২০ দলীয় জোট ভাঙ্গার নেপথ্য নায়ক যারা

0
408

১৯৯৯ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ইসলাম, কুরআন-সুন্নাহ, গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী ভুমিকার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের সমন্বয়ে চারদলীয় ঐক্যজোট। চারদলীয় জোট আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে রাজপথে সফল আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম সংসদ নির্বাচনের আগে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর ফাঁদে পড়ে জোট ছেড়ে চলে যায় এরশাদের জাতীয় পার্টি।

তবে, এরশাদ চলে গেলেও জোট থেকে যান জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী ও দলটির প্রবীন রাজনীতিবিদ নাজিউর রহমান মঞ্জুর। নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি তথা বিজেপির হাল ধরেন তার পুত্র ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। সেই থেকে ২০১৯ সালের ৬ মে পর্যন্ত দলটি বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ছিল। বিএনপির একটি হঠকারী সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গত ৬ মে জোট থেকে বেরিয়ে গেলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

দেখা গেছে, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ভাঙ্গার জন্য বিভিন্নভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র শুরু করে। আর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটটি ভাঙ্গার জন্য সক্রিয়ভাবে মাঠে নামে।

এক্ষেত্রে সরকার বিএনিপর কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে একাজে ব্যবহার করে। বিশেষ করে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মইন খান, সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল মাহবুবুর রহমানসহ আরও কয়েকজন নেতা। অন্যরা গোপনে তৎপরতা চালালেও জেনারেল মাহবুব এবং ড. মইন খান প্রকাশ্যে জামায়াত-শিবির বিরোধী বক্তব্য দিতে থাকনে। ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথম যে জনসভা করেছিল সেখানে জেনারেল মাহবুব গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ্যে জামায়াত নিয়ে কটাক্ষ মন্তব্য করেছিলেন। এমনকি তার এ বক্তব্য নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে পরে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিও পাঠিয়েছিল।

এছাড়া, সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে বিএনিপর অনেক সিনিয়র নেতাকে জেল খাটতে হয়েছে। নির্যাতন-হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু জেনারেল মাহবুব ছিলেন সব কিছু ধরা ছোয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে-তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেও মূলত গোপনে সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে দেখা না গেলেও নেপথ্য থেকে তিনি জোট ভাঙ্গার কলকাঠি নেড়ে যাচ্ছেন। আর এক্ষেত্রে তিনি এখন কাজে লাগাচ্ছেন তারই শ্যালক ও বিএনিপ মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। জেনারেল মাহবুবের স্ত্রী নাগিনা মাহবুব মির্জা ফখরুলের বোন।

জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবের লবিং ও বিভিন্ন চাপের কারণে খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে বিএনপির মহাসচিব পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এখানেও সরকারের বড় একটা পরিকল্পনা সফল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেনারেল মাহবুবের সেই জোট ভাঙ্গার এজেন্ডা এখন মাঠে থেকে বাস্তবায়ন করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আর এর প্রথম পদক্ষেপ ছিল ড. কামালের নেতৃত্বাধীন কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে শেখ হাসিনার অধীনেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া। মির্জা ফখরুল এখন যা কিছু করছেন সবই ড. কামালের পরামর্শে। ২০ দলীয় জোটের চেয়ে কথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মির্জা ফখরুল। বলা যায়-ফখরুল এখন কামালের মুরীদ।

২০ দলীয় জোটের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জোটের সিদ্ধান্ত ছিল বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়ে সংসদে যাবেন না। কিন্তু মির্জা ফখরুল সেই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে তারেক রহমানকে ভুল বুঝিয়ে ৫ এমপিকে সংসদে পাঠিয়েছেন। যার কারণে, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল আন্দালিব রহমান পার্থের বিজেপি জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। শুনা যাচ্ছে, ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের লেবার পার্টি ও কর্নেল অলির এলডিপিও বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছে।

