যবিপ্রবিতে ২১ লাখ টাকার ফার্নিচার সরবরাহকে কেন্দ্র করে শিক্ষককে হত্যার হুমকি ছাত্রলীগ নেতার

0
196

উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। একজন সিনিয়র শিক্ষককে ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা কর্তৃক হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আন্দোলনে শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এই হত্যার হুমকির সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

অন্য দিকে অভিযুক্ত একজন শিক্ষককে বহিস্কারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন ছাত্রলীগের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষক কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের মুখোমুখি অবস্থানে শিক্ষার্থীরা। এই দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে গোটা ক্যাম্পাসে। সংঘর্ষের আশংকায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে শিক্ষককে ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক হত্যার হুমকির ঘটনা তদন্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আাশ্বাস দিয়েছেন ভিসি ডঃ আনোয়ার হোসেন।

আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কনফারেন্স রুমে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই আশ্বাস প্রদান করে যারা যশোর শহরে বসে বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করার হীন চেষ্টা করছেন তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করার জন্য সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ২১ লাখ টাকার ফার্নিচার সরবরাহকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বিশ্ববিদ্যায়ের প্রভোষ্ট ও রিজেন্ড বোর্ডের সদস্য সিনিয়র শিক্ষক ডঃ ইকবাল কবির জাহিদকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

সুত্রঃ ‌মানবজমিন

আরও পড়ুনঃ যবিপ্রবি অধ্যাপককে হুমকির প্রতিবাদে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা


যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে হুমকির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক পরিষদ।

শনিবার দুপুরে হুমকিদাতার বিচার দাবিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মানববন্ধন শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদকে হুমকিদাতার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি। শিক্ষকরা ক্লাসে যাবে না।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

শিক্ষকরা জানান, গত ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল ফোনে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদকে অকথ্য ভাষা গালিগালাজ করেন। এ সময় তিনি দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন।

হুমকি দেওয়ার পর তিনি ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-নেত্রীকে ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অশান্ত করে তুলেছেন।

শিক্ষকদের মানববন্ধন চলাকালে শেখ হাসিনা হল ছাত্রলীগের সাধারণ হুমাইয়ারা আজমীরা এরিনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

হুমাইয়ারা আজমীরা এরিন দাবি করেন, ক্যাম্পাসে নৌকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদকে অপসারণের দাবি করছি।

মানববন্ধনে অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, আনোয়ার হোসেন বিপুল নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফোনে আমাকে অকথ্য ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এর এক দিন পরেই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, যে নৌকা পোড়ানোর কথা বলা হচ্ছে, সেটি সঠিক নয়। নৌকা বাতাসে পড়ে যেতে পারে। র্যা গিংবিরোধী বিলবোর্ড টানানোয় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছে।

কেন হুমকি দেওয়া হলো—এ প্রসঙ্গে ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে নিম্ন মানের চেয়ার-টেবিল সরবরাহ করা হয়েছে। বিলে আমি আপত্তি করেছি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, একজন ছাত্রলীগ নেত্রীর নেতৃত্বে আজ যা ঘটেছে, সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আনোয়ার হোসেন বিপুল নামে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফোনে অকথ্য ভাষায় অধ্যাপক ইকবালকে হুমকি দিয়েছেন। বিপুল কোনো দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল না। সে বহিরাগত। হুমকির বিষয়টি দুঃখজনক।

অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ক্যাম্পাসে গতবার নতুন শিক্ষার্থীদের র্যা গিং করা হয়েছে। এবার আমরা আগে থেকে র্যা গিংবিরোধী সচেতনতা পোস্টার করেছি। সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তারা অভিযোগ করছে, নৌকা ভেঙে ফেলা কিংবা পোড়ানো হয়েছে। তাদের এই অভিযোগ সঠিক নয়।

তা ছাড়া নৌকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক। নির্বাচনের পর সেগুলো তো সরিয়ে নেওয়ার কথা। তারা যদি সত্যিকারের নৌকার সৈনিক হয়, তাহলে তাদেরই সরিয়ে ফেলা উচিত ছিল। আমি নিজে স্থানীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদকে বলেছি, নৌকার পোস্টার, বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলতে। নওফেল জানিয়েছেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন। এটা নিয়ে তো ইস্যু করার দরকার নেই।

তিনি আরও বলেন, আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকবে। আমি শিক্ষকদের সঙ্গে বসব। তারা ক্লাসে ফিরে যাবে, এটা আমার বিশ্বাস।

সুত্রঃ ‌theworldnews

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here