূচনা করে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরে নওগাঁ পর্যন্ত তাদের তৎপরতা ছিল। ১৯৯৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কাছে তাদের একটি বড় অংশ আত্মসমর্পণ করেছিল।

বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সর্বশেষ গত ৯ এপ্রিল ১৬ জেলার ৫৯৫ জন চরমপন্থী পাবনার শহীদ আমিন উদ্দীন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁদের মধ্যেই জয়পুরহাটের ৮০ জনের নাম ছিল। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র বলেছে, আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে সরকার প্রত্যেক আত্মসমর্পণকারীকে ১ লাখ এবং দলনেতাকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় কারাবন্দীদের সম্পর্কে কিছু বলা নেই। তবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তাঁকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার কথা। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, আত্মসমর্পণের পর সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা কারাবন্দী ছিলেন, তাঁদের আত্মসমর্পণস্থলে হাজির করা হয়নি।

আত্মসমর্পণ পরিকল্পনার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছিল এপ্রিলের গোড়ায়। মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিল একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারা বলেন, আইনগতভাবে চরমপন্থীদের তালিকা তৈরি পুলিশের কাজ। কিন্তু তাঁরা শুধু কাগজপত্রে সই করেছেন। পুলিশ সুপার (এসপি) রশিদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের জানামতে, জয়পুরহাটে কোনো চরমপন্থী বা চরমপন্থীদের সংগঠন নেই। তা সত্ত্বেও আমরা ৭১ জনের একটি তালিকা পেয়েছি। সেটাই পাবনায় পাঠানো হয়েছে।’

তবে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পাবনায় গোয়েন্দা সংস্থাটি ৮০ জনের তালিকা জমা দেয়। তখনই ফাঁসির আসামিসহ কয়েকজনের নাম ঢোকানো হয়।

জয়পুরহাটের তালিকায় সমস্যার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানেন। তবে তিনি বলেন, ‘চরমপন্থীদের এই তালিকা পুলিশ করেনি। এটি করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। সেই তালিকা অনুযায়ী চরমপন্থীরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। আমি সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম।’

মন্ত্রী বলেন, এ আত্মসমর্পণের নীতি বা প্রক্রিয়ার কিছুই তাঁর জানা নেই। তবে কারও নামে মামলা থাকলে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। এপ্রিলের গোড়ায় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও বলেছিলেন, আত্মসমর্পণের পর মামলা-মোকদ্দমা খতিয়ে দেখে পুনর্বাসন করানো হবে।

ফাঁসির দণ্ড, খুনের আসামি
জয়পুরহাট পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রথম তালিকায় সাত ফাঁসির আসামির নাম ছিল না। তাঁরা হচ্ছেন সদর উপজেলার বম্বু ইউনিয়নের ওয়াজেদ আলী, আবু হাসান (ওয়াজেদের ছেলে), মহির উদ্দিন, চৈতন্য, সাফাদুল ইসলাম, আনিছুর রহমান ও মন্টু মিয়া।

যুবলীগ নেতা আবদুল মতিন হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সদর থানা বলেছে, উচ্চ আদালতে তাঁদের আপিল মামলা চলছে। মন্টু মিয়া আগাগোড়া পলাতক, বাকিরা গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আছেন। তাঁরা সবাই ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ছিলেন।

আসামি ওয়াজেদ আলীর ছেলে জুয়েল রানা বলেন, ‘বাবা কখনো চরমপন্থী ছিলেন কি না, তা জানি না। এলাকার বড় ভাই মাহবুব আলম পুরো বিষয়টি দেখাশোনা করেছেন।’

একই হত্যা মামলায় মাহবুব আলম যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন। তিনি এখন জামিনে আছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নামে অনেক মামলা আছে। সরকারি দলের লোকজন বলেছেন, চরমপন্থী সেজে আত্মসমর্পণ করলে মামলা থেকে খালাস পাওয়া যাবে। সে জন্য আমরা আত্মসমর্পণ করেছি।’

এ জেলায় কখনো চরমপন্থী ছিল না। তালিকায় অন্তত নয়জন হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি আছেন। তাঁদের মধ্যে আসলাম হোসেন এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে সুপরিচিত। রাজীব হোসেনের নামে হত্যাসহ ডজনখানেক মামলা আছে। শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাভুক্ত সেবা কুমার দাসের নামে একটি হত্যাসহ ছয়টি মামলা আছে।