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করার মতো, বিএনপি-জামায়াত জোট ভাঙ্গার জন্য শুধু আওয়ামী লীগই চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করেনি। আন্তর্জাতিকভাবেও তারা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এমনকি আন্তর্জাতিক মহল থেকে জোট ভাঙ্গার জন্য অনেক চাপ দেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। কিন্তু, খালেদা জিয়া কারো কথাকেই পাত্তা দেননি। অবশেষে খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করেই সরকার বিএনপি-জামায়াত জোটটিকে ভাঙ্গার কাজে সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এ কাজে সরকারকে নেপথ্য থেকে জেনারেল মাহবুব ও মাঠ থেকে মির্জা ফখরুল সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

রাজনীতিক বিশ্লেষকসহ সচেতন মানুষ মনে করছেন, খালেদা জিয়া যদি খুব তাড়াতাড়ি মুক্তি না পান, তাহলে ২০ দলীয় জোট আর বেশি দিন থাকছে না। মির্জা ফখরুলরা যেভাবে কামালের দিকে ঝুঁকছেন তাতে ২০ দলীয় জোট এখন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। বিএনপির এই হঠকারীতার কারণে আরও কয়েকটি দল জোট থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। দেখা যাবে একদিন অন্যতম শরিক জামায়াতও বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিতে পারে।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্য ইতিবাচক: আ স ম আবদুর রব


বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তমের ঐক্যফ্রন্টের অসংগতি দূর করা বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যকে ইতিবাচক দেখছেন জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া এক প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি রাষ্ট্র যখন চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত, জনগণের মালিকানা যখন রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে অপসারণ করা হয়েছে, শাসনতন্ত্র যখন সরকারের ইচ্ছাধীন তখন বিরোধী দলের কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার নৈতিক কর্তব্যবোধে জাগ্রত হয়েই বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টের অসংগতি নিরসনের তাগিদ দিয়েছেন-যা খুবই ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-সংগ্রাম-গণজাগরণের ভিত্তি সৃষ্টি করবে।

আ স ম আবদুর রব বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা হলেও ২৯ তারিখ রাতেই যখন ভোট রাষ্ট্রীয়ভাবে ডাকাতি হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হাইজ্যাক করা হয়েছে তখন জনগণকে নিয়ে যে প্রতিরোধ-সংগ্রাম গড়ে তোলা প্রয়োজন ছিল তা পারেনি। কিন্তু সকল অসংগতি দূর করে বিদ্যমান অপব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের নতুন কৌশল-ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নতুন করে জনগণের বিজয় ছিনিয়ে আনার রাজনীতিকে আরো বেগবান করবে।

উৎসঃ ‌‌আরটিএনএন

আরও পড়ুনঃ ‌মদ খেয়ে মাতলামি: ক্ষমা চাইলেন আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান


ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একটি অনুষ্ঠানে হুইস্কি খেয়ে নারীকে জড়িয়ে ধরার জন্য অবশেষে ক্ষমা চেয়েছেন টকশো ব্যক্তিত্ব,আওয়ামীপন্থী চাটুকার সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান। এক নারীকে জড়িয়ে ধরার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এর ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের ফেসবুকে ক্ষমা চান তিনি। জানান, প্রায় ৫ বছর পর হুইস্কি খাওয়ায় তিনি অজান্তে এই মাতলামি করে ফেলেন। এজন্য তিনি ক্ষমা চান।

নাঈমুল ইসলামের ফেসবুক পোষ্টটি নতুন দিগন্তের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:

“নাসিমা খান মন্টির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা

দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টির কাছে আমি নাঈমুল ইসলাম খান নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছি। গত ২ মে বৃহস্পতিবার ওয়েস্টিন হোটেলে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দিনের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমি অত্যন্ত অনভিপ্রেত, অন্যায় করেছি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ উপর্যুপরি অনুরোধ করলে আমি ঈষৎ গরম পানি দিয়ে ২ পেগ হুইস্কি পান করি। ৫ বছরেরও বেশি সময় পর প্রায় অনভ্যস্ততার পর্যায়ে ২ পেগ হুইস্কি সম্ভবত আমাকে বেসামাল করে ফেলে। এমন ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘরের আলো আধারি মোহনীয় পরিবেশে আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাসিমা খান মন্টিকে কখন যে আমি জড়িয়ে ধরে আমার কাছে টেনে নিয়েছি তখন বুঝতে পারিনি।

