শুল্ক বিভাগের জব্দ করা স্বর্ণ তেলেসমাতিঃ যেভাবে আত্মসাৎ কোটি কোটি টাকা

0
262

শুল্ক বিভাগের জব্দ করা স্বর্ণ কম টাকায় নিলামে দেয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। চক্রটি মানুষের সাথে প্রতারণার আগে তারা জাল কাগজপত্র তৈরি করত। এমনভাবে কাগজপত্র তৈরি করত যে, দেখে বোঝার উপায় নেই যে, ওইসব জাল। এর সাথে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করছে সিআইডি। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এই চক্রের প্রধান খন্দকার ফারুক ওরফে ওমর মবিন নিজেকে শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার (কাস্টমস কমিশনারের পিএস) বলে পরিচয় দিতেন। তিনি ৫-৭ বছর আগে জামালপুরের এক এমপির পিএস ছিল। ওই চাকরি ছাড়ার পর তিনি প্রতারণাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

গতকাল ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে-সিআইডি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা।

সৈয়দা জান্নাত আরা জানান, বুধবার রাজধানীর রমনার বেইলি রোডে অবস্থিত নবাবি ভোজ রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে খন্দকার ফারুক ওরফে ওমর মবিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সাথে গ্রেফতার করা হয়েছে দুই সহকারীকে। তারা হলো : ইলিয়াস ওরফে নুর ইসলাম সরকার এবং সাইফুল ইসলাম। প্রতারণার কাজে এই দুইজন খন্দকার ফারুক ওরফে ওমর মবিনের পিএস বলে পরিচয় দিত। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ১৮টি ভিজিটিং কার্ড, চারটি ব্যাংকের চেকের পাতা, সাতটি মোবাইল ও ১৩টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতরা শুল্ক বিভাগের জব্দ করা স্বর্ণের বার কম টাকায় নিলামে দেয়ার কথা বলে অভিনব কায়দায় কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যাংকে আটকে থাকা টাকা ছাড় করিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়েও বহু লোকের কাছ থেকে টাকাপয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার আগে তারা জাল কাগজপত্র তৈরি করত। তারা এমনভাবে কাগজপত্র তৈরি করত যে, দেখে বুঝার উপায় নেই যে, ওইসব জাল। এর সাথে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ হচ্ছে। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ চক্রের সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মৃণাল নামের এক ভুক্তভোগী জানান, খন্দকার ফারুক ওরফে ওমর মবিন তাকে একদিন ফোন করে বলেন, কাস্টম কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় যেসব স্বর্ণ জব্দ করেছে সেসব নিলামে বিক্রি করা হবে। মৃণাল ওই স্বর্ণ কিনতে রাজি থাকলে কম দামে তার কাছে এসব বিক্রির ব্যববস্থা করতে পারবেন। পরে স্বর্ণ জব্দ সংক্রান্ত কাগজপত্র (ভুয়া) দেখিয়ে গত ৬ জানুয়ারি মৃণালের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নিয়েছেন খন্দকার ফারুক। সিআইডি কর্মকর্তা সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, আসামি ওমর মবিনের মোবাইলের হোয়াটস অ্যাপের মেসেজে ৪০ কোটি টাকার চেকের কপি ও অসংখ্য ফাঁকা চেকের কপি পাওয়া যায়। এদিকে গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্র। চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বড় বড় হোটেলে খাবার খেতে যেত। প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিরা যাতে বুঝতে পারে এরা বড় মাপের মানুষ। তারা কখনো নিজেদের শুল্ক বিভাগের কমিশনার কখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিয়ে মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাদের গ্রেফতারের পর ইতোমধ্যে কয়েকজন ভিকটিম সিআইডির সাথে যোগাযোগ করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন : পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিব ফারহান, রুহুল আমিন এবং উপপরিদর্শক নিউটন কুমার দত্ত।

সুত্রঃ ‌নয়াদিগন্ত

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here