পুলিশের নথি বলছে, তালিকাভুক্ত অন্তত ছয়জন চরমপন্থী আদতে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তাঁদের মধ্যে ইসমাইল হোসেনের নামে ১৭টি মামলা আছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, চরমপন্থী হোক বা না হোক, ফাঁসির আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দণ্ড মওকুফ বা স্থগিত অথবা বাতিল করার ক্ষমতা একমাত্র আদালতের। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলে সেখানেই এর ফয়সালা হবে। সব শেষে থাকবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ।

তালিকার নেপথ্যে
পাবনায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ১৬ জেলার ১৬ চরমপন্থী নেতা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জয়পুরহাটে নেতৃত্ব দেন রমজান আলী, নেতা হিসেবে যিনি প্রণোদনার টাকা পান ১০ লাখ। কিন্তু এই রমজান আবার জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও বহাল আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে।

এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতারা প্রথম আলোকে বলেন, রমজান একসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান আলীর মোটরসাইকেলচালক ছিলেন। তিনি শহরের মাস্টারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতিও বটে।

জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র নন্দলাল পার্শি আওয়ামী লীগ জেলা কমিটির সদস্য। আত্মসমর্পণকারী কয়েকজন বলেন, তিনিও লোকজন গোছানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তাঁরা বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থাটির লোকজনেরও সম্পৃক্ততা ছিল।

নন্দলাল পার্শি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের এলাকায় চরমপন্থী নেই। কিন্তু রমজান তাঁকে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারদলীয় লোকজনকে ছোটখাটো মামলা থেকে অব্যাহতি দেবে, আর্থিক সহায়তা দেবে। নন্দলাল তাই তালিকায় কিছু ছেলের নাম দিয়েছেন। রমজান আলী অবশ্য এ বিষয়ে ‘ভালো-মন্দ’ কোনো কথাই বলতে রাজি হননি।

রমজানের ভাই সেলিম বাবুর নামে একাধিক অস্ত্র মামলা আছে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলা থেকে রেহাই পেতে আরও তো অনেক ছেলে চরমপন্থী সেজেছে। সুতরাং তালিকায় আমার নাম থাকলে সমস্যা কী?’

রোমানুর রহমান জেলা যুবলীগের সদস্য। তাঁর নামে একটি হত্যা মামলা আছে। এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রোমানুর বলেন, রমজান ও নন্দলাল পার্শির পরামর্শে তিনি তালিকায় নাম দেন। কিন্তু পাবনায় যাওয়ার পর জানতে পারেন তিনি ‘চরমপন্থী’। রোমান বলেন, পুরো তালিকাই ভুয়া।

তালিকাভুক্ত অন্তত দুই ব্যক্তির নামে থানায় কোনো মামলা নেই। তাঁদের একজন হচ্ছেন মুক্তা বিশ্বাস, যিনি নন্দলাল পার্শির ভাগনে। অন্যজন নুরুজ্জামান বাবু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী।

ভাগনের ব্যাপারে নন্দলাল বলেন, মুক্তা রমজানের বন্ধু হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আর নুরুজ্জামান বাবু বলেন, ‘আমার নেতা রমজান তালিকায় নাম দিয়েছেন। বলেছেন এক লাখ টাকা পাওয়া যাবে। তাই রাজি হয়েছি।’

টাকার জন্য চরমপন্থী সেজেছেন? নুরুজ্জামান বলেন, ‘কী করব! কষ্টে আছি, টাকার যে খুব দরকার।’

কাদামাটির মানুষ
জেলা নেতৃত্বের একাংশের অভিযোগ, সন্ত্রাসীদের ছাড় দেওয়ার এই অভিনব প্রক্রিয়া সভাপতি ও সাংসদ সামছুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান আলীর সমর্থনপুষ্ট। সাংসদ অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোলায়মান আলীও বলেছেন, তিনি বিশেষ কিছু জানেন না।

জয়পুরহাটের কথিত চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণ করেন কাদামাটি সংগঠনের নেতা-সদস্য হিসেবে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, এটি একটি নামসর্বস্ব রাতারাতি ভুঁইফোড় ভুয়া সংগঠন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম হাক্কানীও বলেন, ‘এই জেলায় এলেমাটি, বেলেমাটি, কাদামাটি, দোআঁশ মাটি—সবই আছে। কিন্তু কাদামাটি নামের কোনো চরমপন্থী সংগঠনের নাম কোনোকালে শুনিনি।’

ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জয়পুরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক কয়েক যুগ ধরে বাম রাজনীতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনিও একই কথা বলেন। আর বলেন, তাঁর জানামতে জয়পুরহাটে কখনো চরমপন্থীদের তৎপরতা ছিল না।

উৎসঃ ‌‌প্রথম আলো

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here