কিন্তু উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরদিন শুক্রবার দিন শেষে ঘূর্ণিঝড় ফণী যেভাবে বাংলাদেশে ঝড়বৃষ্টি নিয়ে এসেছে, প্রায় তেমনিই আমার এই অসদাচরণের ছবি ঝড়ো হাওয়া ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

অনেক ছবির মধ্যে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি নাসিমা খান মন্টিকে জড়িয়ে অনেকখানি আমার দিকে কাত করে ফেলেছি। কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণে এটা পরিস্কার যে, নাসিমা খান মন্টিকে আমি সম্ভবত নিশানা করে বার বার জড়িয়ে ধরেছি, বিরক্ত করেছি। মন্টির বিনা অনুমোদন এবং বিনা আগ্রহে আমার এই আচরণ খুবই অনুচিত হয়েছে সেটা এখন আমি উপলব্ধি করি।

আত্মপক্ষ সমর্থনে আমার কিছুই বলার নেই। একটি সুন্দর অনুষ্ঠানকে এভাবে অনেকের জন্য অস্বস্তিকর করে তোলায় আমি যারপরনাই লজ্জিত। এমন ঘটনার পুনরাবৃতি যেন না হয় সে জন্য আমি সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।

আপনাদের পক্ষে সদয় বিবেচনা করে আমাকে ক্ষমা করা যেন সহজ হয় তার সুবিধার্থে সেই রাতের, সেই ঘটনার কিছু দালিলিক ছবি এখানে যুক্ত করা হচ্ছে।”

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সেই বাগানের সব লিচু সাবাড় করে প্রতিশোধ নিল ছাত্রলীগ


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকে মারধরের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোদাগাড়ী বাগানের প্রায় সবগুলো গাছের লিচু সাবাড় করে দিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার বিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের পেছনের গোদাগাড়ী বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ছাত্রলীগ নেতা সহ-সম্পাদক মনির তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকয়া হলের পেছনে লিচু পাড়তে যায় ছাত্রলীগ নেতা কানন ও মেহেদীসহ বেশ কয়েকজন।

এ সময় তাদের বাগান পাহারার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় কয়েকজন তাদের লিচু পাড়তে বাধা দেন। তখন তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

একপর্যায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে স্থানীয় ওই যুবকেরা। এতে ছাত্রলীগ নেতা কাননের দুই হাত ভেঙে যায় ও মেহেদীর পায়ে গুরুতর জখম হয়।

এ ঘটনায় নগরীর মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে মতিহার থানা পুলিশ।

এরপর বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ওই বাগানের সব লিচু পেড়ে ফেলেন।

বিকেলের দিকে ছাত্রলীগ নেতা মনিরসহ বিভিন্ন হলের ২০-৩০ নেতাকর্মী লিচু পাড়ছে, এমন খবর পেয়ে সেখানে গেলে মনির প্রতিবেদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা সাংবাদিককে লিচু খাওয়ার প্রস্তাব দেন।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের ঘটনার পর বাগান মালিক পলাতক রয়েছে। এখন ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের মতো করে বাগানের লিচু পেড়ে খাচ্ছে।’

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লিচু খাচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সেটা বলতে পারব না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

বাগানের মালিক আব্দুল্লাহ ইবনে মনোয়ার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমরা এক লাখ বায়ান্ন হাজার টাকায় লিচু বাগানটি ইজারা নিয়েছি। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মী বাগানে এসে আমাদের দুই প্রহরীকে বেঁধে রেখে গাছ থেকে লিচু নামায়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাড়াহুড়ো করে পালানোর সময় তাদের দুজন গাছ থেকে পড়ে যায়। তখন আমরা তাদের দুজনকে ধরে মেরেছিলাম।’

উৎসঃ ‌‌দেশ রুপান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌তোর সাহস কত লাশ ফেলে দেব,বাইরে বের হ তোকে রেইপ করবঃ চিকিৎসককে ছাত্রলীগ নেতা


সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক, নিরাপত্তা প্রহরী ও লিফটম্যান। এসময় হাসপাতাল এলাকাজুড়ে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরের এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা হাসপাতালের বাইরে এসে কর্মবিরতি পালন করেছেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে তারা কাজে যোগ দেন।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ও কাউন্সিলর আজাদুর রহমানের অনুসারী সারোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ কর্মী চিকিৎসা নিতে গিয়ে দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। সারোয়ার ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাদের হত্যা ও ধর্ষণেরও হুমকি দেন।

নিজের ফেসবুক পোস্টে ডা. নাজিফা আনজুম নিশাত নামের একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক বলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসকের অনুরোধে আমি রোগী দেখতে যাই। গিয়ে দেখি রোগীর সঙ্গে আরও ১৫/১৬ জন রয়েছেন। তখন একজন বাদে বাকিদের বেরিয়ে যেতে বলি। কিন্তু জবাবে তারা বলেন, ‘তোমার এমডিকে আমি কানধরে এনে দাঁড় করাবো। কর ট্রিটমেন্ট।’

‘আমি তখন বললাম , কি বললেন আপনি? সে বললো, (আঙুল উঁচিয়ে), কিছু বলি নাই। পেশেন্ট ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। ট্রিটমেন্ট দাও।’

তিনি বলেন, ‘এরমধ্যে আমি পেশেন্টের বিপি মাপা শুরু করে দিয়েছি। তখন তিনি আমাকে তুই-তোকারি শুরু করলেন। আমি আর সহ্য করতে না পেরে কান্না করতে করতে সিএ, আইএমও রুমে গিয়ে ভাইয়া-আপুদের ঘটনা জানাই। তারপর সেই ছেলে আমার পেছন পেছন এসে কোমর থেকে ছুরি দেখিয়ে বলল- তোর সাহস কত। লাশ ফেলে দিবো।…বাইরে বের হ একবার। রেইপ করে ফেলবো। আমার পা ধরে তোকে মাফ চাওয়া লাগবো. ..।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সারোয়ার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার এক বন্ধুর পেটে ব্যথা উঠেছিল, অ্যাপেনডিক্সের ব্যথা মনে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। তখন ২০/২৫ জন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক পত্রিকা পড়ছিলেন। কিন্তু রোগী দেখতে আসেননি।’

তিনি বলেন, ‌‘তাদেরকে বলেছিলাম, বন্ধুর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আমাদের মন চাইছিল না, তাকে চিকিৎসা না দিয়ে চলে আসি। তখন চিকিৎসকরা বললেন- আমরা বের না হলে তারা চিকিৎসা করবেন না।’

‌‌‘আমরা বলছিলাম, আমরা চলে যাচ্ছি, আপনার চিকিৎসা করেন। তখন ডাক্টাররা উত্তেজিত হয়ে বলেন- শেখ হাসিনা আসলেও আমরা বের না হলে তারা চিকিৎসা করবেন না। তখন আমার রাগ উঠে গেছে। আমি তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসার জন্য ফোন দিয়েছিল। আমরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টা মিটমাট করে নেব।’

এ ব্যাপারে উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফেরদৌস হোসেন যুগান্তরকে বলেন- ‘তারা সন্ত্রাসীর মতো আচরণ করেছেন। আমরা তো তা করতে পারি না। চিকিৎসাসেবাও বন্ধ রাখতে পারি না। এটা মেনে নিয়েই আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

ফেসবুকে ডা. নাজিফা আনজুম নিশাতের পোস্টটি হুবহু তুলে দেয়া হল-

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের আজকে দুপুরের ঘটনা। ইউরোলজির এক প্যাশেন্ট আসলো। ডিউটি ডাক্তার এর অনুরোধে আমি গেলাম পেশেন্ট রিসিভ করতে। কারণ আমার এডমিশন ছিল। গিয়ে দেখি প্রায় ১৫/১৬ জন ছেলে সাথে আছে। পেশেন্ট এর হিস্ট্রি নিতে নিতে খুব বিনয়ের সাথে বললাম, আপনারা একজন থাকুন, বাকিরা বেরিয়ে যান।

একজন বললেন, আমাদের সামনেই ট্রিটমেন্ট দেন। আমি বললাম, পেশেন্ট কে এক্সপোজ করতে হবে। আর হসপিটালের তো একটা প্রটোকল আছে। তারা বললেন তারা সবাই থাকবেন এবং সবার সামনেই আমাকে ট্রিটমেন্ট দিতে হবে।

তারপর এদের মধ্যে একজন এর অনুরোধে বাকিরা বেরিয়ে গেলেন। তিনজন দাড়িয়ে থাকলেন। পেশেন্ট কে এক্সামিন করতে করতে আবার মানুষ ঢোকা শুরু করলো। আমি তখন বললাম, “দেখুন আপনাদের আমি বারবার বলেছি আপনারা একজন থাকুন, বাকিরা বেরিয়ে যান। ”

যথেষ্ট বিনয়ের সাথে। তখন এদের মধ্যে সরোয়ার নামের একজন বললো, “তোমার এমডিকে আমি কানধরে এনে দাড় করাবো। কর ট্রিটমেন্ট”।

আমি তখন বললাম , কি বললেন আপনি? সে বললো, (আগুল উচিয়ে) “কিছু বলি নাই। পেশেন্ট ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট। ট্রিটমেন্ট দাও”।

আমি বললাম, “দেখেন ক্ষমতাধর ব্যাক্তির জন্য যে ট্রিটমেন্ট , আপনার পেশেন্টের জন্যও একই ট্রিটমেন্ট। সবাইকে আমরা একই ভাবে চিকিৎসা দেই। এবং সবার জন্য একই নিয়ম। সুতরাং আপনাদের বের হতে হবে। ”

এরমধ্যে আমি পেশেন্টের বিপি মাপা শুরু করে দিয়েছি। তখন তিনি আমাকে তুই তুকারি শুরু করলেন। আমি আর সহ্য করতে না পেরে কান্না করতে করতে CA, IMO রুমে গিয়ে ভাইয়া, আপুদের ঘটনা জানাই। তারপর সেই ছেলে আমার পিছন পিছন এসে কোমর থেকে ছুরি দেখিয়ে বলে ,” তোর সাহস কত। লাশ ফেলে দিবো। *, **,**** ,বাইরে বের হ একবার। রেইপ করে ফেলবো।আমার পা ধরে তোকে মাফ চাওয়া লাগবো. ..”

আরো অকথ্য ভাষায় গালাগালি। তারপর সি এ ভাইয়ার গায়ে হাত তোলার উপক্রম করে। তার গালাগালির ভিডিও ও আছে। এই হল একজন ডিউটি ডক্টর এর নিরাপত্তার অবস্থা। আমরাও রোজা রাখি। আমাদেরও ক্লান্তি হয়, ক্ষুধা লাগে। কিন্তু পেশেন্টের প্রতি এসবের কোন আঁচ পরতে দেইনা। এত ঘটনার মধ্যেও সেই পেশেন্টের কাগজপত্র শক্ত করে আমার হাতে ধরা ছিল। তার ট্রিটমেন্ট ও দেয়া হয়েছে। যদিও তারা পরে DORB নিয়ে চলে যায়। কোথায় আমাদের নিরাপত্তা? রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে আমরা কতকাল জিম্মি থাকব???

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌নবীনগরে চাঁদাবাজির দায়ে যুবলীগ নেতা নজরুল ইসলাম গ্রেফতার


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চাঁদাবাজির দায়ে মো. নজরুল ইসলাম নামে যুবলীগের এক সাবেক নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই নেতাকে ছাড়াতে চলছে প্রভাবশালীদের তদবির।

বৃহস্পতিবার রিকশা ও অটোরিকশা থেকে চাঁদা তোলার দায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মো. নজরুল ইসলাম উপজেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক।

জিপির নামে বেশ কিছুদিন যাবত চাঁদা তোলায় রিকশা ও অটোরিকশা শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা এ চাঁদাবাজির ঘটনায় উপজেলা শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক ফুরকান মৃধার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। যদিও ফুরকান মৃধা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মো. নজরুল ইসলাম পৌরসদর এলাকার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে রিকশা ও অটোরিকশা থেকে জিপির নামে ১০ টাকা করে চাঁদা তুলছিলেন। এ সময় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে।

পরে নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় থানায় শ্রমিকদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। চাঁদাবাজিতে শ্রমিকলীগ ও যুবলীগ নেতার জড়িত থাকার কথা উঠে আসলেও গ্রেফতার হয় নজরুল ইসলামকে। তাকে ছাড়াতে বাজার কমিটির নেতারা থানায় তদবির চালাচ্ছেন।

ওসি রনোজিত রায় বলেন, গ্রেফতারকৃত ওই নেতাকে আদালতে পাঠানো হবে।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: মির্জা ফখরুল


সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র হরণ করে দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে সরকার। ৩০ ডিসেম্বর প্রহসনের নির্বাচন করে এই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথসভা শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে একদলীয় শাসন ভর করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষের সব অধিকারকে হরণ করে নেয়া হয়েছে। কীভাবে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেয়া যায় তার ষড়যন্ত্র চলছে।

দেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে জাতি ১৯৭১ সালে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছিল, সেই জাতির কাছ থেকে গণতন্ত্রকে হরণ করে নেয়া হয়েছে।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই যৌথসভার আয়োজন করে বিএনপি। সভাশেষে শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল। আগামী ২২ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন মহাসচিব।

উৎসঃ ‌‌যুগান্তর

আরও পড়ুনঃ ‌সাহসী কোনো বিচারপতি এখন বাংলাদেশে নেই!


রাষ্ট্রের চারটি অঙ্গের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো বিচার বিভাগ। আর বাংলাদেশে নির্বাহী বিভাগের পরই বিচার বিভাগের স্থান। বিচার বিভাগ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। বিচার বিভাগের এই স্বাধীনতা নিয়ে এখন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গন বা বিশিষ্টজনদের মধ্যেই প্রশ্ন সৃষ্টি হচ্ছে না, দেশের সাধারণ নাগরিকও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আর এই প্রশ্ন তোলার পেছনেও যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

দেখা গেছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিগত ১০ বছরের শাসনামলে দেশের নি¤œ আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত চলছে সরকারের নিয়ন্ত্রণে। একটি মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে রায় প্রদান, জামিন ও কারামুক্তি সবই হচ্ছে সরকারের ইশারায়। বিশেষ করে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে কার মামলার রায় কি হবে? সাজা হবে কত বছরের? কারাগারে পাঠানোর পর জামিন পাবে কিনা? জামিন পাইলেও মুক্তি পাবে কিনা সবই হচ্ছে সরকারের নির্দেশে।

আর উচ্চ আদালতের কোনো রায় যদি সরকারের বিপক্ষে চলে যায় তাহলে বিচারপতিদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়া হয়। যেমন, সংসদ কর্তৃক বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত ধারা বাতিলের রায়ের পর যা ঘটেছে তা ছিল নজিরবিহীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারের এমন কোনো মন্ত্রী-এমপি বাদ ছিল না যারা সংসদে দাঁড়িয়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে গালি দেয়নি। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এক পর্যায়ে তারা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশত্যাগে বাধ্য করে।

এরপর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে উচ্চ আদালতে যা ঘটছে তাও নজিরবিহীন। সরকারি দলের সন্ত্রাসী, খুনী, দুর্নীতিবাজরা জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসলেও কথিত দুর্নীতি মামলায় আটক খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন না। এই হলো বর্তমান স্বাধীন বিচার বিভাগের খন্ড চিত্র মাত্র।

কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, এই আদালতের বিচারপতিরাই স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা করেছেন। রায়ও প্রদান করেছেন স্বাধীনভাবে। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় দিতেও তারা কোনো প্রকার কোণ্ঠাবোধ করেন নি।

যেমন, ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সংবাদ সম্মেলনে আদালতের রায় নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। পরে অন্য একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে সুপ্রিমকোর্টের ফুল বেঞ্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘রং হেডেড ওম্যান’ অর্থাৎ মাথা খারাপ মহিলা বলে মন্তব্য করেছিলেন।

সেই রায়গুলো আজ মানুষের কাছে স্বপ্ন। কারণ, এখন দেশের বিচার বিভাগ আর আগের মতো স্বাধীন নয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা প্রায় প্রতিদিনই বিচারপতিদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করছেন। কিন্তু তাদেরকে যে আদালতে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাস করবে সেই সাহস বর্তমানে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের নেই।

গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ফোনে যা বলেছেন তা স্বাধীন বিচার বিভাগের জন্য অপমানজনক। খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে কি পাবে না সেটা দেখার দায়িত্ব বিচারপতিদের। কিন্তু শেখ হাসিনা রায় দিয়ে দিলেন খালেদা জিয়া আজীবন মুক্তি পাবেন না।

আইনজ্ঞরা বলছেন- শেখ হাসিনার এই বক্তব্য চরম আদালত অবমাননা। কিন্তু, আদালত অবমাননা হলেই বা আর কি। এখন আর সেই বিচারপতি নেই যারা প্রধানমন্ত্রীকে রং হেডেড বলে আখ্যা দেবেন।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌হাসিনাকে বিদেশে কোনো হোটেল বুকিং দিতে চায় না!


সম্প্রতি শেখ হাসিনার ফোনালাপ নিয়ে তোলপাড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়াসহ সর্বত্র। তোলপাড় চলছে আওয়ামী লীগ- বিএনপি উভয় শিবিরেও। এনিয়ে ক্ষমতাসীনদের ভিতরে সন্দেহ অবিশ্বাস আর বিরোধ চরমে উঠছে। শেখ হাসিনার মুখ দিয়ে বিরোধী জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে এমন মন্তব্য জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর এই মন্তব্য কোন রাজনৈতিক বক্তব্যে উঠে আসেনি কেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন অধিনস্থ রাজনৈতিক নেতার ফোনে এমন একটি মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যাক্তিগত আলোচনায় এমন মন্তব্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। এতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ইচ্ছায় আটক আছেন। আদালত সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় মাত্র। বিদেশে কোনো হোটেল তাদের বুকিং দিতে চায় না। স্বয়ং সরকার প্রধানের মুখ দিয়ে এমন মন্তব্য বের হয়ে আসা খুবই লজ্জার বিষয়!

কিভাবে কিভাবে ফাঁস হলো ফোনালাপ?

বাংলাদেশর বিভিন্ন মিডিয়ার অনুসন্ধানেও উঠে আসেনি এই প্রশ্নের উত্তর। তাহলে এটা কি বিদেশী কোন গোয়েন্দা সংস্থা করেছে? নাকি যুক্তরাজ্যের কোন গোয়েন্দা সংস্থা ফাঁস করেছে?অনুসন্ধানে দেখা যায়, আওয়ামী শিবিরের অতি কৌতুহল থেকে এমনটা হয়েছে।

শেখ হাসিনার জন্য বুকিং ছিল বেকার ষ্ট্রিটের কারিজাস হোটেল। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্ধারিত সময়ে অভ্যর্থনা জানাতে কারিজাস হোটেলের সামনে সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত হোটেলের বুকিং শেষ মুহূর্তে ক্যান্সেল করে দেয় কতৃপক্ষ। কারন শেখ হাসিনা যেই হোটেলেই উঠেন, সেখানে আশে পাশে যুক্তরাজ্য বিএনপি অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। উপস্থিত হয় আওয়ামী লীগও। এতে হোটেলের চার পাশের পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। যা যুক্তরাজ্যের মানুষের কাছে খুবই দৃষ্টিকটু বটে। সব মিলিয়ে হোটেল কতৃপক্ষ এমন ঝামেলা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, কারিজাস হোটেল বুকিং ক্যান্সেলের পর শেখ হাসিনার জন্য তাজ হোটেলে ব্যবস্থা করা হয়। এখানে মূলত বুকিং নেয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতির নামে। একই সময়ে রাষ্ট্রপতিও আসছেন চিকিৎসার জন্য। শেষ বেলায় কাজিরাস হোটেল কতৃপক্ষ বুকিং ক্যান্সেল করায় তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্টাফদের জন্য বুকিং নেয়া হোটেলে উঠেছেন শেখ হাসিনা ও তাঁর সফর সঙ্গীরা। কিন্তু যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতারা এটা জানতে না পেরে অভ্যর্থনা জানাতে সমবেত হন পূর্ব নির্ধারিত কারিজাসের সামনে। তাজ হোটেলে উঠার পর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি সৈয়দ ফারুকের সাথে কথা বলেন। ফোনে কথা বলার সময় সৈয়দ ফারুক মোবাইল লাউড স্পীকারে রাখেন, যাতে সমবেত সবাই শুনতে পারে। এসময় ফেইসবুক লাইভে ছিলেন দু/একজন। এ বক্তব্য ফেইসবুক লাইভেও তখন ভাসমান হয়। যদিও তাৎক্ষণিক মুছে ফেলার জন্য (ডিলিট) নির্দেশ দেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। তবে কোন একজনের ফেইসবুক থেকে ডিলিট করতে একটু বিলম্ব হয়েছিল। এর মাঝে এ বক্তব্য সেইভ করে নিয়েছেন কেউ একজন। পরবর্তীতে বক্তব্যের এ অংশটি আবার সোস্যাল মিডিয়ায় আপলোড করা হয়। যা ভাইরাল হয়ে যায়।

সূত্রটি বলছে, এনিয়ে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। যুক্তরাজ্যর ৫ নেতা এখন তোপের মুখে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী উঠেছে আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকেই।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

আরও পড়ুনঃ ‌উচ্চ আদালত তাহলে হাসিনার নির্দেশেই চলছে!


জিয়া চ্যারিটেবল ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের কথিত ২ কোটি টাকা দুর্নীতির নামে শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বান্দি করে রাখছেন এটা এখন প্রমাণিত হয়ে গেছে। কাগজে-পত্রে বিচার বিভাগ স্বাধীন হলেও আসলে এটা যে এখন আওয়ামী লীগেরই একটা শাখা শেখ হাসিনার ফোনালাপ থেকে সেটাও প্রমাণ হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছে হোটেলে যাওয়ার পথে সেন্ট্রাল লন্ডনের তাজ হোটেলের সামনে অবস্থানরত যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সাথে টেলিফোনে কথা বলার সময় শেখ হাসিনা বলেছেন, ঐ বিএনপিরে জানাই দিয়েন যে তারেক জিয়া যদি আমার সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করে, তার মা জীবনেও জেল থেকে বের হবে না। কারণ শেখ হাসিনাকে চাপ দিয়ে কোন কিছু আদায় করা যায় না, তার বুঝা উচিত। তাদের এমপিরা জয়েন করছে। তাদের একটি ডিমান্ড ছিলো তার চিকিৎসার। আমরা কনসিডার করতে রাজি। আমার সাথে অনেকে দেখা করছে। কিন্তু আমি এখানে আসার পর যদি তারা বেশি বাড়াবাড়ি করে, আমি তাদের বলবো সরি। তোমাদের লোকরা আমার সাথে বেয়াদবি করছে। আমি দিবো না সরি।

জানা গেছে, তিনি টেলিফোনে যখন কথা বলছিলেন, তখন মোবাইলটি লাউড স্পিকারে ছিলো।

উপস্থিত অনেকেই তখন শেখ হাসিনার এই টেলিফোন আলাপটি রেকর্ড করেন। যা ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শেখ হাসিনার এই ফোনালাপ ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এনিয়ে রজনৈতিক অঙ্গনসহ সবমহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এনিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। সবাই বলছেন-খালেদা জিয়া জামিন পাবেন কি পাবেন না সেটা নির্ধারণ করবে আদালত। কিন্তু শেখ হাসিনা বলছেন-খালেদা জিয়া জীবনেও মুক্তি পাবে না। এরমানে-শেখ হাসিনার নির্দেশ ছাড়া যে বিচারপতিরা কিছুই করতে পারেন না সেটা আজ প্রমাণ হলো। সুপ্রিম কোর্ট এখন কার্যত আওয়ামী লীগের আদালত শাখা।

এদিকে, রাজনীতিক বিশ্লেষকরাও প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিস্মিত হয়েছেন। তারা বলছেন- রাষ্ট্রের একজন শেখ হাসিনার মুখ দিয়ে এমন কথা কোনোভাবেই বের হতে পারে না। এর মাধ্যমে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। কারণ, শপথ নেয়ার সময় তিনি বলেছেন-আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অনুরাগ-বিরাগের ঊর্ধ্বে থাকিব। অথচ খালেদা জিয়ার জামিন ও মুক্তি নিয়ে তিনি যা বলেছেন তা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে। দেশে যদি আজ আইনের শাসন থাকতো তাহলে শেখ হাসিনার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা আর সম্ভব হতো না। শপথ ভঙ্গের দায়ে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতো।

উৎসঃ ‌‌অ্যানালাইসিস বিডি

Facebook Comments

comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here